# পুনরুত্থানের দিন - পুলসিরাত | এআই–ভিজ্যুয়ালাইজড কিয়ামত দিবস সিরিজ – পর্ব ৩

- Language: bn
- Published: 2026-08-26
- Canonical: https://blog.towardseternity.com/bn/blog/resurrection-day-the-sirat-bridge-ai-visualized-day-of-judgment-series-ep-3
- Source video: https://www.youtube.com/watch?v=ym02HFyrodg
- Channel: Towards Eternity

This is the cleaned transcript of the source video. The speech is unaltered.

---

এবার আমরা কিয়ামতের ভয়াবহ মুহূর্তগুলোর মুখোমুখি হতে যাচ্ছি। দুনিয়া ধ্বংসের পর যখন শুরু কেবল অপেক্ষার পালা, তখন এক জোরালো আওয়াজ বেজে ওঠবে। আল্লাহ তায়ালা হযরত ইসরাফিল (আঃ)-কে পুনরায় জীবিত করবেন এবং তাঁকে আবারও শিঙ্গায় ফুৎকারের আদেশ দিবেন। পুলসিরাত। যখন শেষ বিচারের সময় হবে, জাহান্নামের উপর একটি সেতু নির্মিত হবে, যা জান্নাত পর্যন্ত বিস্তৃত। আর পুলসিরাতের দুই পাশে অসংখ্য হুক ঝুলতে থাকবে, যেগুলোর কাজ হবে যাদের ব্যাপারে আদেশ দেওয়া আছে তাদের ধরে ফেলা। না! দয়া করে, আমাকে বাঁচান। না!

পরম করুণাময়ের সামনে তখন সকল আওয়াজ নিচু হয়ে যাবে। মৃদু আওয়াজ ছাড়া আপনি আর কিছুই শুনতে পাবে না। আজ আমি তাদের মুখে মোহর মেরে দেব এবং তাদের হাত আমার সাথে কথা বলবে আর তাদের পা সে সম্পর্কে সাক্ষ্য দেবে যা তারা অর্জন করে এসেছে। দুনিয়ার জীবনের অবসান হয়ে গেছে। এক এক করে সকল ফেরেশতা, এমনকি মৃত্যুর ফেরেশতা মালাকুল মাউতও মারা যাবেন। কিন্তু সবকিছুর আসল শুরুটা এখান থেকেই। "এবং শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে। অতঃপর আমি তাদের সকলকে একত্র করব।" এরপর এখন থেকে হাশরের ময়দানে পুনরুত্থান শুরু হয়ে যাবে। হয়রত আদম (আঃ) থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত যত মানুষ মারা গেছে, তাদের সবাইকে একে একে পূর্ণজীবিত করা হবে। দুনিয়াটাকে আমরা যেমনটা দেখেছি সেটা আর নেই। দুনিয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন এক স্থানে পরিণত হযে যাবে। একটি সমতল ময়দান যার কোন সীমা নেই, আর তা এত বিশাল যেটা আপনি কখনো দেখেননি। সেখানে প্রতীক্ষার প্রহর হবে অনেক দীর্ঘ। প্রত্যেককে তাদের আমলনামা দেওয়া হবে এবং হিসাবের জন্য ডাকা হবে। তারপর তাদের সকল আমল মিজানের পাল্লায় ওজন করা হবে। তারপর পুলসিরাত সেতু স্থাপন করা হবে, আর অবশেষে, অনন্ত কালের জীবনের শুরু হবে জাহান্নাম বা জান্নাতে প্রবেশের মাধ্যমে। আমরা এই ঘটনাগুলো একটির পর একটি ঘটে যাওয়া দেখতে পাবো। অনেকেই হয়তো ভাবতে পারেন, মরদেহগুলোকে কীভাবে আবার একত্রিত করা হবে?

