# ১ মিনিটের মধ্যে এগনস্টিক (ঈশ্বর এর অস্তিত্বের ব্যাপারে যে সন্দিহান) এর প্রশ্নের উত্তর

- Language: bn
- Published: 2026-08-26
- Canonical: https://blog.towardseternity.com/bn/blog/answer-to-agnosticism-in-1-minute-you-believe-in-an-imaginary-god
- Source video: https://www.youtube.com/watch?v=frp-yI0F9Lo
- Channel: Towards Eternity

This is the cleaned transcript of the source video. The speech is unaltered.

---

+ এখানে এটা আপনার প্রথমবার নয়। আপনার নিয়ম জানা আছে। প্রতিটা প্রশ্নের জন্য আপনি 60 সেকেন্ড সময় পাবেন। - সময়ের পরিবর্তে তথ্যের দিকে বেশি মনোযোগ দেয়াটাই কি অধিক যুক্তিসংগত নয়? + যদি আপনি সময় রক্ষা করতে না চান, তাহলে আপনি আমাদের অন্যান্য ভিডিওতে যেতে পারেন। এটা হলো "পাল্টা প্রশ্নোত্তর"। + নাস্তিক্যবাদ ও অজ্ঞেয়বাদের মধ্যে পার্থক্য কী?

- মুলত 2টি পার্থক্য আছে। নাস্তিক্যবাদে স্রষ্টার অস্তিত্ব না থাকার মতবাদের পক্ষে জোরালো দাবি উত্থাপন করা হয়, অন্যদিকে অজ্ঞেয়বাদ অনেকটা মাঝামাঝি অবস্থান নেয়। অর্থাৎ, এটা বলার মাধ্যমে যে, "স্রষ্টার অস্তিত্ব থাকা বা না থাকা সম্পর্কে আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি না"। তারা বিষয়টিকে 'অজ্ঞাত' হিসেবে বর্ণনা করেন। তারা বলে যে না জানার কারণ হলো তারা ভৌতভাবে এটিকে পর্যবেক্ষণ করতে পারে না। কিন্তু, লোকজন এমন অনেক কিছুতেই বিশ্বাস করে যা তারা দেখতে পায় না। উদাহরণস্বরূপ, সহমর্মীতা। সবাই এতে বিশ্বাস করে, কিন্তু কেউই এটিকে মূর্ত কোনো বিষয় হিসেবে পর্যবেক্ষণ করতে পারে না। ন্যায়বিচার, ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্ব ইত্যাদি বিষয়গুলোর ব্যাপারেও একই কথা সত্য। এগুলো এমন ধারণা যা আমরা দেখতে পাই না কিন্তু এরপরও বিশ্বাস করে থাকি। সত্যি বলতে, আমরা সবাই এমন কিছু বিষয় বিশ্বাস করে থাকি যা আমরা দেখতে পাই না, কিন্তু তাদের সন্দেহ হলো স্রষ্টার অস্তিত্ব সম্পর্কে। একারণে আমরা বলতে পারি যে অজ্ঞেয়বাদ ভুল। কেন?

কারণ স্রষ্টার অস্তিত্বের ব্যাপারে বহু তথ্য পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, যখন একজন পুলিশ অফিসার কোনো তদন্ত করেন, তখন তিনি প্রমাণ সংগ্রহ করেন, তাই না? যেমন তিনি পায়ের ছাপ খুঁজেন এবং আঙ্গুলের ছাপ সংগ্রহ করেন। এধরনের কয়েকশ প্রমাণ দেখতে পাওয়ার পরে তিনি এটা বলবেন না যে, "আমি অপরাধীকে দেখিনি সুতরাং তার অস্তিত্ব নেই এবং এই প্রমাণের কোনো অর্থ নেই কারণ আমরা কখনোই জানতে পারবো না।" বরং, তিনি প্রমাণ দেখার পর একটি যৌক্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। এরপর তিনি এই প্রমাণের উপর ভিত্তি করে নিজেই অপরাধীকে খুঁজে নিতে পারবেন। তাই, যেখানে জ্ঞান থাকে সেখানে অনিশ্চয়তা দূর হয়ে যায়। + আপনি কেন মাঝখানে থাকতে পারছেন না? "আমি জানি না" বলাটা কি একটা যৌক্তিক উত্তর নয়?

