# “আমার ইসলামবিরোধী স্ত্রী আমাকে ইসলাম ছাড়াতে চেয়েছিল” | এক জাপানি দম্পতির ইসলাম গ্রহণের গল্প

- Language: bn
- Published: 2026-08-26
- Canonical: https://blog.towardseternity.com/bn/blog/i-grew-up-in-a-buddhist-temple-but-i-chose-islam-a-japanese-couple-converts-to-islam
- Source video: https://www.youtube.com/watch?v=_b36ybUtO8M
- Channel: Towards Eternity

This is the cleaned transcript of the source video. The speech is unaltered.

---

আমি আসলে বৌদ্ধ ধর্মে বিশ্বাসী ছিলাম। আমি মন্দিরের তরুণ দলের সদস্য ছিলাম। মন্দিরের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ভীষণভাবে সক্রিয় ছিলাম। আমার বাবা ছিলেন একজন কট্টর নাস্তিক দার্শনিক। বছরের পর বছর ধরে তিনি আমাকে শিখিয়েছেন কীভাবে স্রষ্টায় বিশ্বাসীদের সাথে তর্ক করতে হয়। আমাকে, স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। খুব কঠিন একটা সময় পার করেছি। আর সে সময়ে আমি বুঝতে পারলাম, আমার ধর্ম আমাকে কোন রকম দিকনির্দেশনা দিতে পারছে না। ইসলামের জীবনদর্শন খুবই স্পষ্ট। তাই এটা যে কোন সমস্যার সমাধান দিতে পারে। আর এটা খুবই সহজ। আমি মুসলিম হয়ে গেছি এটা আমার স্ত্রী বুঝতে পারার পর, সে খুবই ইসলাম বিরোধী হয়ে উঠেছিলো। সে ইসলাম নিয়ে পড়াশোনা করা শুরু করেছিল যাতে আমাকে ইসলামের পথ থেকে ফেরাতে পারে। তারপর আমার স্ত্রী করোনা আক্রান্ত হল। এবং তার মধ্যে সুস্থ হওয়ার কোন লক্ষন দেখা যাচ্ছিলোনা। তার অক্সিজেনের মাত্রা তখনও মোটামুটি স্বাভাবিক ছিল, তাই আমি খুব দুশ্চিন্তাগ্রস্থ ছিলাম না, কিন্তু কিছুটা উদ্বিগ্ন ছিলাম। আমার মাথায় সব রকমের খারাপ চিন্তা ঘুরছিল। আমার মনে হচ্ছিল, হয়তো আমি এভাবেই মারা যাব। তারপর হঠাৎ একদিন, কোনরকম কোন ভূমিকা ছাড়াই, সে বলল, আমি যদি মারা যাই, তোমাকে এবং বাচ্চাদের থেকে আলাদা কোথাও থাকতে চাইনা। আসসালামু আলাইকুম ভাই শিগে এবং বোন লিসা। টোওয়ার্ডস ইটারনিটিতে আমাদের আমন্ত্রণ গ্রহণ করার জন্য আপনাদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আমরা আপনাদের পেয়ে খুবই আনন্দিত। ওয়ালাইকুম সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আপনাদেরকেও ধন্যবাদ। তো ভাই শিগো, আপনি কি সংক্ষেপে আপনার জীবন সম্পর্কে আমাদের বলবেন?

আমি একজন চতুর্থ প্রজন্মের জাপানি আমেরিকান। আমার বাবা ছিলেন একজন কট্টর নাস্তিক দার্শনিক। পরে তিনি বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহন করেন। আমার মা জন্ম থেকেই বৌদ্ধ ছিলেন। যাদের পুরো পরিবার চার প্রজন্ম ধরে আমেরিকায় একটি জাপানি বৌদ্ধ মিশনের সঙ্গে যুক্ত। আমি একজন বৌদ্ধ হিসেবে আমার যাত্রা শুরু করেছিলাম এবং আমার শিকড়ের সঙ্গে আবার সংযোগ তৈরি করার উদ্দেশে জাপানের একটি ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলাতেও ছিলাম, আর তারপর আমি বরং ইসলামের সঙ্গে আমার সংযোগ তৈরি করে ফেলেছি। আমার জন্ম জাপানে। আমার বাবা মা, জাপানি। আমি, যীশুকে বিশ্বাস করতাম। তাই আমি এভাবেই আমিন বলতাম। আমি মনে মনে ঈসার সাথে কথাও বলতাম। কিন্তু আমি ইসলাম সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। তো, আপনার জীবনে ধর্মবিশ্বাস কি ছিল?

