# "জীবনের সকল ধাপে আমি ব্যর্থ, আমার আর বেঁচে থাকার মানে কী?" ~ টোয়ার্ডস ইটার্নিটি

- Language: bn
- Published: 2026-08-26
- Canonical: https://blog.towardseternity.com/bn/blog/is-life-too-much-to-handle-turn-to-allah
- Source video: https://www.youtube.com/watch?v=diGjCnAmLHg
- Channel: Towards Eternity

This is the cleaned transcript of the source video. The speech is unaltered.

---

সব কিছুই শেষ! নিজেকে শেষ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। আপনি আর বাঁচতে চান না, কারণ জীবন আপনাকে কষ্ট দিচ্ছে। আপনার মন আপনাকে বিরক্ত করছে আর আপনার খুবই খারাপ অবস্থা। আত্ম*হত্যা করার জন্য আপনি একটা উঁচু জায়গায় গেলেন। আপনি সেখান থেকে নিচে পড়ে গেলেন। ভয়ানক যন্ত্রণা অনুভব করলেন। অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন বাজছে চারদিকে। সবাই হন্তদন্ত হয়ে দৌড়াচ্ছে, চিৎকার করছে, হঠাৎ করে আপনার মা ব্যালকনিতে এলেন আর চারদিক দেখলেন। নিচে দেখলেন আপনার প্রাণহীন শরীর আর সিঁড়ি দিয়ে কেঁদে নামলেন। আপনি তাকে তার জীবনের সবচেয়ে ভয়ানক ব্যথা দিয়েছেন। এই ব্যথা তাকে তার জীবনের শেষ পর্যন্ত তাড়িয়ে বেড়াবে। আমরা আত্ম*হত্যা নিয়ে কথা বলতে যাচ্ছি। আমরা সবাই সমস্যায় পড়ি, তাই না?

এগুলো ছাড়াও পৃথিবীতে অনেক সমস্যা আছে, যেগুলোর তীব্রতা মানুষকে আত্ম*হত্যায় উদ্বুদ্ধ করে। এটা আপনার মাথায় শুরু হওয়া কোন যুদ্ধের মত। আপনার মনে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের উদ্রেক হয়। চরম চিন্তা-ভাবনা মাথায় আসে। যেন, নিজের মধ্যেই একটা যুদ্ধ চলছে। আগের উপভোগ করা কাজগুলোও যেন এখন অর্থহীন মনে হয়। আপনার মানসিক স্বাস্থ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, আপনার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটছে। আপনার খাওয়া-দাওয়া করতে ভাল লাগে না। সবচেয়ে খারাপ জিনিস কি জানেন?

আপনার সমস্যা সমাধান করার মত কেউ আছে, আপনি সে কথা বিশ্বাস করতে চান না। বিরক্তি দুর করার জন্য টিভি শো দেখতে থাকেন। কষ্ট ভুলে যেতে সাহায্য করে, এমন কাজ করতে থাকেন। কিছুই কাজ করে না। কারণ আপনার মন সবসময় আপনার সাথে ঘুরে বেড়ায় এবং ভিতর থেকে আপনাকে গ্রাস করে। আপনি যদি আপনার মনকে সঠিকভাবে ব্যবহার আর নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন, তাহলে তা ধ্বংস বয়ে আনবে। এই বিষয়ের উপর আমি কিছু গবেষণা করেছি। বৈজ্ঞানিক, মনস্তাত্বিক আর ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। এতে সত্যিকার আর অসাধারণ প্রাপ্তি রয়েছে। যেমন ধরুন, মানে, এই ভিডিও শুরু হওয়া থেকে এখন অবধি, ২ বা ৩ জন লোক ইতোমধ্যে আত্ম*হত্যা করেছে। আত্ম*হত্যাকারী ব্যক্তিটিও হয়তো এমন ব্যক্তি ছিলেন, যার জীবন সম্পর্কে ভাল ধারণা ছিল, যে সবকিছু ভালভাবে দেখত, যার দৃশ্যত কোন সমস্যা ছিল না, আনন্দপূর্ণ ছিল। তারা যেসব বিপদদের সম্মুখীন হয়েছে, সেগুলো তাদের ভিন্ন অবস্থায় নিয়ে যায়, যখন তারা মনে করেন যে, আর কিছুই সম্ভব না। প্রকৃতপক্ষে, আত্ম*হত্যা কোন সমাধান নয়। এটা পালানো, পালানোর একটা উপায় মাত্র। এমনকি একজন চিন্তাবিদের এমন উক্তি আছে যে, আল্লাহর শক্তি অসীম, তাই না?

