Towards Eternity
ব্লগে ফিরে যান

Mom or Wife? | How Can We Get Married Without Flirting? - Ali Dawah & Marriage Questions

প্রকাশের তারিখ

YouTube-এ দেখুন

- আসসালামু আলাইকুম ভাই ও বোনেরা, আসলে, ভাইয়েরা আমার কাছে আসে কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞেস করার জন্য, আজ আমরা একে একে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করব। এটা ঠিকমত ভাঁজ করা হয়নি, তাই আমি প্রথমে এটাই দেখব। যদি একজন পুরুষ তার মা ও স্ত্রীর মাঝখানে আটকে যায়, তখন সে কার পাশে দাঁড়াবে? আমাকে এসব প্রশ্ন করবেন না। পরের প্রশ্ন? + ও এটা মনে হয় কঠিন প্রশ্ন। - তার মা আর তার স্ত্রীর মধ্যে। আমার মতে এই প্রশ্নটা মিথ্যা। ভুল প্রশ্ন। আমার মতে একটি অথবা আরেকটি বেছে নেয়া কোনো মতামত হতে পারে না। আপনি কাকে বেছে নিবেন?

কারণ আপনি দুজনের সাথেই সমঝোতায় আসতে পারেন। আর এমন পরিস্থিতিতে, মাঝে মাঝে এটি নির্ভর করে কী নিয়ে দ্বিমত হয়েছে তার উপর। কিন্তু আমি একটা কথাই বলবো আপনার স্বামী বা স্ত্রী যেই হোক আপনার পরিবারের কাছে গিয়ে, আপনার জীবনসঙ্গীর নামে অভিযোগ করবেন না। এটা করলে যা ঘটবে তাকে নিয়ে আপনার পরিবারের মধ্যে খারাপ ধারণা তৈরি হবে। এভাবে আপনি উভয়ের মধ্যে ফিতনা সৃষ্টি করছেন। যাই ঘটুক, সেটি গুরুতর না হওয়া পর্যন্ত আপনার মা-বাবাকে জানাবেন না। কিন্তু পরিবারের মধ্যে কোনো সমস্যা দেখা দিলে, সেই ছোটো হোক বা আর যাই হোক, আমি সেটা ব্যক্তিগতভাবে আমার স্ত্রীকে বলব, দেখুন, মাঝে মাঝে আমার মা ভুল করে যেভাবেই হোক না কেন, করে কিন্তু দেখুন, সে আমার বড়ো, তাই আমাকে সবসময় সর্বোচ্চ সম্মান ধরে রাখতে হবে। যতক্ষণ না পর্যন্ত এটি আমার অধিকার ভঙ্গ না করছে, যতক্ষণ না পর্যন্ত আপনার মা আপনাকে মারধর না করছে আর বলছে শোনো তোমার এটা করতেই হবে, যতক্ষণ না পরিস্থিতি এমন হচ্ছে আর আল্লাহ যেভাবে বলেছেন, সেভাবেই ন্যাযতা বজায় রাখুন আপনার মতের বিপক্ষে গিয়ে হলেও। যদি আপনি দেখেন আপনার মা আপনার স্ত্রীকে অত্যাচার করছে, তখন আপনি ভদ্রতা ও বিনয়ের সাথে আপনার মাকে বলবেন, এটা ভুল। এটা অন্যায়। যদি এর বিপরীত হয়, তখন আপনি আপনার স্ত্রীকে বলবেন কারণ ব্যাপারটা যাই হোক, স্ত্রীর জন্য মাকে অসম্মান করাতে আসলে আদব বা শিষ্টাচারের ঘাটতি প্রকাশ পায়। এটা খুবই জরুরি। এ নিয়ে আপত্তি করতে পারবেন না। শাশুড়ি খারাপ হতে পারে, তবুও আপনি স্বামীর সাথে কথা বলুন। যদি কোনো সমাধান না হয়। তখন আপনার পরিবারকে যুক্ত করুন। কিন্তু আমি বলব এটা কাকে রেখে কাকে বেছে নিবেন তেমন বিষয় নয়। আপনি কাওকে বেছে নিবেন না তারা দুজনই আপনার জীবনের অংশ। এখানে গুরুত্বপূর্ণ হল তাদের দুজনকে নিয়েই বেঁচে থাকা। তাই আমার মতে আমরা একজনের বদলে আরেকজনকে বেছে নিতে যাব না। ঠিক আছে। আপনাকে যদি কেউ এমন প্রশ্ন করে তখন আপনি তাকে কী বলবেন, "আমি বিয়ে করতে চাই?