আমার মনে হয় আমাদের পরিবারে বৌদ্ধধর্মকেই প্রধান ধর্ম হিসেবে দেখা হত। আমি জানতাম যে আমাদের সমাজে আমার দাদার অনেক সম্মান ছিল। আমার মা মন্দিরে কাজ করতো, তাই সেখানে আমার অনেকটা সময় কাটত, মানে সেখানে আমরা প্রতি সপ্তাহেই যেতাম। আমি সেই মন্দিরের তরুণ দলের সদস্য ছিলাম। মন্দিরের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ভীষণভাবে সক্রিয় ছিলাম। আমি খুবই অবাক হয়েছিলাম জানতে পেরে যে, সেখানে খ্রিস্টানদের চার্চের মত সানডে সার্ভিস ছিল, কিন্তু জাপানে আবার সেরকম কিছু ছিলনা। তো, অবাক করা বিষয় তাদের বুদ্ধের জন্য গান গাওয়ার রেওয়াজ ছিল। আমি প্রতি রবিবারই চার্চে যেতাম না। কিছু মাস গিয়েছিলাম হয়তো, কারণ আমার বাবা আমাদেরকে চার্চে নিয়ে যেতে চাইতেন। কোন বিষয়টা আপনার বিশ্বাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছিলো?

আমি সত্যিকার অর্থে, বৌদ্ধ ধর্মে বিশ্বাস করতাম না, কিন্তু আমি যোদো শিনশুতেও বিশ্বাস করতাম না। এটা এক প্রকারের জাপানি বৌদ্ধ মতবাদ। আসলে বলা যায়, জাপানের প্রধান বৌদ্ধ মতবাদগুলোর একটি। এক সময় জাপানে, বৌদ্ধ ধর্ম খুব বেশী পরিমাণে রাজনৈতিক একটা বিষয় ছিল। প্রচণ্ডভাবে রাজনৈতিক। এবং আইন পাস করা হয়েছিল যে প্রত্যেক জাপানি পরিবারকে কোন না কোন একটা বৌদ্ধ মন্দিরে নিজেদের নাম রেজিস্টার করাতে হবে। মানে আপনাকে একটা মন্দিরের সম্পত্তি হতেই হবে। ইতিহাস পড়ার পর আমার মনে হয়নি, কোন সত্যিকারের ধর্মের সিদ্ধান্তগুলো কোনো ইতিহাসের একটি নির্দিষ্ট সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে হতে পারে। এছাড়াও আরও অনেক বিষয় আমার কাছে যুক্তিসঙ্গত মনে হয়নি। কিভাবে আপনার ইসলামের যাত্রা শুরু হল?

তো, আমি হাই স্কুলে অনেক রকম সমস্যায় পড়েছিলাম। আমি আসলে, নিজেকে প্রতিষ্ঠা বা প্রমাণ করার চেষ্টায় ঝামেলায় জড়িয়ে গিয়েছিলাম, হয়তো একটু বেশিই চেষ্টা করে ফেলেছিলাম, একটু বেশিই। আমাকে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল, খুব কঠিন একটা সময় পার করেছি, আর সে সময়ে আমি বুঝতে পারলাম, আমার ধর্ম আমাকে কোন রকম দিকনির্দেশনা দিতে পারছে না। এই ধর্ম আমাকে জীবনে ভালো সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতে পারছেনা। আর তখন ঠিক করলাম যে আমি জাপানি সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে চাই, কারণ ভাবলাম, ঠিক আছে, ধর্মের বিষয়টায় এবার একটু বিরতি দেই, আমি যদি ইতিবাচক কোন কিছুতে আমার সব মনোযোগ ঢেলে দেই, তাহলে আমার অন্য কিছু করার সময় থাকবেনা, যেই কাজগুলো হয়তো আমার করা উচিত নয়। তো, এভাবেই শুরু হয়েছিল। আমি, ২০০৬ সালে জাপানে একজন বিদেশি এক্সচেঞ্জ ছাত্র হিসেবে এসেছিলাম। সেখানেই আমার স্ত্রীর সাথে পরিচয় হয়। আমার মনে হয় আমার জন্য সত্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আর সেজন্যই আমি নিজেকে জাপানি সংস্কৃতিতে মগ্ন করতে চেয়েছিলাম। কিছু সময়ের জন্য সেটাই আমার ধর্ম হয়ে দাড়ায়। সময় গড়িয়ে তখন ২০১২ সাল, এবং, আমার বর্তমানের খুবই ঘনিষ্ট একজন সিরিয়ান বন্ধু, সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় জাপানে আসে। সে একজন রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে এসেছিল। আর আমরা তখন আলাপ আলোচনা শুরু করেছি। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম সে স্রষ্টাকে কিভাবে বোঝে। মানে স্রষ্টা কে?

স্রষ্টা কি মহাবিশ্ব? স্রষ্টা কি মেঘের মধ্যে দাড়িওয়ালা কোন ব্যাক্তি? তোমার কাছে স্রষ্টা কি? আর তার উত্তরটা ছিল এরকম— আসলে, সে শুধু বলল যে, "তোমাকে একটা জিনিস দেখাই।" আর সে আমাকে সুরা ইখলাস দেখিয়ে দিল। সে বলল, আমরা এটাই বিশ্বাস করি। আমি বললাম তাহলে তিনি কোন ব্যাক্তি নন। সে বলল, না, অবশ্যই না, কোন ব্যাক্তি তো কখনোই না। তিনি কি মহাবিশ্ব?

