# আমরা ১০ জন মুসলিম ধর্মান্তরিত বোনকে জিজ্ঞেস করেছিঃ ইসলামই কেন?

- Language: bn
- Published: 2026-08-26
- Canonical: https://blog.towardseternity.com/bn/blog/we-asked-10-female-converts-why-islam
- Source video: https://www.youtube.com/watch?v=qc3s8FHAnq4
- Channel: Towards Eternity

This is the cleaned transcript of the source video. The speech is unaltered.

---

আমার মনে হয় “আল্লাহু আকবার” শব্দটা শুনলে আমি বেশ ভয় পেতাম। আমার অনেক ভুল ধারণা ছিল। মনে করতাম মুসলিম নারীরা অবদমিত থাকে। কেন তাদের হিজাব পরতে হয়?

এটা ঠিক মনে হতো না। আমার মনে অনেক বিভ্রান্তি ছিল। আমি এমন মেয়ে ছিলাম যখন রাস্তায় বেরোতাম, চাইতাম মানুষ আমার দিকে দেখুক, কিন্তু যদি খারাপ লোক তাকাতো তাহলেও বিরক্ত হতাম। পবিত্র কুরআন পড়া শুরু করেছিলাম একরকম দাম্ভিকতা থেকে। কারণ চেয়েছিলাম অসংগতিগুলো খুঁজে বের করতে। ইসলাম অনেকভাবে নারীদের মুক্তি দেয়। এটা নারীদের রাখে অনেক উচ্চ মর্যাদায়। আমার মনে হতো নারীরা অবদমিত। তারপর ইসলাম নিয়ে পড়া শুরু করলাম, আর বুঝলাম “না, সমাজই আসলে নারীদের দমন করছে।” আমি আমার জীবনের পূর্ণাঙ্গ বিধান খুঁজে পেয়েছি। আমি পবিত্র কুরআনে শুধু বৈজ্ঞানিক প্রমাণই খুঁজে পেয়েছি। এবং গবেষণায় আমি খুঁজে পেয়েছি কুরআনের ভাষাগত অলৌকিকত্ব। সেখানে কোনও বিরোধপুর্ণ বিষয় ছিল না। আমি তখন রাস্তা দিয়ে হাঁটা উপভোগ করতে শুরু করলাম, মানে, শুধুই হেঁটে চলা, মানুষকে দেখানোর জন্য না। আমার মনে হলো মানুষ কী ভাবছে সেটার চিন্তা ছাড়াই প্রথমবারের মতো আমি জীবনটা উপভোগ করতে পারছি। আর এটা ইসলামই আমাকে দিয়েছে। আমার নাম লরেন বুথ। আমি একজন সাংবাদিক আর লেখক এবং অভিনেত্রী। আমি ১৯৬৭ সালে উত্তর লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড এ জন্মগ্রহণ করি। ২০১০ সালে আমি ইসলাম গ্রহণ করি। আলহামদুলিল্লাহ। আমি একজন শিখ হিসেবে বড় হয়েছি। আমার বাবা-মা ভারতীয়। তবে আমার জন্ম ও বেড়ে উঠেছি ব্রিটেনে। আমি ইসলাম গ্রহণ করি ২৪ বা ২৫ বছর বয়সে। আমি লন্ডনেই জন্মেছি এবং বড় হয়েছি। আমি আসলে নিজেকে একজন নাস্তিক ভাবতাম। আমি জন্মেছি এবং বেড়ে উঠা ইস্ট লন্ডনে। আমার মা ইতালিয়ান। আমার মনে আছে আমি মায়ের সঙ্গে চার্চে যেতাম। চার্চে গিয়ে আত্মিকভাবে ও মানসিকভাবে খুব ভালো লাকতো, কিন্তু আমার মনে অনেক প্রশ্ন ছিল। এবং অনেক যুক্তি দিয়েও বুঝতে পারতাম না কীভাবে একজন মানুষ হয়ে আরেকজন মানুষের ইবাদত করবো। খুব ছোট বেলা থেকেই আমার এই ব্যাপারটা সঠিক মনে হতো না। তাই আমি এই প্রশ্নগুলো করতাম এবং একদিন আমার মনে আছে আমি চার্চের পাদ্রীর সঙ্গে কথা বলেছিলাম, আমি ওনাকে এই প্রশ্নটা করেছিলাম, এবং উনি আমাকে বললেন, "শুধু বিশ্বাস রাখো।" আমার দাদীর প্রতি সম্মান থাকার কারণে আমি তাকে বেশি প্রশ্ন করতে পারতাম না। আর আমি বড় হওয়ার সময় তাকে জিজ্ঞেস করতাম, "তিনজন কেন?" আর তিনি উত্তরে বলতেন, "তোমাকে শুধু বিশ্বাস করতে হবে।" মনে হতো প্রশ্নের দরজা সবসময় বন্ধ ছিলো। অনেক প্রশ্ন ছিল যার উত্তর আমার জানা ছিল না, এবং যিশু যে সৃষ্টিকর্তার পুত্র এই ধারণাটা আমাকে খুব দ্বিধায় ফেলতো। যদি সৃষ্টিকর্তা সর্বশক্তিমান হন, তাহলে কেন, কেন-- এই ধারণাটা তাহলে কেন?