কিন্তু আমার টাকা নেই।" আচ্ছা, আমি কী বলবো সেটা বাদ দিন। আল্লাহ কুরআনে বলেছেন যদি তুমি দারিদ্রকে ভয় পাও। সেক্ষেত্রে এক আল্লাহ তোমাকে সম্পদশালী করবে। এক আল্লাহ সবকিছুই দিবে তাই আপনাকে যেটা বুঝতে হবে যদি এই বিশ্বের প্রতিটি জীবন্ত সৃষ্টি বেঁচে থাকতে পারে আর আপনার দেখাশোনা করতে পারে। তাহলে আল্লাহ কেন আপনাকে দেখবে না অর্থাৎ আল্লাহ আপনাকে সব দিবে, কিন্তু আপনাকে বাইরে বেরুতে হবে আপনি টাকার আশায় ঘরে বসে থাকলে চলবে না। আল্লাহই আপনাকে সম্পদ দানের মালিক এবং আপনাকে একটি উপায় করে দিবেন। সব পথই খোলা আছে আপনাকে শুধু নিজের চেষ্টাটা দিতে হবে। তাই ভাববেন না...

যদি টাকা না থাকে, সেক্ষেত্রে আল্লাহ বলেন যদি তুমি আমাকে ভয় কর, আমি তার প্রতিদান দিব আল্লাহই দেওয়ার মালিক। তাই আপনি আপনার সর্বোচ্চ দিন আল্লাহ আপনাকে ধীরে ধীরে সম্পদ দান করবেন ইনশাআল্লাহ আর আমাদের আসলে মৌলিক জিনিসগুলো দরকার। আমাদের কোথাও থাকা দরকার। খাওয়ার জন্য খাবার দরকার। কিন্তু আমরা যা করি আমরা আরো বেশি পেতে চাই, যেকারণে আমরা সমস্যায় পড়ি। আমার বিয়ে করতে ৬০,০০০ টাকা লাগবে। আমার একটা গাড়ি লাগবে। আমার এখানেই যেতে হবে এভাবে আপনি নিজের জন্যই সমস্যা সৃষ্টি করছেন। আল্লাহ আমাদের মৌলিক জিনিস এবং, আপনার যা দরকার সেটাই দেন। তাই যতক্ষণ পর্যন্ত আপনার এসব আছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি গরীব না ভাই বিশ্বাস করেন, আর বিশেষ করে যদি আপনি পশ্চিমে বাস করে থাকেন, তাহলে আপনি কিভাবে গরীব হন সেটা আমার জানা নেই। পরের প্রশ্ন। শেষ কবে আপনি আপনার স্ত্রীকে উপহার দিয়েছেন?

আপনি আমাকে এই প্রশ্ন কেন করছেন? উপহার... উপহারের প্রসঙ্গ এলে, আমি ভাইদের বলি, ভারসাম্য রাখবেন কারণ আপনাকে এটা বুঝতে হবে আমরা মানুষ। আমরা খুব তাড়াতাড়ি বিরক্ত হয়ে যাই। ঠিক আছে। আপনি বিয়ের আগে বা পরে প্রতি সপ্তাহে উপহার কিনলেন আর ভাবলেন, ওহ, আমি সেই রোমান্টিক মানুষ, আমি রোমিও। আমি প্রতি সপ্তাহে ফুল কিনি। আপনি এভাবে আসলে আপনার স্ত্রীর প্রত্যাশা বাড়াচ্ছেন, যখন আপনি কোনো উপহার দিবেন না তখন সে ভাববে নিশ্চয় কোনো সমস্যা হয়েছে। তাই... + আলি ভাই, আমরা আপনার উত্তরে সন্তুষ্ট না। - মানে, আপনি আসলে আমাকে কী বলতে চাচ্ছেন? + প্লিজ মূল পয়েন্টে আসুন। - পয়েন্টটা খুবই সহজ। যদি অপরিহার্য অস্তিত্ব, স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলি...

