# ইসলামের বিরুদ্ধে বই লিখতে গিয়ে তিনি মুসলিম হয়ে গেলেন! জোরাম ভ্যান ক্ল্যাভেরেন - এর মুসলিম হওয়া।

- Language: bn
- Published: 2026-08-26
- Canonical: https://blog.towardseternity.com/bn/blog/while-writing-anti-islam-book-he-became-muslim-the-story-of-joram-van-klaveren
- Source video: https://www.youtube.com/watch?v=yXCMU72z0Ms
- Channel: Towards Eternity

This is the cleaned transcript of the source video. The speech is unaltered.

---

কীভাবে এবং কেন আপনি ইসলাম বিরোধী বই লেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ? ঈমানের দৃষ্টিকোণ থেকে আপনার জীবন কেমন ছিল? আপনি কীসে বিশ্বাস করতেন? ইসলামের প্রতি আপনার সবচেয়ে অনুশোচনীও কটাক্ষমূলক মন্তব্য কোনটি ছিলো ? তখন আপনার আশেপাশের মানুষদের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিলো ?

যখন আপনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। আমি ভেবেছিলাম ইসলাম একটি মিথ্যা ধর্ম। ইসলাম বিপজ্জনক। আমি দুই হাজারের ও বেশি হত্যার হুমকি পেয়েছি। এবং অবশেষে আমি ইসলামের বিরুদ্ধে বই লেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। হে আল্লাহ আমাকে এমন একটি নিদর্শন দেখান জাতে আমি সম্পূর্ণ নিশ্চিত হতে পারি যে এটিই সেই পথ এই কারণে আমি দুইদিন ধরে ঘুমোতে পারিনি। আমি মেনে নিতে পারছিলাম না। ভীষণ অদ্ভুত লাগছিল। আসসালামুআলাইকুম, জোরাম ভ্যান ক্লাভেরেন ভাই। আমাদের আমন্ত্রণ গ্রহণের জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এবং আপনাকে আমাদের মাঝে পেয়ে আমরা আনন্দিত প্রথমেই আপনাকে জিজ্ঞেস করতে চাই, জোরাম কে?

ওয়ালাইকুম আসসালাম আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ আমাকে আমন্ত্রণ করার জন্যে। এখানে আসতে পেরে আমি খুবই গর্বিত । জোরাম ভ্যান ক্লাভেরেন ২৩শে জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন ১৯৭৯ সালে, অ্যামস্টারড্যাম শহরে, একটি খুবই সাধারণ পরিবারে বাবা, মা, ভাই ছোট বোন, একটি বিড়াল। অ্যামস্টারড্যামেই আমার জন্ম এবং বেড়ে উঠা' একটি সক্রিয় প্রোটেস্ট্যান্ট খ্রিস্টান পরিবারে। উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করার পর, তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব নিয়ে পড়াশোনা শুরু করি। কয়েক বছর শিক্ষকতা করেছি। নেদারল্যান্ডসে তখন অনেক কিছুই ঘটেছে, বিশেষ করে আমার জীবনে। এখন যখন আমি পুরো বিষয়টা অবলোকন করি, ইসলাম ধর্মের ব্যাপারে, আমি ফ্রিডম পার্টির জন্য রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়ে উঠলাম। সাংসদ মনোনীত হলাম এবং শেষে আমি ইসলাম বিরোধী বই লেখার সিদ্ধান্ত নিলাম, যার শুরুটা হয়েছিল ইসলাম বিদ্বেষ দিয়ে, পরিণত হয় আল্লাহকে খুঁজে পাওয়ার একটি মাধ্যমে এবং আমি মুসলিম হওয়ার মধ্য দিয়ে এই পথের সমাপ্তি। ঈমানের দৃষ্টিকোণ থেকে আপনার জীবন কেমন ছিল?

আপনি কীসে বিশ্বাস করতেন?

মুসলিম হওয়ার আগে, আমি রিফর্মড চার্চের একজন প্রোটেস্ট্যান্ট খ্রিস্টান ছিলাম। আমরা বাইবেল পড়তাম। বাইবেল অনুসারে আমাদের নাম রাখা হয়েছিল। খ্রিস্টধর্মে দীক্ষা দেওয়া হয়েছিল, গীর্জায় যেতাম, ইত্যাদি ইত্যাদি। তো আমরা, বলতে গেলে বেশ ধার্মিক খ্রিস্টান ছিলাম। অবশ্যই আমি বিশ্বাস করতাম যে একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন। আমি জান্নাত-জাহান্নামে বিশ্বাস করতাম, আমি ফেরেশতা, ওয়াহীতেও বিশ্বাস করতাম। এবং অবশ্যই যে ব্যাপারটি খ্রিস্টানদের, মুসলিমদের থেকে আলাদা করে সেটি হলো যে, আমি বিশ্বাস করতাম যীশু খ্রিস্ট (ঈসা আঃ) ঈশ্বরের পুত্র ছিলেন, এবং আরেকটু দার্শনিক ভাবে বলতে গেলে, আমি তাঁকেই ঈশ্বর বলে মানতাম। আমি অবশ্যই পুনরুত্থানে বিশ্বাস করতাম এবং এও বিশ্বাস করতাম যে যিশুকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছিল। এবং আমি প্রায়শ্চিত্তে (তওবা) বিশ্বাস করতাম। কিন্তু, যেহেতু ট্রিনিটি খুব জটিল একটি ধারণা, আপনি বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, এটি এখনও বেশ জটিল, কারণ বাইবেলের মতে ঈশ্বর অবিনশ্বর। কিন্তু আপনি যদি অবিনশ্বর হন, এবং একইসাথে আপনার যদি মৃত্যু হয়, আপনি তো একই সময়ে অমর এবং মরণশীল হতে পারেন না, তো একটু বড় হওয়ার পর, ধরুন ১৫-১৬ বছর বয়সে আমি প্রশ্ন করা শুরু করি সেসব বিষয়ে, যেসব আমার কাছে খুব যৌক্তিক মনে হতো না। আমি অনেক ধর্মযাজক, প্রচারক, এমনকি রাব্বিদের সাথেও কথা বলেছি। কিন্তু তাদের দেওয়া উত্তরগুলো সন্তোষজনক ছিলনা। যেটি বিষয়টিকে আমার জন্য আরও জটিল করে ফেলেছিল। শেষ পর্যন্ত সেসব বিষয়গুলোর ব্যাপারে আমার সন্দেহ থেকেই যায়। কিন্তু আমি অন্ধ বিচারকের মতো এগুলোকে এক পাশে রেখে ধর্মটাকে বিশ্বাস করে যাওয়াটাই ভালো মনে করলাম। হয়তো আমি পুরো বিষয়টি বোঝার মতো যথেষ্ট বুদ্ধিমান নই। এবং আমি তখনো ঈশ্বরে বিশ্বাস করতাম। বিশ্বাস করতাম যে যীশু (ঈসা আঃ) একজন খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব এবং ঈশ্বরের পুত্র। কিন্তু পূর্বে যা ঘটেছে, আমি ব্যাপারটিকে ঠিক সেভাবেই রেখে দিলাম। কীভাবে এবং কেন আপনি ইসলাম বিরোধী বই লেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন?

