"তুমি আর আমার ছেলে নও" - একজন জাপানি ইমামের গল্প
প্রকাশের তারিখ
বৌদ্ধধর্মে কোন বিষয়টি আপনার কাছে যৌক্তিক মনে হয়নি। আপনার মুসলিম হওয়ার ফলে আপনার পরিবার ও বন্ধুদের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল? আপনার ধর্ম পালনের ক্ষেত্রে জাপানে আপনি সবচেয়ে খারাপ কোন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন? এরপর তিনি আমাকে প্রশ্ন করতে শুরু করলেন: তুমি এখনো মুসলিম কেন রয়ে গেছ? মুসলিম হওয়া বাদ দাও। আমি তাকে বললাম, না, আমি পারব না। তখন সবশেষে তিনি বললেন ঠিক আছে তুমি এখন আর আমার ছেলে নও। আহমেদ মায়েনো কে?
আমার নাম আহমেদ মায়েনো। আমার পারিবারিক নাম হলো নাওকি। আমি একজন জাপানি, মূলত আইচির বাসিন্দা, যার অবস্থান জাপানের মধ্যভাগে এবং বর্তমানে টোকিওর পার্শ্ববর্তী চিবাতে বাস করছি এবং টোকিওতে কর্মরত আছি। এবং আমি জাপান মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনের চারজন ইমামের মধ্যে একজন। আমার নফস, ইগো, নিজের সত্ত্বা, জেগে উঠেছিল, আনুমানিক ১৩ থেকে ১৪ বছর বয়সে এবং তখন আমি নিজেকে প্রশ্ন করতে শুরু করি, আমি কোথা থেকে এসেছি?
এবং তখন আমি নিজেকে প্রশ্ন করতে শুরু করি, "আমি কোথা থেকে এসেছি?" "আমি কোথায় যাচ্ছি" এবং "আমি কিসের জন্য বেঁচে আছি?" আর যেহেতু আমার বেড়ে উঠা জাপানে, আমার জন্ম ও বেড়ে উঠা জাপানে। ধর্মের কাছাকাছি যে পরিবেশ আমি পেয়েছি সেটা হলো বৌদ্ধ ধর্ম। তাই আমি ভাবলাম যদি আমি বৌদ্ধধর্মের এই পথ গ্রহণ করি, বিশেষ করে বৌদ্ধধর্মের মূল পথ আমি ভেবেছিলাম আমি আমার অনুসন্ধানের উত্তরে পৌঁছাতে পারব। আমি একবার হাল ছেড়ে দিয়েছিলাম ধর্মের মাধ্যমে সত্যকে খোঁজার ব্যাপারে ধর্মের মাধ্যমে সত্যকে খোঁজার ব্যাপারে কিন্তু এরপর আমার অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে যাওয়ার সুযোগ হয় প্রায় এক বছরের জন্য একজন একচেঞ্জ শিক্ষার্থী হিসেবে। এরপর আমার এখানে থাকাকালীন সময়ে, আলহামদুলিল্লাহ, আমার একটি মিশরীয় পরিবারের সাথে সাক্ষাত হয়। তারা আমার সাথে খুব সুন্দর আচরণ করেন। তাদের সাথে মেশার মাধ্যমে তাদের সম্পর্কে জানার পর ইসলামের বিরুদ্ধে আমার একপেশে দৃষ্টিভঙ্গি ধীরে ধীরে দূর হয়ে যায়। তো কোন সময়ে গিয়ে আপনি ইসলাম সম্পর্কে সত্যিকার অর্থে মুগ্ধ হয়ে পড়েন?
ইসলাম সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর যে এটাই সেটা যা আমি সবসময় খুঁজছিলাম। এরপরও আমার ভবিষ্যত নিয়ে ভয় ও উদ্বেগ কাজ করছিল কারণ আমি ছিলাম তাদের মধ্যে একজন যারা ইসলামের বিরুদ্ধে একপেশে দৃষ্টিভঙ্গি লালন করেন। তাই আমি জানতাম যদি আমি চূড়ান্ত পদক্ষেপটি গ্রহণ করে ফেলি ইসলাম ও মুসলিমদের জগতে প্রবেশ করার পথ অতিক্রম করে ফেলি তাহলে জাপানি সমাজে, আমার নিজের সমাজে আমার দিকে কিভাবে তাকানো হবে?
আমাকে একজন অত্যন্ত অদ্ভূত আজব মানুষ হিসেবে দেখা হবে। এটাই ছিল শেষ কারণ যা শেষ ধাপটি পার হতে আমাকে ভীত করে দিয়েছিল। কিন্তু এরপর ম্যালকম এক্স এর ফিল্ম দেখা আমাকে শেষ ধাক্কাটি দিয়েছিল, উৎসাহিত করেছিল আলহামদুলিল্লাহ কারণ ম্যালকম এক্স তার আগের জীবনে একজন গ্যাংস্টার ছিলেন এবং যা ইচ্ছা বিভিন্ন ধরনের কাজকর্ম করেছেন। এরপর কতটা সুন্দরভাবে, কত চমৎকারভাবে তিনি নিজেকে, তার জীবনকে একজন পবিত্র ব্যক্তিতে পরিণত করেছিলেন। তিনি অত্যন্ত সোজাসাপ্টা মানুষ ছিলেন। এছাড়াও হজ্বের দৃশ্য দেখে যখন তিনি মক্কায় হজ্বের জন্য যান, তিনি আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিলেন। বহু জায়গায় বহু মানুষ ফুলবল খেলা দেখার উদ্দেশ্যে অথবা নাচ বা কনসার্ট এর জন্য মজা উপভোগ করার উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়। কিন্তু এখানে এত বেশি মানুষ একত্রিত হচ্ছে একজন স্রষ্টার উপাসনা করার জন্য। এই প্রশংসা ছাড়া অন্য এমন কোনো প্রশংসা আছে কি?
