খ্রিষ্টধর্ম বনাম ইসলামে নারীর মর্যাদা - নারী অধিকার, বহুবিবাহ, হিজাব... @DrSabbelAhmed
প্রকাশের তারিখ
খ্রিস্টানরা, বিশেষ করে নারীরা, প্রায়ই ইসলামের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেন, মুসলিম নারীরা কেন হিজাব পরেন? এটা কি তাদের কে সীমাবদ্ধ করে রাখা নয়?
বিশ্বের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় যার কার্যক্রম এখনো চলমান, তার গোড়াপত্তন একজন হিজাব পরিহিতা মুসলিম নারীই করেছেন। আমাদের নবীর আগমনের পূর্বে, নারীদের দমন করে রাখা হয়েছিল। তাদেরকে সম্পত্তি ভাবা হতো। তাদেরকে আক্ষরিক অর্থে উত্তরাধিকার হিসেবে গ্রহন করা হতো। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, মানুষ ইসলামকে, সংস্কৃতিক প্রথা দ্বারা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যা দেখে তার দ্বারা বিচার করে। কিন্তু ইসলামকে নারীদের নিয়ে ইসলামের দেওয়া নির্দেশনা এবং তাদের অধিকার এবং ক্ষমতায়ন দিয়ে বিচার করা উচিত। ওল্ড টেস্টামেন্টের বর্ণণা অনুযায়ী মোটামুটি সব নবী একাধিক বিবাহ করেছিলেন। ইচ্ছেমত বহুবিবাহ, কোনও বিধিনিষেধ নেই। কোনও দায়িত্বও নেই। ইসলাম এসেছিল বহুবিবাহকে সীমাবদ্ধ করতে। সুতরাং, এ দেশে ১৮,০০০ এর কাছাকাছি অমুসলিম নারী, যখন তারা ইসলামে নারীর অধিকার সম্পর্কে জানছেন, তারা ধর্মান্তরিত হচ্ছেন। আসসালামু আলাইকুম ডঃ সাবিল আহমেদ। টোয়ার্ডস ইটারনিটিতে আবারও আপনাকে স্বাগতম। গত ভিডিওতে আমরা সেই প্রশ্নগুলো করেছি যা অনেক খ্রিস্টান ইসলাম সম্পর্কে চিন্তা করে। আমরা আজকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবসময়ে আসে এমন সব প্রশ্ন একত্রিত করেছি। আপনি যদি তৈরি থাকেন, তাহলে শুরু করা যাক। ইতিহাস জুড়ে, নারীদের প্রতি অন্যায় আচরন করা হয়েছে এবং বিভিন্ন সমাজে দ্বিতীয় শ্রেণি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। আপনি জানেন যে নারীদেরকে দমন ও নিপীড়ন করা হয়েছে, আপনি কি আমাদের ইসলামকে নারীদের অবস্থান সম্পর্কে বলতে পারবেন?
তো মানুষ যখন, ইসলামে নারীদের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চান, তারা হয়ত ভাবতে পারেন, জানেন তো?
ইসলামে নারীরা অবদমিত, নিপীড়িত, অত্যাচারিত কোন অধিকার নেই, দ্বিতীয় শ্রেণি, কোন স্বাধীনতা নেই। বাস্তবতা আসলে অনেক ভিন্ন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, মানুষ ইসলামকে, সংস্কৃতিক প্রথা দ্বারা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যা দেখে তার দ্বারা বিচার করে। কিন্তু ইসলামকে নারীদের নিয়ে ইসলামের দেওয়া নির্দেশনা এবং তাদের অধিকার এবং ক্ষমতায়ন দিয়ে বিচার করা উচিত। কুরআনের মাধ্যমে, যা কি না আল্লাহর বাণী, এবং নবী মুহাম্মাদ (সা:) এর উদাহরন দিয়ে। তবে আপনি সঠিক যখন আপনি নবীর আগমনের পূর্বের ইতিহাসে নারীদের অবস্থা দেখেন, যেখানে নারীরা অবদমিত ছিল। তাদের কে সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হতো এবং তাদেরকে আক্ষরিক অর্থে উত্তরাধিকার হিসেবে গ্রহন করা হতো। কিন্তু যখন ইসলাম আসলো, যখন নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) এর মাধ্যমে আল্লাহ সঠিক পথনির্দেশ দিলেন, নারীর ক্ষমতায়ন হলো। নারীকে পুরষ্কারের মধ্যে সমতা এবং স্বাধীনতা দান করা হলো। আচ্ছা এগুলোর মধ্যে কিছু বিষয় সম্পর্কে কি বলবেন?
যদি দ্রুত একটা তালিকার কথা বলি। সর্বপ্রথম হলো শিক্ষার অধিকার। ১৮৪৪ সালের পরে, এই দেশে, আমেরিকান নারীরা, উচ্চ শিক্ষার অধিকার পেয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছেন, স্নাতক সম্পন্ন করছেন, তাইনা? ইসলাম নারীদের সেই অধিকার সপ্তম শতাব্দীতেই দিয়েছে। ইসলাম শুধু অধিকারই দেয়নি, নারী পুরুষ উভয়ের জন্য ইসলাম শিক্ষা গ্রহনকে বাধ্যতামূলকও করেছে। শুধুমাত্র ক্ষমতায়ন নয়...
মুসলিম নারীরা এই বাধ্যবাধকতার দ্বারা এবং তাদের শিক্ষা গ্রহনের অধিকারের কারণে তাদের ক্ষমতায়ন হয়েছিলো। বিশ্বের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় যার কার্যক্রম এখনো চলমান, বাক্যটি খেয়াল করুন, বিশ্বের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় যার কার্যক্রম এখনো চলমান, তার গোড়াপত্তন একজন হিজাব পরিহিতা মুসলিম নারীই করেছেন। তার নাম ফাতিমা আল-ফিহরি। সেটি ১৮৫৯ সালে, মরক্কোর, ফেয শহরে। কে এই তথ্য দিয়েছে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস এবং ইউনেস্কো। ইসলামে নারীকে দেওয়া দ্বিতীয় অধিকার হচ্ছে, নারীদের উত্তরাধিকার পাওয়া অধিকার। দেখুন, আপনি যদি ওল্ড টেস্টামেন্ট দেখেন, একজন বাবার যদি দুইজন পুত্র এবং একজন কন্যা থাকে, তাহলে কন্যা কোন উত্তরাধিকার পাবে না। শূন্য উত্তরাধিকার, কারন একজন পুত্র আছে। পুত্রই সকল উত্তরাধিকার পাবে। যদি শুধু কন্যারা থাকে তাহলে তারা কিছু উত্তরাধিকার পাবে। কিন্তু ইসলাম নারীকে উত্তরাধিকারের নিশ্চয়তা দিয়েছে। স্ত্রী হিসেবে, মা হিসেবে, কন্যা হিসেবে, বোন হিসেবে, ঠিক না?
