# ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত সেই বিখ্যাত সাংবাদিকের সাক্ষাৎকার! ‪@laurenboothUK‬

- Language: bn
- Published: 2026-08-26
- Canonical: https://blog.towardseternity.com/bn/blog/the-story-of-the-famous-journalist-who-converted-to-islam-at-laurenboothuk
- Source video: https://www.youtube.com/watch?v=O5fbyEV36pU
- Channel: Towards Eternity

This is the cleaned transcript of the source video. The speech is unaltered.

---

সর্বপ্রথম ইসলাম সম্পর্কে আপনি কীভাবে জানলেন? ইসলাম গ্রহনের শেষ পদক্ষেপ কী ছিলো আপনার? আপনার পরিবারের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল? আমি তখন লিফটে ছিলাম; ভাবছিলাম, “এতো বড় বড় আরব লোকগুলো' তাও আবার বন্দুক হাতে!” “কিছুক্ষণ পর একজন সাদা মহিলা...” মনে মনে ভেবে নিয়েছিলাম যে, ওরা হয়তো বলছে যে, “ঐ সাদা চামড়ার মহিলাকে পরে মারবো" আমি বললাম, আমি কোনোভাবেই মুসলিম হতে পারব না, কোনমতেই সম্ভব না, আমি কুরআন বন্ধ করলাম আর ভাবলাম, “ও গড, লোকজন ভালো, বইটা আশ্চর্যজনক” আসসালামু আলাইকুম লরেন, আমাদের আমন্ত্রণ গ্রহনের জন্যে আপনাকে ধন্যবাদ! আপনাকে আমাদের মাঝে পেয়ে আমরা আনন্দিত। আমি এই প্রশ্ন দিয়ে শুরু করতে চাই, লরেন বুথ কে?

সংক্ষিপ্তভাবে আপনি আপনার পরিচয় দিন। ওয়াআলাইকুম আস্‌সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম আমার নাম লরেন বুথ। আমি একজন সাংবাদিক, একজন লেখক এবং একজন অভিনেত্রী। উত্তর লন্ডনের হ্যাম্পস্টেডে, ১৯৬৭ সালে আমার জন্ম হয়। আমার মা একজন মডেল ছিলেন, আর আমার বাবা একজন এ্যাক্টর, আর আমি ২০ বছর বয়স পর্যন্ত লন্ডনে ছিলাম। আমি অভিনয় নিয়ে পড়াশোনা করছিলাম। আমার স্বপ্ন ছিল আমি একদিন হলিউডে যাবো হয়তো। সাত বছর অভিনয় নিয়ে পড়াশোনা করার পর, ১৯৯৭ সালে সাংবাদিক হিসেবে পুনঃ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। আর অনেকবার টিভিতে আসি। আমি স্কাই নিউজে এসেছিলাম। আমি মেইনস্ট্রিম চ্যানেলের সাংবাদিক ছিলাম আমি ডেইলি মেইলের মতো অনেকের জন্যই কাজ করেছি আমাকে ভুল বুঝবেন না। “দ্য মেইল অন সানডে” বিবিসি এবং চ্যানেল ফাইভের জন্যে ও কাজ করেছি, অনেক টিভি শো হোস্ট করেছি, আলহামদুলিল্লাহ, রেডিও শোও করেছি। আর তারপর আমি, ২০১০ সালে ইসলাম গ্রহণ করি। আর এটা হয়েছিল মুলত তখন' যখন আমি কয়েকবার প্যালেস্টাইনে যাই, এবং সেখানকার মানুষের সাথে পরিচিত হই। প্রথমে সেখানে যাই সাংবাদিক হিসেবে আপনি ইসলামের ব্যাপারে প্রথম কীভাবে শুনলেন?

মনে পড়ে, প্রথম আমি ইসলাম ব্যাপারটি খেয়াল করি ২০০১ সালে, ৯/১১ এর পর। আমার মনে আছে আমি ফুটেজ দেখছিলাম ওখানে দেখাচ্ছিল প্লেনগুলো কীভাবে টুইন টাওয়ার ধ্বংস করলো, আর আমি তখন একটা ছোট শিশুর সাথে বসে বসে ভাবছিলাম, কোন গরীব দেশকে এর মাশুল দিতে হবে? আর আমি মনে মনে একজন সমাজপন্থী ও বামপন্থী ছিলাম, আর আমি বুঝতাম যে, পশ্চিমা বিশ্ব ক্ষমতার জন্যে এটা কারো সাথে জড়িয়ে গেছে ভাবছিলাম কোনো গরীব দেশের এই ব্যাপারটাতে কোনো হাত নেই কিন্তু তারপরও তাকে পরিণাম ভোগ করতে হবে যাতে (আমেরিকা) নিজেকে নিয়ে ভালো বোধ করতে পারে। এই যা!

আফগানিস্তান। ইসলাম যদি পশ্চিমা বিশ্বের হুমকি হয়ে থাকে এটি তো ১৪০০ বছর ধরে আছে আর কোটি কোটি মানুষ তা মেনে চলছে। তারা চাইলেই পশ্চিমা বিশ্বকে নিয়ে ভয়ঙ্কর কিছু করতে পারতো। তো একটা ঘটনার মানে এই না যে সারা মুসলিম বিশ্ব একটি ছোট দলের কাজের জন্য দায়ী হবে। এসব কী? এটা মুসলিম জনগণের উপর প্রভাব বিস্তারকারী এবং দোষারোপকারী একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। আমি এটা মেনে নিতে পারছিলাম না। মনেপ্রাণে মেনে নিতে পারছিলাম না। আমরা জানি যে আপনি সাংবাদিক হিসেবে প্যালেস্টাইনে অনেকবার গিয়েছেন। আপনি কেন প্রথমবার সেখানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন?

আমার মনে হচ্ছিল একটা অদৃশ্য হাত আমার পিঠে হাত দিয়ে আমাকে প্যালেস্টাইনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমি সত্যিই আমার পিঠে একটি হাত অনুভব করেছিলাম, সেটা বলছিল, “ফিলিস্তিনে যাও, ফিলিস্তিনে যাও, ফিলিস্তিনে যাও।” আর আমি ওয়েস্ট ব্যাংকে দাঁড়াতে সক্ষম হই, একা কোনো ট্রেনিং ছাড়াই আপনি প্যালেস্টাইনে আপনার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে আমাদের বলতে পারেন? মনে হয় এটা বুঝতে পারাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ যে আমি একজন খ্রিস্টান হিসেবে পবিত্র ভূমিতে গিয়েছি, আর আমি যীশু খ্রিস্টের পথগুলোতে চলার জন্য খুবই উদগ্রীব ছিলাম। আমার মনে হচ্ছিল যে আমি কোনো তীর্থে আছি। যেখানেই যাচ্ছিলাম সেখানেই মনে হচ্ছিল, “ও গড, যীশু নিশ্চয়ই এখানে ছিলেন” কী দারুণ!

