# ৬০ বছর পর এক ইহুদির ইসলামে প্রত্যাবর্তন - বাইবেলেই আমি মুহাম্মদ ﷺ-কে দেখেছি!

- Language: bn
- Published: 2026-08-26
- Canonical: https://blog.towardseternity.com/bn/blog/a-jew-converts-to-islam-after-60-years-i-saw-muhammad-pbuh-in-the-bible
- Source video: https://www.youtube.com/watch?v=IP5HLml6sH8
- Channel: Towards Eternity

This is the cleaned transcript of the source video. The speech is unaltered.

---

আমি ২০ শতকের মাঝামাঝি সময়ে জন্মগ্রহণ করেছি, একটি রক্ষণশীল আমেরিকান-ইহুদি পরিবারে। আমার বাবা-মা আমাকে বললেন, "আজ তোমার ১৩তম জন্মদিনে আমরা একটা উপহার দেব।" "আমরা চাই পছন্দটা তোমার হোক, তুমি কি একটি বড় পার্টি করতে চাও, তোমার বন্ধুদের সাথে? নাকি ভ্রমণ করতে চাও ইসরায়েল?" তো ১০০ মাইল ভ্রমণ করার পর আমি বললাম,"আমি নামতে চাই।" তো সে গাড়ি থামালো। আমি দরজা খুললাম, আমি গাড়ি থেকে নামলাম আমার হাত তখনো ছিল— দরজার হাতলে এবং সে গাড়ি চালানো শুরু করলো!

সে আমাকে আটকে থাকতে দেখে, গাড়িতে ঝুলে থাকতে দেখে, সে অ্যাক্সিলারেটরে চাপ দিল। এবং আমি তখন হাইওয়ের দিকে ছিটকে যাচ্ছিলাম। এবং হঠাৎ করে সবকিছু স্লো হয়ে গেল। এবং আমি একটি শব্দ শুনলাম- "এখনো না, এখনো না।" এরপর আমি শুরু করি সত্যের সন্ধান। আমি অনেক গভীরভাবে বাইবেল পড়লাম এবং আমি শেষমেশ চার্চে গেলাম তিন বছরের জন্য যদি কেউ আমাকে এক মিনিট আগেও বলতো আমি মুসলিম হতে চলেছি, হেসে উড়িয়ে দিতাম। যখন আমি আমার ছেলেকে বললাম, সে আমাকে বলল, "বাবা, আপনি যদি বাইবেলে দেখেন, কিংবা গসপেলে দেখেন, আপনি খুঁজে পাবেন মুহাম্মদ (সাঃ)কে এখানে, এখানে, এখানে দেখলে।" এবং আমি বই গুলো দেখলাম শব্দগুলো যেন ত্রিমাত্রিক হয়ে ফুটে উঠল। যেন আরও ঝলমল করে ফুটে উঠল আমার সামনে। যখন আমি এইগুলা দেখলাম, আমি আর কোনো ভাবেই না দেখে থাকতে পারছিলাম না। আসসালামু আলাইকুম ব্রাদার স্যানফোর্ড পাস, আপনি মুসলিম হওয়ার পর আবু মুজাহিদ নামেও পরিচিত। আমাদের আমন্ত্রণ গ্রহণ করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। টোয়ার্ডস ইটার্নিটি -তে আপনাকে পেয়ে আমরা খুবই আনন্দিত। ওয়ালাইকুম আসসালাম। আমন্ত্রনের জন্য ধন্যবাদ। এটি আমার জন্য একটি আশীর্বাদ সবার সাথে সুন্দর এই গল্পটি শেয়ার করতে পারাটা। আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ। আমরা সত্যিই কৃতজ্ঞ। তাহলে, আমি শুরু করছি আবু মুজাহিদ আসলে কে?

আপনার জীবন সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু বলবেন?

আমি ২০ শতকের মাঝামাঝি সময়ে জন্মগ্রহণ করি। প্রথম প্রজন্মের রক্ষণশীল অ্যামেরিকান-ইহুদি বাবা-মায়ের পরিবারে। আমি বড় হয়েছি বিশ্বাসে হিয়ার ও ইসরায়েল, দ্যা লর্ড আওয়ার গড ইজ ওয়ান আমি বড় হয়েছি একটি অ্যামেরিকান সমাজের ভেতর, মেনে চলতাম 'কোশার' আইন, সাপ্তাহিক শাবাথ অন্যান্য আচার-আইন আমার বাড়িতে যখন আমি বড় হচ্ছিলাম তখন কিছু ঘটনা ঘটে। এফ কেনেডিকে গুলি করা হয়,আমার তখন ১৪ বছর। আমি তখন সবকিছু নিয়ে প্রশ্ন করা শুরু করি। আমার মনের এই প্রশ্ন জাগার ঘটনাই পৃথিবীতে কেন কি ঘটছে, তা খোঁজার পথে ঠেলে দিল। ১৪ বছর বয়সে আমার জীবন বদলে যায়, কারণ আমি বিষয়গুলো দেখা শুরু করি ভিন্নভাবে এবং সত্য অনুসন্ধান করতে শুরু করি। এবং আমি চলে যাই কলেজ ছেড়ে মনাস্ট্রিতে (সন্যাসীদের মঠ) কেবল ধ্যান করার জন্য, এবং আমি মুসলিম হয়ে যাই ৬০ বছর বয়সে যখন বুঝতে পারি সবকিছু আসলে একটাই গল্প , ভিন্ন ভিন্ন কোন গল্প নয়; সবই একসাথে সংযুক্ত আছে। আর এভাবে আমি মুসলিম হয়ে গেলাম ঠিক ১৬ বছর আগে ইসলামে আসার আগে ধর্ম সংক্রান্ত বিষয়ে আপনার জীবন কেমন ছিল?