আপনি যদি আটকে যান, তাহলে আপনাকে প্রসঙ্গ বদলাতে হবে। স্বাধীন, স্বয়ং-সম্পূর্ণ। আপনি, আমার বন্ধু, এমন প্রশ্ন জিজ্ঞেস করছেন যেটা এক্ষেত্রে ভুল। ধরুন, বিগ ব্যাং থেকে এই মহাবিশ্বের সূচনা হয়েছিল, এবং এটি শূণ্য থেকে এসেছে। চলুন পরের প্রশ্নে যাই। + দার্শনিক কথাবার্তা না বলে একটা স্পষ্ট উত্তর দিন। - এককথায়। যদি আপনি বিবাহের ডকুমেন্টারিটা দেখেন শেষ পর্যন্ত মনে হয় পার্ট আট আপনি বুঝতে পারবেন যে আমি আসলে উপহার কিনি তবে আপনার মনে হবে উত্তরটা জানার জন্য আপনার বিবাহের ডকুমেন্টারিটা দেখা কতটা প্রয়োজনীয় হবে। + অনেকদিন হয়ে গেছে আপনি তার জন্য উপহার কিনেছেন। - না, আমি তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, সে আমাকে প্রতিদিনই দেখতে পায় বাড়িতে কার প্রভাব বেশি?

সত্যি বলতে এটা নির্ভর করে যদি আমি বক্তার জায়গা থেকে বলি তাহলে এটা আমি। তখন সে আমাকে শান্ত হতে বলে এর আগের দিন তার প্রভাব বেশি ছিল। হ্যাঁ এটা নির্ভর করে। কখনো আমি, কখনো সে। আমাদের সমতা রাখতে হবে। + এটি একটি কুটনৈতিক উত্তর। - এটাই হবার কথা। মাঝে মাঝে আপনাকে কুটনৈতিক হতে হবে সবাইকে খুশি করার জন্য। আপনি কিভাবে দুই বিয়ের মধ্যকার সমস্যা সমাধান করেন?

"...দুই জনের মধ্যকার?" দুঃখিত, দুই বিয়ে দুঃখিত আমার মাথায় বহুবিবাহের চিন্তা এসেছিল হ্যাঁ, ''কিভাবে আপনি দুই জনের মধ্যকার সমস্যা সমাধান করেন?'' আর দুই বিয়ে নয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এর কারণ ভুল বোঝাবুঝি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল দুজনের সবচেয়ে ভালো দিকটা অনুমান করা বেশিরভাগ সময়ই আমার স্ত্রীর সাথে তর্ক হবার পর আমি উপলদ্ধি করেছি, আমি বা সে, দুজনেরই একটা অনুমান ছিল তাই কিছু ঘটার পর আমি সবচেয়ে খারাপ দিকটা অনুমান করেছি অথচ ব্যাপারটা তেমন ছিল না। তাই সবচেয়ে ভাল কাজ হল আপনার সঙ্গীর সবচেয়ে ভালো দিকটা মাথায় রাখা তখন আর আপনার মনে হবে না, ও, তাহলে সে এইজন্য এটা করেছে, তখন আপনার সবচেয়ে ভালোটাই মনে পড়বে। মনে হবে হয়তো সে কোনো ভালো উদ্দেশ্যেই এটা করেছে। তখন আপনি এটা নিয়ে বিচলিত হবেন না তখন বিষয়টা ব্যাখ্যা করার পর তার মনে হবে ''ওহ, কিন্তু আমি জানতাম না।'' তুমি আরো ভালো জানো। আমার ক্ষেত্রেও তাই। খারাপ কিছু ধরে নিয়ে তর্কে না জড়িয়ে সবচেয়ে ভালো কিছু ধরে নেয়া গুরুত্বপূর্ণ তাহলেই আপনি দেখতে পাবেন এটা আসলে অন্য কিছু যা মোটেও খারাপ কিছু নয়। তাই আমার মতে আপনি সবচেয়ে ভালো দিকটা মাথায় রাখলেই তর্কের সৃষ্টি হবে না তখন আপনি খতিয়ে দেখবেন নম্রভাবে জিজ্ঞেস করবেন। যেমন বলবেন, এমন হওয়ায় আমি একটু চিন্তিত। তুমি কেন এটা করলে?

