Philosopher Atheist VS Muslim Debate! Did He Convert?
প্রকাশের তারিখ
-মানুষ হলো স্রষ্টার সৃষ্টি করা বাদ্যযন্ত্র। কিন্তু স্রষ্টা কখনো এই বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করতে পারবেন না কারণ তিনি এটি থেকে সঠিক শব্দ বের করতে পারেন না। লোকেরা যা ইচ্ছা তাই বিশ্বাস করে। বিজ্ঞান এটা করে, স্রষ্টা নয়। এগুলো মানুষের তৈরি। মানুষ এগুলো তৈরি করেছে। বিজ্ঞান ইতোমধ্যেই এটা আমাদের ব্যাখ্যা করেছে। যেহেতু আমরা এসব ব্যাখা জানি তাই এগুলো আমাদের কাছে আশ্চর্যজনক মনে হয় না, অন্তত আমার কাছে। +যদি আপনি অকাট্য প্রমাণ শোনেন তাহলে কি আপনি মত পাল্টাবেন? -স্রষ্টা আছেন এই কথা কেউই বলতে পারবে না। +কিন্তু কাণ্ডজ্ঞান ও যুক্তি বলে যে একজন স্রষ্টা থাকতেই হবে। চলুন আমরা কাকে স্রষ্টা বলছি সেটা দেখা যাক... -সেই সত্ত্বা আমরা নিজেরাই। +ব্রায়ান, আপনি কী করেন? আপনি কি লেখাপড়া করেন?
-হ্যাঁ, আমি আমার শেষ বর্ষে আছি। +তাহলে আপনার মতামত কি? আপনার ধর্ম কী? -আমি মনে করি ধর্ম হলো প্রাচীনকাল থেকে চলে আসা একটি সংস্কৃতি। আমি বলছি না যে স্রষ্টা আছেন, আর আমি এটাও বলছি না যে স্রষ্টা নেই। কেউই আসলে এটা সম্পর্কে কিছু জানে না। কেউই এটা বলতে পারবে না যে একজন স্রষ্টা আছেন। +আমি যদি আপনার যুক্তি ও মননের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ প্রমাণ আপনাকে দেখাতে পারি তাহলে কি আপনি মত পাল্টাবেন? যদি আপনি অকাট্য প্রমাণ শোনেন তাহলে কি আপনি মত পাল্টাবেন?
-আমি হয়তো স্রষ্টার অস্তিত্ব সম্পর্কে আমার মত পরিবর্তন করব, কিন্তু আমি স্রষ্টার উপাসনা করব না। যদি একজন স্রষ্টা থাকেন, তাহলে আপনি বলছেন যে অবশ্যই শৃঙ্খলা থাকতে হবে। কুরআনেও এটির উল্লেখ আছে। এটাকে একটি নিখুঁত শৃঙ্খলা বলা হয়েছে, কিন্তু আমি শৃঙ্খলা আছে বলে মনে করি না। +একসঙ্গে আমরা প্রমাণ করব যে শৃঙ্খলা বিদ্যমান আছে। আমরা সেই পদক্ষেপটি গ্রহণ করব। ধরা যাক এটা ত্রুটিপূর্ণ। ধরা যাক এটা একটা জটিল ব্যবস্থা। নক্ষত্রগুলো এখানে ওখানে দেখা যাচ্ছে, এবং চাঁদের সাথে প্রতিনিয়ত সংঘর্ষ ঘটছে। ধরা যাক এটা একটা বিশৃঙ্খল অবস্থায় আছে এবং আমরা এখন যেভাবে দেখছি সেভাবে নেই। এমনটাই ধরা যাক। কিন্তু এরপরও এটা স্রষ্টার অনুপস্থিতি প্রমাণ করে না। এটা কেবল তার পছন্দের ব্যাপারটিকে পাল্টে দেয়। মনোবিজ্ঞানে স্নাতক বা স্নাতকোত্তরের মতো বিভিন্ন লেভেল আছে, মেডিসিন বা ইঞ্জিনিয়ারিং এর ক্ষেত্রেও তাই। আমরা বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখার কথাও চিন্তা করতে পারি। এটি এমন একটি সিস্টেম যেখানে মানুষ পড়ালেখার মাধ্যমে নিজেদের বিকশিত করে অন্যদিকে একই সময়ে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ঘটনা ঘটে চলেছে। তাই, নিশ্চিতভাবেই এখানে একটি শৃঙ্খলা বিদ্যমান কারণ যেখানে বিশৃঙ্খলা রয়েছে সেখানে কোনো ফর্মুলা থাকে না। আচ্ছা, আমি কিন্তু ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়েছি। ইঞ্জিনিয়ারিং অনেক ফর্মুলা আছে। উদাহরণস্বরূপ, একটা বিষয় আছে নিক্ষেপ নামে, যা সবচেয়ে সহজ বিষয়গুলোর মধ্যে একটি। ধরা যাক আমি এখান থেকে একটি পাথর ছুড়ে দিচ্ছি। আমি কত গতিবেগে সেটি ছুড়ে দিচ্ছি তার উপর নির্ভর করে, এটির ভ্রমণ করা দূরত্ব এবং এর জন্য এটির কত সময় লাগবে সেটা প্রভাবিত হবে। এটি নিচের পড়তে কত সেকেন্ড সময় লাগবে সেটা হিসেব করার জন্য একটি সূত্র তৈরি করা হয়েছে। এটি বেশ সুপরিচিত একটি বিষয়। পদার্থবিজ্ঞানে স্পষ্টভাবে এটির উল্লেখ আছে। এমন একটি বিশ্ব যা একটি সূত্র অনুযায়ী কাজ করে, একটি বিশ্ব ব্যবস্থা, অবশ্যই, আমাদেরকে শৃঙ্খলা দেখায়। এই সূত্র তৈরির ক্ষেত্রে কোনো বিশৃঙ্খলা আছে সেটা কি আমরা বলতে পারবো?
-এই শৃঙ্খলাতো মানুষের তৈরি। মানুষই এসব সূত্র তৈরি করেছে। +না। সূত্র কি আমরা তৈরি করেছি? সূত্র কে তৈরি করেছে? নিশ্চয়ই আমরা। +দুইটি বস্তুর মধ্যে আকর্ষণের হার, এখানে কী ঘটছে? এখানে সূত্র গঠন হচ্ছে। এখন বলুনতো আমি কি এই দুইটি বস্তুর একে অপরকে আকর্ষণ করবে এমন ব্যবস্থা করেছি?
-না। +না, আমি শুধু এটি পর্যবেক্ষণ করেছি। আমি বলেচি, দেখো, এরা একে অপরকে আকর্ষণ করছে, অথবা গ্রহগুলোর মধ্যে একটি আকর্ষণ কাজ করছে। এরপর আমি বললামম, যদি তাদের মধ্যে আকর্ষণ থাকে তাহলে এখানে একটা নিয়মও আছে। তো আমি বলছি যে একজন সত্ত্বা এই সূত্র ও শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ম ঠিক করে দিয়েছেন। আবারো, আমি নিশ্চিতভাবে দেখতে পাচ্ছি যে এখানে একটা শৃঙ্খলা আছে। ইতোমধ্যে এটা নিয়ে আমরা শৃঙ্খলা পর্যবেক্ষণ করেছি। আমরা একসঙ্গে দেখতে পাচ্ছি যে শৃঙ্খলা বিদ্যমান আছে। যদি আমি আপনাকে প্রমাণ দিতে পারি, 85 00:02:32,385 --> 00:02:33,019আমি প্রথমে যেমনটা বলেছিলাম যে এটা যৌক্তিক ও কাণ্ডজ্ঞানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ বিষয় তাহলে তাহলে এবার আপনার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়ে যাবে, তাই না?
-আমার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হবে, কিন্তু আমি নিশ্চিতভাবেই সে স্রষ্টার উপাসনা করব না। +ঠিক আছে, চলুন দেখা যাক। আমি আপনার কাছে স্রষ্টার অস্তিত্ব প্রমাণ করতে চাই। এরপর আমরা মূল্যায়নের দিকে তাকাবো। অর্থাৎ, যদি অপরিহার্য কারণগুলোর সম্মিলন না ঘটে তাহলে সেগুলো কাঙ্ক্ষিত ফলাফল উৎপন্ন করতে পারবে না। উদাহরণস্বরূপ, কল্পনা করুন যে আপনি একটি ট্রেন ট্র্যাকের উপর আছেন। ১০ বছর বয়সী একটা ছেলে তার পিঠে একটা দড়ি বেঁধে নিয়ে এক এক কদম করে ট্রেনটি টেনে নিয়ে যাচ্ছে। এখন আপনার চোখ বলছে হ্যাঁ, এই ছেলে এই বিশাল ট্রেনটি টেনে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আপনি কি এটা বিশ্বাস করেন? নাকি আপনি এটার পিছনে ভিন্ন কোনো শক্তি অথবা ভিন্ন কোনো কারণ খোঁজ করবেন? -আমি এটার পিছনে ভিন্ন কোনো শক্তি খোঁজ করব। +কেন?
কারণ এই বিশাল ট্রেনটি তার টেনে নিয়ে যাওয়ার পক্ষে পর্যাপ্ত যৌক্তিকতা নেই। তাই আমি অন্য একটি শক্তির উৎস, অথবা অন্য একটি সিস্টেমের খোঁজ করব যেটা আমার চোখে পড়ছে না, তাই না?