উচ্চ মাধ্যমিক শেষে, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই তুলনামূলক ধর্মতত্ব বিষয়ে পড়াশোনা করার জন্যে। এবং চমৎকার ব্যাপার হলো, আমার কলেজের প্রথম দিন, যতদূর মনে পড়ে ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর প্রথম দিন থেকেই বুঝলাম, আচ্ছা, এই মুসলিম ছেলেগুলা একটু পাগলের মতোই, এবং এই ধর্ম সত্য নয়। তার কয়েক বছর পর, নেদারল্যান্ডসে একজন লোক নাম থিও ভ্যান গগ্‌ (Theo Van Gogh) উনি একজন বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা ছিলেন যাকে রাস্তায় মেরে ফেলা হয়েছিল; তাকে গুলি করা হয়েছিল তাঁর গলা কাটারও চেষ্টা করেছিল এবং তারা তাঁর পেটে ছুরি ঢুকিয়ে একটি চিঠি রেখে যায় আয়ান হিরসি আলী নামের এক মেয়ের জন্যে। ওখানে লেখা ছিল, “এরপর তোমার পালা"। তো এটি আমার ইসলাম বিদ্বেষী অনুভূতিগুলোকে এমনভাবে দৃঢ় করেছিল যে, ভাবলাম আমাকে রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে কিছু করতে হবে এবং আমাদের দেশকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে এই অশুভ শক্তিকে (ইসলাম) থামাতে হবে। আপনি ইসলামের জন্যে রাজনীতি শুরু করেছিলেন?

হ্যাঁ এবং সত্যিই এটি ইসলামের কারণে ছিল। আর এটিই মূল কারণ ছিল আমার বই লেখার মানুষকে বোঝানোর জন্য যে - কেন ইসলাম পৃথিবীর জন্য বিপজ্জনক। আমি যখন বই লিখছিলাম - একটু আগেই আমি যে প্রশ্নগুলোর ব্যাপারে বললাম, খ্রিস্ট ধর্মের ব্যাপারে আমার সেই সন্দেহগুলো আবার মাথায় ঘুরতে লাগল। এবং অবশ্যই সেটি সত্যের ব্যাপারেই ছিল, কারণ আমি একজন বিশ্বাসী খ্রিস্টান ছিলাম এবং আমার যে খ্রিস্টান প্রশ্নগুলো ছিল, সেগুলোর উত্তর খুঁজে পেলাম ইসলামের আলোকে। কারণ অবশ্যই যখন আমি বই লেখা শুরু করি, অনেকে ভেবেছিলেন যে এটি একটি রাজনৈতিক বই, কিন্তু সেটি রাজনৈতিক বই ছিল না। এটি ধর্মীয় বই ছিল। কারণ আমি মানুষকে দেখাতে চেয়েছিলাম, ইসলাম ধর্ম হিসেবে কেন ভয়ংকর। এবং আমি খ্রিস্টান দৃষ্টিকোণ থেকে বইটি লিখছিলাম। অতএব, শুরুতে আমি খ্রিস্টান ধর্মে ঈশ্বরের ধারণা এবং ইসলামিক ধারণার একটি তুলনা তৈরী করতে চাইলাম। আমার ট্রিনিটির ব্যাপারে বেশকিছু সন্দেহ ছিল এবং আমি ইসলামে তাওহীদ মানে ঈশ্বরের একত্ব দেখলাম হ্যাঁ এবং সেটি আরও যৌক্তিক মনে হলো। আর তারপর আমি ভাবলাম, বেশ, আমি বাইবেল আবার পড়ব আরও জানতে, নিজেকে পুনরায় ঝালিয়ে নিতে। আচ্ছা, কেন ইসলামে যে তাওহীদের ধারণা, এক স্রস্টার ধারণা - সেটি কেন খ্রিস্টান কনসেপ্টে নেই?

