# নাস্তিক সার্জনের ইসলাম গ্রহণ, "আমি আল্লাহ্‌র কাছে মিনতি করেছিলাম আমার মেয়েকে বাঁচাতে।”

- Language: bn
- Published: 2026-08-26
- Canonical: https://blog.towardseternity.com/bn/blog/atheist-surgeon-converts-to-islam-i-begged-god-to-save-my-daughter
- Source video: https://www.youtube.com/watch?v=-E7VYwZvbBM
- Channel: Towards Eternity

This is the cleaned transcript of the source video. The speech is unaltered.

---

আমি একজন নাস্তিক হিসেবে বড় হয়েছি। আমি একটি একাডেমিক মেডিকেল স্কুলে পড়াশোনা করেছি, সফল ছিলাম, ভালো উপার্জন করতাম, জীবন নিয়ে পুরোপুরি সুখী ছিলাম। আমার মেয়ে, যার জন্মের সময় হৃদরোগের সমস্যা ছিলো। তার শরীরের নিচের অংশ মৃত্যুবরণ করছিল কারণ...

সেই অংশে কোন অক্সিজেন পাচ্ছিল না। ডাক্তারেরা আমাকে রুম থেকে বের করে দিলেন। আমি সোজা হাসপাতালের প্রার্থনা কক্ষে গেলাম। আমি বললাম, "হে স্রষ্টা, যদি আপনি থেকে থাকেন, তাহলে আমাকে সাহায্য করুন। আপনি যদি আমার মেয়ে কে রক্ষা করেন তাহলে আমি আপনাকে অনুসরণ করব। আমি সকল ধর্ম সম্পর্কে খোঁজখবর শুরু করলাম। তাও ধর্ম, বৌদ্ধ ধর্ম, হিন্দু ধর্ম। আমার ভাই, সে আমাকে কুরআনের একটি অনুবাদ পাঠিয়েছে। যখন আমি এটা পড়লাম সাথে সাথেই সব বুঝতে পারলাম। আমি মুসলিম হবার পর, আমার স্ত্রী ১৪ বছরের সংসার ছেড়ে আমাকে তালাক দিল। আমার মা এবং বাবা আমাকে পরিত্যাগ করলেন। আমার ঘর থেকে বের হও আর কখনো ফিরে আসবে না!

এক রাতে, আমি এই স্বপ্ন দেখলাম নবী (সাঃ) আমি তাঁর সান্নিধ্যে ছিলাম এবং পাহাড়ের দিকে ইশারা করে তিনি বললেন, "পাহাড়ে যাও।" আসসালামু আলাইকুম, ডঃ লরেন্স ব্রাউন। আমাদের আমন্ত্রণ গ্রহণ করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনাকে আমাদের সাথে পেয়ে আমরা খুব খুশি। ওয়া আলাইকুম আসসালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ আমি শুরু করতে চাই এই প্রশ্ন দিয়ে, ডঃ লরেন্স ব্রাউন কে? আপনার জীবন সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু বলবেন? তো আমি একজন...

আমি একজন চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ, একজন লেখক, এবং বর্তমানে আমি সৌদি আরবে বাস করছি আর ওখানেই কাজ করছি। আমি এমন একটি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলাম যারা কোয়েকার ছিল, কিন্তু প্র্যাকটিস করত না। আসলে কোয়েকাররা হল একটি সম্প্রদায়, খ্রিষ্ট ধর্মের একটি প্রটেস্ট্যান্ট সম্প্রদায়। আমি মুসলিম হয়েছি প্রায় ৩০ বছর আগে। যা আমাকে সৌদি আরবে নিয়ে আসে, এবং আমি তখন থেকে সৌদি আরবে বসবাস ও কাজ করছি। ধর্ম বিশ্বাসের দিক থেকে আপনার জীবন কেমন ছিলো? আপনি কী বিশ্বাস করতেন?

আমি নাস্তিক হিসেবে বড় হয়েছি। আমি যুক্তরাষ্ট্রে বড় হয়েছি। আমি সান ফ্রান্সিসকোতে জন্মগ্রহণ করেছি আর সেখানেই বড় হয়েছি। আমি একটি একাডেমিক হাই স্কুল, কলেজ, মেডিকেল স্কুলে গিয়েছিলাম, ইন্টার্নশিপ, রেসিডেন্সি, এবং এই সব একাডেমিক পরিবেশে, যেখানে অধিকাংশ শিক্ষক, আমার সহকর্মীরা, সহপাঠীরা নাস্তিক ছিলেন, এবং বুদ্ধিজীবীদের বিশ্বাস এমনই হবে মূলত এটাই ধরে নেয়া হত। কারণ বুদ্ধিজীবীরা স্রষ্টার অস্তিত্বকে যুক্তির মাধ্যমে অস্বীকার করে। সুতরাং সেটাই ছিল আমার... আমার বিশ্বাস যতক্ষণ না... আমার একটি আধ্যাত্মিক জাগরণ হয়। অনুগ্রহ করে আমাদের এই অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলুন। কোন বিষয়টি আপনাকে আপনার বিশ্বাসকে প্রশ্ন করতে এবং এই যাত্রা শুরু করতে বাধ্য করল?