কীভাবে পুনরুত্থান সম্ভব, যেখানে দেহগুলো পঁচে গলে মাটির সাথে মিশে গেছে? এই আয়াতে আল্লাহ তায়ালা এই প্রশ্নের এক সুন্দর উত্তর দিয়েছেন। তিনি বলেন, "হাড়গুলো জরাজীর্ণ হওয়া অবস্থায় কে সেগুলো জীবিত করবে’? "বল, যিনি প্রথমবার এগুলোকে সৃষ্টি করেছেন তিনিই সেগুলো পুনরায় জীবিত করবেন।" "আর তিনি সকল সৃষ্টি সম্পর্কেই সর্বজ্ঞাত।" আসলেই, এই মহাবিশ্বে সৃষ্টিকর্মের মাধ্যমে যাঁকে আমরা চিনি, সেই স্রষ্টা যিনি অসীম ক্ষমতাবান আর সবকিছু নিখুঁতভাবে পরিচালনা করেন, তিনি কি প্রতিটি বসন্তে আমাদের পুনরুত্থানের উদাহরণ দেখান না? আপনি কি দেখেন না যে, কীভাবে মাটির নিচে থাকা বীজগুলো প্রাণ পায়, মাটির উপরে উঠে আসে, আর নানা রঙের ফুলে পরিণত হয়? আপনি কি এই সব কিছুর সাক্ষী নন?

একজন সেনাপতির কথা কল্পনা করুন, যিনি এক বিশাল বাহিনীকে সমবেত করেন। তারপর তিনি তাদের সবাইকে বিশ্রামে যেতে আদেশ দেন। আপনি কি মনে করেন, সেই সেনাপতি তার ছড়িয়ে থাকা সৈন্যদের একটি শিঙ্গার শব্দে আবার একত্রিত করতে পারবেন না? ঠিক একইভাবে, আল্লাহ অসংখ্য উপাদান একত্রিত করে একজন মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। তিনি মায়ের জন্য পৃথিবীর সর্বত্র থেকে খাদ্যের যোগান দিয়ে থাকেন, আর সেই সব কিছুর মাধ্যমেই তিনি তার গর্ভে শিশুটিকে সৃষ্টি করেন। তাহলে এটা কি অসম্ভব যে মৃত্যুর পর, যখন আমাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো মাটিতে ছড়িয়ে থাকবে, সেখান থেকে আল্লাহ তায়ালা আবার আমাদের পুনরায় সৃষ্টি করতে পারবেন না?

যেমনটা এই আয়াতে বলা হয়েছে, "আমি কি প্রথমবার সৃষ্টি করেই ক্লান্ত হয়ে পড়েছি?" মানুষজন ভয় আর আতঙ্ক নিয়ে তাদের কবর থেকে উঠে আসবে। মনে হবে যেন' গভীর ঘুম থেকে জেগে উঠছে তারা। খালি পায়ে ও নগ্ন অবস্থায়, দগবিদিগ ছুটতে থাকবে সবাই । আর প্রচণ্ড বিস্ময় আর আতঙ্কে থাকার কারণে তারা একে অপরের দিকেও তাকাতে পারছে না। কেউ জানে না কী হচ্ছে এখন। পঙ্গপালের মতো তারা ছুটাছুটি করবে আর চারিদিকে দৌড়াতে থাকবে। মূলত, এই মুহূর্ত সম্পর্কে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল সবাইকে। "তারা তাদের দৃষ্টি অবনত অবস্থায় কবর থেকে বের হয়ে আসবে। মনে হবে যেন তারা বিক্ষিপ্ত পঙ্গপাল। তারা আহবানকারীর দিকে ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় ছুটে আসবে। কাফিররা বলবে, “এটি একটি ভয়ঙ্কর দিন।" যারা আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে দূরে থেকেছে তারা গর্ব ও আনন্দে ভরা মুখে হাটতে থাকবে, অথবা নিজেদের বাহনে চলাচল করবে। কিন্তু যারা কুরআন থেকে মুখ ফিরিয়েছিল, তাদের মুখের উপর ভর করে হাশরের ময়দানে টেনে নেওয়া হবে। কারো চেহারা থাকবে দীপ্তিময় নুরে আলোকিত, আর কেউ ঘামের মধ্যে ডুবে থাকবে। মানুষ তাদের প্রিয়জনদের খুঁজে বেড়াতে শুরু করবে, কিন্তু ব্যর্থ হবে। প্রত্যেকে নিজেদের কৃতকর্মের কারণে চিন্তিত থাকবে। তারা একে অপরের কাছ থেকে পালিয়ে বেড়াবে। কারণ তাদের মনে একটাই চিন্তা, কিভাবে নিজেদের গুনাহ থেকে রক্ষা পাবে। "অপরাধী তার সন্তান-সন্ততিকে পণ হিসেবে দিয়ে হলেও সেদিনের শাস্তি থেকে মুক্তি পেতে চাইবে, উৎসর্গ করতে চাইবে তার নিজের পুত্র, স্ত্রী ও ভাইকে, আর তার জ্ঞাতি-গোষ্ঠীকে, যারা তাকে আশ্রয় দিত। আর দুনিয়াতে তার যারা আছে সবাইকে, যাতে সে রক্ষা পায়।" দয়া করে আমাকে যেতে দিন!

