Why Did Prophet Muhammad (pbuh) Marry Several Times?
প্রকাশের তারিখ
ইসলামে বহুবিবাহ বিদ্যমান। প্রত্যেক পুরুষের 4 জন মহিলাকে বিয়ে করার অধিকার আছে। এর মধ্যে কী বিচক্ষণতা আছে? তারা বলে যে আমাদের নবী বহুবার বিয়ে করেছেন কারণ তিনি একজন কামুক ব্যক্তি ছিলেন। আপনি তাদের কী জবাব দিবেন? এটা বলা হয় যে তিনি আয়েশাকে বিয়ে করেছিলেন যখন তার বয়স ছিল মাত্র সাত বছর। তাহলে নাস্তিকরা কেন এমন হাস্যকর দাবি করে? আজ আমরা আপনাকে এমন কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে যাচ্ছি যেগুলো অনেক মানুষকে বিভ্রান্ত করে। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আপনার কাছে 60 সেকেন্ড সময় আছে। আপনি প্রস্তুত? আমি প্রস্তুত। ইসলামে বহুবিবাহ বিদ্যমান। প্রত্যেক পুরুষের 4 জন মহিলাকে বিয়ে করার অধিকার আছে। এর মধ্যে কী বিচক্ষণতা আছে?
ইসলামের আগে, চার জনের বেশি সঙ্গীর সাথে বহুবিবাহ প্রথা ছিল। ইসলাম এটাকে 4 জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছে। যদিও সংখ্যাটা কমিয়ে দিয়ে চারজন করা হয়েছিল, তবে কেবল একজন সঙ্গীর পক্ষেই পরামর্শ দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ, চারজন সঙ্গী অনুমোদিত, কিন্তু বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু শুধুমাত্র একটি বিবাহের জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আমি এই সমস্যার সাথে সম্পর্কিত বিচক্ষণতার বিষয়ে বেশি কৌতূহলী। এর মধ্যে কী বিচক্ষণতা আছে? এই ভাবে চিন্তা করুন, এই মুহূর্তে বিশ্বে পুরুষ ও নারীদের জনসংখ্যা একে অপরের খুব কাছাকাছি। কিন্তু ইতিহাস জুড়ে এটা ভিন্ন ছিল, এবং বিভিন্ন অঞ্চলে এই সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ছিল। সুতরাং, যখন একজন নারী বলে যে সে একজন পুরুষকে বিয়ে করতে যাচ্ছে...
সেই মুহূর্তে এটার একটি ভিত্তি রয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো বড় যুদ্ধে, এবং আমাদের নবীর সময়কালে অনেক যুদ্ধ হয়েছিল। আপনি জানেন যে যুদ্ধে অনেক পুরুষ মারা গেলেও অনেক নারী বেঁচে থাকে। এই প্রসঙ্গে যদি আমরা চিন্তা করি, একজন নারী একজন পুরুষকে বিয়ে করতে পারে না। তবে একজন পুরুষ যদি 2 বা 3 জন নারীকে তার সুরক্ষায় নেয় তাহলে সেই নারীর একজন স্বামী থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে কী ঘটেছিল?
ইসলাম এর অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু ইসলামী সমাজের দিকে তাকালে স্বাভাবিক অবস্থায় সম্ভবত 95% সম্প্রদায় একবিবাহ পছন্দ করে। এছাড়াও, হ্যাঁ, বিশ্বে পুরুষ ও নারী জনসংখ্যা একে অপরের কাছাকাছি কিন্তু বিশ্বের সব অংশে এরকম থাকে না। কিছু অঞ্চলে, পুরুষের সংখ্যা সীমিত, আর নারীর সংখ্যা প্রচুর। এবং এই ধরণের ক্ষেত্রে, সেরকম জায়গায় বা যুদ্ধের সময়, মানুষ এই অনুমতি ব্যবহার করতে পছন্দ করে যেখানে একাধিক সঙ্গী রাখা যায়। তাহলে আজকাল বহুবিবাহের প্রচলন নিয়ে আপনি কি মনে করেন? বর্তমানে অমুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যেই বহুবিবাহের প্রচলন বেশি। যেমন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য অনুসারে, কোন সম্পর্কে থাকা 57% পুরুষ প্রতারণা করে। সুতরাং বহুবিবাহ আগে থেকেই আছে। আপনি কি বুঝতে পারছেন আমি যা বোঝাতে চাচ্ছি?
