বিয়ের পূর্বে কিছু প্রয়োজনীয় পরামর্শ! - কীভাবে খুঁজে পাবেন উপযুক্ত জীবনসঙ্গী
প্রকাশের তারিখ
বিয়ে করার জন্য কি প্রেমে পড়া আবশ্যক? আপনি কীভাবে বুঝবেন যে, কোন ব্যক্তি আপনার জন্য সঠিক? প্রথমেই আপনাকে নিজেকেই আগে বুঝতে হবে। যেমন সাধারণত মানুষকে আমরা জিজ্ঞাসা করি, আপনি কি নিজেকে বিয়ে করতেন? এটাই প্রশ্ন। আমি একজনকে ভালোবাসি এবং আমরা বিয়ে করার চিন্তা করছি। কিন্তু তার কিছু খারাপ অভ্যাস রয়েছে। বিয়ের পর কি সে ভালো হয়ে যাবে? যদি কারো খারাপ অভ্যাসের ইতিহাস থাকে, তবে বিয়ে তাদের ঠিক করে না। এটা কোনো সুইচ নয় যে, শুধু বিয়ে করলেন আর মাশাআল্লাহ, আপনি ধার্মিক হয়ে গেলেন। ডেটিং বা বিয়ে সম্পর্কে সবচেয়ে মজার ও অদ্ভুত কোন প্রশ্ন পেয়েছেন? মানে, ওয়াও!
আসসালামু আলাইকুম, শেখ ইয়াসির বিরজাস আমাদের আমন্ত্রণ গ্রহণের জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনাকে সাথে পেয়ে আমরা খুব আনন্দিত। আজ আমরা বিয়ে সম্পর্কিত কিছু প্রশ্ন করতে চাই। অবশ্যই। তো আজকের প্রশ্নে আপনাকে হয়তো একটু ঘাম ঝরাতে হবে। বিসমিল্লাহ, অপেক্ষায় আছি, শুরু করুন। ঠিক আছে। ডেটিং ইসলামে নিষিদ্ধ। অন্য কোনোভাবে উপযুক্ত মানুষ খুঁজে পাব বলে আমার মনে হয় না। এ ছাড়া, কেউ আমাকে কোনো ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলে, তিনিই আমার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত মানুষ হবেন?
আসলে, আমার মনে হয় ডেটিং নিয়ে সবচেয়ে বড় ভুল ধারণাগুলোর একটি হলো, ডেটিং আপনাকে সফল সিদ্ধান্ত ও সফল বিয়ের দিকে নিয়ে যায়। এখানে আমেরিকায়, অন্তত আমেরিকায়, মানুষ এখন ডেটিংকে তালাকের জন্য অনুশীলন হিসেবে বিবেচনা করে। কারণ তারা বুঝতে পেরেছে, ডেটিং অবধারিতভাবে নিশ্চিত করে না যে, আপনি এমন কাউকে বেছে নেবেন যিনি আপনার সঙ্গে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখবেন। এটা আসলে এক ধরনের শিল্পে পরিণত হয়েছে। এটা মূলত অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকগুলো ডেটিং সাইট এবং ডেটিং সংস্কৃতি এবং এইধরনের নানা বিষয় রয়েছে। এগুলোর প্রচারণা অনেক বেশি, কিন্তু এটি অবধারিতভাবে নিশ্চিত করে না যে, আপনি বিয়ের জন্য উপযুক্ত কাউকে পাবেন। নাহলে, যদি ডেটিং আমেরিকায় সফল হতো, তাহলে কেন আমাদের এখনো বিয়ে করতে এবং বিয়ে টিকিয়ে রাখার সমস্যা রয়েছে?
কারণ আমাদের এখানে বিয়ের হার খুব কম এবং তালাকের হার খুব বেশি। তাহলে ডেটিং নিশ্চয়তা দেয় না যে আপনি সঠিক মানুষকে খুঁজে পাবেন। তাহলে কাউকে খুঁজে পাওয়ার সঠিক উপায় কী? সত্যি বলতে, যতই আমরা চেষ্টা করিনা কেন, সবচেয়ে ভালো উপায় আসলে মুখে জানানো। একজন এমন কাউকে চেনে, যিনি আরেকজনকে চেনেন, এবং তাদের মাধ্যমে আপনাদের পরিচয় হতে পারে। এরপর যখন তারা তাদের সম্পর্কে জানতে পারে, তখন তারা আনুষ্ঠানিকভাবে সাক্ষাৎকার করে, আলাপ করে, কথা বলে এবং আলোচনা চালায়। এবং শেষপর্যন্ত, আশা করি এভাবে আমরা সেই মানুষকে খুঁজে পাব, যে আপনার বিয়ের জন্য উপযুক্ত। ডেটিং বা বিয়ে সম্পর্কে সবচেয়ে মজার ও অদ্ভুত কোন প্রশ্ন পেয়েছেন?