আমি কখনো আশাই করিনি যে আমি জেরুজালেমে যাব যেখানে যীশু ক্রুশ টেনে নিয়ে হলি সেপালকারে গিয়েছিলেন। “ওহ ঈশ্বর, যীশু এখানে ছিলেন!” “কী দারুণ ব্যাপার!” “এটা সত্যিই হয়েছিল!” কিন্তু আমি মধ্যপ্রাচ্যের যেখানেই যেতে শুরু করছিলাম, দেখি মুসলিমরা খ্রিস্টান নিদর্শনগুলোর দেখাশোনা করছে, এইটায় অবাক হয়েছিলাম। উদাহরণ হিসেবে, একটি জায়গা রয়েছে যেখানে যীশু খ্রীষ্ট আর গুহার সাথেই একটা চার্চ ছিল। আর যে লোকটি সেটা খুলেছিল, সে মুসলিম ছিল। আর আমি বললাম, “আচ্ছা, তুমি এটার চাবি কোথায় পেলে?” সে বলল, “এটি অনেক প্রজন্ম ধরেই আছে।” আমি বললাম, “একটা কথা জিজ্ঞেস করি?” সে বলল, “হ্যা।” আমি বললাম, “তোমার পরিবার কি এটা খ্রিস্টানদের থেকে চুরি করে এনেছে?

হয়তো খ্রিস্টানদের হত্যা করে নিয়েছে।” সে বলল, “তুমি সত্যিই এই ব্যাপারে বেশি কিছু জানো না।” “না, খ্রিস্টানরা বিশ্বাস করে আমাদের এটা দিয়েছে কারণ আমরাও যীশু খ্রীষ্টের পরোয়া করি।” আর আমি প্রথমবার বুঝলাম। আমি বললাম, “যীশু তোমাদের প্রফেট হয়? ওকে।” আর মুসলিমরাও তাঁর ব্যাপারে অনেক কিছু জানতো। মুসলিমরা যীশু খ্রীষ্টের ব্যাপারে অনেক কিছুই জানে। জানেন, সেই দুই সপ্তাহের ভ্রমনটা অবিশ্বাস্য ছিল। আর আমি অবাক হয়েছি যে আমরা এমন একটি বিশ্বে বাস করি, মধ্যপ্রাচ্যের ব্যাপারে যা জেনেছি, ভেবেছি সব মিথ্যে ছিল। আপনার কি ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো বিদ্বেষ ছিল? আর যদি ছিল, তবে তা কীভাবে দূর হলো?

মাহমুদ আব্বাসের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম। তো আমি একজন পশ্চিমা লেখক যে দলগুলোর এরকম অভিব্যক্তি লিখে থাকে যে, “ওহ গড, বড়বড় আরব লোক বন্দুক সহ! আরো বড় আরব লোক! তার কাছেও বন্দুক!” তারপর আমার মনে আছে, আমি একটা লিফটে ছিলাম আর একটা আরব গার্ড বলে উঠল, *আরবীর অনুকরণ* আমার কানে সেটা যেভাবে গেল আরকি। আর আমার মাথায় যেভাবে ঢুকল, সেটা হলো, বড় বড় অক্ষরে, “আমরা পরে এই সাদা চামড়ার মহিলাকে মেরে ফেলব।” ঠিক? আমি বুঝতে পারলাম, “ও মাই গড” আমি ধারণাগুলো আমার মধ্যে নিয়ে নিয়েছি! আমি ন্যায়পরায়ণ মানুষ হয়ে এখানে আসিনি। আমার মধ্যে বড় ধরণের বিদ্বেষ আছে। আমি একজন ফিলিস্তিনিকে বেশি ভয় পাই একজন বন্দুকধারী ইসরায়েলির চেয়ে। এমন কেন?

আমি তাদের কাউকেই চিনি না। তো আমার ভিতরের বিদ্বেষকে খুঁজে বের করতে হয়েছে। কিন্তু মিরাকেলটা হচ্ছে, ৭২ ঘন্টা একা ওয়েস্ট ব্যাংকে থাকার পর, আমি, যে কেউই হোক না কোনো মহিলা, শিশু বা পুরুষ তাদেরকে রক্ষা করার জন্য জীবনও দিতে পারতাম। কারণ যে ভালোবাসা ও দয়া তারা আমাকে দেখিয়েছে, আর বলতে গেলে পুরো পরিবেশটাই আমায় বুঝিয়ে দিয়েছিল, যে এটাই তাদের ধর্ম। আপনার এমন কোনো স্মৃতি আছে, যা আপনি কখনো ভুলতে পারবেন না? ২০০৫ সালে, এই ভ্রমণ শেষের পর আমার কাছে ব্যাগভর্তি টুকিটাকি জিনিস ছিল, আমার সাথে শপিংয়ে আসা লোকটিকে বললাম, “প্লিজ, আমাকে একটা ইংরেজি কুরআন খুঁজে দিতে পারবেন?” আর ও বলল, “ঠিক আছে”, আমি মানে, আমি ভেবেছিলাম এরকম কিছু লেখাই হয়নি। মানে, কেউ কেন মধ্যপ্রাচ্যের একটি ছোট ধর্মকে অনুবাদ করবে?

কেন ইংরেজি ট্রান্সলেশনের ঝামেলা পোহাবে?