তাহলে, তার জন্য কঠিন কি হতে পারে? কুরআনে একটি আয়াতও আছে। আল্লাহ বলেন, তাহলে, মানুষ কেন আত্ম*হত্যা করছে?

অন্যতম একজন মুসলিম আলিম, বদিউজ্জামান সাইদ নুরসি, ধৈর্য্য সম্পর্কে একটি সুগভীর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, হ্যাঁ, সে ব্যক্তি সকল সমস্যা মোকাবেলা করতে পারে যেগুলো মানুষকে আত্ম*হত্যা করতে উদ্বুদ্ধ করে কিন্তু অতীতের ঘটনা নিয়ে আপনি যদি বেশি চিন্তা করেন আর অভিযোগ করেন, আপনি আপনার কিছুটা ধৈর্য অতীতের জন্য ব্যবহার করছেন এবং একইসাথে সেটিকে ভবিষ্যতের জন্যও বরাদ্দ করছেন, এই চিন্তা করে যে, আপনি আপনার ধৈর্য শক্তিকে অতীত এবং ভবিষ্যতে ছড়িয়ে দিয়েছেন। বর্তমানকে কেন্দ্র ধরলে, সেটি শক্তিহীন হয়ে গেছে। তারপর শয়তান, ইবলিশ আপনার মাঝে শূন্যতা খুঁজে পায় আর তৎক্ষণাৎ আপনাকে আক্রমন করে। সে আপনার ধৈর্য্যকে শেষ করে দেয় আর আপনি বলেন, "যথেষ্ঠ হয়েছে। আমি আর পারছি না। আমি বাঁচতে চাই না।" এর কারণ হলো, আপনি ধৈর্য্যকে অতীত ও ভবিষ্যৎ পর্যন্ত বর্ধিত করছেন। এসময়ই শয়তান কোন মানুষকে আক্রমণ করে, যে আত্ম*হত্যার নিকটবর্তী হচ্ছে। হঠাৎ করেই সে আপনার অন্তরকে আক্রান্ত করে। আপনার মাথায় খারাপ চিন্তা খেলা করে। কালো চশমা দিয়ে দেখলে আপনি, চারপাশের সবকিছু কালো দেখেন, তাই না?

শয়তান আপনার চোখে কালো চশমা দিয়ে দেয়। সবকিছুই খারাপ মনে হয় আর সামাল দেওয়া অসম্ভব মনে হয়। সে আপনাকে উভয় দিক থেকে আক্রমণ করে। আর আপনি এসব চিন্তাকে চুপ করাতে চান কিন্তু পারেন না। এটাই অন্যতম কারণ, মানুষ কেন আত্ম*হত্যা করে যেন মন ও মননের ব্যথা লাঘব হয়। তাহলে, ঐ ব্যথা চলে গেলে কেউ কি আর তার জীবন ত্যাগ করতে চাইবেন? অবশ্যই না। আমরা কারণগুলো চিহ্নিত করেছি, যে কারনে মানুষ আত্ম*হত্যা করে। এসবের কারণেই মানুষ আত্ম*হত্যা করে থাকে। এগুলো ছাড়াও, ৯০ ভাগ এরও অধিক আত্ম*হত্যা মনস্তাত্বিক কারণে হয়ে থাকে। আর আত্ম*হত্যা করা ৫০% লোকই মদ্যপাণের প্রতি আসক্ত থাকে। খুব চমৎকার, তাই না? একটা বিষয় মানুষ সবসময় ভুলে যায়। আপনাকে এই শরীরটা আমানত হিসেবে দেওয়া হয়েছে। নিজের দিকে একবার তাকান। আপনার চোখগুলো কোথা থেকে এসেছে?

