# আকাশেইতো লুকানো আছে আল্লাহর বিস্ময়কর হাজারো নিদর্শন - নাস্তিকতার অবসান!

- Language: bn
- Published: 2026-08-26
- Canonical: https://blog.towardseternity.com/bn/blog/shocking-miracles-in-the-air-hidden-by-allah-the-end-of-atheism
- Source video: https://www.youtube.com/watch?v=_4A8HkfHNBU
- Channel: Towards Eternity

This is the cleaned transcript of the source video. The speech is unaltered.

---

কখনো কখনো সবচেয়ে গভীর রহস্যগুলো লুকিয়ে থাকে আপনার চোখের সামনেই। আর আমরা যেহেতু এগুলো সব সময় দেখি তাই হয়তো খেয়ালই করি না। আমরা শ্বাস নেই তারপর সে শ্বাসই কথার মাধ্যমে বের হয়। আর আমরা কথা বলি। সবকিছুই একেবারে সহজ মনে হয়। কিন্তু বাতাসের ভেতরেই সত্যি কি কোনো রহস্য লুকানো আছে? বাতাসের অণুগুলো কিভাবে হাজার হাজার মাইল দূরে আপনার কন্ঠ পৌঁছে দেয়? আমার কন্ঠ এখন আপনার কাছে পৌঁছাচ্ছে এটা কি সত্যিই স্বাভাবিক? একটা মাত্র বাতাসের অণু সত্যিই কি পারে একসাথে শত শত কাজ গোলমাল না করেই সামলাতে?

একই সাথে সে বহন করছে অগণিত কন্ঠ, কথোপকথন, সিগন্যাল, ফোন কল, ভিডিও কল, ছবি, গন্ধ, তাপ আরও কত কিছু। প্রস্তুত হোন উপলব্ধি করার জন্য এই মহাবিশ্বে আল্লাহ কিভাবে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন প্রতিটি মুহূর্তে। এই ভিডিওর শেষে আপনি আবিষ্কার করবেন সৃষ্টি জগতের সবচেয়ে বিস্ময়কর নিদর্শনগুলোর একটি। সেই বাতাসের অণুগুলোর মাধ্যমে যারা আপনাকে ঘিরে রয়েছে অথচ আপনি তা দেখতে পান না। আজ আমরা একটু সীমা ছাড়িয়েই ভাববো। -[বাদ্যসঙ্গীত] -শুরু করা যাক। ভাবুন বিশাল একটা ঘরে আপনি রয়েছেন আর সেখানে আছে আপনার পরিচিত সব মানুষজন। এবার সবাই একসাথে কথা বলা শুরু করলো। স্বাভাবিকভাবেই আপনি কিছুই বুঝতে পারবেন না হয়তো দুই একটা শব্দ বাদে। কিন্তু ওই ঘরে এমন একটা জিনিস আছে যা সব কন্ঠকে আলাদা করতে পারে যা আপনার মস্তিষ্ক কোনদিন পারবে না। তা হলো বাতাস। সব কন্ঠ একই সময়ে একই বাতাসের অণুগুলোর মাধ্যমেই বাহিত হয়। তবুও একটি ক্ষুদ্র শব্দও অন্যটির সাথে মিশে যায় না। এত এত কন্ঠ একসাথে ওভারল্যাপ করলেও তাদের পথ বদলায় না। একটা ডেলিভারির জন্য অন্যগুলোর দেরি হয় না। প্রতিটা আলাদা থাকে। আর ঠিক যেখানে যাওয়ার কথা সেখানেই পৌঁছে যায়। শব্দ যেভাবে ভ্রমণ করে তা হয়তো আপনার ধারণা চেয়েও ভিন্ন। আমরা কথা বললে মুখ থেকে বের হওয়া বাতাস চারপাশের বাতাসের সাথে মিশে যায়। কিন্তু সেটা তীরের মতো সোজা ছুটে যায় না। বরং বাতাসের অণুগুলো একে অন্যের কাছে বার্তা পৌঁছে দেয়। যেমন একজন থেকে আরেকজনের হাতে ইট তুলে দেওয়ার মতো। বাতাসের কণা যতই অগণিত হোক না কেন, প্রতিটি যেন দায়িত্বে নিয়োজিত। প্রতিটা সঠিকভাবে গ্রহণ করে আর সঠিকভাবে পৌঁছে দেয়। টেলিফোন গেম কল্পনা করুন। এক কানের কথা আরেক কানে পৌঁছাবে এত মানুষের মাধ্যমে। অসম্ভব। সাথে সাথেই সব গুলিয়ে যাবে। তবুও এই অণুগুলো শুধু শব্দই বহন করে না। আপনি যখন অন্য শহরে আপনার মাকে ফোন করেন, সেই সিগন্যালও যায় এই একই বাতাসের ভেতর দিয়ে। আপনি যখন কোন বন্ধুকে ভিডিও কল করেন, আপনার ছবি ভ্রমণ করে এই একই অণুগুলোর মধ্য দিয়ে। ওয়াইফাই, রেডিও সিগন্যাল, ব্লুটুথ, গিগাবাইটের পর গিগাবাইট ফাইল সব একই বাতাসের অণু দিয়ে যায়। এই অতি ক্ষুদ্র ছেদবিন্দুতে কোনো রকম বিশৃঙ্খলা ছাড়াই। তাপ আর গন্ধ কি এতে অন্তর্ভুক্ত নেই?