আশা করিনি যে ও এটা খুঁজে পাবে। তারপর সে “কুরআন ইংরেজি, কুরআন ইংরেজি” বলতে বলতে হঠাৎ ফেরত আসলো। ও ইংরেজি কুরআন খুঁজে পেয়েছিল আর আমি ভাবলাম, “বেশ, ভালোই।” তারপর আমি দেখলাম ওটাতে ৬০০টা পৃষ্ঠা আছে। ভাবলাম, কখনোই আমি এটা পড়ব না। তারপর আমার মনে আছে, আমি জেরুজালেমের সেই যুবকটিকে জিজ্ঞেস করলাম, “কত পাবে আমার কাছ থেকে?” কারণ ও ওটা কিনে এনেছিল। তারপর ও শুরু করল, সে এমন করলো “ওটা ১০০, *গুনার শব্দ*, আর ৫০,...” আর আমি ভাবলাম, “আহ, আমি এখানে ঠকে যাব।” “আই অ্যাম ডান” এসব করার পর ও বলল, “আহ, ভুলে যাও।” “তোমাকে কিছুই দিতে হবে না” বলল, “তোমার কাছে শুধু একটা জিনিসই চাইবো, চলে গেলে ফিলিস্তিনকে ভুলে যেও না।” “আমাদের ভুলে যেও না।” হ্যা, সুবহানআল্লাহ। সত্যিই অসাধারণ ছিল। আর ফিলিস্তিনে সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ঘটনাটি কী ছিল?

উদাহরণ হিসেবে বলি, তখন জানুয়ারি ছিল আর আমি জানতাম না মধ্যপ্রাচ্যে শীত পড়ে, তো আমার কাছে কোনো কোট ছিল না। মনে আছে আমি রামাল্লাহর রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম আর একজন হিজাব পরা বৃদ্ধা মহিলা আমার দিকে তাকালো আর আরবীতে কিছু বলল। তারপর সে আমার হাত ধরল আর আমি ভাবলাম, “এই দাদীমা কি আমাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে?” “এটাই কি হচ্ছে?” আর সে আমাকে উপর থেকে নিচ পর্যন্ত দেখলো, আর আমাকে তার বেডরুমে নিয়ে গেলো, ওয়ারড্রোপ খুলে একটা বড় ওভারকোট বের করল, আমার গায়ে চাপিয়ে দিল, আর বলল “ইয়াল্লাহ।” আর আমি বললাম, “কিন্তু, কী?” ও নাম্বার লিখে বলল “এই নাও।” আর আমি বললাম, “কী?” আমি কোটটা নিয়ে চলে যেতে পারব!

একজন আগন্তুক তার শহরে ঠান্ডায় ঘুরে বেড়াচ্ছে, আর তার একটা কোট আলমারিতে পড়ে আছে, ব্যাপারটা সে মেনে নিতে পারছিল না কিছুতেই। আপনি বুঝতে পারছেন আমি কী বলছি?

আল্লাহু আকবার। আর আমি যেখানেই গিয়েছি সেখানেই তাদের মধ্যে নম্রতা আর সব পরিস্থিতিকে সর্বোত্তম করে দেখার ক্ষমতা দেখেছি। যেটা আমাকে তাড়িত করেছিল, তখন আমার একটা ফ্রেঞ্চ ফার্মহাউজ ছিল, একটা ফ্রেঞ্চ গোলাবাড়ি তৈরী হচ্ছিল। একটা সুইমিং পুল, এক একর বাগান ছিল। আমার সুন্দর সুন্দর ছেলেমেয়ে আর একজন খুব ভালো স্বামী আর সবকিছু ছিল আমার কাছে। কিন্তু একটা জিনিস যদি ভুল হলেই, আমার মনে উথালপাতাল শুরু হয়ে যেত। যেমন আমার কাজ নিয়ে যদি এডিটর খুশি না হতো, সারা বাড়ি মাথায় করে ফেলতাম। “হে ঈশ্বর, আমি খুব টেনশনে আছি, আমি খুব চিন্তিত।” একটা ছোট্ট জিনিস। সবকিছু পারফেক্ট হতে হবে, নাহলে আমি শান্ত থাকতে পারতাম না একেবারে আর এই লোকগুলো, আর্মিরা তাদের সন্তানদের হত্যা করেছে, বাড়িঘর দখলদাররা নিয়ে গিয়েছে…

তাদের সাথে রোজই সব ধরণের অবজ্ঞা আর জুলুম হচ্ছে সেই জায়গাতে আর তারপরও তারা বলবে, “সালাম, পিস।” “হাউ আর ইউ?” “আমাদের সাথে খাবার খান।” খুব শান্ত ছিল। আর তারা ছিল... আমি ওদের জিজ্ঞাসা করলাম, “তোমরা এত নম্র ও আর এত উদার কেন?” “তোমরা কেন কিছু নিয়ে আপত্তি করো না?” আর তারা বলল, “এটা বইতে আছে, কুরআনে আছে।” “আল্লাহ সব ঠিক করে দিবেন।” কখন আপনি ইসলামের প্রতি সত্যিই আকৃষ্ট হয়েছিলেন?

আমার মনে আছে ২০০৮ সালে আমি অমুসলিম হয়ে, আমি গাজায় অবরোধে আটকে ছিলাম, ওদের সাথে যারা আজকের দিনেও সেখানে আটকে আছে। আউযুবিল্লাহ তখন রমাদান ছিল, আর দেখলাম যে লোকজন কোন না কোন ভাবে একে অপরের উপকার করছে যদিও তারা নিজেরাই দরিদ্র। তো আমি একদিন ভাবলাম, আমিও একটি করি আর রাফাহ শরণার্থী কেন্দ্রে একটি পরিবারের জন্য কিছু মাংস নিয়ে যাই। তো আমি খাবারটি শরণার্থী কেন্দ্রে একটি মুসলিম পরিবারের কাছে নিয়ে যাই। মা টি দরজা খুলল, “ভেতরে আসুন, আসসালামুআলাইকুম!” চেহারায় একটা আলো ছিল। আর সে একটা খুপড়িতে থাকতো। না খাবার ছিল, না জল ছিল। আমি বললাম, “কেন রোযা রাখছো তুমি?” বললাম, “আমার মনে হয় না আপনার আল্লাহ আপনাকে ভালোবাসেন।“ “বলার জন্য দুঃখিত।” “আমার মনে হয় না তিনি ভালোবাসেন।” “কেন তিনি আপনাদের, গাজাবাসীদের ৩০ দিনের জন্য তৃষ্ণার্ত রাখবেন?” “৩১তম দিনে কখন জল পাবেন?” সে বলল, “আমাদের জল নেই।” আমি বললাম, “বেশ, তাহলে কী?” ৩০ দিন আপনারা গাজায় খাবার ছাড়া থাকছেন। “৩১তম দিনে কি আপনাদের ফ্রিজ ভর্তি হয়ে যাবে?” সে বলল, “না, ওটা ভর্তি হবে না?” আমি বললাম, “আপনার আল্লাহ আপনাদের ভালোবাসেন না।” “একটা ভালো কারণ দেখান যেটার জন্য আপনি রোযা রাখছেন।” আর সে বলল, যার ঘরে কিছুই নেই, “আমি গরীবদের মনে করার জন্য রমাদানে রোযা রাখি।” আর আমি সেই মূহুর্তে ভাবলাম, এটিই যদি ইসলাম হয়, তবে আমি মুসলিম হতে চাই। কারণ যদি এমন কোনো ধর্ম থাকে যেখানে ঈশ্বর আপনাকে সেদিন কিছু না দিলেও আপনি তাঁর প্রতি বিশ্বাস রাখেন, কৃতজ্ঞ থাকেন। যদি এমন কোনো ধর্ম থাকে যেখানে আপনার এক বাটি খাবার থাকে আর সেটা আপনি একজন আগন্তুককে দিয়ে দেন…