চাইলে আমার স্ত্রীকে নিয়ে যাতে পারেন! চাইলে আমার বন্ধুদের নিয়ে যান! কোন ব্যক্তি দুনিয়াতে যার সঙ্গে বন্ধুত্ব করেছিল, যার কথা সে শুনেছিল, হাশরের ময়দানে সে তাদের খুঁজবে। যদি এই বন্ধুত্বগুলো খারাপ কাজের জন্য হয়, তাহলে সেই বন্ধুদের দেখামাত্র সে কলার ধরে ফেলবে। আমি দুনিয়াতে তোমাকে অনুসরণ করেছিলাম! তুমি যা বলেছিলে, আমি তাই করেছিলাম! এখন বলো, আমি কী করব! কিন্তু তারা পেছনে না তাকিয়েই পালিয়ে যাবে। এমনকি তারা সেই অনুসারীদের মুখও দেখতে চাইবে না। আর তাদের অনুসারীরা প্রচন্ডভাবে অনুতপ্ত হবে। যারা অনুসরণ করেছিল তারা বলবে...

"যদি আমাদের ফিরে যাওয়ার সুযোগ হত, তবে আমরা তাদের থেকে আলাদা হয়ে যেতাম, যেন আমরাও তাদের অস্বীকার করতে পারি, যেমনটা তারা আমাদের অস্বীকার করেছে।" ধীরে ধীরে আপনার মনেও কিছু নাম ভেসে উঠতে শুরু করবে। সেই দিন আপনাকে কিছু মানুষের মুখোমুখি হতে হবে, যদিও তাদের সঙ্গে দেখা করার কোনও ইচ্ছা আপনার নেই। কিন্তু এখান থেকে পালানোর কোনো উপায় নেই। পুরো মানবজাতি এক বিশাল সারিতে দাঁড়িয়ে থাকবে। আর এবার কেবল অপেক্ষার পালা। সবাই ভাবছে, এই অপেক্ষা কতক্ষণ চলবে, কারণ এমন পরিস্থিতি সহ্য করার মতো না। সেই দিনে সূর্যকে আগের চেয়ে অনেক কাছাকাছি নিয়ে আসা হবে। পৃথিবীতে মানুষ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস সূর্যের নিচে দাঁড়াতে পারত না, তবে সেই দিনে মানবজাতিকে জ্বলন্ত সূর্যের নিচে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে। প্রত্যেকে তাদের পাপের পরিমাণ অনুযায়ী, ঘামের মধ্যে ডুবে যেতে থাকবে যেটা সে আগে কখনও দেখেনি। কিন্তু সেদিন কোনো ছায়াই কি থাকবে না?

