গুহাবাসীদের ঘটনা! এআই ভিজ্যুয়ালাইজড - তারা কীভাবে ৩০০ বছর ঘুমিয়ে ছিল? (আসহাবে কাহফ)
প্রকাশের তারিখ
আপনি একটি অন্ধকার গুহায় আছেন। একটু ঘুমানোর জন্য আপনি চোখ বন্ধ করলেন। কিন্তু এমন কিছু একটা আছে, যা আপনি জানেন না। এই ঘুম আপনার ধারণার চেয়েও অনেক বেশি দীর্ঘ হতে যাচ্ছে। ৩০৯ বছর ধরে। আজ আমরা আলোচনা করব আসহাবে কাহফের রহস্যময় গল্প নিয়ে। “কোনো জায়গা যেন তল্লাশি ছাড়া না থাকে! প্রতিটি পাথরের নিচে খুঁজে দেখো!” এটি কোনো রূপকথা বা কিংবদন্তি নয়। এটি একটি বাস্তব ঘটনা, যা কুরআনেই উল্লেখ করা হয়েছে। “আপনি যদি তাদের দেখতেন, তাহলে তাদের ভয়ে পেছন ফিরে পালিয়ে যেতেন।” তাহলে, এই যুবকেরা কারা ছিলেন? কী এমন ঘটেছিল, যার ফলে ৩০০ বছরেরও বেশি দীর্ঘ এক ঘুম শুরু হলো? “আমাকে বলা হয়েছে, তোমরা অন্য কাউকে উপাসনা করো। কে এই ঈশ্বর?!” আর সেই বার্তাটি কী ছিল, যা এত গুরুত্বপূর্ণ যে কুরআন তা উল্লেখ করেছে?
“আমাদের রব আসমানসমূহ ও পৃথিবীর রব।” চলুন, কুরআন ও অন্যান্য ঐতিহাসিক সূত্রের আলোকে এই অসাধারণ গল্পে একসঙ্গে প্রবেশ করি। “আর আপনি মনে করতেন তারা জেগে আছে, অথচ তারা ঘুমিয়ে ছিল। আর আমরা তাদের ডানে ও বামে ফিরিয়ে দিতাম, আর তাদের কুকুরটি গুহার প্রবেশমুখে তার সামনের পা দুটো ছড়িয়ে রেখেছিল।” “আপনি যদি তাদের দেখতেন, তাহলে তাদের ভয়ে পেছন ফিরে পালিয়ে যেতেন।” হ্যাঁ, এটি হয়তো ইতিহাসের সবচেয়ে রহস্যময় ঘটনাগুলোর একটি। কিন্তু এই মানুষগুলো কারা ছিলেন?
আরেকটি আয়াতে আল্লাহ বলেন: “হে নবী, আমরা আপনার কাছে তাদের ঘটনা সত্যসহ বর্ণনা করছি। তারা ছিল কয়েকজন যুবক, যারা সত্যিই তাদের রবের প্রতি ঈমান এনেছিল, আর আমরা তাদের হিদায়াত আরও বাড়িয়ে দিয়েছিলাম।” এটি ছিল ইসলামের আগেকার সময়। শেষ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখনও প্রেরিত হননি। আর খ্রিস্টধর্মও তখনও পুরোপুরি বিকৃত হয়নি। সেই সময়ে রোমান সাম্রাজ্যে বহু ঈশ্বরে বিশ্বাসের ব্যবস্থা ছিল। শুধু তাই নয়; যারা তাদের সঙ্গে যোগ দিতে অস্বীকার করত এবং আল্লাহতে বিশ্বাস করত, তাদের তারা নির্মমভাবে শাস্তি দিত। শাস্তিগুলোর একটি ছিল ক্রুশবিদ্ধ করা। কখনো কখনো মানুষকে জীবন্ত পুড়িয়েও মারা হতো। কিন্তু তবুও, ঈসা আলাইহিস সালামের সত্য অনুসারীরা তখনও ছিলেন। এমন মানুষ ছিলেন, যারা আল্লাহর আশ্চর্য নিদর্শনে বিশ্বাস করতেন। তাদের অধিকাংশই ছিল সাধারণ মানুষ— দরিদ্র, ক্ষমতাহীন এবং অসহায়। কিন্তু সব বিশ্বাসী দরিদ্র ছিলেন না। কেউ কেউ ছিলেন ধনী, আর কেউ কেউ বাস্তব ক্ষমতার অধিকারী। আর তাদের মধ্যেই কয়েকজন আসলে এই গল্পের প্রধান চরিত্র। একদল যুবক রোমান সাম্রাজ্যে উচ্চপদে অধিষ্ঠিত ছিল। তারা আল্লাহতে বিশ্বাস করত, কিন্তু তা গোপন রাখত। আর বিশ্বাসীদের সঙ্গে যা করা হচ্ছিল, তা তারা যত বেশি দেখত, তত বেশি তাদের হৃদয়ও ব্যথিত হতো। আর তারা মুক্তির পথ খুঁজতে শুরু করল। চাবুকের প্রতিটি আঘাত তাদের ওপরও পড়ছে বলে মনে হতো। তারা জানত, তাদের কিছু একটা করতেই হবে। কিন্তু তারা কী-ই বা করতে পারত?
করার মতো কীই বা ছিল?
তারা অসহায়ভাবে সব দেখছিল। মূলত, সম্রাটের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর মতো শক্তি তাদের ছিল না। আর তারা মুখ খুললে, তাদের সঙ্গে কী ঘটবে, তা তারা ভাবতেই পারছিলোনা। আর আরও একটি সমস্যা ছিল। এই যুবকেরা একে অপরের ব্যাপারেও জানত না। তারা ভিন্ন ভিন্ন দিনে, ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় ঈমান এনেছিল। আর তাদের কেউ জানত না, অন্যরাও বিশ্বাসী। নিজেদের সাধ্য অনুযায়ী, তারা প্রত্যেকে রোমানদের মূর্তিপূজার অনুষ্ঠান থেকে দূরে থাকত এবং তাতে অংশ নিতে অস্বীকার করত। আর শিগগিরই তারা বুঝতে পারবে, তারা সবাই আল্লাহর প্রতি ঈমানদার। মূর্তির সামনে মাথা নত করতে তাদের অস্বীকৃতি আর গোপন রাখা সম্ভব হলো না। “হে আমার প্রভু, আমি নিজের চোখে দেখেছি, তারা অনুষ্ঠান ছেড়ে চলে গেছে। আমাদের দেবতাদের সামনে আয়োজিত পবিত্র অনুষ্ঠানগুলোর প্রায় কোনোটিতেই তারা অংশ নেয় না।” “এটা আমাদের দেবতাদের জন্য ভয়াবহ অপমান!
