বিখ্যাত ব্রিটিশ ইউটিউবার ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন - জয় প্যালফ্রের গল্প
প্রকাশের তারিখ
প্রথমবার কলেমা শাহাদাৎ পাঠ করার পর আপনার কেমন লেগেছিলো? প্রথমবার এর মতো কিভাবে আপনি ইসলাম সম্পর্কে জানতে পেরেছিলেন? আপনি মুসলমান হওয়ার আগে... আমার ধারণা, আপনার প্রেম ছিলো? আপনি শুকর এর মাংস খেতেন এবং মদও পান করতেন মনে হয়। আপনি মুসলমান হওয়ার পরে এসব ছেড়ে দেয়া কি কষ্টসাধ্য ছিলো? লন্ডনে কোন নারী হিজাব পরিধান করেছে দেখলে আমি রাস্তার ওপারে চলে যেতাম। যুক্তরাজ্যে মিডিয়ার প্রভাবে আমার মানসিকতায় এতটাই বাজে প্রভাব পড়েছিলো। পৃথিবীর সকল অমুসলিমদের সাথে কথা বলার সুযোগ যদি থাকতো... আপনি কী বলতে চাইতেন? আপনার কাছে যদি এক মিনিট থাকতো? জেই কে?
আমি জেই, আমি যুক্তরাজ্য থেকে এবং আমার বয়স পঁচিশ। আমি দক্ষিণ পশ্চিম ইংল্যান্ডের একটা ছোট শহর থেকে এসেছি। আমি একজন ভ্রমণ ব্লগার এবং আমি সারা পৃথিবী ভ্রমণের সফরযাত্রা নিজের ইউটিউব চ্যানেলে শেয়ার করি। জেই এর জীবনের লক্ষ্য কী? আপনি কেন এতো ভ্রমণ করছেন?
ইনশাআল্লাহ আমি সারা পৃথিবী জুড়ে মুসলমানদের সম্পর্কে যে নেতিবাচক ধারণা আছে তার পরিবর্তন করবো। আমি ইউটিউব এবং ইন্সটাগ্রামে সংস্কৃতি সম্পর্কে সব ভালো জিনিসগুলো পোষ্ট করি, খাবার, মানুষ, জীবনধারা প্রভৃতি। আশা করি তা মানুষের ধারণার পরিবর্তন করবে। যুক্তরাজ্যে ফিরে তাকাই, যুক্তরাজ্য এবং আমেরিকায় যদি তাকাই, সেখানে মুসলমানদের ব্যাপারে ধারণা অত্যন্ত নেতিবাচক, আর আশা করি আমি তার পরিবর্তন করবো ইনশাআল্লাহ। আপনার একটি ভিডিওতে আপনি বলেছেন যে আপনি পাকিস্তান এবং তুরস্ককে অন্যান্য দেশের চেয়ে বেশি ভালোবাসেন। এর পেছনে কারণ কী? কেন পাকিস্তান এবং তুরস্ক?
আমার মনে হয় আমি পাকিস্তানকে খুব বেশি ভালোবাসি কারণ, আমি কখনো এই দেশের ব্যাপারে ভালো কিছু শুনিনি। যে সব শুনেছি তা প্রধানত সন্ত্রাসবাদ, যুদ্ধ এবং সহিংসতা নিয়ে। আর আমি যখন সেখানে গেলাম, আমার সব ধারণা পালটে গেলো। সবাই খুব দয়ালু এবং ভালো ছিলো। সারা পৃথিবীতে যেসব খাবার খেয়েছি তার মাঝে সেরা ছিলো সেখানকার কিছু খাবার। আর এই মানুষগুলোর খাঁটি ভালোবাসা আমার হৃদয় স্পর্শ করেছে। তুরস্কের ক্ষেত্রেও তাই। মানুষ, খাবার আর সংস্কৃতির জন্য এই দুটো দেশ আমার প্রিয়। আমি মসজিদের ব্যাপারে কথা বলতে পারতাম। আমি মসজিদ ভালোবাসি। আমার অসাধারণ লাগে এখানে। আর ইস্তাম্বুলের সুলেমানী মসজিদে আমি কলেমা শাহাদাৎ গ্রহণ করি। আমার ধারণা একারণেই এই দুটো দেশের সাথে আমার অন্যরকম একটা বন্ধন আছে। বিশেষভাবে তুরস্ক। কারণ, ইস্তাম্বুল আমার জীবন বদলে দিয়েছে। এখানেই আমি কালেমা শাহাদাৎ গ্রহণ করি। এখানেই আমি আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেই। যুক্তরাস্ট্র বা যুক্তরাজ্যে কর্ণফ্লেক্স খাওয়ার পরিবর্তে। জ্বি। আপনি তুরস্কে কাবাব খেতে বেশি পছন্দ করেন?
জ্বি। ঐ দেশগুলো ভ্রমণ করার সময় সবচেয়ে আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলুন যা আপনাকে অবাক করেছিলো। পাকিস্তান, মেক্সিকো, তুরস্ক, মিশর? মেক্সিকো দিয়ে শুরু করি, কেমন? অবশ্যই। মেক্সিকো একেবারেই আলাদা অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় যেসব দেশে আমি গিয়েছি। মিডিয়ায় মুসলমানদের নিয়ে বিস্তারিত দেখানো হয়না এমনকি রাস্তায়ও দেখানো হয় না। মেক্সিকো সিটিতে যখন ছিলাম তখন কেবল একটি মসজিদ দেখার সুযোগ পেয়েছিলাম। আমার কাছে ব্যাপারটা অনেক আশ্চর্যজনক লেগেছিলো। মেক্সিকোতে খুব বেশি মুসলমানের দেখা পাওয়া যেত না। মিশর, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাতে তাদের সর্বত্র দেখা যায়। আর আমি খুব কাছের কিছু বন্ধু পেয়েছিলাম এখানে। আপনি প্রথমবারের মতো কিভাবে ইসলামের ব্যাপারে জানলেন?
তা বলতে গেলে প্রায় ২০ বছর আগের ৯/১১ এর গল্পে চলে যেতে হবে। তখনই প্রথমবার ইসলামের ব্যাপারে জেনেছি খুব নেতিবাচকভাবে। আর আমরা যদি ইতিবাচক দিকের ব্যাপারে কথা বলি। সম্ভবত আমি তিন বছর আগে ইসলামের ব্যাপারে জেনেছি। আমি সত্যিকার ইসলাম জেনেছি সফর আর এই মানুষগুলোর সাথে মেশার মাধ্যমে। গতবছর লকডাউন চলাকালে আমি যখন কুরআন পড়ছিলাম। মুসলমান হওয়ার আগে আপনি কিভাবে ইসলামকে দেখতেন? আপনার কি কোন বিদ্বেষ ছিলো?