মানে, ওয়াও। মানুষ, মানুষ আসলে অনেক কিছুই জানতে চায়। তাদের সবচেয়ে আইকনিক প্রশ্নটি হলো, তারা একজন পার্ফেক্ট মানুষ খোঁজে। যখন তারা আমার কাছে আসে, তারা বলে, "আপনি কি আমাকে একজন উপযুক্ত মানুষ খুঁজে দিতে পারেন?" আমি বলি, “অবশ্যই” তাই আমি সাধারণত মানুষকে মজা করে বলি, যখন তারা আমার কাছে এসে বলে, "আপনি কি স্ত্রী বা মেয়ে খুঁজে পেতে আমাকে সাহায্য করতে পারেন?" আমি বলি, "ঠিক আছে, আপনি কেমন মেয়ে খুঁজছেন?" তারপর সে আমাকে দীর্ঘ চাহিদার তালিকা দেয়। সে বলে, "সবচেয়ে সুন্দরী, ধার্মিক, তিনি এমন হবে, তেমনভবে।" সে আমাকে একেবারে নিখুঁত বৈশিষ্ট্যের একটি তালিকা দেয়। তারপর সে জিজ্ঞাসা করে, আপনার কি মনে হয়?
আমি বলি, অসাধারণ। আপনি যদি এমন কাউকে খুঁজে পান, আমাকে জানাবেন। আমি তাকে বিয়ে করতে চাই, কারণ কারণ আমার মনে হয় না যে এমন কেউই বাস্তবে আছে। দেখুন, কেউ সত্যিই সম্পূর্ণ নিখুঁত নয়। আপনি এমন কাউকে খুঁজে পেতে পারেন, যার পরিবার অসাধারন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, মানুষ হিসেবে তিনি হয়ত আপনার জন্য সঠিক নাও হতে পারেন। আপনি এমন কাউকে পেতে পারেন, যিনি মাশাআল্লাহ্ চরিত্রের দিক থেকে অসাধারন। আচার-ব্যবহার অসাধারণ। কিন্তু শিক্ষা, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার দিক থেকে হয়তো আপনার জন্য সেরা নাও হতে পারে। সুতরাং, নিখুঁত কিছুই নেই। মানুষ দুর্ভাগ্যবশত, একধরনের মোহের পেছনে ছুটে। তাদের ধারণা, যদি আমি সেই নিখুঁত মানুষকে পাই, সেই আত্মার সঙ্গীকে পাই, তাহলে আমার জীবন হবে নিখুঁত, অসাধারণ। কিন্তু এটা সত্য নয়। আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়াতা'আলা কুরআনে বলেছেন, লাক্বদ খালাক়নাল ইনসানাফি কাবাদ। নিঃসন্দেহে আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি কষ্ট-ক্লেশের মধ্যে। এরমানে, আপনাকে সবসময় পরীক্ষা দিতে হবে, সংগ্রাম করতে হবে, আর বিয়ে জিনিসটিও এমনই একটি পরীক্ষা। এখন একে সুন্দর করে তোলা বা না তোলা আপনার ব্যাপার। তাই হ্যাঁ, যখন তারা প্রশ্ন করে, তারা অবাস্তব প্রশ্ন করে, এবং তারা যাকে বিয়ে করতে চায় তার সম্পর্কে অবাস্তব চাহিদা তোলে। দেখুন, মানুষ চায়— তারা সাধারণত এমন কাউকে খোঁজে যাকে আমি বলি...
একটি নিখুঁত আদর্শ, অথবা বলা যায় সবচেয়ে উপযুক্ত উদাহরণ। আমি তাদেরকে বলি, "নিখুঁত মানুষ খোঁজো না, সঠিক মানুষ খোঁজো।" আর পার্থক্য হলো, যখন আমরা নিখুঁতার কথা বলি, তা হয় বিমূর্ত, তাত্ত্বিক বিষয়। আপনি এটি খুঁজে পাবেন কাগজে, তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, তাদের বয়স, দৃষ্টিভঙ্গি, ব্যক্তিত্ব—এসব দিয়ে। এ সব কিছুই কাগজে সুন্দর দেখায়। কিন্তু যখন একসাথে থাকা ও জীবন কাটানোর বিষয় আসে, তখন বাস্তবতা ভিন্ন হয়। তাই নিখুঁত মানুষ নয়, সঠিক মানুষ খুঁজে বের করুন। কারণ সঠিক মানুষই আপনার জন্য নিখুঁত মানুষ হবে। তাহলে আপনি কিভাবে বুঝবেন কে আপনার জন্য সেই সঠিক মানুষ? প্রথমত, আপনাকে নিজেকেই আগে বুঝতে হবে। যেমন আমরা সাধারণত মানুষকে বলি, আপনি কি নিজেকে বিয়ে করতেন?