আমি বললাম না। তখন আমি অবশেষে বুঝতে পারলাম মুসলিম হওয়ার অর্থ এই নয় যে আপনাকে একজন ভীরু ব্যক্তি হয়ে থাকতে হবে। না, মুসলিম হওয়া অত্যন্ত দারুণ একটা ব্যাপার, অত্যন্ত দারুণ ও সুন্দর ও চমৎকার তাই, আলহামদুলিল্লাহ আমি চূড়ান্ত ধাপটি পার করি এবং ইসলাম গ্রহণ করি। তো যেদিন রাতে আমি ম্যালকম এক্স এর ফিল্ম দেখেছিলাম আমি মনে করি সেদিনই আমি ইসলাম গ্রহণ করেছিলাম আমি আল্লাহ তায়ালার কাছে ফিরে আসি যখন আমি আমার হাঁটু গেঁড়ে বসলাম এবং এরপর আমার কপার মেঝেতে রাখলাম এবং আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রার্থনা করলাম আপনার মুসলিম হওয়ার ফলে আপনার পরিবার ও বন্ধুদের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?
তারা ভুল বুঝেছিল, যদিও আমি আমার বাবা-মাকে আমার ইসলামে আসার গল্প শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরোটা বলেছি, কিন্তু তারা ভুল বুঝেছিলেন। হ্যাঁ, এরপর এ কারণে শুরুতে আসলে কোনো সমস্যা ছিল না। কিন্তু এরপর যখন জাপানে সামাজিক ইস্যু ঘটলো, যা মূলত উগ্রপন্থী একটি দলের জন্য ঘটেছিল যারা নিজেদের আউম নামে ডাকে যারা টোকিওতে সাবওয়ে ট্রেনের মধ্যে প্রাণঘাতী বিষ ছুড়ে দিয়েছিল। যদিও ইসলামের সাথে এটির কোনো সংস্পর্শ ছিল না, তারা অত্যন্ত নেতিবাচক খারাপ একটি ভাবমূর্তি তৈরি করে যেকোনো ধরনের বিশ্বাসের বিরুদ্ধে, যেকোনো একটা ধর্ম মানার বিরুদ্ধে আর এরপর আসে অজ্ঞতার ব্যাপার বা ইসলাম সম্পর্কে না জানা। তারা ভেবেছিলেন ইসলামও একই ধরনের হতে পারে, এসব উগ্রপন্থী লোকদের মতো হবে। যখন আমি আমার বাবার কাছ থেকে দেশের বাইরে কুয়েতে গিয়ে পড়ালেখা করার অনুমতি চাইতে গেলাম যাতে আমি আরবী ভাষা শিখতে পারি। আমি সেসময় ইতোমধ্যে ওসাকাতে আরবী ভাষার ম্যাজর নিয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছিলাম। তখন তিনি না করে দিয়েছিলেন। এরপর তিনি আমাকে প্রশ্ন করতে শুরু করলেন: তুমি এখনো মুসলিম কেন রয়ে গেছ?
মুসলিম হওয়া বাদ দাও। আমি তাকে বললাম, না, আমি পারব না। বাবা, তুমি বলো মুসলিম হওয়ার পর থেকে আমি কি পাগল হয়ে গিয়েছি? আমি কি আগের চেয়ে খারাপ হয়ে গিয়েছি? তার নিজের ভেতরে জানা ছিল। তেমনটা হয়নি!
তার ছেলে। আগের চেয়ে খারাপ হয়ে যায়নি। এরপর তিনি সবশেষে বললেন, ঠিক আছে তুমি এখন আর আমার ছেলে নও। এটা অত্যন্ত বেদনাদায়ক একটা কথা ছিল। কারণ যদিও আমার একটি খণ্ডকালীন কাজ ছিল কিন্তু আমি আমার বাবা-মায়ের উপর কিছুটা নির্ভরশীল ছিলাম। তাই আমাকে জীবন চালানোর জন্য অন্য উপায় খুঁজতে হয়েছিল। এরপর পরের দিন আমি কোবেতে মসজিদে যাই এবং মিশরীয় ইমামের সাথে আমার সমস্যাটি নিয়ে পরামর্শ করি। তখন তিনি আমাকে আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য মিশরীয় দূতাবাসে দেয়ার জন্যে একটি রিকমেন্ডেশন লেটার দেন। আমি সে চিঠি মিশরীয় দূতাবাসে পাঠাই এরপর আমার বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যাই এবং আমার বাবা-মায়ের সাথে বসে থাকি, পরিবেশ একদম শান্ত ছিল এরপর আলহামদুলিল্লাহ আমি দেখলাম আমার বাবা-মা আমাকে আবার গ্রহণ করছেন?