জ্বি। মুসলমানদের ব্যাপারে আমার খুব খারাপ ধারণা ছিলো। বিশেষত, তখন যুক্তরাজ্যে চরমপন্থিদের প্রচুর আক্রমণ হয়েছিলো। আর মিডিয়া খুব সুন্দরভাবে জানে কিভাবে এই ঘটনাগুলোকে গৎবাঁধা ঘটনায় পরিণত করতে হয় দুই বিলিয়ন মানুষের ভেতর মাত্র গুটিকয়েক মানুষ এই পথ বেছে নিয়েছিলো। লন্ডনে কোন নারীকে হিজাব পরিহিত অবস্থায় দেখলে আমি রাস্তার ওপারে চলে যেতাম। যুক্তরাজ্যে মিডিয়ার প্রভাবে আমার মানসিকতায় এতটাই বাজে প্রভাব পড়েছিলো। কারণ প্রকৃত ইসলামের ব্যাপারে জানার সুযোগ আমি নিজেকে দেইনি। আর সৌভাগ্যক্রমে, গত দুবছরে, আমি সত্যি শিখেছি এবং আবিষ্কার করেছি যে প্রকৃত ইসলাম কেমন, এবং সেটি শান্তির ধর্ম। কোন বিষয়টি আপনাকে ইসলাম ধর্মে আগ্রহী করে?
সত্যি বলতে, যখন আমি সফরে ছিলাম তখন মানুষের সাথে যখন পরিচিত হচ্ছিলাম। আমি খুব কমই মুসলমান অধ্যুষিত দেশগুলোয় ভ্রমণ করেছি এবং আমি ইস্তাম্বুলে গিয়েছি। ভাগ্যক্রমে, তিন বছর আগে, চার বছর আগে, আর তারপর আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম ২০১৯ এর সেপ্টেম্বরে ইরাকে যাওয়ার। আর তা আমার চিন্তাধারায় আমূল পরিবর্তন আনলো। আর ইসলামের ইতিবাচকতা নিয়ে আরো গবেষণা করতে সাহায্য করলো। যখন আমি ২২-২৩ বছরের ছিলাম তখন প্রথমবারের মতো ইরাকে যাই। তাহলে, আপনি কিছু ভালো মানুষের দেখা পেলেন যারা মুসলমান?
জ্বি। তাহলে এ ব্যাপারে আপনি আগ্রহী ছিলেন। জ্বি, আমি আগ্রহী ছিলাম। আর তখন আমি নিজেকে সময় দিলাম আসলেই গবেষণা আর আবিষ্কার করতে সত্যিকারের ইসলাম, মিডিয়া থেকে অনেক দূরে, যুক্তরাজ্যে। আপনি প্রথম কলেমা শাহাদাৎ গ্রহণ করার পর কেমন লেগেছিলো?
আনন্দ আর শান্তির সর্বোচ্চ শিখড়ে ছিলাম আমি। এবং আমার ধারণা এতো খুশি এবং এত প্রাণবন্ত আমি আমার জীবনে কখনো হইনি। এটা পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা অনুভূতি ছিলো। তো মসজিদে প্রবেশের আগে আমি একজন নাস্তিক ছিলাম। আমার জীবনের তেমন অর্থ ছিলো না। আমি সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করতাম না। আমি ভাবতাম মৃত্যুর পর সব শেষ। আর একবার আমি যখন মসজিদে প্রবেশ করলাম এবং কলেমা শাহাদাৎ গ্রহণ করলাম এবং সেই শব্দগুলো ধারণ করলাম। আমি যখন শব্দগুলো বলছিলাম, আমি অনেক খুশি ছিলাম। আর আমার মনে হচ্ছিলো জীবনটা সাদাকালো থেকে রঙিন হয়ে যাচ্ছে। এটা ছিলো পৃথিবীর সেরা অনুভূতি। আপনার আশেপাশের মানুষের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিলো?
খুব খুশি। তাঁরা সবাই হাততালি দিচ্ছিলেন। তাঁরা হাসছিলেন। মসজিদের ভেতরের মানুষেরা দেখছিলেন এবং তাঁরা শুনেছিলেন আর হাততালি দিচ্ছিলেন। আর আমার জন্য তাঁরা অনেক খুশি ছিলেন। বিশেষ করে আপনার পরিবার, আব্বা, আম্মা, ভাই, বোনেরা কেমন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলো?
সৌভাগ্যক্রমে, আমার পরিবার এবং বন্ধুরা এ পৃথিবীতে আমার সবচেয়ে বড় সমর্থক। তো আমি প্রথমে আমার বোনকে জানালাম। আমি আসলে আমার স্ন্যাপচ্যাট খুলেছিলাম। আমি তখন ইস্তাম্বুলে ছিলাম এবং প্রথমে আমি সরাসরি আমার বোনকে ম্যাসেজ পাঠাই। আমি বলেছিলাম, " আমি মুসলমান হয়েছি" এবং তার প্রতিক্রিয়া খুবই ভালো ছিলো। সে তারপর আমাকে ফেইস-টাইম করলো এবং আমার জন্য তার খুশির মাত্রা প্রকাশ করলো। আমি বুঝতে পারছিলাম না সে এটা কেন করছে। এটা আরেকটি ভাল, ইতিবাচক দিক হলো তাদের জন্য, কারণ তাদের কাছে ইসলামের ধারণা খুব ভালো ছিলো না। আমার মনে হয়। এটা ভালো না। তাহলে কিজন্য সে খুশি হয়েছিলো?
কারণ সে আমার কাজ দেখেছে। সে দেখেছে আমি কাদের সাথে দেখা করেছি এবং ও তাদের গল্প শুনেছে। এবং এখন মিডিয়া যে ভুল তা তাদের বুঝিয়েছি , যেমন মিডিয়া খুবই ভুল। তারা এখন মিডিয়ার চেয়ে আমার ভিডিও, আমার গল্প এবং আমার ধারণাকে সত্য ভাবতে শিখে গেছে। আপনার আম্মা, আব্বার ক্ষেত্রে কী হলো? জ্বি। আমার বয়স যখন এক, আমার আব্বা চলে গিয়েছিলেন। তিনি অস্ট্রেলিয়ায় চলে গিয়েছিলেন, তাই উনার সাথে আমার যোগাযোগ হয়নি। তিনি এ ব্যাপারে জানেন না। কিন্তু আমার আম্মা, আমি তাঁকে ফোন করেছিলাম এবং ফোনে বলেছিলাম। আমি ওটা আর তাঁর প্রতিক্রিয়া নিয়ে একটা ভিডিও বানিয়েছিলাম। তাঁকে সত্যি সত্যি কল করতে আমার তিনবার চেষ্টা করতে হয়েছে আর তিনি ফোন ধরতেই আমার মন বলছিলো... তুমি বলতে পারবে না...