আপনি কোন বাজার থেকে সেগুলো কিনতে পারতেন? আপনার নিজের কিছুই নেই। আপনি কি সেটা বুঝতে পারেন? তাহলে, এমন মানুষ কোন অধিকারে বলে যে, বিষয়টিকে এভাবে চিন্তা করুন। আপনি একটি বাড়ি কিনলেন আর সেটিকে মনমতো সাজালেন। তারপর, আপনার অতিথিরা এসে সমালোচনা করতে লাগল। "দেয়ালগুলো এই রংয়ের কেন? এই রংয়ের সাথে সোফার রং মেলে না। আমি এখনই এই রং বদলাতে চাই।" আপনি হয়তো বলবেন, “আপনি এই সম্পত্তির মালিক নন। সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আপনার নেই।” তাই না? এবার নিজের দিকে একটু তাকান। আমাদের নিজের কি আছে? কিচ্ছু না। সম্পত্তির মালিক তার নিজ সম্পত্তিতে যা খুশি তাই করতে পারেন। তিনি আমাদের ভালোর জন্য পরীক্ষা করেন। উদাহরণস্বরুপ, যখন পরীক্ষা শুরু হয় এবং প্রশ্ন দেওয়া হয়, তখন ঐ শিক্ষক এমন রুপ ধারণ করতে পারেন যিনি খুবই কঠোর ধরণের, তাই না?

বিশেষত, নিয়ম না মানলে। আপনি যখন প্রশ্নপত্রে তাকালে, পরীক্ষার প্রশ্ন দেখেন। সঠিক এবং ভুল উভয়েরই বিকল্প আছে। আপনি এখানে বলতে পারেন না, এখানে বি, সি, ডি এর মত ভুল উত্তরগুলো কেন এখানে..... এগুলো তো ভুল।" এটাই পরীক্ষা। একইভাবে, পৃথিবীতে ভুল ঘটনাগুলো ঘটতে থাকে। আপনাকে সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। এমন সময় আসবে, যখন আপনি বলবেন, "আমার সাথেই কেন এমন হয়?" কিন্তু চিন্তা করবেন না। পরকালে, সবকিছুর ন্যায়বিচার করা হবে। বলবেন না যে, "আমার চোখ দেখতে পায়না কেন?

আমার কানগুলো কেন শুনতে পায় না?" পরকালে, সবকিছুর মধ্যে ভারসাম্য তৈরি হবে। উদাহরনস্বরূপ, একজন জন্মান্ধের ব্যাপারে চিন্তা করুন। সে পৃথিবীতে জন্ম এলো, বাঁচলো। এরপর মৃত্যু এলো, সে চলে গেল। সে কিছুই দেখতে পেল না। কিন্তু যখন সে পরকালে এই দুনিয়ার সাময়িক বঞ্চনাকে পুরষ্কার হিসেবে দেখতে পাবে, তখন কি সে বলবে না যে, "আমার আর কোন কষ্ট নেই, আমি এই দুনিয়ায় অন্ধ ছিলাম” পরকাল বলতে যদি কিছু না থাকে, তাহলে সেটি হবে মহা অন্যায়। কিন্তু আমাদের পরকাল আছে। আপনার সমস্যাগুলোকে ন্যায় দিয়ে বদলে দেওয়া হবে। তাই, চিন্তা করবেন না, একদিন পিছনে ফিরে তাকাবেন এবং নিজের কষ্টগুলোকে দেখে হাসবেন। সবসময় এমনই হয়, তাই না?

ভাবুন, জীবনের সবচেয়ে বড় সমস্যার কথা। এগুলো আসে এবং যায়। আপনি হয়তো এগুলো দেখে হাসেন না কিন্তু অনুভব করেন যে, এখন আর সেই ব্যথা নেই। এক সপ্তাহ পর, ব্যথাটা আরেকটু কমলো। তারপর, তিন সপ্তাহ গেলে সেই ব্যথা আরও উপশম হলো। এক বছর পর আপনি হয়তো বলবেন যে, "আমি কি সত্যি এটা নিয়ে চিন্তিত ছিলাম?" যখন দশ বছর অতিক্রম করেন, আপনি সেটা পুরোপুরি ভুলে যান। সুরা আল-মায়িদাহর ৩২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তা’আলা বলেন, "যে ব্যক্তি কাউকে হত্যা করে, যদি সেটা হত্যার শাস্তি বা অন্য অপরাধের কারণে না হয়, সে যেনো পুরো মানবজাতিকে হত্যা করলো।" এই আয়াতে, যেখানে হত্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, আপনি শুধু অন্যের কথা চিন্তা করেন কেন? আত্ম*হত্যার সবচেয়ে খারাপ দিকটি কি জানেন?