তো আলহামদুলিল্লাহ তাদের মধ্যে কেউ কি আপনার পরে ইসলাম গ্রহণ করেছিল? দুঃখজনকভাবে, না আমার বাবা মারা গেছেন। যদিও তার মৃত্যুর আগে তিনি চিঠিতে বলেছিলেন তিনি আমাকে এটাও বলেছিলেন যে যদি আমি তোমার সাথে থাকতে শুরু করি আমি ইসলাম মেনে নিতে কিছুটা তৈরি হয়ে যেতে পারি। কিন্তু আমার পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে সেটার সুযোগ হয়নি আচ্ছা তাহলে বৌদ্ধধর্মে কোন বিষয়টি আপনার কাছে যৌক্তিক মনে হয়নি। আপনি বৌদ্ধধর্মে কোন জিনিসটি খুঁজে পাননি?
এগুলোর মধ্যে একটি হলো পুনর্জন্ম। পুনর্জন্মের ধারণার শুরু হয় ভারত থেকে, আর আপনিতো জানেন, বৌদ্ধধর্ম হিন্দুধর্মের পরে এসেছে, কিংবা বুদ্ধ নিজেও হিন্দুধর্মের একজন সংস্কারক হিসেবে বিবেচিত হন, তো পুনর্জন্মের ধারণাটি হলো আপনার প্রাণ আছে, আপনার আত্মা আছে, আর এই আত্মা কখনো মৃত্যুবরণ করবে না এবং এই পৃথিবীতে বিভিন্ন আকৃতিতে থেকে যায় যা নির্ভর করে আপনার কাজের উপর, আপনি কি করেছেন তার উপর। যা নির্ভর করে আপনার কাজের উপর, আপনি কি করেছেন তার উপর। তাই পূর্বের জন্মে আপনি হয়তো পশু বা কীটপতঙ্গ বা অন্য কিছু ছিলেন। আর এরপর, এই ধারণা অনুযায়ী, এই জীবনের উপর নির্ভর করে আপনি ভিন্ন কোনো প্রাণী হতে পারেন এই জীবনের পরে আপনি হয়তো একজন মানুষ হবেন অথবা ভিন্ন কোনো প্রাণী হবেন এবং একইরকমভাবে, যদি আপনি নির্ভানা না অর্জন করেন যদি আপনি এই সমগ্র মহাবিশ্বের সত্যিকার বোধগম্যতা অর্জন না করেন এবং আপনি পুনর্জন্মের চক্র থেকে বের হয়ে না যান, আপনি এভাবে জন্ম নিতে থাকবেন। পুনর্জন্মের ধারণাকে এভাবেই দেখা হয়। তাহলে প্রশ্ন উঠে যে এক এক সময় লোকজনের সংখ্যা একেক রকম হয় তাহলে আপনি যদি বলেন যে আত্মা জীবিত রয়ে গেছে, এরপর পুনর্জন্ম লাভ করে, এক জন্ম থেকে আরেকটি পুনর্জন্ম নেয় আপনি সেগুলো মিলাবেন কিভাবে আর আরো একটা বিষয় যেটা আমাকে একজন বৌদ্ধ ভিক্ষু হওয়া থেকে থামিয়েছিল তা হলো সম্পূর্ণ পৃথক করে ফেলা ধর্মীয় জীবন ও স্বাভাবিক জীবন বা দৈনন্দিন জীবনকে হ্যাঁ, তারা সম্পূর্ণ আলাদা করে ফেলেন ধর্মীয় জীবন ও দৈনন্দিন জীবনের মধ্যে তো আপনি সেখানে অসঙ্গতি খুঁজে পেলেন। যদি জাপানে কেউ ইসলান সম্পর্কে অনুসন্ধান করতে চায় এবং গুগলে ইসলাম সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন লিখে তিনি তার বদলে কি দেখতে পাবেন?
আচ্ছা এখানে অনেক কিছু রয়েছে তিনি ইসলামকে জানতে কতটা আগ্রহী তার উপর নির্ভর করে কিন্তু, দুঃখজনক ব্যাপার হলো কিছু প্রাচ্যবিদদের লেখা কিছু বইতে জাপানি মানুষের মধ্যে ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এই বইগুলো এখন প্রায় সেরা সিরিজের মতো হয়ে গেছে। যা একটি দুঃখজনক ব্যাপার। তাই এটাই হয়তো প্রথম মাধ্যম হিসেবে তারা খুঁজে পাবেন বলে আমার মনে হয়। জাপানে আপনার ধর্ম পালন এবং একজন মুসলিম হিসেবে জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আপনি সবচেয়ে বেশি কোন কষ্টের সম্মুখীন হয়েছেন? বর্তমানে?
হ্যাঁ, সাধারণভাবে। আমি সহায়তা করার মানুষের কথা বলব কারণ আমার আলহামদুলিল্লাহ পাঁচ সন্তান। কিন্তু আমাদের তেমন কেউ নেই আমার পরিবারে আমি সহ সাত জন মানুষ আমার পরিবার ও আত্মীয়দের মধ্যে আমিই শুধু মুসলিম। আমার স্ত্রীর ক্ষেত্রেও তাই। তাই আমাদের পাশে পরিবার নেই দেখাশোনা করার মতো পরিবারের কেউ নেই কমিউনিটিতে হ্যাঁ, এমনকি আমি যে কমিউনিটিতে বাস করছি, চিবাতে কিওটো নাম সেটার, যেখানে তুলনামূলকভাবে অনেক মুসলিম বাস করছেন। কিন্তু আমি দেখছি মুসলিমরা নামাজের সময় একত্রিত হচ্ছেন। কিন্তু তাদের ব্যক্তিগত জীবনের জন্য আমি কোনো সংযোগ পাচ্ছি না বা প্রাত্যহিক জীবনে অন্য মুসলিমদেরকে অতটা সঙ্গী হিসেবে পাচ্ছি না। রাসুলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোন গুণটি আপনাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে?