যাইহোক.. আচ্ছা, এই এই কারণে ওহ ঠিক আছে। তাহলে আমার মতে বিবাহিত জীবনে ভুল বোঝাবুঝি সবচেয়ে খারাপ দিকটা ধরে নেওয়া হল একটি বড় সমস্যা আপনার স্ত্রীর সাথে আপনার পরিচয় কিভাবে হল?

আমি তার সাথে পরিচিত হই এবং এর প্রায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা থেকে বারো ঘণ্টার মধ্যে কোনো একটা সময় মনে হয় এক দিনের অর্ধেক যাবার পরই আমি তাঁর বাবার সাথে কথা বলি এটা ছিল খুবই অল্প সময় এটা বেশ চমকপ্রদ কেননা এটাই বেশি কঠিন ছিল যখন আমি বুঝতে শুরু করেছিলাম যে বিয়ের জন্য কোনো বাবার সাথে কথা বলাটা কঠিন যেমন কিছু বোন এমন আছেন যারা বলবেন আমি তার বাবার সাথে কথা বলার জন্য কিন্তু অনেকেই আবার এটা নিয়ে কালক্ষেপণ করে তাই আমার কাছে এটা ছিল একটা বড় ধাক্কা আমি কেন সেই ধাক্কা পেয়েছি তার সবকিছু ব্যাখ্যা করেছি আর যখন সে বলল আপনি আমার বাবার সাথে কথা বলতে পারেন, একথা আমি আসলেই বিশ্বাস করতে পারিনি আর আমি ভেবেছিলাম, এটা আসলে প্রতারণা আমার মনে হয়েছিল হয়তো অন্য কেউ তার কোনো বন্ধু বাবা সাজার ভাণ করবে কিন্তু আসলেই তার বাবা কথা বলেছিল আর তাই এটা চমৎকার। কিন্তু আপনি ডকুমেন্টারি দেখবেন। আমি দুঃখিত, আমি এর মধ্যে যাব না এটা করতে পারব না আমি খুবই দুঃখিত যতক্ষণ না আমি কপিরাইট পাচ্ছি, বিয়ে করেছেন বলে আপনার কি কখনো আফসোস হয়েছে?

আমি দুঃখিত। এটা বেশ বেশ ভালো ডকুমেন্টারি প্রশ্ন এই প্রশ্ন... এটা বেশ জটিল প্রশ্ন আর + এটা হ্যাঁ বা না বোধক প্রশ্ন। - তেমন না, তেমন না কারণ এখানে বিষয়টা হল এর পেছনে একটা পুরো গল্প আছে। ব্যাপারটা একটু জটিল। আমি বিয়ে করা নিয়ে আফসোস করি না আমি এটা এভাবে বলবো একবার আমি করেছিলাম এবং এরপর আমি আর মোটেই করিনি। আর এটা কেন তা ডকুমেন্টারি থেকে খুঁজে বের করার জন্য আপনাকে এটি অবশ্যই দেখতে হবে। জীবনসঙ্গী বাছাই করার সময় আমাদের কোন বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখা উচিত? এটা খুবই ভালো। বেশ ভালো ডকুমেন্টারি প্রশ্ন। আপনি কোন বিষয়টা লক্ষ্য করবেন?

