শেষ দিবস | এআই–ভিজুয়ালাইজড কিয়ামত সিরিজ – পর্ব ২
প্রকাশের তারিখ
আর এখনি শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া হবে। সময় ঘনিয়ে এসেছে, আর এই সেই অন্তিম মুহূর্ত শুরু হয়ে গেছে। পৃথিবী আর এই মহাবিশ্বের ধ্বংস হওয়ার সময় এসে গেছে। আসমান আর জমিন আর আগের মতো নেই। সবকিছু ভেঙ্গে পড়ছে এক এক করে। মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে একে অন্যের দিকে তাকাচ্ছে জানে না কী করবে এখন। পুরোপুরি হতভম্ব হয়ে কী ঘটতে যাচ্ছে তা বুঝার চেষ্টা করছে সবাই। এটি যেন ভূমিকম্পের চেয়েও ভয়ানক কিছু। পর্বতসমূহ কাঁপছে। সমুদ্র ফুঁসে উঠেছে। পৃথিবী পৃষ্ঠের সমস্ত কিছু একের পর এক চূর্ণ-বিচূর্ণ হচ্ছে, আর চারিদিকে বাড়তে ছড়াতে শুরু করেছে ভয়ানক ও বীভৎস আতঙ্কের ছায়া। আকাশে একের পর এক তারা খসে পড়ছে। মানুষ চিৎকার করে যেদিকে পারে সেদিকে দৌড়াচ্ছে, কিন্তু এখন আর যাওয়ার কোন জায়গা নেই। কেননা পরিক্ষার সময় এখন সমাপ্ত হয়েছে। আর তারা একের পর এক মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মারা যাচ্ছে। এখন আমরা পবিত্র কুরআনের আয়াত থেকে জানবো এবং একে একে ব্যাখ্যা করবো কী কী ঘটবে সেদিন। সুর নামক শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবী ধ্বংস হতে শুরু করবে। একবার যখন ফেরেশতা ইসরাফিল (আঃ) এটিতে ফুঁ দিয়ে দিবেন, এমন ধরনের বিপর্যয়কর ঘটনা ঘটবে যে পৃথিবী, তারকারাজি এমনকি গ্যালাক্সি সমূহের অস্তিত্ব থাকবেনা। কুরআন দৃশ্যগুলোকে নিম্নরূপে ব্যাখ্যা করে: "যখন শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে -একটিমাত্র ফুৎকার, এবং পৃথিবী ও পর্বতমালা উত্তোলিত হবে ও চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয়া হবে একটিমাত্র ফুৎকারে, সেইদিন কেয়ামত সংঘঠিত হবে। সেদিন আকাশ বিদীর্ণ হবে ও বিক্ষিপ্ত হবে।" সেই দিনের আতংকের কথা অনেক আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে। "সেদিন জমিন ও পর্বতমালা প্রকম্পিত হবে এবং পর্বতসমূহ বিক্ষিপ্ত বহমান বালুকারাশিতে পরিণত হবে।" "সেইদিন আমি আকাশকে গুটিয়ে নেব, যেমন গুটানো হয় লিখিত কাগজপত্র। যেভাবে আমি প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলাম, সেভাবে পুনরায় সৃষ্টি করব। তোমাদের প্রতি করা আমার ওয়াদা নিশ্চিত, নিশ্চয়ই আমি তা পূর্ণ করবই। অতএব, তোমরা কিরূপে আত্মরক্ষা করিবে যদি তোমরা সেদিনকে অস্বীকার করো যে দিন কিশোরদেরকে পরিণত করবে বৃদ্ধে, সেদিন আসমান হবে বিদীর্ণ। তার প্রতিশ্রুতি অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে।" এই আয়াতগুলো পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করে যে এই দিনটি অন্যদিনের মতো হবে না আমাদের চারপাশে যে মহাবিশ্বকে দেখতে পাই তার ধ্বংসের দিন সেটি। প্রতিটি মানুষের যেমন তার সমাপ্তির একটি নির্দিষ্ট সময় আছে, এই বিশাল সৃষ্টি যাকে মহাবিশ্ব বলে তারও ধ্বংসের নির্দিষ্ট দিন রয়েছে। আরেকটি আয়াতে, এই ঘটনাগুলো আমাদের জানায় যে এটি শেষ দিবস যার বর্ণনা এভাবে দেয়া হয়েছে: "যখন সূর্যকে গুটিয়ে নেয়া হবে, আর নক্ষত্ররাজি তাদের উজ্জ্বলতা হারিয়ে খসে পড়বে, আর পর্বতগুলোকে যখন সঞ্চালিত করা হবে। যখন পূর্ণ-গর্ভা উষ্ট্রী গুলো উপেক্ষিত হবে, আর যখন বন্য পশুগুলো একত্র করা হবে যখন সমুদ্রকে উত্তাল করা হবে।" সুতরাং, না আকাশ আর না পৃথিবী নিজ নিজ অক্ষে টিকে থাকবে। যেদিকেই ফিরে তাকাবেন, আপনি এক ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখতে পাবেন। তীব্র ভূমিকম্প জমিনকে প্রকম্পিত করবে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ছড়িয়ে পড়বে। গভীর ফাটল থেকে ছড়িয়ে পড়া গলিত তরল সমুদ্রের পানি ফুটিয়ে তুলবে। অবিশ্বাস্য গতিতে পৃথিবী ঘোরার কারণে পর্বতগুলো তুলায় পরিণত হবে, সমুদ্রগুলো একে অপরের সঙ্গে মিশে যাবে, আর সবগুলো সমুদ্র মিলে একটি বিশাল অতল সমুদ্রে পরিণত হবে। তো, সেই ভয়ংকর দিনটি আসতে আর কত সময় বাকি?