তাদের অবিলম্বে আমার সামনে হাজির করো!” সেখানে, সিংহাসন কক্ষের শীতল মার্বেল মেঝেতে, এই যুবকেরা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ছিল। একে অপরের কাছে অপরিচিত, তবু তাদের হৃদয়ের একই অদৃশ্য আগুনে পরস্পরের সঙ্গে বাঁধা। “আমাকে বলা হয়েছে, তোমরা নাকী অন্য কাউকে উপাসনা করো। কে এই ঈশ্বর?!” চারদিকে শুধু নীরবতা। প্রথমবারের মতো, তারা যখন একে অপরের দিকে তাকাল, তারা নিজেদের লুকানো সত্যের প্রতিফলন দেখতে পেল। প্রহরীরা আঘাতের নির্দেশের অপেক্ষায় ছিল। আর সম্রাট আশা করছিল, তারা কাঁপবে অথবা দয়া ভিক্ষা চাইবে। কিন্তু এই তরুণ বিশ্বাসীরা আর ভয় পাচ্ছিল না। তাদের হৃদয়ের সত্যের সামনে রোমের শক্তিও এখন ছোট মনে হচ্ছিল। সত্য উচ্চস্বরে বলার এটাই ছিল মুহূর্ত। আল্লাহ তার হৃদয়ে যে সাহস স্থাপন করেছিলেন, তা নিয়ে তাদের একজন সম্রাটের সামনে উচ্চস্বরে বলে উঠল: “আমাদের রব আসমানসমূহ ও এই পৃথিবীর রব। আমরা কখনোই তাঁকে ছাড়া অন্য কোনো উপাস্যকে ডাকতে পারবো না। তাহলে আমরা সত্যিই এক ভয়াবহ মিথ্যা বলে বসব।” সবাই হতবাক হয়ে স্থির হয়ে গেল। সম্রাটের সামনে কেউ এমন কথা কীভাবে বলতে পারে?
সেই একটি সাহসী কাজ অন্যদেরও সাহস দিল। একসঙ্গে তারা সামনে এগিয়ে এলো, আর এতদিন লুকিয়ে রাখা ঈমান ঘোষণা করতে শুরু করল। “আমাদের রব আসমানসমূহ ও এই পৃথিবীর রব। আমরা কখনোই তাঁকে ছাড়া অন্য কোনো উপাস্যকে ডাকতে পারবো না। তাহলে আমরা সত্যিই এক ভয়াবহ মিথ্যা বলে বসব।” “আমাদের এই জাতি তাঁকে ছাড়া অন্য উপাস্য গ্রহণ করেছে। তারা কেন তাদের বিষয়ে স্পষ্ট প্রমাণ হাজির করে না?
আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনাকারীর চেয়ে অধিক জালিম আর কে হতে পারে?” সম্রাট একদল যুবকের হাতে অপমানিত হয়েছিল। সে যখন তাদের দিকে তাকাল, দেখল তারা সাধারণ নাগরিক নয়; তারা ক্ষমতাশালী ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। এখনই যদি সে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেয়, মানুষ হয়তো তাদের বীর হিসেবে দেখবে, আর তাদের সম্ভ্রান্ত পরিবারগুলো সিংহাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যাবে। তাই সে ভিন্ন পথ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। তার কণ্ঠ শান্ত ও পিতৃসুলভ হয়ে উঠল। সে তাদের উচ্চ মর্যাদা, সম্পদ, আর যে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ তারা হারাতে যাচ্ছে, তা স্মরণ করিয়ে দিল। “তোমাদের কথাকে আমি যৌবনের বোকামি হিসেবে নিচ্ছি। আমি তোমাদের এক দিন সময় দিচ্ছি। যদি তোমরা বুদ্ধিতে ফিরে আসো এবং রোমের প্রাচীন রীতিতে ফিরে আসো, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দেবো। তোমরা যেতে পারো।” যুবকেরা নীরবে সিংহাসন কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে গেল। এখন তারা কী করবে?
প্রাসাদের ফটক দিয়ে বের হওয়ার সময়, তারা নিজেদের সম্পদের কথা একটুও ভাবছিল না। দীর্ঘ আলোচনার কোনো প্রয়োজনই ছিল না। তারা জানত, শহর থেকে পালিয়ে নিজেদের ঈমান রক্ষার এটাই একমাত্র সুযোগ। যা তারা বিশ্বাস করত, তা ছাড়াতে কোনো কিছুই তাদের বাধ্য করতে পারবে না। কিন্তু সম্রাটের সৈন্যরা ছিল সর্বত্র। তাই তারা সঙ্গে সঙ্গে যাওয়ার মতো কোনো একটা জায়গা খুঁজতে শুরু করল। তারা ডানে-বামে তাকাল, আর যেদিকেই ফিরল, সেখানে এমন মানুষে ভরা ছিল, যারা তাদের ধরিয়ে দিয়ে গ্রেপ্তার করাতে পারত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত, তারা শহর থেকে বের হতে সক্ষম হলো। পথে কিতমির নামে একটি কুকুর তাদের সঙ্গে যোগ দিল। সে তাদের পাশ ছাড়ছিল না। সে শুধু তাদের অনুসরণ করতেই থাকল। অবশেষে তারা একটি গুহায় আশ্রয় নিল, যাকে অনেকে পিয়ন পর্বত বলে মনে করেন। যদিও কেউ কেউ বলেন, তা ছিল আংকিয়ালুস পর্বত। আর সেখানে, সেই গুহায়, নিজেদের রবের ওপর ভরসা করে, তারা এই দোয়া করল: “হে আমাদের রব, আপনার পক্ষ থেকে আমাদের রহমত দান করুন, আর আমাদের কাজে সঠিক পথনির্দেশের ব্যবস্থা করে দিন।” এদিকে সম্রাট ইতোমধ্যেই তাদের ধরার জন্য বিশাল তল্লাশির নির্দেশ দিয়েছিল। “অবিলম্বে ব্যাপক তল্লাশি শুরু করো। আমি চাই এই যুবকদের শিগগিরই খুঁজে বের করা হোক।” তারা সর্বত্র খুঁজল, উঁচু-নিচু সব জায়গায়। কিন্তু তাদের রব আল্লাহ তাদের রক্ষা করলেন, আর শত্রুদের হাত থেকে দূরে রাখলেন। “কোনো জায়গা যেন তল্লাশি ছাড়া না থাকে!