ধর্মবিশ্বাস কী ছিল? আমি সবসময় বিশ্বাস করেছি একজন সৃষ্টিকর্তায়। আমি আমার কৈশোর পর্যন্ত ইহুদি ধর্ম পালন করেছি। যখন আমি কলেজে গেলাম, চারদিকে পর্যবেক্ষণ করলাম এবং ঘেটে প্রশ্ন করতাম?

যা কিছু সামনে আসতো, যা আবিষ্কার হতো এবং তখন হওয়া অভিজ্ঞতাগুলোর আলোকে অনেক বেশি প্রশ্ন করতাম কিছু ঘটনার কারণে আমি আমার বিশ্বাসকে প্রশ্ন করেছিলাম যখন আমি ছোট ছিলাম আমরা একটা শহরে বাস করতাম যেখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল, সেখানে কিছু বাড়ি ছিল, সেগুলোর নাম ছিল 'হিলেল হাউস’। হিলেল ছিলেন প্রাচীনকালে একজন মহান শিক্ষক। এবং সেখানে একজন র‍্যাবাই থাকতো, আর কলেজের ছাত্ররা সেখানে গিয়ে প্রার্থনা করত। তারা কলেজের ছাত্রদের সংযুক্ত রাখার চেষ্টা করত। তো আমি যখন ছোট ছিলাম আমি কলাম্বিয়াতে, মিসৌরিতে থাকতাম, এবং বাবা মা প্রতি শুক্রবার রাতের উপাসনায় আমাকে সাথে করে নিয়ে যেতেন। আর আমি সব সময় স্মরণ করতাম সেই স্মৃতিগুলো গভীর আবেগের সাথে, কারণ আমরা মূলত সেখানে ঘোষণা করতাম শাহাদাতের 'শোনো, হে ইসরায়েল, আমাদের প্রভু আল্লাহ এক।' এবং সেখানে গান ও বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান হতো। তবে সেখানে মূল বিষয়টা ছিল আমাদের সকলের ঐক্য ছিল একত্ববাদের ওপর। মানে আমরা এক ঈশ্বরে বিশ্বাসি। যখন আমি আরেকটু বড় হলাম তখন যে বিষয়গুলোতে প্রশ্ন শুরু করলাম সেগুলো হলো বাইবেল এবং তাওরাতে থাকা ঘটনাগুলো যীশুর ব্যাপারে ঈসা (আ:) এবং অন্যান্যদের ব্যাপারে তখন তারা সব সময় বলতো , না না না না এগুলোর দিকে মনোযোগ দেওয়ার দরকার নেই এগুলো আসলে ভুল অনুবাদ।" এগুলো বলে এড়িয়ে যেতেন। তো আমার ক্ষেত্রে, আমি তখন যেই শিক্ষাটা পেয়েছিলাম, এমন এক সময় যখন গুরুত্বপূর্ণ যখন আমি কিশোর থেকে পুরুষে রূপান্তরিত হচ্ছিলাম তারা আমাকে একটি খালি রুমে বসিয়ে সাথে একটি ক্যাসেট প্লেয়ারের দিয়ে দিলো এবং বললো এটি শুনে শুনে মুখস্থ করো। আমি কখনো কোনো র‍্যাবার সাথে বসে এটা আসলে শিখিনি সে এটার মর্মার্থ কী যা আমি মুখে বলে যাচ্ছি। এটা ছিল আসলে মুখস্ত করো তোমার মুখস্ত শক্তি পরীক্ষা হবে। এবং দর্শকের সামনে এমন ভাবে পারফর্ম করতে হবে যেন মনে হয় তারা খুব ভালো শিক্ষক ব্যাপারটা এমন ছিল না যে তারা ব্যাখ্যা করেছে আসলে এটা কি । অর্থ বোঝাইনি তখন তো আমি ছিলাম শিশু তা আমার ভালো লাগে নি এটা আমার জীবনের খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশ: আমার বাবা-মা আমাকে বললেন, "আজ ১৩তম জন্মদিনে তোমাকে আমরা একটা উপহার দিতে চাই । তুমি যেকোনো একটি বেছে নিতে পারো" আমরা চাই তুমি পছন্দ করো। "তুমি কি একটি বড় পার্টি করতে চাও, তোমার বন্ধুদের সাথে নাকি ভ্রমণ করতে চাও ইসরায়ল?" তখন সেই সময় সবাই সব ইহুদি ছেলেদেরকে উৎসাহিত করা হতো যেন তারা ইসরায়েল ভ্রমণে যায়। কিন্তু কেন?

যেন তাকে ব্রেইনওয়াশ করা যায় , যেন তারা ধর্ম সম্পর্কে বোঝাতে পারে... আমি বললাম, "আমি পার্টি চাই।" আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া। শুকরিয়া, যে পার্টিটা বেছে নিয়েছিলাম। কারণ এখন যা ঘটছে, তা দেখে মনে হয় আমিও তেমনি হয়ে যেতাম, আমার মাথাও হয়তো বা ঐদিকে ঘুরিয়ে দিতো সেই সকল লোকেরা তো তাদের জীবন যাপন এর ব্যাপারে আমার আসলে অনেক প্রশ্ন ছিল কারণ সে ব্যাপারে আমি কোনো মিলই পাচ্ছিলাম না যা আমি পড়েছিলাম তো আমি আসলে বুঝতে পারছিলাম না?