একশ বছর, দশ বছর, নাকি তারও কম? রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের জানিয়েছেন যে এই দিনটি আসার আগে অনেক নিদর্শন দেখা যাবে। কিছু ছোট আর কিছু বড় বড় নিদর্শন। এখন চলুন কিছু ছোট নিদর্শনের বিষয়ে আলোচনা করা যাক। এরপর আমরা বড়গুলো নিয়ে কথা বলব। আর সবশেষে আপনি সিদ্ধান্ত নিবেন। সেই সময় কী কাছে না এখনো অনেক দূরে প্রথম ছোট নিদর্শনটি হচ্ছে আমাদের নবী (স:) এর পৃথিবীতে আগমন। কারণ তিনি আল্লাহর প্রেরিত সর্বশেষ নবী। অনেকগুলো সূত্রে এটিকে প্রথম ছোট নিদর্শন হিসেবে বর্ণনা করা হয়। অন্য কথায়, এই বিদ্যালয় যাকে আমরা দুনিয়া বলি তার শেষ শিক্ষক এসে চলে গেছেন। তাহলে, আমাদের গ্র্যাজুয়েশন কী খুব দূরে হবে?
আরেকটি নিদর্শন হচ্ছে মানুষের জীবনে কুরআনের গুরুত্ব কমে যাবে। বাস্তবিকই, আজ আমরা যখন চারদিকে তাকাই, আমরা পরিষ্কারভাবে দেখি সবদিকে তাই ঘটে চলেছে। অনেক মানুষ পার্থিব জগতে এত বেশি নিমগ্ন যে তারা কুরআনের একটি পৃষ্ঠা খুলতেও ভুলে যায়। আমি কাজ এবং জীবন নিয়ে এতো ব্যস্ত যে কুরআন পড়ার সময়ই পাইনা। শেষবার এই কুরআন খুলে পড়েছি আমি সেই শৈশবে মক্তবে কুরআন শেখাকালীন। হয়তো আপনিও তাদেরই একজন। আরেকটি নিদর্শন হচ্ছে নামাজ পড়া উঠে যাবে। কতো অল্প লোকে নামাজ পড়ে তা দেখার জন্য আপনার স্কুল কিংবা অফিসের আশপাশে তাকিয়ে দেখুন। ভাইয়েরা, আমি মসজিদে যাচ্ছি আমার সাথে কেউ নামাজ পড়তে যাবে?
যতোই কেয়ামতের দিন ঘনিয়ে আসছে, ততোই নামাজ পড়া লোকের সংখ্যা কমছে। আরেকটি নিদর্শন হচ্ছে মসজিদগুলো অতিরিক্ত সুসজ্জিত হবে, কিন্তু নামাজ পড়াকে অবহেলা করা হবে। আরেকটি নিদর্শন হচ্ছে আল-মালহামা আল-কুবরা, এক ভয়ানক মহাযুদ্ধ এই যুদ্ধও কেয়ামত (পুনরুত্থান দিবস) এর অন্যতম একটি লক্ষণ। কোন যুদ্ধকে মালহামা বলা হয়েছে সে বিষয়ে স্কলারদের মাঝে নানান মত রয়েছে বা ইতিমধ্যে এই যুদ্ধ হয়ে গেছে কিনা। আমরা যে বড় বড় যুদ্ধসমূহ দেখেছি গত এক শতাব্দীতে যেমন ১ম এবং ২য় বিশ্বযুদ্ধ সেগুলোও কিয়ামতের নিদর্শন হতে পারে, এখন, বাকি ছোট নিদর্শনগুলো এক নজরে দেখা যাক। পৃথিবীর শেষ সময়ে এক আল্লাহয় বিশ্বাসী মানুষের সংখ্যা এবং ঈমানের ভিত্তিসমূহ ধীরে ধীরে দুর্বল হতে থাকবে। ঈমান ও আকিদার বিষয়গুলোকে মানুষ আর গুরুত্ব দেবে না। সুদের ব্যবহার ছড়িয়ে পড়বে। ব্যবসায় সততা হারিয়ে যাবে। লোকেরা হালাল উপায়ে নাকি হারাম উপায়ে টাকা উপার্জন করছে সেটি নিয়ে মাথা ঘামাবে না। ব্যভিচার ও অ্যালকোহলের মতো বড় পাপ সর্বত্র বেশি বেশি ছড়িয়ে পড়বে। বিভিন্ন নামে বিভিন্ন ধরনের অ্যালকোহল ছড়িয়ে পড়বে, এর মধ্যে কিছু অংশকে হালাল ভাবা হবে। অভদ্রতা এবং খোলামেলা পোশাক সব জায়গায় দেখা যাবে। লোকদের মাঝে চক্ষুলজ্জা কমে যাবে। মানুষ অনেক বেশি কৃপণ এবং লোভী হয়ে পড়বে পারিবারিক বন্ধন ভেঙ্গে যাবে। বয়স্ক তরুণদের প্রতি করুণা ও মায়া দেখাবেনা, আর তরুণরা বয়ষ্কদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেনা। লোকেদের বিয়ের প্রতি আগ্রহ কমে যাবে আর অবৈধ সন্তানের সংখ্যা বেড়ে যাবে। জিহাদ এবং দাওয়ার (ইসলামের প্রতি আহবান) কার্যক্রম থেমে যাবে। ধর্ম ছাড়া বাকি সব বিষয়ে জ্ঞানচর্চা করা হবে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বাধাগ্রস্ত হবে। পৃথিবীজুড়ে বন্যা, ভূমিকম্প, এবং অগ্নিকান্ডের মতো দুর্যোগ বেড়ে যাবে। প্রাকৃতিক সম্পদ অদৃশ্য হয়ে যাবে। খুনের সংখ্যা বেড়ে যাবে। বড় বড় ভবন তৈরি হবে। ক্বদর (নিয়তি) এবং শেষ বিচার দিবসকে অস্বীকার করা হবে। তো, যেমনটি দেখতে পাচ্ছেন, কিয়ামতের প্রায় সব ছোট নিদর্শনসমূহ ইতিমধ্যে ঘটে গেছে। এই নিদর্শনগুলো পরিষ্কারভাবে দেখিয়ে দেয় যে মানবতা সর্বশেষ স্তরে পৌঁছে গেছে। এখন চলুন দেখে নিই পৃথিবী ধ্বংসের বড় নিদর্শনগুলো । অন্যতম বড় নিদর্শন হচ্ছে দাব্বাত আল-আরদের আগমন। পালিয়ে যাও কি হচ্ছে এসব তো, এর অর্থ কী?