ওহ ঈশ্বর! ওয়াও! এটাই সেটা। আপনি বলেছিলেন আপনাকে একটা কুরআন দেওয়া হয়েছিল, তারপর কী হয়েছিল? আপনি কি সেটা পড়েছিলেন?

তো আমি এই পবিত্র কুরআন উপহার হিসেবে পেয়েছিলাম, আর একদিন যখন আমার বাচ্চারা কাজে ছিল, তখন সেটা খুললাম। আর ভাবলাম, আচ্ছা, হাত ধুয়ে নিই। “আমি জানি ওরা হাত ধুয়ে নেয়।” এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বই। আমি এইটা বেশ গুরুত্বের সাথে নিলাম। আমার ধর্মগ্রন্থ না হলেও এটা ধর্মগ্রন্থ। হতে পারে আসল ধর্মগ্রন্থই। তো আমার এটা সম্মানের সাথে পড়া উচিত। আমি আল ফাতিহা পড়লাম আর ভাবলাম, “ওকে এটা অনেকটা ঈশ্বরের প্রার্থনার মতোই।” একই জিনিস, এক ঈশ্বরের প্রার্থনা করো, তাঁর কাছেই চাও, তাঁর প্রতিই কৃতজ্ঞ হও। খারাপ হয়ো না, ভালো কাজ করো। আমি ঠিক আছি। তো সূরাহ ফাতিহা ঠিকই ছিল। এটার সাথে আমার খ্রিস্টান মতামতের মিল আছে। তারপর এলো সূরাহ বাক্বারাহ। যেখানে এক আয়াতে বলা হয়েছে, “অনেকেই ছিল যারা বলতো যে তারা বিশ্বাস করে, কিন্তু তাদের মনে ছিল ভন্ডামি, এবং তারা জানতো তারা সত্য কথা বলছে না। আর আল্লাহ তায়ালা মিথ্যেবাদীদের অপছন্দ করেন। “ মানে এটা আসলে আমার কপটতাকে ধরিয়ে দিচ্ছিল আর আমাকে বলছিল যে আমি জাহান্নামে যাব। কারণ আমি ঈশ্বরে বিশ্বাস করতাম, কিন্তু এই ব্যাপারে আর কিছুই করতাম না, আমি খারাপ সিদ্ধান্ত নিচ্ছিলাম আর ভালো মানুষ হয়ে ছিলাম না, উপাসনা করতাম না, এই ব্যাপারে মাথা ঘামাতাম না, মিথ্যা কথা বলতাম। আমি কুরআন বন্ধ করলাম আর ভাবলাম, “ও মাই গড।” আমি ঠান্ডা অনুভব করছিলাম। দিনটা গরমই ছিল, কিন্তু ভয়ে তা অনুভব করতে শুরু করলাম। আমার কাছে কুরআন ভয়ংকর ছিল। তো আমি ওটা নিলাম, একটা উঁচু থাকে রাখলাম আর ভাবলাম, “বাহ, লোকজন ভালো, বইটা আশ্চর্য।” কারণ আমি আগে কখনো ঈশ্বরকে এত রাগান্বিত দেখিনি, তিনি আমার উপরে রেগে ছিলেন। আপনি মুসলিমদের থেকে দাওয়াহ্ পেয়েছেন?

আমি দাওয়াহ্ পেয়েছি, ভ্রমণকালে এক জায়গা থেকে। একদল লোক ছিল যারা আমার সাথে একদম নির্দিষ্ট ছিলেন। জানেন তারা কারা ছিল? সোমালি ট্যাক্সি ড্রাইভার। তারা ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে কথা বলে না। আর তারাই আমাকে দাওয়াহ্ দিয়েছিল। তো আমি বলতাম, “আসসালামু আলাইকুম” কারণ আমি ফিলিস্তিনে গিয়েছি আর আমি ভাবলাম এটার অর্থ হ্যালো। “ওয়া আলাইকুমুস সালাম, আপনি কি মুসলিম?” না, তবে আমি আগ্রহী। বাপরে!

সাবধান হয়ে যান, কারণ আপনি এখন, আপনি এখানেই একটা লেকচার পাবেন। আপনি আপনার ড্রাইভারের কাছ থেকে খুতবাহ শুনতে পাবেন। আর আমি সেগুলো বেশ উপভোগ করতাম। তো তারা বলত, “যেমনটা আমাদের মহানবী (সাঃ) আয়েশা (রা.) বলেছিলেন, ইত্যাদি ইত্যাদি।” আর আমি একজন চমৎকার, একজন মহৎ মানুষ যিনি ১৪০০ বছর আগে একটি আরব মরুভূমিতে বাস করতেন, যিনি লিখতে বা পড়তে জানতেন না, কিন্তু মানুষকে শিখিয়েছেন কীভাবে নিজেকে এবং পৃথিবীকে বদলে ফেলা যায়। আর আমি মুহাম্মাদ (সাঃ) এর প্রেমে পড়ে গেলাম ওই সময়। ইসলাম গ্রহণের আপনার শেষ ধাপটি কী ছিল?