এটি আসলে পুরোপুরি বোঝানো কঠিন। আমি একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও পরামর্শক হয়ে ছিলাম মূলত একটি দীর্ঘ শিক্ষাদান ও প্রশিক্ষণ পর্বের পর। এবং সফল, অর্থ উপার্জন করছিলাম, আমার যা কিছু প্রয়োজন সবকিছু কিনতে পারছিলাম, এবং আপনি জানেন, আমার জীবন নিয়ে বেশ খুশি ছিলাম, কিন্তু তারপরও আমি আশেপাশে দেখতে শুরু করলাম আর অনুভব করলাম, এখানে নিশ্চয়ই আরও কিছু থাকার কথা। কিন্তু আমার জন্য আসল উপলব্ধি তখন এসেছিল যখন আমার একটি মেয়ে জন্ম নেয়, যে জন্মগতভাবে হৃদযন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত ছিল, আসলে এটা হৃদযন্ত্রের সমস্যা নয়, বরং সমস্যা ছিলো হৃদযন্ত্র থেকে বের হওয়া প্রধান ধমনীতে যেটাকে বলে এওর্টা বা মহাধমনী। আর জন্মের সময় আমার মেয়ের মহাধমনী সংকীর্ণ ছিলো। এবং জন্মের সময়ই, তার শরীরের নিম্নাংশ ছিল ধূসর নীল, আমার পরনের সার্জিকাল স্ক্রাবের চেয়েও গাঢ় নীল, বুঝলেন?

মনে হচ্ছিল তার শরীর যেন…

মারা যাচ্ছে, কারণ এতে কোনো অক্সিজেন পৌঁছাচ্ছে না। আর অবশ্যই, একজন ডাক্তার হিসেবে এমন দৃশ্য দেখা আমার জন্য খুব ভয়ানক ব্যাপার ছিল। এবং, যেমন আমি বলেছি, সেই মুহূর্ত পর্যন্ত আমি ছিলাম নাস্তিক, যদিও আমি ধীরে ধীরে একজন স্রষ্টার উপস্থিতি অনুভব করছিলাম, সেই অনুভূতি কেবল স্রষ্টা থেকেই আসতে পারে। আমার সারা জীবন সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ আমার হাতে ছিল। জীবনে প্রথমবার আমি এমন এক অবস্থায় ছিলাম যেখানে আমি একেবারেই কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিলাম না। এখানে আমার কিছুই করার ছিলনা। আগে আমার যদি টাকার প্রয়োজন হত, আমি আরও পরিশ্রম করতাম। আমার যদি কোনকিছুর প্রয়োজন হত আমি সেটা করতাম। সবসময়ই আমি আমার জীবনের নিয়ন্ত্রণে ছিলাম। এখন আমি এমন কিছুর মুখোমুখি, যেখানে শিশুটিকে এই অবস্থায় দেখে, আমি বুঝতে পারলাম তার জন্য আমি কিছুই করতে পারবোনা। শুধুমাত্র আমার সৃষ্টিকর্তাই এই শিশুটিকে বাঁচাতে পারেন ডাক্তাররা আমাকে রুম থেকে বের করে দিলেন। আমি বেরিয়ে গেলাম...

নবজাতকদের সেই আইসিইউ থেকে, আর তখন আমার হৃদয়ে একটা অনুভূতি তৈরি হলো। আমি সোজা হাসপাতালের প্রার্থনা কক্ষে গেলাম। প্রার্থনা কক্ষে গেলাম আর... আমি খুব সহজ একটা প্রার্থনা করলাম। আপনি কি কখনও "সংশয়বাদীদের" প্রার্থনা শুনেছেন? আচ্ছা... সংশয়বাদীদের প্রার্থনা হলো জাস্ট প্রার্থনা করা যে, "হে স্রষ্টা, যদি সত্যিই তুমি থেকে থাকো, আমার আত্মাকে রক্ষা করো, যদি আমার আত্মা থাকে।" এরকম কিছু। আর বিষয়টা হলো...

এভাবেই অনেক সংশয়বাদী, অনেক নাস্তিক প্রার্থনা করে থাকে। আমি তখন সংশয়বাদীদের প্রার্থনা সম্পর্কে জানতাম না, কিন্তু আমি যেটা করেছিলাম, তা বলা যায় প্রায় এর কাছাকাছি। আসলে, আমি যা করেছিলাম, তা আরও কাছাকাছি ছিল সূরা আল-ফাতিহার সাথে। যে অর্থে আমি আমার সৃষ্টিকর্তাকে স্বীকার করেছিলাম। আমি বলেছিলাম, "হে স্রষ্টা, যদি তুমি থাকো, আমার সাহায্য দরকার।" আমি কেবল আমার সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করেছিলাম। স্রষ্টার সঙ্গে সরাসরি কথা বলে আমি বললাম, "আপনি যদি আমায়ের সন্তানকে বাঁচান তবে আমাকে সেই ধর্মের পথ দেখান যা আপনার কাছে সবচেয়ে প্রিয়, সেটা আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় হওয়া জরুরি নয়, বরং আপনার কাছে সবচেয়ে প্রিয়, আমি তা অনুসরণ করব।” এরপর আমি প্রার্থনা কক্ষ থেকে বের হয়ে আইসিইউতে ফিরে গেলাম। আমি হয়তো ১০ বা ১৫ মিনিট বাইরে ছিলাম যাতে ডাক্তাররা পরীক্ষা নিরীক্ষা ও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। আপনি জানেন, যখন নবজাতকদের নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে প্রবেশ করতে হয়, এর একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া আছে। আপনাকে হাত ধুতে হয়, গাউন, গ্লাভস, মাস্ক, টুপি সব কিছু পরতে হয়। এবং যখন আমি এই সব করছিলাম, আমি জানালার দিকে তাকিয়ে দেখলাম ডাক্তাররা ঘরের এক কোনে আমার মেয়ের চারপাশে জটলা করে দাঁড়িয়ে আছে। তারা তাকিয়ে আমার দিকে দেখছিল, আর আমি তাদের মুখের অভিব্যক্তি থেকে বুঝতে পারছিলাম...