ইসলাম এটাকে সীমিত করেছে। কিন্তু যার অবৈধ সম্পর্ক আছে তার জন্য 4 সংখ্যাটি কোন সীমা না। আমি বলেছি 57%। এটা একটা সঙ্গিন সংখ্যা। আমি এটাও যোগ করতে চাই: এমন না যে, "আমি অনেক বিয়ে করেছি, আমার অনেক স্ত্রী আছে আর আমি হাসিখুশি দিন কাটাচ্ছি ।" এটা পরিচালনা করাটা একটা জটিল কাজ। আপনাকে তাদের সবার সাথে ন্যায্য আচরণ করতে হবে। যদিও বহুবিবাহকে উপভোগ্য এবং আরামদায়ক মনে হয়, পক্ষান্তরে, যেহেতু আপনাকে খুব বেশি ন্যায্য হতে হবে এটা পরিচালনা করাটা সহজ কাজ না। অনুগ্রহ করে ভুলবেন না যে ইসলাম বহুবিবাহের অনুমতি দিয়েছে, কিন্তু শুধুমাত্র একটি বিবাহের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তারা বলে যে আমাদের নবী বহুবার বিয়ে করেছেন কারণ তিনি একজন কামুক ব্যক্তি ছিলেন। আপনি তাদেরকে কী বলবেন? আসলে এটা খুবই অপ্রাসঙ্গিক...
এখন, আমরা জানি না আমাদের নবী কোন বয়সে বয়ঃসন্ধিতে প্রবেশ করেছিলেন। ধরা যাক 13। এটা সাধারণত আরেকটু আগে ঘটে, যেহেতু আরবীয় উপদ্বীপে গরম থাকে। 13 থেকে 25 বছর বয়স পর্যন্ত, আমাদের নবী কখনো বিয়ে করেননি। তাহলে, মোট কত বছর? 12 বছর। তিনি যদি এমন একজন হতেন যার কামুকতা এবং যৌনতা নিয়ে সমস্যা ছিল তিনি কি সেই বয়স পর্যন্ত অবিবাহিত থাকতে পারতেন? এবং একজন 40 বছর বয়সী মহিলাকে বিয়ে করতেন যখন তার 25 বছর বয়স ছিল? খাদিজার সাথে? আপনি জানেন যে খাদিজা এমন একজন যিনি আগে বিয়ে করেছিলেন। এটা কী কোনভাবে যৌক্তিক মনে হচ্ছে? একজন কামুক ব্যক্তি, যে যৌনতায় লিপ্ত এমন কাউকে বিয়ে করা যার আগে বিয়ে হয়েছে এবং তার বয়স ৪০ বছর। ঠিক আছে। আপনি যা বলছেন তা যৌক্তিক, কিন্তু তার অন্যান্য বিবাহ সম্পর্কে কী বলবেন?
এখন খাদিজার সাথে আমাদের নবীর বিবাহিত থাকেন এবং তিনি তার জীবনের শেষ দশ বছরে একাধিক বিয়ে করেছেন। অর্থাৎ খাদিজার মৃত্যুর কয়েক বছর পর তার বহুবিবাহবাদী জীবন শুরু হয়। আর এই বিয়েগুলোর পিছনে রয়েছে অনেক বিবেচনা। এবং একজন বাদে, তারা সবাই এমন নারী যারা আগে বিয়ে করেছিলেন... কারো কারো সন্তানও ছিল। তাদের বয়সের হিসাব করলে, একজন 50 বছর বয়সী, একজন 53 বছর বয়সী, একজন 55 বছর বয়সী। উদাহরণস্বরূপ, আমাদের মা উম্মে সালামার বয়স 65 বছর এবং তার চারটি সন্তান ছিল। আমাদের নবী তাকে বিয়ে করেছিলেন। তাই আপনি যখন দেখেন যে তিনি লম্পট ছিলেন, তখন কি হতো? আমাদের নবীর সব বিয়েই হত যুবতী নারীদের সাথে। তাহলে কেন তিনি এত বিয়ে করেছিলেন? এত স্ত্রীর কী দরকার ছিল?
এর মধ্যে অনেক গুণ রয়েছে। প্রথমত, এটা কৌশলগত, এটা রাজনৈতিকও ছিল। আপনি সম্ভবত এটা ইতিহাসের বই বা চলচ্চিত্রে শুনেছেন। কি ঘটে? একজন রাজা অন্য সম্প্রদায়ের মেয়েকে বিয়ে করে। এবং তারপর কী ঘটে?