আমি বলবো সবচেয়ে ভালো ধারণা করার ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে অতিরিক্ত পরিহার করতে হবে এমন কিছু মানুষ আছে যাদের সাথে আপনার দেখা হবে তারা বাইরের বেশভূষা, আচরণ হয়তো ধর্মীয় হবে কিন্তু কখনোই কাউকে কেমন দেখাচ্ছে অথবা সে কী বলল তার উপর ভিত্তি করে কাউকে বিচার করবেন না ধরুন সে কোনো বোন আর তার সব কথার পরের শব্দ হল আলহামদুলিল্লাহ, সুবহানাল্লাহ, আল্লাহু আকবর ইত্যাদি। আমার মতে এর কোনো অর্থ নেই অথবা যদি কোনো ভাই ফোব পরে বা একটি নির্দিষ্ট বেশভূষা ধারণ করে যেটা খুব ইসলামিক দেখায় কোনো ব্যক্তিকে কেমন দেখাচ্ছে তার উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিবেন না। একজনকে কেমন দেখায় বা সে কী বলে বা তার কথা কেমন শোনায় তার উপর ভিত্তি করে বিয়ের সিদ্ধান্ত?

কখনোই এমন সিদ্ধান্ত নেবেন না। আমি আমার ডকুমেন্টারিতে ব্যাখ্যা করবো আপনার মেয়ের বয়স যদি ২০ বছর হত তাহলে আপনি তাকে কী বলতেন? আসলেই চমৎকার প্রশ্ন। + আপনার একটা মেয়ে আছে তাইনা?

- হ্যাঁ আমার দুই জন মেয়ে আছে আমার মনে হয় আমি তাদের মূল যে জিনিসটা বলবো সেটা হল তুমি ইসলাম অনুযায়ী জীবনযাপন কর। তুমি আল্লাহর হক দাও আল্লাহর সাথে সম্পর্ক ঠিক রাখার জন্য এবং আল্লাহ তোমার জীবনের সম্পর্ক ঠিক করে দেবেন কারণ আমি মনে করি এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ তরুণদের জন্য এবং তাদের জন্য যাদের বয়স ২০ বছর তাদের বোঝার জন্য তারা তরুণ এবং তারা তাদের জীবনের পরিকল্পনা করছে আর সবচেয়ে ভালো পরিকল্পনাকারী হলেন আল্লাহ। তাই ভাববেন না যে এটি আমার জন্য আমি করতে পারি হ্যাঁ এটা গুরুত্বপূর্ণ আমরা মহানবী (সা) এর হাদিস থেকে জানি তোমাকে তোমার উট বাঁধতে হবে এবং আল্লাহর ভরসায় থাকতে হবে কিন্তু আমি বলব: হ্যাঁ, আপনি আপনার চেষ্টা করুন কিন্তু মূল পরিকল্পনা আল্লাহর কাছ থেকেই আসবে তাই নিশ্চিত করুন যে আপনি তাঁর হক আদায় করছেন আর মহানবী (সা) এর একটি হাদিস আছে যখন তিনি মুয়াজ ইবনে জাবালের সাথে ভ্রমণ করছিলেন। তখন মহানবী (সা) মুয়াজ ইবনে জাবালকে জিজ্ঞেস করেছিলেন ''হে মুয়াজ, তুমি কি জানো বান্দার উপর আল্লাহর হকগুলো কী কী?'' তিনি উত্তর দিলেন: আল্লাহ এবং তাঁর বার্তাবাহকই সবচেয়ে ভালো জানে।'' মহানবী (সা) বললেন: ''সেটা হল আপনি কেবল তাঁর এবং একমাত্র তাঁরই ইবাদত করবেন।'' তখন তিনি বললেন, ঠিক আছে। এবার মহানবী (সা) বললেন: হে মুয়াজ তুমি কি জানো আল্লাহর উপর বান্দার হকগুলো কী?