-হ্যাঁ। +ঠিক এই উদাহরণের মতোই, যখন আমরা মহাবিশ্বের দিকে তাকাই, আমি কারণ ও ফলাফলের দিকে তাকাই। এগুলোর মধ্যে একটি প্রচণ্ড ব্যবধান রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, আপনি ক্ষুদ্র একটি বীজের দিকে তাকান, আপনি এটা মাটিতে ছুড়ে দিচ্ছেন, আর এটা এর মধ্যে একটি বিশাল বৃক্ষকে বহন করছে। অথবা আমি একটা ডিমের দিকে তাকাই, একটা সাধারণ অচেতন একটি ডিম, কিন্তু আমি যখন এটার ফলাফলের দিকে তাকাবো, এটা থেকে একটা ময়ূর বের হতে দেখছি। এটা এমন একটা ফলাফল যা মানুষকে আশ্চর্য করে দেয় এবং তাদের মধ্যে ছবি তোলার আগ্রহ জাগায়। অথবা, উদাহরণস্বরূপ আমরা যদি বীর্যের দিকে তাকাই, যেটা হলো এক ফোঁটা পানি কিন্তু এই বীর্যের মতো বস্তুর ফলাফলের দিকে তাকালে আমরা আপনার মতো একজন ব্যক্তিকে দেকব। একটি নিখুঁত ব্যবস্থা, প্রতিসাম্য ও গোল্ডেন রেশিও ঠিক রেখে সাজানো, যার মধ্য থেকে একটি জীবন অস্তিত্ব লাভ করছে এবং শরীরবিদ্যা, জীববিজ্ঞান, ইত্যাদি গবেষণার বিষয়বস্তু হয়ে উঠছে। আমি কারণের দিকে তাকালে দেখছি, সাধারণ এক বিন্দু পানি, যেটাকে আমরা বীর্য বলছি। তাহলে দেখুন কারণের দিকে তাকান, আর এর ফলাফলের দিকে তাকান!
আমরা প্রথমেই একমত হয়েছি যে ১০ বছর বয়সী দুর্বল একজন শিশু, একটি দুর্বল কারণ, নিশ্চিতভাবেই ১০ টন ওজনের একটি ট্রেনকে বহন করতে বা টেনে নিতে পারবে না। আমরা বলেছি যে নিশ্চয়ই এর পিছনে অন্য একটি কারণ আছে। কার্যকারণ আমাদেরকে সেটাই বলছে। আমরা যদি এই মাত্র উল্লেখ করা কারণগুলোর দিকে তাকাই আমরা দেখছি এটা অতি সাধারণ ধরনের, এগুলো প্রাণহীন। এগুলো থেকে নিখুঁত কিছু বের হয়ে আসছে, যদিও কারণগুলোর কোনো প্রাণ নেই ও সচেতনতা নেই, যা মনের মধ্যে এই প্রশ্ন জাগায় যে: যদি এই কারণটি এটার জন্য দায়ী না হয়, তাহলে সত্যিকারের কারণ কী? এসব কারণের পিছনে কি তাহলে একটি ভিন্ন কারণ থাকা উচিত নয়, একজন স্রষ্টা, যা থেকে এই নিখুঁত ফলাফল উৎপন্ন হবে?
-আপনি এটা খুব ভালোভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। আপনি এটা নিখুঁতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। কিন্তু একটি বীজ থেকে গাছ তৈরি হওয়া অথবা শুক্রাণু থেকে মানুষ হয়ে উঠা - এর মধ্যে আমি আশ্চর্য হওয়ার মতো কিছু দেখছি না। বিজ্ঞান এটা করছে, স্রষ্টা নয়। +আমি বিস্মিত যে আপনি বলছেন আপনি আশ্চর্য বোধ করছেন না। কিছু প্রাণহীন বস্তু যেটা আপনি যাকে পানির ফোঁটা বলেন সেটার মধ্যে রয়েছে, যা মৌলিক পদার্থের পরমাণু নিয়ে গঠিত। এই পরমাণুর কি প্রাণ আছে? -পরমাণু প্রাণহীন। +প্রাণহীন বস্তু কীভাবে আমরা যেটা নিয়ে কথা বলছি সেটা তৈরি করতে পারে?
আমরা যে উদাহরণ উল্লেখ করেছি, সেটাতে ছেলেটির প্রাণ আছে, কিন্তু তবুও সে এটা করতে পারেনি। আর এসব ঘটনা যেগুলো নিয়ে আমরা কথা বলছি এগুলো প্রাণহীন। ধরা যাক এগুলোর প্রাণ আছে। এটা আসলে কোনো পার্থক্য করবে না। কিন্তু কীভাবে যেসব পরমাণুর কোনো ইচ্ছাশক্তি নেই, কোনো সচেতনতা নেই, কোনো মন নেই, বা শক্তি নেই সেগুলো এই ফলাফল তৈরি করতে পারে? এটা দেখে আমরা কীভাবে আশ্চর্য না হয়ে পারি?
-যখন কেউ কিছুটা গবেষণা করে বিজ্ঞান ইতোমধ্যে তাকে যথেষ্ট ফলাফল দিয়ে দেয়। যখন শুক্রাণু ডিমের মধ্যে প্রবেশ করে, কয়েক মিলিয়ন শুক্রাণুর মধ্য থেকে কেবল একটি ডিমের মধ্যে প্রবেশ করে। আর সেই শুক্রাণু একটি জীবিত বস্তু গঠনের জন্য বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া ঘটায়। বিজ্ঞান ইতোমধ্যেই এটা আমাদের ব্যাখ্যা করেছে। যেহেতু আমরা এটা জানি, এটা আমার কাছে আশ্চর্যজনক মনে হয় না। +তাহলে আমি জিজ্ঞেস করছি যে বিজ্ঞান যে কোনো কিছুর বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যাখ্যা দিচ্ছে সেটা এটি কীভাবে এসেছে সে উত্তর দেয় না। বিজ্ঞান জ্ঞানকে উপস্থাপন করে। এটি আমাকে যে ঘটনা ইতোমধ্যে ঘটে গেছে সেটা সম্পর্কে জানায়। উদাহরণস্বরূপ, এটিকে ক্যামেরার মেগাপিক্সেলের বিবর্তন হিসেবে চিন্তা করতে পারেন। এটা আগে ২ মেগাপিক্সেল ছিল, এরপরে এটা ২৪ হলো, আর এখন ৪৬ হয়েছে। আমরা এখন ক্যামেরা দিয়ে একটা শো করছি। কেন?
ক্যামেরা সিস্টেম বৃদ্ধি পেয়েছে। বিজ্ঞানকে এটার মতো করে চিন্তা করুন। বিজ্ঞান ক্রমবর্ধমানভাবে অগ্রসর হতে থাকে। এটি তথ্যকে উপস্থাপন করে। বিজ্ঞান কী করে? এটি আমাকে বিশদ ব্যাপারগুলো ব্যাখ্যা করে। তাহলে এটা কী করেছে? এটা ক্যামেরায় জুম করেছে। এটা জুম করেছে, জুম করেই গিয়েছে। আমি শুক্রাণুকে শুধু একটি পানির মতো বস্তু হিসেবে জানতাম। আমি জুম করলাম, আর এর ভেতরে কী আছে সেটা বুঝতে পারলাম। কোনো কিছুর উপর জুম করা সত্যকে বদলে দেয় না। প্রশ্নটা থেকেই যায়: এসব সাধারণ বস্তু থেকে কীভাবে এধরনের কিছু বের হয়ে আসতে পারে?
-আমরা আমাদের তৈরি করা একটি শৃঙ্খলার মধ্যে বসবাস করছি। আমরা ইতোমধ্যে প্রযুক্তি, বিজ্ঞান, দর্শন ও শিল্প নির্ভর হয়ে বাস করছি। অন্যকথায় বললে এগুলো কোনো অজানা সত্ত্বার দ্বারা প্রকাশিত হওয়া বিষয় নয়। শিল্প বা দর্শন অথবা জীববিজ্ঞান ইত্যাদির কোনোটাই সেরকম কিছু নয়। এগুলো স্রষ্টার তৈরি করা কোনো বিষয় নয়। এগুলো মানুষের তৈরি। মানুষ সেগুলো তৈরি করেছে। আপনি এগুলোকে একজন স্রষ্টার সাথে সম্পর্কযুক্ত করছেন, কিন্তু আমি এগুলোকে বিজ্ঞানের সাথে সম্পর্কযুক্ত করছি। +দেখুন, আমরা এখনো এটা ব্যাখ্যা করতে পারিনি যে এই কারণের ফলে কীভাবে এই ফলাফল তৈরি হচ্ছে। আপনি শুধু কারণ থেকে ফলাফলে যাওয়ার ধাপের কথা বলছেন, আর আমি বলছি যে কারণটি সোজাসাপ্টা কারণের ফলে তৈরি হওয়া ফলাফলটি নিখুঁত, এটি এই কারণকে নাকচ করে দেয়। এই কারণটি এটি করতে পারবে না। এরপর আমরা বলছি যে এটা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করছে যে যদি এই সাধারণ কারণটি এই নিখুঁত ফলাফল তৈরি করতে না পারে তাহলে এই কারণের পিছনে এমন একজন সত্ত্বা আছেন যিনি জানেন, সচেতন, বুদ্ধিমান, যার শক্তি ও জীবন আছে। আর এই সত্ত্বাকেই আমরা স্রষ্টা বলছি...