যিশুকে আমাদের পাপের জন্য মরতে হবে, আমরা কেন যিশুর ইবাদত করবো? এই বিশ্বাসটা আমার কাছে একদম অদ্ভুত ছিল। আমি এটা বুঝতে পারতাম না। এখনো মনে আছে, আমি প্রশ্ন করতাম আর সবাই আমাকে থামিয়ে দিত আর সবাই বলতো, “এত প্রশ্ন করা ঠিক না।” তারা আমার প্রশ্নে হয়তো রেগে যেত না, কিন্তু আমাকে একরকম অবহেলাই করতো। আমি বুঝতাম না, তিনি সৃষ্টিকর্তা হয়ে থাকলে, তিনি কেন মৃত্যুবরণ করবেন? সৃষ্টিকর্তা মারা যায় না। আর এই জিনিসটা বুঝতে আমার সবসময় কষ্ট হতো। সৃষ্টিকর্তা কেন তাঁর সন্তানের সঙ্গে এমন করবেন? যদি যিশু তার সন্তান হয়, তাহলে কেন তাকে কষ্ট দিলেন, কেন বাঁচালেন না? আমি শিশু অবস্থায় এগুলো ভাবতাম। উনি কী ধরনের সৃষ্টিকর্তা, যে তার সন্তানের সঙ্গে এমনটা হতে দিলেন? আপনি প্রথম ইসলাম সম্পর্কে কীভাবে জেনেছিলেন?

আপনার কি আগে কোনও ভুল ধারণা ছিল? হ্যাঁ, ছিল। আমার মনে হয়তো একটু ইসলামভীতিই ছিল। আমি ভাবতাম, অনেক কিছু ঘটছে, যেমন ইরাকে যুদ্ধ, বা এমন কিছু। আর আমার মনে হয় আমি বেশ ভয় পেতাম, যখন শুনতাম “আল্লাহু আকবার” শব্দটা আমার ভয়ই লাকতো। আমি তখন ভাবতাম মুসলিম পুরুষরা সবাই খুব কঠোর, মানে স্ত্রীদের মারে, আর এমন অনেক ভুল ধারণা ছিল। ভাবতাম মুসলিম নারীরা অবদমিত থাকে। কেন তাদের হিজাব পরতে হয়? এটা ঠিক মনে হতো না। আমার মনে অনেক বিভ্রান্তি ছিল। ইসলামের কোন বিষয়টি আপনাকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছিল?

মজার ব্যাপার হলো, মুসলিম নারীদের নিয়ে আমার অনেক ভুল ধারণা ছিল, সবার আগে আমি ইসলাম ধর্মে নারীদের অবস্থান নিয়েই খোঁজ নিতে শুরু করলাম। আমি অনেক বক্তৃতা শুনেছি, ইন্টারনেটে অনেক কিছুই পড়েছি। দারুসসালাম থেকে প্রকাশিত একটা বই আছে, ‘দ্য গ্রেট উইমেন অফ ইসলাম’ যেটা অসাধারণ একটি বই। আমার মনে হতো ইসলামে নারীরা অবদমিত। তারপর যখন এ সম্পর্কে পড়তে শুরু করলাম তখন বুঝলাম, না, সমাজই নারীদের দমন করে, এবং ইসলাম মূলত বেশ আধুনিক। সত্যি বলতে এটা এতটাই আধুনিক যে, আমরা সমাজের মানুষ হিসেবে এখনও তাল মেলাতে পারছিনা। ইসলামের সঙ্গে আর ইনশাআল্লাহ, এটা শক্তিশালী হয়ে ফিরবে কারণ এখন আমরা বেশ সমস্যায় পড়ছি, লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকা আর লিঙ্গপরিচয় নিয়ে। আমার বিশ্বাস এসব সমস্যার উত্তর ইসলামেই আছে। হয়তো এখনই সময় আমাদের বোঝার, কারণ ইসলাম নানা দিক থেকে নারীদের মুক্তি দেয়। এটা নারীদের রাখে অনেক উঁচু মর্যাদায়। আসলে যদি সমাজ এটা বুঝতো, যেমনটা আমি বুঝেছিলাম, সুবহানআল্লাহ, ইসলাম জানেন তো নারীদের অনেক অধিকার দিয়েছে। এমনসব অধিকার যেগুলো এই দেশে আগে কখনও দেওয়া হয়নি, কিন্তু মুসলিম দেশগুলোতে ছিল। মুহাম্মদ (সাঃ) আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে নারীদের সম্মান করতে হয়, জানেন তো যেমন ধরুন, আমাদের দেনমোহরের ব্যবস্থা নিয়ে। একটা শুধু একটা উদাহরণ। আগে নারী পুরুষকে যৌতুক দিতো। আর এখন পুরুষ নারীর জন্য দেনমোহর দেয়। এটা কিন্তু অনেক বড় একটা পরিবর্তন। যেই মানুষেরা, যারা একসময়, মেয়ে সন্তান জন্মালে কষ্ট পেত, তারা তাদের হত্যা করতেও দ্বিধা করত না, নবী মুহাম্মদ (সাঃ) বলতেন, যদি কেউ মেয়ে সন্তান বড়ো করে, মানে সঠিকভাবে বড় করে। তাহলে তাকে জান্নাত দেওয়া হবে। আর সে জান্নাতে আমার পাশে থাকবে। এমনকি ছোট ছোট বিষয়েও, যেমন, যদি কোনো নারী ঝগড়া করে, কথা কাটাকাটি করে, তবে চুপ করে থাকো। তিঁনি এটাই করতেন। তিঁনি চুপ থাকতেন। উমর বিন খাত্তাব এটা শিখেছিলেন। আগে তিনিও স্ত্রীদের সঙ্গে তর্ক করতেন, কিন্তু পরে জানতে পরেন, চুপ থাকাই উত্তম। ঠিক আছে নারীদের আবেগপ্রবণ হতে দিন, নারীদের আবেগকে প্রকাশ করতে দিতে হবে। জানেন তো সুবহানআল্লাহ, কোন ধর্ম এমনটা শেখায়?