দাব্বাত আল-আরদ একটি জীবের নাম যেটিকে কিয়ামতের কাছাকাছি সময়ে দেখা যাবে। এই শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে একটি জীবন্ত প্রাণী যা জমিনে হেঁটে বেড়ায়। এই আয়াত আমাদের জানায় যে মাটির ভিতর থেকে একটি পশু বের হবে। এটির উল্লেখ এভাবে করা হয়েছে: "আর যখন ঘোষিত শাস্তি তাদের উপর এসে যাবে তখন আমি মাটির গহবর হতে বের করব এক জীব যা তাদের সাথে কথা বলবে; এ জন্য যে, মানুষ আমার নিদর্শনে অবিশ্বাসী।" প্রখ্যাত ইসলামিক স্কলার বদিউজ্জামান সাঈদ নূরসী বলেছেন, দাব্বাত আল-আরদ কোন একক জীবের নাম নয়, বরং এটি একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যের প্রজাতি হবে। যেকোন শতাব্দীর তুলনায় শুধু গত এক শতাব্দীতে, অসংখ্য নতুন রোগ এবং জীবাণুর আবির্ভাব ঘটেছে, গাছ খেয়ে নেওয়া পোকার মতন, সেসব জীবাণু মানবদেহের মাথা থেকে পায়ের আংগুল পর্যন্ত সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। মানুষের ঈমান কতোটা দূর্বল সে বিষয়ে তিনি ব্যাখ্যা করেন, আল্লাহ থেকে তারা কতো দূরে সরে গিয়েছে, আর ঠিক একারণেই একের পরে এক দুর্যোগ তাদের ঘনঘন আঘাত করছে। এই আয়াতটি উদ্ধৃত করে, তিনি বলেন, "মানুষ আমাদের নিদর্শনসমূহে নিশ্চিত বিশ্বাস করত না।" অবশ্যই, আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন। এটি শুধু একটি ব্যাখ্যামাত্র। আরেকটি বড় নিদর্শন হচ্ছে ইয়াজুজ-মাজুজ এর আবির্ভাব। এই মানব গোষ্ঠীর দুটি সাধারণ মানুষদের প্রচন্ডরকম ক্ষতি করবে এবং পৃথিবীজুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে। কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে যে জুলকারনাইন একটি প্রাচীর তৈরি করেছেন বলে এই অনিষ্টকারী জাতিগুলো মানুষকে আঘাত করতে পারছেনা। কিন্তু কেয়ামত যখন চলে আসবে তারা ফিরে আসবে এবং মানুষদের ক্ষতি সাধন করবে। উত্তরের পার্বত্য এলাকায় কোন সামরিক অভিযানের সময় জুলকারনাইন একদল লোকের মাঝে এসে পড়েন যারা ইয়াজুজ এবং মাজুজ নামে দুটি অনিষ্টকারী এবং আক্রমণাত্মক গোষ্ঠীর ব্যাপারে অভিযোগ করেছিল। "ও জুলকারনাইন, ইয়াজুজ এবং মাজুজ আমাদের ভূমি নষ্ট করছে। আপনি কী সঠিক পারিশ্রমিকের বিনিময়ে আমাদের ও তাদের মাঝে একটি প্রাচীর তৈরি করে দিবেন?" তাদের অনুরোধে জুলকারনাইন সেই অঞ্চলে একটি প্রাচীর তৈরি করে দিয়েছিলেন। প্রাচীরটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর, ইয়াজুজ এবং মাজুজ আর সেটি অতিক্রম করতে পারেনি, এমনকি তারা এতে একটি গর্তও করতে পারবে না। জুলকারনাইন বলেছিলেন যে প্রাচীরটি একমাত্র ধ্বংস হবে যখন আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সময় আসবে। আর এটি কিয়ামতের অন্যতম একটি বড় নিদর্শন। কিছু মতানুসারে, এই গোষ্ঠী দুটি হল মাঞ্চুরিয়ান এবং মোঙ্গল জাতি। কয়েক শতাব্দী পর তাদের বংশধরেরা আবার মানুষের ক্ষতি করবে কিয়ামতের আগে তারা তাদের পূর্ব-পুরুষদের মতো একই রকম নিষ্ঠুরতা চালাবে। অবশ্যই, আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন। আরেকটি নিদর্শন হচ্ছে দাজ্জাল-এর আগমন। কিছু বর্ণনায়, দাজ্জাল এর আগমনকে পৃথিবীর অন্যতম ভয়ংকর ঘটনা বলে বর্ণনা করা হয়েছে। অনেক হাদিসে দাজ্জালকে মিথ্যাবাদী, প্রতারক, এবং ভন্ড নেতা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে যে খারাপকে ভালো এবং মিথ্যাকে সত্য বলে উপস্থাপন করবে। একটি হাদিস থেকে আমরা জানতে পারি তারা সংখ্যায় ৩০ জন হবে। তাদের মধ্য থেকে দুইজন দাজ্জালের কিয়ামতের