তার দয়া বিশেষ করে যেসময় তিনি তায়েফ থেকে ফিরছিলেন, তায়েফের লোকদের দাওয়াত দিচ্ছিলেন কিন্তু তার দিকে পাথর ছুড়ে দেওয়া হচ্ছিল এবং তার বিরুদ্ধে বলা হচ্ছিল এরপর যখন ফেরেশতা তাদেরকে পাহাড়ের নিচে পিষ্ট করে দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন তিনি তাকে কী বলেছিলেন? সুবহানাল্লাহ অনুগ্রহ করে এটা করবেন না! হয়তো তাদের পরের কোনো প্রজন্ম আসবে যারা একক স্রষ্টায় বিশ্বাসী হবে। সুবহানাল্লাহ আপনি একজন ইমাম হওয়াকে কেন বেছে নিলেন?
কারণ কেউ এটা করছে না। সুবহানাল্লাহ খুব কম মানুষই, এমনকি মুসলিম হয়ে থাকছে অনেকেই আছেন যারা শাহাদাহ পাঠ করছেন কিন্তু আল্লাহই ভালো জানেন শাহাদাহ পাঠ করার পর তারা কেমন হয়ে উঠছেন কারণ তারপর তাদের থমকে যাওয়ার পরে তাদের দেখাশোনা করার জন্য কোনো প্রতিষ্ঠিত সিস্টেম নেই। এমন কিছু নেই আর, যারা বিশেষ করে জাপানের বাইরে থেকে আসেন, যারা দাওয়াতী কাজের জন্য আগ্রহ নিয়ে আসেন তারা মানুষকে দাওয়াত দেন এবং এরপর যখন তারা লোকদের শাহাদাহ বলতে দেখেন, তারা অন্য কোনো টার্গেটের পিছনে চলে যান নতুন মুসলিমদের দেখাশোনা না করেই। যখন আমি তখনও তরুণ ছিলাম, মুসলিম হওয়ার পরে আমার চেয়ে বয়স্কদের মধ্যে ইসলামিক স্টাডিজের গ্র্যাজুয়েট খুব বেশি জন ছিলেন না কিন্তু যেহেতু আমি ছিলাম, আমার মনে হয় এটা একটা কারণ ছিল যে আমি দূরত্ব অনুভব করছিলাম আমি টোকিওতে বাস করছিলাম না, তাদের অনেকেই টোকিওতে ছিলেন এবং তাদের খুব কম ক্রিয়াকলাপই আমার কাছে পৌঁছাত। আমার মতো অন্য ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছাত তাই আমি নিজেকে প্রশ্ন করলাম যদিও তারা শিখেছেন এবং তারা সেসময় আমার মতো একজন তরুণের অন্তরে আল্লাহর দ্বীন শেখার আগ্রহ এনে দিয়েছিলেন। তাদের কাজটুকু যথেষ্ট ছিল না তারা এটা করছিলেন না কিন্তু অবশ্য, পরে আমি বুঝতে পারি যে প্রত্যেকেরই তাদের নিজস্ব জীবন আছে এবং তারা তাদের নিত্যদিনের জীবন নিয়ে অনেক ব্যস্ত কিন্তু সেসময় তাদের কাজটুকু যথেষ্ট ছিল না এবং তারা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছিলেন না তাহলে কেউই যদি কাজ না করে আমাকেই করতে হবে আপনার কি মনে হয় মানুষ কেন ইসলামকে এত সহিংসভাবে, এর নির্মমভাবে আক্রমণ করে?
এর কারণ কী, যে এমনকি জাপানেও আপনি এর ফলাফল দেখতে পেলেন? আমার মতে কারণগুলোর মধ্যে একটি হলো যে তারা জানে তারা বুঝে যে ইসলাম সত্য আর যেহেতু তারা নিজেদের ভেতরে এটা বুঝতে পারে এটা জানার পরে, ইসলামকে সত্য হিসেবে চেনার পরে তারা জানে যে তাদেরকে এটা মেনে নিতে হবে। কিন্তু যদি তারা এটা মেনে নেয় তাহলে তাদের জন্য এটা বোঝা হয়ে যাবে। তাই তারা ঘৃণামূলক আচরণ করে এবং এটির বিরুদ্ধে যায় কারণ, ইসলামের শিক্ষা ও জ্ঞান ছাড়া আমাদের নফস অনেক মোটাতাজা ও বড় হয়ে যায় এবং আমাদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী হয়ে যায় আপনি কি আর কিছু যোগ করতে চান?
