Towards Eternity
ব্লগে ফিরে যান

“আমার হিন্দু গার্লফ্রেন্ড আমাকে আবার ইসলামের পথে ফিরিয়ে আনে” -@The Sunnah Guy-এর আবেগঘন জীবনের গল্প

প্রকাশের তারিখ

YouTube-এ দেখুন

আমার একটি প্রেমিকা ছিল, সে ছিল হিন্দু। আমার পরিবার পুরো ধার্মিক হয়ে গেছে, আমি ধার্মিক হতে চাইনি, আমি আসলে ঘৃণা করতাম... ...সেই ধর্মকে, যা আমাকে নিয়ন্ত্রণ করে। আমি স্বাধীন জীবন যাপন করতে চাইতাম, কিন্তু আমার বাবা ছিলেন খুব কঠোর, তাই তিনি আমাকে প্রতিদিন ফজরের নামাজের জন্য জাগিয়ে দিতেন। আর আমি নিচে যেতাম, মুখে পানি দিয়ে আবার বিছানায় চলে আসতাম, আমি কখনো নামাজ পড়তাম না। এভাবে পাঁচটি বছর কাটিয়েছি। আমি খুব অসুস্থ বোধ করছিলাম। আমি বমি করছিলাম, বমি, বমি আর বমি। মনে হচ্ছিল যেন আমি মারা যাব। আমি বললাম, “ইয়া আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন।” আমি দ্বিধায় পড়ে গেলাম। শয়তান প্রতি মুহূর্তে আমার কানে কুমন্ত্রণা দিচ্ছিল। যদি ইসলাম সত্য না হয়?

তখন ভাবলাম, এখন আমাকে কিছু গবেষণা করতেই হবে। আমি ভাবছিলাম, এটাই কি সেই জিনিস যেটাকে আমি সারা জীবন অবহেলা করেছি? আসসালামু আলাইকুম ভাই শোয়াইব হুসাইন, যদিও আপনি দ্য সুন্নাহ গাই নামে সুপরিচিত। টোয়ার্ডস ইটার্নিটি-তে আপনাকে পেয়ে আমরা খুবই আনন্দিত। আর আমি শুরুতেই জানতে চাই, শোয়াইব হুসাইন কে? আপনার জীবন সম্পর্কে সংক্ষেপে বলতে পারবেন?

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু, ভাই। আলহামদুলিল্লাহ, এখানে আসতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত। আমার নাম শোয়াইব হুসাইন। আমি যুক্তরাজ্যে বেড়ে উঠা একজন পাকিস্তানি পুরুষ। আমি এমন এক পরিবারে জন্মেছি যারা আসলে খুব একটা ধনী ছিল না, যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী একটি সাধারণ পরিবারে। সত্যি বলতে, ছোটবেলা থেকেই, আমি যেন খুব অল্প বয়সেই বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ছোঁয়া পেয়েছিলাম। সংক্ষেপে বললে, বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমার পুরো পরিবার ধার্মিক হয়ে গেছে। আমি অবশ্য ধার্মিক হতে চাইনি। আমি আসলে ধর্মের কনসেপ্টকেই ঘৃণা করতাম কারণ এটি আমাকে নিয়ন্ত্রণ করবে। আমি স্বাধীন জীবন যাপন করতে চাই। আর এরপর আমি ১৬ বছর বয়সে ইসলামকে চিনতে পারি। আর গত ১৬ বছর ধরে আমি আমার জীবন ইসলামের বার্তা প্রচার করতেই কাটিয়েছি এমনভাবে, যাতে আমি যত বেশি সম্ভব মানুষকে সাহায্য করতে ও প্রভাবিত করতে পারি। আপনি কি আমাদের ফিরিয়ে নিতে পারবেন সেই সময়ে ইসলাম গ্রহণের আগের সময়ে অর্থাৎ এই সচেতনতা আসার পূর্বে, আপনার পরিবেশ যেমনটা ছিল, আপনার কী ধরনের আগ্রহ ছিল?

আমি একটা সময়ের কথা মনে করতে পারি, যখন আমি স্কুলে ছিলাম আর এক অমুসলিম ছেলেকে পাকিস্তানি মুসলিম ছেলেরা নির্যাতন করছিল। আমি বললাম, “এটা ঠিক না। এটা কিন্ত ঠিক না,” কারণ আমার স্কুলে বেশিরভাগই ছিল পাকিস্তানি। আমি দেখলাম তারা কী করছে, কারণ ছাড়াই তার ব্যাগে লাথি মারছে। তারা তাকে নির্যাতন করছিল। “এটা ঠিক নয়। ওরা এটা কীভাবে করতে পারে?

সে তোমাদের কী করেছে?” তাকে রক্ষা করতে গিয়ে উল্টো আমিই নির্যাতিত হলাম। আমি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও নির্যাতিত হয়েছি আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও নির্যাতিত হয়েছি কারণ আমি আলাদা ছিলাম। আর পরে, যখন আমার বয়স ছিল পাঁচ বছর, তখনই আমার বাবা ধর্মের দিকে ঝুঁকতে শুরু করে। তো তিনি হয়ে উঠলেন কঠোর, খুবই কঠোর। আমি সেই কঠোরতা পছন্দ করতাম না। সেই রুক্ষতাও পছন্দ করতাম না। আমাকে জোর করে নামাজ পড়ানো হতো, কিন্তু আমার তা ভালো লাগত না, বলতাম, “এক মিনিট, খালার কাছে তো আমি স্বাধীনতা পেয়েছি, আমি সেটাতেই অভ্যস্ত। আমি এটা চাই না। আমার এটা ভালো লাগে না।” আমার বাবা এতটাই অনড় ছিলেন, স্কুলের পর প্রতিদিন টানা দুই ঘণ্টা, আট বছর বয়স থেকে চৌদ্দ বছর বয়স পর্যন্ত — বুঝলেন?