না, তিনি তোমার আমার কল্পনারও বাইরের। তাঁর সমকক্ষ কিছুই নেই। খ্রিস্টীয় বিশ্বাসের সাথে এর ধারনাটা একেবারেই মেলেনা। না, তাঁকে কেউ সৃষ্টি করেনি, তিনিও কাউকে জন্ম দেননি। তিনি কারো থেকে জন্মগ্রহণ করেননি। আবারো, খুবই স্পষ্ট। আমি বললাম, বুঝতে পারছি। হ্যাঁ, আমি এই ধারনার সাথে একাত্মতা অনুভব করতে পারছিলাম। বললাম, আচ্ছা। আমার যখন এই সিরিয়ান ব্যাক্তিটির সাথে দেখা হয়, কাকতালিয়ভাবে ওই সময় আমি আমার জীবনের এমন এক পর্যায়ে ছিলাম যখন আমি আমার জীবন নিয়ে নতুন করে ভাবছিলাম।। এবং আমি অনুধাবন করলাম, আমি আসলে স্রস্টায় বিশ্বাস করি। পেছনে তাকিয়ে দেখলে, বুঝতে পারি আমার সারাটা জীবনেই আমি স্রস্টায় বিশ্বাস করে এসেছি। কিন্তু কোনো এক কারণে আমি সেই চিন্তাটাকে সবসময় দূরে সরিয়ে রেখেছিলাম। সম্ভবত আমি বিষয়টা দূরে ঠেলছিলাম, কারণ আমার বাবা ছিলেন খুবই কট্টর নাস্তিক দার্শনিক বছরের পর বছর ধরে তিনি আমাকে শিখিয়েছেন কীভাবে স্রষ্টায় বিশ্বাসীদের সাথে তর্ক করতে হয়। কিভাবে তাদের তাদের কথার জবাব দেয়া যায়, কিভাবে তাদের বিশ্বাসকে খাটো করে দেখাব, কিভাবে সেইসব খ্রিস্টানদের মোকাবিলা করব যারা আমাকে যিশুর বাণী শোনাতে চাইত। বুঝলেন!

তাই খুব ছোট বয়স থেকেই, ধরুন ১০ বছর বা এর আশেপাশে, আমার মনে হত, স্রস্টায় বিশ্বাস করা ভালো কিছু না। আমার স্রস্টায় বিশ্বাস করা উচিত না। আর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, যখন মন্দিরের কাজে বেশি করে জড়াতে লাগলাম, আমার মনে হত আমি স্রস্টায় বিশ্বাস করতে পারব না কারণ তা করতে গেলে আমার নিজেকে এই মন্দিরে সমর্পণ করতে হবে, অথবা এখানকার জাপানি কমিউনিটিতে থাকতে হবে, আর তারা স্রস্টায় বিশ্বাস করেনা। তো, আমার আধ্যাত্মিক যাত্রা আসলে অনেক সংক্ষিপ্ত ছিল। কেবল আধ্যাত্মিক যাত্রাটা। এই সিরিয়ান ব্যাক্তিটি আমাকে ইসলাম সম্পর্কে বলল। আমি আমার জীবনের ছোট ছোট অনেক স্মৃতি মনে করতে লাগলাম, যদি আমি নিজের সাথেই সৎ থাকি, তাহলে হ্যাঁ আমি আসলে এটাই বিশ্বাস করি। এটা খুব একটা কঠিন ছিল না। বরং বেশ দ্রুতই আমি বিষয়টা অনুধাবন করলাম। আমি যে অন্তরে মুসলিম খুব তাড়াতাড়িই সেটা বুঝে গেলাম। ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি আসলে খুবই স্পষ্ট। আপনাকে যখন কেউ ইসলামের ব্যাপারে বলে এবং আপনার মধ্যে যদি সততা থাকে, এটা এতো স্পষ্ট একটা বিষয়, যা উপেক্ষা করা যায় না। ইসলাম যে কোন সমস্যার সমাধান দিতে পারে। এবং এটা সহজ। কিন্তু আমার এতো সময় লাগার কারণ, আমাকে প্রচুর পড়াশোনা ও গবেষণা এদিক সেদিক খোঁজা খুঁজি এসব করতে হয়েছে। কারণ আমি ভাবছিলাম পরবর্তীতে অনেক মানুষকে আমার ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করতে হবে। কিভাবে আমি আমার দার্শনিক বাবাকে বোঝাব?

কিভাবে আমার বৌদ্ধ মন্দিরে কাজ করা মাকে বোঝাব? কিভাবে আমার পরিবার, সমাজকে বোঝাব যেখানে আমি এই মন্দিরে বড় হয়েছি? তারা তো আমার দাদা, মা এবং আমাকে চেনে... আপনার ইসলাম গ্রহণের পর আপনার পরিবার, স্ত্রী, সবাই কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল? কোন বিষয়টাকে আপনি সবচেয়ে বেশি ভয় পাচ্ছিলেন? আপনি কি কিছু খেয়াল করেছেন? এই ভিডিওটি দেখার সময় আপনি কোনো বিজ্ঞাপন দেখেননি। কারণ টোওয়ার্ডস ইটার্নিটি একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, আমরা আপনাদের সহযোগিতার মাধ্যমেই এসব ভিডিও তৈরি করতে পারি। যদি আপনিও এই সওয়াবের কাজে অংশীদ্বার হতে চান, তাহলে টোওয়ার্ডস ইটার্নিটি তে দান করুন, এই সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করবেন না। আপনার ইসলাম গ্রহণের পর আপনার পরিবার, স্ত্রী, সবাই কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল?