হ্যাঁ, অবশ্যই যদি আপনি মুসলিম ভাই ও বোনদের মধ্যে কেউ হন অনুগ্রহ করে আমার জন্য এবং আমার পরিবারের জন্য এবং বিশেষ করে আমার মায়ের ইসলামে আসার জন্য এবং আমার স্ত্রীর মা ও আমার শ্যালকের জন্য, এবং আমাদের বাবা-মায়ের মতো অবস্থায় থাকা লোকদের জন্য দুআ করতে ভুলবেন না। আমার মতো বহু মানুষ যারা ধর্মান্তরিত হন বা ধর্মে ফিরে আসেন তাদের বাবা-মা এখনো মুসলিম হননি। তাই অনুগ্রহ করে আমাদের জন্য দুআ করবেন ধন্যবাদ।
আমার নাম আহমেদ মায়েনো। আমার পারিবারিক নাম হলো নাওকি। আমি একজন জাপানি, মূলত আইচির বাসিন্দা, যার অবস্থান জাপানের মধ্যভাগে এবং বর্তমানে টোকিওর পার্শ্ববর্তী চিবাতে বাস করছি এবং টোকিওতে কর্মরত আছি। এবং আমি জাপান মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনের চারজন ইমামের মধ্যে একজন। আমার নফস, ইগো, নিজের সত্ত্বা, জেগে উঠেছিল, আনুমানিক ১৩ থেকে ১৪ বছর বয়সে এবং তখন আমি নিজেকে প্রশ্ন করতে শুরু করি, আমি কোথা থেকে এসেছি?
এবং তখন আমি নিজেকে প্রশ্ন করতে শুরু করি, "আমি কোথা থেকে এসেছি?" "আমি কোথায় যাচ্ছি" এবং "আমি কিসের জন্য বেঁচে আছি?" আর যেহেতু আমার বেড়ে উঠা জাপানে, আমার জন্ম ও বেড়ে উঠা জাপানে। ধর্মের কাছাকাছি যে পরিবেশ আমি পেয়েছি সেটা হলো বৌদ্ধ ধর্ম। তাই আমি ভাবলাম যদি আমি বৌদ্ধধর্মের এই পথ গ্রহণ করি, বিশেষ করে বৌদ্ধধর্মের মূল পথ আমি ভেবেছিলাম আমি আমার অনুসন্ধানের উত্তরে পৌঁছাতে পারব। আমি একবার হাল ছেড়ে দিয়েছিলাম ধর্মের মাধ্যমে সত্যকে খোঁজার ব্যাপারে ধর্মের মাধ্যমে সত্যকে খোঁজার ব্যাপারে কিন্তু এরপর আমার অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে যাওয়ার সুযোগ হয় প্রায় এক বছরের জন্য একজন একচেঞ্জ শিক্ষার্থী হিসেবে। এরপর আমার এখানে থাকাকালীন সময়ে, আলহামদুলিল্লাহ, আমার একটি মিশরীয় পরিবারের সাথে সাক্ষাত হয়। তারা আমার সাথে খুব সুন্দর আচরণ করেন। তাদের সাথে মেশার মাধ্যমে তাদের সম্পর্কে জানার পর ইসলামের বিরুদ্ধে আমার একপেশে দৃষ্টিভঙ্গি ধীরে ধীরে দূর হয়ে যায়। তো কোন সময়ে গিয়ে আপনি ইসলাম সম্পর্কে সত্যিকার অর্থে মুগ্ধ হয়ে পড়েন?
ইসলাম সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর যে এটাই সেটা যা আমি সবসময় খুঁজছিলাম। এরপরও আমার ভবিষ্যত নিয়ে ভয় ও উদ্বেগ কাজ করছিল কারণ আমি ছিলাম তাদের মধ্যে একজন যারা ইসলামের বিরুদ্ধে একপেশে দৃষ্টিভঙ্গি লালন করেন। তাই আমি জানতাম যদি আমি চূড়ান্ত পদক্ষেপটি গ্রহণ করে ফেলি ইসলাম ও মুসলিমদের জগতে প্রবেশ করার পথ অতিক্রম করে ফেলি তাহলে জাপানি সমাজে, আমার নিজের সমাজে আমার দিকে কিভাবে তাকানো হবে?
আমাকে একজন অত্যন্ত অদ্ভূত আজব মানুষ হিসেবে দেখা হবে। এটাই ছিল শেষ কারণ যা শেষ ধাপটি পার হতে আমাকে ভীত করে দিয়েছিল। কিন্তু এরপর ম্যালকম এক্স এর ফিল্ম দেখা আমাকে শেষ ধাক্কাটি দিয়েছিল, উৎসাহিত করেছিল আলহামদুলিল্লাহ কারণ ম্যালকম এক্স তার আগের জীবনে একজন গ্যাংস্টার ছিলেন এবং যা ইচ্ছা বিভিন্ন ধরনের কাজকর্ম করেছেন। এরপর কতটা সুন্দরভাবে, কত চমৎকারভাবে তিনি নিজেকে, তার জীবনকে একজন পবিত্র ব্যক্তিতে পরিণত করেছিলেন। তিনি অত্যন্ত সোজাসাপ্টা মানুষ ছিলেন। এছাড়াও হজ্বের দৃশ্য দেখে যখন তিনি মক্কায় হজ্বের জন্য যান, তিনি আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিলেন। বহু জায়গায় বহু মানুষ ফুলবল খেলা দেখার উদ্দেশ্যে অথবা নাচ বা কনসার্ট এর জন্য মজা উপভোগ করার উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়। কিন্তু এখানে এত বেশি মানুষ একত্রিত হচ্ছে একজন স্রষ্টার উপাসনা করার জন্য। এই প্রশংসা ছাড়া অন্য এমন কোনো প্রশংসা আছে কি?