আমি... আমি তাদের মুখের অভিব্যক্তি দেখে বুঝলাম কিছু একটা বদলে গেছে। তাই যখন আমি ঘরের ভেতরে ঢুকলাম, আর... ...আসলে বুঝলেন... প্রায় ৩৫–৩৬ বছর হয়ে গেছে, তবুও এই গল্পটা বলতে গেলে আমি ইমোশোনাল হয়ে যাই আমার গলা ভারী হয়ে আসে। তো যখন আমি ডাক্তারদের কাছে গেলাম, পেড্রিয়াটিক কার্ডিওথোরাসিক সার্জন আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, "ও এখন সুস্থ হয়ে যাবে।" আর আমি বুঝতে পারছিলাম যে তারা সবাই এই ব্যাখ্যা মেনে নিচ্ছে, কিন্তু আমার হৃদয়ে আমি অনুভূব করছিলাম তারা তো কয়েক মিনিট আগে আমার সঙ্গে ছিল না, যখন আমি আমার স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করছিলাম এই শিশুটিকে বাঁচানোর জন্য আর সেটাই সেই মুহূর্ত ছিল, যখন স্রষ্টার বিশ্বাস আমার অন্তরে প্রবেশ করল। আমার মেয়ে, আমার মেয়ে হান্না, সে পরে...

সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছিল। তার কোনো ওষুধ লাগেনি, কোনো অস্ত্রোপচার লাগেনি, কোনো ধরণের চিকিৎসা লাগেনি। সে সম্পূর্ণভাবে স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছিল। আপনি এটা একটা অলৌকিক ঘটনা বলতে পারেন অথবা ডাক্তারদের ব্যাখ্যা মেনে নিতে পারেন, কিন্তু আমার জন্য এটা স্পষ্ট হয়েছিল যে আমি আমার স্রষ্টার সাথে ওয়াদা করেছি একটা বিষয়ে। আমি তাঁকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, যদি সে আমার সন্তানকে বাঁচায় এবং আমাকে…

সর্বোত্তম ধর্মের পথে পরিচালনা করে যা তার পছন্দ, তাহলে আমি সেই ধর্ম মেনে চলব। আজকে কথা বলা চালিয়ে যেতে হলে এই শ্বাসরুদ্ধকর অনুভূতি আগে কাটিয়ে উঠতে হবে। এরপরে যা হল তা ছিল আমার জন্য চার পাঁচ বছরের একটি ভয়ানক রকমের মানসিক ট্রমা। কারণ আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, যদি আল্লাহ আমাকে তার নির্বাচিত ধর্মের পথে পরিচালিত করেন, কিন্ত আমি এটা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। আমি সবখানে খোঁজাখুঁজি করেছিঃ তাওবাদ, বৌদ্ধ ধর্ম, হিন্দু ধর্ম। এবং অবশেষে, পশ্চিমারা যা করে আমি তাই করলাম। আমি একটা, বাইবেলের ওল্ড টেস্টামেন্ট পড়া শুরু করলাম। যখন আমি ওল্ড টেস্টামেন্ট পড়া শুরু করলাম, আমার সাথে একটা সংযোগ অনুধাবন করতে পারলাম। আমি বললাম, "ঠিক আছে ওল্ড টেস্টামেন্ট যা শিক্ষা দেয় আমি তার অনেক কিছুর উপর বিশ্বাস করি।" আমি এমন অনেক কিছুই পেলাম যা আমি আমাদের সৃষ্টিকর্তার প্রকৃতির সঙ্গে মিলিয়ে বিশ্বাস করতে পারি। কিন্তু একই সময়ে, ওল্ড টেস্টামেন্ট তিনজন নবীর আগমনের ব্যাপারে ভবিষ্যদ্বাণী করে। তখন আমার মনে প্রশ্ন জাগল, তাহলে এই তৃতীয় নবী কোথায়?

"পারাক্লিটোস" শব্দটি নিয়ে বাইবেলে অনেক আলোচনা হয়েছে। অনেকেই বলেন "পারাক্লিটোস" শব্দটির অনুবাদ “আহমদ” হতে পারে, যা হল নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর একটি নাম। আমারা যে পারাক্লিটোস শব্দটি নিয়ে কথা বলছি, এই পারাক্লিটোস শব্দটি বাইবেলে মাত্র পাঁচবার এসেছে। একবার এই অংশে, এবং আরেক অংশে ঈসা (আঃ)-কে পারাক্লিটোস বলা হয়েছে। তাহলে এখন আমরা জানি প্যারাক্লিট কী। ঈসা (আঃ) একজন প্যারাক্লিট ছিলেন, আর তিনি বলছেন তাঁর পরে আরেকজন আসবেন সেখানে আরও অনেকে ছিলেন। এখন নবুয়াতের ধারায় এটা যদি শেষ নবীর ইঙ্গিত না হয়, আমি জানিনা তাহলে আর কি দিয়ে হতে পারে। আর যখন আমি এটা দেখলাম, তখনই আমার হৃদয়ে বিশ্বাস দৃঢ় হয়ে গেল যে একজন শেষ নবী আছেন...