-সেই সত্ত্বা আমরা নিজেরাই। এটা আমরাই। +আপনি বলছেন এটা আমরা নিজেরাই, আর আমি বলছি, তিনি হলেন সেই সত্ত্বা যিনি আপনি যা পারেন না সেটা করতে পারেন এবং আপনাকে সৃষ্টি করতে পারেন। আপনি যদি বলেন আমরাই সেই সত্ত্বা, তাহলে আপনার ইচ্ছামতো যেকোনো সময়ে আপনার মানুষ সৃষ্টি করতে সক্ষম হওয়া উচিত। আপনার নিজেই একটি ডিম তৈরি করতে পারা উচিত এবং ইচ্ছামতো যেকোনো সময় সেটা থেকে একটি ময়ূর বের করে আনতে পারা উচিত। সবাই কি সন্তানের বাবা-মা হতে পারেন? -সবাই সন্তানের বাবা-মা হতে পারেন না। +তাহলে, আপনি যেমনটা বলেছেন, সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ যদি আমাদের হাতেই থাকতো, তাহলে যে কেউ তাদের যখন ইচ্ছা সন্তান নিতে পারতো। আপনি বলছেন যে আমরাই হলাম কারণ। আমরা এটা করছি। আপনি এই কারণের পিছনের কারণ হতে পারেন না। কেন?
আপনিতো ফলাফলের জন্য দায়ী কারণ। ফলাফল কীভাবে এটির নিজের কারণ হতে পারে? -উদাহরণস্বরূপ, আপনি কোনো কিছুর সাথে কারণগুলোর সংযোগ তৈরি করতে চান। আপনি সেই কারণে পিছনে থাকা কিছুকে খুঁজছেন। আর আপনি সেটাকে স্রষ্টা নাম দিচ্ছেন। +প্রথমে আপনি নিজেও খোঁজ করছিলেন, কিন্তু... আপনি সে শিশুটির পিছনে থাকা অন্য কোনো কারণ খোঁজ করছিলেন। -১০ বছর বয়সী একটা বাচ্চার ট্রেনকে টেনে নিয়ে যাওয়া এবং একটি বীজ থেকে গাছ তৈরি হওয়া দুটি ভিন্ন ব্যাপার। +পরেরটি বেশি নিখুঁত। এটা কি বেশি নিখুঁত নয়? আপনি কি এই ঘটনার চেয়ে বেশি নিখুঁত নন?
এটা বেশি আশ্চর্যজনক। ট্রেনের নিজেকে টেনে নেওয়া কেবল একটি বল প্রয়োগের ব্যাপার। এখানে, একটি সাধারণ বস্তু একটি জীবন্ত বস্তু তৈরি করছে। পাঁচশ ছিয়াত্তর মেগাপিক্সেল ক্ষমতাসম্পন্ন চোখ গঠন হচ্ছে। নিখুঁতভাবে শৃঙ্খলাবদ্ধ একটি সিস্টেম গঠিত হচ্ছে। প্রতিসাম্য তৈরি হচ্ছে, গোল্ডেন রেশিও গঠিত হচ্ছে। বিজ্ঞানের সূচনা করে এমন একটি সিস্টেম গঠিত হচ্ছে, যা মাস্টার তৈরি হওয়ার এবং ডক্টরদের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট চালু করার সুযোগ তৈরি করছে। নিশ্চয়ই এটা আরো বেশি আশ্চর্যজনক। কোথায় আপনি আর কোথায় সেই ট্রেন? এটা কি সত্যি নয়? -না। +আপনি কি এই কারণ ও ফলাফলের সম্পর্কের তুলনায় বেশি নিখুঁত নন?
আমি আপনার দিকে তাকিয়ে বেশি আশ্চর্য হচ্ছি। -নিশ্চিতভাবেই আমি নিখুঁত নই, কিন্তু একজন ১০ বছর বয়সী বাচ্চার ট্রেনটি টেনে নিয়ে যাওয়া একটি অসাধারণ ব্যাপার কারণ বিজ্ঞান এর ব্যাখ্যা দিতে পারে। বিজ্ঞান যা ব্যাখ্যা করতে পারে না সেটা হলো আধ্যাত্মিক ব্যাপার। +আমি এই ব্যাপারে দ্বিমত কারণ আমরা এই বিজ্ঞানকে নিয়েই আলোচনা করছিলাম। বিজ্ঞান ঘটনার বিশদ বিবরণ দেয়। আপনি আমার জিজ্ঞেস করা প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি, তাই বিজ্ঞান আসলে এটা ব্যাখ্যা করতে পারে না। এটি ব্যাখ্যা করছে বলে দেখাতে চায় কিন্তু আসলে তা করছে না। -আমি বলছি এটি তা করে, আর আমি এখনো গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু আমি বিজ্ঞান কী ব্যাখ্যা করেছে তার সবকিছু পড়ে শেষ করিনি। আর আমি নিশ্চিত যে যখন এটা পড়ব, আমার বিশ্বাস থাকবে যে বিজ্ঞান এটা ব্যাখ্যা করতে পারবে, এবং আমি এখনো সেটাই বিশ্বাস করি। +ভাই, তাহলে আমি আপনাকে কিছু তথ্য দিচ্ছি। বিজ্ঞান ডিএনএ (DNA) থাকার কথা বলেছে। আপনি কি জানেন ডিএনএর কয়টা বেস আছে?
-না। +ডিএনএর ৪টা বেস আছে। অ্যাডেনিন, থায়ামিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন। এই ৪টি বেসের মধ্যেও ৪টি করে মৌলিক পদার্থ রয়েছে। কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন। তাহলে আমি যখন ডিএনএ-কে দেখছি এরপর বেসগুলোতে যাচ্ছি, সেগুলোর বিবরণ দেখছি, আমার জন্য একই ফলাফল অপেক্ষা করছে। অবচেতন, মস্তিষ্কহীন, প্রাণহীন ও ক্ষমতাশূন্য মৌলিক পদার্থ। আবারো কিছুই পরিবর্তন হয়নি। আবারো এটা খুবই সাধারণ ব্যাপার ছিল, কিন্তু এটা থেকে যা ঘটেছে, এটা থেকে যে ফলাফল বের হয়ে এসেছে, এটা অসাধারণ। তাই আপনি বিজ্ঞান নিয়ে আরো কিছুটা গবেষণা করার পরেও এই ফলাফল পরিবর্তন হবে না। কারণ ও যুক্তি এটাই বলে যে আমি দেখতে না পেলেও অবশ্যই একজন সত্ত্বার অস্তিত্ব আছে। -তাহলে মানুষই স্রষ্টাকে বানিয়েছে। +আমি এই কথার সাথেও একমত নই। জ্ঞান জানা বিষয়ের উপর নির্ভরশীল। বাস্তব কোনো বিষয় কোনো ব্যক্তির ভাবনা এর পরিবর্তন করে না। ধরুন আপনি চোখ বন্ধ করে বললেন যে ‘আমার সামনে ঘনক আকৃতির একটি মাইক্রোফোন আছে।’ আপনি কি সত্য পরিবর্তন করতে পারবেন?
-না। +না, আপনি পারবেন না। আপনার ভাবনা, আইডিয়া, অনুভূতি সত্যকে পরিবর্তন করে না। আপনি যত খুশি ভাবতে থাকুন। আমি যে কারণ ও ফলাফলের সম্পর্ক বর্ণনা করছি এটাই বাস্তবতা। যতক্ষণ বাস্তবতা বিদ্যমান, আপনি একজন স্রষ্টার অনুপস্থিতি অথবা তার অস্তিত্বের কথা ভাবুন অথবা চান যাই হোক না কেন, আপনার চিন্তার কারণে বাস্তবতা পরিবর্তন হবে না। -মানুষ হলো স্রষ্টার সৃষ্টি করা বাদ্যযন্ত্র, আর স্রষ্টা কখনো এই বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করতে পারবেন না কারণ তিনি এটি থেকে সঠিক শব্দ বের করতে পারেন না। হ্যাঁ, একজন স্রষ্টা আছেন, কিন্তু তার অস্তিত্ব হলো মানুষের অন্তরে বা মনে। এটি হয় আপনার অন্তরে বা আপনার মনে। একজন ব্যক্তি চাইলে কোনো আলোর প্রতি, কিংবা হয়তো একটা গাছের প্রতি বিশ্বাস রাখতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, আপনি স্রষ্টাকে কোন ধরনের সত্ত্বা বলে মনে করেন?
+আমি আপনাকে তার কথা বলছি। চলুন তার গুণাবলী নিয়ে কথা বলা যাক। আমি মন দিয়ে তার গুণগুলো খুঁজে নিতে পারি। আমার দৃষ্টি সীমিত। যদি আমি দেখি, তাহলে এমন একজন সত্ত্বা আছেন যার দেখার মধ্যে কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। আমি শুনতে পাই। আমার শ্রবণশক্তি সীমিত। যদি আমি শুনতে পাই, তাহলে আমি বলছি যে স্রষ্টার শুনতে পাওয়ার মধ্যে কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। মায়ের মধ্যে সহমর্মীতা ও স্নেহ, বাবার মধ্যে স্নেহ রয়েছে। হ্যাঁ, মায়ের মধ্যে সহমর্মীতা রয়েছে। আমি এটা দেখে বলতে পারি যে হ্যাঁ, অবশ্যই, তার মধ্যে এই স্নেহ পরমাণুর ফলে তৈরি হয়নি। পরমাণুর মধ্যে কি কোনো স্নেহের অনুভূতি আছে?