প্রতিটি পাথরের নিচে খুঁজে দেখো!” সেই গুহায়, আল্লাহ ওই যুবকদের অলৌকিকভাবে ৩০০ বছরেরও বেশি সময় ঘুম পাড়িয়ে রাখলেন। সূরা আল-কাহফে আল্লাহ তাদের অবস্থার বর্ণনা দিয়েছেন, গুহার ভেতরে এভাবে: “আর আপনি সূর্যকে দেখতেন, যখন তা উদিত হতো, তাদের গুহার ডান দিক থেকে সরে যেত। আর যখন তা অস্ত যেত, তাদের বাম দিক থেকে সরে যেত, আর তারা গুহার ভেতরের প্রশস্ত স্থানে শুয়ে ছিল। এটি আল্লাহর নিদর্শনগুলোর একটি।” আর ৩০৯ বছর কেটে গেল। এত বছর পর, আসহাবে কাহফ, অর্থাৎ গুহাবাসীরা জেগে উঠল। কিন্তু তাদের সঙ্গে কী ঘটেছে, তা তারা জানত না। তারা ভাবতে লাগল, কতক্ষণ তারা ঘুমিয়েছিল। “আমরা কতক্ষণ ঘুমালাম?
হয়তো এক দিন, অথবা এক দিনের কিছু অংশ। আল্লাহই ভালো জানেন।” কিন্তু বাস্তবে, শতাব্দী কেটে গিয়েছিল। সেই দীর্ঘ ঘুমের পর, তারা ক্ষুধার্ত ছিল। “চল, খাবারের জন্য কাউকে শহরে পাঠাই।” “আমি শহরে যাব।” “সাবধান থাকবেন। কেউ যেন আপনাকে দেখতে না পায়।” “চুপচাপ যাবেন। সৈন্যরা আপনাকে ধরে ফেলতে পারে।” “আমি সাবধান থাকব।” কিন্তু পথে, সে অদ্ভুত কিছু লক্ষ্য করল। শহরটি সম্পূর্ণ বদলে গেছে। মন্দিরের জায়গায় গির্জা এসেছে। সে আর মূর্তি দেখতে পেল না। কি ঘটছে?
মানুষের পাশ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে সে বুঝল, তারা এক স্রষ্টার কথা বলছে। তাই সেই সাহসী মুহূর্ত, যখন তারা সম্রাটের সামনে দাঁড়িয়ে সত্য বলেছিল, তা আজও বিশ্বাসীদের অনুপ্রাণিত করে চলেছে। যুবকটি শহরের ভেতরে এগিয়ে গেল। সে হতবাক হয়ে গেল। কিন্তু সে ক্ষুধার্তও ছিল। তাই রুটি কিনতে সে একটি দোকানে ঢুকল। “সুপ্রভাত।” সে নিজের ও অন্যদের জন্য কয়েকটি রুটি কিনল। তারপর রুটির দাম দিতে একটি রূপার মুদ্রা এগিয়ে দিল। রুটিওয়ালা মুদ্রাটির দিকে তাকিয়ে রইল। “এই মুদ্রা...” সে বিভ্রান্ত হয়ে গেল। “...আপনি এটা কোথায় পেলেন?” সে ভাবল, যুবকটি নিশ্চয়ই কোনো গুপ্তধন পেয়েছে, কারণ মুদ্রাটি ছিল শত শত বছর আগের। রুটিওয়ালা সঙ্গে সঙ্গে কর্তৃপক্ষকে তার খবর দিল। “আমি তাকে পূর্ব ফটকের কাছে দেখেছি। দয়া করে, সে কোনো ক্ষতি করতে চায়নি।” -“সে কোন দিকে গেছে?” -“বাজারের দিকে।” যুবকটিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রাসাদে নিয়ে যাওয়া হলো। আর তখনই বিষয়টি তার কাছে পরিষ্কার হয়ে গেল। তারা এক দিন ঘুমায়নি। তারা শতাব্দীর পর শতাব্দী ঘুমিয়ে ছিল। সবকিছু ছিল আল্লাহর হাতে। তিনি চাইলে তাঁর কোনো বান্দাকে যেভাবে চান, জীবিত রাখতে পারেন। তিনি কাউকে শত শত বছর ঘুম পাড়িয়ে রাখতে পারেন, তারপর আবার জাগিয়ে তুলতে পারেন। যেমন তিনি করেছিলেন এই যুবকদের সঙ্গে। আর আল্লাহ চাইলে, যারা কবরে প্রবেশ করে মৃত্যুর ঘুমে তলিয়ে যায়, তাদেরও আবার জীবিত করে তোলা সম্ভব। আর এটি তাঁর জন্য মোটেও কঠিন নয়। আল্লাহ এই বাস্তবতাকে এই আয়াতে বর্ণনা করেছেন: “তিনিই রাতে তোমাদের আত্মা ফিরিয়ে নেন, আর দিনে তোমরা যা করো, তা জানেন; তারপর প্রতিদিন তোমাদের জাগিয়ে দেন, যেন তোমাদের নির্ধারিত সময় পূর্ণ হয়। তাঁর দিকেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন, তারপর তিনি তোমাদের জানিয়ে দেবেন তোমরা যা করতে।” আরেক আয়াতে আল্লাহ ব্যাখ্যা করেন, মৃত্যুর পর কীভাবে নতুন জীবন জন্ম নিতে পারে, যেমন মাটি থেকে একটি গাছ গজিয়ে ওঠে। “আল্লাহই তোমাদের পৃথিবী থেকে উদ্ভিদের মতো উৎপন্ন করেছেন। তারপর তিনি তোমাদের তাতেই ফিরিয়ে দেবেন, তারপর আবার সহজেই তোমাদের বের করে আনবেন।” শহরের মানুষরা সত্যটি বুঝে গেল। শেষ পর্যন্ত তাদের কাছে পরিষ্কার হলো, যখন