যাকে খুঁজে পাওয়া দরকার। আমার মধ্যে সবসময় একই রকম অনুভূতি হতো। সবসময় মনে হতো, "এখানে কোন একটা সংযোগ আছে, এক স্রষ্টায় বিশ্বাস, এবং নবুওয়তের ধারায় বিশ্বাস, ওহী, ফেরেশতা, কিয়ামতের দিনের উপর বিশ্বাস, সবকিছুর উপর আল্লাহর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ" ঠিকাছে আমি সব বুঝতে পেরেছি। কিন্তু এই আরেকটি বিষয় যীশু সৃষ্টিকর্তার পুত্র, না আমি... আমি সেটা মেনে নিতে পারি না। ত্রিত্ববাদ, তিনের ভিতর এক, এবং একের ভিতর তিন, সমান মর্যাদাসম্পন্ন হওয়া, একই সত্তায় অবস্থান, চিরস্থায়ীভাবে সহ অবস্থান। না, আমি এটা... মেনে নিতে পারছি না। আর আমি পুরোহিতদের, যাজকদের, পাদ্রীদের প্রশ্ন করতাম। আমি সবসময় তাদের জিজ্ঞেস করতাম, "আপনারা এই সব কিছুর প্রমাণ কোথায় পান?

যীশু কোথায় বলেছেন তিনি স্রষ্টার পুত্র?" তারা আমাকে লিখিত কিছুর একটা অংশ দেখাতো আর আমি বলতাম, "না, না, না, না।" বাইবেলে যীশু নিজেকে ৮৮ বার 'মানবপুত্র' বলেছেন। একটাও অংশ নেই যেখানে তিনি নিজেকে স্রষ্টার পুত্র বলে উল্লেখ করেছেন। তাহলে আপনারা কেন অন্যান্য লোক যা বলেছে সেটাই অনুসরণ করছেন? কেন তাঁর নিজের কথা অনুসরণ করছেন না? তিনি নিজেকে 'মানবপুত্র' বলেছেন। তাহলে এই রূপক শব্দটা আপনারা কেন ব্যবহার করছেন? বাইবেল সব বিশ্বাসীদের সৃষ্টিকর্তার সন্তান বলে পরিচয় দেয়। তাহলে এই রূপক শব্দটা আপনারা কেন ব্যবহার করছেন? আপনারা যীশু যা নিজে বলেছেন সরাসরি তা বলছেন না কেন? তাই আমি শুধু আমার সৃষ্টিকর্তার কাছে বলতাম, আমি খুঁজছি, কিন্তু পাচ্ছি না।" তারপর যা ঘটল, তা হলো আমার ভাই...

সে আমার থেকে ২১ মাসের বড়, আর আলহামদুলিল্লাহ সে মুসলিম হয়ে গিয়েছিল। আমার ভাই আর আমার সম্পর্ক খুব একটা কাছের ছিলনা। আমরা এমন ছিলাম না, বরং এমন ছিলাম আমরা...

আমার ইসলাম গ্রহণের সময় থেকে আমরা বলে আসছি, মানে আমরা সবসময় বলেছি যে আমরা কখনো প্রকৃত অর্থে ভাই ছিলাম না যতক্ষণ না আমরা ইসলামের ভাই হলাম। ইসলাম গ্রহণের পরেই আমরা সত্যিকার অর্থে ভাই হয়ে উঠলাম। আর তখন আমি জানতামও না কেন এমন হয়েছিল। আমি শুধু ভাবতাম ব্যাপারটা খুব অদ্ভুত। কিন্তু প্রায় এক বছর পর, সে আমাকে কোরআনের অর্থের একটি অনুবাদ এবং একটি সীরাতের বই পাঠালো, নবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর জীবনী সংক্রান্ত একটি বই, বিশেষ করে মার্টিন লিংসের লেখা “মুহাম্মদ (সাঃ): প্রাচীনতম উৎস অনুযায়ী জীবনী”। আমি যখন এগুলো পড়লাম, সবকিছু পরিষ্কার হয়ে গেল। এটা ছিল যেন একটা জিগস পাজল এর মতো, যার কিছু অংশ অনুপস্থিত ছিল, আর যখন আপনি সেগুলো খুঁজে পাবেন তখন সব কিছু খাপে খাপে মিলে যায়, জীবনে প্রথমবারের মতো আমি অনুভব করলাম আমার সামনে একটা পূর্ণাঙ্গ চিত্র আছে। তিনিই ছিলেন শেষ নবী, এটাই ছিল চূড়ান্ত ওহী, আর এটা পূর্ববর্তী নবুয়তের ধারার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, এর মিল রয়েছে ওল্ড টেস্টামেন্টে বর্ণিত ভবিষ্যদ্বাণীর সাথে যেখানে শেষ নবীর গুণাবলি বর্ণনা করা হয়েছে। আর তখনই আমি মুসলিম হই। আমি মনে করি বিশ্বাস আসে মানুষের অন্তর থেকে, এবং চিন্তার মাধ্যমে মস্তিষ্ক দিয়ে। স্মরণ রাখা দরকার যে আল্লাহ যাকে চান, তাকেই হিদায়াত দেন। আর তিনি কীভাবে হিদায়াত দেন?

তিনি দেন হৃদয়ের উন্মোচনের মাধ্যমে এবং, ওহীর মাধ্যমেও। আর অবশ্যই ওহী একটি বুদ্ধিবৃত্তিক প্রক্রিয়া, ওহী পড়া এবং তার প্রমাণগুলো বোঝা ...এই ওহী ও ধর্মকে সত্য প্রমাণ করে। আপনি কি আমাদের বলতে পারেন এই অনুভূতিটা কেমন ছিল?

