Towards Eternity
ব্লগে ফিরে যান

ইসলামে কেন নারীরা পুরুষের সমান অধিকারের অধিকারী নয়?

প্রকাশের তারিখ

YouTube-এ দেখুন

ইসলাম নারীদের মূল্যায়ন করে না। এতে অত্যন্ত দমনমূলক ব্যবস্থা আছে। যারা বলে "নারীদের কোন স্বাধীনতা নেই" তাদেরকে আমরা বলিঃ "যদি নারীরা জানতো যে সন্মান, সুবিধা, ও শান্তি ইসলাম তাদেরকে দেয়, তাহলে পৃথিবীর সকল নারী সাথে সাথে ইসলাম গ্রহণ করত" আর আমরা এ ব্যপারে খুবই আত্মবিশ্বাসী। হ্যাঁ, এই বিষয়টি সম্ভবত সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় সেই সমস্ত লোকদের জন্য যারা ইসলাম সম্পর্কে বেশি কিছু জানেন না৷ আসুন একত্রে এই সমস্যার বিস্তারিত যাচাই করি। একটি প্রশ্ন দিয়ে শুরু করা যাক। কেন ২ জন মহিলার সাক্ষ্য ১ জন পুরুষের সাক্ষ্যের সমান?

এর পিছনে গভীর এবং যৌক্তিক কারণ রয়েছে। পুরুষরা বলবান, দৃঢ়, শারীরিকভাবে শক্তিশালী, মানসিকভাবে স্পষ্ট, এবং প্রকৃতিগতভাবে নিষ্পত্তিকারক। অন্যদিকে , মহিলারা শারীরিকভাবে কোমল এবং নাজুক, মানসিকভাবে তীব্র, উদ্যমী, সহানুভূতিশীল এবং আবেগপ্রবণ। হ্যাঁ, মহিলারা আবেগপ্রবণ। তাই চিন্তাভাবনা সাধারণত তাদের মনের চেয়ে তাদের হৃদয়ে বেশি অঙ্কিত হয়। তারা প্রায়শই কোনো পরিস্থিতিতে বস্তুনিষ্ঠ থাকতে অক্ষম। তারা স্বজ্ঞা দিয়ে পরিস্থিতির মোকাবিলা করে কারন সহানুভূতি এবং আবেগ এর দিকটি প্রবল। আল্লাহ এই মুহুর্তে নারীদেরকে একা রাখেননি। আরও একজন নারীকে যুক্ত করে, তিনি দুজন নারীকে পরষ্পরের সহায়তাকারী করেছেন সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে এবং অনুভূতি এবং উত্তেজনা কাটিয়ে উঠতে। সাক্ষ্য দেওয়ার সময়, হুমকি এবং বিপদের অনুভূতিও থাকে। উদাহরণস্বরূপ, যদি একজন মহিলা একজন খুনি বা চোরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয় তাহলে সে সত্য বলতে অক্ষম হতে পারে ভয় ও ভীতির প্রভাবের কারণে হুমকির মুখে কারন সে কোমল এবং নাজুক। এই পর্যায়ে, নারীর সুরক্ষার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ তিনি একা থাকবেন না এবং দুইজন সাক্ষী থাকবেন। আসুন উত্তরাধিকার এর বিষয়টি একসাথে দেখি, একটি উদাহরণ এর মাধ্যমে। উদাহরণস্বরূপ, একটি মেয়ে যখন তার পরিবারের বাড়িতে থাকে, তখন সে কিছুই খরচ করে না। তার বাবা অথবা তার বাবার বাড়ির নিকটাত্মীয়রা তার দেখাশোনার জন্য দায়ী। তার সব চাহিদা তারা পূরণ করবে। সুতরাং নারীদেরকে কোনো কষ্ট করতে হবে না, এবং বিয়ের পরেও এটি সত্য। তার স্বামী দায়ী তার জীবিকা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রয়োজনের জন্য। সুতরাং স্বামীকে অবশ্যই তার এই প্রয়োজনীয়তাগুলি পূরণ করতে হবে। আবার, তাকে কোনো অর্থ ব্যয় করতে বা কোনো কষ্ট করতে হবেনা। এখানে ,ইসলাম পুরুষদেরকে এই মিশন ও দায়িত্ব দিয়েছে। তদুপরি, বিবাহের সময় নারীর মোহর পাওয়ার অধিকার রয়েছে। পুরুষ কাজ করার জন্য দায়ী এবং বিয়ের পরেই পরিবারের ভার বাড়ে কারণ তাকে অবশ্যই দেখাশোনা করতে হবে তার স্ত্রী, সন্তান এবং তার পিতামাতার, যদি তাদেরও দেখাশোনার প্রয়োজন হয়। তাই উত্তরাধিকার থেকে পুরুষকে দুইভাগ দেওয়া হয়, আর নারীকে দেওয়া হয় এক ভাগ। যদিও এখানে পুরুষের সুবিধা রয়েছে বলে মনে হয়, তবে এটি স্পষ্ট যে আসলে নারীদের সুবিধা রয়েছে। অজ্ঞদের কর্মকাণ্ডের জন্য ইসলামকে দায়ী করা যায় না। আমরা যদি আমাদের নবী (সাঃ) এর জীবনের দিকে তাকাই তাহলে বোঝা যাবে নারীরা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান। উদাহরণস্বরূপ, তার একটি হাদীসে তিনি বলেছেন "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ঐ ব্যক্তি, যে নিজের স্ত্রীর কাছে সর্বোত্তম"। এবং...

"মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত" এটা সাধারণভাবে পরিচিত আরেকটি হাদিস। এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে আসল এবং জিজ্ঞেস করল, "আমার কাছ থেকে সদ্ব্যবহার পাওয়ার বেশী হকদার কে?" তিনি (সঃ) বললেন, "তোমার মা"। তারপর সে বলল, "এরপর কে?" "তোমার মা", রাসূল (সঃ) আবার উত্তর দিলেন। সে জিজ্ঞেস করল, "তারপর কে?" তিনি বললেন, "তোমার মা।" সে আবার জিজ্ঞেস করল "তারপর কে?" অতঃপর তিনি (সঃ) বললেন "তারপর তোমার বাবা"। "তোমাদের মধ্যে ঈমানে পরিপূর্ণ মুসলিম হচ্ছে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তি। তোমাদের মধ্যে সেসব লোক সর্বোত্তম যারা নিজেদের স্ত্রীদের নিকট উত্তম"। আজ, আমরা বলি না "কী যত্নশীল একজন ভদ্রলোক" সেই লোক সম্পর্কে যারা তাদের স্ত্রীদের জন্য গাড়ির দরজা খুলে দেয় এবং তাদের আগে ঢুকতে দেয়। তাহলে, রাসূল (সঃ) কি করতেন?