কিন্তু মূল ব্যাপারটা ছিল আসলে, কেনেডি খুন হওয়ার যে ব্যাপারটা —এগুলো শুধুমাত্র ধর্মীয় প্রশ্ন নয়। যা আসলে আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়ত পৃথিবীতে ঘটে যাচ্ছিলো আমাকে সত্য খুঁজতে বাধ্য করে। আমি কলেজ ছেড়ে দিলাম এবং টেনেসিতে চলে গেলাম। সেখানে টেনেসিতে একটি ফ্রেমে আমি কিছুদিন এর জন্য বসবাস করতে থাকলাম । সেখান মানুষ একে অপরের প্রতি প্রচন্ড রকম ন্যায় পরায়ণ। আমি সেখানে বেশিদিন থাকিনি। ছেড়ে চলে আসি আমি বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াই, এবং শেষে তিন বছরের জন্য চার্চে উঠি এবং আমি খ্রিস্টান হয়ে যাই, এবং গভীরভাবে আমি বাইবেল অধ্যায়ন করি। ব্যাপারটা এমন ছিল, আমি ক্রস এবং খ্রিষ্টীয় পোশাকেই থাকতাম। আমি কিছু একটা খোঁজ করছিলাম কিন্তু সেখানে তা ছিল না যাইহোক, তিন বছর পর অনেক অসঙ্গতি দেখার পর, সেখান থেকে চলে এলাম সেখানে আমি পেয়েছিলাম একজন ভারতীয় যুবককে, যে মেডিটেশন শেখাত। সে বলল, "এমন একটি শক্তির সাথে আপনাকে পরিচয় করিয়ে দিতে পারি, যা বিশ্বকে সচল রাখে।" অন্য কথায় পবিত্র, এটি স্রষ্টার একটি পবিত্র শক্তি, যা আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসকে চালিত করে। তো আমি দীর্ঘদিন তা নিয়ে পড়াশোনা করলাম , দীর্ঘদিন ধ্যান করলাম পড়াশোনা চালিয়ে যেতে থাকলাম। এরপর যেটা ঘটলো আমার সাথে আমি একটা সমস্যা খুঁজে পেলাম। আমি ভাবলাম, "কিছু একটাতো খটকা আছে" আমার অনেক ধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছিল কিন্তু সিস্টেমের মধ্যে এমন কিছু একটা ছিল যা আসলে আমাকে সায় দিচ্ছিল না, আমি শান্তি পাচ্ছিলাম না। ইসলামের দিকে আপনার যাত্রা কিভাবে শুরু হলো?

ইসলামের কোন বিষয়টি আপনাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে? তখন আমার বয়স প্রায় ৬০ বছর। তখন একদিন আমার ছেলে আমাকে কল করলো, সে বললো "বাবা,আমি সারা জীবন দেখেছি, আপনি সবসময় খুঁজে বেড়াতে চাইতেন আসল সত্যির পেছনের কি আছে ?

এবং সব খবরের পেছনের মূল বিষয়টাইবা কী।" কারণ আমি আপনাকে আমার জীবনের যে অভিজ্ঞতার কথা বললাম। এসবের পর আমি বিয়ে করেছি, আমার দুটি সন্তান আছে। আমি বেশ কয়েক বছর কর্পোরেট অ্যামেরিকায় কাজ করেছি। তো আমার ছেলে তখন, মানে আমি আমার ছেলেকে বলেছিলাম, তো সে বললো, বাবা আপনি যদি বাইবেলে দেখেন কিংবা গসপেল দেখেন তাহলে আপনি খুঁজে পাবেন মুহাম্মদ (সাঃ) এখানে এখানে এখানে। এবং এ ব্যাপারে প্রার্থনা করে যখন বই এর দিকে যখন তাঁকালাম শব্দগুলো যেন ত্রিমাত্রিক হয়ে সামনে ফুটে উঠল। শব্দগুলো যেন আমার চোখে ঝলমল করছিল। যে শব্দ গুলো ছিল -ডিউটরোনমি ১৮:১৮ যেখানে ডিউটরোনমিতে বলা হয়েছে: "একজন নবী আসবেন, যিনি হবেন তোমার ঠিক তোমার মতন, মূসার মতন । তিনি আসতেছেন...