আমার মনে হয় মূল অনুভূতি ছিল শান্তি। পেছনে তাকিয়ে দেখলে বুঝি, অনেকেই লক্ষ্য করেছিল যে আমি অনেক বেশি নিরুদ্বেগ ও শান্ত হয়ে গিয়েছিলাম। অন্যান্য অনুভূতিও ছিল, আমি ওজুর করার কথা মনে করতে পারি অনুধাবন করতে পারছিলাম, সুবহানআল্লাহ, এটা একটা মন প্রশান্তিকর প্রক্রিয়া। এটা আপনার মনের অস্থিরতা কমিয়ে দেয় এবং আপনি যা করছিলেন তা থামিয়ে ওযু আপনাকে ভাবতে বাধ্য করে আপনি এটা কেন করছেন, এবং নামাজের পূর্বে এই ওযু হচ্ছে আপনার আত্মশুদ্ধির জন্য উৎসর্গ করার প্রক্রিয়া। আর এই পুরো প্রক্রিয়াটা প্রচণ্ড রকমের প্রশান্তিদায়ক। আপনার ইসলাম গ্রহণের পর আপনার আশেপাশের মানুষ ও আপনার পরিবার কেমন প্রতিক্রিয়া দেখায়?

আমি মুসলিম হবার পর, আমার স্ত্রী ১৪ বছরের সংসার ছেড়ে আমাকে তালাক দিল। আমি আমার স্ত্রীকে হারাই, আমার সন্তানদেরও হারাই, কারণ আমি মুসলিম হওয়ায় আদালত সন্তানদেরকে আমার স্ত্রীর কাছে দিয়ে দেয় । আদালত তার পক্ষেই রায় দেয়। তারা তাকেই অভিভাবকত্ব দেয়। পুরো প্রক্রিয়াটা স্পষ্টভাবে আমার বিপক্ষে ছিল, কারণ যেমন ধরুন, যখন...

আমার প্রাক্তন স্ত্রী, আদালতে গিয়ে ডিভোর্সের আবেদন করলেন, বিচারক শুধু বিচ্ছেদের কার্যক্রম শুরুই করেননি, তার পাশাপাশি আমার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেন যেমন আমি বাড়ির ১০০ ফুটের মধ্যে যেতে পারবো না, মানে আমার নিজের বাড়ির ১০০ ফুট, স্ত্রীর ১০০ ফুট এবং নিজের সন্তানদের ১০০ ফুটের মধ্যে যাওয়া নিষেধাজ্ঞা ছিল, এবং এরকম আরও অনেক কিছু। এই আদেশ দেওয়ার আগে, বিচারক আমার স্ত্রীর কাছে জিজ্ঞেস করেছিলেন, "আপনি কি এই মানুষটিকে বিপজ্জনক মনে করেন?" সে বলল "না" তিনি জিজ্ঞেস করেন, "তিনি কি কখনো আপনার উপর হাত তুলেছিলেন?" সে, বলল "না।" তিনি আরও জিজ্ঞেস করেন, "সে কি কখনো আপনাকে গালাগালি করেছে?" সে বলল, "না।" আপনি আজও আমার প্রাক্তন স্ত্রীর কাছে জানতে পারেন, সে এই কথাগুলোর সত্যতার প্রমাণ দিবে। তারপর বিচারক তাকে জিজ্ঞেস করলেন, "আপনি তাহলে ডিভোর্স চাইছেন কেন?" সে শুধু বলেছিল, "আমি শুধু সম্পর্ক থেকে বের হতে চাই। আমরা দুজন ভিন্ন পথে যাচ্ছি। সে মুসলিম হয়ে গেছে, আর আমি খ্রিস্টান।" এরকম আরও কিছু। আর বিচারক তখনই আমার উপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেন, শুধুমাত্র এই কারণে যে আমি মুসলিম। আমার দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, তাদের কথোপকথনের ভিত্তিতে যা আমার প্রাক্তন স্ত্রী আর বিচারকের মধ্যে হয়েছিল, এটাই আমার বিশ্লেষণ, এটা আমার নিজের ব্যাখ্যা। এর ফলে, আমি এমন এক সময়ের মধ্য দিয়ে গেছি যখন আমি আমার সন্তানদের একবারের জন্যও দেখতে পারিনি। সম্পূর্ণ পরিস্থিতি বোঝাতে গেলে কতটা অপমানজনক ছিল এই প্রক্রিয়াটি, আদালত এমন নিয়ম করল যে আমার সন্তানদের দেখতে চাইলে, আমাকে একজন দেহরক্ষী ভাড়া করতে হতো। যেন সে আমার সন্তানদের আমার থেকে রক্ষা করতে পারে। এইভাবেই একজন পিতাকে অপমানিত করা হয় এমন পরিস্থিতিতে। যদিও আমার বিরুদ্ধে কোনো গালাগালির ইতিহাস ছিল না, কোনো শারীরিক নির্যাতনের রেকর্ড ছিল না, কিছুই না...

কোনো হুমকি মূলক আচরণের রেকর্ড ছিল না। আমার স্ত্রী শুধু এই সিদ্ধান্তে সায় দিয়েছিল। আপনি তাকে তার কারণ জিজ্ঞেস করতে পারেন, কিন্তু এই প্রক্রিয়াটা ছিল অত্যন্ত অপমানজনক। তো, যাই হোক, আমি আর কী কী হারিয়েছি? বলছি, বাড়ি, স্ত্রী, সন্তান, গাড়ি, সম্পত্তি সবকিছুই। মানে, শুধু বাড়ির ভেতরেই দেয়ালে ছিল...