তো, নারীদের জন্য উত্তরাধিকারের নিশ্চয়তা। যখন সম্পত্তির মালিকানার কথা আসে, জানেন তো, এইদেশে, ১৮০০ শতকের মাঝামাঝি সময়ের এর আগে সেটা হয়নি। শ্বেতাঙ্গ নারী, ঠিক না? কৃষ্ণাঙ্গ নয়, বাদামি নয়, চাইনিজ নয়, ভারতীয় নয়। শ্বেতাঙ্গ নারীরা, ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের শ্বেতাঙ্গ বিবাহিত নারীরা, তারা শিকাগো অঙ্গরাজ্যে, ১৮৬১ সালে, সম্পত্তির মালিক হবার অধিকার লাভ করেন। ইসলাম সেটা সপ্তম শতকেই দিয়েছে, তাইনা?
খেয়াল করুন, তুলনা করলে অন্তত ১৩ শতাব্দী পরে। আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ নারী অধিকার ইসলাম দিয়েছে। তা হচ্ছে ডিভোর্স দেওয়ার অধিকার। ওল্ড টেস্টামেন্ট এ, নারীর সে অধিকার নেই। এমনকি ক্যাথলিক মতবাদেও, নারীর এ অধিকার নেই। ইসলাম সেই অধিকার দিয়েছে কারন এটা বাস্তবতা, আমরা জানি যে প্রত্যেক বিবাহই সবসময়ের জন্য আদর্শ বিবাহ হবে না। সংঘর্ষও হতে পারে, তাইনা?
কিছু মানুষ এমন বিবাহে আটকে যেতে পারে যা থেকে তারা বের হয়ে আসতে চায়। ইসলাম বাস্তবসম্মত। তো ইসলাম নারীকে ডিভোর্স নেওয়ার অধিকার দিয়েছে। অন্য ধর্মে, এই বিষয়টি থাকলে ইসলামে নারীর এ অধিকারটি আছে। এবং এটাও আপনি জানেন, আর, ঘরে তার দায়িত্ব সন্তান এবং পরিবারকে দেখাশোনা করা। কিন্তু তার আর্থিক দায়িত্ব, শূন্য। তিনি বিল গেটস হতে পারেন। তিনি নারীদের জেফ বেজোস হতে পারেন। হতে পারে তিনি একজন বিলিয়নিয়ার, দুনিয়ার সবচেয়ে ধনী মানুষ হতে পারেন। তারপরেও, তাকে তার বাড়ির জন্য, তার পরিবারের জন্য একটি আধুলিও খরচ করতে হবেনা। তিনি পারবেন, তাইনা?
কিন্তু তাকে করতে হবেনা। ১০০ ভাগ আর্থিক দায়িত্ব স্বামীর। তো এই হলো ইসলামের দেওয়া নারীর কিছু অধিকারসমূহ। সুতরাং আমার অমুসলিম ভাইবোনদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ। ইসলামকে সংস্কৃতি দিয়ে বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দিয়ে বিচার করবেন না। ইসলামকে কুরআন পড়ে বিচার করবেন, এবং নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) এর অপূর্ব জীবনী সম্পর্কে জানবেন। আশ্চর্যজনক বিষয়, একটি আশ্চর্যজনক বিষয়। ইসলাম সম্পর্কে যত ভুল ধারনা আছে, তার মধ্যে এক নম্বর হচ্ছে ইসলামে নারী। কিন্তু, যখন আমাদের অমুসলিম ভাই-বোনেরা, ইসলাম সম্পর্কে জানছেন, যখন ইসলাম মুসলিম নারীকে যে অধিকার, মর্যাদা, ক্ষমতা দিয়েছে তা জানছেন, তারা ইসলাম ধর্ম গ্রহন করছেন। তাই, এ দেশে ১৮,০০০ এর কাছাকাছি অমুসলিম নারী, যখন তারা ইসলামে নারীর অধিকার সম্পর্কে জানছেন, তারা ধর্মান্তরিত হচ্ছেন। প্রতি বছর ১৮,০০০। যুক্তরাজ্যে সংখ্যাটা প্রায় ৫০০০ প্রতি বছর। ইসলামি শরিয়াহ মতে, নারী পুরুষের অর্ধেক সম্পত্তি পাবে। এগুলো কি ন্যায়ের বিপরীত এবং নারীদের জন্য অপমানজনক নয়?
ঠিক আছে, কিছু মানুষ উত্তরাধিকার আইন দেখে বলে সপ্তম শতকে মানুষের কাছে কুরআনের নির্দেশনা আসার আগে, এবং অবশ্যই কারনটা হচ্ছে পুরুষ, যখন সে বেড়ে উঠছে, বিবাহ করলেই পরিবারের ১০০ ভাগ আর্থিক দায়িত্ব তার ওপর বর্তাবে। একজন নারীর ক্ষেত্রে সেই দায়িত্ব শুন্য। স্ত্রীর কোন আর্থিক দায়িত্ব নেই। তাই পুরুষের বেশি উত্তরাধিকার পাওয়া যুক্তিযুক্ত কারন তাকে পরিবারের জন্য খরচ করতে হয়। একজন নারীর, খরচ করতে হয়না। তারমানে, তার এত বেশি উত্তরাধিকার প্রয়োজন নেই। এ কারনেই এই অসমতা। আপনি যদি বাইবেলের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেন, এবং ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেন, তাহলে এটা বেশি ন্যায়সঙ্গত। বিষয়টি সাধারণ বোধের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পারিবারিক প্রেক্ষাপটে বেশি বাস্তবসম্মত। খ্রিস্টানরা, বিশেষ করে নারীরা, প্রায়ই ইসলামের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেন মুসলিম নারীরা কেন হিজাব পরেন?