তিনি কিছুই বলবেন না নিজ থেকে। তিনি তাই বলবেন, যা তাকে বলতে বলা হয়েছে ।" যখন এটি প্রমান করে জন ১৬:১৩-কে যেখানে যীশু (তাঁর উপর শান্তি বর্ষিত হোক) বলছেন: "সত্য আত্মা আসবে, এবং তাঁকে যা বলতে বলা হবে, তিনি তা ছাড়া অন্য কিছু বলবেন না। আর তিনিই তোমাদের সত্যের দিকে পরিচালিত করবেন।" আর ডিউটরোনমি ৩৩:২-এ বলা হচ্ছে : "সূর্য উদিত হচ্ছিল সিনাই-এর উপর দিয়ে, সাইর-এ আরও উপরে উঠে গেল, এবং পারান-এ চূড়ায় উঠল।" এবং আমি এর আসল অর্থ খুঁজে বের করলাম। সিনাই হলো সেই স্থান যেখানে আল্লাহ মূসা (আঃ) এর উপর ওহী নাযিল করেছিলেন; মানে (দশটি আদেশ) সাইর হলো সেই স্থান যেখানে ঈসা (আঃ) শয়তানের প্রলোভন থেকে বিজয়ী হয়েছিলেন। আর পারান হলো মক্কার প্রাচীন নাম, যেখানে মুহাম্মদ (সাঃ) জন্মেছিলেন । শান্তি বর্ষিত হোক,শান্তি বর্ষিত হোক সবার উপর। আর এটাই হলো ডিউটরোনমি ৩৩:২-এর মূল কথা। যখন আমি এটা দেখলাম, তখন বারবার না-দেখে থাকতে পারলাম না। সর্বশেষ আরেকটা কারণ ছিল, যে কারণে আমি মুসলিম হওয়ার কথা ভাবছিলাম মানে, আমি ২০০১ এর পরে আমার বন্ধুদের সবসময় বলতাম, “ মুসলমানরা এটা কখনোই করতে পারেনি ।” কারণ আমি সব সময় বিশ্লেষণ করতাম আমার জীবনে দেখা 'মিথ্যা দোষারোপের' ঘটনাগুলো কারণ কেনেডির থেকে শুরু করে ভিয়েতনাম, সব কিছুর এবং আমি বলতাম "মুসলিমদের জন্য নাইন ইলেভেন ঘটানো বাস্তবতার দিক থেকে অসম্ভব।" হাজার মানুষ বলেছে এভাবে ঘটাতে পারে না। আমার বন্ধুরা আমাকে প্রশ্ন করতো, "তুমি কেন মুসলিমদের সাফাই গাইছো?" এই সত্যের খোঁজ আমাকে ইসলামের দিকে এনেছে। এবং আপনি কখন কোনো কিছু জানান ?

তখন তা প্রমাণের প্রয়োজন নেই যখন আপনি পানি খুঁজছেন, আপনি তৃষ্ণায় মারা যাচ্ছেন। একদম অল্প একটু খানি পানি এটাই তখন অনেক বেশি মূল্যবান আমি তা দেখেছি মনে হয়েছে এটাই যথেষ্ট। তথ্যের পাহাড়ের কোনো প্রয়োজন নেই। আল্লাহ আমাকে যথেষ্ট প্রমাণ দিয়েছেন যথেষ্ট, যাতে আমি সন্তুষ্ট সেটাই কি সেই মুহূর্ত, যখন আপনি অনুভব করলেন যে ইসলাম শতভাগ সত্য?

হ্যাঁ, এটা এমন ছিল যে, আপনি একটি পার্কিং লটে ঢুকলেন। সেখানে একটি পেরেক লাগানো সেখানে লেখা পেছনে যাবেন না কারণ আপনি ব্যথা পাবেন, টায়ার ফেটে যাবে যদি আরও পেছনে যান। যখন আমি বুঝতে পারলাম, আমার এই অভিজ্ঞতাগুলোর কারণে যে আপনি যা কিছু চেয়েছিলেন, সব কিছুই আপনি পেয়ে গেছেন। এটা একটি একমুখী রাস্তার মতো। পেছনে গেলে আপনি ব্যথা পাবেন। কারণ আমি কিন্তু কোনো ধর্মের খোঁজ করছিলাম না। আমি কোনো ভিন্নধর্মে রূপান্তরিত হতে চাচ্ছিলাম না। যদি কেউ আমাকে একমিনিট আগে বলত যে আমি মুসলিম হতে যাচ্ছি, আমি হেসে উড়িয়ে দিতাম। কিন্তু আল্লাহ আমাকে অবাক করেছেন। আল্লাহ আমাকে দেখিয়েছেন, কিন্তু এটা কোনো কণ্ঠস্বর ছিল না, যা কিছু বলছিলো, এটা ছিল এক উপস্থিতি যখন সেই অভিজ্ঞতা আমার হলো সেটা কোরআন আল্লাহর সাথে মুহাম্মদ (সা.)-এর সাথে মনে হচ্ছে, এটিই সেই উত্তর যার খোঁজ আমি শুরু করেছিলাম, ১৪ বছর বয়স থেকে এটি ছিল আমার কাছে একদম স্পষ্ট আমার সবথেকে বড় প্রশ্ন যেটা ছিল। আশেপাশে কি হচ্ছে তার পুরোপুরি উত্তর আমি পেয়ে গেলাম। এটা কোনো বার্তা বা খবর হিসেবে আমার কাছে আসেনি। এটা শুধু একটি অনুভূতি, আমার সব প্রশ্নের উত্তর আমি পেয়ে গেছি। যেনো আমি পৃথিবীতে কেন এসেছি কেন সব কিছু এভাবে ঘটছে। সবকিছু পরিষ্কার। আপনি কি আমাদের সেই মুহূর্তগুলোর কথা বলবেন, যখন আপনি কালেমা পাঠ করলেন?

কেমন অনুভব করেছিলেন?