তাদের মধ্যে শান্তি স্থায়ী হয় এবং তারা একে অপরের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয় না। আমাদের নবীও অন্যান্য গোত্র ও সম্প্রদায়ের নারীদের বিয়ে করেছিলেন শান্তি অর্জনের জন্য। এছাড়াও এর মধ্যে একটা দ্বিতীয় বিচক্ষণতা আছে, যা হল "আজওয়ায-ই তাহিরাত" স্কুল। অন্য কথায়, আমাদের নবীর মক্তব-ই সুফ্ফা (পুরুষদের জন্য প্রথম ইসলামিক স্কুল) ছিল, যেখানে পুরুষদের মধ্যে বিজ্ঞানের ছাত্র ছিল । এবং "আজওয়ায-ই তাহিরাত" বরকতময় বাড়িতে তাদের স্ত্রীদের দ্বারা গঠিত হত। বাড়ির বাহিরে সাহাবায়ে কেরামের তরফ থেকে সুফ্ফাকে পৌঁছে দেওয়া হতো, কিন্তু বাড়ির ভিতরে এই জ্ঞান কে পৌঁছে দিবে? বিশেষত, যখন মহিলাদের সম্পর্কে বিশেষভাবে কিছু বিষয় ছিল। ঠিক না?
এমনকি বদিউজ্জামান সাঈদ নুরসী বলেন যে ধর্মীয় নিয়মের প্রায় অর্ধেক "আজওয়ায-ই তাহিরাত" থেকে এসেছে। অর্থাৎ বলতে হবে যে বাড়িটি একটি স্কুলে পরিণত হয়েছিল। সুতরাং, এটা অবিশ্বাসীদের কল্পনার মতো কিছুই না, ওগুলা যৌন প্রেক্ষাপটে করা বিয়ে ছিলনা। মানে কেউ একজন রাজার বিয়েকে যৌক্তিক মনে করতে পারে। এবং সে জিজ্ঞাসা করবে না, "কেন সে তাকে বিয়ে করেছে?" কিন্তু আমাদের নবীর অরাজনৈতিক ও কৌশলগত বিয়ে তাকে বিরক্ত করে। বলা হয় যে তিনি আয়েশাকে বিয়ে করেছিলেন যখন তার বয়স ছিল মাত্র সাত বছর। এক্ষেত্রে আপনি কী বলবেন? এটা একটা হাস্যকর দাবি। আপনি কল্পনা করতে পারেন? একজন নবী 7 বছর বয়সী একজনকে বিয়ে করেছেন এবং আমাদের নবীর বয়সও অনেকটা বেশি ছিল। আর আয়েশার বয়স কত ছিল?
হাদিস থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আমাদের নবী (সা.) এমনিতেই বেশ বৃদ্ধ ছিলেন। বলা হয় যখন তার বয়স ৫৫ ছিল হাদিস অনুসারে আয়েশার বয়স প্রায় 20 বছর বলে জানা গিয়েছে। আর আয়েশাকে বিয়ে করবেন কেন? আয়েশা অবিশ্বাস্যভাবে বুদ্ধিমান ছিল এবং তার একটি অবিশ্বাস্য স্মৃতিশক্তি ছিল। এখন আমাদের নবীজীর জীবনী সম্পর্কে তথ্য জানতে হবে। কিভাবে আমরা এটা পেতে পারি? বাড়ির ভিতরে থাকা একজন বয়স্ক ব্যক্তি কি এটাকে ভালভাবে বুঝাতে পারেন? স্মৃতিশক্তি ও বুদ্ধিমত্তার দিক দিয়ে চিন্তা করুন। পর্যবেক্ষণের পরিপ্রেক্ষিতে চিন্তা করুন। নাকি একজন যুবক এটা ভালো করবে?
আয়েশার একটা দায়িত্ব ছিল। আর তিনি ছিলেন ৫ জন বর্ণনাকারীর একজন যিনি সবচেয়ে বেশি তথ্য দিয়েছে। তিনি বাড়ির ভিতরে কী করছিলেন সে সম্পর্কে এটা আমাদের জরুরী তথ্য দেয়। কিন্তু নাস্তিকরা কেন এমন হাস্যকর দাবি করে? তাদের এমন অনেক মজার দাবি আছে। কেন? যারা জানে না তাদেরকে ধোঁকা দিতে, আর যারা উত্তর খুঁজে পায়না তাদেরকে। যখন মানুষের ইসলামিক বিজ্ঞান সম্পর্কে জ্ঞান থাকে না, তারা অপবাদ দেয় এবং বানিয়ে বলে যারা আসল সমস্যাটি জানেন না তাদের সাথে প্রতারণা করা। এই লোকটাকে আপনি নাস্তিক বলছেন, তিনি বিশ্বাস করেন না যে এই বিশাল মহাবিশ্বের একজন স্রষ্টা আছেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে এটা দুর্ঘটনাক্রমে তৈরি হয়েছে। এ ধরনের বিষয়ে বিপথগামী হওয়াটা কি স্বাভাবিক না?