- না, কারণ একটা গুণ হাওয়ায় ভেসে থাকতে পারে না। যখন আমরা কোনো গুণ দেখতে পাই, আমাদের অবশ্যই সেটা তার মালিকের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি আমরা সমুদ্রতীরে যাই এবং পানির উপর সূর্যের আলো চমকাতে দেখি তাহলে আমরা এই উজ্জ্বলতাকে কোনো কিছুর সঙ্গে সম্পৃক্ত করবো। আমরা এটাকে সূর্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত করবো। আমরা হয় এটা বলবো "এটা সূর্যের আলোর চমক", যদিও আমরা সেটা দেখতে পাচ্ছি না, অথবা আমরা এই পানির কণাগুলোয় একটি উৎস রয়েছে (সূর্যের মতো) বলে মেনে নিব। তো এই ব্যাপারে আসলে আপনার মাঝামাঝি অবস্থান নেওয়ার সুযোগ নেই। একইভাবে, যখন আমরা মহাবিশ্বের দিকে তাকাই, আমরা সর্বত্র পরমাণূর বিচরণ দেখতে পাই, কিন্তু যখন আমরা পরমাণুকে পরীক্ষা করি, আমরা দেখি যে সেগুলোর মধ্যে সেই বৈশিষ্ট্যগুলো নেই। উদাহরণস্বরূপ, একটি পরমাণু দেখতে আমি যা দেখি সেটার মতো নয় এবং একটা পরমাণু আমি যা শুনি তার মতো শব্দ করে না বেশ, আমি এই গুণগুলো শূন্যে রেখে দিতে পারি না, কিন্তু যদি আমি পরমাণুর মধ্যে সেগুলো পরীক্ষা করার সময় সে গুণগুলো দেখতে না পাই - যা আমি দেখতে পাইনি - তাহলে আমি বলবো "যদিও আমি দেখতে পাচ্ছি না, আমাকে মেনে নিতে হবে যে এর পিছনে একজন সত্ত্বা রয়েছেন। একজন সত্ত্বা যার এই গুণগুলো আছে, একজন স্রষ্টা"। + অজ্ঞেয়বাদ কি অন্যান্য ধর্মবিশ্বাসের চেয়ে বেশি ন্যায্য নয়?

তারা কমপক্ষে এটাতো বলেন যে তারা জানেন না। অন্যান্য মতবাদ অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে স্রষ্টার অস্তিত্ব বা অনস্তিত্বের কথা দাবি করে থাকে। - আমাদের জন্য এটাকে "ন্যায্য" বলতে হলে, আমাদের হাতে কোনো প্রমাণ, কোনো যৌক্তিক সিদ্ধান্ত, কোনো চিহ্ন থাকার কথা ছিল না। সেক্ষেত্রে আমরা এটাকে ন্যায্য বলতে পারতাম, কিন্তু মহাবিশ্বের দিকে তাকালে আপনি দেখবেন, আমরা যেদিকেই তাকাই না কেন, সবকিছুতে আমরা একজন স্রষ্টার অস্তিত্বের প্রমাণ দেখতে পাই, তিনিই আল্লাহ। আপনার কি মনে হয় যে এই ব্যাপারটা যৌক্তিক হবে?

একজন মা প্রতিনিয়ত তার সন্তানকে খাবার খাওয়ান, তার পরিচর্যা করেন, নবজাতক অবস্থা থেকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত তার সব প্রয়োজন পূরণ করেন। এরপর যখন সে সন্তান বেড়ে উঠলো, সে বললো “আমি স্নেহ-মমতা মূর্তমানভাবে দেখতে পাই না। তাই, আমি জানি না আমার মা স্নেহময়ী কি না। আমি এটা কখনোই জানতে পারবো না। আমি এটা নিশ্চিত করে বলতে পারবো না।" এখন আপনি এই সন্তানের কথাকে ন্যায্য বলবেন না কি অন্যায্য বলবেন? আপনি কিভাবে আপনার মা স্নেহময়ী নন বলতে পারেন শুধু এই কারণে যে আপনি ভৌতভাবে তার এই স্নেহ-মমতা দেখতে পাচ্ছেন না? অন্য কথায়, যখন এই মহাবিশ্বের সবকিছু আমাদেরকে আল্লাহর সম্পর্কে বলছে, এবং আমরা সবকিছু দেখতে পাচ্ছি, আমরা এটাকে ন্যায্য বলবো না কি অন্যায্য বলবো?