-না। +এর অর্থ হলো এসব পরমাণুর পিছনে এমন একজন সত্ত্বা আছেন যিনি রহমান, রহীম, রউফ। আবারো আমি এই বলে শেষ করতে চাই যে তিনি অসীম দয়াময়। আমি এরকম আরো অনেক গুণের কথা উল্লেখ করতে পারি। আমি আরো উল্লেখ করতে চাই... আপনি কেন টি-শার্ট পরেছেন, কেন সোয়েটার পরেননি? -কারণ এখন গরম পড়ছে। +এটা একটা যৌক্তিক কাজ, তাই না?
এটা জ্ঞানীর মতো, বিচক্ষণ একটি সিদ্ধান্ত। -হ্যাঁ। আপনার মন ও যুক্তি ব্যবহার করে আপনি এটা করেছেন। আমি বলবো যে হ্যাঁ, আমরা আমাদের সীমিত যুক্তি ব্যবহার করেও বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারি। স্রষ্টা হলেন অসীম জ্ঞানের অধিকারী। নিশ্চিতভাবেই, অসীম জ্ঞান ও যৌক্তিকতার অধিকারী একজন স্রষ্টা তার প্রতিটি কাজ যৌক্তিকভাবে করবেন এবং বিজ্ঞতার সাথে সম্পন্ন করবেন। আর যেহেতু তিনি এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা, তিনি এই স্থানটির সঙ্গে পরিচিত করাতে এবং কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য কাউকে পাঠিয়েছেন যেমন: “আমরা এখানে কেন এসেছি? কে আমাকে পাঠিয়েছেন? আমি কোথায় যাচ্ছি? আমার উদ্দেশ্য কী? আমাকে কেন পাঠানো হয়েছে? কেন আমার মধ্যে এধরনের ক্ষমতা রয়েছে?
জীবজন্তু থেকে আমাকে আলাদা করেছে এমন বৈশিষ্ট্য কোনটি?” একজন পথনির্দেশক পাঠিয়েছেন, নবীদের পাঠিয়েছেন, এটা ব্যাখ্যা করে যে নবীরা কেন এসেছেন এবং এধরনের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন, আমি বলবো এটা হলো যুক্তি ও বিচক্ষণতার খাতিরে। আর এটাও যুক্তি ও বিচক্ষনতার খাতিরে যে পবিত্র গ্রন্থ নবীদের মাধ্যমে ভুল থেকে সঠিককে পৃথক করে দেয়। আমি যখন কুরআনের দিকে তাকাই, আমি শত শত উদাহরণ দেখতে পাচ্ছি যে একজন ব্যক্তি যিনি লিখতে পারেন না। একজন ব্যক্তির পক্ষে জানা সম্ভব নয় এমন তথ্য এই ১৪০০ বছর আগের গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে যা প্রমাণ করে যে এটাই সেই নির্দেশিকা ও গ্রন্থ যেটা আমি সন্ধান করছিলাম। একটা উদাহরণ দেখা যাক। সূরাহ রুমের মধ্যে দুইটি অসাধারণ অলৌকিক ঘটনা আছে। الٓمٓ۠١غُلِبَتِ الرُّومُۙ٢ف۪ٓي اَدْنَى الْاَرْضِ وَهُمْ مِنْ بَعْدِ غَلَبِهِمْ سَيَغْلِبُونَۙ٣ف۪ي بِضْعِ سِن۪ينَ নিকটস্থ ভূমিতে বাইজেন্টাইনরা পরাজিত হয়েছে। কিন্তু তারা তাদের পরাজয়ের পরে তিন থেকে নয় বছরের মধ্যে আবার বিজয়ী হবে। বাইজেন্টাইন ও পারস্যের মধ্যে যুদ্ধ চলছিল। এই যুদ্ধ হয়েছিল ৬১৩ সালে, এবং বাইজেন্টাইন এমনভাবে পরাজিত হয়েছিল যে তাদেরকে তাদের চার্চের পবিত্র সম্পদগুলোও বিক্রি করে দিতে হয়েছিল। আমি এই পরাজিত অবস্থা অনুধাবন করতে পারছি। যখন সবাই মনে করছিল যে বাইজেন্টাইনের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে, সে সময় একটা আয়াত নাজিল হলো। এই আয়াতে বলা হলো যে বাইজেন্টাইনীয়রা পরাজিত হয়েছে, কিন্তু পরে তারা বিজয়ী হবে। আশ্চর্য হওয়ার মতো একটা দাবি, তাই না?
-হ্যাঁ। +হঠাৎ করে এধরনের কিছু বলা হলে বেশিরভাগ মানুষই আশ্চর্য হয়ে যাবে। যারা বিশ্বাসী নয় তারা হঠাৎ করে খুশি হয়ে গেলে। কেন? কারণ তারা মনে করছে যে এরাতো পরাজিত হবেই, তারা এই ভেবে আনন্দিত হতে থাকলো যে ইসলাম একটা ভুল দাবি করেছে। আপনি কি জানেন কী ঘটেছিল?
নয় বছর পরে, ৬২২ সালে, তারা আবার যুদ্ধ করে। বাইজেন্টাইন ও পারস্য পরষ্পরের মুখোমুখী হয়। এবং গ্রিকরা সত্যি সত্যিই বিজয়ী হয়। এই একই আয়াতে আরো একটি অলৌকিক ব্যাপার আছে। এতে বলা হয়েছে যে অঞ্চলে এই যুদ্ধ হয়েছে সেটা হলো 'ফি আদনাল আরদ্ব', 'আরদ্ব" অর্থ হলো পৃথিবী (ভূমি) এবং আদনা বলতে সবচেয়ে নিম্ন অঞ্চলকে বুঝানো হয়েছে। অন্যকথায় বললে, এখানে বলা হয়েছে যে যুদ্ধটি ঘটেছে পৃথিবীর সবচেয়ে নিম্ন প্রান্তে। আমি যদি আপনাকে জিজ্ঞেস করি যে রাস্তার মধ্যে সবচেয়ে খাটো ব্যক্তি কে তাহলে আপনার কী করা উচিত? -আমার তাকে খুঁজে বের করতে হবে। +আপনাকে এক এক করে প্রত্যেকের দিকে তাকাতে হবে। -ঠিক। +তাহলে পৃথিবীর সর্বনিম্ন প্রান্ত সম্পর্কে জানতে হলে কী করতে হবে?
-আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে। +পুরো পৃথিবী সম্পর্কে জানতে হবে, কিন্তু সে সময়ে কি এধরনের পরিস্থিতি ছিল? অবশ্যই না। কিন্তু আমরা এই ঘটনার দিকে তাকাই। এটা বলছে যে এটা পৃথিবীর সবচেয়ে নিচু জায়গায় ঘটেছে। আর এখন এটা প্রমাণিত যে সমুদ্র পৃষ্ঠের তুলনায় সবচেয়ে নিচু স্থানেই এই যুদ্ধ ঘটেছিল। এটা বলার মাধ্যমে যে, আমরা যেটাকে মৃত সাগর বলে জানি সেটা সমুদ্র পৃষ্ঠের তুলনায় ৩৯৫ মিটার নিচু। এই প্রশ্ন সামনে চলে আসে: যে কেউ আমাদেরকে কীভাবে এটা জানাতে পেরেছে যে এটাই পৃথিবীর সবচেয়ে নিচু স্থান?
একমাত্র স্রষ্টাই আমাদেরকে এটা বলতে পারেন। এই যুদ্ধের ঘটনাগুলো ইতিহাসের রেকর্ড থেকে সবাই জেনে নিতে পারে, শুধু ইসলামিক উৎস থেকে নয়। আমি বলবো যে কোনো ব্যক্তির পক্ষে এই তথ্য জানা সম্ভব ছিল না। এর পিছনে একজন স্রষ্টা আছেন। এটা স্রষ্টার বাণী এবং একমাত্র এইভাবেই আমি এসব ঘটনা ব্যাখ্যা করতে পারি। তাই আমি এই নবীকেই খুঁজছিলাম, আমার মন দিয়ে আমি যে গ্রন্থ খুঁজে পেয়েছি, মন দিয়ে আমি স্রষ্টার অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছি। এটা সুস্পষ্ট। যখন স্রষ্টার অনুপস্থিতি প্রমাণিত নয়, তাহলে কেন আমি তার অস্তিত্ব সম্পর্কে আমার বলা উপসংহারগুলো মেনে নিব না? যখন তিনি আমাকে এসব প্রমাণ দেখিয়েছেন তাহলে কেন আমি ইসলাম গ্রহণ করবো না? কোনো কারণ আছে কি?
-আমি নিশ্চিত করে এটা নিয়ে কিছু বলতে পারবোনা।। আপনি কুরআনের আয়াতগুলো অর্থসহ পড়েছেন। আপনি সেগুলো পড়েছেন এবং আপনি জানেন, কিন্তু আমি এখনো পড়িনি। আমি সন্ধান করতে থাকবো, এবং আমি আশা করি আমি সঠিক পথ খুঁজে পাবো। +ইনশাআল্লাহ, আপনি কি জানেন আপনার কী করা উচিত?