অবশ্যই আছে। এত কিছুর মাঝেও এই বাতাসই আবার আমাদের শ্বাস নেওয়ার বাতাস হিসেবে কাজ করে। এটা পরাগকণও বহন করে গাছপালার প্রজননে সাহায্য করে। তাহলে এত সব কাজ সে একা কিভাবে সামলায়? যেমনটা বলেছি এগুলো সবই কাজ। তাই বাতাস নিজের শক্তিতে এগুলো করতে পারে না। এটা সম্ভব হয় শুধুমাত্র একটা শক্তির উপর নির্ভর করার কারণে। উদাহরণস্বরূপ, একজন সাধারণ মানুষ কি পারে কোনো এলাকায় ঢুকে তিনশো জনকে পুলিশ স্টেশনে হাজির করতে?

অবশ্যই না। কিন্তু যদি তিনি উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা হন তাহলে সেটা সহজ হয়ে যায়। তার ব্যক্তিগত ক্ষমতার কারণে নয়, বরং পেছনে সরকারের কর্তৃত্ব থাকার কারণে। ঠিক তেমনি ঐশী শক্তি ছাড়া যে শক্তি মুহূর্তে মুহূর্তে পেছনে থেকে কাজগুলো পরিচালনা করে, এসবের কিছুই সম্ভব হতো না। পরমাণুর রহস্যময় দুনিয়া এখনো আমাদের অনেক বার্তা দিতে চায়। আর আমাদের সেটা মিস করা উচিত নয়। এখন যদি আমরা চোখ নামাই আমাদের পায়ের নিচে মাটির দিকে। ভাবুন এক টুকরো মাটিতে একের পর এক শত শত বীজ রোপণ করা হলো। আর প্রতিবার নতুন বীজ লাগালে আমরা দেখি একই মাটি থেকে নতুন নতুন মুজিযা গজিয়ে উঠছে। গোলাপ, লেবু, আপেল, কমলা ইত্যাদি। প্রতিটা বীজকে আপনি ভাবতে পারেন একটা কোড, সফটওয়্যার, একটা প্রোগ্রাম হিসেবে। এত সামান্য মাটির ভেতরে সত্যিই কি এমন জ্ঞান লুকিয়ে আছে?

মনে হয় যেন এর কাছে শত শত রেসিপি রয়েছে আর সবগুলো নিখুঁতভাবে প্রয়োগ করছে। এটা কি কোনো প্রশিক্ষণ পেয়েছিল?