সময় বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। একজন হলো সেই প্রধান দাজ্জাল, আর অন্য দাজ্জাল মুসলিমদের ভিতর থেকেই উঠে আসবে, তার নাম সুফিয়ানী। কিছু বর্ণনানুসারে, সুফিয়ানি ইসলামকে বিকৃত করার চেষ্টা করবে, এবং মানুষের পরকাল ধ্বংস করতে চাইবে অবিশ্বাস এবং হারামকে ভণ্ডামিপূর্ণভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে। অন্যদিকে, প্রধান দাজ্জাল মুসলমান এবং অমুসলমানদের তার প্রচারিত মতবাদের মাধ্যমে ঈমান ও ইসলাম থেকে দূরে ধাবিত করবে। আরেকটি প্রধান নিদর্শন হলো মাহদীর আগমন, যিনি হবেন আমাদের নবী (স:) এর বংশধর। মাহদী আল্লাহর নির্দেশিত একজন বান্দা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। যিনি মানুষকে তাদের স্রষ্টার দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন। তিনি উদ্ধার করবেন ঈমানহীনতায় ডুবতে থাকা আর যারা তাদের ঈমান নিয়ে দ্বন্দ্ব ও বিভ্রান্তিতে ভুগবে সেসব মানুষদের তিনি আমাদেরকে অন্ধকার, এবং দাজ্জাল সুফিয়ানির মতো বিপদের হাত থেকে রক্ষা করবেন। আরেকটি মহান নিদর্শন হচ্ছে যিশু (আ:) নামে যিনি পরিচিত ঈসা আ: এর আসমান থেকে নেমে আসা, অনেক হাদিসে বলা হয়েছে ঈসা (আ:) পৃথিবীতে নেমে আসবেন কিয়ামতের পূর্বমুহুর্তে আর ইসলামের শাসন কার্যকর করবেন। যখন তিনি একজন নবী ছিলেন, ইহুদীরা তাকে ফাঁদে ফেলে ক্রুশবিদ্ধ করার চেষ্টা করে। কিন্তু তারা কিছু করে উঠার আগেই আল্লাহ জান্নাতে উঠিয়ে নিয়ে তাকে রক্ষা করেন। মাহদীর আগমনের পর ঈসা (আ:) আসমান থেকে শুধুমাত্র একজন শাসক হিসেবে নেমে আসবেন। শেষে, দাজ্জালকে ধ্বংস করার আন্দোলনে সাড়া দিয়ে তিনি ইমাম মাহদীর সঙ্গে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবেন এবং দাজ্জালকে নিজ হাতে হত্যা করবেন। আরেকটি নিদর্শন হচ্ছে দুখান (ধোঁয়া)। দুখানের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে ধোঁয়া। কিছু কিছু মতানুসারে, শেষ বিচারের দিন যখন চলে আসবে, আসমান থেকে ধোঁয়া এসে পুরো পৃথিবী ঢেকে ফেলবে। যেটি ৪০ দিন স্থায়ী হবে। আরেকটি বড় নিদর্শন হচ্ছে সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হবে। যখন এই ঘটনাটি ঘটবে, সকল প্রত্যক্ষদর্শী পরিষ্কাররূপে বুঝে যাবে পৃথিবী তার শেষ সময়ে চলে এসেছে। কিন্তু ততক্ষণে অনুশোচনা এবং পরিক্ষার দরজা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তো এই উপলব্ধি তাদের কোন উপকারে আসবেনা। সবগুলো নিদর্শনের মাঝে সবচেয়ে সুস্পষ্ট নিদর্শন হবে এটি। এইসব নিদর্শন থেকে আমরা বুঝতে পারি শেষ বিচারের দিন খুবই নিকটে। কিন্তু কখনো কখনো আমরা একটি ব্যাপার ভুলে যাই। একজন ব্যক্তির কিয়ামত (পুনরুত্থান) হলো তার মৃত্যু। আর তাই, আমাদের সত্যিই যে বিষয়ে মনোযোগ দেয়া উচিত তা হলো নিজেদের কিয়ামতের জন্য প্রস্তুত হওয়া। গুরুত্বপূর্ন হলো এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করা। ঠিক যেমনটা আমাদের প্রভু এই আয়াতে বলেছেন, “তারা শুধু এই অপেক্ষাই করছে যে কেয়ামত অকস্মাৎ তাদের উপর এসে পড়ুক?
বস্তুত কেয়ামতের লক্ষণসমূহ তো এসেই পড়েছে। কিন্তু কেয়ামত এসে পড়লে তারা উপদেশ গ্রহণ করবে কীভাবে?" যদি ভিডিওটি আপনার কাছে এসে পৌঁছায়, তবে নিশ্চিত থাকবেন এটি কোন এক্সিডেন্ট নয়। আল্লাহ এটি আপনার সামনে এনেছেন এবং শেষ পর্যন্ত দেখার তৌফিক দিয়েছেন। কেন করেছে জানেন? কারণ তিনি চান যেন আপনার জীবনে পরিবর্তন আসুক। তো, এরপরও কি আপনি তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে একটি ছোট পদক্ষেপও নিবেন না?