এই প্রশ্নটাই আসল। চমৎকার। মানে, আপনি যদি নিজের বিপরীত লিঙ্গ কল্পনা করেন, তবে কি আপনি তাকে বিয়ে করতেন? আর যদি উত্তর হয় না, তাহলে আপনার আত্মবিশ্বাসে সমস্যা আছে। মানে আপনি নিজেই নিজের সম্পর্কে নিশ্চিত না। তাহলে এর মানে কী দাঁড়ায়? আমি যখন জিজ্ঞেস করি, “আপনি কী খোঁজেন?” তারা বলে, “আমি একজন ধার্মিক মানুষ চাই।” আমি বলি, “কতটা ধার্মিক চান?” আপনি কি এমন কাউকে বিয়ে করবেন, যিনি আপনার চেয়ে কম ধার্মিক। নাকি এমন কাউকে, যিনি আপনার চেয়ে বেশি ধার্মিক?
তারা প্রায়ই বলে, “আমি আমার চেয়ে বেশি ধার্মিক কাউকে চাই” আমি বলি, “কেন?” তারা বলে, আমি চাই সে আমাকে আরো ভালো মুসলিম হতে, সাহায্য করুক আরো ভালো মানুষ হতে। আমি বলি, ঠিক আছে, তুমি যদি এই অবস্থানে থাকো, আর তুমি যদি এমন কাউকে খুঁজতে থাকো, যে তোমার চেয়ে ওপরে, সে এই স্তরের। সে কেন তোমাকে চাইবে? তারা নিশ্চয়ই তাদের চেয়ে ওপরের কারো সন্ধান করবে। এর ফলে, তুমি কখনো কাউকে বিয়ে করতে পারবে না। কারণ তুমি সব সময় তোমার চেয়ে ওপরের কারো অপেক্ষায় থাকবে। তাহলে কী করা উচিত?
সবচেয়ে ভালো হলো এমন কাউকে খুঁজে বের করা, যে তোমার সঙ্গে প্রায় একই স্তরে রয়েছে, যাতে একসঙ্গে বেড়ে উঠতে পারো। আর যদি এমন কাউকে বিয়ে করতে চাও, যে এই স্তরে রয়েছে, তাহলে আগে নিজেকে উন্নত করো, যতক্ষণ না তুমি ওই পর্যায়ে পৌঁছাও, যাতে তুমি তোমার পর্যায়ের কারো আকর্ষণ পেতে পারো। এটা শিক্ষার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, তোমার ও তোমার পরিবারের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার ক্ষেত্রেও। যেমন, এমন কাউকে খুঁজে বের করো, যে তোমার কাছাকাছি পর্যায়ের। সে-ই তোমার জন্য সঠিক ব্যক্তি হবে। কারণ যত বেশি এসব ক্ষেত্রে তোমাদের মিল থাকবে, ততই ভালো। এতে তোমাদের মধ্যে ভিন্নতার কারণে প্রত্যাশার সমস্যা কম হবে। বিয়ে করার জন্য কি প্রেমে পড়া বাধ্যতামূলক?
এটা নির্ভর করে আপনি কিভাবে ভালোবাসার সংজ্ঞা দেবেন। যদি আপনি টিভিতে দেখানো ওইসবকে ভালোবাসা বলেন, তাহলে বলব, এমনকি তথাকথিত অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও আশা করে, তাদের বাস্তব জীবনের ভালোবাসা যেন টিভির মতো নিখুঁত হতো। কিন্তু আমেরিকার অনেক সেলিব্রিটির মধ্যে, দুঃখজনকভাবে তারা বিয়ে করে, তালাক দেয়, আবার বিয়ে করে, আবার তালাক দেয়। কখনো কখনো তারা আসলে বিয়েই করে না, এটা শুধু... যদিও তারা টিভিতে সবচেয়ে নিখুঁত প্রেমের গল্প উপস্থাপন করে, কিন্তু তাদের বাস্তব জীবন দুঃখজনকভাবে সে রকম নয়। তাহলে, ভালোবাসা বলতে কী বোঝায়? আমি বিশ্বাস করি, ভালোবাসা অবশ্যই অবশ্যই সম্পর্কের সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শুধু এটুকুই সব কিছু নয়। এছাড়াও ভালোবাসা...
আল্লাহ সুবহানাহু সূরা আর-রূমে বলেছেন, “ওয়ামিন আয়াতিহি আন খালাকা লাকুম মিন আনফুসিকুম আজওয়াজাল লিতাসকুনু ইলাইহা” তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য হতেই তোমাদের সঙ্গিণী সৃষ্টি করেছেন। কেন?
যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মধ্যে সৃষ্টি করেছেন মাওয়াদ্দাতাওঁ ওয়া রাহমাহ, ভালবাসা ও দয়া। আবেগ ও সহানুভূতি দিয়েছেন। ইন্না ফি যালিকা লা-আয়াতিল লিকাওমিন ইয়াতাফাক্কারুন চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য এতে অবশ্যই বহু নিদর্শন রয়েছে। এখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা আমাদের বলছেন, ''আমি তোমাদের শান্তি ও প্রশান্তির নিশ্চয়তা দিচ্ছি, যা একটি সম্পর্কে সবাই খোঁজে, যদি তোমরা ভালোবাসা ও দয়ার সঙ্গে একসাথে বাস করো।'' তাহলে ভালোবাসা একটি সফল সম্পর্কের একটি উপাদান। কিন্তু আসলে এটি কী বোঝায়?