এটা কি একটা সীমাবদ্ধতা নয়? এটা কি নিপিড়ন নয়? যখন আমি কলম্বাসে গিয়েছিলাম, সেখানে একটি খোলা বাড়ি ছিল। সেখানে একজন খ্রিস্টান নারীর কাছ থেকে একটা প্রস্ন এসেছিল। তিনি বলেছিলেন, কেন নারীদের হিজাব পরতে জোর করা হয়? সে সময়ের ইরানের দিকে দেখুন, হিজাব নিয়ে বিতর্ক চলছিল। আমি তখন তাকে বললাম, "আমরাতো সবাই পোশাক পরি। আমরা কেন পোশাক পরি?" আমি উল্লেখ করলাম আর তিনি জানেন। "শালীনতা এবং ভদ্রতার জন্য।" "তাহলে, হিজাব পরাও শালীনতা ও ভদ্রতার জন্য, তাই না?" আমি তার সাথে যৌক্তিক ভাবে আগাতে চাইছিলাম। তো তারপর আমি সেই খ্রিস্টান নারীকে উল্লেখ করলাম, "এটা কি ঠিক যে কেউ তার পোশাক যেভাবে ইচ্ছা পরিধান করতে পারে?
আমাদের মেয়েরা, ছেলেরা, বয়স্করা, যে কেউ। নাকি সমাজে শালীনতার কিছু নিয়মকানুন থাকা দরকার?" তিনি বললেন, "শালীনতার কিছু নিয়মকানুন থাকা দরকার, নাহলে মানুষ নারীদের জন্য পোশাক ছাড়া বের হতে পারে।" সুতরাং শালীনতার কিছু নিয়ম থাকা দরকার। তাহলে কে এই নিয়ম ঠিক করে দেবে? সেটা কি সংস্কৃতি ঠিক করবে?
সেটা যুক্তি যুক্ত হবেনা, কারন একজন এক কথা বলবে, তো আরেকজন আরেক কথা বলবে। সেটা ব্যক্তিনির্ভর হয়ে যায়। সুতরাং শালীনতার নিয়মকানুন, এবং সকল নিয়মকানুন, সবকিছু সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে আসা দরকার কোনটা আমাদের জন্য এবং সমাজের জন্য ভাল। তিনিই ইসলামের শালীনতার নিয়মকানুন বানিয়েছেন। তাই, এককথায়, নারীরা যারা হিজাব পরেন, কারন তারা সৃষ্টিকর্তার নির্দেশ পালন করছেন। এটা তাদের জন্য বাধ্যতামুলক। এটা পবিত্র কুরআনে দুই জায়গায় আছে। ২৪ নম্বর সুরার, ৩১ নম্বর আয়াত, এবং ৩৩ নম্বর সুরার, ৫৯ নম্বর আয়াত। তারপর আমি একটা উপমা দেই, মানুষকে একটা ছোট একটা উপমা দেই যে স্কুল ও কলেজে, একটা ড্রেস কোড থাকে। কখনো কখনো শর্টস পরতে হয়। উদাহরন স্বরূপ আপনি ছোট শর্টস পরতে পারবেননা। আপনি হুডি পরতে পারবেন না, বা সেই জাতীয় জিনিস। স্কুল কলেজেও নিয়ম কানুন আছে। আপনি যদি হাসপাতালে কাজ করেন, সেখানেও নিয়মকানুন আছে আপনাকে নির্ধারিত পোশাক পড়তে হবে। আপনি যদি কোন রেস্টুরেন্টে যান?
কোন শার্ট নেই, জুতা নেই, কোন সার্ভিসও নেই। সেরকম কিছু। সুতরাং, আল্লাহ আমাদের শালীনতার কিছু নিয়মকানুন দিয়েছেন। তো আমি খ্রিস্টানদেরকে, ইহুদিদেরকে এবং অন্যদেরকে বলি, শালীনতার নিয়মকানুন শুধু নারীদের জন্যই নয়, পুরুষদের জন্যও। ইসলামে শালীনতা কেবল যা আমরা পরিধান করি তাই নয়। চোখেরও শালীনতা আছে। আমি একজন নারীর দিকে লালসা ভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে পারবনা। শালীনতা কেবল ইসলামেই নেই। ইহুদি ধর্মেও আপনি যদি লক্ষ্য করেন, একজন ইহুদি বিবাহিতা নারী চুল দেখাতে পারবেনা। একজন খ্রিস্টান নারী, বিশেষ করে যখন তিনি চার্চে যান , তিনি চুল দেখাতে পারবেন না। হিজাবের বিষয়টি ওল্ড এবং নিউ টেস্টামেন্টেও আছে। করিন্থিয়ানদের প্রথম বই এর, ১১ নম্বর অধ্যায়, পাঁচ ও ছয় নম্বর অনুচ্ছেদে, একজন খ্রিস্টান নারীকে হিজাব পরতে বলা হয়েছে। তিনি তার চুল দেখাতে পারবেন না। যদি তিনি তার চুল দেখান, তাহলে তা অসম্মানজনক। এটা অনেকটা এরকম যে, তাকে তার চুল কামিয়ে ফেলতে হবে, তাই না?
যীশুর মা মরিয়ম, যিনি সতীত্বের প্রতীক, তিনি নিজেও হিজাব পরতেন। তাই যখন মুসলিম মহিলারা, হিজাব পরিধান করেন, তখন তারাও যীশুর মা মরিয়মকে, তাদের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করছেন। জানেন, একবার আমি বক্তব্য দিচ্ছিলাম। আমিশ চার্চ থেকে কিছু খ্রিষ্টান আসলেন। তারা আসলে আমার বক্তব্য শেষ হওয়ার পরে এসেছিলেন। আমি তাদের প্রত্যেককেই লক্ষ্য করলাম, তারা তাদের চুল ঢেকে রেখেছিলেন। তো আমি তাদের প্রশ্নটা জিজ্ঞাসা করলাম। "আমার প্রিয় বোনেরা, আপনারা সবাই মুসলিম মহিলাদের মতো হিজাব পরে আছেন। আমাকে এর কারণটা বলুন" তারা বললেন, "আমরা বাইবেল অনুসরণ করছি। বাইবেল আমাদেরকে হিজাব পরতে অথবা চুল ঢেকে রাখতে আদেশ দেয়।" আসলে হিজাব সকল সংস্কৃতিতেই আছে, এমনকি ধর্মনিরপেক্ষ সমাজেও রয়েছে। ঠিক একই কারণে। তাদের শালীনতা, পবিত্রতা ও ব্যক্তিত্বের জন্য এবং তাদেরকে আল্লাহ যে রহমত প্রদান করেছেন সেজন্য তাদের মূল্যায়ন করা উচিত এবং প্রশংসা করা উচিত। ইসলামে, যদি একজন পুরুষ চায়, তাহলে তিনি চারজন পর্যন্ত নারীকে বিয়ে করতে পারেন। এখনকার সময় ও যুগে এসে এটা আসলে কতোটা উপযুক্ত?