এখন আপনার জীবনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়। যদি আপনি নামায না পড়েন, এমূহুর্তই হোক আপনার নামাজের প্র্যাক্টিসের সূচনা বিজ্ঞাপনমুক্ত আমাদের সম্পূর্ন বিনামূল্যের সালাত অ্যাপের মাধ্যমে, আপনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজকে জীবনের ধারাবাহিক অংশ করে তুলতে পারবেন। যদি আপনার ঈমানকে আর শক্তিশালী করতে চান ও ইসলামিক জ্ঞানকে আরও সমৃদ্ধ করতে চান, আমরা এই চ্যানেলে আপনার জন্য অসংখ্য ভিডিও তৈরি করেছি। আপনি একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করে গুছিয়ে সেসব ভিডিও দেখতে পারেন আপনার যদি আরবিতে কুরআন পড়তে অসুবিধা হয়, তাহলে আমাদের বানানো লামেলিফ কুরআন অ্যাপটি ডাউনলোড করতে পারেন যেটির মাধ্যমে আপনি দ্রুত সহজে এবং বিনামূল্যে আরবি শিখতে পারবেন। আর আপনি যদি কুরআনের অর্থ আরও গভীরভাবে জানতে চান, আপনি আমাদের তাফসির (কুরআনের ব্যাখ্যা) অ্যাপ ডাউনলোড করতে পারেন। মনে রাখবেন, একবার নিজের জন্য লক্ষ্য ঠিক করলে, সেই লক্ষ্য যত ছোটই হোক না কেন, আপনার জীবনে পরিবর্তন আসতে শুরু করবে। এরপর আসছে পুনরুত্থান। সেই দিন প্রায় এসে গেছে যেদিন ঠোঁটকে সিল করে দেওয়া হবে আর হাত কথা বলতে শুরু করবে, এবং পা সাক্ষ্য দিবে। কোন কিছুই গোপন থাকবে না। শেষ বিচারের দিন পুরো মানবজাতিকে পুনরুত্থিত করা হবে আর কঠিন কষ্টের সময়ে প্রবেশ করবে। তো সেই দীর্ঘ দিনটিতে আমাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে?
জেনে নিন পরবর্তী এপিসোডে। কিয়ামতের দিন। দেখা হবে তৃতীয় পর্বে। কিছু লক্ষ্য করেছেন কী? এই ভিডিওটি দেখার সময় আপনি কোন বিজ্ঞাপন দেখতে পাননি। যেহেতু টোয়ার্ডস ইটার্নিটি একটি অলাভজনক সংস্থা, আমরা শুধু আপনার সাহায্যের মাধ্যমেই এই ভিডিওগুলো তৈরি করতে পারি। আপনি যদি এই ভালো কাজের অংশ হতে চান, টোয়ার্ডস ইটার্নিটিতে দান করুন আর এই সুবর্ণ সুযোগটি হাতছাড়া করবেন না।
একশ বছর, দশ বছর, নাকি তারও কম? রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের জানিয়েছেন যে এই দিনটি আসার আগে অনেক নিদর্শন দেখা যাবে। কিছু ছোট আর কিছু বড় বড় নিদর্শন। এখন চলুন কিছু ছোট নিদর্শনের বিষয়ে আলোচনা করা যাক। এরপর আমরা বড়গুলো নিয়ে কথা বলব। আর সবশেষে আপনি সিদ্ধান্ত নিবেন। সেই সময় কী কাছে না এখনো অনেক দূরে প্রথম ছোট নিদর্শনটি হচ্ছে আমাদের নবী (স:) এর পৃথিবীতে আগমন। কারণ তিনি আল্লাহর প্রেরিত সর্বশেষ নবী। অনেকগুলো সূত্রে এটিকে প্রথম ছোট নিদর্শন হিসেবে বর্ণনা করা হয়। অন্য কথায়, এই বিদ্যালয় যাকে আমরা দুনিয়া বলি তার শেষ শিক্ষক এসে চলে গেছেন। তাহলে, আমাদের গ্র্যাজুয়েশন কী খুব দূরে হবে?
আরেকটি নিদর্শন হচ্ছে মানুষের জীবনে কুরআনের গুরুত্ব কমে যাবে। বাস্তবিকই, আজ আমরা যখন চারদিকে তাকাই, আমরা পরিষ্কারভাবে দেখি সবদিকে তাই ঘটে চলেছে। অনেক মানুষ পার্থিব জগতে এত বেশি নিমগ্ন যে তারা কুরআনের একটি পৃষ্ঠা খুলতেও ভুলে যায়। আমি কাজ এবং জীবন নিয়ে এতো ব্যস্ত যে কুরআন পড়ার সময়ই পাইনা। শেষবার এই কুরআন খুলে পড়েছি আমি সেই শৈশবে মক্তবে কুরআন শেখাকালীন। হয়তো আপনিও তাদেরই একজন। আরেকটি নিদর্শন হচ্ছে নামাজ পড়া উঠে যাবে। কতো অল্প লোকে নামাজ পড়ে তা দেখার জন্য আপনার স্কুল কিংবা অফিসের আশপাশে তাকিয়ে দেখুন। ভাইয়েরা, আমি মসজিদে যাচ্ছি আমার সাথে কেউ নামাজ পড়তে যাবে?