তারা এই যুবকদের অবস্থা দেখল। তারা ভাবল, যে আল্লাহ তাদের এত বছর ঘুম পাড়িয়ে রেখেছেন, তারপর আবার জাগিয়ে তুলেছেন, তিনি নিশ্চয়ই মৃত্যুর পর আমাদেরও জীবিত করার ক্ষমতা রাখেন। ৩০০ বছরেরও বেশি সময় পর যখন তারা জেগে উঠল, সেই সময়ের মানুষের মধ্যে আখিরাত নিয়ে সন্দেহ ছিল। তারা বিতর্ক করত, মৃত্যুর পর পুনরুত্থান কীভাবে সম্ভব হতে পারে। “হয়তো বিচার দিবস শুধু একটি গল্প।” “না, আমাদের রব এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।” আসলে, সেই সময়ের শাসক মানুষকে তাওহীদের দিকে, আল্লাহর একত্ববাদের দিকে আহ্বান করছিলেন, আর কিয়ামতের দিনের পুনরুত্থানের রহস্য সম্পর্কে কথা বলছিলেন। কিন্তু কিছু মানুষ তখনও সন্দিহান ছিল। তারা মৃত্যুর পর জীবনে বিশ্বাস করতে পারছিল না। এতে তিনি গভীরভাবে দুঃখিত হতেন। আর তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন। “হে আমার রব, এই মানুষদের যে সত্য তারা অস্বীকার করছে, তার একটি নিদর্শন দেখান।” আর শেষ পর্যন্ত, যখন তিনি সেই যুবকদের একজনকে দেখলেন, আসহাবে কাহফ থেকে তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে আছে, তিনি আনন্দের সঙ্গে আশেপাশের মানুষদের তা জানালেন এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলেন। কারণ তিনি যে নিদর্শনের অপেক্ষায় ছিলেন, তা অবশেষে এসে গেছে। “তোমরা কি এখনও সন্দেহ করো যে, আল্লাহ মৃতদের আবার জীবিত করতে পারেন?” সেই মুহূর্তে, হাজার হাজার মানুষ গুহার দিকে ছুটে গেল, আসহাবে কাহফকে দেখতে। “বিশ্বাস করতে পারছি না, তারা ৩০০ বছরেরও বেশি সময় ঘুমিয়ে ছিল।” আর এর মাধ্যমে, আখিরাতের প্রতি মানুষের ঈমান এবং মৃতদের জীবিত করার আল্লাহর ক্ষমতার প্রতি বিশ্বাস আগের চেয়ে আরও দৃঢ় হয়ে গেল। মানুষ তাদের দেখার পর, যুবকেরা আবার গুহায় ফিরে গেল। তারপর তারা সবাই একসঙ্গে সিজদায় লুটিয়ে পড়ল। কিন্তু এবার, তারা কিয়ামতের দিন পর্যন্ত মৃত্যুর ঘুমে চলে গেল। আর এভাবেই, নিজেদের দায়িত্ব পূর্ণ করার পর, আসহাবে কাহফের দুনিয়ার পরীক্ষা অবশেষে শেষ হলো। তারা ছিল একদল যুবক, যারা আন্তরিকভাবে তাদের রবের প্রতি ঈমান এনেছিল। আমরা যখন নিজেদের জীবনের কষ্ট ও দুশ্চিন্তার দিকে তাকাই, আর পৃথিবীতে কত অন্যায় আছে তা দেখি, তখন উদ্বিগ্ন হয়ে প্রশ্ন করা সহজ: “কবে সবকিছু ভালো হবে?
কবে আমরা অবশেষে শান্তি অনুভব করব?” কিন্তু আসহাবে কাহফ কি সবচেয়ে বড় উদাহরণ নয়, যে আমাদের কখনো হতাশ হওয়া উচিত নয়? তারা কি প্রমাণ নয় যে, সবচেয়ে অসহায় পরিস্থিতিতেও, আল্লাহ মুক্তির দরজা খুলে দিতে পারেন? তারা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, যখন আমরা একা ও অসহায় অনুভব করি, আমাদের সবচেয়ে বড় সহায় হলেন আল্লাহ। আর তারা আমাদের দেখায়, সমাধান হলো তাঁর ওপর ভরসা করা। আর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি এর আরেক শক্তিশালী উদাহরণ নন? শুরুতে তিনিও একা ছিলেন, তাঁর পাশে মানুষ ছিল খুবি কম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কি তাঁর বার্তা কোটি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছেনি?
তিনি তাঁর রবের ওপর ভরসা করেছিলেন, তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন, আর অন্ধকার আলোতে পরিণত হয়েছিল। সবশেষে, চলুন দেখি আল্লাহ কুরআনে কী বলেন: “আল্লাহ মুমিনদের অভিভাবক। তিনি তাদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন।” আপনি কি নিয়মিতভাবে দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে কষ্ট অনুভব করেন?