এ ধরণের নিয়ম কেন আছে?
এটা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। মানবজাতির কাছে ৭ম শতাব্দীতে কুরআনের দিকনির্দেশনা আসার আগে, প্রতিটি সংস্কৃতি, প্রতিটি ধর্মের মধ্যে, তাদের মধ্যে বহুবিবাহ প্রথার প্রচলন ছিল, অর্থাৎ একের বেশি স্ত্রী রাখা। ইচ্ছেমত বহুবিবাহ, কোনও বিধিনিষেধ নেই। কোনও দায়িত্বও নেই। ইসলাম এসেছিল বহুবিবাহকে সীমাবদ্ধ করতে। পবিত্র কুরআনের চার নম্বর সুরার, তিন নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, "তোমরা বিয়ে কর নারীদের মধ্যে যাকে তোমাদের ভাল লাগে; দু’টি, তিনটি অথবা চারটি। "আর যদি ভয় কর যে, তোমরা সমান আচরণ করতে পারবে না, তবে একটি" তাহলে ইসলাম যা করেছে, আল্লাহ যা করেছেন, কুরআনের নির্দেশনা যা করেছে তা হলো, প্রথমত, বহুবিবাহকে অসীম থেকে সর্বোচ্চ চারজন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ করা। এটা গেল প্রথম কথা। দ্বিতীয়ত, ইসলাম যা করেছে, তা হলো স্বামীর উপর দায়িত্ব আরোপ করেছে, যদি আপনি একাধিক বা এমনকি একটি বিয়েও করতে চান, আপনাকে স্ত্রীদের শতভাগ দায়িত্ব নিতে হবে। আর্থিকভাবে এবং অন্য সকল দিক থেকে। বাসস্থান, পোশাক এবং খাবার, সবার ক্ষেত্রে সমান এবং একই হতে হবে যদি আপনি একাধিক বিয়ে করতে চান তাহলে, বহুবিবাহ সীমাবদ্ধ করা ও স্বামীর উপর দায়িত্ব প্রদান করা এবং মহিলাদের অধিকার। এটি কোনও বাধ্যবাধকতা নয়। এটি কোনও উৎসাহ প্রদানের বিষয়ও নয়। আসলে এটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে। যেমন আফগানিস্তানের বিষয়টি ধরুন। যুদ্ধে হয়তো অনেক পুরুষ মারা গেছেন। এখন সেখানে নারীর সংখ্যা বেশি। তারা তাদের জীবন যেমন আছে তেমনই কাটাতে পারত, কিন্তু সেক্ষেত্রে তারা বঞ্চিত হত সন্তান থেকে, পরিবারের জীবন থেকে এবং স্বামীর সহযোগিতা থেকে। তো তারা এসবকিছু থকেই বঞ্চিত হতো। কিন্তু ইসলাম চায় একটা আবাসস্থল থেকে সবাই উপকৃত হোক এবং সুরক্ষিত থাকুক। শুধু তাই নয়, যদিও আপনি ওল্ড টেস্টামেন্টের দিকে লক্ষ্য করেন বাইবেলের ওল্ড টেস্টামেন্টে, সেখানে...
ওল্ড টেস্টামেন্টের বর্ণণা অনুযায়ী মোটামুটি সব নবী একাধিক বিবাহ করেছিলেন সেটা যীশু হোন, আদম হোন অথবা দাউদ হোন, মানে তিনজন স্ত্রী বা দুই জন স্ত্রী। ওল্ড টেস্টামেন্ট অনুযায়ী সৃষ্টিকর্তা বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করেন নি। সৃষ্টিকর্তা বহুবিবাহ সীমাবদ্ধও করেন নি। সৃষ্টিকর্তা বহুবিবাহকে তিরস্কারও করেননি। তো যদি কোন ইহুদি অথবা খ্রিষ্টান, যদি আমাকে বলেন যে, বহুবিবাহ তো একটা ভুল বিষয়। ইসলাম কিভাবে এর অনুমোদন দিলো? আমি বলবো যদি এটা ভুলই হয়, তাহলে বহুবিবাহ যে নিষিদ্ধ ওল্ড টেস্টামেন্টের মধ্যে কোথায় এটা লিখা রয়েছে? যীশু (তার উপরে শান্তি বর্ষিত হোক) যীশু এর সময়ে বহুবিবাহ নিষিদ্ধ ছিলো না। উনি তা নিষিদ্ধ করেন নি। তিনি শুধু সেই সংস্কৃতিটাই অনুসরণ করেছেন, তাই না?