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন "আমরা খাইবার থেকে ফিরলাম এবং মদিনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করলাম। আমি আল্লাহর রাসূল (সঃ) কে দেখেছি তার চাদর পেঁচাতে উটের কুঁজে, যেন সাফিয়া স্বস্তির সাথে বসতে পারে। এরপর তিনি তাঁর উটের কাছে হাঁটু বাড়িয়ে বসতেন, আর সাফিয়া উটে আরোহণ করত হাঁটুর উপর পা রেখে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর।" আমাদের নবী (সঃ), যিনি আমাদের জন্য আদর্শ হিসেবে কাজ করেন, আমাদের স্ত্রীদের প্রতি যে গুরুত্ব দেওয়া উচিত তা প্রদর্শন করেন। ইসলাম নারীদের অসংখ্য সামাজিক সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে। ইসলামের ফলে নারীরা অনেক অধিকার পেয়েছে যা আগে তাদের ছিল না। কুরআন বা সুন্নাহর কোন শব্দই নারীদের জ্ঞান থেকে বাদ দেয় না। বরংচ আমাদের নবী (সঃ) বিশেষ করে নারী শিক্ষার পক্ষে ছিলেন এবং তাদের অধিকার রক্ষা বাধ্যতামূলক করেছিলেন যেহেতু তিনি জানতেন যে তারা অবহেলিত হবে। আসুন এর মধ্যে কয়েকটি জানা যাক। নারীদের জন্য, তার নিজের অর্থ ব্যয় করার ক্ষেত্রটি, বৈধ কাঠামোর মধ্যে, সম্পূর্ণরূপে তার নিজের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে। সে তার মোহর বা অন্য কোনো সম্পদ যদি তার কাছে থাকে, দাতব্য কাজে দিতে পারে। অথবা সে ট্রেডিং কোম্পানিতে বিনিয়োগ করতে পারে সেইসাথে নারীর ভরণপোষণ, তার চিকিৎসা ও ওষুধের খরচও স্বামীর ওপর বর্তায়। আরেকটি হলো, যদি কোনো পুরুষ চায় তার স্ত্রী সাঁজুক তাহলে সাজসজ্জার খরচের জন্য সে পুরুষ দায়ী। পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে, একজন মহিলা তার স্বামীর কাছে একজন কাজের লোক রাখার অনুরোধ করতে পারে, এবং কাজের লোকের বেতন তার স্বামী পরিশোধ করবে। আরেকটি বিষয় হল স্ত্রী যদি থাকতে না চায় স্বামীর পরিবারের সাথে তাহলে স্বামীর তাকে আলাদা ঘর দিতে হবে। প্রদত্ত উদাহরণগুলির মতো, প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই নারীর অধিকার সুরক্ষিত। তবে, আমরা কতজন এই তথ্য সম্পর্কে সচেতন তা ভিন্ন গল্প। সমাজে নারীর অধিকার আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে আমাদের কুরআন ও সুন্নাহ সম্পর্কে আরও বেশি জ্ঞান অর্জন করার মাধ্যমে। লিঙ্গ সমতার সমস্যা সমাধানের জন্য, আমাদের প্রথমে সমতা এবং ন্যায়বিচারের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে হবে। দুটি ভিন্ন ক্লাসরুম বিবেচনা করুন যার প্রতিটিতে গণিতের কুইজ হচ্ছে। এই পরীক্ষায় প্রশ্ন দশটি, আর এই দুই ক্লাসের প্রথম প্রশ্নটা ভিন্ন কারন শিক্ষক দুই ক্লাসরুমে ভিন্ন টপিক পরিয়েছেন। বাকী নয়টি প্রশ্ন হুবহু এক। আমরা কি বলতে পারি এটা অন্যায্য?

না। একইভাবে, আল্লাহ পুরুষ ও নারীকে সৃষ্টি করেছেন অনন্য বৈশিষ্ট্য, ব্যক্তিত্ব এবং স্বভাব দিয়ে। মহিলাদের আলাদা বিষয় বরাদ্দ করা হয়েছে, তাই তাদের সেই অনুসারে একটি পরীক্ষা দেওয়া হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, যেহেতু একজন মহিলা সুন্দর, আকর্ষণীয়, সহানুভূতিশীল এবং চিন্তাশীল তার পরীক্ষা সেই অনুযায়ী। পুরুষরা বলবান, শারীরিকভাবে শক্তিশালী, এবং প্রাণবন্ত এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার ক্ষমতা তার রয়েছে তাই তার পরীক্ষাগুলি সেই অনুসারে তৈরি। তবে, পুরুষ এবং মহিলা উভয়ই দায়ী, ইসলামের সমস্ত আদেশের জন্য, উদাহরণে যেমন নয়টি প্রশ্ন একই ছিল। শুধুমাত্র প্রথম প্রশ্ন ভিন্ন, ব্যাস এতটুকুই। এবং এটি মহান আল্লাহ তা'লার ন্যায়বিচারের কারণে। কিন্তু পরীক্ষা শেষে একই পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে উভয় লিঙ্গের জন্য। হ্যাঁ বন্ধুরা, প্লিজ আমাদের ভিডিওতে লাইক এবং কমেন্ট করুন। সাবস্ক্রাইব না করে থাকলে এখনই করুন। আপনার সাথে দেখা হবে পরবর্তী ভিডিওতে যেখানে আমরা জটিল সব প্রশ্নের উত্তর দেবো। ভাল থাকুন।