প্রায় আড়াই লক্ষ ডলারের শিল্পকর্ম। শুধুমাত্র দেয়ালের শিল্পকর্ম। আমি সবই হারাই। ডিভোর্সের পর আমি যেটুকু পেলাম, তা ছিল আমার এসইউভি, ৫,০০০ ডলার ব্যাস, এটাই। এর পাশাপাশি আমি অনেক বন্ধু হারিয়েছি। আমার মা এবং বাবা আমাকে পরিত্যাগ করেছিলেন। তারা আমাকে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন, বুঝলেন, "বাড়ীতে আসবেনা, কল করবেনা, কোন চিঠিও না। আমরা তোমার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ চাই না। তোমাকে উইল থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছে।" ইত্যাদি, ইত্যাদি। এইভাবেই সম্পর্কের ইতি টেনেছিলেন। এই গল্পটার ভালো দিক হলো, অনেক বছর পর, আমরা আবার যোগাযোগ করতে পেরেছিলাম। তাঁদের বয়স কিছুটা বাড়লে, আমাদের সম্পর্কটা কিছুটা ভালো হয়, আর তা এমন একটা পর্যায়ে পৌঁছেছিল, যেখানে দুজনেই ব্যক্তিগতভাবে মারা যাওয়ার আগে শাহাদাহ পাঠ করেছিলেন। দুজনেই আলাদাভাবে শাহাদাহ নিয়েছিলেন। এবং আমি আল্লাহর কাছে আশা রাখি যে তিনি তাদেরকে কবুল করবেন। আমরা শুনেছি আপনি মদীনায় থাকেন, আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাঃ)–এর শহর। আমি জানতে চাই, নবী (সাঃ)-এর চরিত্রের কোন দিকটা আপনাকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছে?

আমি মনে করি এটা তার চরিত্রের দৃঢ়তা এবং বার্তার সত্যতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যগুলোর একটি। তার চরিত্রের শক্তিমত্তা এবং বার্তার সত্যতা এর মাধ্যমে বোঝা যায়। যারা নবী (সাঃ) অবমাননা করে বলেন যে তিনি কেবল ধন-সম্পদ, নারী বা নেতৃত্ব, কিংবা রাজত্ব চাইতেন, তারা একটি বিষয়ের জবাব দিতে পারে না— যদি তিনি ইসলাম ত্যাগ করতে রাজি হতেন, তাহলে কুরাইশরা তাকে তাদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি বানাতে চেয়েছিল, তাকে রাজা বানাতে চেয়েছিল, আর তিনি ইসলামের কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই যত ইচ্ছা স্ত্রী গ্রহণ করতে পারতেন। তিনি পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর নারীদের নিয়ে সবচেয়ে বড় হেরেম পেতে পারতেন। এমন আরও অনেক কিছু। তিনি যদি শুধু ইসলাম প্রচার না চালিয়ে বন্ধ করে দিতেন, তাহলেই পেতে পারতেন সব কিছু। তার সামনের পথ ছিল কষ্ট আর দুঃখের পথ, কিন্তু সেই পথের জন্যই তিনি নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। আসলে এটা এমন একজনের উদাহরণ, যিনি ওহীর সত্যতায় বিশ্বাসী ছিলেন এবং তাঁর সৃষ্টিকর্তার খিদমতে নিজেকে নিবেদিত করেছিলেন। আমার কাছে বিষয়টি অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী। এটি এমন কিছু, যা কোনো মানুষ কখনো অর্জন করতে পারবে না। আপনি কি কখনও (সাঃ) স্বপ্নে দেখেছেন?