তিনি আবারো উত্তর দিলেন: আল্লাহ এবং তাঁর বার্তাবাহকই সবচেয়ে ভালো জানে। মহানবী (সা) বললেন যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি কেবল তাঁর ইবাদত করছেন ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি আপনাকে কখনোই শাস্তি দিবেন না। তাই আমি আমার তরুণী কন্যাকে এটাই বলব, আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখো এবং নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে কাজ কর কিন্তু মূল বিষয়টা হল আল্লাহকেই তোমার জীবনের পরিকল্পনা করতে দাও এবং তাওহিদে বিশ্বাস রেখেই জীবনযাপন ও মৃত্যুবরণ কর। আপনি কি আপনার স্ত্রীকে বাড়ির কাজে সাহায্য করেন?

হ্যাঁ। যদি করার দরকার হয়। এটা খুব স্পষ্ট করে বলছি, আমি এমন প্রকৃতির কেউ না: হ্যাঁ আমি পরিষ্কার করি আমি এজন্য দুঃখিত যদি আমার যদি আমি কাজ করি যদি আমি কাজ করতে যাই এবং আট-নয় ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে কাজ করি তখন আমি বাড়ি পরিষ্কার করতে পারবো না কিংবা আমি সেটা করতে যাব না আমি ক্লান্ত, আমি বাসায় এবং আমি অবশ্যই স্বাগত জানাবো আলহামদুলিল্লাহ আমার স্ত্রী আমার মনে হয় সবচেয়ে চমৎকার খাবার বানায়। হ্যাঁ সেরা খাবার। আমি বাসায় এসে করতে থাকব না যদি না সে অসুবিধায় পড়ে যদি আমি দেখি যেমন সে বাচ্চা সামলাচ্ছে বাচ্চা শান্ত হচ্ছে না, ইত্যাদি অবশ্যই আমি এসে সাহায্য করবো কিন্তু সংক্ষেপে এই সব কিছু আমি বাইরে যাবো, কাজ করবো, উপার্জন করবো এবং বাসায় এসে রান্না করবো এবং পরিষ্কার করবো আমি বলছি না যে এটা পুরুষের কাজ না আমি বলতে চাচ্ছি একটা ভালো ভারসাম্য আছে আমি আমার দায়িত্ব পালন করছি আমি যেটা বলতে চাচ্ছি আমি বাসায় এসে পরিষ্কার ও ঝাড়া মোছা করবো না আমি এটা করবো না যদি আমি একটা ছুটি পাই তার সাহায্য লাগলে ১০০% করবো যদি আমি দেখি ১০০% কিন্তু আমি আসবো না। আমার কাজ শেষে এরপর পরিষ্কার করা শুরু করতে। + আপনি কি কখনো থালাবাটি ধুয়েছেন?

- হ্যাঁ আমি করি আসলে যদি আমার স্ত্রী আমাকে কিছু করতে বলে আমি থালাবাটি ধুতে পছন্দ করি অথবা যখন আমি বলি যে আমি পরিষ্কার করবো। কোনো সমস্যা নেই। আমি পরিষ্কার করতে পছন্দ করি, এটা সহজ। আমি একটা রেস্টুরেন্টে পরিষ্কার করতাম আমি একটা রেস্টুরেন্টে কাজ করতাম তাই এটা নিয়ে আমার কোনো সমস্যা নেই। সুখী বিবাহের গোপন রহস্য কী?

এটা, এটা একটা, বিশাল উত্তর বন্ধু। ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয় এটা ছিল আমি এরকম একটা ছবি দেখেছিলাম যাইহোক আমি অলৌকিক কিছু করছি না এটা তেমন বিষয় না, বা এরকম একটা ত্রিভুজের মতো, এর এক বাহু স্ত্রী আর আরেক বাহু স্বামী শীর্ষবিন্দু হল আল্লাহ, তারা আল্লাহর যত কাছাকাছি যাবে তাদের সম্পর্ক ততটাই ভালো হবে তারা আল্লাহর কাছ থেক যত দূরে সরে যাবে তাদের মধ্যে তত বেশি দূরত্ব তৈরি হবে আমার কাছে ব্যাপারটাকে চমৎকার মনে হয়েছে কেননা প্রকৃত সুখ ও বারাকাহ (আশীর্বাদ) আল্লাহর কাছ থেকে আসে। শেষ পর্যন্ত এক আল্লাহই আপনার কাছে সেই মানুষকে এনে দিবে যে আপনার জন্য ভালো ইনশাআল্লাহ, আল্লাহ আপনাকে খারাপ সঙ্গী দিয়ে পরীক্ষা করতে পারে এর মাঝে ভালো কিছু থাকতে পারে আমি কী বলতে চাচ্ছি তা কি বুঝতে পেরেছেন?