ছয় বছর ধরে, আমি একটা মাদ্রাসায় যেতাম। আমি সেখানে যেতাম, বসে থাকতাম, ভীষণ বিরক্ত লাগত, আর ৬:৩০ বাজলেই সেখান থেকে বের হতে মুখিয়ে থাকতাম। ওয়াল্লাহি, এখনো সেই ঘড়িটা কেমন ছিল আমার মনে আছে। ওটা ছিল রূপালি ঘড়ি। আমি এভাবে তাকিয়ে থাকতাম। ভাবতাম, “৬:৩০ বাজলেই, আল্লাহ! এখন আমি যেতে পারব।” তাই স্কুলে থাকা, বাবার কাছ থেকে পালাবার পথ ছিল। আমার বাবা আমাকে বলতেন, “নামাজ পড়ো, আর স্কুলেই অজু করে নিও।” আমি কখনোই তা করিনি। সবসময় এড়িয়ে গেছি। আমি চার, পাঁচ বছর নামাজ পড়িনি। বাবা ভাবতেন আমি নামাজ পড়ছি। কেন?

কারণ বিদ্রোহই ছিল আমার স্বভাব। এটা আমার অংশ হয়ে গিয়েছিল। এভাবেই বড় হয়েছি। তিনি এসবের কিছুই জানতেন না। আর আমার মনে হয়, এখানেই একটা দ্বন্দ্বের জন্ম হয় কারণ আমার হৃদয়ের ভেতরে এক ধরনের নৈতিক আলো ছিল যা সঠিক কাজটিই করতে চাইত, শতভাগ সঠিক কাজ, কিন্তু আমার বাবা ছিলেন খুব কঠোর, তিনি আমাকে ফজরের নামাজের জন্য জাগিয়ে দিতেন প্রতিদিন। আর আমি নিচে যেতাম, মুখে পানি দিয়ে আবার বিছানায় লাফিয়ে উঠতাম। আর আমি কখনো নামাজ পড়িনি। আমি এটা পাঁচ বছর করেছি। তিনি ভাবতেন আমি নামাজ পড়ছি। তিনি জানতেন না আমি মেয়েদের সঙ্গে কথা বলতাম। আর এই সবকিছুই ঘটেছিলো তার অগোচরে। আমার মা, সুবহানাল্লাহ, তিনি কিছুটা জানতেন। তিনি মাঝে মাঝে বাবার কাছ থেকে কিছু বিষয় লুকিয়ে রাখতেন কারণ তিনি চাইতেন না আমি মার খাই। এটা ছিল ২০০৮ সালের ঘটনা। সে সময় Peace TV ছিল খুবই জনপ্রিয়। তাই সেটাই ছিল প্রথম ইংরেজি চ্যানেল যেখানে বলা হতো, দাওয়াহ এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কথা, আর সেটা Sky TV-তে ছিল। আল্লাহ ড.

জাকির নায়েককে বরকত দান করুন। তাই তিনি ড. জাকির নায়েক চালিয়ে দিতেন। আর সুবহানাল্লাহ, যখনই তিনি ড. জাকির নায়েক চালাতেন, প্রতিবারই তিনি বলতেন, “এটা দেখো। তাকে দেখো। দেখো, দেখো, তাকে দেখো।” আর তিনিই আমাকে বলতেন, “আমি চাই, একদিন তুমি তার মতো হও।” আর আমি সরে যেতাম আর ভাবতাম, “হায় আল্লাহ!, আপনি চান আমি তার মতো হই? হে আল্লাহ, রহম করো। এটা কখনোই হবে না, কখনোই না।” আপনি কি আমাদের সেই মুহূর্তে নিয়ে যেতে পারেন, যখন আপনি বললেন, “এক মিনিট, আমি আমার জীবন নিয়ে কী করছি?” আর কখন আপনার জীবন বদলাতে শুরু করল? আমার এক প্রেমিকা ছিল ২০১০ সালে । ২০০৯-১০ সালে। সে ছিল হিন্দু। আমি তার প্রেমে পড়েছিলাম। আমি ভেবেছিলাম “ভালোবাসা”, বুঝলেন?

তারপর যা হলো, একদিন, আর এটা ছিল সাত বছর ধরে সম্পর্কে জড়ানো-ছাড়ার পরের ঘটনা। আমি তার সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলাম কারণ তখন তুষারপাত হচ্ছিল, তুষার পড়লে স্কুলে যাওয়া হয় না। তাই আমরা বড়দিনের ছুটির পর ফিরে এলাম। তাই আমরা যাইনি, আর আমি ফোনেই তার সঙ্গে ছিলাম। আমি জেগে ছিলাম, কারণ আমরা দুজনই স্কুলে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। ফজরের পরও আমি তার সঙ্গে কথা বলছিলাম। আমার মা আমার ঘরে ঢুকতে যাচ্ছিলেন। তিনি ঢুকতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আগে কথোপকথনটা শুনতে চাইলেন। তারপর তিনি সেখানেই দাঁড়িয়ে রইলেন প্রায় ২০ মিনিট, শুনছিলেন। আমি আগে কখনো ধরা পড়িনি। আর তিনি শুধু শুনলেন, শুনলেন, আর শুনলেন। তারপর তিনি আবার ঘুমাতে গেলেন। আমিও আবার ঘুমিয়ে পড়লাম। আমি ঘুম থেকে উঠলাম, মা আমাকে দেখে বললেন, “ফোনে ওটা কে ছিল?” আমি আপনাকে বোঝাতে পারব না, আমার পুরো শরীর ঠান্ডা-গরম হয়ে গেল। “ফোনে ওটা কে ছিল?” আর আমি ছিলাম যেন...

আমি কোনো একটা অজুহাত বানিয়ে বলতে চাইলাম, তারপর আমি একেবারে ভেঙে পড়লাম। সব বেরিয়ে এলো। সাত বছরের জমে থাকা হতাশা। বললাম, “ভালোবাসা কী, তা আপনারা কখনোই বুঝবেন না। আপনারা জানেনই না সেটা কী,” ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি আমার বাবা-মায়ের সামনেই ভেঙে পড়লাম, দুজনের সামনেই। আমি ভেবেছিলাম বাবা আমাকে মারবেন, কিন্তু তিনি চুপ হয়ে ছিলেন। তারপর আমি ফেটে পড়লাম আর সেদিন অনেক কেঁদেছিলাম কারণ আমার হৃদয় ভেঙে গিয়েছিল। ভাবছিলাম, আচ্ছা... আমার মা, আমার মা দেখলেন সে একজন অমুসলিম, তিনি নাম জিজ্ঞেস করলেন। আমি নাম বললাম, আর মা যেন...!