কিন্তু যখন আমি ওল্ড টেস্টামেন্ট পড়ছিলাম, দেখলাম যে ওল্ড টেস্টামেন্টে রাসূল বারবার বলেছেন, এক ঈশ্বর, এক ঈশ্বর, এক ঈশ্বর। আর তারপর আমি ভাবলাম, ঠিক আছে, তাহলে আমি নিউ টেস্টামেন্টেও শুধু, যীশু খ্রিস্টের বানীগুলো দেখি। নিউ টেস্টামেন্টে একটি গল্প ছিল এমন যে, কোথাও একজন লোক এসে যীশুকে প্রশ্ন করে জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস কী? আমি কীভাবে স্বর্গ লাভ করব?

এবং তিনি বললেন, দুইটি জিনিস রয়েছে তিনি বললেন, হে ইসরাইল, তোমার ঈশ্বর এক, এবং তোমার প্রতিবেশীর সাথে এমন ব্যবহার করো, যে ব্যবহার তুমি পেতে চাও। তো আমি ভাবলাম, যীশু খ্রিস্ট নিজেও এখানে স্বীকার করছেন। হে ইসরাইল, তোমার ঈশ্বর এক। আমি বুঝলাম, মুসলমানদের এক-ঈশ্বর ভাবনাটি ট্রিনিটির চেয়ে বেশ যুক্তিযুক্ত। এবং এই ধারণাটি ওল্ড এবং নিউ টেস্টামেন্টের সাথে সম্পূর্ণ মিলে যাচ্ছে। কিন্তু আমি জানি খ্রিস্টধর্ম অন্যকিছু শেখায়, বাইবেলে ঈশ্বর সম্পর্কে যে ধারণা পাওয়া যায়, তারা ঠিক তা শেখায় না। তো কয়েক সপ্তাহ গবেষণা করে, বেশকিছু বই পড়ার পর, ভাবলাম, ঠিক আছে, হয়তোবা ঈশ্বরের একত্ববাদের ধারণাটি সত্য। তো এভাবেই শুরু হয়েছিল। আপনার গবেষণার জন্যে কোন কোন উৎস থেকে সাহায্য নিয়েছিলেন?

যেহেতু আমি খানিকটা বিস্মিত ছিলাম, আমি বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের কাছে লেখা শুরু করি এই ধর্মীয় বিষয়গুলোর ব্যাপারে। যাদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, তাদের মধ্যে একজন ছিলেন শাইখ আব্দুল হাকিম মুরাদ, এবং তিঁনি ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যক্ষ। অবশ্য বিষয়টি একদিক দিয়ে কিছুটা অদ্ভুত যদিও, আমি তখনও রাজনীতির সাথে জড়িত কিন্তু আমি ইসলাম বিরোধী বই লিখছিলাম ইসলাম বিরোধী উদ্দেশ্য নিয়ে। আর আমি অন্যদেশের একজন মুসলিম অধ্যক্ষকে অনুরোধ করছিলাম, "আপনি কি আমায় সাহায্য করবেন?" আমি অবশ্য বলেছিলাম আমি একটি বই লিখছি, এবং আমার মনে অনেক প্রশ্ন রয়েছে, - আমি সোজাসুজি তাদের কাছে জানতে চাইলাম, কেন ইসলাম সন্ত্রাসবাদ প্রচার করছে, কেন তারা নারী-বিদ্বেষী, খ্রিস্টান বিদ্বেষী, যে কোনো কিছুর বিরোধীতা করে বেড়ায়। খুব সম্ভবত ছয় সপ্তাহ পর, তিনি আমাকে বেশ বিস্তৃত একটি ইমেইল পাঠান এবং উনি সরাসরি বোঝাতে শুরু করলেন, আমার অনেক প্রশ্নের উত্তর দেন। উনি আরো বললেন, তোমাকে এই আর্টিকেল পড়তে হবে এই বই পড়তে হবে, সেই বই পড়তে হবে, অমুক ব্যক্তির কাছে যাও। তিনি খুব বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করছিলেন সব। কিন্ত সবগুলো বই এবং আর্টিকেল পড়ে শেষ করার পর আমি ওল্ড টেস্টামেন্টে বর্ণিত নবী ও রাসূলদের (আঃ) সাথে মুহাম্মদ (সাঃ) - এর তুলনা করে দেখার চেষ্টা করি। আমার আর কোনো যুক্তিই অবশিষ্ট ছিল না এটা দাবী করার জন্য যে, বাকিরা রাসূল, কিন্তু তিনি (মুহাম্মদ সাঃ) নন। আমি চিন্তা করলাম, বেশ, আমি যদি মূসা (আ:) কে মেনে নিতে পারি, আর রাসূল (সা:) কে নয়, তাহলে নিশ্চয়ই সেখানে অন্য কারণ থাকবে। আমি ভাবছিলাম, কেন আমি তাঁকে রাসূল বলে মেনে নিতে পারছি না?