+ কিভাবে আপনি আল্লাহর অস্তিত্ব সম্পর্কে 100% নিশ্চিত হতে পারেন? এমনকি যদি এক মিলিয়নের মধ্যে একবারও হয়, আপনার কি ভুল হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই? - ভুল হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ... যখন সবকিছু আমাকে আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ দেখাচ্ছে, আমি নিশ্চিতভাবে জানি যে তাঁর অস্তিত্ব না থাকা অসম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, আমরা ইতোমধ্যে তাঁর অস্তিত্ব সম্পর্কে কথা বলেছি। আপনি কি কেন তাঁর অস্তিত্ব না থাকা অসম্ভব এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চান? উদাহরণস্বরূপ, তাঁর অনুপস্থিতিতে বহু সাংঘর্ষিক ব্যাপার দেখা দিবে। এগুলোর মধ্যে একটি হলো বিচারক-অপরাধী উভয় সংকট। কেউ একজন একই সাথে বিচারক ও অপরাধী হতে পারে না। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি ভবনগুলোর দিকে তাকান, এগুলো ইট দিয়ে নির্মিত, তাই না?

সবগুলো ইট একই ধরনের। এগুলো একই উপাদান থেকে তৈরি। এখন, আমি যদি এই ইটগুলোর দিকে তাকিয়ে, একজন বহিরাগত স্থপতি থাকার ব্যাপারটি মেনে না নেই, তাহলে এসব ইট নিজে নিজে একটা আরেকটার উপর বসতে পারবে না। এর কারণ হলো একটা ইটকে অবশ্যই অন্য প্রতিটি ইটের বিচার করতে হবে (পরম বিচারক) এবং একই সময়ে প্রত্যেকের জন্য পরম অপরাধী হতে হবে। কেন? অন্যথায়, কে আদেশ দিবে আর কে আদেশ পালন করবে? কোন ইটটি অন্যদের নিয়ন্ত্রণ করবে? কিভাবে এটা একই সময়ে অন্যদের কাছ থেকে আদেশ গ্রহণ করবে?

তাই, এই উদাহরণের মতোই, যেহেতু একটা বিচারক-অপরাধী উভয় সংকট তৈরি হবে, যখন আমি পরমাণুগুলো এমন এক পরিস্থিতিতে থাকার কথা চিন্তা করি যেখানে কোনো স্রষ্টা নেই, প্রতিটি পরমাণু অবশ্যই পরম বিচারক হিসেবে কাজ করতে হবে এবং এছাড়াও পরম অপরাধী হিসেবে কাজ করতে হবে যাতে এটা পুরো মহাবিশ্বব্যাপী এই একই প্রক্রিয়া স্থায়ীভাবে টিকিয়ে রাখতে পারে এবং এই ব্যবস্থাকে সামলাতে পারে। কিন্তু এটি একটি পরষ্পরবিরোধী ব্যাপার। তাহলে, প্রতিটি পরমাণু এক একটি অপরাধী। অবশ্যই একজন স্রষ্টা থাকতে হবে যিনি এই উদাহরণের স্থপতির মতো যিনি সেগুলোর প্রত্যেকটিকে নিয়ন্ত্রণ করেন। আমরা এই বিষয়টি নিয়ে প্রচুর কথা বলতে পারি, যেমনটা আমি আগেও বলেছি, আমাদের সময় সীমিত। + আপনি তাদেরকে কী বলবেন যারা বলেন “আপনি এমন এক স্রষ্টায় বিশ্বাস করেন যার কথা আপনি মনে মনে কল্পনা করে নিয়েছেন এবং এগুলোর সবকিছুই আপনার ধারণামাত্র”?