তারপর মা চিৎকার করতে শুরু করলেন, চিৎকার করতেই থাকলেন। “সে অমুসলিম। তোমাকে এভাবে বড় করতে আমি কী না করেছি?” ইত্যাদি ইত্যাদি। তারপর মূলত আমার ভাবার সময় হলো। কিন্ত আমি সঙ্গে সঙ্গে বদলে যাইনি, কারণ আমি যা করতাম, তা হলো আবেগী গান শুনতাম। আর গিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতাম। আর আমার বন্ধুরা বলত, “ব্রো, ঠিক আছে, চিন্তা কোরো না, ব্রো। সে তো তোমারই আছে, ভাই, ব্রো, সে তোমার সঙ্গেই আছে, সে ভালো মেয়ে, ব্রো।” এরপর আমি তার সাথে কথা বললাম। বললাম যে, “আমার বাবা-মা জেনে গেছেন। এটা করতে চাইলে তোমাকে মুসলিম হতে হবে। ইসলাম গ্রহণ করো।” সে বলল, “আমি দুঃখিত। আমি পারব না। আমি আমার মায়ের ধর্মের বিরুদ্ধে যেতে পারব না।” ওয়াল্লাহি, আমার মনে আছে, এভাবে তর্ক চলতেই থাকল, এদিক-ওদিক। কয়েক দিন এমনই চলল, আমি তাকে শুধু বোঝাচ্ছিলাম, তারপর ভাবলাম, এখন আমাকে কিছু গবেষণা করতেই হবে। তাকে বুঝাতে হবে, শুধু বললেই তো আর হবে না। আমার তাকে বোঝাতেই হবে ইসলাম সত্য। তারপর আমি গুগল আর ইউটিউবে গিয়ে লিখলাম যে, “একজন হিন্দুকে কীভাবে বোঝাব যে ইসলাম সত্য।” ওয়াল্লাহি, আমার মনে আছে, আমি এটা গুগলে খুঁজেছিলাম। যিনি সামনে এলেন, তিনি হলেন ড.

জাকির নায়েক। আর এবার আমি সত্যিই তাঁর কথা শুনলাম। বছরের পর বছর মা আমাকে জোর করে তাঁর কথা শোনাতে চেয়েছিলেন, কিন্তু এবার আমি নিজেই শুনতে আগ্রহী ছিলাম। তারপর আমি উনার কিছু বক্তব্য দেখলাম আর তাঁর সব লেকচার দেখতে থাকলাম। একটার পর একটা, একটার পর একটা, একটার পর একটা, একটার পর একটা, একটার পর একটা, বিরামহীনভাবে। তিনি যখনই কথা বলা ভ্রূণ, বিগ ব্যাং, কুরআনের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নিয়ে, আমার তো মুখ হা হয়ে গেল। আমি হতবাক হয়ে গেলাম, কারণ তিনি Peace TV-তেও এগুলো বলতেন যখন টিভি চলত, আমি কিন্তু তখন শুনতাম না। শব্দ কানে যেত, কিন্তু মন দিয়ে শুনতাম না। কিন্তু যখন আমি সত্যিই শুনলাম, মন দিয়ে বুঝলাম, তখন ভাবলাম, “এটাই কি সেই জিনিস যেটাকে আমি সারা জীবন অবহেলা করেছি?

এটাই কি সেই সত্য, যার মাঝে আমি ঘুমিয়ে কাটিয়েছি? আমি কি এটাকেই অবহেলা করে এসেছি?” সুবহানাল্লাহ। আমি বললাম, “ওহহ্‌ আল্লাহ।” তারপর টানা দুই, তিন সপ্তাহ আমি সবকিছু নিয়ে ভাবলাম। সেই দুই-তিন সপ্তাহে আমি খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। আমার ফুড পয়জনিং হয়েছিল এবং মনে হচ্ছিলো আমি মারা যাব। তারপর আমার মনে আছে, আমি নামাজের জায়নামাজে গিয়ে সরাসরি সিজদায় পড়ে গেলাম। আমি অজু করলাম তারপর নামাজ পড়লাম। আমি শুধু বললাম, “ইয়া আল্লাহ। আমাকে ক্ষমা করুন, সবকিছুর জন্য আমাকে ক্ষমা করুন।” সুবহানাল্লাহ, সবকিছু কত সুন্দরভাবে মিলে গিয়েছিল, কারণ ঠিক তখনই আমি ড.

জাকির নায়েকের ভিডিও দেখা শুরু করি। তারপর আমি বিশ্বাস করতে শুরু করলাম যে ইসলাম সত্য। তারপর আমি ধীরে ধীরে স্কুলে বন্ধুদেরও বলতে শুরু করলাম, তারা আমাকে নিয়ে হাসাহাসি শুরু করল। আমি বন্ধুদের থেকে দূরে সরে গেলাম। তারপর আল্লাহ আমাকে খুব কঠিন অসুস্থতা দিলেন। আমি প্রায় ছয় দিন অসুস্থ ছিলাম। আমি শুধু বমি করছিলাম, বমি, বমি, বমি আর বমি। -শরীরের অসুস্থতা?

মনে হচ্ছিল আমি যেন মারা যাব। আমি নিজেকে সামলাতে পারছিলাম না। নিজেকে গুছিয়ে রাখতে পারছিলাম না। আর এরপর আমি বললাম, “ইয়া আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন।” সেই মুহূর্তে আমি খুব, খুব আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম। আর আমি সেদিন বলেছিলাম, এটা আমার মনে আছে। “আমি আর কখনো কোনো নামাজ ছাড়ব না।” সেদিনই আমি সেই অঙ্গীকার করেছিলাম আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার কাছে আর সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। এরপর আর কখনো পেছনে ফিরে তাকাইনি। সুবহানাল্লাহ, সেখান থেকেই আমার জীবন সত্যিকার বদলে যায়। যখন আমি বুঝতে পারলাম, এই দ্বীন সত্যিই সত্য। এটা সত্যিই সত্য। সুবহানাল্লাহ, আল্লাহ সত্য। রাসূল ﷺ, তিনি সত্য। তিনি সত্যিই আল্লাহর একজন নবী। আল্লাহ তাঁর সাথে যোগাযোগ করেছেন ফেরেশতা জিবরীল (আ.)-এর মাধ্যমে। কুরআন হলো আল্লাহর বাণী। সত্যি!

আর এই বাস্তবতা আমাকে আঘাত করল। আর আমি ভাবলাম, “ওয়াও, আমি এতদিন কী করছিলাম জীবনে?” তো সুবহানাল্লাহ, সেখান থেকেই আমি বদলে গেলাম। আপনার নতুন পরিচয়, নতুন জীবন— আপনার বন্ধুরা কীভাবে গ্রহণ করেছিল?