আমাদের নবী (সাঃ) কারা ছায়ায় আশ্রয় পাবেন, তার সুসংবাদ ইতিমধ্যেই দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, "যে দিন আল্লাহর রহমতের ছায়া ছাড়া আর কোন ছায়া থাকবে না, সেদিন সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নিজের আরশের ছায়ায় আশ্রয় দিবেন। (১) ন্যায়পরায়ণ শাসক, (২) সেই যুবক যার জীবন গড়ে উঠেছে তার প্রতিপালকের ইবাদতের মধ্যে, (৩) সেই ব্যক্তি যার অন্তর মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে, (৪) সেই দু’ ব্যক্তি যারা পরস্পরকে ভালবাসে আল্লাহর ওয়াস্তে, একত্র হয় আল্লাহর জন্য এবং পৃথকও হয় আল্লাহর জন্য, (৫) সেই ব্যক্তি যাকে কোনো উচ্চ বংশীয় রূপসী নারী আহবান জানায়, কিন্তু সে এই বলে প্রত্যাখ্যান করে যে, ‘আমি আল্লাহকে ভয় করি’, (৬) সে ব্যক্তি যে এমন গোপনে দান করে যে, তার ডান হাত যা খরচ করে বাম হাত তা জানে না, (৭) সেই ব্যক্তি যে নির্জনে আল্লাহর যিকির করে, আর তার দু’ চোখ বেয়ে অশ্রুধারা বইতে থাকে।" আরেকটি সুসংবাদ হাদীস থেকে এভাবে বর্ণিত হয়েছে: “যে ব্যক্তি পরিশোধে অক্ষম কোন ঋণগ্রহীতাকে অবকাশ দেবে বা তাকে ক্ষমা করে দেবে, আল্লাহ তাকে কিয়ামতের দিনে নিজ আরশের ছায়াতলে স্থান দেবেন, যেদিন তার ছায়া ব্যতীত অন্য কোন ছায়া থাকবে না।” এই অপেক্ষা দীর্ঘ সময় ধরে চলবে। কিন্তু তারপরেও বিচার শুরু হবে না। বিষয়টা এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে যে মানুষ হন্যে হয়ে এমন কাউকে খুঁজবে যিনি তাদেরকে এই পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করবেন। প্রথমে তারা পুরো মানবজাতির পিতা নবী হযরত আদম (আঃ)-এর কাছে যাবে। তারপর একে একে নূহ, ইব্রাহিম, মূসা ও ঈসা (আঃ)-এর কাছে যাবে। যদিও তারা নবীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ, তবুও প্রত্যেকে বলবে, “নাফসী, নাফসী” অর্থাৎ হায় আমার কী হবে। এমন এক ভয়াবহ দিন, যেদিন নবীরাও ব্যস্ত থাকবে শুধু নিজেদের রক্ষা করার চিন্তায়। সুবহানআল্লাহ। তাঁদের কেউই নিজেদেরকে আল্লাহর কাছে কিছু চাওয়ার উপযুক্ত মনে করবেন না। একজন অন্যজনের দিকে ইঙ্গিত করবেন, আর অবশেষে আমাদের সবাইকে আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর কাছে যেতে বলা হবে। এবং শেষ পর্যন্ত তিনি আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করার মাধ্যমেই শুরু হবে বিচার কার্য। কিন্তু সেই মুহূর্ত থেকে হাশরের ময়দানে যা ঘটতে থাকবে তা আগের সব কিছুর চেয়ে আরও ভয়াবহ হবে। শেষ বিচার শুরুর আগে সবাই এক সারিতে দাঁড়াবে। তারপর বাম দিক থেকে এক ভয়ঙ্কর গর্জন শোনা যাবে, যা শুনে ভয়ে সবাই কেঁপে উঠবে। জাহান্নাম। জাহান্নামের আগুন তার সমস্ত ক্রোধ ও শক্তি নিয়ে সামনে আসবে, সে অস্থির হয়ে উঠবে, কারণ আজ তার সামনে এমন ব্যক্তিরা এসেছে যারা অসংখ্য জুলুম আর ভয়ঙ্কর পাপ কাজে ডুবে ছিল, যারা আল্লাহ ও তাঁর নবীদের অস্বীকার করেছে, মুমিনদের উপহাস করেছে, এবং শত শত নিরীহ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করেছে। প্রচণ্ড ভয়ে তারা অচল হয়ে যাবে, আর অসহায়ভাবে তাকিয়ে থাকবে। আর ডান দিকে জান্নাত প্রকাশ পেতে শুরু করে, তার সকল সৌন্দর্য ও চাকচিক্য নিয়ে। যারা দুনিয়ায় আল্লাহর উপর ঈমান এনেছিল এবং তাঁর নবীদের অনুসরণ করেছিল, তারা আনন্দচিত্তে অপেক্ষা করবে। নিজের বিচারের স্থানে যাওয়ার পথে আপনি এক অবাক করা দৃশ্যের সম্মুখীন হবেন। দুনিয়ায় একবার এক ভেড়া আরেক গর্ভবতী ভেড়াকে শিং দিয়ে আঘাত করায় তার বাচ্চাটি মারা গিয়েছিলো। শেষ বিচারের দিনে ঐ দুই ভেড়াকে মুখোমুখি আনা হবে যেন প্রতিশোধ, অর্থাৎ কিসাস, আদায় করা হয়, আর ভুক্তভোগীটি অন্যটির সাথে একই আচরণ করে। সেই মুহূর্তে আপনি বুঝবেন যে ছোট থেকে ছোট আমল যেগুলোকে আপনি তুচ্ছ ভেবেছিলেন, সেগুলোরও হিসাব নেওয়া হবে। "অতএব, কেউ অণু পরিমাণ ভালো কাজ করলে তা সে দেখতে পাবে, আর কেউ অণু পরিমাণ খারাপ কাজ করলে তাও সে দেখবে।” তখন সবাইকে তাদের নিজ নিজ আমলনামা দেওয়া হবে। জান্নাতের মানুষদের তা দেয়া হবে ডান হাতে, আর জাহান্নামের মানুষরা তা পাবে বাম দিক থেকে বা পেছন থেকে। যাদের আমলনামা ডান হাতে দেওয়া হবে, তারা “আসহাবুল ইয়ামিন” নামে পরিচিত হবে অর্থাৎ, ডান দিকের দল, আর যাদের আমলনামা বাম দিক থেকে বা পেছন দিকে দেওয়া হবে, তারা “আসহাবুশ সিমাল” নামে পরিচিত অর্থাৎ, বাম দিকের দল হবে। "আর তাদের সামনে যখন আমলনামা রাখা হবে, তখন অপরাধীদেরকে দেখতে পাবে ভীষণ ভীত তাতে যা লিখা রয়েছে তা দেখে। আর তারা বলবে, "হায় ধ্বংস এ কিতাবের!