কোন বিষয়টাকে আপনি সবচেয়ে বেশি ভয় পাচ্ছিলেন?

আমার ইসলাম নিয়ে এতো পড়াশোনার মুল কারণ আমি জানতাম আমাকে কীসের মুখোমুখি হতে হবে। আমি জানতাম আমার স্ত্রী আমার ইসলাম গ্রহণ মেনে নেবেনা। অবশ্যই তার পরিবারও মানবেনা। আর আমার পরিবারেও মেনে নেবেনা। আমার বাবা, মা, কোনদিনই এটা মানবেন না। আমি তখনই বুঝতে পেরেছিলাম কেউ আমার এই সিদ্ধান্তে খুশি হবেনা। তাই, টিকে থাকার কৌশল হিসেবে বলতে পারেন, আমি যতটা সম্ভব ব্যাপারটা লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করছিলাম। মানুষের সামনে নামাজ পড়তাম না। রোজা রাখলে কাউকে বলতাম না আমি রোজা রেখেছি। বিভিন্ন ছুতোয় আমি খাওয়া থেকে বিরত থাকতাম, যেমন আমার ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট আছে, অথবা আমার পেট খালি রাখতে হবে, আমি কিছু পান করতে দিলে পান করার ভান করতাম কিন্তু আসলে পান করতাম না। অনেকদিন ধরেই ব্যাপারটা আমি লুকিয়ে রেখেছিলাম। আমি ভেবেছিলাম যদি ছোট ছোট পরিবর্তন থেকে, ধীরে ধীরে আমি যদি একজন আরও ভালো মানুষে পরিণত হই, মানে আমার স্ত্রী যদি আমাদের পারিবারিক জীবন আরও ভালো হয়ে যেতে দেখে, তাহলে হয়তো একদিন জিজ্ঞেস করবে, "বাহ, তুমি দিন দিন এতো চমৎকার একজন স্বামী হয়ে যাচ্ছ কি করে?" তোমার হয়েছেটা কি?

যদিও এমনটা হয়নি। তাই প্রত্যেক ছোট খাটো পরিবর্তনও আমাকে খুবই সাবধানে করতে হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ফজরের নামাজের জন্য ভোরে ওঠা। কিন্তু কতটা নিঃশব্দে নামাজ পড়া সম্ভব? এখনো মানুষ শুনলে হাসে, বিষয়টা কিছুটা হাস্যকরই বটে, আমি এমনভাবে নিজেকে প্রস্তত করেছিলাম, যেন অ্যালার্মের প্রথম বীপটা শেষ হওয়ার আগেই, আমি দ্রুত উঠে সেটা বন্ধ করে ফেলতে পারি। এমনভাবে অ্যালার্মটা রাখতাম যাতে...

টিক চট করে যেন হাতে পাই। কিন্তু আমার স্ত্রী যখন ধরতে শুরু করল যে আমি মুসলিম হয়ে গেছি আর আমি রোজা রাখছি ইসলামের কারণে আমি আমি পান করছিনা ইসলামের কারণে বাসায় শুকরের মাংস রান্না করতে নিষেধ করছিলাম ইসলামের কারণে, তখন সে খুবই ইসলাম বিরোধী হয়ে গেল। সে ইসলাম নিয়ে পড়াশোনা করা শুরু করেছিল যাতে আমাকে ইসলাম থেকে ফেরাতে পারে। আর তারপর সবকিছু মোটামুটি ঠিকই যাচ্ছিল, তারপরে আমি দাড়ি রাখা শুরু করলাম। আরে হ্যাঁ। তখন আমার জীবনের যে কোন নারী, যখনি আমার মুখ দেখত, বলতো, "তোমাকে ওসামা বিন লাদেনের মতো দেখাচ্ছে। যদি তুমি আইএস এ যোগ দিতে চাও, তাহলে জাপানে কী করছো? দাড়ি কামিয়ে ফেল, তোমাকে নোংরা দেখা যাচ্ছে। তোমার এখনি শেভ করা দরকার। আমি কি তোমাকে একটা রেজার কিনে দেব?" এইসব... আর যতবারই দেখা হয় ততবারই একই কথা...

-আমি দুঃখিত। -কোন সমস্যা নেই ঠিক আছে, ঠিক আছে। প্রতিবারই এমন হত। আর আপনার স্ত্রী কিভাবে মুসলিম হলেন?