আমি তাদের বলতে শুরু করলাম কিছু জিনিস হারাম এবং আমাদের নামাজ পড়া উচিত। তারা আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করল। হাসি, ঠাট্টা, উপহাস— আমাকে নিয়ে মজা করত। আমাদের একটা বিষয় আছে, প্রম নামে। লিভার্স গ্র্যাজুয়েশন প্রম। সবাই সুন্দর করে সাজে। আমরা লিমোজিন ভাড়া করি, লন্ডনে যাই, শিশা খাই, একটু আনন্দ করি, তারপর ফিরে আসি। আমার বন্ধুরা লিমোজিন ভাড়া করেছিল, আর আমি এর কয়েক মাস আগে থেকেই ইসলাম চর্চা শুরু করেছিলাম। আমি নামাজ শুরু করি, বদলাতে থাকি। আর আমার বন্ধুরা বলল, “তোমাকে আসতেই হবে।” বললাম, “আমি আর যেতে চাই না, কারণ আমাকে নামাজ পড়তে হবে। আমাকে সালাত আদায় করতে হবে, আমি নামাজ মিস করব না।” তারা বলল, “চিন্তা করো না, তোমাকে নামাজ মিস করতে হবে না।” আর তারপর শেষ পর্যন্ত যা হলো, আমি গাড়িতে ছিলাম, আর ফজরের সময় শেষ হয়ে যাচ্ছিল। তারা আমাকে নামিয়ে দিল, আমি বাসায় গিয়ে ফজর পড়লাম দেরিতে। কিন্তু তারা আমাকে বাসা থেকে ২০ মিনিট দূরে নামিয়ে দেয়। তাই আমাকে হাঁটতে হয় বেশকিছু দূর। বললাম, “আমাকে বাসায় নামায়ে দিচ্ছনা কেন?” তারা বলল, “না, না, পারব না, লিমোজিন ফেরত দিতে হবে, সময় শেষ,” ইত্যাদি, ইত্যাদি। ওয়াল্লাহি, আমি হাঁটতে হাঁটতে ফিরলাম। আমি টাক্সেডো পরা ছিলাম। আমার বয়স ছিল ১৬। সবে সূর্য উঠছে। বললাম, “আমি আর কখনো এই ছেলেদের দেখতে চাই না।” এরপর কী হলো, মানে, আপনি কলেজে গিয়েছিলেন?

আর কীভাবে আপনি দ্বীনে আরও এগোতে লাগলেন?

স্কুল শেষ করে আমি ফুটবল কলেজে ভর্তি হলাম। সেখানে ফুটবল খেলতো আর পড়াশোনা করতো। আমি ছিলাম একমাত্র মুসলিম, বাকি ৪৫-৫০ জন ছিল অমুসলিম। আমি আমার ধর্মের কারণে কলেজে নির্যাতিত হতাম। তিনি বললেন, “আপনি যদি সত্যিকারের মুসলিম হতে চান, তাহলে সূরা আসর বাস্তবায়ন করতে হবে।” “আমানু ওয়া ‘আমিলুস সালিহাতি, ওয়া তাওয়াসাও বিল হাক্কি, ওয়া তাওয়াসাও বিস্‌ সবর।” “আপনাকে ঈমান আনতে হবে, সৎকর্ম করতে হবে, সত্যের দিকে আহ্বান করতে হবে, আর ধৈর্যের দাওয়াত দিতে হবে।” আপনি যদি ভালো কাজে মানুষকে না ডাকেন, তাহলে প্রকৃত মুসলিম হতে পারবেন না। আমি ভাবলাম, “ঠিক আছে, আমাকে দাওয়াত দিতে হবে। দাওয়াহ ফরজ।” কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো কৌশল নেই। আমার বয়স মাত্র ১৬। আমি দাওয়াহ লিফলেট দিচ্ছি, বাসে দাঁড়িয়ে মানুষকে উপদেশ দিচ্ছি। একদম আমার ঠিক যা মনে হয় তাই করছি । আর তারা আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করে, টিপ্পণী কাটে। তারা আমাকে নিয়ে মজা করে। তারা আমাকে, আল্লাহকে, তাঁর রাসূল ﷺ-কে উপহাস করে। তারপর সুবহানাল্লাহ, আমার জীবনে এমন কিছু ঘটল যেখানে আমি সন্দেহে পড়ে গেলাম। শুবুহাত। একদিন বাড়ি ফেরার পথে আমার মনে একটি চিন্তা এল। একটি চিন্তা যা আমার জীবন বদলে দিল। চিন্তাটি ছিল, “যদি ইসলাম সত্য না হয়?” মনে হচ্ছিল শয়তান যেন প্রতিটা মুহূর্তে আমার কানে কানে কথা বলছে। এটাই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়। আমার চোখে সমস্যা শুরু হলো। চোখের চামড়া শুকিয়ে যাচ্ছিল কারণ সেই কয়েকটা বছর, আমি প্রতিদিন কাঁদতাম। ভাবতাম আমি অমুসলিম হয়ে গেছি। কারণ আমি প্রশ্ন করেছিলাম, “আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে?” আমি বুঝতে পারছিলাম না। আমি সিজদায় যেতাম আর ভাবতাম, “আমি তো একটা দেয়ালের সামনে নামাজ পড়ছি। কোনো আল্লাহ নেই।” আমি নামাজের মাঝখানে উঠে দাঁড়াতাম, তারপর নিজের ফালস্‌ অনুভব করতাম। আর বলতাম, “সুবহানাল্লাহ, এটা কে সৃষ্টি করেছে?” তারপর আমি কান্নায় ভেঙে পড়তাম খুশু ও ঈমান নিয়ে। এই টানাপোড়েন—কখনো মনে হতো আমি ধ্বংস হয়ে গেছি, কখনো মনে হতো আল্লাহ নেই, কখনো মনে হতো নামাজ ছেড়ে দিই, আবার কখনো মনে হতো এটাই আমার বাঁচার ভরসা। এটা ছিল টানাপোড়ন, এটা হতো বারবার, বারবার বারবার, বারবার । আমার জীবন এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল। যেন আমার মাথা ঘুরছিল। হৃদয় ছিল অস্থির। তারপর আমি একটা হাদিস শুনলাম যা আমাকে শান্ত করল। ওয়াল্লাহি। রাসূল ﷺ বলেছেন, মুমিনদের হৃদয় আর-রহমানের হাতে থাকে। তিনি যেভাবে চান সেভাবে ঘুরিয়ে দেন। আরেক হাদিসে বলা হয়েছে, মুমিনের হৃদয় ফুটন্ত পানির মতো। সবসময় ওঠানামা, ওঠানামা ওঠানামা ওঠানামা করতে থাকে। আপনার ঈমানও সবসময় ওঠানামা ওঠানামা করে। “তাই আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করো তিনি যেন তোমার ঈমান নবায়ন করেন।” “তাহলে আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন তিনি আপনার অন্তরে ঈমান নতুন করে দেন, নিরন্তর।” এই কথাগুলো শুনে আমি স্বস্তি পেতাম। আমি ইসলাম চর্চা করছিলাম একাই। আর লেকচার শুনতাম। শাইখ বিলাল আসাদের মতো মানুষদের শুনতাম। আর ধীরে ধীরে আমি মানুষ খুঁজে পেতে থাকলাম। আমি নোমান আলী খানের অনেক কিছুই শুনতাম, বিশেষ করে তাঁর কুরআন বিষয়ক...