কী হবে আমাদের! ছোট-বড় কিছুইতো বাদ যায়নি, সবি সংরক্ষণ করে ফেলেছে! আর তারা যা করেছে, তা উপস্থিত দেখতে পাবে। আর তোমার রব কখনই কারোর প্রতিই যুলুম করেন না।" হায় আফসোস! যদি আমি সেই শয়তানের অনুসরণ না করতাম! দয়া করুন, আমি সত্যিই অনুতপ্ত। আমাকে আরেকটা সুযোগ দিন। আফসোস, যদি আমি আমার নফসের অনুসরণ না করতাম। যদি আমি মাটিতে মিশে যেতে পারতাম! আর জান্নাতের মানুষরা যখন তাদের আমলনামা গ্রহণ করবে, পবিত্র কুরআন তাদের বিষয়ে এভাবে বর্ণনা করে— "যাদের আমলনামা ডান হাতে দেয়া হবে তারা বলবে, "নাও, আমার আমলনামা পড়ে দেখ’ আমার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে, আমাকে আমার হিসাবের সম্মুখীন হতে হবে। সুতরাং সে সন্তোষজনক জীবনে থাকবে।" এমন এক ভয়াবহ দিনে, শান্তি ও আনন্দের স্বাদ পাওয়ার জন্য হারাম কাজ থেকে দূরে থাকা কি সত্যিই মূল্যবান নয়?