মানুষটি মহাবিশ্বের মালিককেও খুঁজে পায়নি। নবীকে অপবাদ দিয়ে, সে চেষ্টা করছে মানুষকে তার মত করে ভাবাতে। চিন্তা করে দেখুন! আমাদের নবী 25 বছর বয়স পর্যন্ত, শরীরে উষ্ণতা এবং কামভাব থাকে। সেই 12 বছরের সময়কালে, তিনি কখনও বিয়ে করেননি। তারপর যখন তার বয়স 25, তিনি 40 বছর বয়সী একজন নারীকে বিয়ে করেছিলেন যার আগে বিয়ে হয়েছিল। আর আমাদের নবী, এই বহুবিবাহের সাথে শুধুমাত্র সম্পর্কিত তার জীবনের শেষ 10 বছরে, এবং শুধুমাত্র রাজনৈতিক এবং কৌশলগত বিয়ের ক্ষেত্রে। পুরুষের জনসংখ্যা হ্রাসের কারণেও। এবং যখন আমাদের কাছে কারণ আছে যেমন "আজওয়ায-ই তাহিরাত" স্কুল, তাই যখন কেউ এসে বলে: "কেন তিনি এই বিয়েগুলো করেছিলেন? এটা কি যৌনকামনা জন্য ছিল?" তারা আমাদের নবী সম্পর্কে ঐতিহাসিক তথ্য গ্রহণ করে। "বিয়ে...
হ্যাঁ, তিনি তাদের বিয়ে করেছিলেন, তিনি আয়েশাকে বিয়ে করেছিলেন..." তাই তারা এটা মেনে নেয়। কিন্তু তারা আমাদের নবী সম্পর্কে অন্যান্য ঐতিহাসিক তথ্য স্বীকার করে না। কিসের মত? আমাদের নবী এমন একজন ব্যক্তি যিনি তার পায়ে ঘা না হওয়া পর্যন্ত নামায পড়তেন... তারা এই তথ্যের এই অংশটা জানে না। তারা তাঁর জীবন, ধার্মিকতা এবং নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে কিছুই জানে না, যিনি প্রচুর প্রার্থনা করতেন এবং যার এতটা ভক্তি ছিল। তারা কেবল তাদের পছন্দমত বিষয় নিয়ে দাবি করে যেমন: "উনি কি কামুক ছিলেন না?" আপনি যখন আমাদের নবীর সাধারণ ধার্মিকতা এবং নৈতিকতার কথা ভাববেন, তিনি একটি 9 বছর বয়সী, একটি 7 বছর বয়সীকে বিয়ে করেছেন অথবা যৌন কামনার জন্য বিয়ে করেছেন, আর যৌন কামনার জন্য সব সময় বিয়ে করতেন...
একজন মানুষের এই মডেল কি কোনভাবে আমাদের নবীর ভক্তির সাথে মিলে? এবং আপনি জানেন, আমি একবার একজন নাস্তিককে এরকম কিছু বলেছিলাম। আমার সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে, আমি জানি। আমি দুঃখিত কিন্তু... আমি একজন নাস্তিককে কিছু বলেছিলাম; তিনি একটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার পর। আমি বললাম, "আমি আপনাকে কিছু জিজ্ঞেস করতে যাচ্ছি"। "যতটা আপনি এই নাস্তিক ওয়েবসাইটগুলো ব্রাউজ করেন, আপনি কি এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আছে এমন কোন ওয়েবসাইটে অনুসন্ধান করেছেন?" আপনি কি আমাকে সত্যি বলতে পারবেন?" তিনি বললেন, "আমি করিনি।" আপনি কি বুঝতে পারছেন আমি কী বোঝাতে চাচ্ছি?
