# কুরআন কি পরিবর্তন করা হয়েছে?  কুরআন আরবিতে কেন?  |  ইন্টারগ্রেশন #1

- Language: bn
- Published: 2026-08-26
- Canonical: https://blog.towardseternity.com/bn/blog/has-the-quran-been-changed-why-is-the-quran-in-arabic-interrogation-1
- Source video: https://www.youtube.com/watch?v=9LDxgU9Dh28
- Channel: Towards Eternity

This is the cleaned transcript of the source video. The speech is unaltered.

---

আল্লাহ কেন পৃথিবীতে একের বেশি ধর্ম পাঠালেন? আপনি বলতে পারেন- প্রত্যেক যুগে আলাদা আলদা ধর্ম আসা দরকার। ১৪০০ বছর ধরে একই ধর্ম রয়ে গেছে। এখন একটা নতুন ধর্ম আসা উচিত নয় কি? আমরা কিভাবে জানবো যে পবিত্র কোরআন বদলে যায়নি? কেন শুধু আরবি ভাষাতেই কোরআন পাঠানো হয়েছিলো? অন্য ভাষাতে কেন হয়নি? আমরা কিভাবে জানবো যে স্রষ্টা সময় আর স্থানের ভেতরে সীমাবদ্ধ নন? আপনার কাছে এর কি কোন প্রমাণ আছে? আল্লাহ কেন তবে একের বেশি ধর্ম প্রেরণ করলেন?

মনুষ্যধর্ম সবসময় একই রকম থাকে না। তাই এটাই সবচেয়ে যৌক্তিক দিক। জীবনযাত্রার মানের উন্নয়ন করতে করতে তারা আজকের দিনে এসেছে। তাই আপনি অতীতের জীবনযাত্রার মানের মানের সাথে এখনকার পরিস্থিতির তুলনা করতে পারবেন না। এভাবে ভাবুনঃ হযরত আদম (রাঃ) এর সময়ে, যদি যুদ্ধের আয়াত এবং শরিয়া নাজিল হতো, তবে তা খুবই অযৌক্তিক হতো- কারন তখন কোন যুদ্ধই ছিলো না। তাছাড়া, লেখাপড়ার ক্ষেত্রেও তো আমরা একই কাজ করি। প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার চাহিদা আলাদা। সময়ের সাথে শিশুর পরিপক্কতা আসে এবং বদলায়। তেমনি,মনুষ্যধর্ম এক ধাপে শুরু হয়নি। সময়ের সাথে আজ পর্যন্ত এটা বদলাচ্ছে। যখন আমরা সর্বোচ্চ উপযুক্ত হলাম তখনই আল্লাহ তাআলা শেষ শরিয়া প্রেরণ করলেন। এটা কোন সমস্যা নয়। + আপনারা বলতে পারেন, প্রতিযুগে আলাদা ধর্ম আসা দরকার। ১৪০০ বছর ধরে একই ধর্ম রয়ে গেছে, নতুন ধর্ম আসা প্রয়োজন নয় কি?

- প্রশ্নটা অনেকটা এমনঃ একজন ব্যাক্তি সর্বোচ্চ স্তরের একটি বই পড়ছেন যা দিয়ে তিনি যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবেন এবং উপকৃত হবেন, আপনি সেই ব্যাক্তিকে বললেনঃ " বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে তো নার্সারীর পড়াশোনাই অনেক ভালো ছিলো" যদিও সর্বকালের সেরা বই থেকে আপনি শিখছেন, তবু কেন অন্য বইগুলো একটু খুঁজে দেখবেন না? " একটা নতুন বই কি আসা উচিত নয়?" বলাও একই কথা। একই! পবিত্র কুরআন... তার মানে, প্রেরিত শেষ শরিয়া সবচেয়ে উপকারী এবং নিখুঁত শিক্ষা যা থেকে মানব সমাজ শিখতে পারে। এটাই সর্বোৎকৃষ্ট শিক্ষা। এর ওপরে আর কিচ্ছু নেই যা খুঁজতে হবে। তিনি সবচেয়ে সেরা থেকে শিখছেন, কেন এর চেয়ে ভালো কিছু খুঁজবেন?

এমন কিছু নেইও। আমরা এমনই নিখুঁত কিছুর কথা বলছি। তাই প্রশ্নটা অযৌক্তিক হয়ে গেলো। + আমরা কিভাবে জানবো যে কোরআন বদলে যায়নি?

- আমরা সূক্ষ্মভাবেই জানি কিভাবে পবিত্র কুরাআন আমাদের কাছে এসেছে। যখন ওহী প্রকাশিত হলো, অবিশ্বাসীরা এবং মুসলমানেরা সে আয়াতগুলো মনে রাখলো, সেগুলো লিখিত বাক্য ছিলো না, বরং লোক্মুখে প্রচলিত ছিলো তাই তারা মনে করে করে আয়াতগুলো অন্যদের কাছে পৌছে দিতো। এছাড়া সবকিছু ওহী লেখকদের দ্বারা লিপিবদ্ধ ছিলো সবকিছুই আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর সামনে লেখা হয়েছিলো, হযরত আবু বকর (রাঃ) এর সময় এসব গুছানো হয়, আবার হযরত উসমান (রাঃ) এর সময়েও বেশ কয়েক বার করা হয়, টপকাপি প্যালেসে (জাদুঘর) যে পবিত্র কুরআন আছে, তা হুবুহু হযরত উসমান (রাঃ) এর সময়ের সেই পবিত্র কুরআনের মতো। পৃথিবীর সব জায়গায় প্রত্যেকটি কূরআন এক হওয়া প্রমাণ করে মূল কুরআন বদলে যায়নি। + কুরআন কেন শুধু আরবি ভাষাতে পাঠানো হলো, কেন অন্য ভাষাতে নয়?