ফ্রেশ, একদম নতুন করে শুরু। যেন আল্লাহ আমাকে স্বাগত জানাচ্ছেন ক্ষমা করে দিয়েছেন। এবং আমাকে বলা হয়েছিল, যখন আপনি শাহাদা পাঠ করে মুসলিম হবেন। সকল গুনাহ মাফ হয়ে যাবে। অতীতের নেতিবাচক কাজগুলো অনেক আমল হয়ে যাবে, জানো, একদম নতুনভাবে শুরু। এবং আমি সত্যিই ফ্রেশ অনুভব করছিলাম। কালেমা পাঠের সময় যতটুকু শান্তি অনুভব করছিলাম, তার চেয়ে বেশি অনুভব করলাম এবং বুঝতে পারলাম। দিনটি ইসলামে সত্য, যখন আমি কোরআন দেখলাম/পড়লাম। এখনও মনে পড়ে, সব যেন ফিরে আসছিল। আমার চোখ থেকে অশ্রু বের হচ্ছিল, কিন্তু সেগুলো যেন আমার গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ছিল না। চোখ থেকে পাখির মতো উড়ে যাচ্ছিল। অশ্রু যেন প্রজেক্টরে দেখানো হচ্ছে। আমি স্পষ্ট দেখতে পারছি, কীভাবে হচ্ছে। ঠিক একি সময়ে আমার মনে হচ্ছিল, আমার পাজরের খাঁচা খুলে যাচ্ছিল। ঠিক, যেন, দরজার মতো - যেন বেলকনিতে একটি ফ্রেঞ্চ দরজা ঠিক এভাবে। আমার হৃদয় যেন প্রসারিত হচ্ছিল, কিন্তু ব্যথায় নয়, তা ছিল প্রচণ্ড প্রশান্তির। আর এগুলো যখন ঘটছিল, তখন আমি উপলব্ধি করলাম, যে আল্লাহ সবসময় আমার উপরে ছিলেন। সারা জীবন ধরে পথ দেখিয়েছেন, এই মুহূর্ত পর্যন্ত। পৃথিবীটা এমন কেন, সেটাই তিনি আমাকে একদম স্পষ্ট করে দিলেন। আমার যত প্রশ্ন ছিল সবকিছুরই। উত্তর দেয় ইসলাম, সত্যিই দেয়। যখন আপনি পুরো পৃথিবী দেখেন, তাতে কী ঘটছে তা দেখেন। এবং দেখেন, যা আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন। "তখন মনে হবে হ্যাঁ, ঠিকই তো!

সবকিছুর উত্তর পাচ্ছি।" ইসলাম গ্রহণের পর আপনার পরিবার এবং চারপাশের লোকজন কেমন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল? এর পর থেকে আমার পরিবারের মানুষজন আমার সাথে খুব একটা কথা বলেনা।” হয়তো সামাজিক অনুষ্ঠানে দেখা হয়। কিছু মানুষ আমার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখে। কিন্তু ধর্মীয়ভাবে এড়িয়ে চলে। যেমন শুধুমাত্র আমাদের পারিবারিক সম্পর্ক আছে, সেজন্য। কিছু লোক ভাবে আমি পাগল, আমার কিছু বন্ধু আছে। তাদের কেউ কেউ যেমন আছে মেনে নেয়, কেউ মানতে পারে না, খুব কম সংখ্যক আমাকে প্রশ্ন করে এই সময়ে এসে। আমার মনে হয়, সময়ের সাথে সাথে, আরও অনেক ঘটনা ঘটবে এই পৃথিবীতে। তখন আরও বেশি মানুষ জানতে চাইবে কী ঘটছে, কেন ঘটছে। যেমনটা আমি আর আপনি আজকে আলোচনা করছি। আপনার কি মুসলিম হওয়ার কারণে অনুশোচনা হয়? না। আমি হা! হা! হা! আমি হা! হা! হা!

কখনো না। যদিও কিছু কিছু সময় কঠিন ছিল, অনুশোচনা কখনোই না, না। মাঝে মাঝে আমি নিজেকে প্রশ্ন করি— কেন আল্লাহ আমাকে এভাবে থাকতে দিলেন ৬০ বছর? এখন আর, এখন আর আমি এই ব্যাপারে আল্লাহকে কোনো ধরনের কোনো প্রশ্ন করি না। “কিন্তু আমি এক সময় ভাবতাম, আল্লাহ কেন, আপনি আমাকে ৬০ বছর আপনার থেকে দূরে রাখলেন? হয়তো আমার প্রয়োজন ছিল। কেন! তিনি বনি ইসরায়েলকে ঘুরে বেড়াতে দিলেন? কী কারণে, কেন তিনি মানুষকে এভাবে ঘুরে বেড়াতে দেন?

যেন তারা কতোটা কদর করতে পারে সত্যটা খুঁজে পাওয়ার পর। হয়তো, হয়তো সেই অভিজ্ঞতা অর্জন করে। যে অভিজ্ঞতা দিয়ে ঘুরতে ঘুরতে আবার যেন ফিরে আসতে পারে সঠিক পথে । আমি আমার জীবনে এত কিছু করেছি যে আমি বিভিন্ন ধরনের মানুষের সাথে কথা বলতে পারি, তাদের সাথে সম্পর্ক তৈরি করতে পারি এবং তাদের সত্যটা বুঝাতে পারি এবং সর্বোপরি তাদের সাহায্য করতে পারি। আপনার জীবনে কি এমন কোনো অসাধারণ ঘটনা ঘটেছে যেখানে মনে হয়েছে যে আল্লাহর সাথে আপনার একটি বিশেষ সংযোগ আছে?