অন্য কথায়, তিনি এমন একটি বিশ্বাসের মডেল খুঁজে পেয়েছেন যা দিয়ে তিনি সহজেই পাপ করতে পারেন; "নাস্তিকতা। ঠিক আছে, ঈশ্বর আমাদের দেখেন না, কোনও ফেরেশতা নেই, কোনও অপরাধও নেই, ঠিক আছে, এই তথ্য সঠিক..." হয়তো কিছু মানুষ এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে পারে? "না, আমি সেই অংশে যাব না। আমি যা চেয়েছিলাম তা পেয়েছি। আমি বুঝতে পেরেছি, এবং আমি আর কিছু শিখতে চাই না। কারো যদি এরকম মানসিকতা থাকে তাহলে তার কাছে সত্য পৌঁছানো যায় না। তবে ইনশাআল্লাহ আমরা দাবি করি যে: এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর আছে, ইসলাম সম্পর্কে এই সমস্ত প্রশ্নের। আমরা নিজেদের বিশ্বাস করি না, কিন্তু আমরা কোরআন বিশ্বাস করি।
ইসলামের আগে, চার জনের বেশি সঙ্গীর সাথে বহুবিবাহ প্রথা ছিল। ইসলাম এটাকে 4 জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছে। যদিও সংখ্যাটা কমিয়ে দিয়ে চারজন করা হয়েছিল, তবে কেবল একজন সঙ্গীর পক্ষেই পরামর্শ দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ, চারজন সঙ্গী অনুমোদিত, কিন্তু বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু শুধুমাত্র একটি বিবাহের জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আমি এই সমস্যার সাথে সম্পর্কিত বিচক্ষণতার বিষয়ে বেশি কৌতূহলী। এর মধ্যে কী বিচক্ষণতা আছে? এই ভাবে চিন্তা করুন, এই মুহূর্তে বিশ্বে পুরুষ ও নারীদের জনসংখ্যা একে অপরের খুব কাছাকাছি। কিন্তু ইতিহাস জুড়ে এটা ভিন্ন ছিল, এবং বিভিন্ন অঞ্চলে এই সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ছিল। সুতরাং, যখন একজন নারী বলে যে সে একজন পুরুষকে বিয়ে করতে যাচ্ছে...
সেই মুহূর্তে এটার একটি ভিত্তি রয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো বড় যুদ্ধে, এবং আমাদের নবীর সময়কালে অনেক যুদ্ধ হয়েছিল। আপনি জানেন যে যুদ্ধে অনেক পুরুষ মারা গেলেও অনেক নারী বেঁচে থাকে। এই প্রসঙ্গে যদি আমরা চিন্তা করি, একজন নারী একজন পুরুষকে বিয়ে করতে পারে না। তবে একজন পুরুষ যদি 2 বা 3 জন নারীকে তার সুরক্ষায় নেয় তাহলে সেই নারীর একজন স্বামী থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে কী ঘটেছিল?
ইসলাম এর অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু ইসলামী সমাজের দিকে তাকালে স্বাভাবিক অবস্থায় সম্ভবত 95% সম্প্রদায় একবিবাহ পছন্দ করে। এছাড়াও, হ্যাঁ, বিশ্বে পুরুষ ও নারী জনসংখ্যা একে অপরের কাছাকাছি কিন্তু বিশ্বের সব অংশে এরকম থাকে না। কিছু অঞ্চলে, পুরুষের সংখ্যা সীমিত, আর নারীর সংখ্যা প্রচুর। এবং এই ধরণের ক্ষেত্রে, সেরকম জায়গায় বা যুদ্ধের সময়, মানুষ এই অনুমতি ব্যবহার করতে পছন্দ করে যেখানে একাধিক সঙ্গী রাখা যায়। তাহলে আজকাল বহুবিবাহের প্রচলন নিয়ে আপনি কি মনে করেন? বর্তমানে অমুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যেই বহুবিবাহের প্রচলন বেশি। যেমন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য অনুসারে, কোন সম্পর্কে থাকা 57% পুরুষ প্রতারণা করে। সুতরাং বহুবিবাহ আগে থেকেই আছে। আপনি কি বুঝতে পারছেন আমি যা বোঝাতে চাচ্ছি?
ইসলাম এটাকে সীমিত করেছে। কিন্তু যার অবৈধ সম্পর্ক আছে তার জন্য 4 সংখ্যাটি কোন সীমা না। আমি বলেছি 57%। এটা একটা সঙ্গিন সংখ্যা। আমি এটাও যোগ করতে চাই: এমন না যে, "আমি অনেক বিয়ে করেছি, আমার অনেক স্ত্রী আছে আর আমি হাসিখুশি দিন কাটাচ্ছি ।" এটা পরিচালনা করাটা একটা জটিল কাজ। আপনাকে তাদের সবার সাথে ন্যায্য আচরণ করতে হবে। যদিও বহুবিবাহকে উপভোগ্য এবং আরামদায়ক মনে হয়, পক্ষান্তরে, যেহেতু আপনাকে খুব বেশি ন্যায্য হতে হবে এটা পরিচালনা করাটা সহজ কাজ না। অনুগ্রহ করে ভুলবেন না যে ইসলাম বহুবিবাহের অনুমতি দিয়েছে, কিন্তু শুধুমাত্র একটি বিবাহের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তারা বলে যে আমাদের নবী বহুবার বিয়ে করেছেন কারণ তিনি একজন কামুক ব্যক্তি ছিলেন। আপনি তাদেরকে কী বলবেন? আসলে এটা খুবই অপ্রাসঙ্গিক...