এতো সব ভয়-আতঙ্কের পরেও, সেদিন একজন মানুষের কাছে যা চাওয়া হবে আসল কথা খুব সোজা, আমরা যে ছোট্ট এই জীবনটা কাটিয়ে দিচ্ছি, তা চিরস্থায়ী আখিরাতের অনন্ত জীবনের তুলনায় বলতে গেলে কিছুই না, আসলে মুলকথা হলো, যে ব্যক্তি তার জীবন হারামে কাটায় সে কখনোই প্রকৃত আনন্দের স্বাদ পাবে না। আল্লাহ অবিশ্বাসীদের বলবেন, “বছরের হিসাবে তোমরা যমীনে কত সময় অবস্থান করেছিলে?" তারা বলবে, "আমরা একদিন বা দিনের কিছু অংশ অবস্থান করেছি, সুতরাং আপনি গণনাকারীদেরকে জিজ্ঞাসা করুন।" তিনি বলবেন, "তোমরা কেবল অল্পসময়ের জন্যে এসেছিলে, তা যদি নিশ্চিতভাবে তোমরা জানতে!" তারা আখিরাতের বিনিময়ে দুনিয়ার জীবনকে কিনে নিয়েছিলো। সুতরাং তাদের থেকে আযাব হালকা করা হবে না আর তারা অনুগ্রহপ্রাপ্তও হবে না।" অতঃপর, যারা ঈমান আনেনি সেই অবিশ্বাসীদের, নিক্ষেপ করা হবে জাহান্নামের আগুনে, তাদের চিরস্থায়ী আবাসে যেখান থেকে তারা আর কখনো বের হতে পারবে না। তাদের অস্বীকারের মাত্রাও তাদের করা পাপের সমপরিমাণই বলা যায়। তাদের শাস্তি কঠিন থেকে কঠিনতর হবে। কিন্তু সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয়টি হলো— তারা কখনোই তাদের সেই স্রষ্টাকে দেখতে পারবে না, যিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন। এখন আর মাত্র একটি ধাপ বাকি, পুলসিরাত। যা জাহান্নামের ওপর নির্মিত আর নিয়ে যায় জান্নাতের দিকে। নেককার, বদকার, মুমিন, কাফির সকল বান্দাকেই এই সেতু পার হতে হবে। জান্নাতে পৌঁছানোর আর কোনো পথ খোলা নেই। প্রথম যারা পুলসিরাত পার হবেন তারা হবেন, নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এবং তাঁর উম্মত। প্রত্যেকে নিজের আমল অনুযায়ী পুলসিরাত পার হবেন। কেউ বিদ্যুতের গতিতে দ্রুত পার হবে, আর কেউ বাতাসের গতিতে। আর কেউ কেউ হাঁটতেও পারবে না, হামাগুড়ি দিয়ে পার হওয়ার চেষ্টা করবে। পুলসিরাতের দুই পাশে অসংখ্য আংটা ঝুলতে থাকবে, যেগুলোর কাজ হবে যাদের ব্যাপারে আদেশ দেওয়া হয়েছে তাদের ধরে ফেলা। না!

দয়া করে, আমাকে বাঁচান! না!