আপনি যখন আমেরিকান সংস্কৃতির দিকে তাকান, একটি জরিপ আছে যা শিকাগো ট্রিবিউন দ্বারা প্রকাশিত হয়েছে। এই দেশের একজন সাধারণ পুরুষ, তাদের কমপক্ষে সাতজন অতিরিক্ত বান্ধবী থাকে। অথবা বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক বা বিবাহের পূর্বের সম্পর্ক। আসলে, যখন আমি ভারতের সাথে তুলনা করি, ভারতে মুসলিম পুরুষদের জন্য একাধিক স্ত্রী রাখার অনুমতি রয়েছে। তাই একাধিক স্ত্রী থাকা হিন্দুদের তুলনায় একাধিক স্ত্রী থাকা মুসলিমদের সংখ্যা কম। সুতরাং একাধিক বিবাহের বিষয়টি অনুমোদিত থাকার পরেও, সচরাচর ঘটে না। কারণ যদি একজন পুরুষ বিয়ে করে, তাকে ১০০% দায়ী থাকতে হবে, নইলে বিচারের দিনে তার কঠিন পরিণতি হবে।
বিশ্বের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় যার কার্যক্রম এখনো চলমান, তার গোড়াপত্তন একজন হিজাব পরিহিতা মুসলিম নারীই করেছেন। আমাদের নবীর আগমনের পূর্বে, নারীদের দমন করে রাখা হয়েছিল। তাদেরকে সম্পত্তি ভাবা হতো। তাদেরকে আক্ষরিক অর্থে উত্তরাধিকার হিসেবে গ্রহন করা হতো। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, মানুষ ইসলামকে, সংস্কৃতিক প্রথা দ্বারা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যা দেখে তার দ্বারা বিচার করে। কিন্তু ইসলামকে নারীদের নিয়ে ইসলামের দেওয়া নির্দেশনা এবং তাদের অধিকার এবং ক্ষমতায়ন দিয়ে বিচার করা উচিত। ওল্ড টেস্টামেন্টের বর্ণণা অনুযায়ী মোটামুটি সব নবী একাধিক বিবাহ করেছিলেন। ইচ্ছেমত বহুবিবাহ, কোনও বিধিনিষেধ নেই। কোনও দায়িত্বও নেই। ইসলাম এসেছিল বহুবিবাহকে সীমাবদ্ধ করতে। সুতরাং, এ দেশে ১৮,০০০ এর কাছাকাছি অমুসলিম নারী, যখন তারা ইসলামে নারীর অধিকার সম্পর্কে জানছেন, তারা ধর্মান্তরিত হচ্ছেন। আসসালামু আলাইকুম ডঃ সাবিল আহমেদ। টোয়ার্ডস ইটারনিটিতে আবারও আপনাকে স্বাগতম। গত ভিডিওতে আমরা সেই প্রশ্নগুলো করেছি যা অনেক খ্রিস্টান ইসলাম সম্পর্কে চিন্তা করে। আমরা আজকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবসময়ে আসে এমন সব প্রশ্ন একত্রিত করেছি। আপনি যদি তৈরি থাকেন, তাহলে শুরু করা যাক। ইতিহাস জুড়ে, নারীদের প্রতি অন্যায় আচরন করা হয়েছে এবং বিভিন্ন সমাজে দ্বিতীয় শ্রেণি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। আপনি জানেন যে নারীদেরকে দমন ও নিপীড়ন করা হয়েছে, আপনি কি আমাদের ইসলামকে নারীদের অবস্থান সম্পর্কে বলতে পারবেন?
তো মানুষ যখন, ইসলামে নারীদের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চান, তারা হয়ত ভাবতে পারেন, জানেন তো?
ইসলামে নারীরা অবদমিত, নিপীড়িত, অত্যাচারিত কোন অধিকার নেই, দ্বিতীয় শ্রেণি, কোন স্বাধীনতা নেই। বাস্তবতা আসলে অনেক ভিন্ন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, মানুষ ইসলামকে, সংস্কৃতিক প্রথা দ্বারা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যা দেখে তার দ্বারা বিচার করে। কিন্তু ইসলামকে নারীদের নিয়ে ইসলামের দেওয়া নির্দেশনা এবং তাদের অধিকার এবং ক্ষমতায়ন দিয়ে বিচার করা উচিত। কুরআনের মাধ্যমে, যা কি না আল্লাহর বাণী, এবং নবী মুহাম্মাদ (সা:) এর উদাহরন দিয়ে। তবে আপনি সঠিক যখন আপনি নবীর আগমনের পূর্বের ইতিহাসে নারীদের অবস্থা দেখেন, যেখানে নারীরা অবদমিত ছিল। তাদের কে সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হতো এবং তাদেরকে আক্ষরিক অর্থে উত্তরাধিকার হিসেবে গ্রহন করা হতো। কিন্তু যখন ইসলাম আসলো, যখন নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) এর মাধ্যমে আল্লাহ সঠিক পথনির্দেশ দিলেন, নারীর ক্ষমতায়ন হলো। নারীকে পুরষ্কারের মধ্যে সমতা এবং স্বাধীনতা দান করা হলো। আচ্ছা এগুলোর মধ্যে কিছু বিষয় সম্পর্কে কি বলবেন?
যদি দ্রুত একটা তালিকার কথা বলি। সর্বপ্রথম হলো শিক্ষার অধিকার। ১৮৪৪ সালের পরে, এই দেশে, আমেরিকান নারীরা, উচ্চ শিক্ষার অধিকার পেয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছেন, স্নাতক সম্পন্ন করছেন, তাইনা? ইসলাম নারীদের সেই অধিকার সপ্তম শতাব্দীতেই দিয়েছে। ইসলাম শুধু অধিকারই দেয়নি, নারী পুরুষ উভয়ের জন্য ইসলাম শিক্ষা গ্রহনকে বাধ্যতামূলকও করেছে। শুধুমাত্র ক্ষমতায়ন নয়...
মুসলিম নারীরা এই বাধ্যবাধকতার দ্বারা এবং তাদের শিক্ষা গ্রহনের অধিকারের কারণে তাদের ক্ষমতায়ন হয়েছিলো। বিশ্বের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় যার কার্যক্রম এখনো চলমান, বাক্যটি খেয়াল করুন, বিশ্বের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় যার কার্যক্রম এখনো চলমান, তার গোড়াপত্তন একজন হিজাব পরিহিতা মুসলিম নারীই করেছেন। তার নাম ফাতিমা আল-ফিহরি। সেটি ১৮৫৯ সালে, মরক্কোর, ফেয শহরে। কে এই তথ্য দিয়েছে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস এবং ইউনেস্কো। ইসলামে নারীকে দেওয়া দ্বিতীয় অধিকার হচ্ছে, নারীদের উত্তরাধিকার পাওয়া অধিকার। দেখুন, আপনি যদি ওল্ড টেস্টামেন্ট দেখেন, একজন বাবার যদি দুইজন পুত্র এবং একজন কন্যা থাকে, তাহলে কন্যা কোন উত্তরাধিকার পাবে না। শূন্য উত্তরাধিকার, কারন একজন পুত্র আছে। পুত্রই সকল উত্তরাধিকার পাবে। যদি শুধু কন্যারা থাকে তাহলে তারা কিছু উত্তরাধিকার পাবে। কিন্তু ইসলাম নারীকে উত্তরাধিকারের নিশ্চয়তা দিয়েছে। স্ত্রী হিসেবে, মা হিসেবে, কন্যা হিসেবে, বোন হিসেবে, ঠিক না?