২০০৭ সালে আমি ইসলাম চ্যানেলে একটা চাকরির প্রস্তাব পেলাম কারণ আমি তখন ফিলিস্তিনিদের ন্যায়ের প্রচারণা করছিলাম, আর ইরাকের মানুষের জন্যেও। আর ইসলাম চ্যানেলের মুহাম্মাদ আলী আমাকে চাকরীর প্রস্তাব দেন এবং আমি বললাম, “আমার কিছু শর্ত আছে।” “এক, আমার সাথে ইসলামের বিষয়ে কথা বলবেন না।” “কারণ আমি মনে করি এটা ভালো আর আপনারাও খুব ভালো। কিন্তু এটা আমার জন্য না।” “আর দুই, আমি আপনার টিভি স্টেশনে হিজাব পরব না।” “কারণ আমি মনে করি এটি নারীদের নিয়ন্ত্রণ ও অপমান করে আর আমি কপট হতে চাই না।” আর উনি বললেন, “আল্লাহ সেই সিদ্ধান্ত নেবেন যে আপনি মুসলিম হবেন কি হবেন না।” “সেটা আমার হাতে নেই।” আর আমি বললাম, “না, আমি কোনোভাবেই মুসলিম হতে পারব না। একেবারেই না।” আর মুহাম্মাদ আলী বললেন, “আপনি মুসলিম হতে পারেন।” আমি বললাম, “আমি হব না।” উনি বললেন, “বেশ, সেটা আল্লাহ জানেন।” আমি বললাম, “ওকে” আর, “হিজাবের ব্যাপারটা?” উনি বললেন, “ঠিক আছে, হিজাব পরতে হবে না, তবে দয়া করে যতটুকু সম্ভব শালীন পোষাক পরবেন আমরা সেটাই মেনে নিব।” এর অর্থ আমি পৃথিবীর সব দেশেই ভ্রমণ শুরু করব, বিভিন্ন স্পিকার, শেখদের ইন্টারভিউ নিব, আর মুসলিমদের এবং ইসলাম নিয়ে কথা বলা লোকদের নিকট প্রবেশাধিকার পাব। আমি ২০১০ সালে ইরানে সাংবাদিক ও প্রতিবেদক হিসেবে গেলাম, আল-কুর্দ স্টেট র‌্যালীর উপর প্রতিবেদন তৈরী করতে। আমি সবসময়ই ফিলিস্তিনকে ধরে রেখেছিলাম। তো আমি ইরানে ছিলাম আর, আমরা ক্বোমে পৌঁছলাম, আমরা দূরে কোথাও যাচ্ছিলাম আর তখন রমাদান ছিল। আর আমি একটা মসজিদে গেলাম। আমি যখন মসজিদটায় গেলাম, তখন ভাবলাম, “আচ্ছা” আমার মনে হয় আমি সম্পূর্ণরূপে ওযু করলাম, কিন্তু আমি নিশ্চিত, হ্যা আমার মনে হয় আমি আমার ভ্রমণকালীন বান্ধবীর সাথে ওযু করেছিলাম, আমি যখন প্রবেশদ্বার অতিক্রম করলাম, তখন আমি একটা দুআ করলাম বললাম, “হে আল্লাহ, যা দিয়েছো, তার জন্য ধন্যবাদ” “আমি আপনার কাছে আর কিছুই চাইব না” “এখন আপনি ফিলিস্তিনের উপর রহমত বর্ষণ করুন।” আর তারপর আমি চারপাশে দেখতে লাগলাম, চুপিচুপি রিপোর্ট করার জন্য। আমার কাছে একটা আইফোন ছিল, আর আমি ভাবলাম, “বাহ, এটা একটা বিশেষ প্রতিবেদন হবে।” আপনি একটা ইরানি প্রার্থনালয়ে, রমাদান মাসে। আপনার কাছে একটা গল্প আছে। পৃথিবীর সবপ্রান্তে এটি বিক্রি করতে পারবেন। আমার মন তখন খুব ধার্মিক অবস্থায় ছিল না। এমন ছিল না, “ওহ, আমি মুসলিম হতে চাই।” আমি সত্যি বলতে ওখানে একটু নাক গলাতে আর লুকিয়ে কিছু ছবি তুলতে গিয়েছিলাম। কিন্তু যখন আমি প্রধান জায়গাটাতে গিয়ে বসলাম আর আমার মনে হচ্ছিল আমি একটা শান্তিপূর্ণ ঝর্ণার নিচে বসে আছি। যেন আমার মনের সকল দুশ্চিন্তা চলে গিয়েছে। আমার মনে শুধু শান্তি ছিল। নিজের নামটাও ভুলে গেলাম। আমি পুরোপুরি লরেন বুথ ছিলাম না তখন। সেই সৃষ্টি, আত্মসৃষ্টি, আত্মাভিমান, হেন তেন, যাই ছিলনা কেন, সব চলে গেল। অনুভূতিটা সর্বশ্রেষ্ঠ ছিল আর আমি নড়তে চাচ্ছিলাম না। তো আমি রাতে ওখানেই ঘুমোলাম, আর সকালে ওযু করে ফজরের সলাত আদায় করলাম। আমি জানতাম, ঐ মুহূর্তে আমি মুসলিম হয়ে গিয়েছিলাম। সেই মুহুর্তে আমি জানতাম আল্লাহ এক এবং মুহাম্মাদ (সাঃ) ১০০% আল্লাহ্‌র রাসূল। আর তারপর কী হলো?

আপনার আশেপাশের লোকজনের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল? আমি লন্ডনের প্লেনে উঠতে চাইনি আমার শাহাদাহ না নিয়ে, কিন্তু আমি তখন কাউকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না কারণ আমার ফ্লাইট সকাল ছয়টায় ছিল। আমি লন্ডনের এক মসজিদে গেলাম। তারপর জানেন?