টুওয়ার্ডস ইটার্নিটি ইস্টাম্বুলেই আছে আপনার যেকোনো সময় ইচ্ছা চলে আসতে পারেন, আমরা এমনকি ফোনেও কথা বলতে পারি। আমরা এটা করতে পারি। ভাই প্রয়োজন হলে আমরা কয়েক দিন সময় নিয়ে কথা বলতে পারি। আপনার ইচ্ছামতো যেকোনো সময়ে কয়েক ঘণ্টার জন্য বসে আলাপ করতে পারি। -আপনার সাথে কথা বলে আমার ভালো লেগেছে। ধন্যবাদ। +আপনিও বেশ সুন্দর কথা বলেছেন। যেমনটা আপনি বললেন যে আপনি সন্ধান করতে থাকবেন, তাহলে চলুন আমরা একসঙ্গে এটা খুঁজতে থাকি। চলুন এখান থেকে সামনে এগিয়ে যাই। -ঠিক আছে। +আপনার সাথে পরিচিত হয়ে অনেক খুশি হলাম। ভালো থাকবেন।
-হ্যাঁ, আমি আমার শেষ বর্ষে আছি। +তাহলে আপনার মতামত কি? আপনার ধর্ম কী? -আমি মনে করি ধর্ম হলো প্রাচীনকাল থেকে চলে আসা একটি সংস্কৃতি। আমি বলছি না যে স্রষ্টা আছেন, আর আমি এটাও বলছি না যে স্রষ্টা নেই। কেউই আসলে এটা সম্পর্কে কিছু জানে না। কেউই এটা বলতে পারবে না যে একজন স্রষ্টা আছেন। +আমি যদি আপনার যুক্তি ও মননের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ প্রমাণ আপনাকে দেখাতে পারি তাহলে কি আপনি মত পাল্টাবেন? যদি আপনি অকাট্য প্রমাণ শোনেন তাহলে কি আপনি মত পাল্টাবেন?
-আমি হয়তো স্রষ্টার অস্তিত্ব সম্পর্কে আমার মত পরিবর্তন করব, কিন্তু আমি স্রষ্টার উপাসনা করব না। যদি একজন স্রষ্টা থাকেন, তাহলে আপনি বলছেন যে অবশ্যই শৃঙ্খলা থাকতে হবে। কুরআনেও এটির উল্লেখ আছে। এটাকে একটি নিখুঁত শৃঙ্খলা বলা হয়েছে, কিন্তু আমি শৃঙ্খলা আছে বলে মনে করি না। +একসঙ্গে আমরা প্রমাণ করব যে শৃঙ্খলা বিদ্যমান আছে। আমরা সেই পদক্ষেপটি গ্রহণ করব। ধরা যাক এটা ত্রুটিপূর্ণ। ধরা যাক এটা একটা জটিল ব্যবস্থা। নক্ষত্রগুলো এখানে ওখানে দেখা যাচ্ছে, এবং চাঁদের সাথে প্রতিনিয়ত সংঘর্ষ ঘটছে। ধরা যাক এটা একটা বিশৃঙ্খল অবস্থায় আছে এবং আমরা এখন যেভাবে দেখছি সেভাবে নেই। এমনটাই ধরা যাক। কিন্তু এরপরও এটা স্রষ্টার অনুপস্থিতি প্রমাণ করে না। এটা কেবল তার পছন্দের ব্যাপারটিকে পাল্টে দেয়। মনোবিজ্ঞানে স্নাতক বা স্নাতকোত্তরের মতো বিভিন্ন লেভেল আছে, মেডিসিন বা ইঞ্জিনিয়ারিং এর ক্ষেত্রেও তাই। আমরা বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখার কথাও চিন্তা করতে পারি। এটি এমন একটি সিস্টেম যেখানে মানুষ পড়ালেখার মাধ্যমে নিজেদের বিকশিত করে অন্যদিকে একই সময়ে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ঘটনা ঘটে চলেছে। তাই, নিশ্চিতভাবেই এখানে একটি শৃঙ্খলা বিদ্যমান কারণ যেখানে বিশৃঙ্খলা রয়েছে সেখানে কোনো ফর্মুলা থাকে না। আচ্ছা, আমি কিন্তু ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়েছি। ইঞ্জিনিয়ারিং অনেক ফর্মুলা আছে। উদাহরণস্বরূপ, একটা বিষয় আছে নিক্ষেপ নামে, যা সবচেয়ে সহজ বিষয়গুলোর মধ্যে একটি। ধরা যাক আমি এখান থেকে একটি পাথর ছুড়ে দিচ্ছি। আমি কত গতিবেগে সেটি ছুড়ে দিচ্ছি তার উপর নির্ভর করে, এটির ভ্রমণ করা দূরত্ব এবং এর জন্য এটির কত সময় লাগবে সেটা প্রভাবিত হবে। এটি নিচের পড়তে কত সেকেন্ড সময় লাগবে সেটা হিসেব করার জন্য একটি সূত্র তৈরি করা হয়েছে। এটি বেশ সুপরিচিত একটি বিষয়। পদার্থবিজ্ঞানে স্পষ্টভাবে এটির উল্লেখ আছে। এমন একটি বিশ্ব যা একটি সূত্র অনুযায়ী কাজ করে, একটি বিশ্ব ব্যবস্থা, অবশ্যই, আমাদেরকে শৃঙ্খলা দেখায়। এই সূত্র তৈরির ক্ষেত্রে কোনো বিশৃঙ্খলা আছে সেটা কি আমরা বলতে পারবো?
-এই শৃঙ্খলাতো মানুষের তৈরি। মানুষই এসব সূত্র তৈরি করেছে। +না। সূত্র কি আমরা তৈরি করেছি? সূত্র কে তৈরি করেছে? নিশ্চয়ই আমরা। +দুইটি বস্তুর মধ্যে আকর্ষণের হার, এখানে কী ঘটছে? এখানে সূত্র গঠন হচ্ছে। এখন বলুনতো আমি কি এই দুইটি বস্তুর একে অপরকে আকর্ষণ করবে এমন ব্যবস্থা করেছি?
-না। +না, আমি শুধু এটি পর্যবেক্ষণ করেছি। আমি বলেচি, দেখো, এরা একে অপরকে আকর্ষণ করছে, অথবা গ্রহগুলোর মধ্যে একটি আকর্ষণ কাজ করছে। এরপর আমি বললামম, যদি তাদের মধ্যে আকর্ষণ থাকে তাহলে এখানে একটা নিয়মও আছে। তো আমি বলছি যে একজন সত্ত্বা এই সূত্র ও শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ম ঠিক করে দিয়েছেন। আবারো, আমি নিশ্চিতভাবে দেখতে পাচ্ছি যে এখানে একটা শৃঙ্খলা আছে। ইতোমধ্যে এটা নিয়ে আমরা শৃঙ্খলা পর্যবেক্ষণ করেছি। আমরা একসঙ্গে দেখতে পাচ্ছি যে শৃঙ্খলা বিদ্যমান আছে। যদি আমি আপনাকে প্রমাণ দিতে পারি, 85 00:02:32,385 --> 00:02:33,019আমি প্রথমে যেমনটা বলেছিলাম যে এটা যৌক্তিক ও কাণ্ডজ্ঞানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ বিষয় তাহলে তাহলে এবার আপনার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়ে যাবে, তাই না?
-আমার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হবে, কিন্তু আমি নিশ্চিতভাবেই সে স্রষ্টার উপাসনা করব না। +ঠিক আছে, চলুন দেখা যাক। আমি আপনার কাছে স্রষ্টার অস্তিত্ব প্রমাণ করতে চাই। এরপর আমরা মূল্যায়নের দিকে তাকাবো। অর্থাৎ, যদি অপরিহার্য কারণগুলোর সম্মিলন না ঘটে তাহলে সেগুলো কাঙ্ক্ষিত ফলাফল উৎপন্ন করতে পারবে না। উদাহরণস্বরূপ, কল্পনা করুন যে আপনি একটি ট্রেন ট্র্যাকের উপর আছেন। ১০ বছর বয়সী একটা ছেলে তার পিঠে একটা দড়ি বেঁধে নিয়ে এক এক কদম করে ট্রেনটি টেনে নিয়ে যাচ্ছে। এখন আপনার চোখ বলছে হ্যাঁ, এই ছেলে এই বিশাল ট্রেনটি টেনে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আপনি কি এটা বিশ্বাস করেন? নাকি আপনি এটার পিছনে ভিন্ন কোনো শক্তি অথবা ভিন্ন কোনো কারণ খোঁজ করবেন? -আমি এটার পিছনে ভিন্ন কোনো শক্তি খোঁজ করব। +কেন?
কারণ এই বিশাল ট্রেনটি তার টেনে নিয়ে যাওয়ার পক্ষে পর্যাপ্ত যৌক্তিকতা নেই। তাই আমি অন্য একটি শক্তির উৎস, অথবা অন্য একটি সিস্টেমের খোঁজ করব যেটা আমার চোখে পড়ছে না, তাই না?