আমি পারিনি। আমি নিজের সাথে লড়াই করছিলাম। কিন্তু আমি তাঁকে জানালাম এবং তাঁর কথাগুলো ঠিক এমন শব্দের ছিলো আমি চেশায়ার ক্যাটের মতো হাসছিলাম এবং চেশায়ার ক্যাট সবসময় হাসিখুশি, সবসময় চঞ্চল আর সবসময় মজার হিসেবে পরিচিত। আর ঠিক এই কথাগুলোই তিনি বলেছিলেন, আসলে তিনি চেশায়ার ক্যাটের মতো হাসছিলেন। আর সে দিনের পর থেকে, আমাকে কেউ একটি খারাপ কথাও বলে নি। আমার কাছে কেউ ইসলাম নিয়ে কোন খারাপ মন্তব্য করেনি। আমার বন্ধুরা এবং আমার পরিবার যে এতো খুশি ছিলো তার জন্য আমি খুবই কৃতজ্ঞ এবং তারা এখনো আমার সাথে আছে, কারণ এতে আমার সফর আরো কঠিন হয়ে যেতো যদি আমার পাশে তাদের না পেতাম। ইসলামে আমাদের নামাজ পড়তে হয়। রমজানে রোজা রাখতে হয় এবং আমাদের আরো কিছু জিনিস আছে। আপনি মুসলমান হওয়ার আগে এর কোনোটা কি আপনার কাছে কঠিন মনে হয়েছিলো?
জ্বি, সবগুলোই আমার কাছে অনেক বিস্ময়কর মনে হতো। বিশেষকরে যুক্তরাজ্যে আমি মুসলমান হওয়ার আগে, আমি এই যাত্রায় একাকী ছিলাম। লকডাউন চলাকালে, আমি কাউকে দেখতে পেতাম না। আমি কারো সাথে চর্চা করতে পারতাম না। এটা খুবই কষ্টসাধ্য ছিলো। আজকের দিন পর্যন্ত, এখনো আমি অভিভূত হই। কিন্তু এখন আল্লাহ এর ইচ্ছায়, অনেক চর্চা, অনেক কাজের পরে আমি এমন একটা পর্যায়ে পৌঁছেছি যে সব কিছুই সহজে করতে পারি। আপনি ইন্টারনেট থেকে সেই গবেষণা কিভাবে করেছিলেন? কোন ভিডিওগুলো, কোন বক্তাগণ? অনেক ইউটিউব ভিডিও, অনেক গল্প যা আমি রাস্তায় দেখা হওয়া মানুষের কাছ থেকে শুনেছি এবং নিজে কোরআন পড়ে জেনেছি। আমি কি এই প্রশ্নটা করতে পারি? যদি ব্যাক্তিগত হয়, তাহলে বাদ দিন। আপনার পরিবার নাস্তিক, আর আপনি মুসলমান। তাদের নিয়ে আপনি কি চিন্তা করছেন?
আপনি কি দোয়া করেন যে তারা যেন কখনো মুসলমান হয়ে যায়? আপনি কি তাদের ইসলামের সত্যগুলো বলছেন? জ্বি অবশ্যই। প্রত্যেকটা দিন আমি আমার পরিবারের সাথে কথা বলছি। আমি আমার আব্বার সাথে সফর নিয়ে কথা বলতে পারতাম। যেখানে আমি গিয়েছি এবং আমি তাঁকে ইসলামের ব্যাপারে বলেছি। এবং প্রকৃত ইসলাম নিয়ে বলছি কারণ আমি ভীত যে ইসলামের ব্যাপারে এখনো তাঁর আগের মনোভার রয়ে গেছে। আর আমি আশা করি একদিন এর পরিবর্তন হবে। এবং আমি জানি এই এপিসোড হাজার হাজার মানুষ দেখবে। আর আমি আশা করি তারা দোয়া করবে আমার বন্ধু আর পরিবারের জন্য, আশা করছি তারা খুঁজে পাবে ইসলামের এই দারুণ সফর তাদের জীবনেও একদিন। ইনশাআল্লাহ!
আপনি মুসলমান হওয়ার আগে আমার ধারণা আপনি কোন মেয়ের সাথে ঘুরে বেড়াতেন। আপনি শুকরের মাংস খেতেন এবং মদও পান করতেন মনে হয়। আপনি মুসলমান হওয়ার পর কি এসব ত্যাগ করা কঠিন ছিলো? আচ্ছা, প্রথমত শুকরের মাংস। বহুদিন ধরে এটা আমি খাইনা। সম্ভবত যখন আমার বয়স ১০ ছিলো, তখন থেকে। তাহলে এটা কোন ব্যাপার ছিলো না। আর আমি অবশ্যই এটার কথা ভাবি না। প্রেম? আমার বয়স যখন ১৭ ছিলো তখন থেকে আমার কোন মেয়ে বন্ধু ছিলো না, তাই আমার ক্ষেত্রে প্রেম কাজ করেনি। তাছাড়া, আমি যখন ভ্রমণ করি তখন আমার এসবের সময় থাকে না। তাই আমি চাইলেও এটা করতে পারতাম না। আর মদ। ২০১৯ এ আমি মদ্যপান ছেড়ে দেই। সেটা আমি মুসলমান হওয়ারও এক বছর আগে। আপনার মদ্যপান ছাড়ার কারণ কি ছিলো?
আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচুর মদ্যপান করতাম। যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় প্রতিদিন মদ্যপান করা ছাত্রসমাজের রীতি হয়ে গেছে, পার্টি করা, উদযাপন করা, একটা বই পড়া। কিন্তু হ্যাঁ। আমি পরে ছেড়ে দিয়েছিলাম কারণ, এটা স্বাস্থ্যকর জীবন ব্যবস্থা না। তো আমি প্রায় দেড় বছরের জন্য নিরামিষভোজীও ছিলাম আসলে। আর সৌভাগ্যক্রমে, আমি হালাল মাংসের সন্ধান পেয়েছিলাম বিশেষ করে তুরস্কে যার জন্য আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ। খাবার অসাধারণ। আপনার একটি ইউটিউব একাউন্ট আছে আর একটি ইন্সটাগ্রাম একাউন্ট আছে আর আপনি জনপ্রিয়। আমার ধারণা আপনি এমন অনেকের ম্যাসেজ পান যারা আপনার সাথে প্রেমে জড়াতে চায়? আমি কি ঠিক? জ্বি, প্রতিদিনই। তাদের প্রতি আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
আমি তাদের উত্তর দেই না বা ব্লক করি না কারণ মানুষের সেটা জিজ্ঞেস করার কথা না। আর আমি মহিলা এবং মেয়েদের মায়ের কাছ থেকেও ম্যাসেজ পাই। তাঁরা তাদের মেয়েকে বিয়ে দেয়ার জন্য ইমেইল পাঠায় এবং ইন্সটাগ্রামে ম্যাসেজ পাঠায়, কমেন্ট করে। আর আমি অবশ্যই তাদের উত্তর দেই না। আর তাছাড়া আমি খুব তাড়াতাড়ি বিয়ের কথা ভাবছিও না, বিশেষ করে আগামী দু তিন বছরে। এই সুন্দর মুসলিম পৃথিবীতে অনেক কিছু আছে। আমাকে আবিষ্কার করতে হবে এবং আরো অসাধারণ মানুষজনের সাথে পরিচিত হতে হবে। তো ঊনত্রিশ বা ত্রিশ বছরে পা না দেয়া পর্যন্ত আমি বিয়ের কথা ভাবছি না। আমাকে অনেক কিছুর সন্ধান করতে হবে, শিখতে হবে এবং খুঁজতে হবে। আপনি কেন নাস্তিক থেকে গেলেন না এবং ইসলামের ব্যাপারে কিছু গবেষণা করলেন?
জ্বি অবশ্যই। আমি খুবই অনুসন্ধিৎসু মানুষ। আমার ধারণা তাই আমি সফর করি আর তাই আমি শিখতে চাই। আমার সময় ছিলো আর আমি আন্তর্জাতিক সাংবাদিকতা নিয়ে মাস্টার্স ডিগ্রী পড়েছি। আর আমি মিডিয়া সম্পর্কে শিখেছি এবং তাঁরা কিভাবে ইসলাম সম্পর্কে পুরোপুরি ভুল তা জেনেছি। আর অবশ্যই আমি আমার অনুসন্ধিৎসুতার পথ বেছে নিয়েছি। তো আমি সব সময়ই খুব অনুসন্ধিৎসু মানুষ ছিলাম, এমন একজন যে সবসময় সংস্কৃতি সম্পর্কে, মানুষ, ভাষা পুরো পৃথিবী জুড়ে কেমন জানতে চায়। এবং এই করোনা ভাইরাসের মহামারীতে আমার হাতে অনেক সময় ছিলো এবং আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম সেই সময়টা ভালো কাজে এবং আবিষ্কারে লাগাতে। আমি যেসব মানুষের সাথে পরিচিত হয়েছি সবাই খুব দয়ালু, খুব ভালো মনের এবং শান্তিপ্রিয়। এবং সবই ফিরে এসেছে ইসলামের কাছে। তখনই আমি কোরআন পাঠের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, ইউটিউব ভিডিওগুলো দেখতাম প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) সম্পর্কে আরো জানতে পারলাম এবং বাকি সবার সম্পর্কে। এবং এটা দারুণ ছিলো। আপনার কাছে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কেমন?
তিনি অসাধারণ। আমার ধারণা এর চেয়ে ভালো কোন শব্দ তাঁর জন্য আমি খুঁজে পাবো না। আর আমি মনে করি এই পৃথিবীর সবাই তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পারবেন। এবং অবশ্যই তারা নবীজির জীবনের ইতিহাস থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেদের জীবনকে আরো গতিময়, আরো দানশীল এবং আরো গহনযোগ্য করে তুলবে। যদি পৃথিবীর সব অমুসলমানদের সাথে কথা বলার সুযোগ থাকতো, বিশেষ করে তাদের সাথে যাদের ইসলামের প্রতি বিদ্বেষ আছে যদি আপনার কাছে এক মিনিট থাকতো তাহলে আপনি তাদের কি বলতেন?
নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে শিখুন। মিডিয়া থেকে নয়। পৃথিবী ভ্রমণ করুন, মুসলমান অধ্যুষিত দেশগুলো ভ্রমণ করুন এবং নিজেকে সুযোগ দিন আর মুসলমানদের সাথে কথা বলার সময় দিন এবং তাদের জীবন যাত্রা সম্পর্কে জানুন, তাদের জীবন, তাদের গল্পগুলো জানুন। কারণ, আমি শপথ করে বলছি মিডিয়া যা বলে তা কখনোই হবে না। আর তাছাড়া আপনি যখন পৃথিবী জুড়ে ভ্রমণ করবেন এবং আপনি যদি কোন নেতিবাচকতা দেখেন, শুধু জেনে রাখুন, ইসলাম নিখুঁত কিন্তু মুসলমানেরা নয়। আপনার সাথে কথা বলে খুব ভালো লাগলো ভাই। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনার যাত্রা, আপনার গল্প খুবই রোমাঞ্চকর। ইনশাআল্লাহ, আপনার লক্ষ্য চমৎকার। ইনশাআল্লাহ আপনি সফল হবেন ভাই। ইনশাআল্লাহ আমি চালিয়ে যাব যতদিন পর্যন্ত পুরো পৃথিবী ইসলামের ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব না আনে। চলুন সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নটা করে ফেলি যা আপনার ঘাম ঝরিয়ে দেবে। কফি না চা?