কেউ কেউ এই কাঁটা থেকে আঁচড় ও ক্ষত নিয়ে রক্ষা পাবে, আর বাদবাকি সবাইকে ধরা হবে আর জাহান্নামের আগুনে ফেলে দেওয়া হবে। জাহান্নাম কখনোই পরিতৃপ্ত হবে না। যখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, "'তুমি কি পরিপূর্ণ হয়েছ?' আর তখন সে বলবে, ‘আরো বেশি আছে কি’?" চরম ভয়াবহতা নিয়ে জাহান্নাম আমাদের পায়ের ঠিক নিচে, আমাদের চোখের সামনে জ্বলছে। আমরা তাকানোরও চেষ্টা করবো না, কেবল সেতু পার হওয়া চিন্তায় মগ্ন। তারপর আমরা আমাদের চারপাশের মানুষগুলোর দিকে তাকাবো। কেউ কেউ তাদের পাপের জন্য অনুতাপ করছে, বাকিরা জাহান্নামে নিমর্জিত হয়ে যাচ্ছে। আর যারা দুনিয়াতেই আখিরাতের কথা চিন্তা করত, তারা পুলসিরাত খুবই দ্রুত কোন রকম কষ্ট ছাড়াই পার হয়ে যায়। সৎ কর্মশীল মানুষদের জাহান্নাম দেখানোর কারণ তাদের ভয় দেখানো নয়। বরং, তাদের আনান্দ আরও আরও বাড়িয়ে তোলার জন্য। তাদের দেখানো হবে কতটা ভয়ানক জায়গা থেকে তারা রক্ষা পেয়েছে। তারা মুহূর্তের মধ্যেই পার হয়ে যাবে। অবশেষে তাদের সকল আকাঙ্ক্ষার অবসান ঘটে যাবে, তারা তাদের চিরস্থায়ী বাসস্থান, জান্নাতে পৌঁছে যাবে। যখন এতোসব কিছু ঘটবে, একজন দুঃখ এবং সহানুভূতির সাথে শুধু দোয়া করে যাবেন। তিনি সারাটি জীবন তাঁর উম্মতের প্রতি দয়া ও করুণা নিয়ে তাকিয়েছেন এবং তাদের জন্য দোয়া করেছেন। আল্লাহর নবী (সাঃ) "হে আল্লাহ, ও আল্লাহ, আমার উম্মত, তাদের রক্ষা করুন, মুমিনদের জন্য তিনি দোয়া করা অব্যাহত রেখেছেন। সেই দিন যখন, আমাদের বিচার হবে আমাদের জন্য কষ্টের মুহূর্ত, কিন্তু তাঁর জন্য তাঁর উম্মতকে এমন অবস্থায় দেখাই হবে কষ্টের বিষয়। তিনি উম্মতদের বাম হাতে আমলনামা পাওয়া, পুলসিরাতে তাদের অবস্থা, জাহান্নামে তাদের একের পর এক পড়ে যাওয়া দেখতে পাবেন। তিনি সান্ত্বনা পাবেন, ডান হাতে আমলনামা পাওয়া উম্মতদের দেখে, যারা জান্নাতের দরজায় পৌঁছে যাবে। অবশেষে, যারা জাহান্নামে যাওয়ার উপযুক্ত, জাহান্নাম তাদের গ্রাস করবে। আর এখন জান্নাতিদের স্বাগত জানানোর সময়। "আর যারা তাদের রবকে ভয় করেছে তাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। অবশেষে তারা যখন সেখানে এসে পৌঁছবে এবং এর দরজাসমূহ খুলে দেয়া হবে তখন জান্নাতের রক্ষীরা তাদেরকে বলবে, "তোমাদের প্রতি সালাম, তোমরা খাঁটি বান্দা ছিলে। অতএব স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য এখানে প্রবেশ কর।" ইনশাআল্লাহ, আমরা সফল হলে, এই যাত্রা শেষে জান্নাতই হবে আমাদের শেষ ঠিকানা আমাদের রবের ভাষায় জান্নাত এতোটাই অপরূপ সুন্দর, "যা কোন চোখ কখনো দেখেনি, কোন কান শুনেনি এবং যার সম্পর্কে কোন মানুষের মনে ধারণাও করতে পারেনি।" আর এখন, আমরা অনন্ত সুখের রাজ্যে প্রবেশ করতে যাচ্ছি, যেখানে আমরা চিরকাল বসবাস করবো আর সর্বপ্রকার আনন্দ উপভোগ করবো। আর সবকিছুর ঊর্ধ্বে, আমাদের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়াম, আমরা আমাদের মহান রব আল্লাহ তায়ালাকে দেখতে পাবো। এই ভিডিওটি যদি আপনার কাছে পৌঁছে থাকে, তবে নিশ্চিত থাকুন এটা কোন কাকতালীয় ঘটনা নয়। এই ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখতে আল্লাহ আপনাকে উদ্বুদ্ধ করেছেন। আপনি কী জানেন কেন?