-হ্যাঁ। +ঠিক এই উদাহরণের মতোই, যখন আমরা মহাবিশ্বের দিকে তাকাই, আমি কারণ ও ফলাফলের দিকে তাকাই। এগুলোর মধ্যে একটি প্রচণ্ড ব্যবধান রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, আপনি ক্ষুদ্র একটি বীজের দিকে তাকান, আপনি এটা মাটিতে ছুড়ে দিচ্ছেন, আর এটা এর মধ্যে একটি বিশাল বৃক্ষকে বহন করছে। অথবা আমি একটা ডিমের দিকে তাকাই, একটা সাধারণ অচেতন একটি ডিম, কিন্তু আমি যখন এটার ফলাফলের দিকে তাকাবো, এটা থেকে একটা ময়ূর বের হতে দেখছি। এটা এমন একটা ফলাফল যা মানুষকে আশ্চর্য করে দেয় এবং তাদের মধ্যে ছবি তোলার আগ্রহ জাগায়। অথবা, উদাহরণস্বরূপ আমরা যদি বীর্যের দিকে তাকাই, যেটা হলো এক ফোঁটা পানি কিন্তু এই বীর্যের মতো বস্তুর ফলাফলের দিকে তাকালে আমরা আপনার মতো একজন ব্যক্তিকে দেকব। একটি নিখুঁত ব্যবস্থা, প্রতিসাম্য ও গোল্ডেন রেশিও ঠিক রেখে সাজানো, যার মধ্য থেকে একটি জীবন অস্তিত্ব লাভ করছে এবং শরীরবিদ্যা, জীববিজ্ঞান, ইত্যাদি গবেষণার বিষয়বস্তু হয়ে উঠছে। আমি কারণের দিকে তাকালে দেখছি, সাধারণ এক বিন্দু পানি, যেটাকে আমরা বীর্য বলছি। তাহলে দেখুন কারণের দিকে তাকান, আর এর ফলাফলের দিকে তাকান!
আমরা প্রথমেই একমত হয়েছি যে ১০ বছর বয়সী দুর্বল একজন শিশু, একটি দুর্বল কারণ, নিশ্চিতভাবেই ১০ টন ওজনের একটি ট্রেনকে বহন করতে বা টেনে নিতে পারবে না। আমরা বলেছি যে নিশ্চয়ই এর পিছনে অন্য একটি কারণ আছে। কার্যকারণ আমাদেরকে সেটাই বলছে। আমরা যদি এই মাত্র উল্লেখ করা কারণগুলোর দিকে তাকাই আমরা দেখছি এটা অতি সাধারণ ধরনের, এগুলো প্রাণহীন। এগুলো থেকে নিখুঁত কিছু বের হয়ে আসছে, যদিও কারণগুলোর কোনো প্রাণ নেই ও সচেতনতা নেই, যা মনের মধ্যে এই প্রশ্ন জাগায় যে: যদি এই কারণটি এটার জন্য দায়ী না হয়, তাহলে সত্যিকারের কারণ কী? এসব কারণের পিছনে কি তাহলে একটি ভিন্ন কারণ থাকা উচিত নয়, একজন স্রষ্টা, যা থেকে এই নিখুঁত ফলাফল উৎপন্ন হবে?
-আপনি এটা খুব ভালোভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। আপনি এটা নিখুঁতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। কিন্তু একটি বীজ থেকে গাছ তৈরি হওয়া অথবা শুক্রাণু থেকে মানুষ হয়ে উঠা - এর মধ্যে আমি আশ্চর্য হওয়ার মতো কিছু দেখছি না। বিজ্ঞান এটা করছে, স্রষ্টা নয়। +আমি বিস্মিত যে আপনি বলছেন আপনি আশ্চর্য বোধ করছেন না। কিছু প্রাণহীন বস্তু যেটা আপনি যাকে পানির ফোঁটা বলেন সেটার মধ্যে রয়েছে, যা মৌলিক পদার্থের পরমাণু নিয়ে গঠিত। এই পরমাণুর কি প্রাণ আছে? -পরমাণু প্রাণহীন। +প্রাণহীন বস্তু কীভাবে আমরা যেটা নিয়ে কথা বলছি সেটা তৈরি করতে পারে?
আমরা যে উদাহরণ উল্লেখ করেছি, সেটাতে ছেলেটির প্রাণ আছে, কিন্তু তবুও সে এটা করতে পারেনি। আর এসব ঘটনা যেগুলো নিয়ে আমরা কথা বলছি এগুলো প্রাণহীন। ধরা যাক এগুলোর প্রাণ আছে। এটা আসলে কোনো পার্থক্য করবে না। কিন্তু কীভাবে যেসব পরমাণুর কোনো ইচ্ছাশক্তি নেই, কোনো সচেতনতা নেই, কোনো মন নেই, বা শক্তি নেই সেগুলো এই ফলাফল তৈরি করতে পারে? এটা দেখে আমরা কীভাবে আশ্চর্য না হয়ে পারি?
-যখন কেউ কিছুটা গবেষণা করে বিজ্ঞান ইতোমধ্যে তাকে যথেষ্ট ফলাফল দিয়ে দেয়। যখন শুক্রাণু ডিমের মধ্যে প্রবেশ করে, কয়েক মিলিয়ন শুক্রাণুর মধ্য থেকে কেবল একটি ডিমের মধ্যে প্রবেশ করে। আর সেই শুক্রাণু একটি জীবিত বস্তু গঠনের জন্য বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া ঘটায়। বিজ্ঞান ইতোমধ্যেই এটা আমাদের ব্যাখ্যা করেছে। যেহেতু আমরা এটা জানি, এটা আমার কাছে আশ্চর্যজনক মনে হয় না। +তাহলে আমি জিজ্ঞেস করছি যে বিজ্ঞান যে কোনো কিছুর বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যাখ্যা দিচ্ছে সেটা এটি কীভাবে এসেছে সে উত্তর দেয় না। বিজ্ঞান জ্ঞানকে উপস্থাপন করে। এটি আমাকে যে ঘটনা ইতোমধ্যে ঘটে গেছে সেটা সম্পর্কে জানায়। উদাহরণস্বরূপ, এটিকে ক্যামেরার মেগাপিক্সেলের বিবর্তন হিসেবে চিন্তা করতে পারেন। এটা আগে ২ মেগাপিক্সেল ছিল, এরপরে এটা ২৪ হলো, আর এখন ৪৬ হয়েছে। আমরা এখন ক্যামেরা দিয়ে একটা শো করছি। কেন?
ক্যামেরা সিস্টেম বৃদ্ধি পেয়েছে। বিজ্ঞানকে এটার মতো করে চিন্তা করুন। বিজ্ঞান ক্রমবর্ধমানভাবে অগ্রসর হতে থাকে। এটি তথ্যকে উপস্থাপন করে। বিজ্ঞান কী করে? এটি আমাকে বিশদ ব্যাপারগুলো ব্যাখ্যা করে। তাহলে এটা কী করেছে? এটা ক্যামেরায় জুম করেছে। এটা জুম করেছে, জুম করেই গিয়েছে। আমি শুক্রাণুকে শুধু একটি পানির মতো বস্তু হিসেবে জানতাম। আমি জুম করলাম, আর এর ভেতরে কী আছে সেটা বুঝতে পারলাম। কোনো কিছুর উপর জুম করা সত্যকে বদলে দেয় না। প্রশ্নটা থেকেই যায়: এসব সাধারণ বস্তু থেকে কীভাবে এধরনের কিছু বের হয়ে আসতে পারে?
-আমরা আমাদের তৈরি করা একটি শৃঙ্খলার মধ্যে বসবাস করছি। আমরা ইতোমধ্যে প্রযুক্তি, বিজ্ঞান, দর্শন ও শিল্প নির্ভর হয়ে বাস করছি। অন্যকথায় বললে এগুলো কোনো অজানা সত্ত্বার দ্বারা প্রকাশিত হওয়া বিষয় নয়। শিল্প বা দর্শন অথবা জীববিজ্ঞান ইত্যাদির কোনোটাই সেরকম কিছু নয়। এগুলো স্রষ্টার তৈরি করা কোনো বিষয় নয়। এগুলো মানুষের তৈরি। মানুষ সেগুলো তৈরি করেছে। আপনি এগুলোকে একজন স্রষ্টার সাথে সম্পর্কযুক্ত করছেন, কিন্তু আমি এগুলোকে বিজ্ঞানের সাথে সম্পর্কযুক্ত করছি। +দেখুন, আমরা এখনো এটা ব্যাখ্যা করতে পারিনি যে এই কারণের ফলে কীভাবে এই ফলাফল তৈরি হচ্ছে। আপনি শুধু কারণ থেকে ফলাফলে যাওয়ার ধাপের কথা বলছেন, আর আমি বলছি যে কারণটি সোজাসাপ্টা কারণের ফলে তৈরি হওয়া ফলাফলটি নিখুঁত, এটি এই কারণকে নাকচ করে দেয়। এই কারণটি এটি করতে পারবে না। এরপর আমরা বলছি যে এটা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করছে যে যদি এই সাধারণ কারণটি এই নিখুঁত ফলাফল তৈরি করতে না পারে তাহলে এই কারণের পিছনে এমন একজন সত্ত্বা আছেন যিনি জানেন, সচেতন, বুদ্ধিমান, যার শক্তি ও জীবন আছে। আর এই সত্ত্বাকেই আমরা স্রষ্টা বলছি...
-সেই সত্ত্বা আমরা নিজেরাই। এটা আমরাই। +আপনি বলছেন এটা আমরা নিজেরাই, আর আমি বলছি, তিনি হলেন সেই সত্ত্বা যিনি আপনি যা পারেন না সেটা করতে পারেন এবং আপনাকে সৃষ্টি করতে পারেন। আপনি যদি বলেন আমরাই সেই সত্ত্বা, তাহলে আপনার ইচ্ছামতো যেকোনো সময়ে আপনার মানুষ সৃষ্টি করতে সক্ষম হওয়া উচিত। আপনার নিজেই একটি ডিম তৈরি করতে পারা উচিত এবং ইচ্ছামতো যেকোনো সময় সেটা থেকে একটি ময়ূর বের করে আনতে পারা উচিত। সবাই কি সন্তানের বাবা-মা হতে পারেন? -সবাই সন্তানের বাবা-মা হতে পারেন না। +তাহলে, আপনি যেমনটা বলেছেন, সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ যদি আমাদের হাতেই থাকতো, তাহলে যে কেউ তাদের যখন ইচ্ছা সন্তান নিতে পারতো। আপনি বলছেন যে আমরাই হলাম কারণ। আমরা এটা করছি। আপনি এই কারণের পিছনের কারণ হতে পারেন না। কেন?