ধরেন, আপনি কোন ব্যভিচার করেছেন বা অন্য কোন অপরাধ। আপনি হয়তো এর জন্য অনুতপ্ত হবেন এবং আল্লাহ হয়তো আপনাকে ক্ষমা করবেন। কিন্তু আপনি যদি আত্ম*হত্যা করেন, তাহলে আপনার কোন সুযোগ থাকবে না, অনুতাপের সময় থাকবে না। এই জঘন্য পাপ করলে, আপনি সরাসরি পরকালে যাবেন। আপনার আত্ম*হত্যার কারণ কি ছিল? তাহলে, সব শেষ হয়ে যাবে, তাই না? কিন্তু মৃত্যুর সাথে সাথেই সবকিছু শেষ হয়ে যায় না। আসলে, কিছুই শেষ হয় না। পরিবর্তে, খারাপের শুরু হয়। এখন যদি আপনাকে বলি যে, আপনাকে দশবার থাপ্পর মারব, আপনি চলে যেতে চাইবেন, তাই না? এরপর যদি বলি, এখান থেকে বের হলে, বাইরে ১০০ জন লোক আরও জোরে থাপ্পর মারবে?

জাহান্নাম এমনই একটি জায়গা। জাহান্নাম সম্পর্কিত আয়াতগুলো একবার দেখুন। আপনি হয়তো ভাববেন যে, “এই জীবন শেষ হোক আর আত্ম*হত্যার পর আমি মুক্ত।" কিন্তু না, বিষয়টা তেমন নয়। যখন এটি শেষ হবে, আসল শাস্তির সূচনা হবে। সুন্দর একটি উক্তি রয়েছে। দুনিয়া যদি ক্ষণস্থায়ী হয়, আপনার সমস্যাগুলো স্থায়ী হয় কিভাবে? এটা কি সত্যি নয়? দেখুন, এমন অনেক আয়াত আছে, যেগুলো আমাদের প্রশান্তি দেয়। সুরা আল-ইনশিরাহতে, ৫-৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, "নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি। নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি।" সুরা জুমার ৫৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, "হে আমার বান্দাগণ!

তোমরা যারা নিজেদের উপর জুলুম করেছো, আল্লাহর দয়া থেকে নিরাশ হয়ো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ সকল গুণাহ ক্ষমা করেন।" সুরা জুমারের ৩৬ নম্বর আয়াত- "আল্লাহ কি তার বান্দাদের জন্য যথেষ্ঠ নন?" সুরা আল-বাকারাহর ২১৬ নম্বর আয়াত- "তোমরা হয়তো কিছু অপছন্দ কর, যা তোমাদের জন্য কল্যাণকর এবং কিছু পছন্দ কর, যা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। আল্লাহ জানেন, তোমরা যা জানো না।" এসব আয়াতের মাধ্যমে আমাদেরকে দেওয়া সুসংবাদের পরেও, একজন মানুষ কিভাবে হতাশ হতে পারে? একটি উক্তি আছে। জীবনের সৌন্দর্য্য দেখা ব্যক্তি সুন্দরভাবে চিন্তা করে, এবং সুন্দর চিন্তা করা লোকগুলো তাদের জীবন উপভোগ করেন। যেসব ব্যক্তি আপনার চেয়ে কমপক্ষে ৫০ গুণ বেশি কষ্টভোগ করেছেন, কিন্তু তারা এখন শান্তিতে বসবাস করছেন। কিভাবে?

এগুলো তাদের চিন্তা-ভাবনার কারনে। যেহেতু জীবন সম্পর্কে একটা ভাল ধারণা আছে। নবীদের জীবনের দিকে তাকান। তাঁরা কেমন ছিলেন? আইয়ুব (আ) কি কোন সমস্যা এবং সংকট ছাড়াই এই দুনিয়াতে বেঁচে ছিলেন? ইউনুস (আ), ইসা (আ) এর সমস্যা, নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা)-এর সমস্যার কথা চিন্তা করুন। তারা সকলেই অনেক কঠিন অবস্থার সম্মুখীন হয়েছিলেন। তারা কি কখনও আল্লাহকে প্রশ্ন করেছেন বা আত্ম*হত্যা করেছেন?

