# ঈশ্বরকে কে সৃষ্টি করেছেন?  কেন ঈশ্বর মানুষের সৃষ্টি করেছেন?  |  ইন্টারগ্রেশন #2

- Language: bn
- Published: 2026-08-26
- Canonical: https://blog.towardseternity.com/bn/blog/who-created-god-why-did-god-create-human-beings-interrogation-2
- Source video: https://www.youtube.com/watch?v=C7v36K55X8c
- Channel: Towards Eternity

This is the cleaned transcript of the source video. The speech is unaltered.

---

+যদি সবকিছুর একজন স্রষ্টা থাকে তবে স্রষ্টাকে কে সৃষ্টি করেছেন? + মহান আল্লাহ কি তাঁর প্রয়োজনে আমাদের সৃষ্টি করেছেন? + যদি আমাদের প্রয়োজন না হয়, তবে কেন তিনি সৃষ্টি করলেন? + আল্লাহ কি অহংকারী? + কেন তিনি মানুষের ইবাদত প্রত্যাশা করেন? +যদি সবকিছুর একজন স্রষ্টা থাকে তবে স্রষ্টাকে কে সৃষ্টি করেছেন? দুর্বল বাহ্যিক ধারণা থেকে এসব চিন্তা আসে। উদাহরণস্বরূপ, আমি কি আপনার ফোনটি নিতে পারি?

ধরুন, একজন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে আমি ফোনটি উদ্ভাবন করেছি। দুটো সম্ভাবনা থাকতে পারে। প্রথমত, এটি যদি আমি তৈরি করে থাকি, তাহলে অবশ্যই আমি আগে থেকেই ছিলাম। তাছাড়া, এর ভেতরে দেয়া নিয়মাবলীর বিষয়বস্তু কিন্তু আমি নই। কারণ, এটা একটা ফোন আর আমি মানুষ। ভিন্ন রকম। একই ভাবে, আল্লাহ এই বিশ্বের স্রষ্টা। তাই আল্লাহ আগে থেকেই বিদ্যমান। দ্বিতীয়ত, আল্লাহ তাআলা সময় বা স্থানের নিয়মে বশবর্তী নন। তিনি বিশ্বভ্রম্মান্ড তৈরি করেছেন স্বাভাবিক ভাবে, সময়ের বশবর্তী নন এমন কাউকে জিজ্ঞেস করা " কে তাঁকে সৃষ্টি করেছে?" এবং অতীতের বিষয়ে প্রশ্ন করা অপ্রাসঙ্গিক এবং বিপরীতমুখী। ধরুন, এই ফোন উদ্ভাবনে আমি একটি অসীম অনুমোদন চক্র ব্যাবহার করেছি। অনুমুতি পাওয়ার আগে আমি কিছুই করতে পারবো না। কারণ, এই বিশ্বজগত সৃষ্টি হয়েছে। তাই "অসীম অনুমোদন চক্র" বলে কিছু নেই। + কোনটি "অসীম অনুমোদন চক্র" যা আপনি উল্লেখ করলেন?

যদি আমি ফোন তৈরির পরিকল্পনা করতাম আমি আমার স্যারের কাছে অনুমুতি চাইতাম, উনি তাঁর স্যারের কাছে চাইতেন আর এভাবে চলতেই থাকতো, আমি কখনোই ফোন উদ্ভাবন করতে পারতাম না। কারণ, অনুমোদন আসতো না। কিন্তু, যদি ফোন উদ্ভাবিত হতো আর আমি যদি সেটা পরিকল্পনা করতাম... অবশ্যই "অসীম অনুমোদন চক্র" এর জন্য অনুরোধ করতাম না। একই ভাবে, আল্লাহ এই বিশ্বজগতের পরিকল্পনাকারী। তাই, অসীম অনুমোদন চক্র অথবা "স্রষ্টা কে?" এর মতো ক্রম প্রযোজ্য নয়। এই বিশ্বজগত আসল। + মহান আল্লাহ কি তাঁর প্রয়োজনে আমাদের সৃষ্টি করেছেন?

দুর্বলতা থাকলে সেখান থেকে চাহিদার ধারণা পাওয়া যায়। আমার দুর্বলতা আছে বলে চাহিদাও আছে। কিন্তু আল্লাহ এর কাছে অসম্ভব বলে কিছু নেই কারণ তিনি সর্বশক্তিমান এখন অসীম ক্ষমতাশালী। তার মানে আল্লাহ তাআলার কোন চাহিদা নেই। উদাহরণস্বরূপ, যদি এই ঘরটি আলোয় পরিপূর্ণ হয়, আমরা অন্ধকারের মাত্রা নিয়ে কিছু বলতে পারবো না। একইভাবে, আল্লাহ অসীম ক্ষমতাশালী কারণ উনার দুর্বলতা বলে কিছু নেই এবং কোন কিছুর "চাহিদা" নেই। তবে তিনি কেন সৃষ্টি করলেন?