আপনি তো আমাকে একেবারে কোণঠাসা করে ফেলছেন। জ্বী, আলহামদুলিল্লাহ, আমি দেখেছি। এক রাতে আমি একটি স্বপ্ন দেখলাম। সেই স্বপ্নে আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর সামনে উপস্থিত ছিলাম। আমরা ছিলাম একটি পুরনো ধাঁচের শহরে, যেমনটা আপনি কোনো আমেরিকান কাউবয় সিনেমায় দেখতে পারেন। তখন নবীজি (সাঃ) পাহাড়ের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, “পাহাড়ের দিকে যাও।” আমি পাহাড়গুলোর দিকে তাকালাম, আর সেগুলো আমার কাছে অদ্ভুত লাগছিল। আমি এর আগে এমন পাহাড় কখনো দেখিনি। তিনি বললেন, “পাহাড়ের মানুষের কাছে যাও, কারণ সেখানে জিহাদ রয়েছে।” আমরা সবাই জানি, জিহাদ মানেই যুদ্ধ নয়, এর মানে হতে পারে আত্মিক বা নৈতিক সংগ্রামও। আমার মনে আছে আমি নবীজিকে বললাম, “ঠিক আছে, কিন্তু আমাদের সময় তো আপনার সময়ের মতো নয়। এই সময় যদি আমার কিছু হয়ে যায়, তাহলে আমার স্ত্রী ও সন্তানের দেখাশোনা করবে কে?" নবী (সাঃ)-বললেন, “আমি তোমার স্ত্রী ও সন্তানের দেখাশোনা করব।" তারপর দৃশ্যটা একদম সিনেমার মতো বদলে গেল। আমরা হঠাৎ করে একটি কাঠের ঘরের ভেতরে চলে গেলাম, সেটা ছিল একটা সাধারণ দোকানের মতো। কাউন্টারে ছিল বড় বড় কাচের পাত্র, যেগুলো ভর্তি ছিল টফি-ক্যান্ডিতে। তিনি একটি বড় কাচের পাত্র তুললেন, এমন সাইজের, যেটা পূর্ণ ছিল গোল গোল ক্যান্ডিতে, আর সেটা আমার ডান হাতে দিলেন। তারপর আরেকটা বড় কাচের পাত্র তুললেন, যেটা গামবলে ভর্তি ছিল, এবং সেটা আমার আরেক হাতে দিলেন, আর বললেন, "এইগুলো পাহাড়ের মানুষদের কাছে নিয়ে যাও।" এই ছিল সেই স্বপ্ন। সম্ভবত সেটা ১৯৯৯ সালের ঘটনা। তারপর আমি সিদ্ধান্ত নিলাম মদিনায় যাওয়ার। সৌদি আরবে আমার একটি চাকরির প্রস্তাব ছিল। আমি সেই প্রস্তাবে রাজি হয়ে দুই বছরের চুক্তিতে সৌদি আরব চলে এলাম। আলহামদুলিল্লাহ, সবকিছুই ভালোভাবে হয়েছে। এখন ২৬ বছর পেরিয়ে গেছে, আমি এখনো মদিনায় আছি, আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু সেই স্বপ্ন নিয়ে একটা বিষয় ছিলো। একদিন আমি আমার ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে ছিলাম, আর উহুদ পাহাড়ের দিকে তাকাচ্ছিলাম। এর আগে আমি এই পাহাড় বহুবার দেখেছি, কিন্তু সেদিন কোন এক অদ্ভুত কারণে সে সময়, সূর্যের অবস্থান, পাহাড়ের উপর আলোর আভা, সবকিছু এত নিখুঁত ছিল যে, প্রথমবার আমি অনুধাবন করলাম, সুবহানাল্লাহ, এটাই সেই পাহাড়, যেটা আমি স্বপ্নে দেখেছিলাম, তার মানে, সেই "পাহাড়ের মানুষ", আসলে মদিনার মানুষ। আর এটাই আমার জিহাদ, আমার সংগ্রাম। তবে বিষয়টি এখানেই শেষ নয়, কারণ আমি এই এলাকায় দায়িত্বের সাথে ছিলাম। আমার মেয়ে, যেমনটা বলেছিলাম, এখন ২৭ বছর বয়সী। একসময় এমন একটি মুহূর্ত এল, যখন তাকে কলেজে যেতে হতো। তখন আমি প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিলাম— আমার চাকরি ছেড়ে দিয়ে পরিবার নিয়ে পশ্চিমা দেশে ফিরে যেতে, যাতে আমার মেয়ে একটি পশ্চিমা শিক্ষাব্যবস্থা পায়। কিন্তু আমার স্ত্রী আমাকে স্বপ্নটা মনে করিয়ে দিয়েছিল যে আমার জায়গা এখানে। আর সে আমার মেয়েকে নিয়ে আমেরিকায় চলে গিয়েছিল। আমার স্ত্রী একজন ফিলিস্তিনি। সে আমেরিকায় যাচ্ছিলো আমার মেয়ের দেখাশোনার কাজে সাহায্য করার জন্য, কিন্তু সত্য কথা হলো তাদের দুই জনকেই আমেরিকান রীতিনীতি শিখতে হচ্ছিলো, জানতে হচ্ছিলো পারিপার্শিক অবস্থাকে, অর্থাৎ সমাজের চালচলন বুঝতে হচ্ছিলো। যখন আমার মেয়ে কলেজে যাচ্ছিলো, আমার স্ত্রী সেখানে থাকতো তার সাহায্যের জন্য, মানে তাকে মানিয়ে নিতে সাহায্য করার জন্য। সে আমেরিকায় থাকার সময়, তার জন্য সবচেয়ে কঠিন বিষয় ছিলো প্রতিদিন আমার মেয়ের সঙ্গে উবারে কলেজে যাওয়া, আর উবারে বাসায় ফেরত আসা। দিনশেষে আবার উবারে কলেজে গিয়ে মেয়েকে ফিরিয়ে নিয়ে আসতো। আর উবারের একটা বিষয়ের প্রতি সে সব সময় চিন্তিত থাকতো, একজন মেয়েকে একা গাড়িতে বসে পুরুষের সঙ্গে যেতে হচ্ছে, যিনি সম্পুর্ণ অপরিচিত। এরপর একদিন সে স্বপ্নে দেখলো যে সে, উবারের গাড়িতে উঠতে যাচ্ছে, এবং সে সময় গাড়ির ড্রাইভার নেমে এসে দরজাটা খুলে দিলো, আর সে ড্রাইভার....

মাফ করবেন। ড্রাইভার যিনি দরজাটা খুলে দিলেন তিনি ছিলেন মুহাম্মদ (সাঃ), তারপর, হয়তোবা সেই একই দিন, অথবা স্বপ্ন দেখার একটু পরেই, ঠিক মনে নেই, আমার স্ত্রী আমাকে ফোন দিলো আর বললো, “তোমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।” আমি বললাম, “কী বলতে চাচ্ছ?” সে বলল মুহাম্মদ (সাঃ) আমি যখন স্ত্রী ও মেয়ের কাছে ছিলাম না তখন তাদের দেখাশোনা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আলহামদুলিল্লাহ এই স্বপ্নটা আমার স্ত্রীকে শক্তি দিয়েছিলো, ভয় কাটিয়ে উঠে সামনে এগিয়ে যেতে। বাহ, অসাধারণ একটা ঘটনা। দুইটা আলাদা স্বপ্ন আর স্বপ্ন পূরণ আবার অন্য একটা স্বপ্নে। আমি আরেকটা প্রশ্ন করতে চাই। আপনি হয়তো জানেন আমি নিজেও ডাক্তার, কিন্তু আমি জেনারেল প্র্যাক্টিশনার। আপনার পেশা অনুযায়ী মানুষের শরীরের সবচেয়ে আশ্চর্য জিনিস কোনটি যা দেখে আপনি বলেন, আল্লাহর বাকি সব সৃষ্টির মতো এটিও আল্লাহর অসাধারণ সৃষ্টি। মানবদেহের বিশেষ করে চোখের কোন বিষয়টি আপনাকে অবাক করে?