তো এটাও একটা কারণ, যেজন্য মানুষ আত্ম*হত্যা করে। আপনি খারাপ জিনিসে মনোযোগ দেন। আপনি জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট না। আপনার মনে হয় এই সমস্যার সমাধান নেই আর আত্ম*হত্যা করতে চান। ভাই এবং বোনেরা, বিশ্বাস করুন, এটা আমাদের মানসিকতার জন্য। সংবাদ দেখে আপনার কানে কিছু শব্দ ঢোকে, দুঃসংবাদগুলো আপনার মনকে দূষিত করে। আমাদের করণীয় হল, এসব কথা কোথায় রাখতে হবে আর কিভাবে সামলাতে হবে, তা নির্ধারণ করা। আপনি কি জানেন, যে জীবনের উপর আপনি অসন্তুষ্ট সেটিই অসংখ্য মানুষের স্বপ্ন?

আপনার মত বাঁচার জন্য তারা হয়তো সবকিছু করতো। এই দুনিয়ায় দুর্দশাগ্রস্থ প্রচুর মানুষ আছে। আসলে, তাদের অনেকেই আপনার মত জীবনের কথা ভাবতেই পারে না, কারণ তাদের চিন্তা অতটা বিকশিত হয়নি। তারা এমন জীবন কখনও দেখেনি। আমি বুঝতে পারি যে, আপনার অনেক কষ্ট, কিন্তু আপনাকে আপনার ধারণা বদলাতে হবে এবং এর থেকে বের হওয়ার জন্য নিজেকে বোঝাতে হবে। কিছু মানুষকে অক্ষমতা দিয়ে পরীক্ষা করা হয়, কেউ হাত ছাড়া বেঁচে থাকে, কেউ পা ছাড়া, কিংবা কেউ থাকে দৃষ্টিহীন। হ্যাঁ, তারা পারে। তারা আমাদের চেয়ে ৫০ গুণ বেশি সমস্যার সম্মুখীন হয়, কিন্তু তারা বেঁচে থাকে আর সুখ খুঁজে নেয়। আর পরকালে, তাদেরকে আমাদের সবার চেয়ে বেশি প্রতিদান দেওয়া হবে। এই দুনিয়ায়, সব ধরণের কষ্ট আছে। আল্লাহ আপনাকে অনেক করুণা করেছেন। আমার মনে হয়, আপনি সেই করুণাগুলো দেখতে পান না, কারণ, আপনার মানসিক দৃষ্টিভঙ্গি সেরকম নয়। এখন আপনার চোঁখ বন্ধ করুন, এবং আত্ম*হত্যার কথা চিন্তাকারী একজন মানুষের মনের কথাগুলো ভাবতে থাকুন। আপনি জীবন শেষ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখন, এই সবকিছু শেষ!

কষ্টে পাবার জন্য আপনি আর বাঁচতে চান না। আপনার মন আপনাকে বিরক্ত করতে থাকে। আপনার অবস্থা শোচনীয়। বললেন, “আমি জীবন নিয়ে অসন্তুষ্ট, তাহলে কেন বেঁচে থাকব?" তো আপনি সর্বোচ্চ তলায় গেলেন আর সেখান থেকে লাফ দিলেন। তারপর মাটিতে পড়লেন। আপনি জীবনের সবচেয়ে ভয়ানক কষ্ট পেলেন। এখানে দুইটা সম্ভাবনা আছে, এবং আপনার মৃত্যুর কোন নিশ্চয়তা নেই। ধরুন, আপনি পক্ষাঘাতগ্রস্থ বা চিরতরে অক্ষম হয়ে গেলেন। এখন জীবনের বাকিটা সময় আপনি, স্বাভাবিক বিষয়গুলো উপভোগ করতে পারবেন না, যেমন, ইচ্ছামত মুক্তভাবে দৌড়ানো। যাইহোক, এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, আত্ম*হত্যার চেষ্টা করে বেঁচে যাওয়াদের অনেকে তৎক্ষণাৎ বা সেই প্রচেষ্টার পর এর জন্য অনুতপ্ত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, আত্ম*হত্যা প্রচেষ্টায় বেঁচে যাওয়া ৯০% মানুষই, তারা ভবিষ্যতে আত্ম*হত্যা করে মরতে চায় না। তারা এটার জন্য অনুতপ্ত হয়। অথবা অন্যান্য সম্ভাবনা থাকে। ধরুণ, আপনি মরে গেছেন। এরপর তখন কি হবে?