অথবা হয়তো আপনি আরবিতে কুরআন পড়া শিখতে চান, এবং আপনার রবের আরও কাছে যেতে চান, কিন্তু কোথা থেকে শুরু করবেন বুঝতে পারছেন না। আপনার জন্য আমাদের কাছে দারুণ সুখবর আছে। এই যাত্রায় আপনাকে সাহায্য করার জন্য আমরা দুটি সম্পূর্ণ ফ্রি এবং বিজ্ঞাপনমুক্ত অ্যাপ তৈরি করেছি। আমাদের সালাত ট্র্যাকিং অ্যাপের মাধ্যমে আপনি ৪০ দিন আপনার নামাজ ট্র্যাক করতে পারবেন এবং আরও শক্তিশালী নামাজের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারবেন। আর Lamelif অ্যাপের মাধ্যমে, আপনি একদম শুরু থেকে কুরআন পড়া শিখতে পারবেন, ছোট, সহজ এবং আনন্দদায়ক লেসনের মাধ্যমে। আর দেরি করবেন না। আজই আপনার প্রথম পদক্ষেপ নিন, এবং ডেসক্রিপশনের লিংক থেকে অ্যাপগুলো ডাউনলোড করুন।
“আমাদের রব আসমানসমূহ ও পৃথিবীর রব।” চলুন, কুরআন ও অন্যান্য ঐতিহাসিক সূত্রের আলোকে এই অসাধারণ গল্পে একসঙ্গে প্রবেশ করি। “আর আপনি মনে করতেন তারা জেগে আছে, অথচ তারা ঘুমিয়ে ছিল। আর আমরা তাদের ডানে ও বামে ফিরিয়ে দিতাম, আর তাদের কুকুরটি গুহার প্রবেশমুখে তার সামনের পা দুটো ছড়িয়ে রেখেছিল।” “আপনি যদি তাদের দেখতেন, তাহলে তাদের ভয়ে পেছন ফিরে পালিয়ে যেতেন।” হ্যাঁ, এটি হয়তো ইতিহাসের সবচেয়ে রহস্যময় ঘটনাগুলোর একটি। কিন্তু এই মানুষগুলো কারা ছিলেন?
আরেকটি আয়াতে আল্লাহ বলেন: “হে নবী, আমরা আপনার কাছে তাদের ঘটনা সত্যসহ বর্ণনা করছি। তারা ছিল কয়েকজন যুবক, যারা সত্যিই তাদের রবের প্রতি ঈমান এনেছিল, আর আমরা তাদের হিদায়াত আরও বাড়িয়ে দিয়েছিলাম।” এটি ছিল ইসলামের আগেকার সময়। শেষ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখনও প্রেরিত হননি। আর খ্রিস্টধর্মও তখনও পুরোপুরি বিকৃত হয়নি। সেই সময়ে রোমান সাম্রাজ্যে বহু ঈশ্বরে বিশ্বাসের ব্যবস্থা ছিল। শুধু তাই নয়; যারা তাদের সঙ্গে যোগ দিতে অস্বীকার করত এবং আল্লাহতে বিশ্বাস করত, তাদের তারা নির্মমভাবে শাস্তি দিত। শাস্তিগুলোর একটি ছিল ক্রুশবিদ্ধ করা। কখনো কখনো মানুষকে জীবন্ত পুড়িয়েও মারা হতো। কিন্তু তবুও, ঈসা আলাইহিস সালামের সত্য অনুসারীরা তখনও ছিলেন। এমন মানুষ ছিলেন, যারা আল্লাহর আশ্চর্য নিদর্শনে বিশ্বাস করতেন। তাদের অধিকাংশই ছিল সাধারণ মানুষ— দরিদ্র, ক্ষমতাহীন এবং অসহায়। কিন্তু সব বিশ্বাসী দরিদ্র ছিলেন না। কেউ কেউ ছিলেন ধনী, আর কেউ কেউ বাস্তব ক্ষমতার অধিকারী। আর তাদের মধ্যেই কয়েকজন আসলে এই গল্পের প্রধান চরিত্র। একদল যুবক রোমান সাম্রাজ্যে উচ্চপদে অধিষ্ঠিত ছিল। তারা আল্লাহতে বিশ্বাস করত, কিন্তু তা গোপন রাখত। আর বিশ্বাসীদের সঙ্গে যা করা হচ্ছিল, তা তারা যত বেশি দেখত, তত বেশি তাদের হৃদয়ও ব্যথিত হতো। আর তারা মুক্তির পথ খুঁজতে শুরু করল। চাবুকের প্রতিটি আঘাত তাদের ওপরও পড়ছে বলে মনে হতো। তারা জানত, তাদের কিছু একটা করতেই হবে। কিন্তু তারা কী-ই বা করতে পারত?
করার মতো কীই বা ছিল?
তারা অসহায়ভাবে সব দেখছিল। মূলত, সম্রাটের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর মতো শক্তি তাদের ছিল না। আর তারা মুখ খুললে, তাদের সঙ্গে কী ঘটবে, তা তারা ভাবতেই পারছিলোনা। আর আরও একটি সমস্যা ছিল। এই যুবকেরা একে অপরের ব্যাপারেও জানত না। তারা ভিন্ন ভিন্ন দিনে, ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় ঈমান এনেছিল। আর তাদের কেউ জানত না, অন্যরাও বিশ্বাসী। নিজেদের সাধ্য অনুযায়ী, তারা প্রত্যেকে রোমানদের মূর্তিপূজার অনুষ্ঠান থেকে দূরে থাকত এবং তাতে অংশ নিতে অস্বীকার করত। আর শিগগিরই তারা বুঝতে পারবে, তারা সবাই আল্লাহর প্রতি ঈমানদার। মূর্তির সামনে মাথা নত করতে তাদের অস্বীকৃতি আর গোপন রাখা সম্ভব হলো না। “হে আমার প্রভু, আমি নিজের চোখে দেখেছি, তারা অনুষ্ঠান ছেড়ে চলে গেছে। আমাদের দেবতাদের সামনে আয়োজিত পবিত্র অনুষ্ঠানগুলোর প্রায় কোনোটিতেই তারা অংশ নেয় না।” “এটা আমাদের দেবতাদের জন্য ভয়াবহ অপমান!