যতোই কেয়ামতের দিন ঘনিয়ে আসছে, ততোই নামাজ পড়া লোকের সংখ্যা কমছে। আরেকটি নিদর্শন হচ্ছে মসজিদগুলো অতিরিক্ত সুসজ্জিত হবে, কিন্তু নামাজ পড়াকে অবহেলা করা হবে। আরেকটি নিদর্শন হচ্ছে আল-মালহামা আল-কুবরা, এক ভয়ানক মহাযুদ্ধ এই যুদ্ধও কেয়ামত (পুনরুত্থান দিবস) এর অন্যতম একটি লক্ষণ। কোন যুদ্ধকে মালহামা বলা হয়েছে সে বিষয়ে স্কলারদের মাঝে নানান মত রয়েছে বা ইতিমধ্যে এই যুদ্ধ হয়ে গেছে কিনা। আমরা যে বড় বড় যুদ্ধসমূহ দেখেছি গত এক শতাব্দীতে যেমন ১ম এবং ২য় বিশ্বযুদ্ধ সেগুলোও কিয়ামতের নিদর্শন হতে পারে, এখন, বাকি ছোট নিদর্শনগুলো এক নজরে দেখা যাক। পৃথিবীর শেষ সময়ে এক আল্লাহয় বিশ্বাসী মানুষের সংখ্যা এবং ঈমানের ভিত্তিসমূহ ধীরে ধীরে দুর্বল হতে থাকবে। ঈমান ও আকিদার বিষয়গুলোকে মানুষ আর গুরুত্ব দেবে না। সুদের ব্যবহার ছড়িয়ে পড়বে। ব্যবসায় সততা হারিয়ে যাবে। লোকেরা হালাল উপায়ে নাকি হারাম উপায়ে টাকা উপার্জন করছে সেটি নিয়ে মাথা ঘামাবে না। ব্যভিচার ও অ্যালকোহলের মতো বড় পাপ সর্বত্র বেশি বেশি ছড়িয়ে পড়বে। বিভিন্ন নামে বিভিন্ন ধরনের অ্যালকোহল ছড়িয়ে পড়বে, এর মধ্যে কিছু অংশকে হালাল ভাবা হবে। অভদ্রতা এবং খোলামেলা পোশাক সব জায়গায় দেখা যাবে। লোকদের মাঝে চক্ষুলজ্জা কমে যাবে। মানুষ অনেক বেশি কৃপণ এবং লোভী হয়ে পড়বে পারিবারিক বন্ধন ভেঙ্গে যাবে। বয়স্ক তরুণদের প্রতি করুণা ও মায়া দেখাবেনা, আর তরুণরা বয়ষ্কদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেনা। লোকেদের বিয়ের প্রতি আগ্রহ কমে যাবে আর অবৈধ সন্তানের সংখ্যা বেড়ে যাবে। জিহাদ এবং দাওয়ার (ইসলামের প্রতি আহবান) কার্যক্রম থেমে যাবে। ধর্ম ছাড়া বাকি সব বিষয়ে জ্ঞানচর্চা করা হবে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বাধাগ্রস্ত হবে। পৃথিবীজুড়ে বন্যা, ভূমিকম্প, এবং অগ্নিকান্ডের মতো দুর্যোগ বেড়ে যাবে। প্রাকৃতিক সম্পদ অদৃশ্য হয়ে যাবে। খুনের সংখ্যা বেড়ে যাবে। বড় বড় ভবন তৈরি হবে। ক্বদর (নিয়তি) এবং শেষ বিচার দিবসকে অস্বীকার করা হবে। তো, যেমনটি দেখতে পাচ্ছেন, কিয়ামতের প্রায় সব ছোট নিদর্শনসমূহ ইতিমধ্যে ঘটে গেছে। এই নিদর্শনগুলো পরিষ্কারভাবে দেখিয়ে দেয় যে মানবতা সর্বশেষ স্তরে পৌঁছে গেছে। এখন চলুন দেখে নিই পৃথিবী ধ্বংসের বড় নিদর্শনগুলো । অন্যতম বড় নিদর্শন হচ্ছে দাব্বাত আল-আরদের আগমন। পালিয়ে যাও কি হচ্ছে এসব তো, এর অর্থ কী?
দাব্বাত আল-আরদ একটি জীবের নাম যেটিকে কিয়ামতের কাছাকাছি সময়ে দেখা যাবে। এই শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে একটি জীবন্ত প্রাণী যা জমিনে হেঁটে বেড়ায়। এই আয়াত আমাদের জানায় যে মাটির ভিতর থেকে একটি পশু বের হবে। এটির উল্লেখ এভাবে করা হয়েছে: "আর যখন ঘোষিত শাস্তি তাদের উপর এসে যাবে তখন আমি মাটির গহবর হতে বের করব এক জীব যা তাদের সাথে কথা বলবে; এ জন্য যে, মানুষ আমার নিদর্শনে অবিশ্বাসী।" প্রখ্যাত ইসলামিক স্কলার বদিউজ্জামান সাঈদ নূরসী বলেছেন, দাব্বাত আল-আরদ কোন একক জীবের নাম নয়, বরং এটি একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যের প্রজাতি হবে। যেকোন শতাব্দীর তুলনায় শুধু গত এক শতাব্দীতে, অসংখ্য নতুন রোগ এবং জীবাণুর আবির্ভাব ঘটেছে, গাছ খেয়ে নেওয়া পোকার মতন, সেসব জীবাণু মানবদেহের মাথা থেকে পায়ের আংগুল পর্যন্ত সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। মানুষের ঈমান কতোটা দূর্বল সে বিষয়ে তিনি ব্যাখ্যা করেন, আল্লাহ থেকে তারা কতো দূরে সরে গিয়েছে, আর ঠিক একারণেই একের পরে এক দুর্যোগ তাদের ঘনঘন আঘাত করছে। এই আয়াতটি উদ্ধৃত করে, তিনি বলেন, "মানুষ আমাদের নিদর্শনসমূহে নিশ্চিত বিশ্বাস করত না।" অবশ্যই, আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন। এটি শুধু একটি