এমন হাজার উদাহরণ দেয়া যায়, কিন্তু আমার মনে হয় এতে অনেক সময় লাগবে। আমার মনে আছে, ২০০৮ সালে, আমি তখন মুসলিম ছিলাম না, গাজায় আটকে গিয়েছিলাম। তাদের সঙ্গে ছিলাম, সেসব মানুষ যারা আজও অবরুদ্ধ আছে, আউজুবিল্লাহ (আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইছি) তখন রমজান মাস চলছিল আর আমি দেখলাম মানুষজন একজন আরেকজনের উপকার করছিল। যদিও তাঁরা গরিব ছিল। তো আমি একদিন ভাবলাম, "আমিও কিছু ভালো কাজ করি, কিছু ভেড়ার মাংস দিই।" রাফাহ শরণার্থী ক্যাম্পের এক পরিবারকে তো আমি খাবারটা এক মুসলিম পরিবারের কাছে নিয়ে গেলাম। একজন মা দরজা খুলে বললেন, “স্বাগতম, আসসালামু আলাইকুম।" তার মধ্যে ছিল এত আলো, নূর, থাকতেন ছোট্ট ঘরে না খাওয়ার কিছু আছে, না পানির ব্যবস্থা। তাকে জিজ্ঞাস করলাম, “আপনি কেন রোজা রাখছেন?” আমি মনে করি না, আপনার স্রস্টা আপনাকে ভালোবাসেন। বলতে খারাপ লাগছে, কিন্তু আমি মনে করিনা। তিনি কেন আপনাকে গাজাবাসী বানিয়েছেন, মাসের ৩০ দিন তৃষ্ণার্ত রাখেন, আর ৩১তম দিনেও কি পানি খেতে পারছেন?

তিনি বললেন, “না, পানি নেই।” বললাম, “তাহলে কী লাভ?” এখানে ৩০ দিন গাজায় আপনি না খেয়ে থাকেন। ৩১ তারিখে গিয়ে আপনার ফ্রিজ ভর্তি থাকে? তিনি বললেন, “না, থাকবে না।” আমি বললাম, “তাহলে আপনার স্রষ্টা আপনাকে ভালোবাসেন না।” বললাম, “রোজা রাখার একটাও ভালো কারণ বলুন তো!" আর একদম খালি ঘরে বসেই তিনি বললেন, আমি রোজা রাখি গরীবদের কথা মনে রাখার জন্য।” আর তখনই আমার মনে হলো, "যদি এটাই ইসলাম হয়, তবে আমিও মুসলিম হতে চাই।” কারণ এমন ধর্ম যেখানে স্রস্টা আপনাকে কিছুই না দিলেও তার প্রতি বিশ্বাস রেখে কৃতজ্ঞ থাকা যায়। এমন বিশ্বাস আছে যেখানে, এক বাটি খাবার থাকলেও অপরিচিত কাউকে দেওয়া যায়। ইয়া আল্লাহ!