আপনার চারদিকে অ্যাম্বুলেন্সের শব্দ শোনা যাবে। মানুষ দৌড়াবে, চিৎকার করবে। তারা বিলাপ করবে। কিন্তু কোথায় আপনি?

হঠাৎ আপনার মা ব্যালকনিতে এলেন এবং আপনাকে খুঁজলেন কিন্তু পেলেন না। তিনি নিচে তাকালেন, দেখলেন, আপনার প্রাণহীন শরীর এবং তিনি কেঁদে কেঁদে সিড়ি বেয়ে নিচে নামলেন। “এটা আমার সন্তান না, এ যেন আমার সন্তান না হয়। আপনারা তাকে মরতে দেবেন না।" আপনি তাকে তার জীবনের সবচেয়ে ভয়ানক কষ্ট ভোগ করালেন। তিনি নিচে এলেন, এবং দেখলেন যে এটি তারই সন্তান। এটা অনন্য এক ব্যথা। তার হৃদয় ভেঙ্গে গেলো। আপনার বাবা এ খবর পান। তিনি খুব কষ্ট পান। আপনার ভাই-বোনেরাও একই কষ্ট অনুভব করে। মাসের পর মাস, বছর, তারা আপনার এই ব্যথা বয়ে বেড়াবে। আপনার মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ পর, আপনার মা আপনার কক্ষে যাবেন, আপনার ছবি, বালিশ, বিছানার দিকে তাকাবেন। আপনার সকল স্মৃতি রোমন্থন করবেন। যে নারী আপনার জন্য পুরো জীবন অতিবাহিত করেছেন, তার সাথে এমনটা করতে পারেন না। তাহলে এই চিন্তা থেকে বের হওয়ার জন্য আমরা কি করব?