তো আবারও সবকিছু খারাপের দিকে যাচ্ছিল। অবস্থা এমন হয়ে গিয়েছিল যে, আমরা সত্যিই আলাদা হয়ে যাওয়ার কথা ভাবছিলাম। অবশ্যই, আমি চাচ্ছিলাম না। সে বলল, "ঠিক আছে আমাদের আলাদা হতে হবেনা, কিন্তু তুমি অন্য কোথাও গিয়ে থাকো।" তুমি আলাদা একটা রুমে কিংবা, আলাদা একটা এপার্টমেন্টে থাকো তুমি সেখানে তোমার মতো মুসলিম হতে পারো। আমার কিছু যায় আসেনা। কাগজে কলমে আমরা বিবাহিতই থাকবো। তুমি প্রতি সপ্তাহে বাচ্চাদের সাথে দেখা করতে পারবে, শুধু তুমি অন্য কোথাও গিয়ে তোমার ইসলাম পালন কর। আমাদেরকে এসব থেকে দূরে থাকতে দাও। তুমি আমাদের জীবন কঠিন করে তুলেছ। অবস্থা খুবই খারাপ হচ্ছিলো। আর আমাদের মধ্যে সারাক্ষণ ঝগড়া ঝামেলা চলছিল। আমার মনে আছে, এক রাতে আমি বাসায় ফিরছিলাম, আমরা দ্বিতীয় তলায় থাকতাম। আর আমি যখন আমার এপার্টমেন্টের সিঁড়ির কাছে এসে দাঁড়ালাম, আমার মনে হয় প্রথম ধাপটা বেয়ে ওঠার মতো শক্তিও আমার ছিলনা। আর সিঁড়ির কাছে দাড়িয়ে আমার প্রচণ্ড ক্লান্তি বোধ হচ্ছিলো। প্রতিদিনের ঝগড়া ঝামেলায় আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। নিজের বিশ্বাসকে বারবার প্রমাণ করতে করতে আমি একেবারে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। মানুষজনের মুখে বারবার দাড়ি কামাও শুনতে শুনতেও আমি বিরক্ত আর ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম। অনেক কিছুর উপরেই তখন আমি বিরক্ত হয়ে গিয়েছিলাম। আর আমি সেখানে দাড়িয়েই, প্রথমবারের মতো আল্লহর কাছে সাহায্য চাইলাম। আমি আল্লাহকে বললাম, হে আল্লাহ আমি আর পারছিনা। তাই, দয়া করে আমার জন্য যা উত্তম আপনি তাই আমাকে দিন। আমি কিছুই জানিনা, কিন্তু আপনি তো সবই জানেন, যদি আমার স্ত্রীর সাথে থাকা আমার জন্য কল্যাণকর হয়, তাহলে তার সাথে সবকিছু ঠিক করে দিন। আর যদি তা না হয়, তাহলে দয়া করে আমাকে এর থেকে উত্তম কিছু দান করুন। কিন্তু এভাবে আমি আর পারছিনা। আমি সত্যিই ক্লান্ত বিধ্বস্ত। তখন করোনা মহামারির একদম শুরু। প্রায় পাঁচ দিনের মতো সময় পার হলে, যাদের অবস্থা ভালো হয়, তারা পুরোপুরি সেরে ওঠে, আর যাদের অবস্থা খারাপ হয়, তখন আরও খারাপ হতে শুরু করে। আর এটা প্রতিনিয়ত খবরের মধ্যে আসে, কতজন মানুষ করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছে, হাসপাতালে আর জায়গা হচ্ছেনা, এইসব। এই সময়ে মানুষ করোনার ভয়ে আতঙ্কগ্রস্থ ছিল। এবং শুরুতেই আমি করোনা আক্রান্ত হলাম। এটা সেই সময়ের কথা যখন করোনা হলে, হাসপাতালগুলো ভর্তি করাতো না, আর অ্যাম্বুলেন্স কাউকে নিতেও আসতো না। মানে আপনার করোনা হলে আপনি কাউকে বলতে পারবেন না, কারণ তখনও করোনার নামে একরকম একটা কলঙ্কের মতো জড়িয়ে ছিল, যেন আপনি ব্ল্যাক প্লেগের মতো কোনো ভয়ানক রোগে আক্রান্ত। তাই আমি যতদিন অসুস্থ ছিলাম নিজেকে একটা একটা ঘরে আবদ্ধ করে রাখতে হয়েছিল। আর আমরা জানতে পারতাম না বাইরে কি হচ্ছে। কিন্তু আমি ভালো হয়ে যাচ্ছিলাম। আমি সুস্থ হচ্ছিলাম, কিন্তু আমার স্ত্রী এবার আক্রান্ত হল। আমার জ্বরটা নামছিল না, আমি বারবার কাশি দিচ্ছিলাম, কোন কিছুরই স্বাদ বা গন্ধ পাচ্ছিলাম না। আমার চারপাশের লোকজন বেশ ভয় পাচ্ছিল, তাই আমাকে আইসোলেশনে থাকতে হয়েছিলো । মনে হচ্ছিল, যেন আমি কোনো অদ্ভুত এক রোগে আক্রান্ত হয়েছি যা আমাদের বোঝার ক্ষমতার বাইরে। তখন মনে হলো, “যদি এভাবেই চলতে থাকে, হয়তো আমি সত্যিই মারা যাব, আর কখনো শিগে-সান বা আমার সন্তানদের দেখতে পারব না।" আর তার অবস্থা কোনোভাবেই ভালো হচ্ছিল না। দুই সপ্তাহ হয়েছে তার আক্রান্ত হওয়ার, কিন্তু তার অবস্থা আরও খারাপের দিকে যাচ্ছিল, তার কাশি কমার কোন লক্ষণই নেই, বরং আরও বেড়েছে আর এদিকে তিন সপ্তাহ পার হয়ে গিয়েছিল। তখন মনে হয়েছিল, ব্যাপারটা তো ভালো মনে হচ্ছেনা। আমি বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলাম। তার অক্সিজেনের মাত্রা তখনও মোটামুটি স্বাভাবিক ছিল, তাই অনেক বেশি চিন্তিত ছিলাম না, তবে কিছুটা উদ্বেগ ছিল। আমার স্বামী সুস্থ হয়ে গেলেও, আমি একদমই ভালো হচ্ছিলাম না, আর ধীরে ধীরে আমার উদ্বেগটা বাড়তে লাগল। কারণ তখন আমি আইসোলেটেড ছিলাম, কাউকে দেখতে পারছিলাম না, আর হঠাৎ করে যেন অফুরন্ত সময় পেলাম। আর যেহেতু আগে থেকেই কোন বিষয় নিয়ে বেশি দুশ্চিন্তা করতাম তাই ভাবতে লাগলাম, "হয়তো আমি এভাবেই মারা যাব।" তারপর হঠাৎ একদিন, কোনরকম কোন ভূমিকা ছাড়াই, সে বলে, "শাহাদা নেওয়ার জন্য দুইজন সাক্ষীর প্রয়োজন তাইনা?" আমি বললাম দাড়াও, কি বললে তুমি?