ই‘জাযুল কুরআন— কুরআনের অলৌকিকত্ব নিয়ে আলোচনা। এটা আমাকে অনেক অনেক বেশী সামলে রেখেছিল। ওয়াল্লাহি, আল্লাহ নোমান আলী খান কে উত্তম প্রতিদান কামনা করছি। এটা ছিল, সুবহানাল্লাহ, আমার জন্য বিশাল কিছু, সত্যিই বিশাল। আমি গেছি কনফারেন্সে, ইভেন্টে, ক্লাসে, লেকচার শুনেছি। আমি এক, এক শাইখের সঙ্গে দেখা করতেও গিয়েছিলাম। শাইখ নাভিদ আজিজ, যিনি বিদেশ থেকে এসেছিলেন। তিনি কানাডা থাকেন। আর তিনি ইউকেতে এসেছিলেন কিছু লেকচার দেওয়ার জন্য। আমি তাঁকে বললাম, “শাইখ, আমি এই ওয়াসওয়াসার সঙ্গে লড়ছি।” তিনি বললেন, “একটা ভ্রাতৃত্ব খুঁজে নিন।” তখন আমি বললাম, “শাইখ, আমি তো কোনো ভাই খুঁজে পাচ্ছি না, আশেপাশে কেউ নেই।” বললেন, “তাহলে গিয়ে একটা ভ্রাতৃত্ব গড়ে তুলুন।” তারপর আমি সিজদায় একটি দোয়াই করতাম। “ইয়া মুকাল্লিবাল কুলূব, ছাব্বিত ক্বালবি ‘আলা দ্বীনিক।” “হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী, আমার হৃদয়কে আপনার দ্বীনের উপর অটল রাখুন।” এরপর আমার আরেকটিও দোয়া যোগ হলো। “হে আল্লাহ, আমাকে সাহায্য করুন আমার শহরে একটি ভ্রাতৃত্ব গড়ে তুলতে।” এটাই ছিল আমার দ্বিতীয় দোয়া। ২০১১ সালের নভেম্বর। তারপর ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারির দিকে, আমার বাবা অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের এক খালাকে চিনতেন। তাঁরা ফেসবুক বন্ধু ছিলেন। তিনি আমাকে শাইখ বিলাল আসাদের একটি বার্তা পাঠালেন। এখন ভাবুন ভাই, আমার কোনো মুসলিম বন্ধু নেই, আমি অনলাইনে শাইখ বিলালের সব লেকচারই দেখি, সবকিছু। আর এখন, আমি তাঁর কাছ থেকে একটি ভিডিও বার্তা পেলাম। “আসসালামু আলাইকুম শোয়াইব,” তারপর তিনি বললেন, “বোনেরা আপনার সম্পর্কে আমাকে অনেক কিছু বলেছেন।” ভাই, আমি হতবাক হলাম, কী!

শাইখ বিলাল আমাকে চেনেন?