ব্যাখ্যামাত্র। আরেকটি বড় নিদর্শন হচ্ছে ইয়াজুজ-মাজুজ এর আবির্ভাব। এই মানব গোষ্ঠীর দুটি সাধারণ মানুষদের প্রচন্ডরকম ক্ষতি করবে এবং পৃথিবীজুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে। কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে যে জুলকারনাইন একটি প্রাচীর তৈরি করেছেন বলে এই অনিষ্টকারী জাতিগুলো মানুষকে আঘাত করতে পারছেনা। কিন্তু কেয়ামত যখন চলে আসবে তারা ফিরে আসবে এবং মানুষদের ক্ষতি সাধন করবে। উত্তরের পার্বত্য এলাকায় কোন সামরিক অভিযানের সময় জুলকারনাইন একদল লোকের মাঝে এসে পড়েন যারা ইয়াজুজ এবং মাজুজ নামে দুটি অনিষ্টকারী এবং আক্রমণাত্মক গোষ্ঠীর ব্যাপারে অভিযোগ করেছিল। "ও জুলকারনাইন, ইয়াজুজ এবং মাজুজ আমাদের ভূমি নষ্ট করছে। আপনি কী সঠিক পারিশ্রমিকের বিনিময়ে আমাদের ও তাদের মাঝে একটি প্রাচীর তৈরি করে দিবেন?" তাদের অনুরোধে জুলকারনাইন সেই অঞ্চলে একটি প্রাচীর তৈরি করে দিয়েছিলেন। প্রাচীরটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর, ইয়াজুজ এবং মাজুজ আর সেটি অতিক্রম করতে পারেনি, এমনকি তারা এতে একটি গর্তও করতে পারবে না। জুলকারনাইন বলেছিলেন যে প্রাচীরটি একমাত্র ধ্বংস হবে যখন আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সময় আসবে। আর এটি কিয়ামতের অন্যতম একটি বড় নিদর্শন। কিছু মতানুসারে, এই গোষ্ঠী দুটি হল মাঞ্চুরিয়ান এবং মোঙ্গল জাতি। কয়েক শতাব্দী পর তাদের বংশধরেরা আবার মানুষের ক্ষতি করবে কিয়ামতের আগে তারা তাদের পূর্ব-পুরুষদের মতো একই রকম নিষ্ঠুরতা চালাবে। অবশ্যই, আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন। আরেকটি নিদর্শন হচ্ছে দাজ্জাল-এর আগমন। কিছু বর্ণনায়, দাজ্জাল এর আগমনকে পৃথিবীর অন্যতম ভয়ংকর ঘটনা বলে বর্ণনা করা হয়েছে। অনেক হাদিসে দাজ্জালকে মিথ্যাবাদী, প্রতারক, এবং ভন্ড নেতা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে যে খারাপকে ভালো এবং মিথ্যাকে সত্য বলে উপস্থাপন করবে। একটি হাদিস থেকে আমরা জানতে পারি তারা সংখ্যায় ৩০ জন হবে। তাদের মধ্য থেকে দুইজন দাজ্জালের কিয়ামতের সময় বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। একজন হলো সেই প্রধান দাজ্জাল, আর অন্য দাজ্জাল মুসলিমদের ভিতর থেকেই উঠে আসবে, তার নাম সুফিয়ানী। কিছু বর্ণনানুসারে, সুফিয়ানি ইসলামকে বিকৃত করার চেষ্টা করবে, এবং মানুষের পরকাল ধ্বংস করতে চাইবে অবিশ্বাস এবং হারামকে ভণ্ডামিপূর্ণভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে। অন্যদিকে, প্রধান দাজ্জাল মুসলমান এবং অমুসলমানদের তার প্রচারিত মতবাদের মাধ্যমে ঈমান ও ইসলাম থেকে দূরে ধাবিত করবে। আরেকটি প্রধান নিদর্শন হলো মাহদীর আগমন, যিনি হবেন আমাদের নবী (স:) এর বংশধর। মাহদী আল্লাহর নির্দেশিত একজন বান্দা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। যিনি মানুষকে তাদের স্রষ্টার দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন। তিনি উদ্ধার করবেন ঈমানহীনতায় ডুবতে থাকা আর যারা তাদের ঈমান নিয়ে দ্বন্দ্ব ও বিভ্রান্তিতে ভুগবে সেসব মানুষদের তিনি আমাদেরকে অন্ধকার, এবং দাজ্জাল সুফিয়ানির মতো বিপদের হাত থেকে রক্ষা করবেন। আরেকটি মহান নিদর্শন হচ্ছে যিশু (আ:) নামে যিনি পরিচিত ঈসা আ: এর আসমান থেকে নেমে আসা, অনেক হাদিসে বলা হয়েছে ঈসা (আ:) পৃথিবীতে নেমে আসবেন কিয়ামতের পূর্বমুহুর্তে আর ইসলামের শাসন কার্যকর করবেন। যখন তিনি একজন নবী ছিলেন, ইহুদীরা তাকে ফাঁদে ফেলে ক্রুশবিদ্ধ করার চেষ্টা করে। কিন্তু তারা কিছু করে উঠার আগেই আল্লাহ জান্নাতে উঠিয়ে নিয়ে তাকে রক্ষা করেন। মাহদীর আগমনের পর ঈসা (আ:) আসমান থেকে শুধুমাত্র একজন শাসক হিসেবে নেমে আসবেন। শেষে, দাজ্জালকে ধ্বংস করার আন্দোলনে সাড়া দিয়ে তিনি ইমাম মাহদীর