এই প্রশ্ন তুমি তোমার কোন বন্ধুর জন্য করছ নাকি? আমার স্ত্রী বলল, "না, আমার জন্য।" শাহাদা? দুইজন সাক্ষী? কি বলছ এসব? তুমি, তুমি মুসলিম হতে চাও?

যদি আমি সত্যিই মারা যাই, তাহলে তো আমি বলেই আসছিলাম, আমি মুসলিম হতে চাই না, আমি শাহাদাহ নিতে চাই না। কিন্তু তখন আর হেলাফেলা করার সময় ছিল না। তাই আমি শাহাদাহ নিতে চাচ্ছিলাম। সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, "হ্যাঁ, আমি যদি মরে যাই, তাহলে তোমার এবং বাচ্চাদের থেকে আলাদা কোন জায়গায় যেতে চাইনা। আমি মারা গেলে, তোমরা যেখানে যাবে আমিও সেখানেই যেতে চাই।" তো আমি আমার ছেলেকে ডাকলাম, "ইউকি, বাবা এদিকে এসতো। এখানে তোমাকে প্রয়োজন।" যদিও আমার ছেলে এখনো ছোট, ওর সাক্ষীতে কাজ হবে কিনা জানিনা, কিন্তু এখন করোনার কারণে লকডাউন চলছে। এছাড়া আর কোন উপায় নেই। আমি তাকে বললাম "তোমাকে আমার সাথে তোমার মায়ের শাহাদা পাঠের সাক্ষী হতে হবে, বাবা।" আর আমারা সেখানে দাড়িয়ে দেখলাম আমার স্ত্রী এভাবেই কোয়ারেন্টাইন রুমে শাহাদা পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করল। আমার মনে হলো যেন বিপদ কেটে গেছে, আর এখন যদি আমি মরেও যাই, তাতেও কিছু আসে যায় না। আমি মারা যাইনি, হয়তো রোগটা জীবন নেয়ার মতো ছিল না, কিন্তু আমার ভেতরে এক বিরাট স্বস্তির অনুভূতি হয়েছিল। আমি এখনো মনে আছে, কতটা আনন্দিত ছিলাম যে অবশেষে আমি আমার হৃদয়কে আল্লাহ তায়ালার দিকে ফেরাতে পেরেছিলাম। কয়েক সপ্তাহ পরে আমার মনে হল, আচ্ছা, আমি হাল ছেড়ে দেওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যেই কাজ হয়ে গেল। আমার তো তাহলে আরও আট বছর আগেই হাল ছেড়ে দেওয়া উচিত ছিল। আমি এতদিন তবে করলামটা কি?