হয়তো তাঁর অনেকগুলো স্ত্রী ছিলো, তাই। কিন্তু আবার আমরা যদি সুলাইমান (আঃ), রাজা দাঊদ (আঃ), কিংবা ইব্রাহিম (আঃ) প্রমুখদের দেখি, ওল্ড টেস্টামেন্টে এমন আরও অনেক নবী রয়েছেন যাদের একাধিক স্ত্রী ছিল। আর ধর্মগ্রন্থের বাইরে দেখলেও সাংস্কৃতিক ভাবে ইউরোপ, আফ্রিকা, এশিয়া, সবখানেই বিভিন্ন কারণে মানুষদের একাধিক স্ত্রী ছিল। তো ভাবলাম, বেশ, এটা কোনো যৌক্তিক কারণ হতে পারে না। তো একের পর এক, সব যুক্তি বাদ পড়তে লাগল। শেষে আমি ভাবলাম, আমাকে বলতেই হবে, হয় এদের কেউই রাসূল নন, যা আমার পক্ষে মেনে নেয়া সম্ভব হচ্ছিলো না কারণ, তাঁরা তাদের জীবদ্দশায় যা করেছিলেন, বলেছিলেন, যে অলৌকিক ঘটনাগুলো ঘটেছিল ইত্যাদি কারণে। তাঁরা যা বলতেন এবং করতেন, সেই ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলেন। কেননা তাঁরা রাসূল। এরপর, আমি বললাম, ঠিক আছে ভালো কথা, তাহলে আমাকে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে নবী হিসেবে মেনে নিতে হবে। আমি সন্দেহ করেছিলাম। প্রথমে আমি ভেবেছিলাম যে, তিনি আমার জানা ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ মানুষ। পরে আমি ভাবলাম, হয়তো উনি অতটা খারাপ নন, কিন্তু তিনি রাসূল নন। শেষে আমি সন্দেহ হতে শুরু করলো তিনি হয়তো একজন রাসূল হ্যাঁ অবশ্যই এতটুকু আসতে আমার অনেক বই পড়তে হয়েছে। প্রফেসর আব্দুল হাকিম মুরাদ - এর সবচেয়ে বুদ্ধিমান পরামর্শ ছিল তিনি আমাকে বলেছিলেন, আপনি ইসলাম বিরোধী যে বইগুলো পড়ছেন, সেগুলো সবগুলোই অমুসলিমদের হাতে লেখা। তিনি বললেন, যদি আপনি খ্রিস্ট ধর্মের ব্যাপারে জানতে চান, আপনি নাস্তিকদের বই পড়বেন না। আপনি খ্রিস্টান লেখকদের বই দিয়ে শুরু করবেন। কেন তারা এটিতে বিশ্বাস করে?

তাদের যুক্তিগুলো কী?

আপনাকে ইসলামের বিষয়েও ঠিক একই কাজ করতে হবে। তো আপনি ইসলামের ধর্মীয় শিক্ষক, পন্ডিত- তাঁদের বই পড়া শুরু করুন। আর তখন আপনি জানতে পারবেন, যদি আপনি বইগুলোর তুলনা করেন তো, একই বিষয় নিয়ে মুসলিম লেখকরা লিখেছেন একভাবে, এবং অ'মুসলিমরা লিখেছে অন্যভাবে। আপনি বুঝতে পারবেন কোথায় তারা ভুল করেছে, কোন যায়গায় তারা শব্দের ভুল ব্যাখ্যা করেছে কখনো হয়তো না জেনেই তারা ভুল করে ফেলে, কিন্তু যেহেতু তারা বোঝেনি কোথায় কী ভুল হয়েছে, বা কোথাও কিছু বাদ পড়েছে কী না, তো দিনশেষে আপনি দেখবেন ঠিক এসব ভুলভ্রান্তির কারণেই প্রতিদিন নতুন নতুন ধর্ম তৈরি হচ্ছে। তো আমি তার পরামর্শই অনুসরণ করলাম, আমি রাসূল (সাঃ) এর জীবনী পড়েছি তার কথামতে। আমি মার্টিন লিংকস এর "দ্য লাইফ অব দ্য প্রফেটঃ বেইজড অন্ দ্য আর্লিয়েস্ট সোর্স অব মুহাম্মদ" পড়েছি মার্টিন ধর্মান্তরিত ব্যক্তি ছিলেন, তো তার দেখানো যুক্তির ধরণ, তার লেখার পদ্ধতি, সবকিছুই আমাকে আকৃষ্ট করেছিল কারণ, কোনো একটি বিষয়ে আমাদের দুজনের চিন্তার ধরণ সম্পূর্ণ এক ছিল। বইটি পড়ার পর এই প্রথম আমি তাকে (মোহাম্মদ সাঃ) একজন সামরিক নেতার দৃষ্টিতে দেখা বন্ধ করি। কারণ, আগে তার কথা চিন্তা করলেই মাথায় শুধু যোদ্ধার ছবি ভাসতো। কিন্তু বইটি পড়ে আমি তাঁকে একজন বাবার ভূমিকায় দেখতে পাই, একজন বন্ধু, শিক্ষক, ইত্যাদি তাঁর অনেক চরিত্র আমার সামনে আসে। এবং আমি চাইলে অনেক কিছুই বলতে পারি, কিন্তু এটা কখনোই বলতে পারবো না যে, তিনি ভালো মানুষ নন। তো তাঁর চরিত্র আমাকে তাঁর ব্যাপারে আরও পড়তে ও জানতে আগ্রহী করে তোলে আপনার গবেষণায় কোন বিষয়টি আপনাকে অবাক করেছে?