অসাধারণ। আল্লাহ তায়ালা আমার জীবনে একজনকে পাঠিয়েছিলেন। সে আমার সহপাঠী ছিল, সেকেন্ডারি স্কুলে সে ছিল প্র্যাকটিসিং মুসলিম। আর আমি ইসলাম নিয়ে পড়াশুনা শুরু করলাম, আর্টিকেল পড়তাম। তখনকার সময় ক্যাসেট শুনে ইসলাম সম্পর্কে জানতাম। এবং কুরআন পড়া শুরু করেছিলাম একরকম দাম্ভিকতা থেকে। এবং তা হলো আমি এর অসংগতিগুলো বের করতে চেয়েছিলাম তাকে বাঁচানোর জন্য। কারণ আমার মনে হতো হিজাব পরা ভুল। এবং আমার মনে হতো এটা তার জীবনকে এবং ক্যারিয়ারের সফলতায় প্রভাব ফেলবে জানেন আমার মনে হতো, আমি যখন বড় হয়েছি, আমি যা দেখে বুঝতাম সেটা হলো, পুরুষেরা সামনে হেটে চলছে, আর স্ত্রীরা দুই মাইল পেছনে হাটছে। আমার মনে এরকম অনেক বিভ্রান্তি ছিল। তো তবে মজার বিষয় হলো, একদিকে আমি এটাও লক্ষ্য করেছিলাম যে এই ধর্মে এমন কিছু ছিল যেটা তার মধ্যে একটা অদ্ভুত প্রশান্তি এনে দিয়েছিল। আর আরেকদিকে, এই ধর্মই তাকে বাধা দেবে। মনে হতো তাকে অবদমিত করবে, তাকে আটকে রাখবে। তো শুরু করলাম, আমরা বিতর্ক করতাম, এবং আমরা নিয়মিত আলোচনা করতাম। এবং সময়ের সাথে আমি বিশ্বাস করতে শুরু করলাম যে ইসলামই সত্য। এবং আমি ভয় পেয়েছিমাল আমি বিশ্বাস করতে শুরু করলাম। আমার মন পাল্টে গেল, আমার চিন্তা বদলে গেল। কোন ভুল খুঁজে পাইনি। আমি শুধুই পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা খুঁজে পেয়েছি। আমি কুরআনে পেয়েছি বৈজ্ঞানিক প্রমাণ আর, আমার গবেষণায় আমি কুরআনের ভাষাগত অলৌকিকতা খুঁজে পেয়েছি। কোন ভুল খুঁজে পাইনি। আর তাই আমি ভয় পেয়েছিলাম, যদিও বয়স অল্প ছিল সে সময়, কারণ আমি এমন মানুষ ছিলাম যে, আমি যদি কিছু গ্রহণ করি, কিছু বিশ্বাস করি, তবে আমি আমার ১৫০ ভাগ সেখানে ঢেলে দেই। তাই আমি বুঝতে পারছিলাম যে, আমি বদলে যাচ্ছি, বিশ্বাস করতে শুরু করেছি, তার মানে জীবন বদলাতে হবে, আর এটাই ভয় করছিলাম। সারাক্ষণ আমি ইসলাম নিয়ে ভাবতাম। আর সেসব জিনিস যা জানতে পেরেছি, মনে হতো এই চিন্তাগুলা আমার উপরে আছড়ে পড়ছে, এই চিন্তাগুলো যেমন পবিত্র কোরআনে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ, আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ এবং আরও অনেক কিছু যেমন নবুয়তের প্রমাণ এরকম একটার পর একটা চিন্তা মাথায় আসছিল। তাই আমি একটু হাটতে বের হলাম। ওই আমি যেখানে থাকতাম। ওই একটু মাথাটা ঠান্ডা করার জন্য। আমি একটা রাস্তায় এলাম যেটা আমি প্রায়শই পার হই। আমি দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলাম সবুজ বাতির জন্য। সবুজ বাতি জ্বলে উঠল, সবাই রাস্তা পার হলো, আমি পারলাম না। আমার মনে হচ্ছিল আমার পা যেন মাটিতে আটকে আছে। আমার শুধু ভাবছিলাম এই রাস্তা পার হতে গিয়ে, বা অন্য কোনো রাস্তা পার হতে গিয়ে, যদি কোনো গাড়ি আমায় ধাক্কা দেয়, সেই সত্য জেনে আমি যদি আমি মারা যাই, তাহলে আমার পরিণতি কী হবে?

এই সত্যের অর্থ কি? তখন হঠাৎ আমার মনে হলো, যা আমার হৃদয়ে আছে সেই বিষয়ে আমি কেন সাক্ষ্য দিচ্ছি না। একটি বিষয় যে কারণে আমি বিশ্বাস করেছিলাম যে ইসলামই সত্য ধর্ম, তা হলো পবিত্র কোরআন কখনোই পরিবর্তিত হয়নি, এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ তা মুখস্ত করেছে। আমি কখনও লক্ষ লক্ষ মানুষকে বাইবেল মুখস্থ করতে দেখিনি। তাই আমার কাছে, এটি একটি অলৌকিক ঘটনা। এটি কোন ছোট বই না, বরং বেশ বড় একটি বই। তো এটা আমাকে আকর্ষণ করেছে। নবী (সাঃ)-এর কোন বিষয়টি আপনাকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছে?

তার চরিত্র। সবসময়ই তার চরিত্র। সবসময় তার চরিত্র। নারীদের প্রতি তাঁর আচরণ। তিনি সেই পুরুষের সাথে কথা বলতে চাইতেন না যে তার কন্যাকে চুমু খায় না। তিনি তাঁর স্ত্রীদের আবেগ প্রবণ হতে দিতেন, অনুভূতিপ্রবণ হতে দিতেন, আর তা মোকাবেলা করতেন সর্বোত্তম উপায়ে। তিনি তাঁর সাহাবীর বাসায় রাতের খাবারের আমন্ত্রণে যাননি কারণ ওই সাহাবী তাঁর স্ত্রী আয়েশাকে (রাঃ) আমন্ত্রণ জানাননি। সবকিছুই, তাঁর নম্রতা, তাঁর ন্যায়বিচার। সদাচরণ সকল স্ত্রীদের প্রতি, জানেন তো বাড়িতে তাঁর কোমলতা প্রদর্শন, আর যুদ্ধক্ষেত্রে তার শক্তি। জানেন তো তাঁর দুর্বলতা যখন তিঁনি তায়েফে ছিলেন, যখন তিনি সাহায্যের জন্য গেলেন, তার পরিবর্তে, কী হয়েছিল দেখুন। বিষয়টা এমন যে, তিঁনিও কাঁদতেন। "এখনকার পুরুষরা ভাবেন, আমরা কাঁদতে পারবোনা। আমাদের বড় হতে হবে," না!