জীবনের কতগুলো ঘণ্টা আমি খামোখা নষ্ট করলাম? - আপনি সেই সময়টায়…

- প্রচুর সওয়াব অর্জন করছিলেন। না, মানে এতোটা সময়। কেউ যদি এ থেকে কোন শিক্ষা নিতে চায়, আমি সবসময় বলি, যখন মানুষ আমার কাছে আমার ইসলাম গ্রহণের গল্পটা শুনতে চায়, আমি বলি আমার গল্পটা অতটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমার স্ত্রীর ইসলাম গ্রহণের গল্পটাই আসলে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমাদের এই সম্পর্কটা যে পরিমাণ জটিল হয়ে গিয়েছিল আর আট বছর ধরে আমি কিছুই করতে পারিনি। কে জানতো আমার শুধু হাল ছেড়ে দিয়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হতো, হে আল্লাহ, দয়া করে আমার কাঁধ থেকে এই বোঝা উঠিয়ে নাও। আমি আর পারছিনা। আর দুই সপ্তাহের মধ্যে সব কিছু ঠিক। আমার দৃষ্টিকোণ থেকে এটা এতো আকস্মিক ছিল যে, আমার বিশ্বাস করতে অনেক দিন সময় লেগেছিল যে আমার স্ত্রী একজন মুসলিম হয়েছে। আর জানেন, এরপর থেকে আমি ফজরে উঠলে বুঝতে পারতাম না আমি কি ওকে জাগাব কি না। আমি কি ওকে ডাক দেব?

ডাকলে আমার উপর রাগ করবে নাকি? ও কি আসলেই মুসলিম হয়েছে? হয়েছে কি? আমি এসব ভাবতাম, আর তারপর দেখতাম সে চোখ খুলেছে, আমাকে বলতো, "ফজর?" আমি বলতাম "হ্যাঁ।" আর আমরা নামাজ পড়তাম। আপনারা তো অনেক বছরেই এই সংস্কৃতির অংশ ছিলেন, আপনাদের সকল আত্মীয় স্বজন, কাছের মানুষও তাই। মুসলিম সমাজ তো আপনাদের থেকে খুবই আলাদা। তো এত বছর ধরে যে জীবনে অভ্যস্ত ছিলেন, সেটা ছেড়ে আসাটা কি কঠিন ছিল না?

হ্যাঁ, খুবই কঠিন ছিল। আমাকে আমার সবকিছুই ত্যাগ করতে হয়েছিল, হোক সেটা আমার টাকা, আমার সময়, আমার শক্তি এমনকি আমার সম্পর্কগুলোও। আমি যখন সেই দুনিয়া ছেড়ে আসি, আমার কাছে আর কিছুই অবশিষ্ট ছিলনা। আমি অন্য কোন কাজ বা ব্যবসাও জানতাম না। অন্য কোন কিছু আমি পারতাম না। আমার তো কোন কার্যকর ব্যবসায়িক ডিগ্রি ছিল না, বা অন্য কোনো বিষয়ে তেমন জ্ঞানও ছিল না। হ্যাঁ, আসলেই খুব কঠিন ছিল। আমার শুধু একটাই ভরসা ছিল, যে আল্লাহ বলেছেন, যেই ব্যাক্তি আল্লাহর জন্য কোনকিছু পরিত্যাগ করে, তিনি তার বদলে তাকে আরও উত্তম কিছু দান করেন। তো আমার ডান হাতে ঈমান ছিল, আর বাম হাতে দুনিয়ার বাকি সব কিছু ছিল। আর আমাকে দুনিয়ার সব কিছু ত্যাগ করতে হয়েছিল এই বিশ্বাসে যে আল্লাহ তায়ালা কিছু একটা ব্যাবস্থা করে দেবেন। আলহামদুলিল্লাহ, আমি সত্যিই বিশ্বাস করি আল্লাহ তায়ালাই আমার অন্তরে ঈমানের আলো জ্বালিয়ে দিয়েছেন। আর হ্যাঁ এটাই। মুসলমান হওয়ার পর, আমার মনে হয়েছে আমি আরও উদার হয়েছি এক অর্থে মুক্তি পেয়েছি। যেহেতু আমরা এখন একটি মুসলিম পরিবার, তাই মনে হচ্ছিল আমাদের বাচ্চাদের জন্য হলেও মুসলিম কমিউনিটির সাথে যুক্ত হতে হবে বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে হবে। আমি জানতাম, আমার নিজের মধ্যেও কিছু পক্ষপাতিত্ব কাজ করে, কিন্তু জাপানে এভাবে থাকা সম্ভব নয়। তাই আমি ভেবেছিলাম, যেভাবেই হোক না কেন আমাকে এই বাধা অতিক্রম করতে হবে। আমার স্ত্রী মুসলিম হওয়ার পর, তার প্রথম রমজান আমার সাথে পালন করেছে। আমার রমজান তো খুবই একাকী, দুঃখী ভাবে কাটাতে হতো...