তাদের অবিলম্বে আমার সামনে হাজির করো!” সেখানে, সিংহাসন কক্ষের শীতল মার্বেল মেঝেতে, এই যুবকেরা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ছিল। একে অপরের কাছে অপরিচিত, তবু তাদের হৃদয়ের একই অদৃশ্য আগুনে পরস্পরের সঙ্গে বাঁধা। “আমাকে বলা হয়েছে, তোমরা নাকী অন্য কাউকে উপাসনা করো। কে এই ঈশ্বর?!” চারদিকে শুধু নীরবতা। প্রথমবারের মতো, তারা যখন একে অপরের দিকে তাকাল, তারা নিজেদের লুকানো সত্যের প্রতিফলন দেখতে পেল। প্রহরীরা আঘাতের নির্দেশের অপেক্ষায় ছিল। আর সম্রাট আশা করছিল, তারা কাঁপবে অথবা দয়া ভিক্ষা চাইবে। কিন্তু এই তরুণ বিশ্বাসীরা আর ভয় পাচ্ছিল না। তাদের হৃদয়ের সত্যের সামনে রোমের শক্তিও এখন ছোট মনে হচ্ছিল। সত্য উচ্চস্বরে বলার এটাই ছিল মুহূর্ত। আল্লাহ তার হৃদয়ে যে সাহস স্থাপন করেছিলেন, তা নিয়ে তাদের একজন সম্রাটের সামনে উচ্চস্বরে বলে উঠল: “আমাদের রব আসমানসমূহ ও এই পৃথিবীর রব। আমরা কখনোই তাঁকে ছাড়া অন্য কোনো উপাস্যকে ডাকতে পারবো না। তাহলে আমরা সত্যিই এক ভয়াবহ মিথ্যা বলে বসব।” সবাই হতবাক হয়ে স্থির হয়ে গেল। সম্রাটের সামনে কেউ এমন কথা কীভাবে বলতে পারে?
সেই একটি সাহসী কাজ অন্যদেরও সাহস দিল। একসঙ্গে তারা সামনে এগিয়ে এলো, আর এতদিন লুকিয়ে রাখা ঈমান ঘোষণা করতে শুরু করল। “আমাদের রব আসমানসমূহ ও এই পৃথিবীর রব। আমরা কখনোই তাঁকে ছাড়া অন্য কোনো উপাস্যকে ডাকতে পারবো না। তাহলে আমরা সত্যিই এক ভয়াবহ মিথ্যা বলে বসব।” “আমাদের এই জাতি তাঁকে ছাড়া অন্য উপাস্য গ্রহণ করেছে। তারা কেন তাদের বিষয়ে স্পষ্ট প্রমাণ হাজির করে না?
আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রচনাকারীর চেয়ে অধিক জালিম আর কে হতে পারে?” সম্রাট একদল যুবকের হাতে অপমানিত হয়েছিল। সে যখন তাদের দিকে তাকাল, দেখল তারা সাধারণ নাগরিক নয়; তারা ক্ষমতাশালী ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। এখনই যদি সে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেয়, মানুষ হয়তো তাদের বীর হিসেবে দেখবে, আর তাদের সম্ভ্রান্ত পরিবারগুলো সিংহাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যাবে। তাই সে ভিন্ন পথ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। তার কণ্ঠ শান্ত ও পিতৃসুলভ হয়ে উঠল। সে তাদের উচ্চ মর্যাদা, সম্পদ, আর যে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ তারা হারাতে যাচ্ছে, তা স্মরণ করিয়ে দিল। “তোমাদের কথাকে আমি যৌবনের বোকামি হিসেবে নিচ্ছি। আমি তোমাদের এক দিন সময় দিচ্ছি। যদি তোমরা বুদ্ধিতে ফিরে আসো এবং রোমের প্রাচীন রীতিতে ফিরে আসো, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দেবো। তোমরা যেতে পারো।” যুবকেরা নীরবে সিংহাসন কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে গেল। এখন তারা কী করবে?
প্রাসাদের ফটক দিয়ে বের হওয়ার সময়, তারা নিজেদের সম্পদের কথা একটুও ভাবছিল না। দীর্ঘ আলোচনার কোনো প্রয়োজনই ছিল না। তারা জানত, শহর থেকে পালিয়ে নিজেদের ঈমান রক্ষার এটাই একমাত্র সুযোগ। যা তারা বিশ্বাস করত, তা ছাড়াতে কোনো কিছুই তাদের বাধ্য করতে পারবে না। কিন্তু সম্রাটের সৈন্যরা ছিল সর্বত্র। তাই তারা সঙ্গে সঙ্গে যাওয়ার মতো কোনো একটা জায়গা খুঁজতে শুরু করল। তারা ডানে-বামে তাকাল, আর যেদিকেই ফিরল, সেখানে এমন মানুষে ভরা ছিল, যারা তাদের ধরিয়ে দিয়ে গ্রেপ্তার করাতে পারত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত, তারা শহর থেকে বের হতে সক্ষম হলো। পথে কিতমির নামে একটি কুকুর তাদের সঙ্গে যোগ দিল। সে তাদের পাশ ছাড়ছিল না। সে শুধু তাদের অনুসরণ করতেই থাকল। অবশেষে তারা একটি গুহায় আশ্রয় নিল, যাকে অনেকে পিয়ন পর্বত বলে মনে করেন। যদিও কেউ কেউ বলেন, তা ছিল আংকিয়ালুস পর্বত। আর সেখানে, সেই গুহায়, নিজেদের রবের ওপর ভরসা করে, তারা এই দোয়া করল: “হে আমাদের রব, আপনার পক্ষ থেকে আমাদের রহমত দান করুন, আর আমাদের কাজে সঠিক পথনির্দেশের ব্যবস্থা করে দিন।” এদিকে সম্রাট ইতোমধ্যেই তাদের ধরার জন্য বিশাল তল্লাশির নির্দেশ দিয়েছিল। “অবিলম্বে ব্যাপক তল্লাশি শুরু করো। আমি চাই এই যুবকদের শিগগিরই খুঁজে বের করা হোক।” তারা সর্বত্র খুঁজল, উঁচু-নিচু সব জায়গায়। কিন্তু তাদের রব আল্লাহ তাদের রক্ষা করলেন, আর শত্রুদের হাত থেকে দূরে রাখলেন। “কোনো জায়গা যেন তল্লাশি ছাড়া না থাকে!