এটাই মূল প্রশ্ন। মানুষকে জিজ্ঞাসা করলে, ভালোবাসার নির্দিষ্ট সংজ্ঞা পাওয়া যাবে না। ভালোবাসা একটি বিস্তৃত ধারণা, যা পরবর্তিতে সম্পর্কে পরিবর্তিত হয়। মানুষ কখনো কাউকে বিশেষ কারণে ভালোবাসে, পরে সেই কারণ ম্লান হয়ে যায় এবং সম্পর্কের নতুন দিক উদ্ভাসিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, আপনার সন্তান রয়েছে, যাদেরকে আপনি পিতা-মাতা হওয়ার কারণে ভালোবাসেন আর এভাবেই। কিন্তু অনেক মানুষ, দুর্ভাগ্যবশত, ভালোবাসাকে শুধু আবেগ মনে করে, যার অর্থ, হৃদয়ে কিছু অনুভব করা। আর যদি আমার সেটা থাকে, আমরা একসঙ্গে থাকতে পারি। যদি না থাকে, তবে শেষ। তাহলে সম্পর্কও শেষ হয়ে যাবে। এটা সঠিক নয়। কারণ অনেক সম্পর্ক ভালোবাসার ওপর ভিত্তি করে চলে না। সেগুলো চলে দয়ার ভিত্তিতে, রহমতের ভিত্তিতে। একবার এক ব্যক্তি ওমর (রাঃ)-এর কাছে গেল আর জিজ্ঞেস করলো, সে বলল, ''আমার মনে হয় আমি আর আমার স্ত্রীকে ভালোবাসি না।'' ফাক্বালা ওয়া-হাল কুল্লুল বুয়ূত্তুবনা আলাল-মাহাব্বা তুমি কি মনে করো সব ঘর ভালোবাসার উপর টিকে থাকে?
মনে করো যে সব ঘর ভালোবাসার উপর গড়া?
হ্যাঁ, কখনো কখনো আমাদের মধ্যে এতটা আবেগ নাও থাকতে পারে, কিন্তু আমরা এখনো একসঙ্গে থাকি, কারণ এখনো একে অন্যের জন্য সম্মান আছে। আমাদের মধ্যে এখনো সহানুভূতি আছে। অন্যান্য মূল্যবোধ রয়েছে। আর এই কারণেই মানুষ বিভিন্ন কারণে বিয়ে করে, এটাই স্বাভাবিক। কখনো কখনো মানুষ কাউকে বিয়ে করে, এটা না জেনেই যে সে তাকে ভালোবাসবে। কিন্তু সুবহানাল্লাহ, তাদের আচরণ ও নীতির কারণে, তারা একে-অপরের প্রেমে পড়ে যায়। একজনের প্রশ্ন, ''একজন পাত্র বা পাত্রী আছে, যাকে আমি বিয়ে করতে চাই। সে আমার কিছু মানদণ্ড পূরণ করলেও সব করে না। আমার মনের এক অংশ বলে, যদি ছেড়ে দিই, ভবিষ্যতে আফসোস হবে। আরেক অংশ বলে, যদি বিয়ে করি, ভবিষ্যতে আফসোস হতে পারে। মাঝামাঝি অবস্থানে আছি এই মানুষটাকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে কত শতাংশ মানদণ্ড পূরণ হওয়া উচিত?
ওহ, এটা কঠিন প্রশ্ন। কারণ সত্যি বলতে, এর নির্দিষ্ট কোনো হিসাব নেই। কিন্তু আমি যা বলেছি, তা নির্ভর করে পরিস্থিতির ওপর। আপনি একজন জীবনসঙ্গীর মধ্যে কী খুঁজছেন? দেখুন, এটা হলো... আমরা এটি নবী (সা.)-এর হাদিস থেকে জানি, একবার নবী (সা.) একটি সফর থেকে ফিরছিলেন, তখন তিনি দেখলেন জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) মদিনায় ফিরতে খুব তাড়াহুড়া করছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর সঙ্গে একটু রসিকতা করলেন। "তোমার এত তাড়াহুড়া কেন?
এত ব্যস্ত কেন?" তিনি বললেন, "ইয়া রাসূলুল্লাহ, যাওয়ার আগে আমি বিয়ে করেছিলাম। তাই আমি আবার স্ত্রীর কাছে ফিরতে চাই।" "আমি তাঁর সঙ্গে খুব বেশি সময় কাটাতে পারিনি। তাই আমি দ্রুত ফিরে যেতে চাই। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, বিকরুন আম সাইয়্যিব তুমি কি তোমার বয়সী কাউকে বিয়ে করেছো, নাকি এমন কাউকে, যে আগেও বিয়ে করেছে?