আপনিতো ফলাফলের জন্য দায়ী কারণ। ফলাফল কীভাবে এটির নিজের কারণ হতে পারে? -উদাহরণস্বরূপ, আপনি কোনো কিছুর সাথে কারণগুলোর সংযোগ তৈরি করতে চান। আপনি সেই কারণে পিছনে থাকা কিছুকে খুঁজছেন। আর আপনি সেটাকে স্রষ্টা নাম দিচ্ছেন। +প্রথমে আপনি নিজেও খোঁজ করছিলেন, কিন্তু... আপনি সে শিশুটির পিছনে থাকা অন্য কোনো কারণ খোঁজ করছিলেন। -১০ বছর বয়সী একটা বাচ্চার ট্রেনকে টেনে নিয়ে যাওয়া এবং একটি বীজ থেকে গাছ তৈরি হওয়া দুটি ভিন্ন ব্যাপার। +পরেরটি বেশি নিখুঁত। এটা কি বেশি নিখুঁত নয়? আপনি কি এই ঘটনার চেয়ে বেশি নিখুঁত নন?
এটা বেশি আশ্চর্যজনক। ট্রেনের নিজেকে টেনে নেওয়া কেবল একটি বল প্রয়োগের ব্যাপার। এখানে, একটি সাধারণ বস্তু একটি জীবন্ত বস্তু তৈরি করছে। পাঁচশ ছিয়াত্তর মেগাপিক্সেল ক্ষমতাসম্পন্ন চোখ গঠন হচ্ছে। নিখুঁতভাবে শৃঙ্খলাবদ্ধ একটি সিস্টেম গঠিত হচ্ছে। প্রতিসাম্য তৈরি হচ্ছে, গোল্ডেন রেশিও গঠিত হচ্ছে। বিজ্ঞানের সূচনা করে এমন একটি সিস্টেম গঠিত হচ্ছে, যা মাস্টার তৈরি হওয়ার এবং ডক্টরদের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট চালু করার সুযোগ তৈরি করছে। নিশ্চয়ই এটা আরো বেশি আশ্চর্যজনক। কোথায় আপনি আর কোথায় সেই ট্রেন? এটা কি সত্যি নয়? -না। +আপনি কি এই কারণ ও ফলাফলের সম্পর্কের তুলনায় বেশি নিখুঁত নন?
আমি আপনার দিকে তাকিয়ে বেশি আশ্চর্য হচ্ছি। -নিশ্চিতভাবেই আমি নিখুঁত নই, কিন্তু একজন ১০ বছর বয়সী বাচ্চার ট্রেনটি টেনে নিয়ে যাওয়া একটি অসাধারণ ব্যাপার কারণ বিজ্ঞান এর ব্যাখ্যা দিতে পারে। বিজ্ঞান যা ব্যাখ্যা করতে পারে না সেটা হলো আধ্যাত্মিক ব্যাপার। +আমি এই ব্যাপারে দ্বিমত কারণ আমরা এই বিজ্ঞানকে নিয়েই আলোচনা করছিলাম। বিজ্ঞান ঘটনার বিশদ বিবরণ দেয়। আপনি আমার জিজ্ঞেস করা প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি, তাই বিজ্ঞান আসলে এটা ব্যাখ্যা করতে পারে না। এটি ব্যাখ্যা করছে বলে দেখাতে চায় কিন্তু আসলে তা করছে না। -আমি বলছি এটি তা করে, আর আমি এখনো গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু আমি বিজ্ঞান কী ব্যাখ্যা করেছে তার সবকিছু পড়ে শেষ করিনি। আর আমি নিশ্চিত যে যখন এটা পড়ব, আমার বিশ্বাস থাকবে যে বিজ্ঞান এটা ব্যাখ্যা করতে পারবে, এবং আমি এখনো সেটাই বিশ্বাস করি। +ভাই, তাহলে আমি আপনাকে কিছু তথ্য দিচ্ছি। বিজ্ঞান ডিএনএ (DNA) থাকার কথা বলেছে। আপনি কি জানেন ডিএনএর কয়টা বেস আছে?
-না। +ডিএনএর ৪টা বেস আছে। অ্যাডেনিন, থায়ামিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন। এই ৪টি বেসের মধ্যেও ৪টি করে মৌলিক পদার্থ রয়েছে। কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন। তাহলে আমি যখন ডিএনএ-কে দেখছি এরপর বেসগুলোতে যাচ্ছি, সেগুলোর বিবরণ দেখছি, আমার জন্য একই ফলাফল অপেক্ষা করছে। অবচেতন, মস্তিষ্কহীন, প্রাণহীন ও ক্ষমতাশূন্য মৌলিক পদার্থ। আবারো কিছুই পরিবর্তন হয়নি। আবারো এটা খুবই সাধারণ ব্যাপার ছিল, কিন্তু এটা থেকে যা ঘটেছে, এটা থেকে যে ফলাফল বের হয়ে এসেছে, এটা অসাধারণ। তাই আপনি বিজ্ঞান নিয়ে আরো কিছুটা গবেষণা করার পরেও এই ফলাফল পরিবর্তন হবে না। কারণ ও যুক্তি এটাই বলে যে আমি দেখতে না পেলেও অবশ্যই একজন সত্ত্বার অস্তিত্ব আছে। -তাহলে মানুষই স্রষ্টাকে বানিয়েছে। +আমি এই কথার সাথেও একমত নই। জ্ঞান জানা বিষয়ের উপর নির্ভরশীল। বাস্তব কোনো বিষয় কোনো ব্যক্তির ভাবনা এর পরিবর্তন করে না। ধরুন আপনি চোখ বন্ধ করে বললেন যে ‘আমার সামনে ঘনক আকৃতির একটি মাইক্রোফোন আছে।’ আপনি কি সত্য পরিবর্তন করতে পারবেন?
-না। +না, আপনি পারবেন না। আপনার ভাবনা, আইডিয়া, অনুভূতি সত্যকে পরিবর্তন করে না। আপনি যত খুশি ভাবতে থাকুন। আমি যে কারণ ও ফলাফলের সম্পর্ক বর্ণনা করছি এটাই বাস্তবতা। যতক্ষণ বাস্তবতা বিদ্যমান, আপনি একজন স্রষ্টার অনুপস্থিতি অথবা তার অস্তিত্বের কথা ভাবুন অথবা চান যাই হোক না কেন, আপনার চিন্তার কারণে বাস্তবতা পরিবর্তন হবে না। -মানুষ হলো স্রষ্টার সৃষ্টি করা বাদ্যযন্ত্র, আর স্রষ্টা কখনো এই বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করতে পারবেন না কারণ তিনি এটি থেকে সঠিক শব্দ বের করতে পারেন না। হ্যাঁ, একজন স্রষ্টা আছেন, কিন্তু তার অস্তিত্ব হলো মানুষের অন্তরে বা মনে। এটি হয় আপনার অন্তরে বা আপনার মনে। একজন ব্যক্তি চাইলে কোনো আলোর প্রতি, কিংবা হয়তো একটা গাছের প্রতি বিশ্বাস রাখতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, আপনি স্রষ্টাকে কোন ধরনের সত্ত্বা বলে মনে করেন?
+আমি আপনাকে তার কথা বলছি। চলুন তার গুণাবলী নিয়ে কথা বলা যাক। আমি মন দিয়ে তার গুণগুলো খুঁজে নিতে পারি। আমার দৃষ্টি সীমিত। যদি আমি দেখি, তাহলে এমন একজন সত্ত্বা আছেন যার দেখার মধ্যে কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। আমি শুনতে পাই। আমার শ্রবণশক্তি সীমিত। যদি আমি শুনতে পাই, তাহলে আমি বলছি যে স্রষ্টার শুনতে পাওয়ার মধ্যে কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। মায়ের মধ্যে সহমর্মীতা ও স্নেহ, বাবার মধ্যে স্নেহ রয়েছে। হ্যাঁ, মায়ের মধ্যে সহমর্মীতা রয়েছে। আমি এটা দেখে বলতে পারি যে হ্যাঁ, অবশ্যই, তার মধ্যে এই স্নেহ পরমাণুর ফলে তৈরি হয়নি। পরমাণুর মধ্যে কি কোনো স্নেহের অনুভূতি আছে?
-না। +এর অর্থ হলো এসব পরমাণুর পিছনে এমন একজন সত্ত্বা আছেন যিনি রহমান, রহীম, রউফ। আবারো আমি এই বলে শেষ করতে চাই যে তিনি অসীম দয়াময়। আমি এরকম আরো অনেক গুণের কথা উল্লেখ করতে পারি। আমি আরো উল্লেখ করতে চাই... আপনি কেন টি-শার্ট পরেছেন, কেন সোয়েটার পরেননি? -কারণ এখন গরম পড়ছে। +এটা একটা যৌক্তিক কাজ, তাই না?