প্রতিটি পাথরের নিচে খুঁজে দেখো!” সেই গুহায়, আল্লাহ ওই যুবকদের অলৌকিকভাবে ৩০০ বছরেরও বেশি সময় ঘুম পাড়িয়ে রাখলেন। সূরা আল-কাহফে আল্লাহ তাদের অবস্থার বর্ণনা দিয়েছেন, গুহার ভেতরে এভাবে: “আর আপনি সূর্যকে দেখতেন, যখন তা উদিত হতো, তাদের গুহার ডান দিক থেকে সরে যেত। আর যখন তা অস্ত যেত, তাদের বাম দিক থেকে সরে যেত, আর তারা গুহার ভেতরের প্রশস্ত স্থানে শুয়ে ছিল। এটি আল্লাহর নিদর্শনগুলোর একটি।” আর ৩০৯ বছর কেটে গেল। এত বছর পর, আসহাবে কাহফ, অর্থাৎ গুহাবাসীরা জেগে উঠল। কিন্তু তাদের সঙ্গে কী ঘটেছে, তা তারা জানত না। তারা ভাবতে লাগল, কতক্ষণ তারা ঘুমিয়েছিল। “আমরা কতক্ষণ ঘুমালাম?
হয়তো এক দিন, অথবা এক দিনের কিছু অংশ। আল্লাহই ভালো জানেন।” কিন্তু বাস্তবে, শতাব্দী কেটে গিয়েছিল। সেই দীর্ঘ ঘুমের পর, তারা ক্ষুধার্ত ছিল। “চল, খাবারের জন্য কাউকে শহরে পাঠাই।” “আমি শহরে যাব।” “সাবধান থাকবেন। কেউ যেন আপনাকে দেখতে না পায়।” “চুপচাপ যাবেন। সৈন্যরা আপনাকে ধরে ফেলতে পারে।” “আমি সাবধান থাকব।” কিন্তু পথে, সে অদ্ভুত কিছু লক্ষ্য করল। শহরটি সম্পূর্ণ বদলে গেছে। মন্দিরের জায়গায় গির্জা এসেছে। সে আর মূর্তি দেখতে পেল না। কি ঘটছে?
মানুষের পাশ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে সে বুঝল, তারা এক স্রষ্টার কথা বলছে। তাই সেই সাহসী মুহূর্ত, যখন তারা সম্রাটের সামনে দাঁড়িয়ে সত্য বলেছিল, তা আজও বিশ্বাসীদের অনুপ্রাণিত করে চলেছে। যুবকটি শহরের ভেতরে এগিয়ে গেল। সে হতবাক হয়ে গেল। কিন্তু সে ক্ষুধার্তও ছিল। তাই রুটি কিনতে সে একটি দোকানে ঢুকল। “সুপ্রভাত।” সে নিজের ও অন্যদের জন্য কয়েকটি রুটি কিনল। তারপর রুটির দাম দিতে একটি রূপার মুদ্রা এগিয়ে দিল। রুটিওয়ালা মুদ্রাটির দিকে তাকিয়ে রইল। “এই মুদ্রা...” সে বিভ্রান্ত হয়ে গেল। “...আপনি এটা কোথায় পেলেন?” সে ভাবল, যুবকটি নিশ্চয়ই কোনো গুপ্তধন পেয়েছে, কারণ মুদ্রাটি ছিল শত শত বছর আগের। রুটিওয়ালা সঙ্গে সঙ্গে কর্তৃপক্ষকে তার খবর দিল। “আমি তাকে পূর্ব ফটকের কাছে দেখেছি। দয়া করে, সে কোনো ক্ষতি করতে চায়নি।” -“সে কোন দিকে গেছে?” -“বাজারের দিকে।” যুবকটিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রাসাদে নিয়ে যাওয়া হলো। আর তখনই বিষয়টি তার কাছে পরিষ্কার হয়ে গেল। তারা এক দিন ঘুমায়নি। তারা শতাব্দীর পর শতাব্দী ঘুমিয়ে ছিল। সবকিছু ছিল আল্লাহর হাতে। তিনি চাইলে তাঁর কোনো বান্দাকে যেভাবে চান, জীবিত রাখতে পারেন। তিনি কাউকে শত শত বছর ঘুম পাড়িয়ে রাখতে পারেন, তারপর আবার জাগিয়ে তুলতে পারেন। যেমন তিনি করেছিলেন এই যুবকদের সঙ্গে। আর আল্লাহ চাইলে, যারা কবরে প্রবেশ করে মৃত্যুর ঘুমে তলিয়ে যায়, তাদেরও আবার জীবিত করে তোলা সম্ভব। আর এটি তাঁর জন্য মোটেও কঠিন নয়। আল্লাহ এই বাস্তবতাকে এই আয়াতে বর্ণনা করেছেন: “তিনিই রাতে তোমাদের আত্মা ফিরিয়ে নেন, আর দিনে তোমরা যা করো, তা জানেন; তারপর প্রতিদিন তোমাদের জাগিয়ে দেন, যেন তোমাদের নির্ধারিত সময় পূর্ণ হয়। তাঁর দিকেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন, তারপর তিনি তোমাদের জানিয়ে দেবেন তোমরা যা করতে।” আরেক আয়াতে আল্লাহ ব্যাখ্যা করেন, মৃত্যুর পর কীভাবে নতুন জীবন জন্ম নিতে পারে, যেমন মাটি থেকে একটি গাছ গজিয়ে ওঠে। “আল্লাহই তোমাদের পৃথিবী থেকে উদ্ভিদের মতো উৎপন্ন করেছেন। তারপর তিনি তোমাদের তাতেই ফিরিয়ে দেবেন, তারপর আবার সহজেই তোমাদের বের করে আনবেন।” শহরের মানুষরা সত্যটি বুঝে গেল। শেষ পর্যন্ত তাদের কাছে পরিষ্কার হলো, যখন তারা এই যুবকদের অবস্থা দেখল। তারা ভাবল, যে আল্লাহ তাদের এত বছর ঘুম পাড়িয়ে রেখেছেন, তারপর আবার জাগিয়ে তুলেছেন, তিনি নিশ্চয়ই মৃত্যুর পর আমাদেরও জীবিত করার ক্ষমতা রাখেন। ৩০০ বছরেরও বেশি সময় পর যখন তারা জেগে উঠল, সেই সময়ের মানুষের মধ্যে আখিরাত নিয়ে সন্দেহ ছিল। তারা বিতর্ক করত, মৃত্যুর পর পুনরুত্থান কীভাবে সম্ভব