হ্যাঁ, বেশ কয়েকবার। যখন আমি প্রায় মারা যাচ্ছিলাম, এমনকি আমি মুসলিম হওয়ার আগে। ঘটনাটা ১৯৭১ সালের। ওহাইও টার্নপাইকে আমি লিফট খুঁজছিলাম এবং একটি লোকের গাড়িতে উঠলাম। সেদিন ছিল সুন্দর ঝলমলে দিন। আমরা গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলাম, কিন্তু সে একটিও কথা বলছিল না। যা অস্বাভাবিক এবং ভীতিকর। সাধারণত মানুষ তো একে অপরের সাথে কথা বলে। তো, ১০০ মাইল যাওয়ার পর আমি বললাম, "আমি নামতে চাই।" সে গাড়ি থামালো। আমি দরজা খুললাম। এবং আমি গাড়ি থেকে নামলাম। আমি নিজের দিক দিয়েই নামলাম। আমি পেছনের দরজাটা খুললাম, আমার ব্যাগ নেওয়ার জন্য আর আমার হাত হাতলে উপর এমনভাবে ছিল বুড়ো আঙুল সেখানে চাপ দিতে হয়। কিন্তু সে গাড়ি চালানো শুরু করল, সে আমাকে দেখতে পাচ্ছিল। সে পেছনে তাকিয়ে আমাকে দেখেছে, ঝুলে আছি। এমনটা দেখে সে গাড়ির গতি আরও বাড়িয়ে দিল। মনে হয়েছিল সে হয়তো ভাবছে আমার ব্যাগে দামি কিছু আছে। তার সিটের ওপর দিয়ে দেখতে পাচ্ছিলাম। গাড়ির গতি প্রায় ৭০-৭৫ মাইল প্রতি ঘণ্টা। কোনোভাবে আমার হাত ছুটে গেল। আমি হাইওয়ের দিকে উড়ে ছিটকে যাচ্ছিলাম। এবং হঠাৎ সবকিছু স্লো হয়ে যাচ্ছিল। সবকিছু যেন স্লো মোশনে চলতে লাগল। এবং আলো-এর গতির মতো কিছু একটা আমি অনুভব করলাম। আমার চারপাশ থেকে, এবং আমি একটি শব্দ শুনতে পেলাম। যেখানে কণ্ঠস্বরগুলো বলছিল, "এখনো না, এখনো না।" হাইওয়ের দিকে যাওয়ার সময়, যেমনটা ঠিক আমি বলছিলাম। সবকিছু ধীর গতিতে চলছিলো। আমি মৃত্যুর কথা ভাবছিলামও না। যাই হোক, আমি উঠলাম। আমার হাতে নুড়ি আর চিবুকে রক্ত ছিল। আমি আবার আঙুল তুলে লিফট চাইলাম। টার্নপাইক হাসপাতাল নেক্সট স্টপেই ছিল। তারা আমার চিবুক সেলাই করে দিল। আমার কোনো হাড় ভাঙেনি, আমি আবার চলতে শুরু করলাম। এই ছিল ব্যাপার এটি অবিশ্বাস্য ছিল। আল্লাহ আমার জীবন বাঁচালেন ঠিক একইভাবে বাঁচিয়েছিলেন ছাদের ওপর। আরেকবার যখন আমি ফ্লোরিডায় একটি ছাদের কন্সট্রাকশনের হিসাব করতে গিয়েছিলাম। একটি মা গাংচিল বেরিয়ে এলো, আমার দিকে তেড়ে আসতে লাগলো। এসির পিছন দিক থেকে আমি পিছিয়ে যাচ্ছিলাম এবং তখন আমি ঠিক ১২ তালার উপরে আমার পিছনের পা দেয়াল থেকে সরে গেল। আমি বাতাসে ভাসছিলাম, আমি ১২ তলা হোটেলের উপরে। এবং তার পেছনে ছিল আটলান্টিক মহাসাগর তার পেছনে মিয়ামি বিচ। একটি বিশাল হাত পেছন থেকে আমাকে বিল্ডিং-এর দিকে ঠেলে দিচ্ছে, আমি অনুভব করলাম। আল্লাহ সাক্ষী। একটি বিশাল হাত ঠিক আমার পিঠের মাঝখানে, আমি অনুভব করলাম। ধাক্কা দিচ্ছে যা আমাকে বিল্ডিং-এর দিকে ফিরিয়ে আনছে। আমার দেহের ভারকেন্দ্র ততক্ষণে পার হয়ে গেছে। আমি কাত হয়ে পড়ে যাচ্ছে যখন আমি পরে যাচ্ছিলাম ঠিক তখনি এটা ঘটে তো এই ২ বার যখন আমাকে বাঁচানো হলো। তখন আমি ভাবলাম, আল্লাহ অনেক কাছে যখন আমি বুঝলাম, একমাত্র আল্লাহই সত্য। হ্যাঁ। মুসলিম হওয়ার পর অভিজ্ঞতা কেমন ছিল কোনো দোয়া কবুল হওয়া বা কোনো নৈকট্য অনুভব করা?