তিনি বললেন, "না, আমি এমন একজনকে বিয়ে করেছি, যার আগেও বিয়ে হয়েছে।" তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, "তোমার বয়সী কাউকে কেন বিয়ে করোনি?" তিনি বললেন, "ইয়া রাসূলুল্লাহ, আমার বাবা যখন মারা যান, আমি ছিলাম একমাত্র ছেলে। তাই আমাকে এমন কাউকে দরকার ছিল, যে আমার বোনদের দেখাশোনা করতে সাহায্য করবে। আমি এমন কাউকে আনতে চাইনি, যার দায়িত্ব আমাকেই নিতে হবে।" তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর সিদ্ধান্তকে অনুমোদন দিলেন এবং তাঁর জন্য দোয়া করলেন। এর অর্থ কী দাঁড়ায়? জাবিরের জন্য সবচেয়ে ভালো হতো তাঁর সমবয়সী কাউকে বিয়ে করা, যেন তারা একসঙ্গে বেড়ে উঠতে পারে। কিন্তু তাঁর পরিস্থিতি দাবি করেছিল যে, তিনি এমন কাউকে বিয়ে করুক, যিনি অভিজ্ঞ, যিনি তাঁর বোনদের দেখভালে সাহায্য করতে পারবেন। এটাই ছিল তাঁর জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত। ঠিক?
এখন বলাটা কঠিন যে ৫০ শতাংশ, ৩০ শতাংশ নাকি ২০ শতাংশ করতে হবে। কারণ প্রত্যেকের ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতি রয়েছে। কাউকে অর্থনৈতিক দিক বিবেচনায় নিতে হয়, কাউকে পারিবারিক বা সাংস্কৃতিক দিক। সবই ঠিক আছে, কিন্তু সে আমার সংস্কৃতির নয়। সে ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষ। এটা তাদের জন্য বড় ব্যাপার হতে পারে। তাই না? যদিও সেটা হয়তো পুরো যোগ্যতার মাত্র ১০ শতাংশ। কিন্তু সেই ১০ শতাংশ অনেক সময় পুরো ৯০ শতাংশ এর থেকে বেশি গুরুত্ব পায়। প্রথম দেখা হয়ে গেছে, কিন্তু আমি নিশ্চিত নই তার প্রতি আমার অনুভূতি কী। আমার কি প্রথম দেখাতেই প্রেমে পড়া উচিত ছিল না? আমার মত নেতিবাচক না, আবার নিশ্চিতভাবে ইতিবাচক বলতে পারি না। এমতাবস্থায় কী করা উচিত?
এটা সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি, এ সময়ের এবং প্রজন্মের, বিশেষ করে তরুণদের। এবং এর মূল কারণ হচ্ছে, আজকের প্রজন্ম এমন কিছু পরিস্থিতিতে আছে যা আগের প্রজন্মের জন্য সহজলভ্য ছিল না। যাকে বলে প্রাচুর্যের সংস্কৃতি। অর্থাৎ চারদিকেই বিভিন্ন বিকল্প রয়েছে, আর বিকল্প যত বেশি, ততই সিদ্ধান্ত নিতে কষ্ট হয়। ফলে মানুষ দ্বিধায় পড়ে যায়। তারা অনেককেই দেখে, অনেকের সঙ্গে কথা বলে। আর তখনই জুয়া খেলার মানসিকতা চলে আসে। আরো একটু অপেক্ষা করি, পরের জন হয়তো পারফেক্ট হবে, এমন ভাবনা আসে। যত বেশিজনকে দেখবেন, ততই সন্তুষ্ট হতে বেশি কষ্ট হবে। আর সিদ্ধান্ত নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। তাই আমি তরুণদের বলি, দেখুন, ব্যাপারটা প্রেমে পড়া না, বরং একটা জোনে, তাদের সাথে একটা কমফোর্ট জোনে পৌঁছনো। মানে কী?
মানে আমি তার সঙ্গে কথা বলি, এবং তার সঙ্গে স্বাচ্ছন্দ বোধ করি। তাকে ভালোবাসি? তা ঠিক জানি না কিন্তু... মানে, এটা এখনো প্রক্রিয়াধীন। আমি এখনো বেশি কিছু জানি না, সম্ভবত সময়ের সঙ্গে সব ঠিক হয়ে যাবে। ঠিক? তাহলে, এটা আসলে প্রেমে পড়ার বিষয় নয়। পাগলের মতো প্রেমে পড়ার বিষয় নয়। এটা হলো তার সঙ্গে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করার বিষয়, এবং এটা অনুভব হতে পারা যে সে একদিন আমার সন্তানদের মা হবে। অথবা সে আমার স্বামী, আমার সন্তানদের বাবা হবে। যদি এই স্বস্তির পর্যায়ে পৌঁছাও, আমি বলব এগিয়ে যাও। বিয়ের আগে পাত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে কী কী নীতি অনুসরণ করা উচিত? উমম... একজন পুরুষ বা নারী যখন দেখা করতে চায়, তারা চায়, বিয়ে নিয়ে সম্পর্কটি অন্বেষণ করতে, তাদের কী খুঁজে দেখা উচিত? স্পষ্টতই এখানে দুই...