আমাদের অবশ্যই আল্লাহর নামের প্রতিফলন আর অপার মহিমার কথা বলতে হবে। যেমন, আল্লাহ এর একটি নাম আল-হাকিম "সর্বজ্ঞ" হাকিম শব্দের অর্থ কোনকিছু সবচেয়ে বিচক্ষণতার সাথে এবং প্রয়োজনের তাগিদে করা। আল্লাহ তাআলা হলেন আল-হাকিম এবং এই জগত সৃষ্টির মাধ্যমে তিনি " সবচেয়ে প্রয়োজনীয় এবং বিচক্ষণ কাজ করেছেন" যা তাঁর নামের মধ্যে প্রতিফলিত হয়। আরেকটি নাম হলো রহীম। তাঁর আরো কিছু নাম আর-রহীম "পরম করুণাময় সহানুভূতিশীল", আল-জাওয়াদ " সবচেয়ে দয়ালু" তাঁর দয়া এবং সহানুভূতি প্রকাশ পায় এই নামের মাধ্যমে। অসীম সম্পদের মালিক হিসেবে আল্লাহ এই পৃথিবী সৃষ্টি করতে চাইলেন এবং বেছে নিলেন। এবং রহীম নামের প্রকাশ করলেন আমাদের তা উপহার দেয়ার মাধ্যমে। তাছাড়া, আল্লাহর নাম জাওয়াদ এর মাধ্যমে উদারতা নির্দেশ করে। আমরা জানি তাঁর উদারতায় সৃষ্টি হয়েছে এই পৃথিবী। +আচ্ছা, কিন্তু মানুষ এও জিজ্ঞেস করে, + স্রষ্টা কি অহংকারী?

অহংকারের দুটো ধারা আছেঃ প্রথমটি, স্বার্থপরতা। দ্বিতীয়টি, বেশি থাকার ভাণ করা বা শ্রেষ্ঠত্ব। তবে, স্রষ্টার এসবের সাথে কোন সম্পর্ক নেই। প্রথমত, আল্লাহ আমাদের জন্য অনেক নেয়ামতের সৃষ্টি করেছেন এবং তা পাঠিয়েছেন। তার মানে, স্বার্থপরতা অসম্ভব। দ্বিতীয়ত, আল্লাহ মিথ্যে দাবী করেন না। তিনি বলেছেন, " আমি সর্বজ্ঞ" এবং সত্যি তিনি তাই। তিনি নিজেকে উপস্থাপিত করেন, একজন সর্বশক্তিমান, ক্ষমতাশালী এবং নিঃসন্দেহে পরম করুণাময় হিসেবে। তাই, স্রষ্টার ব্যাপারে অহংকার কথাটি প্রশ্নাতীত। তাছাড়া, একই রকম বিষয়বস্তুতে অহংকার প্রযোজ্য। যেমন, আপনার এবং আমার মাঝে অহংকার থাকতে পারে। যেমন- কে বেশি ভালো, কিন্তু আমি কি একটা কাপকে কখনো বলবো, " শোনো, আমি তোমার চেয়ে বেশি ভালো"? এটা খুবই মজার হবে কারণ এটা তো একটা কাপমাত্র!

তেমনি, আলাদা বিষয়বস্তুতে অহংকার থাকতে পারেনা। তাই, স্রষ্টা এবং মানুষের মাঝে কে বড় বা অহংকার করা দুটোই অসম্ভব। এটা অযৌক্তিক। + আচ্ছা, তাঁর কিছুর দরকার নেই, এটা কি অহংকার নয়? + তিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন; তবে কেন তিনি ইবাদত প্রত্যাশা করেন? আমরা এটাকে চাহিদা হিসেবে দেখতে পারিনা। মানুষের ক্ষেত্রে অনেক কিছুর চাহিদা থাকে, আল্লাহর ক্ষেত্রে নয়। মানুষ ইবাদত করার প্রয়োজন বোধ করে। আধ্যাত্মিকভাবে মানুষ অসুস্থ। ডাক্তার যখন কোন রোগীকে ওষুধ দেন, সেটা রোগীর ভালোর জন্য দেন, ডাক্তারের নয়। তাহলে আল্লাহ কেন চান আমরা তাঁর ইবাদত করি?

যেমনটি বলেছিলাম, আমরা আধ্যাত্মিকভাবে অসুস্থ। আমরা অনন্তকাল ধরে তৃষ্ণার্ত, তাই, আল্লাহকে স্মরণ করা দরকার, এবং মনে রাখা দরকার আমরা অনন্তকালের একটি জীবনে ফিরে যাব, জান্নাত। তাই, আল্লাহ তাআলার আমাদের প্রার্থনার প্রয়োজন নেই। তাছাড়া, আমাদের একটি উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে; আল্লাহকে জানা এবং তাঁর ইবাদত করা। জাগতিক ব্যাপারে নিজেদের হারিয়ে ফেলা যাবে না, আর ইবাদতই আমাদের লক্ষ্যে অটুট রাখবে। +আমাদের প্রশ্ন শেষ। + আপনার জন্য আরো কঠিন প্রশ্ন পরের এপিসোডে অপেক্ষা করছে। ওগুলো কঠিন প্রশ্ন ছিলো না, কিন্তু উত্তর নেই যেগুলোর... :)