এখানে ব্যাপারটা হল আমি বিশ্বাস করি যে একমাত্র আল্লাহ তা'আলা সবশেষে আপনার জীবনে শান্তি বর্ষন করবে এবং আপনার জীবনের জন্য ভালো এমন একজন সেরা সঙ্গীকে এনে দিবে এজন্যই আমরা ইস্তেখারার নামাজ পড়ি এটা করার সময় আপনাকে যে মূল বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে সেটি হল আল্লাহর সাথে আপনার সম্পর্ক। আল্লাহর সাথে নিজের সম্পর্ক ঠিক করুন, যা সঠিক তাই করুন। কবীরা গুনাহ থেকে বিরত থাকুন। তাহলেই আল্লাহ তা'আলা আপনার জন্য এমন কাউকে এনে দিবেন। আমাদের অনেকেই এটি এমন যুক্তি দিয়ে চিন্তা করি ওও আমি যদি আমার চুলটা একটু দেখাই তাহলে আমি কাউকে পেয়ে যাব অথবা আমি যদি ড্রাগ কেনাবেচা করি আর একটা সুন্দর গাড়ি নিই তাহলে কোনো মেয়েকে পেয়ে যাব এগুলো সব আসলে নাকলের উপরে আকলের ব্যবহার করা। এটাই ছিল ইবলিশের ভুল কারণ আল্লাহ তাকে বলেছিল আদমের সামনে মাথা নত করতে এটা হল নাকল। আল্লাহ যখন আপনাকে কোনো আদেশ দেন, তখন সে আকল প্রয়োগ করে যেটা আল্লাহ তাকে দিয়েছেন আর সে বলেছিল: "না আমি তার চেয়ে উত্তম।'' তাই আমরা যৌক্তিক জিনিসগুলো নিয়ে ভাবার সময় আপনি কী করতে পারেন সেটা আমি ভুলে যাব আল্লাহর কাছে সাহয্য চেয়ে দেখবো তিনি কী করেন আর আমাদের কাছে এই শেষ প্রশ্নটা আছে: আপনি কি মনে করেন যে এই সময়ে এবং বয়সে আমরা ফ্লার্ট না করে বিয়ে করতে পারি?

কিভাবে আমরা ফ্লার্ট না করে সম্ভাব্য জীবনসঙ্গীকে জানতে পারি? আমার পুরো বিয়ের ডকুমেন্টারি এট নিয়েই করা?