- দেখুন, "বিজ্ঞান হলো জ্ঞান নির্ভর", তাই, যদি তথ্য পাওয়া যায় তাহলে বাস্তবতা পরিবর্তন হয় না। আমার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন অথবা আমার মন পরিবর্তন করা বাস্তবতাকে প্রভাবিত করবে না। ধরা যাক, আমি আমার চোখ বন্ধ করলাম এবঙ্গ ভাবলাম যে এখানে একটা টেবিল নয়, বরং একটা ট্রে আছে। এখন, আমার জ্ঞানকে পরিবর্তন করা, আমার দৃষ্টিভঙ্গিকে পরিবর্তন করা বাস্তবতাকে প্রভাবিত করেনি। একইভাবে আমরা এই মহাবিশ্বে কোনো ধরনের কোনো দৃষ্টিবিভ্রম নিয়ে কথা বলছি না। আমরা আমাদের দেখতে পাওয়া বহু বস্তুগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে কথা বলছি। আমরা মহাবিশ্বের প্রতিটি অংশ সম্পর্কে কথা বলছি এবং তারপরে আমরা স্রষ্টার কথা প্রমাণ করছি। এখন, একজন ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে বললে, তিনি "হ্যাঁ" বা "না" বলতে পারেন এবং নিজের মনে কিছু একটা বানিয়ে নিতে পারে কিন্তু বাস্তবতা পরিবর্তন হবে না কারণ এটা প্রত্যেকের দ্বারা গ্রহণযোগ্য একটি বিষয় মহাবিশ্ব নিজেই এর সাক্ষী। তাই, স্রষ্টার অস্তিত্বের বিষয়টি সুনিশ্চিত। এটা সে ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী পাল্টে যাবে না। আর এটা খুব একটা গুরুত্বও রাখে না কারণ তখন লোকদের বলতে হবে, "সবকিছুই হলো দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপার" এবং একেবারেই কিছু চলবে না। উদাহরণস্বরূপ, কোনো ব্যক্তি যখন ক্ষুধার্ত হন তখন তিনি খাবার খান। তিনি খাবার খাওয়া বন্ধ করে দিয়ে এটা বলেন না যে, "এটাতো শুধু দৃষ্টিভঙ্গি"। কিংবা, অনুরূপভাবে, তিনি যখন অসুস্থ হন তখন ওষুধ গ্রহণ করেন। তিনি এটা বলেন না যে "এটাতো একটা দৃষ্টিভঙ্গি। এগুলো সবকিছুই হলো দৃষ্টিভঙ্গি"। তো, যখন স্রষ্টার কথা আসে, আল্লাহর কথা আসে, মনে হয় এটা যেন শয়তানের ধোঁকা এবঙ্গ মানুষ প্রতারিত হয়ে যাচ্ছে। + স্রষ্টার অস্তিত্ব না থাকা মনে করার বিভ্রম কি মানুষকে ধর্ম থেকে বের করে দেয়?

এটা তাদেরকে অজ্ঞেয়বাদী বানিয়ে দেয়? - নাম থেকেই যেমনটা বুঝা যাচ্ছে, এই বিষয়টি হলো একটি বিভ্রম। এটা মানুষের নিজের ইচ্ছা থেকে আসা কোনো চিন্তা নয়। এটা শুধু মস্তিষ্কের মধ্যেই আছে। এটা বিশ্বাসের কোনো ক্ষতি করবে না। এটা কোনো ব্যক্তিকে ধর্ম থেকে বের করে দেয় না। আমরা আপনাকে একটা উদাহরণ দিতে পারবো। একজন বার্সেলোনা ভক্তের কথা চিন্তা করুন। যদি এই ব্যক্তির মাথার মধ্যে সবসময় রিয়েল মাদ্রিদের দলীয় সঙ্গীত বাজতে থাকে তাহলে তিনি কি রিয়েল মাদ্রিদের ভক্ত হয়ে যাবেন? অবশ্যই না। এটা শুধুই একটা সুর যা অনিচ্ছাকৃতভাবে তাদের মাথায় বাজতে থাকে। এটা তাদের মন পরিবর্তন করে দিবে না। আর একইভাবে, শয়তানের পক্ষ থেকে আস এই কুমন্ত্রণা যে "যদি স্রষ্ট্রার অস্তিত্ব না থাকে?

যদি এটা সত্য না হয়?" এসব অনিয়ন্ত্রণযোগ্য চিন্তাভাবনা ব্যক্তির মনকে পরিবর্তন করবে না এবং তাকে ধর্ম থেকে বের করে দিবে না। যদি না সে ব্যক্তি এটা মেনে নেন, গ্রহণ করে নেন এটার প্রচার করেন তাহলে কোনো সমস্যা নেই। গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো জেনে রাখা যে এটা একটি বিভ্রান্তি এবং ইসলামের মধ্যে থাকা প্রমাণ নিয়ে গবেষণা করা। + আমাদের প্রশ্ন আজ এটুকুই। পরের বার, আরো কঠিন প্রশ্ন থাকবে। - যেমনটা আমি আগেও বলেছি, কোনো প্রশ্নই কঠিন না, বরং কিছু প্রশ্নের উত্তর আমার অজানা থাকতে পারে।