একই কথা পানি আর সূর্যালোকের ক্ষেত্রেও। অগণিত সম্ভাবনার ভেতর থেকেও তারা প্রতিটি গাছকে নিখুঁতভাবে তৈরি করে একদম সঠিকভাবে, প্রত্যেকবারই। কোনো একবারও গোলাপ গাছে টমেটো ফলে নি। একবারও টিউলিপের জন্য দরকারি উপাদান ভুল করে টমেটোর মধ্যে ঢুকে যায়নি। তাই আমরা যদি বলি মাটিই আসল কারণ তাহলে আমাদের মানতে হবে মাটির ভেতর লুকানো আছে অদৃশ্য কম্পিউটার, ল্যাবরেটরি আর প্রতিটি গাছের জন্য আলাদা মেশিন। যেন প্রতিটি গাছের জন্য রাখা আছে আলাদা এক একটা কারখানা। কিন্তু বাস্তবে মাটির কাছে না আছে এটা সামলানোর মতো জ্ঞান, না আছে এই সম্ভাবনাগুলো বোঝার মতো আলাদা করে সচেতনতা। এটার সেই শক্তিও নেই। এমনকি সবচেয়ে মৌলিকভাবে বললে মাটির মধ্যে কোন প্রাণও নেই। পদার্থবিজ্ঞানের একটা মৌলিক নীতি আছে। যদি ফলাফল থাকে তাহলে এমন একটা কারো থাকতে হবে যার সেই ফল তৈরি করার শক্তি আছে। একটা মেশিন কল্পনা করুন। আপনি একটা কাঠ ঢোকালেন আর শেষে বের হলো একটা সুন্দর কাঠের অলংকার। এটা যুক্তিযুক্ত। এটা বোঝা যায়। কিন্তু যদি আপনি কাঠ ঢোকান আর বের হয় টমেটো তাহলে সেটা স্পষ্টতই অযুক্তি। একই যুক্তি মাটি থেকে ফল বের হওয়ার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ভেতরে কি যায়?

স্বাদহীন মাটি। বরং অনেক সময় তেতো। গন্ধ নেই, রং নেই, সচেতনতা নেই, প্রাণ নেই, ভিন্নতা চিনতে পারার সক্ষমতাও নেই। বীজকেও দেখুন, অবস্থা একই। পানি বা সূর্যালোকেও আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত জিনিস খুঁজে পাই না। কিন্তু শেষে বের হয় কি?

রঙিন, সুগন্ধি, সুস্বাদু একটা নিখুঁত সৃষ্টি। আর এই চূড়ান্ত ফলাফলটা কোনোভাবেই ভেতরে ঢোকা ওই কাঁচামাল থেকে কখনোই হতে পারে না। এটা যেন নিজের প্রায় বিপরীত কিছু থেকে নতুন সৃষ্টির প্রকাশ। যদি আমরা বলি কোন স্রষ্টা ছাড়া সব নিজে নিজেই হচ্ছে তাহলে আমাদের একটা কথা মানতেই হবে। এটা ঠিক বদিউজ্জামানের সেই বিখ্যাত ফার্মেসি উদাহরণের মতো। একটা ফার্মেসি কল্পনা করুন যার শেলফ ভর্তি অনেক জার রয়েছে। আর প্রতিটা জারে আছে আলাদা আলাদা রাসায়নিক পদার্থ। এখন ধরুন আমাদের একটা ক্যান্সারের ওষুধ বানাতে হবে। কিন্তু জানালা খোলা। হঠাৎ বাতাস ভেতরে ঢুকলো। বাতাসে কিছু জার শেলফ থেকে পড়ে গেল। আর আশ্চর্যজনকভাবে ঠিক ঠিক মিলিগ্রাম পরিমাণে যে উপাদানগুলো দরকার ছিল সেগুলোই একসাথে মিশে গেল। আর যে জিনিসটা তৈরি হলো সেটাই ঠিক আমাদের কাঙ্ক্ষিত ওষুধ। এই উপমা দিয়ে তিনি যে কথাটা বোঝাতে চান তা হলো মাটিতে বপন করা প্রতিটি বীজ গজাতে কিছু প্রয়োজনীয় উপাদান দরকার। আর প্রতিটা উপাদান দরকার হয় একদম নির্দিষ্ট পরিমাণে। বেশিও নয়, কমও নয়। আমরা শুধু পরমাণুগুলোকে দেখি। কিন্তু আমরা খুব ভালো করে জানি এই পরমাণুর নেই কোন সচেতনতা, নেই কোন ইচ্ছা। তদুপরি এগুলোর কোন প্রাণও নেই। তাহলে সেই প্রাণ এলো কোথা থেকে?

আপনি কি এমন কিছু কাউকে দিতে পারেন যেটা আপনার নিজেরই নেই?বিষয়টা একদম পরিষ্কার। পরমাণুগুলো আসলে শুধু বাহ্যিক কারণ মাত্র। যিনি এগুলোকে পরিচালনা করেন, যার কাছে শক্তি আছে তিনি সম্পূর্ণ আরেকজন। চলুন আরেকটা উদাহরণ ভাবি। একটু মজার উদাহরণ। ধরুন একটা শিশুর মুখে একটা দড়ি, আর সেই দড়িটা বাঁধা একটা বিমানের সাথে। শিশুটি হামাগুড়ি দিয়ে সামনে গেলে বিমানটাও তার সাথে এগোয়। আপনি এটা দেখলে কি বলবেন? ওয়াও!