আমি বললাম না। তখন আমি অবশেষে বুঝতে পারলাম মুসলিম হওয়ার অর্থ এই নয় যে আপনাকে একজন ভীরু ব্যক্তি হয়ে থাকতে হবে। না, মুসলিম হওয়া অত্যন্ত দারুণ একটা ব্যাপার, অত্যন্ত দারুণ ও সুন্দর ও চমৎকার তাই, আলহামদুলিল্লাহ আমি চূড়ান্ত ধাপটি পার করি এবং ইসলাম গ্রহণ করি। তো যেদিন রাতে আমি ম্যালকম এক্স এর ফিল্ম দেখেছিলাম আমি মনে করি সেদিনই আমি ইসলাম গ্রহণ করেছিলাম আমি আল্লাহ তায়ালার কাছে ফিরে আসি যখন আমি আমার হাঁটু গেঁড়ে বসলাম এবং এরপর আমার কপার মেঝেতে রাখলাম এবং আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রার্থনা করলাম আপনার মুসলিম হওয়ার ফলে আপনার পরিবার ও বন্ধুদের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?
তারা ভুল বুঝেছিল, যদিও আমি আমার বাবা-মাকে আমার ইসলামে আসার গল্প শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরোটা বলেছি, কিন্তু তারা ভুল বুঝেছিলেন। হ্যাঁ, এরপর এ কারণে শুরুতে আসলে কোনো সমস্যা ছিল না। কিন্তু এরপর যখন জাপানে সামাজিক ইস্যু ঘটলো, যা মূলত উগ্রপন্থী একটি দলের জন্য ঘটেছিল যারা নিজেদের আউম নামে ডাকে যারা টোকিওতে সাবওয়ে ট্রেনের মধ্যে প্রাণঘাতী বিষ ছুড়ে দিয়েছিল। যদিও ইসলামের সাথে এটির কোনো সংস্পর্শ ছিল না, তারা অত্যন্ত নেতিবাচক খারাপ একটি ভাবমূর্তি তৈরি করে যেকোনো ধরনের বিশ্বাসের বিরুদ্ধে, যেকোনো একটা ধর্ম মানার বিরুদ্ধে আর এরপর আসে অজ্ঞতার ব্যাপার বা ইসলাম সম্পর্কে না জানা। তারা ভেবেছিলেন ইসলামও একই ধরনের হতে পারে, এসব উগ্রপন্থী লোকদের মতো হবে। যখন আমি আমার বাবার কাছ থেকে দেশের বাইরে কুয়েতে গিয়ে পড়ালেখা করার অনুমতি চাইতে গেলাম যাতে আমি আরবী ভাষা শিখতে পারি। আমি সেসময় ইতোমধ্যে ওসাকাতে আরবী ভাষার ম্যাজর নিয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছিলাম। তখন তিনি না করে দিয়েছিলেন। এরপর তিনি আমাকে প্রশ্ন করতে শুরু করলেন: তুমি এখনো মুসলিম কেন রয়ে গেছ?
মুসলিম হওয়া বাদ দাও। আমি তাকে বললাম, না, আমি পারব না। বাবা, তুমি বলো মুসলিম হওয়ার পর থেকে আমি কি পাগল হয়ে গিয়েছি? আমি কি আগের চেয়ে খারাপ হয়ে গিয়েছি? তার নিজের ভেতরে জানা ছিল। তেমনটা হয়নি!
তার ছেলে। আগের চেয়ে খারাপ হয়ে যায়নি। এরপর তিনি সবশেষে বললেন, ঠিক আছে তুমি এখন আর আমার ছেলে নও। এটা অত্যন্ত বেদনাদায়ক একটা কথা ছিল। কারণ যদিও আমার একটি খণ্ডকালীন কাজ ছিল কিন্তু আমি আমার বাবা-মায়ের উপর কিছুটা নির্ভরশীল ছিলাম। তাই আমাকে জীবন চালানোর জন্য অন্য উপায় খুঁজতে হয়েছিল। এরপর পরের দিন আমি কোবেতে মসজিদে যাই এবং মিশরীয় ইমামের সাথে আমার সমস্যাটি নিয়ে পরামর্শ করি। তখন তিনি আমাকে আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য মিশরীয় দূতাবাসে দেয়ার জন্যে একটি রিকমেন্ডেশন লেটার দেন। আমি সে চিঠি মিশরীয় দূতাবাসে পাঠাই এরপর আমার বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যাই এবং আমার বাবা-মায়ের সাথে বসে থাকি, পরিবেশ একদম শান্ত ছিল এরপর আলহামদুলিল্লাহ আমি দেখলাম আমার বাবা-মা আমাকে আবার গ্রহণ করছেন?
তো আলহামদুলিল্লাহ তাদের মধ্যে কেউ কি আপনার পরে ইসলাম গ্রহণ করেছিল? দুঃখজনকভাবে, না আমার বাবা মারা গেছেন। যদিও তার মৃত্যুর আগে তিনি চিঠিতে বলেছিলেন তিনি আমাকে এটাও বলেছিলেন যে যদি আমি তোমার সাথে থাকতে শুরু করি আমি ইসলাম মেনে নিতে কিছুটা তৈরি হয়ে যেতে পারি। কিন্তু আমার পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে সেটার সুযোগ হয়নি আচ্ছা তাহলে বৌদ্ধধর্মে কোন বিষয়টি আপনার কাছে যৌক্তিক মনে হয়নি। আপনি বৌদ্ধধর্মে কোন জিনিসটি খুঁজে পাননি?