সুবহানআল্লাহ, যখন আমি শাহাদাহ পড়লাম “আশহাদু…” *ধুপ* মনে হচ্ছিল মুখ থেকে সিমেন্টের দলা পড়ছে। মনে হচ্ছিল জিহ্বা থেকে সোনার বার খসে পড়ছে, “আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” *ধুপ* মনে হচ্ছিল ভূমিকম্প হচ্ছে, “আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু” *ধুপ* আর আমি মাটিতে পড়ে গেলাম। ওয়াও। বেশ বিস্ময়কর ঘটনা ছিল। আর তখন মনে হচ্ছিল হঠাৎ আমি একটা বড় তুলার বলে ভাসছি। মনে হচ্ছিল তুলার ভেতরে আছি। খুব তুলতুলে আর সবকিছু কেমন যানি দূরে চলে গেল। পরদিন যখন আমি আমার বাচ্চাদের নিয়ে স্কুলে যাই, তারা সামনে দৌঁড়ে গেল আর আমি বাড়ি থেকে বের হলাম। আর আমি ভাবলাম, “তুমি হিজাব পরোনি।” আবার ভাবলাম, “আহ, আমি তো এখন ইরানে নেই।” “তুমি হিজাব পরোনি, তুমি হিজাব পরোনি, তুমি নগ্ন হয়ে আছো।” আর আমি দরজা থেকে বের হতে পারছিলাম না। আমি ভেতরে গেলাম একটা স্কার্ফ খুঁজতে যেটা একজন আমাকে দিয়েছিল বেশ আজব ভাবে কোনোমতো মাথায় চাপালাম, সেই স্কার্ফ পরে মেয়েদেরকে নিয়ে স্কুলে গেলাম। আর তারা বলল, “মা তুমি হিজাব পরে আছো কেন?” আমি বললাম, “ঠান্ডা, তাই।” ওরা বলল, “এখন গরম।” আমি বললাম, “যাই হোক, যাও খেলো, জঙ্গলে হাঁটো।” আর আমি যখন স্কুলে গেলাম, একজন বাবা যিনি জিউইশ ক্রনিকলসে কাজ করতেন, আমার দিকে এমনভাবে তাকালেন, যেন, “ওহ, এটা তো বেশ বড় খবর।” আর আমি ভাবলাম, “ইশ, এখন তো বড় বিপদে পড়লাম।” আর উনিও বললেন, “ইয়েস” যেন তার সব ক্রিসমাস একসাথে এসে পড়েছিল তখনি। আমি পরোয়া করিনা। আমি বাড়িতে গেলাম আর আগামী সাতদিনে সব কিছু বদলে গেল। আমি সালাত আদায় করতে চাইতাম। আল্লাহর কাছে কাঁদতে চাইতাম। আমি মাটিতে মাথা ঠেকাতে চাইতাম যেমনটা মুসলিমদের করতে দেখেছি, আর আমি দুটো জিনিস বারবার বললাম। বললাম “ধন্যবাদ” আর “দুঃখিত।” আমি বললাম, “ধন্যবাদ এই জীবন দেওয়ার জন্য। যত ভালোবাসা পেয়েছি তা দেওয়ার জন্য, আর যা যা চিনতে পারিনি তার জন্য।” মানে, “আমার সুন্দর মেয়েরা, আমি ভালোবাসা চিনেছি, সুযোগ পেয়েছি, ভালো পরিবার পেয়েছি।” “আর আপনাকে চিনেছি, এবং ধন্যবাদ।” আর তারপর বললাম, “দুঃখিত, অনেক অনেক দুঃখিত।” আর আমি এক সপ্তাহ ধরে কাঁদলাম তারপর আমাকে সেই কুরআন নিতে হয়েছিল, আর সেটা খুব ভয়ের ছিল। তো আমি তখন শুক্রবারে শাহাদাহ নিলাম আর আমার বাচ্চারা তাদের বাবার সাথে, আমরা আলাদা হয়ে গিয়েছিলাম। তো সেই শুক্রবার রাতে আমি ভাবলাম, “ঠিক আছে, বাচ্চারা এখন…” আমি শাহাদাহ নিলাম, বাড়িতে গেলাম আর বসে ভাবলাম, “বেশ, শুক্রবার রাত, একজন ছেলে বন্ধুকে কল করা যাক।” ওহ, আমি এটা করতে পারব না। “একটা সিগারেট ধরাই।” কিন্তু সত্যিই খেতে চাই না আমি জানি যে আমি সলাত আদায় করব এবং আল্লাহর নাম নিব। তারপর আমি ফ্রিজ দেখলাম আর সেখানে একটা ওয়াইনের বোতল ছিল। আমি ভাবলাম, “আচ্ছা, এখন আমার জীবন খুব একঘেয়ে হয়ে যাবে।” বলতে গেলে কিছুই করার নেই। তো আমি কুরআন টা নিলাম আর ভাবলাম, “ওহ আল্লাহ, ইয়া আল্লাহ, শেষটা যেন ভালো হয়।” এমনটি যেন না হয়, “এখন আমি জাহান্নামে যাব।” আমাকে ভুল বুঝতে দিবেন না। আমি আপনাকে ভরসা করি। আর কুরআন যেন বললো, “এতদিন কোথায় ছিলে?” “আল্লাহ তোমাকে ভালোবাসেন।” “তুমি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছ।” “আর সব ঠিক হয়ে যাবে।” খুবই চমৎকার। আপনার পরিবারের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?

আমি ভেবেছিলাম পরিবার জানলে একটা বিশাল ব্যাপার বানিয়ে ফেলবে আমি মুসলিম হয়েছি শুনে, মা খুব ব্যঙ্গ করলেন। বলল, “তুমি পাগলদের সাথে যোগ দিয়েছ, তুমি পাগলদের দলে ঢুকেছ,” "তুমি কী এখন জঙ্গি হবে?" তারা আমাকে নিয়ে অনেক ভয়ে ছিল, কিন্তু আমি খুব ভালো হয়ে ছিলাম, ইনশাআল্লাহ। আমি তার জন্য খুব খেটেছিলাম আর খুব ভালোবেসেছিলাম, তার শেষ জীবনে। আর সব ঠিক করেছিলাম। আর আমার বাবা শুধু ভয়ই পেয়েছেন। “কারণ ঈশ্বর চান না তুমি এটা পরো। পুরুষেরা তোমাকে এটা পরতে বলেছে।” আমি বললাম, “বেশ, আল্লাহর জন্যই পরেছি, ঠিক আছে?” আর উনি বললেন, “তুমি তো ঈশ্বরের কাছে যেকোনো ভাবেই যেতে পারো। এভাবে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।” তো উনি আমার যে বিয়ে নিয়ে খুব চিন্তিত ছিলেন। “তুমি কি স্বাধীনতা ভুলে যেতে চলেছ?” “তুমি ভৃত্য হয়ে যাবে।” উনি বললেন, “আমার প্রতিটা মেয়ে খুব স্বাধীনচেতা নারী।” আমি বললাম, “তুমি বুঝতে পারছ না।” কিন্তু সুবহানআল্লাহ, আমি আমার বাবার সাথে তাঁর মৃত্যুশয্যায় এটা নিয়ে আলোচনা করতে পেরেছিলাম। সুবহানআল্লাহ আর আমি তাকে আল ফাতিহা পড়িয়েছিলাম, আমি তাঁর হাত ধরতে পেরেছি, তাঁর চোখে গভীরভাবে তাকাতে পেরেছি আর তার সাথে, ঈশ্বরের জন্য ভালোবাসা শেয়ার করতে পেরেছি। উনি বলেছিলেন ঈশ্বর এক আর হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) তাঁর শেষ রাসূল, আর যিশু (আঃ) ও একজন রাসূল। তো…