নবীজী কেঁদেছেন। আমরা লিঙ্গ নিয়ে কথা বলি পুরুষ কী, নারী কী। নবী (সাঃ)-এর দিকে দেখুন, জানেন তো, এখন আমি পড়ছি ইয়াসির কাধিরের লেখা সীরাত এবং প্রতিটি অনুচ্ছেদ থেকে আমি কিছু না কিছু শিখছি। কি অসাধারণ একটা বই। আমি সবাইকে এটা পড়তে বলব। সবকিছুই! তাঁর মৃত্যুশয্যার মুহূর্তে, আয়েশা (রাঃ) তাঁর মাথাব্যথার অভিযোগ করছেন। তিঁনি তাঁর মাথাব্যথার অভিযোগ করছেন এবং তিঁনি মজা করে বললেন, "না, কিন্তু আমার মাথাব্যথার কী হবে? আমি তো মারা যাচ্ছি।" সুবহানআল্লাহ, তিনি যা কিছুর মধ্য দিয়ে গিয়েছেন আমরা আরও ভালো মানুষ হতে পারি এবং জান্নাতে যেতে পারি। যা কিছু তিঁনি বিসর্জন দিয়েছেন, তাঁর পরিবার, তাঁর সম্পদ থেকে, তিনি যে সমস্ত পরীক্ষার মধ্য দিয়ে গেছেন, কেন? আমাদের জন্য। আপনার শাহাদাহ (ঈমানের ঘোষণা) আপনি কীভাবে গ্রহণ করেছেন?

সত্যি বলতে, এটা আমার জীবনের সবচেয়ে খুশির দিন ছিল। একটা আনন্দময় অনুভূতি ছিল। আমি ঠিক অনুভূতিটা ব্যাখ্যা করতে পারব না। বিষয়টা এমন যেন সকল বোঝা কাঁধ থেকে নেমে যাচ্ছে। আপনি খুবই হালকা অনুভব করছেন। যেন মনে হবে একজন নতুন মানুষ। তো, সেটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে খুশির দিন। সত্যি। আমি কখনও মসজিদে বা অন্য কোথাও শাহাদা গ্রহণ করিনি কারণ যতদূর আমি বুঝতে পেরেছি, আমার শাহাদা গ্রহণের ব্যাপারটা আল্লাহর এবং আমার মধ্যকার। আমি এম্পায়ার স্টেট ভবনের শীর্ষে গিয়ে মানুষকে চিৎকার করে বলতে চাইছিলাম, "আল-কুরআন সংগ্রহ করে পড়ুন! আপনারা আসলে সত্যিটা জানেন না!

আপনি যদি বইটি পড়েন আপনি পৃথিবী সম্পর্কে সব জানতে পারবেন!" সত্যিই পারবেন। তো পরবর্তীতে আমি মসজিদে গিয়ে আমার শাহাদাহ গ্রহণ করেছিলাম। হ্যাঁ, আলহামদুলিল্লাহ। এবং সেখানে প্রায় ৬০, ৭০ জন লোক ছিল। আর সেই সময়ে আমার সবচেয়ে কাছের মানুষগুলো শাহাদাহ নেবার পরেও তারাই আমার সবচেয়ে কাছের মানুষ। আলহামদুলিল্লাহ। তো আমার শাহাদাহ গ্রহণ অসাধারণ ছিল। মনে আছে আমি অনেক কাঁপছিলাম, কিন্তু ভালো লাগছিল। আসলেই ভালো ছিল। আমার মনে আছে শাহাদাহ নেবার পর আমি গোসল করেছি, এবং সত্যিকার অর্থেই অনুভব করেছি, এটি আমার জন্য একটি নতুন জীবন। একটি নতুন শুরু। এটা জেনে যে আল্লাহ সবকিছু মুছে দেন আর তারপরও আপনি যা ভালো করেছেন তার প্রতিদান দেন। সত্যিই ভালো লাগছিল এবং আমি একজন মুসলিম নারীর পরিচয় গ্রহণ করতে প্রস্তুত ছিলাম। তো আমি পড়লাম, পড়লাম, পড়লাম। আমি বাড়ি ফিরে গেলাম এবং পরবর্তী সাত দিনে, সবকিছু বদলে গেল। আমি নামাজ পড়তে চাইছিলাম। আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করতে চাইছিলাম। আমি আমার মাথা মাটিতে ঠেকালাম যেমনটা মুসলিমদের করতে দেখেছি আমি শুধু দুটি কথা বারবার বলছিলাম। শুধু বললাম "ধন্যবাদ" এবং "দুঃখিত।" আমি বললাম, "ধন্যবাদ আমাকে এই জীবন দেওয়ার জন্য, আমাকে ভালোবাসা দেবার জন্য, যা আমি এতদিনে চিনতে পারিনি। আমার অপূর্ব কন্যাদের জন্য। আমি ভালোবাসা বুঝি। আমার সে সুযোগ হয়েছে। ভালো পরিবার আছে। আর তোমাকে চিনেছি, "ধন্যবাদ" আর "দুঃখিত।" অনেক বেশী দুঃখিত আর আমি প্রায় এক সপ্তাহ ধরে কেঁদেছি। আপনার পরিবার এবং আশেপাশের মানুষ কেমন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল?