তারপর তিনি বললেন, “আপনি ইউকেতে আমার প্রিয়জনদের একজন, আর আমার দোয়া আপনার সঙ্গে আছে, আখি।” ব্যস, সেটাই ছিল। আমি সেই ভিডিওটাকে সারা জীবনের জন্য আগলে রেখেছি। আমি সেই ভিডিওটাকে সারা জীবনের জন্য হৃদয়ে ধারণ করেছি। আমি সেই ভিডিও হৃদয়ে রেখেছি। সেটা ছিল ২০১২ সালের, ভাই। তিনি তো আমাকে চিনতেনই না। তিনি শুধু একটি সাধারণ ভিডিও করেছিলেন। সুবহানাল্লাহ। আর সেই ভিডিও আমাকে অনেক সাহায্য করেছে, ভাই। আমি নিজেকে খুব বিশেষ মনে করেছিলাম। আর এরপর সুবহানাল্লাহ, ওটাই আমাকে আরও বেশি দাওয়াহ দেওয়ার প্রেরণা দিত। আমি একটা দাওয়াহ স্টল চালু করলাম। ওটা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, তারপর আবার চালু করলাম। আমি ভাইদের একত্র করতে শুরু করলাম, আমরা পুনরায় প্রচার শুরু করলাম। তারপর আমি এতটাই প্রচার প্রচারণা নিয়ে উদ্দীপ্ত হয়ে গেলাম যে, আরও, আরও, আরও, আরও, আরও, আরও। আর আমার মনে আছে, কলেজ ছাড়ার জন্য আমি মুখিয়ে ছিলাম ২০১২ সালের জুলাইয়ে। আমি কলেজ ছাড়ার জন্য আর অপেক্ষা করতে পারছিলাম না। কলেজ ছেড়ে দিলাম এর বললাম, আমি এখন পূর্ণসময়ে প্রচার চালাবো। তারপর আমি আক্ষরিক অর্থেই সপ্তাহে তিন দিন দাওয়াহ দিতাম শহরের কেন্দ্রে। কখনো কখনো একাই দাঁড়িয়ে থাকতাম শুধু লিফলেট বিলাতাম, মানুষের সঙ্গে কথা বলতাম। এক বছরে প্রায় ১৭০ জনেরও বেশি মানুষ শাহাদাহ গ্রহণ করেছিলেন, কিন্তু পরে আবার সবাই সরে আসলেন। তখন আমরা বুঝলাম, আমাদের গঠনমূলক কিছু দরকার। আমরা যেন মানুষকে এমন ঘরে ডাকছি যেখানে কোনো আসবাবই নেই। তাই আমি ভাইদের গড়ে তুলতে শুরু করলাম, তাদের উন্নত করতে লাগলাম, এবং তরুণ মুসলিমদের সঙ্গে কথা বলতে থাকলাম। তাদের ফুটবল খেলতে নিয়ে যেতাম, খাবার খাওয়াতে নিয়ে যেতাম, সবাইকে একসঙ্গে করতাম, স্বেচ্ছাসেবক হতে উৎসাহ দিতাম, ইভেন্ট আর কনফারেন্সে নিয়ে যেতাম, গাড়িতে করে বেরিয়ে পড়তাম রিট্রিটে যেতাম আর এসব কাজ করতাম। মাকসাদ, উদ্দেশ্য, লক্ষ্য—সবই এক, মানুষকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাতে সাহায্য করা। তারপর কোভিড এলো। সেসময়টায় আমি এক কঠিন টানাপোড়নে পড়ে গেলাম। আমি সবসময় অনলাইনে আসতে চেয়েছিলাম। আমি সবসময় আরও বেশি মানুষকে প্রভাবিত করতে চেয়েছি। আমি সবসময় প্রভাব রাখতে চেয়েছি। আরও বেশি মানুষের কাছে ইসলামের বার্তা পৌঁছাতে চেয়েছি। ভাবতাম, আরও বেশি মানুষ এই বার্তাটি জানতে পারে, তাহলে আরও বেশি মানুষ জাহান্নাম থেকে রক্ষা পাবে। তাই আমি ‘দ্য সুন্নাহ গাই’ শুরু করলাম, আর ছোট ছোট ইসলামী চলচ্চিত্র বানাতে শুরু করলাম। আমি এর জন্য একেবারে রিক্তহস্ত ছিলাম। ভাবলাম, এটা খুবই ইফেক্টিভ হতে পারে। আমার মনে আছে, আমি অ্যাভেঞ্জার্স সিনেমা দেখছিলাম। আর অ্যাভেঞ্জার্সের শেষ অংশে আমি কেঁদে ফেলেছিলাম। যদিও আমি কেঁদেছিলাম, তবুও ভাবছিলাম, “এটা এত, এত স্পর্শকাতর। এটা আমার ওপর এতটা প্রভাব ফেলছে কেন?” তারপর আমি বুঝলাম, যখন আমরা ক্যাম্পফায়ারের পাশে ভাইদের নিয়ে বসি, সাহাবিদের কাহিনি বলি, তাদের স্মরণ করিয়ে দিই জান্নাত আর জাহান্নাম নিয়ে। তখন আমরা ভাইদের কাঁদতে দেখি। বললাম, সুবহানাল্লাহ। যখন আপনি শব্দ, আগুন, ভাইদের উপস্থিতি আর পরিবেশ একত্র করেন, তখন হৃদয়ে প্রভাব সৃষ্টি হয়। তখন আবেগকে নাড়া দেওয়া যায়। আর সুবহানাল্লাহ, আমি নিজেকে বললাম, “ভিডিওতে যদি এটা করা যায়, তাহলে আমি সেটাই করতে চাই।” তারপর আমাদের স্বপ্ন হলো এটা সিনেমা হলে নিয়ে যাওয়া। আমি ভাবলাম, “কেন নয়?

আমরা পারব না কেন?

অবশ্যই পারব।” আমি আর আমার সিনেমাটোগ্রাফার বসলাম, কথা বললাম, পরিকল্পনা করলাম, তারপর আমরা আরও চার, পাঁচ, আট, নয়, মানে আরও, বারো, তেরো— মানে এখন অনেক অনেক দৃশ্য যোগ হলো। আর সেটাই ছিল ইউকেভিত্তিক প্রথম ইসলামী চলচ্চিত্র যা সিনেমা হলে দেখানো হয়। সেটাই ছিল প্রথমবার, যখন মুসলিমরা সালাত আদায় করেছিলেন সেই রুপালি পর্দার সামনে ইউকেতে। এটা ছিল এক বিশাল, বিশাল মুহূর্ত। আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল ইমান চ্যানেল-এর একটি প্রজেক্ট উপস্থাপনের জন্য, যেটি হলো ইমান একাডেমি, আলোতে আলো-এর মঞ্চে। শাইখ বিলাল আসাদ ছিলেন অতিথি বক্তা সেই Light Upon Light কনফারেন্সে। আমি মঞ্চ থেকে নামলাম, তারপর আরেকজন বক্তা এলো, এরপর শাইখ বিলাল আসাদ মঞ্চে উঠলেন। তারপর তিনি মঞ্চ থেকে নামতেই, আমি তাঁর কাছে গেলাম, তাঁকে ধরে বললাম, “আমি আপনাকে একটা জিনিস দেখাতে চাই।” তিনি শুধু বললেন, “কী?” তারপর আমি তাঁকে তাঁর সন্তানদের অনেক আগের ছবিগুলো দেখাতে শুরু করলাম। কারণ সেই খালা আমাকে শুধু একটা ভিডিওই পাঠাননি, তাঁর বাচ্চাদের ছবিও পাঠিয়েছিলেন। আমি তাঁর বাচ্চাদের ছবি দেখতাম আর বলতাম, “ওয়াও, এরা তাঁর সন্তান, ওয়াও।” তাঁর সন্তানদের কুরআন তিলাওয়াতের ভিডিওও ছিল। তিনি আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, “কী?

আপনি এসব ছবি কোথায় পেলেন?