আমি মুসলিম হওয়ার আগে, যে বিষয়গুলো আমার এই আধ্যাত্মিক যাত্রা শুরুর কারণ ছিলো তার একটি আমার কয়েকজন মানুষের সাথে দেখা হয়েছিলো যারা মৃত্যুকে খুব কাছে থেকে দেখেছিলেন। মৃত্যুর প্রায় কাছাকাছি চলে যাওয়া মানুষদের অভিজ্ঞতা হলো তারা তাদের শরীর থেকে বের হয়ে যায় এবং নিজেদের শরীরকে উপর থেকে দেখতে পায়। এরপর তারা আরো উপরে ওঠে এবং নিচের পুরো দৃশ্যপটটা দেখে। খুব সুক্ষভাবে সব কিছু বুঝতে পারে, মানুষদের কথাও শুনতে পারে, তারা কি করছে তা দেখতে পারে। এমনকি তারা যাঁরা অনেক দূরে ছিলেন, যেমন একজন নারী যিনি মৃত্যুর কাছাকাছি এক অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে গিয়েছিলেন, তিনি একজন পথচারী ছিলেন আর একটি গাড়ির ধাক্কায় মারাত্বক আহত হন, এবং ধাক্কাটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে তার বুক ফেটে যায়, তার ফুসফুস এবং হার্ট দেখা যাচ্ছিলো। প্যারামেডিকরা ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করেছিলেন, তবুও তিনি বেঁচে যান। সেই মহিলা বর্ণনা করেছিল যে, তিনি মেঘের উচ্চতায় উঠে গিয়েছিলেন, কিন্তু একই সময় তিনি এতো দুর থেকেই সবকিছু স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলেন, এবং তার শরীরে কি করা হচ্ছিলো তা তিনি শুনতেও পাচ্ছিলেন। এমনকি তিনি বেশ দুরের লোকজনকেও দেখতে ও শুনতে পাচ্ছিলেন, যারা তার এই দুর্ঘটনাটি দেখেছেন। তারা কি কি বলাবলি করছিলেন সবই। একজন ডাক্তার হিসেবে আমি এর কোনো ব্যাখ্যা দিতে না পারলেও, আমি এগুলো নিয়ে বেশ আগ্রহী হয়ে উঠি। সেই সময়, লন্ডনে একটি সংস্থা ছিল যারা প্রায় ২০০০টি মৃত্যুর কাছাকাছি অভিজ্ঞতা ও দেহত্যাগ অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করেছিল। এসব অভিজ্ঞতা থেকেই আমি একটি আধ্যাত্মিক যাত্রায় আগ্রহী হই কারণ এতে বোঝা যাচ্ছিল আমাদের দেহে শুধু বস্তু নয় এর বাহিরেও কিছু রয়েছে, আর তা হলো আত্মা। কিছু মানুষ বিষয়টি অনুধাবন করবে, আবার কিছু মানুষ অনুধাবন করতে পারবে না। কিন্তু...

মোটামুটি আমি বলবো..., আপনার প্রশ্নের উত্তর হবে, আমাদের শরীরের সবচেয়ে সবচেয়ে অলৌকিক, বিস্ময়কর আর সুন্দর জিনিস হলো আমাদের রুহ বা আত্মা। আর আরেকটি বিষয় যদি বলি সেটা হলো জীবন। আমাদের এই জীবন শুধু আমাদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর বিষয় নয়, বরং এটি নাস্তিকতার প্রতিও একটি প্রত্যুত্তর। কারণ নাস্তিকতার বিষয়টি বিগ ব্যাং তত্বের মাধ্যমে, প্রাকৃতিক বিবর্তনবাদের মাধ্যমে, আংশিকভাবে ব্যাখ্যা করতে পারলেও— সম্পূর্ণভাবে ব্যাখা করতে পারে না, কীভাবে আমরা এই পৃথিবীতে এসেছি আমি পরে সে বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারি— আর তারা একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে না— জীবনের উৎপত্তি কোথা থেকে হলো? মানে কিভাবে এটা শুরু হলো?

আর যা সেই প্রাথমিক কোষ বা প্রাথমিক জীবকে যেখান থেকে বিবর্তন শুরু হয়েছে বলে ধরা হয় কেই বা জীবিত করলো। আল্লাহ আমাদেরকে জীবন অস্তিত্ব দিয়েই চ্যালেঞ্জ করেন। অর্থাৎ যেনো তিনি অবিশ্বাসীদের প্রতি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেছেন, “একটি মৃতদেহ নাও, আর তাকে আবার জীবিত করো। তার মধ্যে রূহ ফিরিয়ে দাও"। আর মানুষ চেষ্টাও করেছে। যেমন ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের গল্পের মতো কাজ করেছে। তারা মৃত প্রাণীদের বিভিন্ন অংশ জোড়া লাগিয়ে, জীবিত করার চেষ্টা করেছে কিন্তু তারা কখনই সফল হয়নি। আমি শুনেছি রাশিয়াতেও— যদিও নিশ্চিত না এটা সত্য কিনা— তারা মানুষের সাথেও এমন চেষ্টা করেছিল, কিন্তু সফল হয়নি। তারা জীবিত করতে পারেনি। তাহলে আবার বলি — জীবন কোথা থেকে আসে?