শাহাদাহ নেবার পর, আমি কাউকে জানাইনি যে আমি একজন মুসলিম। মানুষ যদি জানতে পারতো, তাহলে আমার কোন আপত্তি ছিল না। কিন্তু বিশেষ করে আমার ধর্মান্তরের সেই প্রাথমিক পর্যায়ে, আমি কাউকে জানাতাম না যে আমি একজন মুসলিম। তাই আমার পরিবারকেও সেটা জানাইনি। আমি সেটা করিনি কারণ আমার মনে হয়, আমাদের নিজের ভেতর শক্তিকে খুঁজে বের করা বেশী গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে আপনি যদি একা হন। এই ধর্মে আপনি কে তা আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে এবং নিজেকে শক্তিশালী করতে হবে, এইসব কথায় জড়ানোর আগে। ব্যক্তিগতভাবে, আমি বিতর্কে জড়াতে চাইনি। আমি চাইনি যে লোকে আমাকে বলুক এটা ঠিক অথবা এটা ভুল বা এটা আমি কেন এটা করেছি এই সমস্ত প্রশ্নগুলো আসতো ভালোবাসা থেকে। তারা আমাকে এই প্রশ্নগুলো করবেন কারণ তারা আমাকে ভালোবাসে, চিন্তা করেন আমাকে নিয়ে। এবং এই বিষয়টা তাদের কাছে একেবারেই নতুন। আমি জানতাম আমি কী করছি, এবং আগে বলেছি, এটা আমার এবং আল্লাহর মধ্যকার বিষয়, আর আমি চাইনি অন্য কেউ এর মধ্যে আসুক। কারণ দিনের শেষে, আমাকে স্রষ্টার সামনে দাঁড়িতে হবে। আমি যা করেছি এবং তার ফল স্বরূপ যা হবে, এবং এতে অন্য কারোর কোন ভূমিকা নেই। তাই আমি কাউকে বলিনি। আরও, হয়তো আমি একটু ভয় পেয়েছিলাম, মানুষকে জানাতে। কিন্তু আমার পরিবার যেভাবে জানতে পেরেছে, আমার মনে নেই হয়তো, আমার মনে আছে। আমরা সবাই রাতের খাবার খেতে বেরিয়েছিলাম, এবং আমরা একটি রেস্তোরাঁয় বসে ছিলাম, তো আমি আমার বাড়ির একমাত্র মেয়ে। একমাত্র বড় মেয়ে। তাই বাবার কাছে আমি সেই ছোট্ট মেয়েটি আছি। আমার বিয়ে নিয়ে কথা বলছিল। বাবা তখন বলছিলেন, "যখন আলমা বিয়ে করবে, একটি সুন্দর গির্জায় আমি তাকে করিডোর ধরে নিয়ে যাব," আর আমার বিয়ে নিয়ে প্রচুর পরিকল্পনা চলছিল। আমি খুব চুপচাপ ছিলাম শুধু নিজের খাবার উপভোগ করছিলাম, আর তাদের আলোচনা করতে দিচ্ছিলাম। তারপর আমার মা বললেন, "এমনটা সম্ভব না।" এবং আমার বাবা, অবশ্যই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। এবং তিনি বললেন, "কেন হবে না?" তখন মা বললেন, "কারণ তোমার মেয়ে মুসলিম।" তো আমি তখন দ্রুত খেতে শুরু করে দিয়েছিলাম। নামাজ পড়তে দেখেছিলেন তিনি। আমার মনে হয় তিনি আমাকে আমার ঘরে নামাজ পড়তে দেখেছিলেন এবং বাকিটুকু বুঝে নিয়েছিলেন যে, আমি শাহাদাহ গ্রহণ করেছি এবং মুসলিম হয়েছি। তারা ভেবেছিল এটা আমার একটা ফেজ। বেশ অনেক দিন ধরে। আর আবার, হয়তো আমার বয়সের কারণে বা আমি যেমনটা ছিলাম তখন। যখন আমি কোনও কিছুর প্রতি আগ্রহী হতাম, এবং এই ধর্মের ব্যাপারটাও ছিলো, আমি খুবই প্রতিরক্ষামূলক হয়ে উঠতাম। তাই নিজের ধর্মকে রক্ষা করেছিলাম। আমার ধর্ম হানোর ভয় পাচ্ছিলাম। যেটা সত্য খুঁজে পেয়েছি সেটা হারানোর ভয় পাচ্ছিলাম। তো বাবা মা আমার সিদ্ধান্তের প্রতি খুবই শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। তারা ইসলাম বুঝতেন না, কিন্তু তারা আমার পরিবার। আমার দাদি আমাকে একপাশে নিয়ে গেলেন এবং তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন আমি কি খুশি। আর আমি বললাম, "হ্যাঁ, আমি খুব খুশি।" বললেন, "ঠিক আছে। যা ইচ্ছা করো।" আর আমার পরিবারকে বলেলেন, "ওকে ওর মতো ছেড়ে দাও। সে তো মদ্যপান করছে না, ধূমপান করছে না, রাতে বাইরে থাকে না। সে তার ছেলের যত্ন নিচ্ছে। সে ঠিকঠাক পোশাক পরছে। ঠিক আছে।" শেষ পর্যন্ত তিনি আমাকে গ্রহণ করলেন। এবং তিনি পুরো পরিবারকে আমার নতুন ধর্মকে সম্মান করতে বললেন মুসলিম হওয়া এবং হিজাব পরা কি আপনার স্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ করে?