তো, নারীদের জন্য উত্তরাধিকারের নিশ্চয়তা। যখন সম্পত্তির মালিকানার কথা আসে, জানেন তো, এইদেশে, ১৮০০ শতকের মাঝামাঝি সময়ের এর আগে সেটা হয়নি। শ্বেতাঙ্গ নারী, ঠিক না? কৃষ্ণাঙ্গ নয়, বাদামি নয়, চাইনিজ নয়, ভারতীয় নয়। শ্বেতাঙ্গ নারীরা, ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের শ্বেতাঙ্গ বিবাহিত নারীরা, তারা শিকাগো অঙ্গরাজ্যে, ১৮৬১ সালে, সম্পত্তির মালিক হবার অধিকার লাভ করেন। ইসলাম সেটা সপ্তম শতকেই দিয়েছে, তাইনা?
খেয়াল করুন, তুলনা করলে অন্তত ১৩ শতাব্দী পরে। আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ নারী অধিকার ইসলাম দিয়েছে। তা হচ্ছে ডিভোর্স দেওয়ার অধিকার। ওল্ড টেস্টামেন্ট এ, নারীর সে অধিকার নেই। এমনকি ক্যাথলিক মতবাদেও, নারীর এ অধিকার নেই। ইসলাম সেই অধিকার দিয়েছে কারন এটা বাস্তবতা, আমরা জানি যে প্রত্যেক বিবাহই সবসময়ের জন্য আদর্শ বিবাহ হবে না। সংঘর্ষও হতে পারে, তাইনা?
কিছু মানুষ এমন বিবাহে আটকে যেতে পারে যা থেকে তারা বের হয়ে আসতে চায়। ইসলাম বাস্তবসম্মত। তো ইসলাম নারীকে ডিভোর্স নেওয়ার অধিকার দিয়েছে। অন্য ধর্মে, এই বিষয়টি থাকলে ইসলামে নারীর এ অধিকারটি আছে। এবং এটাও আপনি জানেন, আর, ঘরে তার দায়িত্ব সন্তান এবং পরিবারকে দেখাশোনা করা। কিন্তু তার আর্থিক দায়িত্ব, শূন্য। তিনি বিল গেটস হতে পারেন। তিনি নারীদের জেফ বেজোস হতে পারেন। হতে পারে তিনি একজন বিলিয়নিয়ার, দুনিয়ার সবচেয়ে ধনী মানুষ হতে পারেন। তারপরেও, তাকে তার বাড়ির জন্য, তার পরিবারের জন্য একটি আধুলিও খরচ করতে হবেনা। তিনি পারবেন, তাইনা?
কিন্তু তাকে করতে হবেনা। ১০০ ভাগ আর্থিক দায়িত্ব স্বামীর। তো এই হলো ইসলামের দেওয়া নারীর কিছু অধিকারসমূহ। সুতরাং আমার অমুসলিম ভাইবোনদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ। ইসলামকে সংস্কৃতি দিয়ে বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দিয়ে বিচার করবেন না। ইসলামকে কুরআন পড়ে বিচার করবেন, এবং নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) এর অপূর্ব জীবনী সম্পর্কে জানবেন। আশ্চর্যজনক বিষয়, একটি আশ্চর্যজনক বিষয়। ইসলাম সম্পর্কে যত ভুল ধারনা আছে, তার মধ্যে এক নম্বর হচ্ছে ইসলামে নারী। কিন্তু, যখন আমাদের অমুসলিম ভাই-বোনেরা, ইসলাম সম্পর্কে জানছেন, যখন ইসলাম মুসলিম নারীকে যে অধিকার, মর্যাদা, ক্ষমতা দিয়েছে তা জানছেন, তারা ইসলাম ধর্ম গ্রহন করছেন। তাই, এ দেশে ১৮,০০০ এর কাছাকাছি অমুসলিম নারী, যখন তারা ইসলামে নারীর অধিকার সম্পর্কে জানছেন, তারা ধর্মান্তরিত হচ্ছেন। প্রতি বছর ১৮,০০০। যুক্তরাজ্যে সংখ্যাটা প্রায় ৫০০০ প্রতি বছর। ইসলামি শরিয়াহ মতে, নারী পুরুষের অর্ধেক সম্পত্তি পাবে। এগুলো কি ন্যায়ের বিপরীত এবং নারীদের জন্য অপমানজনক নয়?
ঠিক আছে, কিছু মানুষ উত্তরাধিকার আইন দেখে বলে সপ্তম শতকে মানুষের কাছে কুরআনের নির্দেশনা আসার আগে, এবং অবশ্যই কারনটা হচ্ছে পুরুষ, যখন সে বেড়ে উঠছে, বিবাহ করলেই পরিবারের ১০০ ভাগ আর্থিক দায়িত্ব তার ওপর বর্তাবে। একজন নারীর ক্ষেত্রে সেই দায়িত্ব শুন্য। স্ত্রীর কোন আর্থিক দায়িত্ব নেই। তাই পুরুষের বেশি উত্তরাধিকার পাওয়া যুক্তিযুক্ত কারন তাকে পরিবারের জন্য খরচ করতে হয়। একজন নারীর, খরচ করতে হয়না। তারমানে, তার এত বেশি উত্তরাধিকার প্রয়োজন নেই। এ কারনেই এই অসমতা। আপনি যদি বাইবেলের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেন, এবং ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেন, তাহলে এটা বেশি ন্যায়সঙ্গত। বিষয়টি সাধারণ বোধের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পারিবারিক প্রেক্ষাপটে বেশি বাস্তবসম্মত। খ্রিস্টানরা, বিশেষ করে নারীরা, প্রায়ই ইসলামের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেন মুসলিম নারীরা কেন হিজাব পরেন?