কারণ তিনি চান আপনি আপনার জীবনের কিছু না কিছু পরিবর্তন করুন। তাহলে, আপনি কি বিনিময়ে তাঁর দিকে এক পাও অগ্রসর হবেন না?

আপনার জীবনে এই সঠিক সিদ্ধান্তটি নেওয়ার এখনি সময়। আপনি যদি নামাজ না পড়ে থাকেন, তাহলে এই মুহূর্ত থেকেই পড়া শুরু করুন। আমাদের সম্পূর্ণ ফ্রি ও বিজ্ঞাপন বিহীন সালাহ (নামাজ) অ্যাপের সাথে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজকে আপনার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করতে পারবেন। আপনি যদি আপনার ঈমান দৃঢ় করতে চান এবং আপনার ইসলামিক জ্ঞান আরও গভীর করতে চান, তাহলে আমাদের চ্যানেলে প্রচুর ভিডিও পাবেন যা আপনাকে এ বিষয়ে সাহায্য করবে। আপনি সুশৃঙ্খল ভাবে ভিডিওগুলো দেখার জন্য একটা লক্ষ্য সেট করতে পারেন। আপনি যদি কুরআন আরবিতে পড়তে না জানেন, আমাদের লামেলিফ কুরআন (Lamelif Quran) অ্যাপ থেকে, আপনি খুব দ্রুত, সহজে, এবং বিনামূল্যে কুরআন শিখতে পারবেন। আর যদি আপনি কুরআনের অর্থ আরও গভীরভাবে অনুসন্ধান করতে চান, তাহলে আপনি আমাদের তাফসিরের অ্যাপ ডাউনলোড করতে পারেন। মনে রাখবেন, আপনি যখন নিজের জন্য কোন লক্ষ্য স্থির করেন, যদি তা খুব ছোটও হয়, আস্তে আস্তে সব কিছু পরিবর্তন হওয়া শুরু করবে। তাহলে জান্নাত আসলেই কেমন?

আমাদের জন্য সেখানে কি অপেক্ষা করছে? এই প্রশ্নের উত্তর আমাদের চতুর্থ এবং সর্বশেষ পর্বে পাওয়া যাবেঃ জান্নাত এবং জাহান্নাম, যা এআই দিয়ে জীবন্তভাবে উপস্থাপিত হবে। সেখানে আবার দেখা হবে। আপনি কি কিছু খেয়াল করেছেন? এই ভিডিওটি দেখার সময় আপনি কোনো বিজ্ঞাপন দেখেননি। কারণ টোওয়ার্ডস ইটার্নিটি একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, আমরা আপনাদের সহযোগিতার মাধ্যমেই এসব ভিডিও তৈরি করতে পারি। যদি আপনিও এই সওয়াবের কাজে অংশীদ্বার হতে চান, তাহলে টোওয়ার্ডস ইটার্নিটি তে দান করুন, এই সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করবেন না।