এগুলোর মধ্যে একটি হলো পুনর্জন্ম। পুনর্জন্মের ধারণার শুরু হয় ভারত থেকে, আর আপনিতো জানেন, বৌদ্ধধর্ম হিন্দুধর্মের পরে এসেছে, কিংবা বুদ্ধ নিজেও হিন্দুধর্মের একজন সংস্কারক হিসেবে বিবেচিত হন, তো পুনর্জন্মের ধারণাটি হলো আপনার প্রাণ আছে, আপনার আত্মা আছে, আর এই আত্মা কখনো মৃত্যুবরণ করবে না এবং এই পৃথিবীতে বিভিন্ন আকৃতিতে থেকে যায় যা নির্ভর করে আপনার কাজের উপর, আপনি কি করেছেন তার উপর। যা নির্ভর করে আপনার কাজের উপর, আপনি কি করেছেন তার উপর। তাই পূর্বের জন্মে আপনি হয়তো পশু বা কীটপতঙ্গ বা অন্য কিছু ছিলেন। আর এরপর, এই ধারণা অনুযায়ী, এই জীবনের উপর নির্ভর করে আপনি ভিন্ন কোনো প্রাণী হতে পারেন এই জীবনের পরে আপনি হয়তো একজন মানুষ হবেন অথবা ভিন্ন কোনো প্রাণী হবেন এবং একইরকমভাবে, যদি আপনি নির্ভানা না অর্জন করেন যদি আপনি এই সমগ্র মহাবিশ্বের সত্যিকার বোধগম্যতা অর্জন না করেন এবং আপনি পুনর্জন্মের চক্র থেকে বের হয়ে না যান, আপনি এভাবে জন্ম নিতে থাকবেন। পুনর্জন্মের ধারণাকে এভাবেই দেখা হয়। তাহলে প্রশ্ন উঠে যে এক এক সময় লোকজনের সংখ্যা একেক রকম হয় তাহলে আপনি যদি বলেন যে আত্মা জীবিত রয়ে গেছে, এরপর পুনর্জন্ম লাভ করে, এক জন্ম থেকে আরেকটি পুনর্জন্ম নেয় আপনি সেগুলো মিলাবেন কিভাবে আর আরো একটা বিষয় যেটা আমাকে একজন বৌদ্ধ ভিক্ষু হওয়া থেকে থামিয়েছিল তা হলো সম্পূর্ণ পৃথক করে ফেলা ধর্মীয় জীবন ও স্বাভাবিক জীবন বা দৈনন্দিন জীবনকে হ্যাঁ, তারা সম্পূর্ণ আলাদা করে ফেলেন ধর্মীয় জীবন ও দৈনন্দিন জীবনের মধ্যে তো আপনি সেখানে অসঙ্গতি খুঁজে পেলেন। যদি জাপানে কেউ ইসলান সম্পর্কে অনুসন্ধান করতে চায় এবং গুগলে ইসলাম সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন লিখে তিনি তার বদলে কি দেখতে পাবেন?
আচ্ছা এখানে অনেক কিছু রয়েছে তিনি ইসলামকে জানতে কতটা আগ্রহী তার উপর নির্ভর করে কিন্তু, দুঃখজনক ব্যাপার হলো কিছু প্রাচ্যবিদদের লেখা কিছু বইতে জাপানি মানুষের মধ্যে ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এই বইগুলো এখন প্রায় সেরা সিরিজের মতো হয়ে গেছে। যা একটি দুঃখজনক ব্যাপার। তাই এটাই হয়তো প্রথম মাধ্যম হিসেবে তারা খুঁজে পাবেন বলে আমার মনে হয়। জাপানে আপনার ধর্ম পালন এবং একজন মুসলিম হিসেবে জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আপনি সবচেয়ে বেশি কোন কষ্টের সম্মুখীন হয়েছেন? বর্তমানে?
হ্যাঁ, সাধারণভাবে। আমি সহায়তা করার মানুষের কথা বলব কারণ আমার আলহামদুলিল্লাহ পাঁচ সন্তান। কিন্তু আমাদের তেমন কেউ নেই আমার পরিবারে আমি সহ সাত জন মানুষ আমার পরিবার ও আত্মীয়দের মধ্যে আমিই শুধু মুসলিম। আমার স্ত্রীর ক্ষেত্রেও তাই। তাই আমাদের পাশে পরিবার নেই দেখাশোনা করার মতো পরিবারের কেউ নেই কমিউনিটিতে হ্যাঁ, এমনকি আমি যে কমিউনিটিতে বাস করছি, চিবাতে কিওটো নাম সেটার, যেখানে তুলনামূলকভাবে অনেক মুসলিম বাস করছেন। কিন্তু আমি দেখছি মুসলিমরা নামাজের সময় একত্রিত হচ্ছেন। কিন্তু তাদের ব্যক্তিগত জীবনের জন্য আমি কোনো সংযোগ পাচ্ছি না বা প্রাত্যহিক জীবনে অন্য মুসলিমদেরকে অতটা সঙ্গী হিসেবে পাচ্ছি না। রাসুলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোন গুণটি আপনাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে?