হিন্দ বিনতে উতবা - এর গল্পটি। গল্পটি আমার জন্যে একটা সুইচ এর মতো ছিল, যা আমাকে পুরোই বদলে দিয়েছে। কারণ, আগে আমি ভাবতাম - হিন্দ' তার শত্রু আবু সুফিয়ানের স্ত্রী ছিল, এবং এই হিন্দ-ই হামজা (রাঃ) কে হত্যা করার জন্য টাকা দিয়েছিল রাসূল (সাঃ) এর অত্যন্ত প্রিয় চাচা ছিলেন তিনি। আর যুদ্ধক্ষেত্রে তাঁকে (হামজা রাঃ) হত্যা করা হয়। তারা তাঁর কান কেটে আনন্দমিছিল করে, তাঁর নাক কেটে ফেলে, সে এক বীভৎস দৃশ্য। রাসূল (সাঃ) এসব দেখে খুবই কষ্ট পেয়েছিলেন। এবং এর অনেক অনেক বছর পর রাসূল (সাঃ) ক্ষমতা অর্জন করলেন, মক্কায় ক্ষমতাসীন হয়ে ফিরে এলেন। সেখানে হিন্দ ও উপস্থিত ছিল। বইটি পড়ার এই পর্যায়ে এসে ভাবলাম, এইবার বুঝি তাকে ক্রুশবিদ্ধ করা হবে, বা তার হাত কেটে ফেলা হবে বা এমন কিছু। কিন্তু তিনি বললেন, আমি এখন তার (হিন্দ) দিকে তাকাতে পারবোনা, কিন্তু সবাইকে ক্ষমা করে দেওয়া হলো। এবং সে যদি থাকতে চায় তবে মুসলিমদের সাথে থাকতে পারবে। আর নাহয় চলে যেতে পারে কিন্তু এখন থেকে আর কোনো প্রকার রক্তপাত চলবে না আর আমি ভেবেই অবাক হচ্ছিলাম' তাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়েছিলো। যদি আপনি এমন একজনকে ক্ষমা করতে পারেন যে আপনার প্রাণপ্রিয় চাচাকে হত্যা করেছে; যদি সে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশ কেটে অন্যদের দেখিয়ে উল্লাস করে সে আপনাকে আর আপনি যা কিছু প্রচার করছেন সেটাকে অপমান করছে, এটিই প্রকাশ করে আপনি কতটা মহান চরিত্রের অধিকারী। এটি একটি অসাধারণ গুণ। একেবারেই অলৌকিক একটা বিষয় যা আপনি কোথাও খুঁজে পাবেন না। আমি ভাবছিলাম, কি অসাধারণ একজন মানুষ তিঁনি আর এটি দেখার পর, আমার সন্দেহগুলো নিয়ে আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম, আমি তাঁর চরিত্র দেখেছি, কীভাবে তিনি অন্যদের সাথে ব্যবহার করেন, তা দেখেছি। শত্রুদের প্রতি তাঁর আচরণ কেমন তা দেখেছি। আমার মনে হতে শুরু করে তিনি একজন রাসূল। কিন্তু তারপর আমি ভাবতে থাকি, ওহ্, এটাতো ভয়ংকর!

কারণ আমি ইতোমধ্যেই আল্লাহর একত্ববাদ স্বীকার করেছি আর এখন বলছি তিনি (হযরত মুহাম্মদ স:) একজন রাসূল। যদি আমি আপনাকে বলি যে, "আল্লাহ এক এবং মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁর রাসূল", - তাহলে তো এটি প্রায় কালেমা পড়া হয়ে গেলো। আমি ভাবলাম এবার থামতে হবে, বইগুলো পড়া বন্ধ করতে হবে। এটি আমাকে ভুল গন্তব্যে নিয়ে যাচ্ছে, তবে অবশ্যই আমি আর আগের মতো ইসলাম বিরোধী ছিলাম না আমি যা যা পড়েছি, দেখেছি, আর আমার অভিজ্ঞতার কারণে। এখন আমি আপনাকে যা বলব, হয়তো রূপকথার মতো শোনাবে কিন্তু এটা সত্যিই ঘটেছিল। আমার টেবিলের উপর সব বইগুলো ছড়িয়ে রাখা, যখন আমার মনে হচ্ছিল যে, এটি একরকম কালেমা শাহাদাতই পড়া হয়ে গেল। আমি বিরক্ত হয়ে, আপাতত সবগুলো বইগুলো সরিয়ে একটা উঁচু তাকে রেখে দিলাম। কিন্তু সেখানে এত বই ছিল যে অনেকগুলো বই তাক থেকে পড়ে গেল। পড়ে যাওয়া বইয়ের সাথে আল কুরআনও পড়ে গেল। আমি যখন বইটি তুললাম, আমার হাত পড়েছিল ঠিক ২২ নম্বর সূরার ৪৬ আয়াতে, যেখানে লেখা ছিল - "প্রকৃতপক্ষে তাদের চোখ অন্ধ নয়, বরং তাদের হৃদয় অন্ধ" আমি ভাবলাম, আরে!

এটিই তো আমার আসল সমস্যা কারণ আমার চোখ নয়, আমি স্পষ্ট দেখতে পারছি, নিজ হাতে যা লিখছি, কেউই আমাকে সেই বই লিখতে জোর করেনি কী লিখবো সেটিও কেউ বলে দেয়নি। নিজেই লেখা শুরু করেছিলাম নিজের চোখে সব দেখতে পারছি, আচ্ছা মানলাম, তিনি (মুহাম্মদ সাঃ) রাসূল, ঈশ্বর একজন, কিন্তু বিষয়টাকে গ্রহণ করতে পারছিলাম না। কারণ আমার চোখ অন্ধ ছিল না, আমার হৃদয় অন্ধ ছিল। আমি মন থেকে মেনে নিতে পারছিলাম না। আমার মনে হয় আমার নফস, বা আমার অহংকারের কারণেই, আমার মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছিল। তখন আমি বললাম, হে প্রভু, আপনি বাইবেলের ঈশ্বর নাকি কুরআনের আল্লাহ, আমি আর পরোয়া করি না, আমাকে শুধু একটিমাত্র ইঙ্গিত দিন যাতে আমি শতভাগ নিশ্চিত হতে পারি এটাই সঠিক পথ। তারপর আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। কিন্তু ঘুম থেকে উঠার পর কেন জানিনা, মনের মধ্যে খুব শান্তি পাচ্ছিলাম আমি সত্যিই খুব নিরাপদ বোধ করছিলাম। এর পূর্বে আমি কখনো এতটা শান্তি অনুভব করিনি। পুরো বিষয়টি নিয়ে আমার যে উদ্বিগ্নতা বা সন্দেহ ছিল, সূর্যের তাপে তুষারের মতো, তা আমার মন থেকে পুরো উধাও হয়ে গেল। আমি ভাবলাম, আমি মনে হয় মুসলমান হয়ে গেছি। তো এখন সবাইকে বিষয়টি জানানোর পালা। আপনার আশেপাশের লোকজনের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?