তুরস্কে থাকাকালে এটাই সবচেয়ে কঠিন প্রশ্ন। চাই (চা) আমার প্রিয় এখানে, কিন্তু আমি কফি ভালোবাসি। আপনি যদি কফি বলেন তাহলে এই ভিডিওতে অনেক ডিসলাইক পড়বে। আমি বলবো চাই (চা)। ঠিক আছে। সেই ঠিক। আপনি আমাদের স্টুডিও, আমাদের মাদ্রাসা দেখেছেন? আপনি কিভাবে খুঁজে পেলেন? দারুণ! এখানে যারা কাজ করছে তারা সবাই খুব দয়ালু এবং স্টুডিও তো অভূতপূর্ব, শুধু খুব গরম। জ্বি, এটা খুব খুব গরম। ধন্যবাদ... নতুন মুসলমান বা মানুষদের ব্যাপারে কিছু বলুন দুঃখিত... আমি কি ইংরেজী উচ্চারণ ভুল বলেছি আর আপনি এভাবে হাসছেন? না... আপনি হাসতে থাকুন... এটা খুব গুরুতর সমস্যা ভাই। বিয়ে করলে আপনি আমার ব্যাপারটা বুঝবেন । জ্বি।
আমি জেই, আমি যুক্তরাজ্য থেকে এবং আমার বয়স পঁচিশ। আমি দক্ষিণ পশ্চিম ইংল্যান্ডের একটা ছোট শহর থেকে এসেছি। আমি একজন ভ্রমণ ব্লগার এবং আমি সারা পৃথিবী ভ্রমণের সফরযাত্রা নিজের ইউটিউব চ্যানেলে শেয়ার করি। জেই এর জীবনের লক্ষ্য কী? আপনি কেন এতো ভ্রমণ করছেন?
ইনশাআল্লাহ আমি সারা পৃথিবী জুড়ে মুসলমানদের সম্পর্কে যে নেতিবাচক ধারণা আছে তার পরিবর্তন করবো। আমি ইউটিউব এবং ইন্সটাগ্রামে সংস্কৃতি সম্পর্কে সব ভালো জিনিসগুলো পোষ্ট করি, খাবার, মানুষ, জীবনধারা প্রভৃতি। আশা করি তা মানুষের ধারণার পরিবর্তন করবে। যুক্তরাজ্যে ফিরে তাকাই, যুক্তরাজ্য এবং আমেরিকায় যদি তাকাই, সেখানে মুসলমানদের ব্যাপারে ধারণা অত্যন্ত নেতিবাচক, আর আশা করি আমি তার পরিবর্তন করবো ইনশাআল্লাহ। আপনার একটি ভিডিওতে আপনি বলেছেন যে আপনি পাকিস্তান এবং তুরস্ককে অন্যান্য দেশের চেয়ে বেশি ভালোবাসেন। এর পেছনে কারণ কী? কেন পাকিস্তান এবং তুরস্ক?
আমার মনে হয় আমি পাকিস্তানকে খুব বেশি ভালোবাসি কারণ, আমি কখনো এই দেশের ব্যাপারে ভালো কিছু শুনিনি। যে সব শুনেছি তা প্রধানত সন্ত্রাসবাদ, যুদ্ধ এবং সহিংসতা নিয়ে। আর আমি যখন সেখানে গেলাম, আমার সব ধারণা পালটে গেলো। সবাই খুব দয়ালু এবং ভালো ছিলো। সারা পৃথিবীতে যেসব খাবার খেয়েছি তার মাঝে সেরা ছিলো সেখানকার কিছু খাবার। আর এই মানুষগুলোর খাঁটি ভালোবাসা আমার হৃদয় স্পর্শ করেছে। তুরস্কের ক্ষেত্রেও তাই। মানুষ, খাবার আর সংস্কৃতির জন্য এই দুটো দেশ আমার প্রিয়। আমি মসজিদের ব্যাপারে কথা বলতে পারতাম। আমি মসজিদ ভালোবাসি। আমার অসাধারণ লাগে এখানে। আর ইস্তাম্বুলের সুলেমানী মসজিদে আমি কলেমা শাহাদাৎ গ্রহণ করি। আমার ধারণা একারণেই এই দুটো দেশের সাথে আমার অন্যরকম একটা বন্ধন আছে। বিশেষভাবে তুরস্ক। কারণ, ইস্তাম্বুল আমার জীবন বদলে দিয়েছে। এখানেই আমি কালেমা শাহাদাৎ গ্রহণ করি। এখানেই আমি আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেই। যুক্তরাস্ট্র বা যুক্তরাজ্যে কর্ণফ্লেক্স খাওয়ার পরিবর্তে। জ্বি। আপনি তুরস্কে কাবাব খেতে বেশি পছন্দ করেন?
জ্বি। ঐ দেশগুলো ভ্রমণ করার সময় সবচেয়ে আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলুন যা আপনাকে অবাক করেছিলো। পাকিস্তান, মেক্সিকো, তুরস্ক, মিশর? মেক্সিকো দিয়ে শুরু করি, কেমন? অবশ্যই। মেক্সিকো একেবারেই আলাদা অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় যেসব দেশে আমি গিয়েছি। মিডিয়ায় মুসলমানদের নিয়ে বিস্তারিত দেখানো হয়না এমনকি রাস্তায়ও দেখানো হয় না। মেক্সিকো সিটিতে যখন ছিলাম তখন কেবল একটি মসজিদ দেখার সুযোগ পেয়েছিলাম। আমার কাছে ব্যাপারটা অনেক আশ্চর্যজনক লেগেছিলো। মেক্সিকোতে খুব বেশি মুসলমানের দেখা পাওয়া যেত না। মিশর, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাতে তাদের সর্বত্র দেখা যায়। আর আমি খুব কাছের কিছু বন্ধু পেয়েছিলাম এখানে। আপনি প্রথমবারের মতো কিভাবে ইসলামের ব্যাপারে জানলেন?
তা বলতে গেলে প্রায় ২০ বছর আগের ৯/১১ এর গল্পে চলে যেতে হবে। তখনই প্রথমবার ইসলামের ব্যাপারে জেনেছি খুব নেতিবাচকভাবে। আর আমরা যদি ইতিবাচক দিকের ব্যাপারে কথা বলি। সম্ভবত আমি তিন বছর আগে ইসলামের ব্যাপারে জেনেছি। আমি সত্যিকার ইসলাম জেনেছি সফর আর এই মানুষগুলোর সাথে মেশার মাধ্যমে। গতবছর লকডাউন চলাকালে আমি যখন কুরআন পড়ছিলাম। মুসলমান হওয়ার আগে আপনি কিভাবে ইসলামকে দেখতেন? আপনার কি কোন বিদ্বেষ ছিলো?