এটা ছিল আমার জন্য দুঃখে ভরা, একাকী একটা সময়। যখন আপনি সম্পূর্ণ একা রমজান পালন করবেন, তখন এটা আপনার জন্য খুব কঠিন হবে। আপনি ইফতার করবেন একা একা, আর আপনার একদমই, একদমই ভালো লাগবেনা। কিন্তু এবার আমার স্ত্রী, ইন্সটাগ্রামে বিভিন্ন রকম পোস্টে দেখছে মানুষ সবাই একসাথে কত আনন্দে ইফতার পার্টি করছে। রমজানকে সবাই মিলে একটা উৎসবের মতো উপভোগ করছে। তাই আমার স্ত্রী আমার উপর খুবই রেগে আছে। ইন্সটাগ্রামে দেখা রমজানের মতো রমজান পালন করতে চাইছে, "না, আমি এমন রমজান চাই।" তো তারপর থেকে, সে জেডিসির সাথে কাজ করছে। আমরা বর্তমানে, জাপান মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন, জে.এম.এ এর সাথে আছি। আমারা টোকিওতে জেডিসির বিভিন্ন ইভেন্টে সাহায্য করি, আর ইয়োকোহামায় আমাদের স্থানীয় মসজিদের সাথেও আমরা যুক্ত আছি। একে অপরের কোন বিষয়টি আপনাদের মুগ্ধ করে?

আসলে ওর অনেক কিছুই আমাকে মুগ্ধ করে। যখন থেকে আমাদের পরিচয় হয়েছে, তখন থেকেই আমার স্ত্রী স্বভাবতই এমন অনেক কিছু করতো যা একজন মুসলিমের করা উচিত। এদিকে আমিতো এসেছি আমেরিকার বিপ্লববাদী পরিবেশ থেকে সেখানে কেউ যদি আমাকে বলে কী করতে হবে, আমার প্রথম প্রতিক্রিয়া হবে, দূর হও এখান থেকে। মানে, সেটা আমার বাবা মাই হোক বা আর যেই হোক তাতে কিছু যায় আসে না আস্তাগফিরুল্লাহ। কিন্তু আমার স্ত্রী সবসময়ই, আমি জানিনা সে সত্যিই বিশ্বাস করত কিনা, মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত, কিন্তু তার আচরণ সবসময় এমনই ছিল। এবং তার এই স্বভাবকে আমি সবসময় শ্রদ্ধা করি। সে সবসময়ই খুব পরিবারকেন্দ্রিক। সে সবসময়ই আমাদের সন্তানদের যত্ন নেয়, তাদের জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত থাকে। তার এই গুনটাও আমার অনেক পছন্দ। তার ক্ষমার গুণ। এমনকি যখন আমি যখন খুব কঠিন ব্যবহার করছিলাম, তবুও সে কখনও আমার ওপর হাল ছাড়েননি। আমি সবসময় এর জন্য কৃতজ্ঞ ছিলাম, এমনকি মুসলিম হওয়ার আগেও ছিলাম। আসলে, সে মুসলিম হওয়ার পর আমি তাকে আরও বেশি পছন্দ করতে শুরু করি। যেন তার স্বভাবটাই বদলে গেল। সে পরিবারকে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করলো, আমি না বললেও, নিজে থেকেই বাবা-মাকে ফোন করতো। এমন অনেক বিষয় আগের চেয়ে অনেক বেশী পরিমাণে ভালো ছিল। যখন আমি বলতাম যে আমি আমার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে চাই, সে সহজভাবে বলতো , “তাহলে চল, দেখা করতে যাই। পরিবারের প্রতি তার এই গভীর মমত্ববোধ সবকিছুকে আরও সুন্দর করে তুলেছিল যদিও আমি মনে হয়, সেটা ঠিকভাবে বোঝাতে পারছি না...

আসলে… তেমন কিছুই না। - সত্যি সে খুবই অমায়িক। সে খুবই অমায়িক। সে বলছে আমি একটা ভালো মানুষ। - সত্যি খুবই অমায়িক। তিনি কি এই একটা কথাই বলেছেন? হ্যাঁ অনেকটা তাই। নবী করিম (সাঃ) এর কোন বিষয়টা আপনাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে?

তাঁর বিশেষ দোয়া, যেটা কবুল হবেই তা তিনি হাশরের ময়দানে আমাদের জন্য রেখে দিয়েছেন। আমাদের জন্য। যখন আমি এটা জানতে পেরেছি, আমার মনে হয়েছিল, তিনি যেন আমার কথা, আমাদেরই কথা বলছেন, যেন তিনি সময়ের ব্যাবধান ভেদ করে আমাদের দেখতে পেতেন, তিনি হয়তো আমাকেই দেখছিলেন। হয়তো তিনি আপনাকে দেখছিলেন। এই প্রজন্মের দিকে দেখছিলেন। তাই আমার মনে হয়, তাঁর ভবিষ্যৎ দেখার ক্ষমতা এবং যাদেরকে তিনি জীবনে কখনোই দেখেননি তাদের প্রতি তাঁর সহানুভূতি আমাকে খুবই মুগ্ধ করেছে। ভাই শিগে, বোন লিসা, আন্তরিকভাবে আপনাদের গল্প আমাদের শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। আল্লাহ আপনাদেরকে উত্তম প্রতিদান দিন, এবং ইনশাআল্লাহ, আপনাদের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত এই সরল পথে অবিচল রাখুন, ইনশাআল্লাহ। এবং পরকালে ইনশাল্লাহ, জান্নাতে আপনাদের পুনর্মিলিত করুন। জাযাকাল্লাহহু খাইরান অসংখ্য ধন্যবাদ।