এটা কি একটা সীমাবদ্ধতা নয়? এটা কি নিপিড়ন নয়? যখন আমি কলম্বাসে গিয়েছিলাম, সেখানে একটি খোলা বাড়ি ছিল। সেখানে একজন খ্রিস্টান নারীর কাছ থেকে একটা প্রস্ন এসেছিল। তিনি বলেছিলেন, কেন নারীদের হিজাব পরতে জোর করা হয়? সে সময়ের ইরানের দিকে দেখুন, হিজাব নিয়ে বিতর্ক চলছিল। আমি তখন তাকে বললাম, "আমরাতো সবাই পোশাক পরি। আমরা কেন পোশাক পরি?" আমি উল্লেখ করলাম আর তিনি জানেন। "শালীনতা এবং ভদ্রতার জন্য।" "তাহলে, হিজাব পরাও শালীনতা ও ভদ্রতার জন্য, তাই না?" আমি তার সাথে যৌক্তিক ভাবে আগাতে চাইছিলাম। তো তারপর আমি সেই খ্রিস্টান নারীকে উল্লেখ করলাম, "এটা কি ঠিক যে কেউ তার পোশাক যেভাবে ইচ্ছা পরিধান করতে পারে?
আমাদের মেয়েরা, ছেলেরা, বয়স্করা, যে কেউ। নাকি সমাজে শালীনতার কিছু নিয়মকানুন থাকা দরকার?" তিনি বললেন, "শালীনতার কিছু নিয়মকানুন থাকা দরকার, নাহলে মানুষ নারীদের জন্য পোশাক ছাড়া বের হতে পারে।" সুতরাং শালীনতার কিছু নিয়ম থাকা দরকার। তাহলে কে এই নিয়ম ঠিক করে দেবে? সেটা কি সংস্কৃতি ঠিক করবে?
সেটা যুক্তি যুক্ত হবেনা, কারন একজন এক কথা বলবে, তো আরেকজন আরেক কথা বলবে। সেটা ব্যক্তিনির্ভর হয়ে যায়। সুতরাং শালীনতার নিয়মকানুন, এবং সকল নিয়মকানুন, সবকিছু সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে আসা দরকার কোনটা আমাদের জন্য এবং সমাজের জন্য ভাল। তিনিই ইসলামের শালীনতার নিয়মকানুন বানিয়েছেন। তাই, এককথায়, নারীরা যারা হিজাব পরেন, কারন তারা সৃষ্টিকর্তার নির্দেশ পালন করছেন। এটা তাদের জন্য বাধ্যতামুলক। এটা পবিত্র কুরআনে দুই জায়গায় আছে। ২৪ নম্বর সুরার, ৩১ নম্বর আয়াত, এবং ৩৩ নম্বর সুরার, ৫৯ নম্বর আয়াত। তারপর আমি একটা উপমা দেই, মানুষকে একটা ছোট একটা উপমা দেই যে স্কুল ও কলেজে, একটা ড্রেস কোড থাকে। কখনো কখনো শর্টস পরতে হয়। উদাহরন স্বরূপ আপনি ছোট শর্টস পরতে পারবেননা। আপনি হুডি পরতে পারবেন না, বা সেই জাতীয় জিনিস। স্কুল কলেজেও নিয়ম কানুন আছে। আপনি যদি হাসপাতালে কাজ করেন, সেখানেও নিয়মকানুন আছে আপনাকে নির্ধারিত পোশাক পড়তে হবে। আপনি যদি কোন রেস্টুরেন্টে যান?
কোন শার্ট নেই, জুতা নেই, কোন সার্ভিসও নেই। সেরকম কিছু। সুতরাং, আল্লাহ আমাদের শালীনতার কিছু নিয়মকানুন দিয়েছেন। তো আমি খ্রিস্টানদেরকে, ইহুদিদেরকে এবং অন্যদেরকে বলি, শালীনতার নিয়মকানুন শুধু নারীদের জন্যই নয়, পুরুষদের জন্যও। ইসলামে শালীনতা কেবল যা আমরা পরিধান করি তাই নয়। চোখেরও শালীনতা আছে। আমি একজন নারীর দিকে লালসা ভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে পারবনা। শালীনতা কেবল ইসলামেই নেই। ইহুদি ধর্মেও আপনি যদি লক্ষ্য করেন, একজন ইহুদি বিবাহিতা নারী চুল দেখাতে পারবেনা। একজন খ্রিস্টান নারী, বিশেষ করে যখন তিনি চার্চে যান , তিনি চুল দেখাতে পারবেন না। হিজাবের বিষয়টি ওল্ড এবং নিউ টেস্টামেন্টেও আছে। করিন্থিয়ানদের প্রথম বই এর, ১১ নম্বর অধ্যায়, পাঁচ ও ছয় নম্বর অনুচ্ছেদে, একজন খ্রিস্টান নারীকে হিজাব পরতে বলা হয়েছে। তিনি তার চুল দেখাতে পারবেন না। যদি তিনি তার চুল দেখান, তাহলে তা অসম্মানজনক। এটা অনেকটা এরকম যে, তাকে তার চুল কামিয়ে ফেলতে হবে, তাই না?
যীশুর মা মরিয়ম, যিনি সতীত্বের প্রতীক, তিনি নিজেও হিজাব পরতেন। তাই যখন মুসলিম মহিলারা, হিজাব পরিধান করেন, তখন তারাও যীশুর মা মরিয়মকে, তাদের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করছেন। জানেন, একবার আমি বক্তব্য দিচ্ছিলাম। আমিশ চার্চ থেকে কিছু খ্রিষ্টান আসলেন। তারা আসলে আমার বক্তব্য শেষ হওয়ার পরে এসেছিলেন। আমি তাদের প্রত্যেককেই লক্ষ্য করলাম, তারা তাদের চুল ঢেকে রেখেছিলেন। তো আমি তাদের প্রশ্নটা জিজ্ঞাসা করলাম। "আমার প্রিয় বোনেরা, আপনারা সবাই মুসলিম মহিলাদের মতো হিজাব পরে আছেন। আমাকে এর কারণটা বলুন" তারা বললেন, "আমরা বাইবেল অনুসরণ করছি। বাইবেল আমাদেরকে হিজাব পরতে অথবা চুল ঢেকে রাখতে আদেশ দেয়।" আসলে হিজাব সকল সংস্কৃতিতেই আছে, এমনকি ধর্মনিরপেক্ষ সমাজেও রয়েছে। ঠিক একই কারণে। তাদের শালীনতা, পবিত্রতা ও ব্যক্তিত্বের জন্য এবং তাদেরকে আল্লাহ যে রহমত প্রদান করেছেন সেজন্য তাদের মূল্যায়ন করা উচিত এবং প্রশংসা করা উচিত। ইসলামে, যদি একজন পুরুষ চায়, তাহলে তিনি চারজন পর্যন্ত নারীকে বিয়ে করতে পারেন। এখনকার সময় ও যুগে এসে এটা আসলে কতোটা উপযুক্ত?