আল্লাহ ভালো জানেন। উনি কথাগুলো আরবীতে বলেননি আর আমিও জোর করিনি। কিন্তু আমাকে সবসময়ই বলেছেন, “ঈশ্বর এক, আর যীশু [ঈসা (আঃ)] একজন রাসূল।” আমি বললাম “হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) একজন দারুন মানুষ ছিলেন আর তিনিও রাসূল ছিলেন।” উনি বললেন, “আচ্ছা, আমি স্বীকার করছি” উনি মারা যাওয়ার পর আমি খুব সুন্দর একটা স্বপ্ন দেখেছি, তিনজন ইমাম তাঁকে গোসল করাচ্ছেন, আর উনি নূরে পরিপূর্ণ হয়ে আছেন। ইনশাআল্লাহ। তখন আপনি ইংরেজি নিউজ চ্যানেলে কাজ করতেন। সেখানে কী হয়েছিল? তো প্রথম সকালে স্কাই নিউজে হিজাব পরে গেলাম, সেটি বেশ হাস্যকর ছিল। কারণ তারা খুব স্মার্ট কাস্টমার হওয়ার ট্রেনিং নিয়েছিল। যারাই স্টুডিও দিয়ে হেঁটে যেতো, ওরা তাকিয়ে...

আপনি বুঝতে পারতেন, বলতো, “ওহ ঈশ্বর, ওকে দেখেছো…” আর সামনে আসলে হয়ত বলতো, “কেমন আছো লরেন?” মানে আমি সেটা আমার পেছনে হতে দেখছিলাম। দুদিন পর, আমি একটা কল পাই, “লরেন আমরা কিছু জিনিস অদলবদল করছি।” “আমাদের আর তোমায় দরকার নেই।” কেটে দিল। ওরা আর আমাকে নেয়নি, আর কখন ডাকেও নিই। এখন কি স্কাই নিউজে হিজাবীরা আছে? হ্যা, মাশাআল্লাহ। এখন কি নিউজে হিজাবী নারী আছে? হ্যা। আপনি কি কখনো কোনো ধর্মান্তরিত হিজাবীকে নিউজে দেখেছেন?

একজনের নাম বলুন। এই মেইনস্ট্রিম দুনিয়ার এখন একটা বড় সমস্যা। কারণ আপনি যদি ইসলামকে ধর্ম হিসেবে বেছে নেন, আল্লাহকে আপনার প্রভু হিসেবে, তখন মিডিয়া স্ট্যান্ডার্ডসের কারণে হয় আপনার নার্ভাস ব্রেকডাউন হবে, নাহয় নার্ভাস ব্রেকডাউনই হবে। আমার মনে হয় না এখানে আর কিছু আছে। তারা কীভাবে আপনাকে চিন্তাশীল, বুদ্ধিমান, বিশ্বস্ত মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করবে, যে জীবনের মাঝপথে এসে বলে, “গুড মর্নিং এভ্রিবাডি, আমার নাম লরেন বুথ, যাইহোক, আমি স্বীকার করছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই আর মুহাম্মাদ (সাঃ) শেষ রাসূল।” “এখন ওয়েদার রিপোর্ট” বুঝতেই পারছেন। আপনি সেটা করতে পারবেন না। তারা বাদামী চামড়ার হিজাবী মানুষকে আনতে পারবে কারণ “ওহ এটা তাদের অদ্ভুত ছোট্ট জিনিস।” কিন্তু আপনি যদি মেইনস্ট্রিমের কেউ হন, তাহলে কীভাবে ব্যাপারটা স্বাভাবিক হিসাবে দেখা হবে, যদি না আমরা ইসলাম ও আল্লাহর বিষয়ে আর আমরা মুসলিমদের সাথে কী করি আর তাদের প্রতি আমরা কেমন আচরণ করি, আমিই এই কথোপকথনের মুখোমুখি হয়েছি আর মেনে নিয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ, আমি মেনে নিয়েছি। আপনার চেনাজানা এমন কেউ কি ছিল যে ইসলামের সাথে পরিচিত হয়েছে এবং তার জীবন বদলে গিয়েছে?

কয়েক বছর আগে আমি প্লেনে করে কাতার থেকে ফিরছিলাম, আর আমার সামনের লোকটা ভেস্ট পরা এক ব্রিটিশ লোক ছিল তার থেকে মদের গন্ধ আসছিল, একজন স্কিনহেড ছিল। আর আমি ভাবলাম, “আল্লাহ, আমি তার পাশে আগামী চার ঘন্টা বসে থাকতে চাই না।” আর তো আমার টিকেট হলো ২১জি, আর তার ২১এফ। তো আমরা যাই আর আমার তাকে অতিক্রম করে যেতে হবে। সে এমনভাবে আমার দিকে তাকালো, যেন আমি আবর্জনা। সে আমাকে দেখল আর, “উফ” যখন খাবার এলো, সে বলল, “হ্যাঁ, আমি একটা ভদকা নিব, একটা বিয়ার, আর অন্যসব কিছু।” আর আমি বললাম, “উফ” তো আমি পানি খেতে খেতে ভাবলাম, “ওহ আল্লাহ, ক্ষমা করুন, আমার সবচেয়ে খারাপ ফ্লাইটটাতে আছি।” আর সে বলল, “আপনি কি একটু জল নিবেন?” যেন আমি ইংরেজি বলতে পারি না। তো আমি বললাম, “বেশ, ধন্যবাদ।” আমি ভাবলাম “ওকে, আমাকে কিছু ভালো কাজ করতে হবে। “আপনি কি কিছু পনির নিবেন?” আমি এটা বললাম সে বলল, “অনেক ধন্যবাদ।” আর সে বলল, “আপনি কোথা থেকে এসেছেন?” “বললাম, আমি লন্ডন থেকে এসেছি, আপনি?” সে বলল, “কী?!” “আপনি?

এমন পোশাক পরে?