দুটি ক্ষেত্র রয়েছে। মূল গুণাবলি এবং পার্শ্ব গুণাবলি, অন্যান্য গুণাবলি। মূল গুণগুলো নবি (সাঃ) এর হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বীন এবং আখলাখ হলো মূল গুণ। ইজা জা'আকুম মান তারদাউনা দিনাহু ওয়া খুলুকাহু ফাজাওয়্বিজূহু। যদি কেউ তোমার কাছে আসে, আর তুমি তাদের দ্বীনে সন্তুষ্ট হও, স্রষ্টার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক এবং আখলাক নিয়ে, সৃষ্টির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক, অর্থাৎ তাদের আচরণ ও শিষ্টাচার। সুতরাং এ দুটি হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোই মূলত মূল গুণাবলি। কখনো কখনো এগুলোও একটি মাত্রার মধ্যে থাকে। এমনকি ধার্মিক হওয়া নিয়েও, যেমন আমরা বলেছি, নিজের থেকে অনেক উপরের কাউকে খুঁজবেন না। কাছাকাছি পর্যায়ের কাউকে দেখেন, একসঙ্গে বেড়ে উঠুন। আর অন্য, মানে...
অন্য গুণাবলির ক্ষেত্রে, অবশ্যই বয়সের বিষয়, সৌন্দর্য, জাতিগত, পেশা ও শিক্ষার বিষয় দেখতে পারো। এই বিষয়গুলো মূলত পছন্দ-অপছন্দের ওপর নির্ভর করে। মানুষ সাধারণত এগুলোকে নির্দিষ্ট অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সাজায়। কেউ কেউ এগুলোকে খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। আবার কারো কাছে এগুলো তেমন বড় বিষয় নয়। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয়, সেগুলো হলো দ্বীন ও আখলাক। এটাই প্রথম বিষয়। দ্বিতীয়ত, যা মানুষকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলার জন্য খুঁজতে হবে্ আপনাকে ব্যক্তিত্বের ক্ষেত্রে সামঞ্জস্য খুঁজতে হবে। তো, আপনি কি ইন্ট্রোভার্ট নাকি এক্সট্রোভার্ট, মানুষের মাঝে থাকতে পছন্দ করেন বা করেন না, সক্রিয় জীবনযাপন করেন না কি করেন না, নাকি শুধু ঘরে থেকে বই পড়তে পছন্দ করেন - এইসব। ব্যক্তিত্বের দিকটি অন্বেষণ করুন। এ ছাড়া ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি অন্বেষণ শুরু করুন। আপনার কাছে বিয়েটা কেমন হবে বলে মনে হয়?
স্বামী বা স্ত্রী হিসেবে আপনার ভূমিকা কী হবে বলে মনে করেন? ভবিষ্যতে আপনার ভূমিকা কী হবে বলে মনে করেন? সন্তান হওয়ার পরের পরিকল্পনা কী? দুজন কি একই পথ ধরে এগোচ্ছেন, নাকি ভবিষ্যতে ভিন্ন পথে যাবেন? উমম... তাদের জিজ্ঞেস করুন। হতে পারে, হয়তো অর্থ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে কথা বলুন, এই সম্পর্কের আর্থিক লক্ষ্যগুলো কী? তারা কি বাজেট মেনে চলা পছন্দ করে, নাকি তারা ইচ্ছেমতো খরচ করতে চায়? মূলত, যতটুক সম্ভব তাদের ভবিষ্যৎ ভাবনা সম্পর্কে জানা, ব্যক্তিত্ব, শিষ্টাচার, আখলাক, তারা কিভাবে সংকট, কষ্ট, রাগ সামলায়, এসব সম্পর্কে যতটা সম্ভব জানা যায়। আশা করি, এমন উত্তর পাবেন, যা সন্তোষজনক হবে। সাক্ষাতের সময় অনুসরণযোগ্য নিয়মগুলো কী হওয়া উচিত?
উদাহরণস্বরূপ, দুজন একা না থাকা। অন্যান্য বিষয়, যেমন আচরণবিধি। আসলে, স্পষ্টতই, ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে বললে, প্রথম থেকেই সম্পর্কের মধ্যে বরকত রাখার চেষ্টা করতে হবে। কিছু তরুণ-তরুণী, দুর্ভাগ্যবশত, বিপরীত লিঙ্গের মধ্যে কিছু নিয়ম লঙ্ঘন করে। তারা একসঙ্গে বাহিরে যায়, একে অপরকে ডেট করে, এমনকি একসাথে রাতও কাটায়। এগুলো কখনোই বিয়ের পাত্র-পাত্রীর মধ্যে হওয়া উচিত নয়। যতদিন না তাদের নিকাহ, আকদ্-আল কিতাব সম্পন্ন হয় মূলত, আকদ্ সম্পাদন পর্যন্ত। এই ক্ষেত্রে কী করা উচিত?