যখন আপনি মুসলিম হয়ে গেলেন? আপনার আশেপাশের লোকজনের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল? যখন আপনি মুসলিম গেলেন ? বেশিরভাগের প্রতিক্রিয়াই নেতিবাচক ছিল। অবশ্যই অনেকের জন্য বিশেষ করে কিছু নিকটাত্মীয়কে এটি একটু বেশী অবাক করে দিয়েছিল তারা যখন সংবাদ মাধ্যম থেকে বিষয়টি জানতে পারে। আমি আমার মাকে যখন জানালাম, তিনি কাঁদতে শুরু করলেন আর আমার স্ত্রী বেশ সহানুভূতিশীল ছিল এ ব্যাপারে। সে বলল, যদি তুমি ইসলামে বিশ্বাস করো এবং সেটিই যদি তোমার অন্তরে থাকে আমি কিছু বলার কে?

আমার পুরনো অফিসের কিছু লোক বেশ আক্রমণাত্মক হয়ে গিয়েছিল তখন আমি দুই হাজারের চেয়েও বেশি হত্যার হুমকি পেয়েছি এমনকি তাদের থেকেও যারা এক সময় আমাকে সমর্থন করতো, যারা আমাকে ভোট দিয়েছিলো। মানুষজন অনেক আজে বাজে কথা শুনিয়েছে আমাকে "তোমার স্ত্রীকে ধর্ষণ করব," "তোমাকে গুলি করব," "আমরা জানি তোমার সন্তানেরা কোন স্কুলে যায়," এমন অনেক কিছু। সেগুলোর বেশিরভাগই অবশ্য অর্থহীন কথা ছিল কারণ পাগল লোকজন কম্পিউটারে বসে অনলাইনে লিখছে সেগুলো। তো তখন একটু এলোমেলো সময় চলছিল আমার আগের চাকরিটি ছেড়ে দিতে হয়েছিল অবশ্যই, কারণ সেটি একটি খ্রিস্টান সংগঠন ছিল, দলনেতাকে বিষয়টি বলার পর, সে বলল, "আমি সত্যি বিশ্বাস করতে পারছি না।" "আমি তোমার মাঝে কিছুটা পরিবর্তন খেয়াল করেছিলাম অবশ্য" "যখন তুমি একটি বিষয় নিয়ে রেডিওতে কথা বলছিলে" "তোমাকে তখন ইসলামের ব্যাপারে আগের চেয়ে কিছুটা নমনীয় মনে হয়েছিল," "আগের মতো তেমন কঠোর ছিলেনা,কিন্তু তুমি মুসলিম হয়ে যাওয়াটা?" আমি বললাম হ্যা আমি মুসলিম হয়েছি। সে বলল "আমি বিষয়টি চিন্তা করেই দুইদিন ঘুমোতে পারিনি।" "আমি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলাম না।" "এটা খুবই অদ্ভুত ছিল" কিন্তু সবচেয়ে কঠিন হয়ে দাঁড়ালো আমার নানাকে বিষয়টি জানানো, কারণ আমার নানা তখন প্রায় মৃত্যুমুখে তার বয়স ৯৩ - ৯৪ এর আশপাশে তখন তোমার নানাকে একথা তোমার নিজেকেই বলতে হবে আমি বললাম ঠিক আছে, কিন্তু তোমাকে আমার সাথে আসতে হবে। কারণ তিনি (মা) আমার ঢালের মতো ছিলেন। আর আমি সেখানে গিয়ে বললাম, নানা, আমি মুসলিম হয়ে গিয়েছি। শুনে তিনি তার চোখ বন্ধ করলেন আমি ভাবলাম তাঁর নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে গিয়েছে কী না, যেহেতু তার বয়স হয়েছে অনেক। সত্যিই কিছুক্ষণ তাঁর নিঃশ্বাস বন্ধ ছিল তারপর তিনি আবার শ্বাস নেওয়া শুরু করলেন। আর আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, “অন্তত তুমি ক্যাথলিক তো হয়ে যাওনি।” বেশ মজার ছিল বিষয়টি আর শেষে আমার আগের রেডিওর বস আমাকে বলল, "আমরা কীভাবে বুঝব যে তুমি একদিন হিন্দু বা অন্য কিছু হয়ে যাবে না।" বললাম, "আমি কখনোই ধর্মকে বেছে নিইনি, শুধু এই একবার ছাড়া," "আমার মুসলিম হওয়াটাই শুধু আমি বেছে নিয়েছি" এর আগেও আমি কোনো ধর্ম বেছে নিইনি। আমি খ্রিস্টান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছি। খ্রিস্টান হিসেবে বড় করা হয়েছে আমাকে। আর সেই কারণে যেসব ভালো জিনিস আমার কাছে এসেছে তার জন্য আমি খুব কৃতজ্ঞ। কিন্তু সেটা আমার সিদ্ধান্ত ছিল না। আর জীবনে একবারই আমি এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যখন আমি মুসলিম হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। আর এটি সবচেয়ে যেমনটি আমি বললাম, আমার মনে হয় আমার নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্তও ছিল। জীবনে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে আমি বছরের পর বছর সময় লাগাইনি, শুধুমাত্র এই সিদ্ধান্তটি ছাড়া। প্রথম নামাজ আদায়ে আপনার কেমন লেগেছিল?