একজন অর্থোডক্স ইসলাম অনুসারী মুসলিম পুরুষ হিসেবে বিয়ের জন্য ফ্লার্ট না করে কোনো বোনকে কিভাবে চেনা যায় তা আমি কিভাবে জানব যখন আপনি ফ্লার্ট করছেন তখন আপনি এমন কিছু করছেন যা সীমা অতিক্রম করছে এবং এটি অন্য কোথাও গিয়ে শেষ হবে একারণে আল্লাহ কোরআনে বলেন ''জেনার ধারেকাছেও যাবে না।'' তাই ফ্লার্ট করা হল শয়তানের দিকে পা বাড়ানো, সে আর ফিরতে দিবে না, বলবে আসো জেনা কর। আসো একটু মজা কর সে বেশ মজার, তুমিতো হ্যান্ডসাম পুরুষ আরে তুমি এই মেয়েদের হাসিয়েছো ওয়াও আরো চালিয়ে যাও চালিয়ে যাও পরের ধাপে চালিয়ে যাবার মানে তুমি অন্য কোনো দিকে চলে যাবে। এখানে ব্যাপারটা হল বিয়ে করার জন্য আপনার ফ্লার্ট করতে হবে না কে বলেছে বিয়ে করার জন্য ফ্লার্ট করতে হবে এবং কাওকে জানার জন্য হালাল পদ্ধতিতে ফ্লার্ট করা অনুমোদনযোগ্য আমি বিয়ে করার উদ্দেশ্যে বোনদের চেনার চেষ্টা করতাম আমি তাদের সাথে তিন চারবার দেখা করেছি কিন্তু পাবলিক প্লেসে কয়েকজন পরিবারের সদস্যকে সাথে নিয়ে এমনকি আমরা হাঁটছিলাম আর তারা আমাদের পেছন পেছন হাঁটছিল পুরোটাই ইসলাম অনুসারে করা হয়েছে এবং আপনি এই ফোনে কথা বলা, টেক্সট করা, কিভাবে তাকে জানবেন, এসবকিছু কিভাবে করবেন তার বিস্তারিত জানাচ্ছি কারণ আপনার তাকে জানা দরকার এটা কিভাবে করবেন তা জানা দরকার কিভাবে সবকিছু সঠিকভাবে করবেন তা জানা দরকার আর কোনো প্রশ্ন বাকি নেই দেখতেই পাচ্ছেন এটা খালি যারা বিয়ে করতে চাচ্ছেন তাদের আমি ব্যক্তিগতভাবে উপদেশ দিব আপনাকে এটা বুঝতে হবে এই সমস্ত রোমিও জুলিয়েট হলিউড আর বলিউডের ধারণা আর বিশেষ করে আমাদের তুর্কিশ মুভির এত গুরুত্ব এর যা কিছু আপনি দেখছেন সবই ভুয়া তারা আপনাকে বিয়ে সম্পর্কে মিথ্যা ধারণা দিচ্ছে আর ভালোবাসা এইসব রোমিও জুলিয়েট ব্যাপার স্যাপার সম্পর্কে যেভাবে জানছেন এইসবই ভুয়া, এসব দেখা আর সুপারম্যান দেখা একই কথা সুপারম্যান তার জিনিসপত্র নিয়ে বিল্ডিং এর উপরে উঠে যায় এরপর লাফ দেয় এটা দেখে আপনিও একই কাজ করতে গেলে মরে যাবেন ভাই আপনি বললেন আমি সুপারম্যান, ওহ কেন?

কারণ আমি দেখেছি সুপারম্যান একই কাজ করেছে, হলিউডে তুর্কিশ মুভিতে এসব দেখবেন না আর বাস্তবে প্রত্যাশা করবেন না কারণ বাস্তবে এমনকিছু ঘটে না তাই আমি এটা মনে রাখতে বলবো একজন ভুল মানুষের সাথে বিয়ে আপনাকে জানে শেষ করে দিবে হ্যাঁ সত্যিই এটা আপনাকে শেষ করতে পারে এটি হতে পারে আত্মিকভাবে, মানসিকভাবে এমনকি শারিরীকভাবেও শেষ করে দিতে পারে সঠিক মানুষকে খুঁজে বের করাই সঠিক কাজ তাই আমি জোর দিয়ে বলব সতর্ক হোন আর বিবাহের ডকুমেন্টারিটি দেখুন এই বিয়ে বিষয়ক ডকুমেন্টারি দেখার পর ইনশাআল্লাহ আপনি একজন ভালো স্ত্রী খুঁজে পেতে চলেছেন এবং যদি আপনি বিবাহিত হন তাহলে আপনি দ্বিতীয় স্ত্রী খুঁজে পেতে চলেছেন আর দ্বিতীয় থাকলে তৃতীয় জনকে আর তৃতীয় জন থাকলে চতুর্থ স্ত্রীকে খুঁজে পাবেন এবং যদি আপনার চারজন স্ত্রী থাকে তাহলে আপনি উপপত্নী পাবেন আমি মজা করছি ক্যামেরা চালু আছে