লন্ডন থেকে?” আর সে তাকিয়ে থেকে খুব একটা অদ্ভুত কাজ করল। ওখানে বসে বলতে শুরু করল, “আমি দুঃখিত, আমি দুঃখিত।” আমি তার দিকে তাকিয়ে বললাম, “ঠিক আছেন?” সে বলল, “হ্যা, আমি আপনাকে নিয়ে অনেক বাজে চিন্তা করছিলাম আমি দুঃখিত।” আমি বললাম, “আপনি তো আমায় সেগুলো বলেননি, তাই না?” সব ঠিক আছে। চিন্তা করবেন না।” ছোট করে বললে, আমরা চার ঘণ্টার বেশি সময় ধরে কথা বললাম। আমি বুঝলাম, সে বলল সে বিষাদগ্রস্ত, সে বাঁচতে চায় না। সে একজন খারাপ মানুষ। আমি তাকে বললাম, “না, সবার জীবনেই এমন একটা সময় আসে, আমরা তখন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করি।” “আপনি করেন?” “আপনি কার কাছে যান?” সে বলল, “আমি এসবে বিশ্বাস করি না।” আমি বললাম, “এমন কেউ বা এমন কিছু নিশ্চয়ই আছে, যেখানে আপনি এমন বোধ করলে যান।” সে বলল, “আমার কাছে আমার মায়ের একটা ছবি আছে আর কখনো আমি তার কাছে কাঁদি আর বলি, মা আমাকে সাহায্য করো।” একটা ৪০ বছরের লোক, এরকম কষ্টে। আমি তাকে বললাম, “আচ্ছা। আপনার মা কি ধার্মিক ছিলেন?” সে বলল, “হ্যা।” “উনি অনেক প্রার্থনা করতেন।” আমি বললাম, “আপনার মা কার কাছে প্রার্থনা করতেন?” সে বলল, “ঈশ্বর।” আমি বললাম, “আপনি যদি পরবর্তীতে এমন ভাবেন, তখন আপনার মা যার প্রার্থনা করতো, তার প্রার্থনা করে দেখবেন?” যেন ছোট একটা বাতি জ্বলে উঠল। “হ্যা, ঠিক বলেছেন। আপনি ঠিক বলেছেন। একদম” আমার ব্যাগে একটা ইংরেজি কুরআন ছিল, আলহামদুলিল্লাহ, আর আমি তাকে সেটা দিলাম। আর এই বড় মানুষ, ব্রিটিশ বড় মানুষটি প্লেন থেকে নামলো “ধন্যবাদ, ধন্যবাদ।” বলতে বলতে। তো সুবহানআল্লাহ, মানুষের সাহায্য দরকার। আমাদের অ্যাক্সেস পয়েন্ট হতে হবে ইনশাআল্লাহ আর কেউ সেটা নিষ্ঠার সাথে তৈরী করছেন, আউটপুট সৃষ্টি করতে, তরুণ মুসলিমদের দেখে রাখতে, আমাদের একটা জায়গা দিতে যেখানে আমরা আমাদের ঐতিহ্য নিয়ে গর্ববোধ করতে পারি আর এটা দেখে রাকতে পারি। আর অমুসলিম আর যারা সন্দেহ করছেন তাদের জন্যও প্রশ্ন করার জায়গা করতে ইনশাআল্লাহ আর এটা খুব ভালো একটি উদ্দেশ্য। আপনি কি যেসব কাজ করে এসেছেন এবং ভবিষ্যতে করবেন, তার ব্যাপারে আমাদের বলবেন?

আমার কাছে এখন বড় প্রকল্প হচ্ছে পৃথিবীর কাছে মুসলিম মনোভাব কেমন তা প্রকাশ করা। তাইয়্যিব কী, ধার্মিকতা কী, কীভাবে সেটা নিয়ে কাজ করা যায়, প্রাত্যহিক জীবনে তার অবদান কী?

আলহামদুলিল্লাহ। বড় প্রকল্পগুলোর একটি যেটা আমাকে তাড়িত করে সেটা হলো মুসলিমদের বলা যে আমাদের ঐতিহ্য কতটা মহান, আর তা অনুধাবন করে আমরা কীভাবে আবার মহান হতে পারি। আলহামদুলিল্লাহ আমি একটি বই লিখেছি যার নাম “In Search of A Holy Land” আল্লাহর অশেষ কৃপায়, এটাকে একটা অডিও বুকেও রূপান্তর করেছি যাতে মানুষ শুনতে পারে। অনলাইনে আছে। আমি একজন প্রযোজকের সাথে আমার বইয়ের উপর একটা নাটক তৈরি করে পরিবেশনা করেছি। ওটার নাম হচ্ছে “অ্যাক্সিডেন্টালি মুসলিম” আমরা সেটা ৯০০, বেশিরভাগই অমুসলিম লোকদের কাছে এডিনবার্গ ফ্রিঞ্জ ফেস্টিভালে দেখিয়েছি। আমি মানুষকে ইসলাম যা, তা দেখাতে ভালোবাসি, এটা হৃদয়ে একটা প্রভাব ফেলে আর সমাজে একটি ভালো প্রভাব বিস্তার করে। যদি আপনাকে পৃথিবীর সকল অমুসলিমদের সাথে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে এক মিনিটে তাদের কী বলবেন?

আপনি ঘরে বসে আছেন, এমন সময় যখন আসে আপনি জানেন না আপনি কেন বেঁচে আছেন। আপনি দুঃখ, কষ্টের সাতে সময় অতিক্রম করছেন, আর আগের মতো করে কিছুতে মজা পাচ্ছেন না। আপনি অনেক কষ্টে আছেন, আর হয়তো কখনো আপনি জানেন না আপনি কেন বেঁচে আছেন, আর আপনি কারো কাছে সাহায্য চাইতে যান, কিন্তু আপনি জানেন না কীভাবে, আর সবকিছু অদ্ভুত আর মেকি মনে হয়। ঈশ্বর এক। যখন এমন মনে হবে, একটা গোলাপ ফুলকে দেখুন, বাগানের একটি গোলাপকে দেখুন আর ভাবুন এটি আমাদের সুবাস দেয়। আপনার এমন মনে হলে, মৌমাছিদের দেখুন আর ভাবুন মধু কত সুন্দর, কত সুস্বাদু। এটি একটি নিরাময়ও। গলা ব্যথা করলে আমরা এটা খাই। শুধু ভাবুন কীভাবে প্রকৃতি আমাদের পাশে আছে। কত সুন্দরভাবে বৃষ্টি পড়ে মাটিতে যায়, গাছের শিকড়ে যায়, তারপর গাছে পাতা হয় বা ফুল হয়, তারপর সেই ফুল ফল হয়, যা আমরা খেতে পারি, আর এটিতে উপকার রয়েছে। আর আমরা পরম করুণাময় ও দয়ালু স্রষ্টার উপস্থিতি টের পাই। ধন্যবাদ বোন লরেন, আমাদের সাথে থাকার জন্য। তাহলে আমাদের অন্য প্রকল্পেও দেখা হবে। ইনশাআল্লাহ। আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