এ ধরণের নিয়ম কেন আছে?
এটা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। মানবজাতির কাছে ৭ম শতাব্দীতে কুরআনের দিকনির্দেশনা আসার আগে, প্রতিটি সংস্কৃতি, প্রতিটি ধর্মের মধ্যে, তাদের মধ্যে বহুবিবাহ প্রথার প্রচলন ছিল, অর্থাৎ একের বেশি স্ত্রী রাখা। ইচ্ছেমত বহুবিবাহ, কোনও বিধিনিষেধ নেই। কোনও দায়িত্বও নেই। ইসলাম এসেছিল বহুবিবাহকে সীমাবদ্ধ করতে। পবিত্র কুরআনের চার নম্বর সুরার, তিন নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, "তোমরা বিয়ে কর নারীদের মধ্যে যাকে তোমাদের ভাল লাগে; দু’টি, তিনটি অথবা চারটি। "আর যদি ভয় কর যে, তোমরা সমান আচরণ করতে পারবে না, তবে একটি" তাহলে ইসলাম যা করেছে, আল্লাহ যা করেছেন, কুরআনের নির্দেশনা যা করেছে তা হলো, প্রথমত, বহুবিবাহকে অসীম থেকে সর্বোচ্চ চারজন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ করা। এটা গেল প্রথম কথা। দ্বিতীয়ত, ইসলাম যা করেছে, তা হলো স্বামীর উপর দায়িত্ব আরোপ করেছে, যদি আপনি একাধিক বা এমনকি একটি বিয়েও করতে চান, আপনাকে স্ত্রীদের শতভাগ দায়িত্ব নিতে হবে। আর্থিকভাবে এবং অন্য সকল দিক থেকে। বাসস্থান, পোশাক এবং খাবার, সবার ক্ষেত্রে সমান এবং একই হতে হবে যদি আপনি একাধিক বিয়ে করতে চান তাহলে, বহুবিবাহ সীমাবদ্ধ করা ও স্বামীর উপর দায়িত্ব প্রদান করা এবং মহিলাদের অধিকার। এটি কোনও বাধ্যবাধকতা নয়। এটি কোনও উৎসাহ প্রদানের বিষয়ও নয়। আসলে এটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে। যেমন আফগানিস্তানের বিষয়টি ধরুন। যুদ্ধে হয়তো অনেক পুরুষ মারা গেছেন। এখন সেখানে নারীর সংখ্যা বেশি। তারা তাদের জীবন যেমন আছে তেমনই কাটাতে পারত, কিন্তু সেক্ষেত্রে তারা বঞ্চিত হত সন্তান থেকে, পরিবারের জীবন থেকে এবং স্বামীর সহযোগিতা থেকে। তো তারা এসবকিছু থকেই বঞ্চিত হতো। কিন্তু ইসলাম চায় একটা আবাসস্থল থেকে সবাই উপকৃত হোক এবং সুরক্ষিত থাকুক। শুধু তাই নয়, যদিও আপনি ওল্ড টেস্টামেন্টের দিকে লক্ষ্য করেন বাইবেলের ওল্ড টেস্টামেন্টে, সেখানে...
ওল্ড টেস্টামেন্টের বর্ণণা অনুযায়ী মোটামুটি সব নবী একাধিক বিবাহ করেছিলেন সেটা যীশু হোন, আদম হোন অথবা দাউদ হোন, মানে তিনজন স্ত্রী বা দুই জন স্ত্রী। ওল্ড টেস্টামেন্ট অনুযায়ী সৃষ্টিকর্তা বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করেন নি। সৃষ্টিকর্তা বহুবিবাহ সীমাবদ্ধও করেন নি। সৃষ্টিকর্তা বহুবিবাহকে তিরস্কারও করেননি। তো যদি কোন ইহুদি অথবা খ্রিষ্টান, যদি আমাকে বলেন যে, বহুবিবাহ তো একটা ভুল বিষয়। ইসলাম কিভাবে এর অনুমোদন দিলো? আমি বলবো যদি এটা ভুলই হয়, তাহলে বহুবিবাহ যে নিষিদ্ধ ওল্ড টেস্টামেন্টের মধ্যে কোথায় এটা লিখা রয়েছে? যীশু (তার উপরে শান্তি বর্ষিত হোক) যীশু এর সময়ে বহুবিবাহ নিষিদ্ধ ছিলো না। উনি তা নিষিদ্ধ করেন নি। তিনি শুধু সেই সংস্কৃতিটাই অনুসরণ করেছেন, তাই না?
আপনি যখন আমেরিকান সংস্কৃতির দিকে তাকান, একটি জরিপ আছে যা শিকাগো ট্রিবিউন দ্বারা প্রকাশিত হয়েছে। এই দেশের একজন সাধারণ পুরুষ, তাদের কমপক্ষে সাতজন অতিরিক্ত বান্ধবী থাকে। অথবা বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক বা বিবাহের পূর্বের সম্পর্ক। আসলে, যখন আমি ভারতের সাথে তুলনা করি, ভারতে মুসলিম পুরুষদের জন্য একাধিক স্ত্রী রাখার অনুমতি রয়েছে। তাই একাধিক স্ত্রী থাকা হিন্দুদের তুলনায় একাধিক স্ত্রী থাকা মুসলিমদের সংখ্যা কম। সুতরাং একাধিক বিবাহের বিষয়টি অনুমোদিত থাকার পরেও, সচরাচর ঘটে না। কারণ যদি একজন পুরুষ বিয়ে করে, তাকে ১০০% দায়ী থাকতে হবে, নইলে বিচারের দিনে তার কঠিন পরিণতি হবে।