- জ্বী, এই প্রশ্ন কেন জিজ্ঞেস করা হয়েছে তা জানতে আমি আগ্রহী... কারণ যদি তুর্কী ভাষায় আসতো তাহলে আমরা বলতাম, " কেন তুর্কী ভাষায় এটা এলো?" ইত্যাদি। আমরা এমন সব প্রশ্ন বারবার করতে থাকতাম। একটি ভাষা নির্ধারিত হয়েছে। তাছাড়া এটি পবিত্র কুরআনের শুদ্ধতা নিয়ে নয়। আমরা ভাষার জন্য পবিত্র কুরআনকে সত্য বা মিথ্যা বলতে পারি না। কিন্তু আরবিই কেন?

অবশ্যই তা নিয়ামত। হযরত ঈসা আঃ এর সময় ওষুধের খুব চাহিদা ছিলো। একটা অলৌকিক ঘটনায় সব চিকিৎসকরা বললেনঃ " আমরা এটা পারবো না। এর মতো চমকপ্রদ আর কিছুই হয়না।" আর তা ছিলো নবুয়তের প্রমাণ। নবীজির আমলে, গল্প এবং সাহিত্যের প্রভাব ছিলো অনেক। তখনকার মানুষ কবি-সাহিত্যিকদের সম্রাটের মতো শ্রদ্ধা করতো। পবিত্র কুরআন এতোটাই সমৃদ্ধ হয়ে নাজিল হয়েছিলো যে মানুষ বুঝতে পেরেছিলোঃ " আমরা সাহিত্যকে যতোই সমৃদ্ধ করিনা কেন, তা পবিত্র কুরআনের সমকক্ষ কখনোই হতে পারবে না" তাছাড়া পবিত্র কুরআনে আহ্ববান করা হয়েছে যে; " যদি তুমি বলো মানুষ এটা লিখেছে...

"...তবে তারা এমন একটি সুরা লিখে দেখাক।" যে মানুষগুলো সাহিত্যে এতো সমৃদ্ধ ছিলো, "সহজ" কিছু লেখার পরিবর্তে তারা যুদ্ধ বেছে নিলো। এ জন্যই পবিত্র কুরআনের জন্য ৩৫০ হাজার তাফসীর লেখা হয়েছে। অনেকে মনে করে পবিত্র কুরআন সহজে বোধগম্য নয় বলেই এমন হয়েছে। না, কুরআনের অত্যন্ত গভীর অর্থ আছে যা সব বয়সীদের জন্য প্রযোজ্য। এর লেখনী এতো সমৃদ্ধ বলেই ৩৫০ হাজার তাফসীর আছে। সাগর থেকে হাজারো মণিমুক্তা উত্তোলন করার মানে এই নয় যে মণিমুক্তার কোন কমতি বা জটিলতা আছে। এটি আভিজাত্যের স্বরুপ, ঠিক তাফসীরের মতোই। এ থেকেই প্রমাণ পাওয়া যায় এটি কতোটা গভীর অর্থপূর্ণ। একটু বেশি সময় লেগে গেলো। হয়তো এক মিনিট লেগেছে। কিন্তু অল্প কথায় বলার মতো বিষয় এটা ছিলো না, আশা করছি উত্তর পেয়ে গেছেন। + আমরা কিভাবে জানি স্রষ্টা সময় এবং স্থানে সীমাবদ্ধ নয়?

কোন প্রমাণ আছে কি? - কোন ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গী ছাড়া আমরা যদি জানার উদ্দেশ্যে এই বিশ্বজগতের দিকে তাকাই, যিনিই সৃষ্টি করে থাকুন না কেন, তিনি অবশ্যই সময় এবং স্থানের উর্দ্ধে। কেন? কারণ, যদি কোনকিছু সময় এবং স্থানে সীমাবদ্ধ থাকে, এটি একই সময় অন্য কোথাও একই কাজ করতে পারবে না। উদাহরণস্বরূপ, একটা মাছ একই সময়ে আটলান্টিক আর প্রশান্ত মহাসাগরে সাঁতার কাটতে পারবে না। কারণ, এটা সময় এবং স্থানে সীমাবদ্ধ। অথবা আপনি একই সময় এখানে এবং অন্য কোথাও বসতে পারবেন না। কেন?

কারণ আমরা সময় এবং স্থানে সীমাবদ্ধ। কিন্তু দেখা যায়, যদি স্রষ্টা থাকেন তিনি এই মুহুর্তে একই সাথে আপনার শরীর এবং মনকে পরিচালনা করছেন, একই সাথে কোন শিশুকে পালন করছেন, মাছকে খাবার দিচ্ছেন আবার গাছের পরিচর্যা করছেন আর সব কাজই একটির সাথে অন্যটি জড়িয়ে আছে। নিশ্চয়ই, যদি তিনি সময় এবং স্থানের ওপর নির্ভরশীল হতেন, তিনি একই সময়ে বিভিন্ন জায়গায় বিরাজ করতে পারতেন না। এর মানে, একজন স্রষ্টা অবশ্যই আছেন যা কুরআনেও বলা হয়েছে। নোটঃ (০:৪৬) নোটঃ শরিয়া হলো আল্লাহর পাঠানো পরিপূর্ণ নির্দেষ। নির্দিষ্ট কালব্যাপী তাদের নিজস্ব শরিয়া আইন ছিলো। নোটঃ (৩:০৯) আরবির মতো সমৃদ্ধ এবং গুণগত মানসম্পন্ন ভাষায় একটি গ্রন্থ নাজিল হওয়া খুবই যুক্তিযুক্ত।