দেখুন বাচ্চাটাকে। ও নিজের মুখ দিয়ে বিমান টানছে। কেউই এটা সম্ভব বলে ভাববে না। সাথে সাথেই আমাদের মন পেছনে আরেকটা কারণ খুঁজবে। আমরা বলব অবশ্যই কোনো পাইলট আছে যিনি এটা চালাচ্ছেন। যুক্তি ও বোধ আমাদের দেখায় পেছনে আছে এক ঐশী শক্তি। বাস্তবতাকে বুঝে চলতে এই নীতিটা আমাদের প্রয়োজন। না হলে যেকোনো বিভ্রমই আমাদের ঠকাতে পারে। এটা কি চমৎকার না?

পরমাণু যেখানে যায়, যে কাজই তাকে দেওয়া হয় সে সেটাই সবচেয়ে নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করে। একটা শিশুর বেড়ে ওঠার সময় এই পরমাণুগুলো যায় তার দাঁতের বাইরের স্তরে, আর তৈরি করে এনামেল। প্রকৃতির অন্যতম শক্ততম পদার্থ। মস্তিষ্কে একই পরমাণুগুলো তৈরি করে একটা বিশাল নেটওয়ার্ক। আর মুহূর্তেই কোটি কোটি নিউরনের মধ্যে সংকেত প্রবাহিত করে দেয়, আর বহন করে চিন্তা, স্বপ্ন, স্মৃতি, গণিত এমনকি ভালোবাসাও। একটা সাধারণ পরমাণু স্তূপ থেকে আমরা দেখি এমন ক্ষমতা যা মহাবিশ্বের সবচেয়ে জটিল ও গভীর প্রক্রিয়াগুলোর একটি পরিচালনা করে। এবার ভাবুন আপনার হজমতন্ত্রের ব্যাক্টেরিয়ায় থাকা ওই পরমাণুগুলোর কথা। যে খাবার দেখতে সাধারণ আবর্জনার মতো, সেখান থেকে তারা বানায় এক অসাধারণ ব্যবস্থা যা তৈরি করে ভিটামিন। আপনার ইমিউন সিস্টেমকে সাপোর্ট করে আর আপনাকে রক্ষা করে। মনে হয় যেন আবর্জনের ভেতর লুকানো রয়েছে একটা ফার্মেসি। কে কল্পনা করতে পারে এমন একটা সিস্টেম?

যখন তারা হৃৎপিণ্ডে কাজ করে একটা বিটও মিস না করে, এক মুহূর্তও না থেমে প্রতি মিনিটে লিটার লিটার রক্ত পাম্প করে। হৃৎপিণ্ডের সব কাজ তারা একদম নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করে। ফুসফুসে তারা অক্সিজেন আর কার্বন ডাই অক্সাইডের আদান প্রদান নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করে। আপনার চোখে তারা দেখার কাজটা সম্পন্ন করে। একটা গাছে তারা ফটোসিনথেসিস করে। কিন্তু দিনশেষে পরমাণুর দিকে তাকালে দৃশ্যটা হুবহু একই থাকে। প্রাণহীন, জ্ঞান নেই, সচেতনতা নেই, ইচ্ছাশক্তি নেই, এসব কাজ করার মতো শক্তিও নেই। তাহলে এটা কিভাবে সম্ভব?