অবশ্যই খুব সুন্দর একটি মুহূর্ত ছিল, বেশ আজবও লাগছিল বটে, কারণ একজন খ্রিস্টান হিসেবে, আমি অবশ্যই ওভাবে প্রার্থনা করতে অভ্যস্ত ছিলাম না। আপনি আপনার হাত জোড় করেন, আর হয়তো হাঁটু গেঁড়ে বসেন বাথ বা অন্য কিছুর সামনে। আমার মনে হয় ব্যাপারটা খুব সুন্দর যে, আপনি সিজদাহ করছেন, অতঃপর, আপনি সত্যিই আপনার প্রভুর কাছে গভীরভাবে মাথা নত করছেন। তাই, আমার মনে হয় এটি অত্যন্ত বিনয়ী এবং সুন্দর একটি ব্যাপার। এটি আমাকে অত্যন্ত মুগ্ধ করেছিলো। আপনার জীবনে ঘটে যাওয়া তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ এর নাম বলুন অবশ্যই আমার মুসলিম হওয়াটাই একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল কারণ আমাকে আমার পরিবারের কাছে এবং পুরো পৃথিবীর কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হতে হয়েছিলো আর ঐটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। আমি ভেবেছিলাম যে, মুসলিম হওয়াটা খুব কঠিন কাজ হবে, কারণ, একজন প্রোটেস্টেন্ট খ্রিস্টান হিসেবে, ধর্মীয় ভাবে পালন করার সেখানে তেমন কিছু নেই কিন্তু একজন মুসলিমকে কিছু বিষয় চর্চা করতে হয় দৈনিক পাঁচবার বাধ্যতামূলক নামাজ পড়তে হয়, একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে খেতে হয় চিন্তা করতে হয় নির্দিষ্ট গঠনমূলক পদ্ধতিতে আপনাকে সর্বোৎকৃষ্ট হতে হবে, প্রতিটা মূহুর্তে আপনার সৃষ্টিকর্তার সাথে আপনার সম্পর্কের কারণে আর, শুধুমাত্র এ কারণেই আপনাকে দিনে পাঁচবার সলাত আদায় করতে হবে। এটি সবসময় সৃষ্টিকর্তার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। এবং এটি আপনাকে সব সময় স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে, আপনার একজন প্রভু আছে, যা খ্রিস্টান হিসেবে অনুভব করা সম্ভব নয়। আমি এভাবেই উপলব্ধি করেছি আর আমি মনে মনে ভাবি, ওহ, পাঁচবার নামাজ আদায় করতে হবে আজ, আমি এটা করতে পারব না, সেটা করতে পারব না তো আমি মাথায় এটাকে কঠিন বানিয়ে ফেলেছিলাম কিন্তু মুসলিম হওয়ার পর এসব সহজ হয়ে গেলো। আপনি কি আপনার সন্তানদের মুসলিম হিসেবে বড় করছেন?

চেষ্টা করছি, অবশ্যই। আমি জানি না কখন কিভাবে যে, আপনি একজন মুসলিমকেই বড় করছেন। আমার মনে হয় এটি অনেক কঠিন একটি দ্বায়িত্ব, বিশেষ করে বর্তমান প্রেক্ষাপটে। অবশ্য আমি যখন বিয়ে করি; তখন আমি মুসলিম ছিলাম না। আমি আমার সন্তানদের খ্রিস্টান হিসেবে লালন পালন করার প্রতিজ্ঞা করেছি আমি মুসলিম হওয়ার পর, অবশ্যই আমি আমার সন্তানদের খ্রিস্টান হিসেবে বড় করছি না আমার বাচ্চাদের যদি খ্রিস্ট ধর্ম সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন থাকে তারা আমার স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করে উত্তরের জন্যে, আর আমার কাছে আসলে ইসলামিক সমাধান পায়। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ে সে বলে দেয়, "তোমাদের বাবাকে জিজ্ঞেস করো।" আমার স্ত্রী সবার জন্য হালাল খাবার রান্না করে। এটি খুবই সুন্দর একটি ব্যাপার। সে বলে, আমি পাঁচ ধরণের খাবার রান্না করতে পারব না, তো সবাই একই খাবার খাবে। তুমি হালাল খেলে সবাই হালাল খাবে। একদিক থেকে, এটা অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে। ইসলামের প্রতি আপনার সবচেয়ে অনুশোচনীয় "কটাক্ষমূলক মন্তব্য" কোনটি ছিল?