ইসলাম গ্রহণ করার পর, আমি স্বাধীনতা অর্জন করেছি কারণ স্বাধীনতা হলো মানুষের চাপানো শৃঙ্খলকে দূর করা। যখন সত্যিকার অর্থে আপনার স্রষ্টার সাথে সংযোগ স্থাপন করেন এবং আপনার উদ্দেশ্য বুঝতে পারেন, তখন আপনি স্রষ্টার জন্য বাঁচেন অন্যদের জন্য নয়। এবং এটাই প্রকৃত স্বাধীনতা। তো হ্যাঁ, আমি এখন হিজাব পরি, আর হ্যাঁ, কিছু বাধ্যবাধকতা আছে যা আমার মালিকের জন্য আমাকে পালন করতে হয়, আমি স্বাধীন কারণ আমার সিদ্ধান্ত, আমার পছন্দ, আমি কোথায় যাই, আমি কী করি, আমি না করি, সবই তাঁর জন্য, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। তাদের জন্য নয় যারা একই যাত্রায় আছেন। তো, হ্যাঁ, আমি মুক্ত। আমি মুক্তির স্বাদ অনুভব করেছি। আমার মনে হয়েছিল হিজাব আমাকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত করে দিয়েছে। আর ক্ষমতা আছে, বেছে নেওয়ার ক্ষমতা আছে, কে আমাকে দেখবে আর কে দেখবে না। কোন বিলবোর্ডের মতো নয়, যেখানে মদ বিক্রি করার জন্য একজন নারী অর্ধনগ্ন অবস্থায় আছে, আমার কাছে, সেটা নিপীড়ন। আর আমার কাছে, এটা মুক্তি। বিষয়টা অবশ্যই কঠিন ছিল, কারণ আমি এমন মেয়ে ছিলাম যখন রাস্তায় বেরোতাম, আমি এমন মেয়ে ছিলাম চাইতাম মানুষ আমার দিকে দেখুক, কিন্তু খারাপ লোক যদি তাকাতো তাহলেও বিরক্ত হতাম। এবং আমাকে এগুলো পেছনে ফেলে আসতে হয়েছিল, যা সত্যিই খুব কঠিন ছিল কারণ আমার পরিচয়ের অনেকটাই নির্ভর করতো মানুষ আমার দিকে তাকাচ্ছে কিনা তার উপর। এবং এটা সত্যিই কঠিন, কারণ আমি যখন যুক্তরাজ্যের রাস্তায় হাঁটি, আমার মনে হয় আমার অস্তিত্বই নেই। যেন সম্পূর্ণ অদৃশ্য। আর সেই আমিই আগে একসময় অভিনেত্রী হতে চেয়েছিলাম, এমন একজন যে একটি বিশেষ ধরণের পোশাক পরে, আর আগে আমি এসব কিছুই চাইতাম না। এটা অবশ্যই আমার জন্য একটি বিরাট বড় পরিবর্তন ছিল। কিন্তু আমি আনন্দ পেতে শুরু করলাম, আমি সেই অদৃশ্যতা উপভোগ করতে শুরু করলাম। আমি তখন রাস্তা দিয়ে হাঁটা উপভোগ করতে শুরু করলাম, মানে শুধুই হেঁটে চলা, মানুষকে দেখানোর জন্য না। আমার মনে হলো মানুষ কী ভাবছে সেটার চিন্তা ছাড়াই প্রথমবারের মতো আমি জীবনটা উপভোগ করতে পারছি। আর এটা ইসলামই আমাকে দিয়েছে। যখন আপনি মুসলিম হওয়ার কথা ভাবছেন, আপনাকে আল্লাহর সাথে সংযোগ গড়ের দিকে একটু নজর দিতে হবে। তো এক ধরণের প্রক্রিয়া, যা আপনাকে অনুসরণ করা প্রয়োজন এটা বোঝার জন্য যে কেন আপনার চুল ঢেকে রাখবেন, কেন শরীর ঢেকে রাখতে হবে, কেন কিছু জিনিস থেকে বিরত থাকবেন। তো আমার মনে হয়, আমি তাদের এই পরামর্শ দেব যারা খুঁজছেন, ভাবছেন, "আমি মুসলিম হতে চাই। আল্লাহর উপর বিশ্বাস করি। আমি বিশ্বাস করি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর সুন্নায়, কিন্তু আমি আমার চুল ঢেকে রাখতে চাই না বা আমি এটা ছাড়তে চাইনা ওটা ছাড়তে চাইনা।" এটা হবে। পরিবর্তন আসবে, একবার যদি আপনি সেই সম্পর্ক স্থাপন করেন তাহলেই। অনেক কিছু ছিল যা করার কথা আমি কখনও কল্পনাও করিনি। পর্দা করা ছিল তার মধ্যে একটি। পার্টি বন্ধ করা ছিল আরেকটি, বিশ্বাস করুন বা নাই করুন। যত আমার আল্লাহর সাথে সম্পর্ক বাড়ছিল, যত ধর্মটাকে শিখছিলাম, স্বাভাবিকভাবেই, আমি আমার মালিককে খুশি করতে চাইছিলাম। আল্লাহর সাথে সম্পর্ক স্থাপনের উপর জোর দেওয়া উচিত, আল্লাহর জানেন তো রহমতকে বোঝা, আল্লাহর ভালোবাসাকে বোঝা, এটা বুঝা আল্লাহ আসলে কে?