দুটি সম্ভাবনা আছে। প্রথমত, আমরা স্বীকার করি এসব আল্লাহর পক্ষ থেকেই। আর পরমাণুগুলো এই কাজগুলো সফলভাবে করতে পারে শুধু এজন্য যে তাদের পরিচালনা করা হয় তার হুকুমে, তার ইচ্ছায়, তার জ্ঞান এবং তার শক্তির মাধ্যমে। অথবা আমরা প্রতিটি পরমাণুকে নিজেই এক একটা উপাস্য বলে মেনে নিই। তার মানে তারা প্রতিটি সিস্টেম নিখুঁতভাবে জানে। আর যেখানে যায় সেই নিয়মগুলো অনুসরণ করে। অগণিত সম্ভাবনার ভেতর থেকেও তারা সব সময় সবচেয়ে আদর্শ পথটাই বেছে নেয়। মাটির মধ্যে তারা সহজতম উপাদান থেকে অসাধারণ সৃষ্টি বের করে আনে। বাতাসের অণু হিসেবে তারা কখনোই একটা কাজকে আরেকটার সাথে গুলিয়ে ফেলে না। কখনোই দেরি করে না, আর আরও অসংখ্য মুজেযায় অংশ নেয়। এটাই সেই সমস্যার সমাধান যেটা ইসলাম দেয় এই বাক্য দিয়ে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। প্রথমে আসে লা ইলাহা, মানে কোনো উপাস্য নেই। এটা এসব সৃষ্টির উপর দেবত্ব আরোপকে অস্বীকার করে, আর বহু উপাস্যের ধারণা মুছে দেয়। এটা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় এরা কতটা অসহায় আর শক্তিহীন। আপনি কখনোই কোনো পরমাণুকে উপাস্য হিসেবে মানতে পারেন না। এরপর আসে ইল্লাল্লাহ। আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। সংক্ষেপে যে ব্যক্তি আল্লাহকে অস্বীকার করে তাকে অসংখ্য উপাস্যকেই মানতে হয়। কিন্তু ধরুন সে তাও মেনে নিল। তবুও পরমাণুগুলোর পক্ষে এই সিস্টেম চালানো অসম্ভব। কারণ একক কর্তৃত্ব ছাড়া কোনো শৃঙ্খলা থাকে না। তাই যিনি পরমাণুর মালিক, তাকেই হতে হবে সেই জায়গাগুলোরও মালিক যেখানে পরমাণুগুলোকে পাঠানো হয়। যাতে সে অসংখ্য পরমাণুর সাথে মিল রেখেই কাজ করতে পারে। যদি আমরা সেনাদলকে নিখুঁত সারিবদ্ধভাবে মার্চ করতে দেখি আমরা কি বলি?

অবশ্যই একজন কমান্ডার আছেন যিনি আদেশ দিচ্ছেন। এজন্য তারা শৃঙ্খলায় চলছে। কিন্তু যদি সৈন্যদের সামনে কোনো একক কমান্ডার না থাকত, তাহলে প্রতিটা সৈন্যকে একসাথে কমান্ডারও হতে হতো আবার আদেশও মানতে হতো। তাহলে কি শৃঙ্খলা থাকত?

আমার মনে হয় না। সহযোগিতা করার বদলে তারা একে অপরের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াত। এ কারণেই সব পরমাণু যদি একক শক্তির নিয়ন্ত্রণে থাকে তাহলে তারা একে অপরের শৃঙ্খলা ভাঙে না। বরং একে অপরকে সাহায্য করে। আর এই কারণগুলো থেকেই ইসলাম বিশেষভাবে তাওহীদের উপর জোর দেয়। আল্লাহ এক, এটাই মূল কথা। এই বিশুদ্ধ ও স্বচ্ছ একত্ববাদের ধারণা দিয়েই ইসলাম অন্য সব ধর্ম থেকে আলাদা হয়ে দাঁড়ায়। ইতিহাস জুড়ে কিছু মানুষ এই সত্যটাকে উপেক্ষা করতে চেয়েছে। তারা ভেবেছিল বিজ্ঞান যত এগোবে, যত গভীরে যাবে, আল্লাহর আর কোনো প্রয়োজনীয়তা থাকবে না। সবকিছুই ব্যাখ্যা হবে শুধু পদার্থের কাজ হিসেবে। কিন্তু তারা যত গভীরে গেল ফলাফল ঠিক তাদের ধারণা মতো হলো না। বরং তারা আরও বেশি অবিশ্বাস ও রহস্য আবিষ্কার করল। আমরা দেখতে পেলাম তার অস্তিত্ব প্রয়োজনীয়, অনস্বীকার্য। অস্বীকারের জন্য এমনকি একটা পরমাণুর জায়গাও আর অবশিষ্ট থাকলো না। প্রতিটি পরমাণু প্রতিটা সেকেন্ড আমাদের তাকে জানান দিচ্ছে। তার অস্তিত্ব আর একত্বের সাক্ষ্য দেয়। এমনকি আপনার প্রতিটি নিঃশ্বাসও আপনাকে তার কথা মনে করিয়ে দেয় একটাই শব্দের মাধ্যমে। হু। তাহলে এখন আপনি নিজেই কেন চেষ্টা করবেন না?

একটা গভীর নিঃশ্বাস নিন [নিঃশ্বাস] এবং বলুন, লা ইলাহা ইল্লা হু। তিনি ছাড়া কোন উপাস্য নেই।