এখন, আমরা জানি না আমাদের নবী কোন বয়সে বয়ঃসন্ধিতে প্রবেশ করেছিলেন। ধরা যাক 13। এটা সাধারণত আরেকটু আগে ঘটে, যেহেতু আরবীয় উপদ্বীপে গরম থাকে। 13 থেকে 25 বছর বয়স পর্যন্ত, আমাদের নবী কখনো বিয়ে করেননি। তাহলে, মোট কত বছর? 12 বছর। তিনি যদি এমন একজন হতেন যার কামুকতা এবং যৌনতা নিয়ে সমস্যা ছিল তিনি কি সেই বয়স পর্যন্ত অবিবাহিত থাকতে পারতেন? এবং একজন 40 বছর বয়সী মহিলাকে বিয়ে করতেন যখন তার 25 বছর বয়স ছিল? খাদিজার সাথে? আপনি জানেন যে খাদিজা এমন একজন যিনি আগে বিয়ে করেছিলেন। এটা কী কোনভাবে যৌক্তিক মনে হচ্ছে? একজন কামুক ব্যক্তি, যে যৌনতায় লিপ্ত এমন কাউকে বিয়ে করা যার আগে বিয়ে হয়েছে এবং তার বয়স ৪০ বছর। ঠিক আছে। আপনি যা বলছেন তা যৌক্তিক, কিন্তু তার অন্যান্য বিবাহ সম্পর্কে কী বলবেন?
এখন খাদিজার সাথে আমাদের নবীর বিবাহিত থাকেন এবং তিনি তার জীবনের শেষ দশ বছরে একাধিক বিয়ে করেছেন। অর্থাৎ খাদিজার মৃত্যুর কয়েক বছর পর তার বহুবিবাহবাদী জীবন শুরু হয়। আর এই বিয়েগুলোর পিছনে রয়েছে অনেক বিবেচনা। এবং একজন বাদে, তারা সবাই এমন নারী যারা আগে বিয়ে করেছিলেন... কারো কারো সন্তানও ছিল। তাদের বয়সের হিসাব করলে, একজন 50 বছর বয়সী, একজন 53 বছর বয়সী, একজন 55 বছর বয়সী। উদাহরণস্বরূপ, আমাদের মা উম্মে সালামার বয়স 65 বছর এবং তার চারটি সন্তান ছিল। আমাদের নবী তাকে বিয়ে করেছিলেন। তাই আপনি যখন দেখেন যে তিনি লম্পট ছিলেন, তখন কি হতো? আমাদের নবীর সব বিয়েই হত যুবতী নারীদের সাথে। তাহলে কেন তিনি এত বিয়ে করেছিলেন? এত স্ত্রীর কী দরকার ছিল?
এর মধ্যে অনেক গুণ রয়েছে। প্রথমত, এটা কৌশলগত, এটা রাজনৈতিকও ছিল। আপনি সম্ভবত এটা ইতিহাসের বই বা চলচ্চিত্রে শুনেছেন। কি ঘটে? একজন রাজা অন্য সম্প্রদায়ের মেয়েকে বিয়ে করে। এবং তারপর কী ঘটে?
তাদের মধ্যে শান্তি স্থায়ী হয় এবং তারা একে অপরের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয় না। আমাদের নবীও অন্যান্য গোত্র ও সম্প্রদায়ের নারীদের বিয়ে করেছিলেন শান্তি অর্জনের জন্য। এছাড়াও এর মধ্যে একটা দ্বিতীয় বিচক্ষণতা আছে, যা হল "আজওয়ায-ই তাহিরাত" স্কুল। অন্য কথায়, আমাদের নবীর মক্তব-ই সুফ্ফা (পুরুষদের জন্য প্রথম ইসলামিক স্কুল) ছিল, যেখানে পুরুষদের মধ্যে বিজ্ঞানের ছাত্র ছিল । এবং "আজওয়ায-ই তাহিরাত" বরকতময় বাড়িতে তাদের স্ত্রীদের দ্বারা গঠিত হত। বাড়ির বাহিরে সাহাবায়ে কেরামের তরফ থেকে সুফ্ফাকে পৌঁছে দেওয়া হতো, কিন্তু বাড়ির ভিতরে এই জ্ঞান কে পৌঁছে দিবে? বিশেষত, যখন মহিলাদের সম্পর্কে বিশেষভাবে কিছু বিষয় ছিল। ঠিক না?