এক্ষেত্রে শুরু থেকেই পরিবারকে যুক্ত করা শ্রেষ্ঠ উপায়। কেউ আগ্রহ প্রকাশ করলে বলুন, “ঠিক আছে, আমার পরিবারের সঙ্গে কথা বলুন।” এতে তারা পরিবারকে সম্পৃক্ত করতে পারবে, কথা বলা ও জানার সুযোগ পাবে। আলহামদুলিল্লাহ, একবার পারস্পরিক বোঝাপড়া হলে, তারপর তারা ফোনে কথা বলতে শুরু করতে পারে বা কমপক্ষে একে অপরকে চেনার জন্য টেক্সট করতে পারে। তারা যদি বাইরে দেখা করতে চায়, তাহলে সঙ্গে পরিবারের একজন তৃতীয় পক্ষ থাকা উচিত, যদি সম্ভব হয়, অবশ্যই। উমম... বিয়ে হওয়া পর্যন্ত দুজন একা থাকা যতটা সম্ভব এড়ানো উচিত। এখন, মনে হতে পারে, কেউ সিদ্ধান্ত নিতে কতক্ষণ সময় নেয়?
মানে, কখন তারা বলে, হ্যাঁ, সে সঠিক মানুষ। মজার বিষয় হলো, অনেকে মনে করে, সিদ্ধান্ত নিতে অনেক সময় লাগে। কিন্তু পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সিদ্ধান্ত নেয়া এক মুহূর্তের ব্যাপার। এর মানে কী? আপনি যখন তাকে দেখবেন, যদি হৃদয়ে অনুভূতি হয়, যে সে-ই উপযুক্ত স্বামী বা সে-ই উপযুক্ত স্ত্রী। অথবা ভেতরে অসন্তুষ্টি থাকবে। তারপর কী করা উচিত? ঘণ্টার পর ঘণ্টা যুক্তি খুঁজেন, মানসিক স্বীকৃতি দিতে। আপনি এখন শুধু প্রশ্ন করছেন এবং আপনার মন এবং হৃদয় যুক্তি দিচ্ছে, যে কেন এটি ভালো বা খারাপ সিদ্ধান্ত। আমি মজার ছলে বলি, দোকানে কিছু কেনার সময় তুমি কি আবেগ দিয়ে কিনো নাকি যুক্তি দিয়ে? সবাই বলে, যুক্তি দিয়ে, কারণ এটা প্রয়োজন। আমি বলি, না, না। কেন এটা, ওটা নয়? এমনকি টমেটোর বেলায়ও, ওটা নিলেনা কেনো?
কারণ প্রথমেই তোমার এটি পছন্দ হয়েছে সিদ্ধান্ত সবসময় আবেগ থেকে আসে। আমরা প্রথমে পছন্দ করি, তারপর যুক্তি খুঁজি। তাই দোকান থেকে কেনাকাটার পর রশিদ রেখে দেই কারণ যদি মত পরিবর্তন হয়, তাহলে যেনো ফেরত দেয়া যায়। কারণ প্রথমে যখন দেখেছিলেন ভালো লেগেছিল, তাই কিনেছিলেন। কিন্তু পরে যখন ভেবে দেখেন, বুঝেন যে, এটা অনেক দামি, আমার আসলে প্রয়োজন নেই। এরপর ফেরত দিয়ে দেন। সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একই বিষয় ঘটে। কাউকে দেখেই আপনার হৃদয়ে একটি সিদ্ধান্ত হয়ে যায়। তারপর আপনি নানারকম যুক্তি খুঁজতে থাকেন। তো হ্যা, যতবারই দেখো, যতবারই কথা বলো, শতবার বা হাজারবার, তাতে কিছুই যায় আসে না। আসলে, পরিসংখ্যান অনুযায়ী অনেকবার দেখা করা বা অনেকের সঙ্গে দেখা করা তোমার সফলতার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। কারণ যত বেশি দেখবে, তত বেশি বিভ্রান্ত হবে। এটা এক ধরনের জুয়ার মতো হয়ে যায়। তুমি ভাবতে শুরু করবে, ছেলেটা প্রায় নিখুঁত। মেয়েটা প্রায় নিখুঁত। আরেকবার দেখা করি, কিংবা অন্য কাউকে দেখি। হয়তো এইজন, হয়তো ওইজন। এভাবেই আমরা একে বলি বিশ্লেষণহীনতা বা সিদ্ধান্তহীনতা যত বেশি বিকল্প থাকবে, ততই সঠিক বা ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা কমবে। কী করবো যদি আমার আবেগ হ্যাঁ বলে, কিন্তু যুক্তি বলে না। অথবা উল্টোটা?