এমনকি আমার কাছেও এসব ছবি নেই। এগুলো আপনি কোথা থেকে পেলেন?” আর সুবহানাল্লাহ, তারপর আমি তাঁকে সেই ভিডিওটা দেখালাম যেটা তিনি আমাকে ১১ বছর আগে পাঠিয়েছিলেন। তখন তিনি বললেন, “ওটা কি আপনি?” আমি বললাম, “শাইখ, হ্যাঁ, এটা আমি।” এটা ছিল ১১ বছর আগে। আপনি আমাকে এই ভিডিও বার্তাটা পাঠিয়েছিলেন, তারপর আমি তাঁকে আমার গল্প বললাম, কীভাবে সব ঘটেছিল, কীভাবে আমি সন্দেহ ও শুবুহাতের সঙ্গে লড়াই করেছে, কীভাবে আমি কষ্টে ছিলাম আর তিনি আমাকে সাহায্য করেছিলেন। আমি আর তিনি একটি ঘরে বসে অঝোরে কাঁদতে শুরু করলাম। সুবহানাল্লাহ। আর তারপর এক বছর পরে, আমি অস্ট্রেলিয়ায় শাইখ বিলাল আসাদের সঙ্গে মঞ্চে একটি ট্যুর করি। মেলবোর্নে সবার সামনে, আর সেই খালাও আমাদের সঙ্গে মঞ্চে উঠে এলেন। আমি তো জানতামই না তিনি সেখানে ছিলেন। সেই প্রথমবার তাঁর সঙ্গে আমার দেখা হলো। ওয়াল্লাহি ভাই, জীবন যেন এসে আমার জন্য এক পুরো বৃত্ত সম্পূর্ণ করল। চক্রটা পুরোপুরি সম্পূর্ণ হয়ে গেল। যদি তিনি ﷺ এই মুহূর্তে এই ঘরে প্রবেশ করতেন, তাহলে আপনি তাঁকে কী বলতেন?

আমি চেষ্টা করছি, ইয়া রাসূলাল্লাহ ﷺ। আমি আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। আমি এটাই বলতাম। অবশ্যই তাঁকে ধন্যবাদ জানানোর পর, তাঁর পদমোবারক ও কপালে চুমু দিতাম, আমার জন্য দোয়া করুন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ﷺ, যেন এটা সফল হয়। এবার কিছু ছোট প্রশ্ন আর ছোট উত্তর, তারপর আরও কিছু প্রশ্ন বাকি আছে। দ্য সুন্নাহ গাই সবচেয়ে বেশি কী করতে ভালোবাসেন? এমন কনটেন্ট তৈরি করা, যা মানুষের হৃদয়ে প্রভাব ফেলে যাতে তারা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার আরও নিকটবর্তী হয় আর তাদের স্রষ্টাকে চিনতে পারে। আমি এটাই ভালোবাসি। যখন আমি তাদের চোখে সেই আলো দেখি, যখন তারা আল্লাহকে চিনে ফেলে, ভাই, এর চেয়ে উত্তম আর কিছু হতেই পারে না। দ্য সুন্নাহ গাই জীবনে নেওয়া সেরা সিদ্ধান্ত কোনটি?

ইসলামকে না ছাড়া। জি। ওয়াল্লাহি। ইসলামকে না ছাড়া, এবং ইলম অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই নেই, এর চেয়ে ভালো কোনো সিদ্ধান্তও ছিল না। দ্য সুন্নাহ গাই জান্নাতে প্রবেশ করলে সবার আগে কী করবেন, ইনশাআল্লাহ? আমি নবী ﷺ এবং তাঁর সাহাবিদের কাছে যাব, আর তাঁদের ধন্যবাদ দেব। আমি উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-কে ধন্যবাদ দেব পারস্যে সেনাবাহিনী পাঠানোর জন্য, আর কাদিসিয়ার যুদ্ধে খালিদ ইবনুল ওয়ালিদের বীরত্বের জন্য তাঁকেও ধন্যবাদ দেব, আর আমি তাঁদের কপালে এবং তাঁদের পদমোবারকে চুমু দেব, কারণ তাঁরা আমার পূর্বপুরুষদের শিরিক থেকে মুক্ত করেছিলেন। সম্ভবত এটাই হবে আমি প্রথমে যা করব। ইনশাআল্লাহ। আপনার ব্যক্তিগত কোন্‌ বৈশিষ্ট্যটি আপনার সবচেয়ে অপছন্দ?

আমি বলব, কখনো কখনো আমি তাড়াহুড়ো করে ফেলি। আমার স্বভাবটা কিছুটা অতিরিক্ত আসক্তিময়, আর সেটা ভালো ও মন্দ—দুই দিকেই যেতে পারে। জি, আসলে এই দুটোই। গুগলে আপনি সর্বশেষ কী খুঁজেছেন? -আমি কি দেখে নিতে পারি? -অবশ্যই, অবশ্যই। আমি নিজেও দেখতে চাই এটা কী। ইস্তাম্বুলে সূর্যোদয়ের সময়। হ্যাঁ আপনি তো রাতে পৌঁছেছেন, তাই এটা স্বাভাবিক। হ্যাঁ এমন কোনো মজার ঘটনা, যেখানে আপনি খুব লজ্জা পেয়েছিলেন, যে মুহূর্তটি আপনি কখনো ভুলতে পারেন নি?

আমি তখন ছোট ছিলাম, তখন আমি একটা মসজিদে ছিলাম, আর ইস্ট লন্ডনে একটি কনফারেন্স হচ্ছিল। আমি যেখানে থাকি, সেখান থেকে ইস্ট লন্ডন প্রায় দুই ঘণ্টার পথ। আর সেটা ছিল পরের দিন। আর আমাদের মসজিদের ইমাম ছিলেন অত্যন্ত, অত্যন্ত কঠোর, খুবই কঠোর একজন ইমাম। ওই কনফারেন্সে যাওয়ার জন্য আমার একটা লিফট দরকার ছিল। তখন আমার বয়স ১৭। আমি কাউকেই চিনতাম না যে ওই কনফারেন্সে যাচ্ছিল। তো সালাতের পর আমি উঠে একটি ঘোষণা দিয়ে দিলাম। আমি বললাম, একটি অসাধারণ কনফারেন্স হচ্ছে আগামীকাল । এই শাইখ আসবেন, ওই শাইখ আসবেন, আরেকজন শাইখও আসবেন। আর যদি কোনো ভাই যেতে চান, তাহলে দয়া করে আমাকে জানান, কারণ আমাদের মধ্যে কয়েকজন আগ্রহী।” শাইখই ছিলেন আমাদের মসজিদের ইমাম। আর তিনি ওই মাশায়িখদের সঙ্গে পুরোপুরি দ্বিমত পোষণ করতেন। তিনি প্রকাশ্যেও তাঁদের সমালোচনা করেছিলেন। তাই তিনি আমাকে বললেন, “ভাই, এটা কোনো সার্কাস নয় যেখানে আপনি উঠে যা ইচ্ছা ঘোষণা করে দেবেন। এখানে কেউই আগ্রহী নয়। দয়া করে বসে পড়ুন।” পুরো জামাতের সামনে। আর আমি বাইরে গিয়ে এভাবেই দাঁড়িয়ে ছিলাম। ওয়াল্লাহি, কিছু ভাই বলছিলেন, “এমন তো হয়েই থাকে।” তবে আলহামদুলিল্লাহ, আমি শেষ পর্যন্ত একটা লিফট পেয়েছিলাম। আপনি জানেন, মুসলিম তরুণদের মধ্যেও এমন অনেকে আছে যারা জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে পায় না এবং শেষ পর্যন্ত মাদকে জড়িয়ে পড়ে। আপনি কি আমাদের বলতে পারেন বাস্তবে কী ঘটছে, আর এই তরুণরা আসলে কীসের মধ্য দিয়ে যায়?