সঙ্গে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবেন এবং দাজ্জালকে নিজ হাতে হত্যা করবেন। আরেকটি নিদর্শন হচ্ছে দুখান (ধোঁয়া)। দুখানের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে ধোঁয়া। কিছু কিছু মতানুসারে, শেষ বিচারের দিন যখন চলে আসবে, আসমান থেকে ধোঁয়া এসে পুরো পৃথিবী ঢেকে ফেলবে। যেটি ৪০ দিন স্থায়ী হবে। আরেকটি বড় নিদর্শন হচ্ছে সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হবে। যখন এই ঘটনাটি ঘটবে, সকল প্রত্যক্ষদর্শী পরিষ্কাররূপে বুঝে যাবে পৃথিবী তার শেষ সময়ে চলে এসেছে। কিন্তু ততক্ষণে অনুশোচনা এবং পরিক্ষার দরজা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তো এই উপলব্ধি তাদের কোন উপকারে আসবেনা। সবগুলো নিদর্শনের মাঝে সবচেয়ে সুস্পষ্ট নিদর্শন হবে এটি। এইসব নিদর্শন থেকে আমরা বুঝতে পারি শেষ বিচারের দিন খুবই নিকটে। কিন্তু কখনো কখনো আমরা একটি ব্যাপার ভুলে যাই। একজন ব্যক্তির কিয়ামত (পুনরুত্থান) হলো তার মৃত্যু। আর তাই, আমাদের সত্যিই যে বিষয়ে মনোযোগ দেয়া উচিত তা হলো নিজেদের কিয়ামতের জন্য প্রস্তুত হওয়া। গুরুত্বপূর্ন হলো এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করা। ঠিক যেমনটা আমাদের প্রভু এই আয়াতে বলেছেন, “তারা শুধু এই অপেক্ষাই করছে যে কেয়ামত অকস্মাৎ তাদের উপর এসে পড়ুক?
বস্তুত কেয়ামতের লক্ষণসমূহ তো এসেই পড়েছে। কিন্তু কেয়ামত এসে পড়লে তারা উপদেশ গ্রহণ করবে কীভাবে?" যদি ভিডিওটি আপনার কাছে এসে পৌঁছায়, তবে নিশ্চিত থাকবেন এটি কোন এক্সিডেন্ট নয়। আল্লাহ এটি আপনার সামনে এনেছেন এবং শেষ পর্যন্ত দেখার তৌফিক দিয়েছেন। কেন করেছে জানেন? কারণ তিনি চান যেন আপনার জীবনে পরিবর্তন আসুক। তো, এরপরও কি আপনি তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে একটি ছোট পদক্ষেপও নিবেন না?
এখন আপনার জীবনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়। যদি আপনি নামায না পড়েন, এমূহুর্তই হোক আপনার নামাজের প্র্যাক্টিসের সূচনা বিজ্ঞাপনমুক্ত আমাদের সম্পূর্ন বিনামূল্যের সালাত অ্যাপের মাধ্যমে, আপনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজকে জীবনের ধারাবাহিক অংশ করে তুলতে পারবেন। যদি আপনার ঈমানকে আর শক্তিশালী করতে চান ও ইসলামিক জ্ঞানকে আরও সমৃদ্ধ করতে চান, আমরা এই চ্যানেলে আপনার জন্য অসংখ্য ভিডিও তৈরি করেছি। আপনি একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করে গুছিয়ে সেসব ভিডিও দেখতে পারেন আপনার যদি আরবিতে কুরআন পড়তে অসুবিধা হয়, তাহলে আমাদের বানানো লামেলিফ কুরআন অ্যাপটি ডাউনলোড করতে পারেন যেটির মাধ্যমে আপনি দ্রুত সহজে এবং বিনামূল্যে আরবি শিখতে পারবেন। আর আপনি যদি কুরআনের অর্থ আরও গভীরভাবে জানতে চান, আপনি আমাদের তাফসির (কুরআনের ব্যাখ্যা) অ্যাপ ডাউনলোড করতে পারেন। মনে রাখবেন, একবার নিজের জন্য লক্ষ্য ঠিক করলে, সেই লক্ষ্য যত ছোটই হোক না কেন, আপনার জীবনে পরিবর্তন আসতে শুরু করবে। এরপর আসছে পুনরুত্থান। সেই দিন প্রায় এসে গেছে যেদিন ঠোঁটকে সিল করে দেওয়া হবে আর হাত কথা বলতে শুরু করবে, এবং পা সাক্ষ্য দিবে। কোন কিছুই গোপন থাকবে না। শেষ বিচারের দিন পুরো মানবজাতিকে পুনরুত্থিত করা হবে আর কঠিন কষ্টের সময়ে প্রবেশ করবে। তো সেই দীর্ঘ দিনটিতে আমাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে?
জেনে নিন পরবর্তী এপিসোডে। কিয়ামতের দিন। দেখা হবে তৃতীয় পর্বে। কিছু লক্ষ্য করেছেন কী? এই ভিডিওটি দেখার সময় আপনি কোন বিজ্ঞাপন দেখতে পাননি। যেহেতু টোয়ার্ডস ইটার্নিটি একটি অলাভজনক সংস্থা, আমরা শুধু আপনার সাহায্যের মাধ্যমেই এই ভিডিওগুলো তৈরি করতে পারি। আপনি যদি এই ভালো কাজের অংশ হতে চান, টোয়ার্ডস ইটার্নিটিতে দান করুন আর এই সুবর্ণ সুযোগটি হাতছাড়া করবেন না।