আপনি সময় নিন, বুঝুন আপনি কার ইবাদত করছেন, বুঝুন আপনি কেন তাঁর ইবাদত করছেন? এবং সব ঠিক হয়ে যাবে। প্রত্যেকেরই নিজস্ব ব্যক্তিগত একটা গল্প আছে আর আমি আমার জীবনে অনেক ধর্মান্তরিত ব্যক্তিকে দেখেছি, এমনকি সীরাতেও দেখিছি, কিভাবে মানুষ মুহাম্মদ (সাঃ)-এর যুগে ইসলাম গ্রহণ করেছিল। সব কিছু ধীরে ধীরে সহজে হচ্ছিল, এমনকি মদ বাদ দেয়ার জন্যও সময় লেগেছিল, বুঝলেন? বিষয়গুলো হঠাৎ করে ঘটেনি। অনেকেই আমাকে জিজ্ঞাস করে, "ইসলাম কি কঠিন নয়?

খুব কষ্টকর না?" কিন্তু কোন রকম দ্বিধা ছাড়াই, আমি আপনাকে বলতে পারি ইসলাম ছাড়া জীবনযাপন করা কঠিন। পরম করুণাময় স্রষ্টা আমাদের এই জীবন দান করেছেন উপহার হিসেবে, তিনি আমাদের জোর করেননি। সব আপনার সামনে আছে, এখন সিদ্ধান্ত আপনার, ফলাফলও আপনার। তাই বিচক্ষণতার সাথে বেছে নিন। মানুষ মনে করে যে যখন আপনি মুসলিম হবেন, আপনি আরবদের মতো হয়ে যাবেন, আপনি আপনার নাম, পোশাক এবং ঐতিহ্য পরিবর্তন করবেন। তাহলে কি আপনার সংস্কৃতি আঁকড়ে ধরে থাকা সম্ভব? এবং একই সাথে একজন মুসলিম হওয়াও সম্ভব?

আমার মনে হয় মানুষের সবচেয়ে ভুল ধারণা হলো, যখন আপনি ইসলাম গ্রহণ করেন, আপনি একজন আরব হয়ে উঠছেন অথবা আপনি অন্য কোনও সাংস্কৃতিক অংশে পরিণত হচ্ছেন যা আপনার নয়। আর আমি সত্যি বলতে, যখন আমি প্রথম ইসলাম গ্রহণ করি, যা প্রায় ২০ বছরেরও আগের, আমি কোনও প্রত্যাবর্তিত মুসলিম পাইনি, কোন ধর্মান্তরিত, কোন ল্যাটিনো মুসলিমও ছিলনা সেই সময়ে এবং আমার জন্য এটা খুবই কঠিন ছিল। এখন, পরিস্থিতি অনেক আলাদা। সময় বদলে গেছে। সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম এবং গ্রুপের মাধ্যমে, ইসলামের সম্পর্কে জানা যাচ্ছে, আমরা বুঝতে পারছি যে আপনাকে আরব হতে হবে না, দেশী হতে হবে না, রাশিয়ানও হতে হবে না। আপনি যেখান থেকেই আসুন না কেন আপনি অবশ্যই মুসলিম হতে পারবেন। এটি মানবজাতির জন্য নাযিল করা হয়েছে, এবং আপনি তার মধ্যে আছেন। তো অনেক ভুল ধারণা রয়েছে যে, দুর্ভাগ্যবশত, ইসলাম গ্রহণের দিনই নাম পরিবর্তন করতে হবে। এটা একটা ভুল ধারণা। কোথাও বলা নেই যে আপনাকে নাম পরিবর্তন করতে হবে, যতক্ষণ না এর কোন খারাপ অর্থ হয়। আপনি হতে পারেন মারিয়া, ফিলিপ, পাবেলো, তাতে কিছু যায় আসে না। এটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটা আপনার পরিচয়। আপনি অবশ্যই আপনার সংস্কৃতির ভালো দিকগুলো ধরে রাখতে পারেন। আমি এখনও রান্না করি মোলে, টাকো, ফ্লাউটা। আমি আমার সংস্কৃতিকে উপভোগ করি। আপনার যীশুকে ভালোবাসা এবং বিশ্বাস করা বন্ধ করতে হবে না এবং বুঝতে হবে যে তাঁর মা, মেরি এর নামে কুরআনে একটি সূরা আছে। তাই এগুলো আমাদের কাছে খুব একটা অপরিচিত নয়। আমরা তাদের ভালোবাসি এবং সম্মান করি এবং আপনাকে তাদের ভালোবাসা আর সম্মান করা বন্ধ করতে হবে না, বরং উল্টোটা করতে হবে। ইসলাম আমাদের জীবনকে অনেকভাবে উন্নত করে। তাই আপনার প্রিয় খাওয়ারগুলো চালিয়ে যান, আর উপভোগ করতে থাকুন আপানর নিজের সংস্কৃতি। এবং ইসলাম সম্পর্কে শেখা চালিয়ে যান কারণ ইসলাম জীবন বাবস্থা।