জ্বি। মুসলমানদের ব্যাপারে আমার খুব খারাপ ধারণা ছিলো। বিশেষত, তখন যুক্তরাজ্যে চরমপন্থিদের প্রচুর আক্রমণ হয়েছিলো। আর মিডিয়া খুব সুন্দরভাবে জানে কিভাবে এই ঘটনাগুলোকে গৎবাঁধা ঘটনায় পরিণত করতে হয় দুই বিলিয়ন মানুষের ভেতর মাত্র গুটিকয়েক মানুষ এই পথ বেছে নিয়েছিলো। লন্ডনে কোন নারীকে হিজাব পরিহিত অবস্থায় দেখলে আমি রাস্তার ওপারে চলে যেতাম। যুক্তরাজ্যে মিডিয়ার প্রভাবে আমার মানসিকতায় এতটাই বাজে প্রভাব পড়েছিলো। কারণ প্রকৃত ইসলামের ব্যাপারে জানার সুযোগ আমি নিজেকে দেইনি। আর সৌভাগ্যক্রমে, গত দুবছরে, আমি সত্যি শিখেছি এবং আবিষ্কার করেছি যে প্রকৃত ইসলাম কেমন, এবং সেটি শান্তির ধর্ম। কোন বিষয়টি আপনাকে ইসলাম ধর্মে আগ্রহী করে?
সত্যি বলতে, যখন আমি সফরে ছিলাম তখন মানুষের সাথে যখন পরিচিত হচ্ছিলাম। আমি খুব কমই মুসলমান অধ্যুষিত দেশগুলোয় ভ্রমণ করেছি এবং আমি ইস্তাম্বুলে গিয়েছি। ভাগ্যক্রমে, তিন বছর আগে, চার বছর আগে, আর তারপর আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম ২০১৯ এর সেপ্টেম্বরে ইরাকে যাওয়ার। আর তা আমার চিন্তাধারায় আমূল পরিবর্তন আনলো। আর ইসলামের ইতিবাচকতা নিয়ে আরো গবেষণা করতে সাহায্য করলো। যখন আমি ২২-২৩ বছরের ছিলাম তখন প্রথমবারের মতো ইরাকে যাই। তাহলে, আপনি কিছু ভালো মানুষের দেখা পেলেন যারা মুসলমান?
জ্বি। তাহলে এ ব্যাপারে আপনি আগ্রহী ছিলেন। জ্বি, আমি আগ্রহী ছিলাম। আর তখন আমি নিজেকে সময় দিলাম আসলেই গবেষণা আর আবিষ্কার করতে সত্যিকারের ইসলাম, মিডিয়া থেকে অনেক দূরে, যুক্তরাজ্যে। আপনি প্রথম কলেমা শাহাদাৎ গ্রহণ করার পর কেমন লেগেছিলো?
আনন্দ আর শান্তির সর্বোচ্চ শিখড়ে ছিলাম আমি। এবং আমার ধারণা এতো খুশি এবং এত প্রাণবন্ত আমি আমার জীবনে কখনো হইনি। এটা পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা অনুভূতি ছিলো। তো মসজিদে প্রবেশের আগে আমি একজন নাস্তিক ছিলাম। আমার জীবনের তেমন অর্থ ছিলো না। আমি সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করতাম না। আমি ভাবতাম মৃত্যুর পর সব শেষ। আর একবার আমি যখন মসজিদে প্রবেশ করলাম এবং কলেমা শাহাদাৎ গ্রহণ করলাম এবং সেই শব্দগুলো ধারণ করলাম। আমি যখন শব্দগুলো বলছিলাম, আমি অনেক খুশি ছিলাম। আর আমার মনে হচ্ছিলো জীবনটা সাদাকালো থেকে রঙিন হয়ে যাচ্ছে। এটা ছিলো পৃথিবীর সেরা অনুভূতি। আপনার আশেপাশের মানুষের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিলো?
খুব খুশি। তাঁরা সবাই হাততালি দিচ্ছিলেন। তাঁরা হাসছিলেন। মসজিদের ভেতরের মানুষেরা দেখছিলেন এবং তাঁরা শুনেছিলেন আর হাততালি দিচ্ছিলেন। আর আমার জন্য তাঁরা অনেক খুশি ছিলেন। বিশেষ করে আপনার পরিবার, আব্বা, আম্মা, ভাই, বোনেরা কেমন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলো?
সৌভাগ্যক্রমে, আমার পরিবার এবং বন্ধুরা এ পৃথিবীতে আমার সবচেয়ে বড় সমর্থক। তো আমি প্রথমে আমার বোনকে জানালাম। আমি আসলে আমার স্ন্যাপচ্যাট খুলেছিলাম। আমি তখন ইস্তাম্বুলে ছিলাম এবং প্রথমে আমি সরাসরি আমার বোনকে ম্যাসেজ পাঠাই। আমি বলেছিলাম, " আমি মুসলমান হয়েছি" এবং তার প্রতিক্রিয়া খুবই ভালো ছিলো। সে তারপর আমাকে ফেইস-টাইম করলো এবং আমার জন্য তার খুশির মাত্রা প্রকাশ করলো। আমি বুঝতে পারছিলাম না সে এটা কেন করছে। এটা আরেকটি ভাল, ইতিবাচক দিক হলো তাদের জন্য, কারণ তাদের কাছে ইসলামের ধারণা খুব ভালো ছিলো না। আমার মনে হয়। এটা ভালো না। তাহলে কিজন্য সে খুশি হয়েছিলো?
কারণ সে আমার কাজ দেখেছে। সে দেখেছে আমি কাদের সাথে দেখা করেছি এবং ও তাদের গল্প শুনেছে। এবং এখন মিডিয়া যে ভুল তা তাদের বুঝিয়েছি , যেমন মিডিয়া খুবই ভুল। তারা এখন মিডিয়ার চেয়ে আমার ভিডিও, আমার গল্প এবং আমার ধারণাকে সত্য ভাবতে শিখে গেছে। আপনার আম্মা, আব্বার ক্ষেত্রে কী হলো? জ্বি। আমার বয়স যখন এক, আমার আব্বা চলে গিয়েছিলেন। তিনি অস্ট্রেলিয়ায় চলে গিয়েছিলেন, তাই উনার সাথে আমার যোগাযোগ হয়নি। তিনি এ ব্যাপারে জানেন না। কিন্তু আমার আম্মা, আমি তাঁকে ফোন করেছিলাম এবং ফোনে বলেছিলাম। আমি ওটা আর তাঁর প্রতিক্রিয়া নিয়ে একটা ভিডিও বানিয়েছিলাম। তাঁকে সত্যি সত্যি কল করতে আমার তিনবার চেষ্টা করতে হয়েছে আর তিনি ফোন ধরতেই আমার মন বলছিলো... তুমি বলতে পারবে না...