তার দয়া বিশেষ করে যেসময় তিনি তায়েফ থেকে ফিরছিলেন, তায়েফের লোকদের দাওয়াত দিচ্ছিলেন কিন্তু তার দিকে পাথর ছুড়ে দেওয়া হচ্ছিল এবং তার বিরুদ্ধে বলা হচ্ছিল এরপর যখন ফেরেশতা তাদেরকে পাহাড়ের নিচে পিষ্ট করে দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন তিনি তাকে কী বলেছিলেন? সুবহানাল্লাহ অনুগ্রহ করে এটা করবেন না! হয়তো তাদের পরের কোনো প্রজন্ম আসবে যারা একক স্রষ্টায় বিশ্বাসী হবে। সুবহানাল্লাহ আপনি একজন ইমাম হওয়াকে কেন বেছে নিলেন?
কারণ কেউ এটা করছে না। সুবহানাল্লাহ খুব কম মানুষই, এমনকি মুসলিম হয়ে থাকছে অনেকেই আছেন যারা শাহাদাহ পাঠ করছেন কিন্তু আল্লাহই ভালো জানেন শাহাদাহ পাঠ করার পর তারা কেমন হয়ে উঠছেন কারণ তারপর তাদের থমকে যাওয়ার পরে তাদের দেখাশোনা করার জন্য কোনো প্রতিষ্ঠিত সিস্টেম নেই। এমন কিছু নেই আর, যারা বিশেষ করে জাপানের বাইরে থেকে আসেন, যারা দাওয়াতী কাজের জন্য আগ্রহ নিয়ে আসেন তারা মানুষকে দাওয়াত দেন এবং এরপর যখন তারা লোকদের শাহাদাহ বলতে দেখেন, তারা অন্য কোনো টার্গেটের পিছনে চলে যান নতুন মুসলিমদের দেখাশোনা না করেই। যখন আমি তখনও তরুণ ছিলাম, মুসলিম হওয়ার পরে আমার চেয়ে বয়স্কদের মধ্যে ইসলামিক স্টাডিজের গ্র্যাজুয়েট খুব বেশি জন ছিলেন না কিন্তু যেহেতু আমি ছিলাম, আমার মনে হয় এটা একটা কারণ ছিল যে আমি দূরত্ব অনুভব করছিলাম আমি টোকিওতে বাস করছিলাম না, তাদের অনেকেই টোকিওতে ছিলেন এবং তাদের খুব কম ক্রিয়াকলাপই আমার কাছে পৌঁছাত। আমার মতো অন্য ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছাত তাই আমি নিজেকে প্রশ্ন করলাম যদিও তারা শিখেছেন এবং তারা সেসময় আমার মতো একজন তরুণের অন্তরে আল্লাহর দ্বীন শেখার আগ্রহ এনে দিয়েছিলেন। তাদের কাজটুকু যথেষ্ট ছিল না তারা এটা করছিলেন না কিন্তু অবশ্য, পরে আমি বুঝতে পারি যে প্রত্যেকেরই তাদের নিজস্ব জীবন আছে এবং তারা তাদের নিত্যদিনের জীবন নিয়ে অনেক ব্যস্ত কিন্তু সেসময় তাদের কাজটুকু যথেষ্ট ছিল না এবং তারা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছিলেন না তাহলে কেউই যদি কাজ না করে আমাকেই করতে হবে আপনার কি মনে হয় মানুষ কেন ইসলামকে এত সহিংসভাবে, এর নির্মমভাবে আক্রমণ করে?
এর কারণ কী, যে এমনকি জাপানেও আপনি এর ফলাফল দেখতে পেলেন? আমার মতে কারণগুলোর মধ্যে একটি হলো যে তারা জানে তারা বুঝে যে ইসলাম সত্য আর যেহেতু তারা নিজেদের ভেতরে এটা বুঝতে পারে এটা জানার পরে, ইসলামকে সত্য হিসেবে চেনার পরে তারা জানে যে তাদেরকে এটা মেনে নিতে হবে। কিন্তু যদি তারা এটা মেনে নেয় তাহলে তাদের জন্য এটা বোঝা হয়ে যাবে। তাই তারা ঘৃণামূলক আচরণ করে এবং এটির বিরুদ্ধে যায় কারণ, ইসলামের শিক্ষা ও জ্ঞান ছাড়া আমাদের নফস অনেক মোটাতাজা ও বড় হয়ে যায় এবং আমাদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী হয়ে যায় আপনি কি আর কিছু যোগ করতে চান?
হ্যাঁ, অবশ্যই যদি আপনি মুসলিম ভাই ও বোনদের মধ্যে কেউ হন অনুগ্রহ করে আমার জন্য এবং আমার পরিবারের জন্য এবং বিশেষ করে আমার মায়ের ইসলামে আসার জন্য এবং আমার স্ত্রীর মা ও আমার শ্যালকের জন্য, এবং আমাদের বাবা-মায়ের মতো অবস্থায় থাকা লোকদের জন্য দুআ করতে ভুলবেন না। আমার মতো বহু মানুষ যারা ধর্মান্তরিত হন বা ধর্মে ফিরে আসেন তাদের বাবা-মা এখনো মুসলিম হননি। তাই অনুগ্রহ করে আমাদের জন্য দুআ করবেন ধন্যবাদ।