আমি ধার্মিক স্ত্রী চেয়েছি যিনি কোনোভাবেই বস্তুবাদী নন, প্রাচুর্য বা ভোগ-বিলাসে লালায়িত নন। মুসলমান হওয়ার পর এবং আমার সারাজীবনে, সম্ভবত ২০১৫ সালের দিকে, আমাদের কমিউনিটির কিছু ভাই-বোনেরা আমার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন একজন বোনের। তাকে আমার বাড়ি দেখতে নিয়ে আসা হলো। আমরা চারপাশে হাঁটছিলাম, এবং অন্য প্রাপ্তবয়স্করা রান্নাঘরে বসেছিলেন, আমি তাকে বাড়িটি ঘুরে দেখাচ্ছিলাম। তিনি আমাকে বললেন, "আপনাকে আমাকে কিছু দেখাতে হবে না।" আরো বললেন, "আমি বস্তুবাদী নই।" আমার মনে হলো আল্লাহ যেন বলছেন, "এ-ই সে।" বললেন, "হ্যালো।" "তুমি তো এটাই চেয়েছিলে..." যাই হোক, আমরা বিয়ে করলাম। আল্লাহ তাঁর কবরকে শান্তিময় করুন। তিনি ইন্তেকাল করেছেন। আমি আল্লাহর কাছে ধার্মিক স্ত্রী চেয়েছি, তিনি আমাকে ধার্মিক স্ত্রী দিয়েছেন। আর তিনিও ঠিক সেই দোয়াই করেছিলেন যা আমি আমার দোয়ায় আল্লাহকে বলেছিলাম। "আমি এমন স্ত্রী চাই, যিনি বস্তুবাদী নন।" আর আমাদের যখন দেখা হলো, তখন তিনি আমাকে ঠিক সেই কথাগুলোই বললেন। যেমন, "আপনাকে আমাকে ঘুরে দেখাতে হবে না। আমি বস্তুবাদী নই..." আমি বললাম, "ঠিক আছে, খুবই ভালো।" আমি জানি সবার চিন্তা এক না, তবে একজন ইহুদির জন্য জীবনের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য কী?

আমি একটি ইহুদি পরিবারে জন্মেছিলাম, তাই না? আমার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য ছিল এটাই উপলব্ধি করা যে, সম্পূর্ণ সত্য জানতে হলে আমার কেবল দুজন নবীকে (ঈসা আ.

ও মুহাম্মাদ সা.) জানা বাকি ছিল, এবং তাঁদের মেনে নিয়ে মুসলিম হয়ে যাওয়া । আমি সত্যিই এটা বিশ্বাস করি। আপনি যদি সেই র‍্যাবাইকে দেখেন যিনি নবী (আঃ)-এর সঙ্গী হয়েছিলেন— ব্যাপারটা ঠিক তেমনি। আমার কাছে এটা একজন সফল ইহুদি। “আমার মনে হয়, এটিই একজন ইহুদীর সর্বোচ্চ সাফল্য যা অর্জন করা সম্ভব, তা হলো উপলব্ধি করা যে ইহুদি হওয়াটা একটি সত্য পথের ধাপ মাত্র। ইহুদি হলো একটা নির্দিষ্ট লেবেল, যেমন খ্রিস্টানরা হলো একটা নির্দিষ্ট লেবেল। কিন্তু ইসলাম পানির মতো। সেখানে কোনো লেবেল নেই, এটি কেবল শান্তি। এটি একটি মিশন। এর কোনো নাম নেই, মানুষের নামের মতো, আমি কি বলতে চাচ্ছি, বুঝতে পারছেন?

তাই আমি মনে করি, একজন ইহুদির জীবনে সব থেকে বড় প্রাপ্তি হলো মুসলিম হতে পারাটা । আপনার চারপাশের অভিজ্ঞতা থেকে, আপনি ইসরায়েল এবং সেখানকার মানসিকতা সম্পর্কে কী বলবেন? সেই মানুষগুলো কোন জগতে বসবাস করে?

সেখানে বিভিন্ন ধরনের মনোভাব রয়েছে। যেমন, চরম রক্ষণশীল যারা, তারা বলে থাকে ইসরায়েলের কোনো অস্তিত্ব থাকা উচিত নয়। এবং জায়নিজম ভুল। আর তাদের পাগল বিবেচনা করা হয়। এবং আরেক দল আছে তারা পুড়িয়ে দিতে চায় গাজা, তাদের অনাহারে রেখে মেরে ফেলতে চায়। তাদের মধ্যে এমনও মানুষ আছে যারা গাজায় ঢুকে সবাইকে গুলি করতে চায়। সবকিছু দ্রুত শেষ করতে চায়। আবার এমন কিছু মানুষও আছে যারা এর প্রতিবাদও করে। সেখানে অনেক বৈচিত্র্য রয়েছে, এই মানুষ গুলোর মাঝে এত অল্প জায়গার মধ্যেও, তবে যারা প্রভাবশালী, যাদের হাতে নিয়ন্ত্রণ, যাদের হাতে মাঝেই সকল ক্ষমতা, তারাই অনাহারে রাখছে ফিলিস্তিনিদের এবং তারাই মূলত অভিযান চালাচ্ছে স্থল অভিযান সম্প্রসারিত করছে। যখন আমরা কথা বলছি। শুরু থেকেই তাদের আসল উদ্দেশ্য জমি দখল করা, এর লোকজন উচ্ছেদ করা এবং জায়গাটি পুরোপুরি ভাবে নিজেদের দখলে নেওয়া। আর দুর্ভাগ্যজনকভাবে সবাই এগুলো দেখছে। কিন্তু কেউই তাদের থামাতে পারছে না। তাহলে জমি দখলের পেছনের আসল উদ্দেশ্য কী?

একটা পরিকল্পনা আছে যার নাম 'গ্রেটার ইসরায়েল'। ঠিক আছে?