এমনকি বদিউজ্জামান সাঈদ নুরসী বলেন যে ধর্মীয় নিয়মের প্রায় অর্ধেক "আজওয়ায-ই তাহিরাত" থেকে এসেছে। অর্থাৎ বলতে হবে যে বাড়িটি একটি স্কুলে পরিণত হয়েছিল। সুতরাং, এটা অবিশ্বাসীদের কল্পনার মতো কিছুই না, ওগুলা যৌন প্রেক্ষাপটে করা বিয়ে ছিলনা। মানে কেউ একজন রাজার বিয়েকে যৌক্তিক মনে করতে পারে। এবং সে জিজ্ঞাসা করবে না, "কেন সে তাকে বিয়ে করেছে?" কিন্তু আমাদের নবীর অরাজনৈতিক ও কৌশলগত বিয়ে তাকে বিরক্ত করে। বলা হয় যে তিনি আয়েশাকে বিয়ে করেছিলেন যখন তার বয়স ছিল মাত্র সাত বছর। এক্ষেত্রে আপনি কী বলবেন? এটা একটা হাস্যকর দাবি। আপনি কল্পনা করতে পারেন? একজন নবী 7 বছর বয়সী একজনকে বিয়ে করেছেন এবং আমাদের নবীর বয়সও অনেকটা বেশি ছিল। আর আয়েশার বয়স কত ছিল?
হাদিস থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আমাদের নবী (সা.) এমনিতেই বেশ বৃদ্ধ ছিলেন। বলা হয় যখন তার বয়স ৫৫ ছিল হাদিস অনুসারে আয়েশার বয়স প্রায় 20 বছর বলে জানা গিয়েছে। আর আয়েশাকে বিয়ে করবেন কেন? আয়েশা অবিশ্বাস্যভাবে বুদ্ধিমান ছিল এবং তার একটি অবিশ্বাস্য স্মৃতিশক্তি ছিল। এখন আমাদের নবীজীর জীবনী সম্পর্কে তথ্য জানতে হবে। কিভাবে আমরা এটা পেতে পারি? বাড়ির ভিতরে থাকা একজন বয়স্ক ব্যক্তি কি এটাকে ভালভাবে বুঝাতে পারেন? স্মৃতিশক্তি ও বুদ্ধিমত্তার দিক দিয়ে চিন্তা করুন। পর্যবেক্ষণের পরিপ্রেক্ষিতে চিন্তা করুন। নাকি একজন যুবক এটা ভালো করবে?
আয়েশার একটা দায়িত্ব ছিল। আর তিনি ছিলেন ৫ জন বর্ণনাকারীর একজন যিনি সবচেয়ে বেশি তথ্য দিয়েছে। তিনি বাড়ির ভিতরে কী করছিলেন সে সম্পর্কে এটা আমাদের জরুরী তথ্য দেয়। কিন্তু নাস্তিকরা কেন এমন হাস্যকর দাবি করে? তাদের এমন অনেক মজার দাবি আছে। কেন? যারা জানে না তাদেরকে ধোঁকা দিতে, আর যারা উত্তর খুঁজে পায়না তাদেরকে। যখন মানুষের ইসলামিক বিজ্ঞান সম্পর্কে জ্ঞান থাকে না, তারা অপবাদ দেয় এবং বানিয়ে বলে যারা আসল সমস্যাটি জানেন না তাদের সাথে প্রতারণা করা। এই লোকটাকে আপনি নাস্তিক বলছেন, তিনি বিশ্বাস করেন না যে এই বিশাল মহাবিশ্বের একজন স্রষ্টা আছেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে এটা দুর্ঘটনাক্রমে তৈরি হয়েছে। এ ধরনের বিষয়ে বিপথগামী হওয়াটা কি স্বাভাবিক না?