আমার মনে হয় “ইসলাম মিথ্যা” কারণ এটি আমি প্রায়ই বলে থাকতাম। ইসলাম মিথ্যা, কুরআন বিষাক্ত গ্রন্থ। কিন্তু যখন আমি বলতাম ইসলাম মিথ্যা, তখন আমি পুরো ধর্মকে এবং তার সাথে যা আছে, সবকিছুকেই বুঝাতাম। তো সেটি এক মাপের অনেক বড় জাহেলিয়াত ছিল আমার মতে তো, এই বিষয়টি নিয়ে আমি খুবই অনুতপ্ত। ইসলাম মিথ্যা হওয়ার ধারণাটি ছাতার মতো ছিল এক প্রকার আর বাকি সবকিছু এই ধারণার নীচে, কারণ সেটিই ছিল আমার বদ্ধমূল ধারণা। আর অবশ্যই আমি নিজেকে দোষ দিই এবং এও জানি যে অনেক মানুষ যারা প্র্যাক্টিসিং মুসলিম না, তারাও এটি করে। আর একভাবে আমি বুঝতে পারি বিষয়টি, কারণ রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সামাজিক ভাবে, সাংস্কৃতিক ভাবে, যা বলা এবং করা হয়, তা সারাজীবন থেকে যায়। আমাকে মাঝেমধ্যে আমার পুরনো পার্টির লোকজন থেকে শুনতে হয়, যে আমি এক নাকি তাদের অপমান করেছি। তো, এটি আমাকে কষ্ট দেয়, আর এটি একটি অন্যতম কারণ যার জন্য আমরা আইএক্সসি(IXC) বা ইসলাম অভিজ্ঞতা কেন্দ্র নামক সংগঠন চালু করি। আমরা স্কুলগুলোতে যাই প্রাইমারি স্কুল, হাই স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারের দুটি অফিশিয়াল বিভাগে, অন্যান্য সামাজিক সংগঠনগুলোতে এমনকি চার্চেও যাই ইসলাম সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণাগুলো দূর করতে, ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে, ইসলামের প্রকৃত রূপ তুলে ধরতে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR) চশমা ব্যবহার করি যাতে, তাদের শেখার অভিজ্ঞতাটি বেশ মজার হয়। আমি খুব চেষ্টা করছি পুরনোকে মুছে ফেলতে। ইসলামের ব্যাপারে আমাদের কীভাবে গবেষণা করা উচিত?

আপনি কি গুগলে সার্চ করার পরামর্শ দিবেন?

না, আমি কোনোভাবেই গুগলের পরামর্শ দিব না। কিংবা, গুগল সার্চ করা আমার সর্বশেষ পরামর্শ হবে। বরং আমি মনে করি বই হাতে নিয়ে পড়াটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি মার্টিন লিংকস এর লেখা, "মুহাম্মদ (সাঃ) : আরবের আদি ইতিহাস ও ঐতিহ্যনির্ভর জীবনী" বইটি পড়তে বলব। যে বইটি সম্পর্কে আগেই বলেছি, সবুজ রঙের আর আমি মনে করি প্রথমেই আমাদের কুরআন নিয়ে গভীরভাবে ঘাটাঘাটি না করাই উচিৎ কারণ এটি খুবই জটিল একটি কিতাব। আর আপনার যদি এমন কেউ না থাকে যে আপনাকে শিখিয়ে দিবে আপনি কী পড়ছেন, বিশেষ করে, অনেকেই আছেন যারা ইসলামের ব্যাপারে কিছুই জানেন না, আরবী ভাষা পারেনা বা আরব দেশের মানুষ নন। তখন আপনাকে কুরআনের ব্যাখ্যা পড়তে হবে বা অনুবাদ পড়তে হবে, এবং অনেক ক্ষেত্রেই সেগুলো পুরো সত্য নাও হতে পারে। তো আমি সবাইকে পরামর্শ দিব সিরাত (রাসূল সাঃ এর জীবনী) পড়তে রাসূল (সাঃ) এর চরিত্র ও জীবন নিয়ে পড়াশোনা করতে, কারণ সেসব ইতিহাসও আমাদের অনেক কিছু শেখায়। তাঁর জীবনটাই ছিল কুরআন; তিনি নিজেই জলজ্যান্ত কুরআন ছিলেন। তাঁর সুন্নাহ নিয়ে পড়াশোনা করুন আর আমার মতে এটিই ইসলামকে খুঁজে পাওয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ উপায়। আপনার শেষ মন্তব্য হিসেবে কিছু কী বলতে চান?

আমি মুসলিম হওয়ার পর অনেক অনেক সুখী হয়েছি, তাই আমি সবাইকে ইসলামের দাওয়াত দিতে চাই কারণ এটি আপনার হৃদয় ও অন্তরে প্রশান্তি ছড়িয়ে দেয়। এটিই একমাত্র সত্য ধর্ম - কথাটি আপনার হৃদয় ও অন্তরকে পরিতৃপ্ত করে দেয়। কমপক্ষে এটিকে ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার চেষ্টা করুন। রাসূল (সাঃ) এর জীবনী পড়ুন এবং জানুন। মুসলিমরা যা বিশ্বাস করে, কেন করে তা বুঝার চেষ্টা করুন। মুসলিমদের ব্যাবহার দেখে সিদ্ধান্ত নিবেন না, কারণ সব মুসলিম কিন্তু প্রকৃত মুসলিম নয়। আমিও প্রকৃত মুসলিম হতে পারিনি এখনো, আমিও সবসময় মুসলিমদের মতো চলতে পারিনা। আমি সহ আমাদের সবারই চলা উচিত কিন্তু আপনি সব উদাহরণের শ্রেষ্ঠ উদাহরণ রাসূল (সাঃ) কে অনুসরণ করুন। আপনি যদি তাঁর জীবনী পড়েন তাহলে হয়তো আপনি নিশ্চয়ই সত্যের সঠিক দিকনির্দেশনা পাবেন।