এটা জ্ঞানীর মতো, বিচক্ষণ একটি সিদ্ধান্ত। -হ্যাঁ। আপনার মন ও যুক্তি ব্যবহার করে আপনি এটা করেছেন। আমি বলবো যে হ্যাঁ, আমরা আমাদের সীমিত যুক্তি ব্যবহার করেও বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারি। স্রষ্টা হলেন অসীম জ্ঞানের অধিকারী। নিশ্চিতভাবেই, অসীম জ্ঞান ও যৌক্তিকতার অধিকারী একজন স্রষ্টা তার প্রতিটি কাজ যৌক্তিকভাবে করবেন এবং বিজ্ঞতার সাথে সম্পন্ন করবেন। আর যেহেতু তিনি এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা, তিনি এই স্থানটির সঙ্গে পরিচিত করাতে এবং কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য কাউকে পাঠিয়েছেন যেমন: “আমরা এখানে কেন এসেছি? কে আমাকে পাঠিয়েছেন? আমি কোথায় যাচ্ছি? আমার উদ্দেশ্য কী? আমাকে কেন পাঠানো হয়েছে? কেন আমার মধ্যে এধরনের ক্ষমতা রয়েছে?
জীবজন্তু থেকে আমাকে আলাদা করেছে এমন বৈশিষ্ট্য কোনটি?” একজন পথনির্দেশক পাঠিয়েছেন, নবীদের পাঠিয়েছেন, এটা ব্যাখ্যা করে যে নবীরা কেন এসেছেন এবং এধরনের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন, আমি বলবো এটা হলো যুক্তি ও বিচক্ষণতার খাতিরে। আর এটাও যুক্তি ও বিচক্ষনতার খাতিরে যে পবিত্র গ্রন্থ নবীদের মাধ্যমে ভুল থেকে সঠিককে পৃথক করে দেয়। আমি যখন কুরআনের দিকে তাকাই, আমি শত শত উদাহরণ দেখতে পাচ্ছি যে একজন ব্যক্তি যিনি লিখতে পারেন না। একজন ব্যক্তির পক্ষে জানা সম্ভব নয় এমন তথ্য এই ১৪০০ বছর আগের গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে যা প্রমাণ করে যে এটাই সেই নির্দেশিকা ও গ্রন্থ যেটা আমি সন্ধান করছিলাম। একটা উদাহরণ দেখা যাক। সূরাহ রুমের মধ্যে দুইটি অসাধারণ অলৌকিক ঘটনা আছে। الٓمٓ۠١غُلِبَتِ الرُّومُۙ٢ف۪ٓي اَدْنَى الْاَرْضِ وَهُمْ مِنْ بَعْدِ غَلَبِهِمْ سَيَغْلِبُونَۙ٣ف۪ي بِضْعِ سِن۪ينَ নিকটস্থ ভূমিতে বাইজেন্টাইনরা পরাজিত হয়েছে। কিন্তু তারা তাদের পরাজয়ের পরে তিন থেকে নয় বছরের মধ্যে আবার বিজয়ী হবে। বাইজেন্টাইন ও পারস্যের মধ্যে যুদ্ধ চলছিল। এই যুদ্ধ হয়েছিল ৬১৩ সালে, এবং বাইজেন্টাইন এমনভাবে পরাজিত হয়েছিল যে তাদেরকে তাদের চার্চের পবিত্র সম্পদগুলোও বিক্রি করে দিতে হয়েছিল। আমি এই পরাজিত অবস্থা অনুধাবন করতে পারছি। যখন সবাই মনে করছিল যে বাইজেন্টাইনের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে, সে সময় একটা আয়াত নাজিল হলো। এই আয়াতে বলা হলো যে বাইজেন্টাইনীয়রা পরাজিত হয়েছে, কিন্তু পরে তারা বিজয়ী হবে। আশ্চর্য হওয়ার মতো একটা দাবি, তাই না?
-হ্যাঁ। +হঠাৎ করে এধরনের কিছু বলা হলে বেশিরভাগ মানুষই আশ্চর্য হয়ে যাবে। যারা বিশ্বাসী নয় তারা হঠাৎ করে খুশি হয়ে গেলে। কেন? কারণ তারা মনে করছে যে এরাতো পরাজিত হবেই, তারা এই ভেবে আনন্দিত হতে থাকলো যে ইসলাম একটা ভুল দাবি করেছে। আপনি কি জানেন কী ঘটেছিল?
নয় বছর পরে, ৬২২ সালে, তারা আবার যুদ্ধ করে। বাইজেন্টাইন ও পারস্য পরষ্পরের মুখোমুখী হয়। এবং গ্রিকরা সত্যি সত্যিই বিজয়ী হয়। এই একই আয়াতে আরো একটি অলৌকিক ব্যাপার আছে। এতে বলা হয়েছে যে অঞ্চলে এই যুদ্ধ হয়েছে সেটা হলো 'ফি আদনাল আরদ্ব', 'আরদ্ব" অর্থ হলো পৃথিবী (ভূমি) এবং আদনা বলতে সবচেয়ে নিম্ন অঞ্চলকে বুঝানো হয়েছে। অন্যকথায় বললে, এখানে বলা হয়েছে যে যুদ্ধটি ঘটেছে পৃথিবীর সবচেয়ে নিম্ন প্রান্তে। আমি যদি আপনাকে জিজ্ঞেস করি যে রাস্তার মধ্যে সবচেয়ে খাটো ব্যক্তি কে তাহলে আপনার কী করা উচিত? -আমার তাকে খুঁজে বের করতে হবে। +আপনাকে এক এক করে প্রত্যেকের দিকে তাকাতে হবে। -ঠিক। +তাহলে পৃথিবীর সর্বনিম্ন প্রান্ত সম্পর্কে জানতে হলে কী করতে হবে?
-আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে। +পুরো পৃথিবী সম্পর্কে জানতে হবে, কিন্তু সে সময়ে কি এধরনের পরিস্থিতি ছিল? অবশ্যই না। কিন্তু আমরা এই ঘটনার দিকে তাকাই। এটা বলছে যে এটা পৃথিবীর সবচেয়ে নিচু জায়গায় ঘটেছে। আর এখন এটা প্রমাণিত যে সমুদ্র পৃষ্ঠের তুলনায় সবচেয়ে নিচু স্থানেই এই যুদ্ধ ঘটেছিল। এটা বলার মাধ্যমে যে, আমরা যেটাকে মৃত সাগর বলে জানি সেটা সমুদ্র পৃষ্ঠের তুলনায় ৩৯৫ মিটার নিচু। এই প্রশ্ন সামনে চলে আসে: যে কেউ আমাদেরকে কীভাবে এটা জানাতে পেরেছে যে এটাই পৃথিবীর সবচেয়ে নিচু স্থান?
একমাত্র স্রষ্টাই আমাদেরকে এটা বলতে পারেন। এই যুদ্ধের ঘটনাগুলো ইতিহাসের রেকর্ড থেকে সবাই জেনে নিতে পারে, শুধু ইসলামিক উৎস থেকে নয়। আমি বলবো যে কোনো ব্যক্তির পক্ষে এই তথ্য জানা সম্ভব ছিল না। এর পিছনে একজন স্রষ্টা আছেন। এটা স্রষ্টার বাণী এবং একমাত্র এইভাবেই আমি এসব ঘটনা ব্যাখ্যা করতে পারি। তাই আমি এই নবীকেই খুঁজছিলাম, আমার মন দিয়ে আমি যে গ্রন্থ খুঁজে পেয়েছি, মন দিয়ে আমি স্রষ্টার অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছি। এটা সুস্পষ্ট। যখন স্রষ্টার অনুপস্থিতি প্রমাণিত নয়, তাহলে কেন আমি তার অস্তিত্ব সম্পর্কে আমার বলা উপসংহারগুলো মেনে নিব না? যখন তিনি আমাকে এসব প্রমাণ দেখিয়েছেন তাহলে কেন আমি ইসলাম গ্রহণ করবো না? কোনো কারণ আছে কি?
-আমি নিশ্চিত করে এটা নিয়ে কিছু বলতে পারবোনা।। আপনি কুরআনের আয়াতগুলো অর্থসহ পড়েছেন। আপনি সেগুলো পড়েছেন এবং আপনি জানেন, কিন্তু আমি এখনো পড়িনি। আমি সন্ধান করতে থাকবো, এবং আমি আশা করি আমি সঠিক পথ খুঁজে পাবো। +ইনশাআল্লাহ, আপনি কি জানেন আপনার কী করা উচিত?
টুওয়ার্ডস ইটার্নিটি ইস্টাম্বুলেই আছে আপনার যেকোনো সময় ইচ্ছা চলে আসতে পারেন, আমরা এমনকি ফোনেও কথা বলতে পারি। আমরা এটা করতে পারি। ভাই প্রয়োজন হলে আমরা কয়েক দিন সময় নিয়ে কথা বলতে পারি। আপনার ইচ্ছামতো যেকোনো সময়ে কয়েক ঘণ্টার জন্য বসে আলাপ করতে পারি। -আপনার সাথে কথা বলে আমার ভালো লেগেছে। ধন্যবাদ। +আপনিও বেশ সুন্দর কথা বলেছেন। যেমনটা আপনি বললেন যে আপনি সন্ধান করতে থাকবেন, তাহলে চলুন আমরা একসঙ্গে এটা খুঁজতে থাকি। চলুন এখান থেকে সামনে এগিয়ে যাই। -ঠিক আছে। +আপনার সাথে পরিচিত হয়ে অনেক খুশি হলাম। ভালো থাকবেন।