মানুষটি মহাবিশ্বের মালিককেও খুঁজে পায়নি। নবীকে অপবাদ দিয়ে, সে চেষ্টা করছে মানুষকে তার মত করে ভাবাতে। চিন্তা করে দেখুন! আমাদের নবী 25 বছর বয়স পর্যন্ত, শরীরে উষ্ণতা এবং কামভাব থাকে। সেই 12 বছরের সময়কালে, তিনি কখনও বিয়ে করেননি। তারপর যখন তার বয়স 25, তিনি 40 বছর বয়সী একজন নারীকে বিয়ে করেছিলেন যার আগে বিয়ে হয়েছিল। আর আমাদের নবী, এই বহুবিবাহের সাথে শুধুমাত্র সম্পর্কিত তার জীবনের শেষ 10 বছরে, এবং শুধুমাত্র রাজনৈতিক এবং কৌশলগত বিয়ের ক্ষেত্রে। পুরুষের জনসংখ্যা হ্রাসের কারণেও। এবং যখন আমাদের কাছে কারণ আছে যেমন "আজওয়ায-ই তাহিরাত" স্কুল, তাই যখন কেউ এসে বলে: "কেন তিনি এই বিয়েগুলো করেছিলেন? এটা কি যৌনকামনা জন্য ছিল?" তারা আমাদের নবী সম্পর্কে ঐতিহাসিক তথ্য গ্রহণ করে। "বিয়ে...
হ্যাঁ, তিনি তাদের বিয়ে করেছিলেন, তিনি আয়েশাকে বিয়ে করেছিলেন..." তাই তারা এটা মেনে নেয়। কিন্তু তারা আমাদের নবী সম্পর্কে অন্যান্য ঐতিহাসিক তথ্য স্বীকার করে না। কিসের মত? আমাদের নবী এমন একজন ব্যক্তি যিনি তার পায়ে ঘা না হওয়া পর্যন্ত নামায পড়তেন... তারা এই তথ্যের এই অংশটা জানে না। তারা তাঁর জীবন, ধার্মিকতা এবং নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে কিছুই জানে না, যিনি প্রচুর প্রার্থনা করতেন এবং যার এতটা ভক্তি ছিল। তারা কেবল তাদের পছন্দমত বিষয় নিয়ে দাবি করে যেমন: "উনি কি কামুক ছিলেন না?" আপনি যখন আমাদের নবীর সাধারণ ধার্মিকতা এবং নৈতিকতার কথা ভাববেন, তিনি একটি 9 বছর বয়সী, একটি 7 বছর বয়সীকে বিয়ে করেছেন অথবা যৌন কামনার জন্য বিয়ে করেছেন, আর যৌন কামনার জন্য সব সময় বিয়ে করতেন...
একজন মানুষের এই মডেল কি কোনভাবে আমাদের নবীর ভক্তির সাথে মিলে? এবং আপনি জানেন, আমি একবার একজন নাস্তিককে এরকম কিছু বলেছিলাম। আমার সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে, আমি জানি। আমি দুঃখিত কিন্তু... আমি একজন নাস্তিককে কিছু বলেছিলাম; তিনি একটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার পর। আমি বললাম, "আমি আপনাকে কিছু জিজ্ঞেস করতে যাচ্ছি"। "যতটা আপনি এই নাস্তিক ওয়েবসাইটগুলো ব্রাউজ করেন, আপনি কি এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আছে এমন কোন ওয়েবসাইটে অনুসন্ধান করেছেন?" আপনি কি আমাকে সত্যি বলতে পারবেন?" তিনি বললেন, "আমি করিনি।" আপনি কি বুঝতে পারছেন আমি কী বোঝাতে চাচ্ছি?
অন্য কথায়, তিনি এমন একটি বিশ্বাসের মডেল খুঁজে পেয়েছেন যা দিয়ে তিনি সহজেই পাপ করতে পারেন; "নাস্তিকতা। ঠিক আছে, ঈশ্বর আমাদের দেখেন না, কোনও ফেরেশতা নেই, কোনও অপরাধও নেই, ঠিক আছে, এই তথ্য সঠিক..." হয়তো কিছু মানুষ এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে পারে? "না, আমি সেই অংশে যাব না। আমি যা চেয়েছিলাম তা পেয়েছি। আমি বুঝতে পেরেছি, এবং আমি আর কিছু শিখতে চাই না। কারো যদি এরকম মানসিকতা থাকে তাহলে তার কাছে সত্য পৌঁছানো যায় না। তবে ইনশাআল্লাহ আমরা দাবি করি যে: এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর আছে, ইসলাম সম্পর্কে এই সমস্ত প্রশ্নের। আমরা নিজেদের বিশ্বাস করি না, কিন্তু আমরা কোরআন বিশ্বাস করি।