হতে পারে, ছবি তোলা বা বিশ্বের নতুন জায়গা খুঁজে বেড়ানো। যতক্ষন এটা হালাল সীমার মধ্যে আছে, এটি যেকোন কিছু হতে পারে। নিজের মনকে ব্যস্ত রাখার উৎকৃষ্ট উপায় হল, নিজের রবের সাথে যুক্ত থাকা। কুরআন তিলাওয়াত শ্রবণ করা। ব্যস্ত থাকলে আপনি একাকীত্ব দূর করতে পারবেন এবং মন থেকে কুচিন্তা দূর হবে। এটি শান্তি লাভের এক সহজ উপায় যা আপনার জীবনে ইতিবাচক শক্তি বয়ে আনে। শয়তান, কুমন্ত্রণাকারী, আপনাকে দুর্বল করে দিতে চাইবে। সে তৎক্ষণাৎ আপনাকে অতীত আর ভবিষ্যতের কথা মনে করাতে চাইবে। বর্তমান সময়ে সুখী থাকার জন্য আপনাকে কোন কিছুতে ব্যস্ত থাকতে হবে। এমনকি সবচেয়ে অসম্ভব সমস্যাটিরও সমাধান সম্ভব। আল্লাহ শুন্য থেকেই বিশ্বকে সৃষ্টি করেছেন। তিনি সমগ্র বিশ্বের স্রষ্টা। এটা মনে রাখবেন। উপায় একটা আছেই। আপনি যদি সেটা খুঁজে না পান তবুও। রাস্তা যদি কুয়াশাচ্ছন্ন হয়, তবুও সে কুয়াশা কেটে যাবে। মজার ব্যাপার হল, কোন এক মুহূর্তের তীব্রতা বাড়তে বাড়তেই মানুষ আত্ম*হত্যার দিকে ধাবিত হয়। এই সময়গুলোতে, শয়তান আপনার বর্তমান দূর্বলতাগুলোর সুযোগ নেয়, হতাশা বৃদ্ধি করে এবং সমস্যা সমাধান অসম্ভব মনে হয়। আবেগ কিন্তু তরঙ্গের মত। এগুলো উত্থান আর পতন হয়। সহজ উপায় হল থেমে যান, একদিন ঘুরে আসুন, ভালো লাগবে। পরদিন সকালে, আপনার কষ্ট কমতে পারে, এমনকি একটু হলেও, পরিষ্কার ধারণা এবং এগিয়ে চলার শক্তি তৈরি করে। ভুলে যাবেন না। এই দুনিয়াটা দুঃখ আর কষ্টে ভরা। আপনি এই দুনিয়ায় ভাল কাজের বিনিময় পাবেন না। এই দুনিয়া নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা) এর হৃদয় চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছে। তিনি স্ত্রী খাদিজাতুল কুবরাকে (রা) হারিয়েছেন। এই দুনিয়ার মাটিতে নবী মুহাম্মাদ (সা)-এর অশ্রু ঝরেছে, যখন তিনি, উহুদের ময়দানে চাচা হামঝাকে (রা) দেখেছেন। হামযার ফুসফুস ছিড়ে ফেলা হয়েছিল এবং তার কান, নাক কেটে ফেলা হয়েছিল। এটাই হলো দুনিয়া, এই সকল অবস্থায়, আমরা বসবাস করব এবং ধৈর্য্য ধরব। সুরা আদ-দুহার তিন নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, "আপনার রব আপনাকে পরিত্যাগ করেননি, না তিনি আপনার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছেন।" কি সুন্দর আয়াত। আপনার রব আপনার প্রতি অসন্তুষ্ট হননি। তিনি আপনাকে পরিত্যাগ করেননি, ভাই এবং বোনেরা, সেই দিন আসলে, সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। সকল সমস্যা শেষ হয়ে যাবে। আমরা যতক্ষণ তার জন্য বাঁচব, ততক্ষণ কোন সমস্যা থাকবে না। আসলে, এটা খুবই স্বস্তিদায়ক বাক্য। কিন্তু এটি যদি আমার নিজের ইচ্ছায় আত্ম*হত্যা হয়, তাহলে পরকাল হবে খুবই ভয়াবহ। যদি আমার রব যদি আমার মৃত্যু ঘটান এবং আমি তার ইচ্ছামত চলি, তিনি আমাদের ক্ষমা করতে প্রস্তুত। তিনি আমাদের জাহান্নামে দিতে চান না। এখন চিন্তা করুন, আপনি জান্নাতে গেছেন। আপনার সব সমস্যা শেষ, কখনও ফিরবে না। পুরো পৃথিবী আপনার বিপক্ষে থাকলেও, সেটা আপনাকে প্রভাবিত করবে না। আপনি নবীদের দেখবেন। ইউনুস (আ), মুহাম্মাদ (সা), ঈসা (আ)। আপনি সাহাবীদের দেখবেন। আপনার প্রিয়জন, বন্ধু, আত্মীয়স্বজনদের সাথে একত্রিত হবেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, আপনার দেখা হবে আল্লাহর সাথে। যিনি আপনাকে সৃষ্টি করছেন, করুণা এবং পথপ্রদর্শন করেছেন। এই জীবনে, আমাদের হয়তো চ্যালেঞ্জপূর্ণ ৩০ বা ৪০ বছর বাকি রয়েছে, সেগুলোও কেটে যাবে। সকল দুঃখই একদিন শেষ হয়ে যাবে। ধৈর্য্য ধরলে আনুগত্য আসে আর বিশ্বাসে আশা জন্মে। জীবন একটা চলমান ভ্রমণ, ধৈর্য্য এবং বিশ্বাসের সাময়িক একটি পরীক্ষা। এখনকার অনুভূত কষ্টগুলো মোটেই স্থায়ী নয়। এটি আল্লাহর কাছে নিয়ে যাওয়ার একটি সেতু। আপনার ফেলা প্রতি ফোটা অশ্রু, কষ্টের প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহ তা’আলা দেখেন। তিনি আপনাকে ভুলেন না এবং আপনি কখনোই একা নন। এই দুনিয়ার ঝড়ের বাইরেও, চিরন্তন শান্তি রয়েছে। যে জায়গায় সকল দুঃখ-কষ্ট মুছে যায় এবং আপনার হৃদয় প্রশান্তি পায়। আরেকটু ধৈর্য্য ধরুন। জান্নাত সকল কষ্টের উপযুক্ত প্রতিদান।