এটি মূলত নীল নদ থেকে ইউফ্রেটিস পর্যন্ত বিস্তৃত। এতে মিশরের কিছু অংশ, পুরোপুরি লেবানন, সিরিয়া, সেখানে জর্ডানের,সৌদি আরবের কিছু অংশ। অন্য কথায়, বড় এলাকা, অনেক বড় জায়গা। মূলত, এটা তাদের সম্প্রসারণ নীতি প্রভাব বাড়িয়ে প্রতিষ্ঠা করার 'নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার'। নতুন বৈশ্বিক সরকারের সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠা করা। আমি মনে করি, এটাই আসল পরিকল্পনা। জায়নিষ্টরা অ্যামেরিকান সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করে। এমন কি আমি যা বলছি তার জন্য আমাকে জেলেও যেতে পারে। তারা একটি আইন তৈরি করতে চায় যদি ইসরায়েলের সমালোচনা করেন, ফিলিস্তিনকে সাপোর্ট করেন , সেটা ইহুদি-বিদ্বেষ বলে গণ্য হবে, যার জন্য ২০ বছর পর্যন্ত জেল এবং ১০ লাখ ডলার জরিমানা হতে পারে। তারা কংগ্রেসে এই আইন পাস করতে চাইছে। আমার মনে হয়না এটি পাস হবে, কিন্তু এটি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তারা এটি নিয়ে বিতর্ক করছে। এটি মনে করিয়ে দেয় ১৯৩৩ সালের জার্মানির কথা। পার্থক্য হলো, এখন মুসলিমদের বিরুদ্ধে হচ্ছে, ইহুদিদের নয়। যেন ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি। কেনেডিকে দেখার পর, ভিয়েতনামকে দেখার পর, নাইন ইলেভেন দেখার পর, ভাই, এগুলো এমনি এমনি ঘটে না। আমার মনে হয়, এসবই সাজানো। আমার মনে হয়, সবই পরিকল্পিত। এগুলো তাদের ড্রয়িং বোর্ডে আঁকা ছিল, ঘটনা গুলোর ঘটার অনেক বছর আগে থাকে। আমি মনে করে এগুলো তাদের দখল করে নেবার বড় পরিকল্পনারই একটি অংশ। যদি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এখন এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতেন, আপনি ওনাকে কী বলতেন?

আমি প্রথমে দাঁড়িয়ে যেতাম, বলতাম— আসসালামু আলাইকুম। বাকিটা তাঁর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করত। আমি ধন্যবাদ জানাতাম, আমি ধন্যবাদ জানাতাম। অসংখ্য ধন্যবাদ দিতাম। আর কীই বা বলার আছে? ধন্যবাদ আপনার ত্যাগের জন্য। আল্লাহর পথ দেখানোর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। ধন্যবাদ, কুফর থেকে বের করবার জন্য। এই ৭৫ বছরের এই দীর্ঘ জীবন ধরে আপনি সত্যের সন্ধান করে গেছেন এবং অবশেষে সেই সত্য খুঁজে পেয়েছেন। যদি আপনাকে পুরো অ্যামেরিকান সমাজ বা পুরো বিশ্বকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলার জন্য বলা হয়,সুপার বোল কমার্শিয়ালে মাত্র এক মিনিটের সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে, আপনি এই এক মিনিটে কী বলতে চাইবেন?

এই সব বিষয় সংক্ষেপে তুলে ধরুন, সবাই আপনার কথা শুনছে। সবার উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমার বেশি সময় নেই। মাত্র এক মিনিট পেয়েছি, এর মাঝে আমি বলছি সহজ করে। আপনি যেই হোন না কেন, যেখানেই থাকুন না কেন, আপনার পরিস্থিতি যাই হোক, আমি শুধু এইটুকু বলতে চাই: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, যিনি আপনাদের হৃদস্পন্দন, আমার হৃদস্পন্দন এখনো সচল রেখেছেন। মুহাম্মদ (সাঃ) সর্বশেষ নবী। মূসা, ঈসা সহ পূর্ববর্তী নবী-রাসূল তাঁর পথ অনুসরণ করেছেন তার কথায় ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে। অন্যান্য ধর্মগ্রন্থে, যেমন বেদ। তিনি নবী হিসেবে এসেছেন সমগ্র বিশ্বের জন্য । সবার প্রতি শান্তি । আমি সবাইকে আমন্ত্রণ জানাই জন্মগত অধিকার আবিষ্কার করুন। টেলিভিশনে যা দেখছেন তা আসলে ইসলাম নয় । জানুন ইসলাম কী, আর ঘরে ফিরে আসুন। ব্রাদার আবু মুজাহিদ, আপনার এবং চমৎকার সব অভিজ্ঞতা শুনানোর জন্য ধন্যবাদ। জাযাকাল্লাহ খায়রান। আল্লাহ এর উত্তম প্রতিদান দিন এবং ইনশাআল্লাহ আপনাকে জান্নাতে প্রবেশের সুযোগ দিন। আপনার এবং আপনার টিমের জন্যও একই দোয়া। আমি আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করছি , যে আল্লাহ আমাকে এই কাজে লাগাচ্ছেন। আল্লাহ আপনার এই কাজকে আরো সহজ এবং কার্যকরী করুন। আপনার এই কাজের মাধ্যমে আল্লাহ অনেকের হৃদয়কে আলোকিত করুন।