হতে পারে। “হয়তো বিচার দিবস শুধু একটি গল্প।” “না, আমাদের রব এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।” আসলে, সেই সময়ের শাসক মানুষকে তাওহীদের দিকে, আল্লাহর একত্ববাদের দিকে আহ্বান করছিলেন, আর কিয়ামতের দিনের পুনরুত্থানের রহস্য সম্পর্কে কথা বলছিলেন। কিন্তু কিছু মানুষ তখনও সন্দিহান ছিল। তারা মৃত্যুর পর জীবনে বিশ্বাস করতে পারছিল না। এতে তিনি গভীরভাবে দুঃখিত হতেন। আর তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন। “হে আমার রব, এই মানুষদের যে সত্য তারা অস্বীকার করছে, তার একটি নিদর্শন দেখান।” আর শেষ পর্যন্ত, যখন তিনি সেই যুবকদের একজনকে দেখলেন, আসহাবে কাহফ থেকে তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে আছে, তিনি আনন্দের সঙ্গে আশেপাশের মানুষদের তা জানালেন এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলেন। কারণ তিনি যে নিদর্শনের অপেক্ষায় ছিলেন, তা অবশেষে এসে গেছে। “তোমরা কি এখনও সন্দেহ করো যে, আল্লাহ মৃতদের আবার জীবিত করতে পারেন?” সেই মুহূর্তে, হাজার হাজার মানুষ গুহার দিকে ছুটে গেল, আসহাবে কাহফকে দেখতে। “বিশ্বাস করতে পারছি না, তারা ৩০০ বছরেরও বেশি সময় ঘুমিয়ে ছিল।” আর এর মাধ্যমে, আখিরাতের প্রতি মানুষের ঈমান এবং মৃতদের জীবিত করার আল্লাহর ক্ষমতার প্রতি বিশ্বাস আগের চেয়ে আরও দৃঢ় হয়ে গেল। মানুষ তাদের দেখার পর, যুবকেরা আবার গুহায় ফিরে গেল। তারপর তারা সবাই একসঙ্গে সিজদায় লুটিয়ে পড়ল। কিন্তু এবার, তারা কিয়ামতের দিন পর্যন্ত মৃত্যুর ঘুমে চলে গেল। আর এভাবেই, নিজেদের দায়িত্ব পূর্ণ করার পর, আসহাবে কাহফের দুনিয়ার পরীক্ষা অবশেষে শেষ হলো। তারা ছিল একদল যুবক, যারা আন্তরিকভাবে তাদের রবের প্রতি ঈমান এনেছিল। আমরা যখন নিজেদের জীবনের কষ্ট ও দুশ্চিন্তার দিকে তাকাই, আর পৃথিবীতে কত অন্যায় আছে তা দেখি, তখন উদ্বিগ্ন হয়ে প্রশ্ন করা সহজ: “কবে সবকিছু ভালো হবে?
কবে আমরা অবশেষে শান্তি অনুভব করব?” কিন্তু আসহাবে কাহফ কি সবচেয়ে বড় উদাহরণ নয়, যে আমাদের কখনো হতাশ হওয়া উচিত নয়? তারা কি প্রমাণ নয় যে, সবচেয়ে অসহায় পরিস্থিতিতেও, আল্লাহ মুক্তির দরজা খুলে দিতে পারেন? তারা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, যখন আমরা একা ও অসহায় অনুভব করি, আমাদের সবচেয়ে বড় সহায় হলেন আল্লাহ। আর তারা আমাদের দেখায়, সমাধান হলো তাঁর ওপর ভরসা করা। আর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি এর আরেক শক্তিশালী উদাহরণ নন? শুরুতে তিনিও একা ছিলেন, তাঁর পাশে মানুষ ছিল খুবি কম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কি তাঁর বার্তা কোটি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছেনি?
তিনি তাঁর রবের ওপর ভরসা করেছিলেন, তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন, আর অন্ধকার আলোতে পরিণত হয়েছিল। সবশেষে, চলুন দেখি আল্লাহ কুরআনে কী বলেন: “আল্লাহ মুমিনদের অভিভাবক। তিনি তাদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন।” আপনি কি নিয়মিতভাবে দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে কষ্ট অনুভব করেন?
অথবা হয়তো আপনি আরবিতে কুরআন পড়া শিখতে চান, এবং আপনার রবের আরও কাছে যেতে চান, কিন্তু কোথা থেকে শুরু করবেন বুঝতে পারছেন না। আপনার জন্য আমাদের কাছে দারুণ সুখবর আছে। এই যাত্রায় আপনাকে সাহায্য করার জন্য আমরা দুটি সম্পূর্ণ ফ্রি এবং বিজ্ঞাপনমুক্ত অ্যাপ তৈরি করেছি। আমাদের সালাত ট্র্যাকিং অ্যাপের মাধ্যমে আপনি ৪০ দিন আপনার নামাজ ট্র্যাক করতে পারবেন এবং আরও শক্তিশালী নামাজের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারবেন। আর Lamelif অ্যাপের মাধ্যমে, আপনি একদম শুরু থেকে কুরআন পড়া শিখতে পারবেন, ছোট, সহজ এবং আনন্দদায়ক লেসনের মাধ্যমে। আর দেরি করবেন না। আজই আপনার প্রথম পদক্ষেপ নিন, এবং ডেসক্রিপশনের লিংক থেকে অ্যাপগুলো ডাউনলোড করুন।