আপনাকে সমাধান করতে হবে সেই সমস্যাটা, যেখানে তরুণদের মধ্যে লক্ষ্য আর উদ্যমের অভাব, তারা কোনো দাওয়াতি কাজের অংশ হতে পারছে না। পশ্চিমে তরুণদের ভেতরের শক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর অন্যতম বড় উপায় হলো তাদের একটা লক্ষ্য দেওয়া— শয়তান ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর। তাদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করুন নিজেদের বাঁচাতে এবং অন্যদেরও জাহান্নাম থেকে বাঁচাতে। কিন্তু এর চেয়েও বেশি দরকার একটা পরিবেশ, যেখানে তারা উদ্দেশ্য খুঁজে পাবে। এমন বন্ধু, যারা তাদের অভিপ্রায় খুঁজে পেতে সাহায্য করবে। আর এমন বন্ধুরা, যারা নিজেরাও লক্ষ্যভিত্তিক। মূল শেকড়ের কাছে যান। মূল সমস্যায় যান— মূল সমস্যা হলো তাদের দিকনির্দেশনা নেই, উদ্দেশ্য নেই। তাদের উদ্দেশ্য দিন। কারণ যখন আপনি তাদের উদ্দেশ্য দেবেন, তারা অন্যদেরও উদ্দেশ্য দিতে পারবে। কিন্তু যদি আপনি শুধু বলেন, “যাও নামাজ পড়ো,” “ঠিক হয়ে যাও,” এটা শুধু শুরু, এটা শুধু ইঞ্জিন চালু করা। শুধু ইঞ্জিন চালু করবেন না, গাড়িটাকে সামনে এগিয়ে নিন। হয়তো এখন একজন তরুণ দেখছে যে বলছে, “আমি হারামের মাঝে ঘেরা, এই অবস্থায় আমি কীভাবে আমি আমার আখিরাত বাঁচাব?” আপনি তাকে কী বলবেন?

আমি তাকে চার ধাপের একটা সূত্র দেব। প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— আপনাকে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে হবে। আল্লাহর সঙ্গে গভীর ও অন্তরঙ্গ সম্পর্ক গড়ে তুলুন। দ্বিতীয় বিষয় হলো— যা করতে হবে, আপনার আল্লাহর কিতাবের সঙ্গে সম্পর্ক থাকতে হবে। তা অনুবাদেই হোক, অথবা এমন ভাষায় যা আপনি বোঝেন। কিন্তু কুরআন পড়ুন। পড়তে শিখুন। এতে ছয় মাস মনোযোগ দিন। এরপর যা করতে হবে, একজন শিক্ষক বা এমন কাউকে খুঁজুন। যার কাছ থেকে আপনি শিখতে পারবেন। তাঁর সঙ্গে বসুন, শিখুন। আর সর্বশেষ বিষয় হলো— আপনাকে একটা ভ্রাতৃত্বের অংশ হতে হবে, এমন মানুষের সাথে থাকতে হবে যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য চেষ্টা করছে। আর যদি আমি আপনাকে আরেকটা শেষ উপদেশ দিতে পারি— তা হলো, যখন আপনি নিজেকে গড়ে তুলবেন, তখন অন্যদের জাহান্নাম থেকে বাঁচানোর মধ্যে নিজের উদ্দেশ্য খুঁজে পাবেন। ভাবুন, কেউ আপনাকে দেখছে, আর আপনার গল্প শুনে সে নিজের জীবন নিয়ে ভাবছে। আপনি তাকে এক মিনিটে কী বলবেন?

হাবিবি (প্রিয়), আপনি এখন যা পার করছেন, বড় হলে এটা শুধু কেবল একটা মুহূর্ত মনে হবে। আপনার হৃদয়ের এই যে দুশ্চিন্তা— এটা আল্লাহর কাছে সোপর্দ করুন। আপনি কখনোই শান্তি বা নিরাপত্তা পাবেন না, যতক্ষণ না আপনি আল্লাহর সঙ্গে একটি গভীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তুলছেন— যা শুধু আপনি আর তিনিই জানেন। এটাই। এরপর নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করুন— সেটিকে ভিত্তি করে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার কিতাবের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলে। আল্লাহর কসম, আল্লাহর কিতাব ছাড়া এই পৃথিবীতে কোনো নিরাপত্তা নেই। আপনি ইলম অর্জন করুন। সৎ সঙ্গ খুঁজুন, ভালো সাথী খুঁজে নিন এবং আঁকড়ে ধরুন, আপনার সৎ বন্ধুদের আঁকড়ে ধরুন, কারণ যখন আপনি এগুলো করবেন, তখন আপনাকে ঠিক উল্টো কাজটাও করতে হবে— তাই যখন আপনি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার সাথে সংযুক্ত হন, আপনি সেই সব জিনিস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান যেগুলো আপনাকে আল্লাহ থেকে দূরে সরিয়ে নিচ্ছে। যখন আপনি সামনে এগিয়ে যান এবং জ্ঞান অর্জনে আত্মনিয়োগ করেন, তখন অলসতা এবং শুধু নেটফ্লিক্স দেখার অভ্যাস ছেড়ে দিন। যখন আপনি নেক সঙ্গী খুঁজে পাবেন, আপনি আপনার জীবন থেকে সব খারাপ বন্ধুকেও দূরে সরিয়ে দিন। আমি এটাই বলতে চাই।