আমি পারিনি। আমি নিজের সাথে লড়াই করছিলাম। কিন্তু আমি তাঁকে জানালাম এবং তাঁর কথাগুলো ঠিক এমন শব্দের ছিলো আমি চেশায়ার ক্যাটের মতো হাসছিলাম এবং চেশায়ার ক্যাট সবসময় হাসিখুশি, সবসময় চঞ্চল আর সবসময় মজার হিসেবে পরিচিত। আর ঠিক এই কথাগুলোই তিনি বলেছিলেন, আসলে তিনি চেশায়ার ক্যাটের মতো হাসছিলেন। আর সে দিনের পর থেকে, আমাকে কেউ একটি খারাপ কথাও বলে নি। আমার কাছে কেউ ইসলাম নিয়ে কোন খারাপ মন্তব্য করেনি। আমার বন্ধুরা এবং আমার পরিবার যে এতো খুশি ছিলো তার জন্য আমি খুবই কৃতজ্ঞ এবং তারা এখনো আমার সাথে আছে, কারণ এতে আমার সফর আরো কঠিন হয়ে যেতো যদি আমার পাশে তাদের না পেতাম। ইসলামে আমাদের নামাজ পড়তে হয়। রমজানে রোজা রাখতে হয় এবং আমাদের আরো কিছু জিনিস আছে। আপনি মুসলমান হওয়ার আগে এর কোনোটা কি আপনার কাছে কঠিন মনে হয়েছিলো?
জ্বি, সবগুলোই আমার কাছে অনেক বিস্ময়কর মনে হতো। বিশেষকরে যুক্তরাজ্যে আমি মুসলমান হওয়ার আগে, আমি এই যাত্রায় একাকী ছিলাম। লকডাউন চলাকালে, আমি কাউকে দেখতে পেতাম না। আমি কারো সাথে চর্চা করতে পারতাম না। এটা খুবই কষ্টসাধ্য ছিলো। আজকের দিন পর্যন্ত, এখনো আমি অভিভূত হই। কিন্তু এখন আল্লাহ এর ইচ্ছায়, অনেক চর্চা, অনেক কাজের পরে আমি এমন একটা পর্যায়ে পৌঁছেছি যে সব কিছুই সহজে করতে পারি। আপনি ইন্টারনেট থেকে সেই গবেষণা কিভাবে করেছিলেন? কোন ভিডিওগুলো, কোন বক্তাগণ? অনেক ইউটিউব ভিডিও, অনেক গল্প যা আমি রাস্তায় দেখা হওয়া মানুষের কাছ থেকে শুনেছি এবং নিজে কোরআন পড়ে জেনেছি। আমি কি এই প্রশ্নটা করতে পারি? যদি ব্যাক্তিগত হয়, তাহলে বাদ দিন। আপনার পরিবার নাস্তিক, আর আপনি মুসলমান। তাদের নিয়ে আপনি কি চিন্তা করছেন?
আপনি কি দোয়া করেন যে তারা যেন কখনো মুসলমান হয়ে যায়? আপনি কি তাদের ইসলামের সত্যগুলো বলছেন? জ্বি অবশ্যই। প্রত্যেকটা দিন আমি আমার পরিবারের সাথে কথা বলছি। আমি আমার আব্বার সাথে সফর নিয়ে কথা বলতে পারতাম। যেখানে আমি গিয়েছি এবং আমি তাঁকে ইসলামের ব্যাপারে বলেছি। এবং প্রকৃত ইসলাম নিয়ে বলছি কারণ আমি ভীত যে ইসলামের ব্যাপারে এখনো তাঁর আগের মনোভার রয়ে গেছে। আর আমি আশা করি একদিন এর পরিবর্তন হবে। এবং আমি জানি এই এপিসোড হাজার হাজার মানুষ দেখবে। আর আমি আশা করি তারা দোয়া করবে আমার বন্ধু আর পরিবারের জন্য, আশা করছি তারা খুঁজে পাবে ইসলামের এই দারুণ সফর তাদের জীবনেও একদিন। ইনশাআল্লাহ!
আপনি মুসলমান হওয়ার আগে আমার ধারণা আপনি কোন মেয়ের সাথে ঘুরে বেড়াতেন। আপনি শুকরের মাংস খেতেন এবং মদও পান করতেন মনে হয়। আপনি মুসলমান হওয়ার পর কি এসব ত্যাগ করা কঠিন ছিলো? আচ্ছা, প্রথমত শুকরের মাংস। বহুদিন ধরে এটা আমি খাইনা। সম্ভবত যখন আমার বয়স ১০ ছিলো, তখন থেকে। তাহলে এটা কোন ব্যাপার ছিলো না। আর আমি অবশ্যই এটার কথা ভাবি না। প্রেম? আমার বয়স যখন ১৭ ছিলো তখন থেকে আমার কোন মেয়ে বন্ধু ছিলো না, তাই আমার ক্ষেত্রে প্রেম কাজ করেনি। তাছাড়া, আমি যখন ভ্রমণ করি তখন আমার এসবের সময় থাকে না। তাই আমি চাইলেও এটা করতে পারতাম না। আর মদ। ২০১৯ এ আমি মদ্যপান ছেড়ে দেই। সেটা আমি মুসলমান হওয়ারও এক বছর আগে। আপনার মদ্যপান ছাড়ার কারণ কি ছিলো?
আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচুর মদ্যপান করতাম। যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় প্রতিদিন মদ্যপান করা ছাত্রসমাজের রীতি হয়ে গেছে, পার্টি করা, উদযাপন করা, একটা বই পড়া। কিন্তু হ্যাঁ। আমি পরে ছেড়ে দিয়েছিলাম কারণ, এটা স্বাস্থ্যকর জীবন ব্যবস্থা না। তো আমি প্রায় দেড় বছরের জন্য নিরামিষভোজীও ছিলাম আসলে। আর সৌভাগ্যক্রমে, আমি হালাল মাংসের সন্ধান পেয়েছিলাম বিশেষ করে তুরস্কে যার জন্য আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ। খাবার অসাধারণ। আপনার একটি ইউটিউব একাউন্ট আছে আর একটি ইন্সটাগ্রাম একাউন্ট আছে আর আপনি জনপ্রিয়। আমার ধারণা আপনি এমন অনেকের ম্যাসেজ পান যারা আপনার সাথে প্রেমে জড়াতে চায়? আমি কি ঠিক? জ্বি, প্রতিদিনই। তাদের প্রতি আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
আমি তাদের উত্তর দেই না বা ব্লক করি না কারণ মানুষের সেটা জিজ্ঞেস করার কথা না। আর আমি মহিলা এবং মেয়েদের মায়ের কাছ থেকেও ম্যাসেজ পাই। তাঁরা তাদের মেয়েকে বিয়ে দেয়ার জন্য ইমেইল পাঠায় এবং ইন্সটাগ্রামে ম্যাসেজ পাঠায়, কমেন্ট করে। আর আমি অবশ্যই তাদের উত্তর দেই না। আর তাছাড়া আমি খুব তাড়াতাড়ি বিয়ের কথা ভাবছিও না, বিশেষ করে আগামী দু তিন বছরে। এই সুন্দর মুসলিম পৃথিবীতে অনেক কিছু আছে। আমাকে আবিষ্কার করতে হবে এবং আরো অসাধারণ মানুষজনের সাথে পরিচিত হতে হবে। তো ঊনত্রিশ বা ত্রিশ বছরে পা না দেয়া পর্যন্ত আমি বিয়ের কথা ভাবছি না। আমাকে অনেক কিছুর সন্ধান করতে হবে, শিখতে হবে এবং খুঁজতে হবে। আপনি কেন নাস্তিক থেকে গেলেন না এবং ইসলামের ব্যাপারে কিছু গবেষণা করলেন?
জ্বি অবশ্যই। আমি খুবই অনুসন্ধিৎসু মানুষ। আমার ধারণা তাই আমি সফর করি আর তাই আমি শিখতে চাই। আমার সময় ছিলো আর আমি আন্তর্জাতিক সাংবাদিকতা নিয়ে মাস্টার্স ডিগ্রী পড়েছি। আর আমি মিডিয়া সম্পর্কে শিখেছি এবং তাঁরা কিভাবে ইসলাম সম্পর্কে পুরোপুরি ভুল তা জেনেছি। আর অবশ্যই আমি আমার অনুসন্ধিৎসুতার পথ বেছে নিয়েছি। তো আমি সব সময়ই খুব অনুসন্ধিৎসু মানুষ ছিলাম, এমন একজন যে সবসময় সংস্কৃতি সম্পর্কে, মানুষ, ভাষা পুরো পৃথিবী জুড়ে কেমন জানতে চায়। এবং এই করোনা ভাইরাসের মহামারীতে আমার হাতে অনেক সময় ছিলো এবং আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম সেই সময়টা ভালো কাজে এবং আবিষ্কারে লাগাতে। আমি যেসব মানুষের সাথে পরিচিত হয়েছি সবাই খুব দয়ালু, খুব ভালো মনের এবং শান্তিপ্রিয়। এবং সবই ফিরে এসেছে ইসলামের কাছে। তখনই আমি কোরআন পাঠের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, ইউটিউব ভিডিওগুলো দেখতাম প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) সম্পর্কে আরো জানতে পারলাম এবং বাকি সবার সম্পর্কে। এবং এটা দারুণ ছিলো। আপনার কাছে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কেমন?
তিনি অসাধারণ। আমার ধারণা এর চেয়ে ভালো কোন শব্দ তাঁর জন্য আমি খুঁজে পাবো না। আর আমি মনে করি এই পৃথিবীর সবাই তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পারবেন। এবং অবশ্যই তারা নবীজির জীবনের ইতিহাস থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেদের জীবনকে আরো গতিময়, আরো দানশীল এবং আরো গহনযোগ্য করে তুলবে। যদি পৃথিবীর সব অমুসলমানদের সাথে কথা বলার সুযোগ থাকতো, বিশেষ করে তাদের সাথে যাদের ইসলামের প্রতি বিদ্বেষ আছে যদি আপনার কাছে এক মিনিট থাকতো তাহলে আপনি তাদের কি বলতেন?
নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে শিখুন। মিডিয়া থেকে নয়। পৃথিবী ভ্রমণ করুন, মুসলমান অধ্যুষিত দেশগুলো ভ্রমণ করুন এবং নিজেকে সুযোগ দিন আর মুসলমানদের সাথে কথা বলার সময় দিন এবং তাদের জীবন যাত্রা সম্পর্কে জানুন, তাদের জীবন, তাদের গল্পগুলো জানুন। কারণ, আমি শপথ করে বলছি মিডিয়া যা বলে তা কখনোই হবে না। আর তাছাড়া আপনি যখন পৃথিবী জুড়ে ভ্রমণ করবেন এবং আপনি যদি কোন নেতিবাচকতা দেখেন, শুধু জেনে রাখুন, ইসলাম নিখুঁত কিন্তু মুসলমানেরা নয়। আপনার সাথে কথা বলে খুব ভালো লাগলো ভাই। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনার যাত্রা, আপনার গল্প খুবই রোমাঞ্চকর। ইনশাআল্লাহ, আপনার লক্ষ্য চমৎকার। ইনশাআল্লাহ আপনি সফল হবেন ভাই। ইনশাআল্লাহ আমি চালিয়ে যাব যতদিন পর্যন্ত পুরো পৃথিবী ইসলামের ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব না আনে। চলুন সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নটা করে ফেলি যা আপনার ঘাম ঝরিয়ে দেবে। কফি না চা?
তুরস্কে থাকাকালে এটাই সবচেয়ে কঠিন প্রশ্ন। চাই (চা) আমার প্রিয় এখানে, কিন্তু আমি কফি ভালোবাসি। আপনি যদি কফি বলেন তাহলে এই ভিডিওতে অনেক ডিসলাইক পড়বে। আমি বলবো চাই (চা)। ঠিক আছে। সেই ঠিক। আপনি আমাদের স্টুডিও, আমাদের মাদ্রাসা দেখেছেন? আপনি কিভাবে খুঁজে পেলেন? দারুণ! এখানে যারা কাজ করছে তারা সবাই খুব দয়ালু এবং স্টুডিও তো অভূতপূর্ব, শুধু খুব গরম। জ্বি, এটা খুব খুব গরম। ধন্যবাদ... নতুন মুসলমান বা মানুষদের ব্যাপারে কিছু বলুন দুঃখিত... আমি কি ইংরেজী উচ্চারণ ভুল বলেছি আর আপনি এভাবে হাসছেন? না... আপনি হাসতে থাকুন... এটা খুব গুরুতর সমস্যা ভাই। বিয়ে করলে আপনি আমার ব্যাপারটা বুঝবেন । জ্বি।