এটি আমাদের নিয়ে যায় সেই জায়গায়, আসলে, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে, যখন কেউ জীবনসঙ্গী নির্বাচন করতে চায়, সঠিক ব্যক্তিকে বেছে নিন, সেরা বা নিখুঁত ব্যাক্তিকে নয়। এর অর্থ? যদি আপনার হৃদয় বলে যে সে-ই সঠিক, কিন্তু পরিস্থিতি বলে এটা ভালো হবে না, যেমন, আপনার চাকরি নেই বা তার ভিসার জন্য আবেদন করা, মানুষের নানা পরিস্থিতি থাকে। এটি শুধু আগ্রহ বা ভালোবাসার জন্যই নয়, এটি সঠিক পরিস্থিতিতেও হওয়া উচিত। সুতরাং, যদি হৃদয় বলে যে সে-ই সঠিক, কিন্তু আপনার সামনে সকল যুক্তি বলে এটি ভালো হবে না, তাহলে যুক্তি শুনতে হবে। কারন এটি সত্যি ভালো নাও হতে পারে। হ্যাঁ, হয়তো আপনি মনে করছেন যে তাকে ভালোবাসেন, কিন্তু আপনার পরিস্থিতি ঠিক নেই। তাহলে কি করবেন?
আপনাকে পরিস্থিতি বদলাতে হবে, যাতে সম্পর্কটি পুরোপুরি কার্যকর হয়। যদি যুক্তি বলে, ধরুন, আমার যুক্তি বলছে, এটিই ভালো ধারণা, কিন্তু হৃদয় সাড়া না দেয়, তাহলে কী করবেন? এখন আবার একই নীতিতে ফিরে আসি। যদি পরিস্থিতি ঠিক থাকে তাহলে এই সম্পর্কের সফলতার সম্ভাবনা বেশি। কিন্তু আপনি তাকে ভালোবাসেন না ঠিক আছে। কিন্তু আপনি কি অন্তত মনে করেন, তিনি উপযুক্ত, তার এই যোগ্যতা আছে? এমন মানসিক প্রস্তুতি ও গ্রহণযোগ্যতা আছে? যদি থাকে, তাহলে আশা করা যায় সঠিক পরিস্থিতি সেই ভালোবাসার অগ্নি আপনার জন্য জাগিয়ে তুলবে। মূলত এটাই বিষয়। সব কিছুই সঠিক পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে। আমি যাকে বিয়ে করতে চাই, কিন্তু আমি আমার প্রার্থী সঙ্গীর প্রতি টান অনুভব করি। আমি মনে করি আমরা সুখী হব,কিন্তু আমি কারও বিরুদ্ধে যেতে চাই না। আমি কী করব?
আমি মনে করি না, পরিবারের বিরুদ্ধে যাওয়া কোন ভালো ধারনা। আপনাকে তাদের গ্রহণ করাতে, বা অন্তত মানিয়ে নিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। কারণ মানুষ ভাবে, একবার আপনারা বিয়ে করলেই, আপনারা চিরকাল সুখী থাকবেন। কিন্তু এক সময় অসুবিধা ও সংকট আসবে, তখন পরিবার ও তাদের সহযোগিতার প্রয়োজন হবে আপনার জীবনে। তাই সব সময়, সব সময় আমাদের পরিবারের আশীর্বাদ নিয়ে জীবনে এগিয়ে যাওয়া ভালো। যদি না, পরিবারের আর আপনার চাওয়া একেবারেই আলাদা হয়। যেমন, আলহামদুলিল্লাহ, আমি একজন ধার্মিক মুসলিম। আমি একজন ধর্মভীরু। আমি এমন কাউকে চাই, যিনি ধার্মিক, যথেষ্ট আমল করেন। অন্তত আমরা একসাথে ধর্মবিশ্বাস ও দ্বীনে, বেড়ে উঠতে পারার মতো। কিন্তু পরিবার এসবে গুরুত্ব দেয় না। তারা এমন কাউকে চায়, যে শুধু ধনী, এবং এমন কেউ; যে আমাদের পরিবারের, ঐতিহ্যের, সংস্কৃতির। তাহলে হ্যাঁ, এটা নির্ভর করে, যদি তাদের পছন্দ আপনার নির্ধারিত মানদণ্ড থেকে অনেক দূরে থাকে, যেমন, দ্বীন ও আখলাক। অর্থাৎ ধর্মীয় বিশ্বাস, আমল, শিষ্টাচার ও আচরণের মাপকাঠি হতে ভিন্ন। সে ক্ষেত্রে আমাকে আমার মানদণ্ডে অটল থাকতে হবে। আমি পরিবারকে বলব, যদি তোমরা আমার প্রধান মানদণ্ডের মধ্যে কাউকে না আনো, তাহলে আমার নিজেকেই কাউকে পছন্দ করতে হবে। তো এক পর্যায়ে তাদের সিদ্ধান্ত নিতেই হবে। কিন্তু আমি মনে করি না, কারো জন্য পরিবারের আশীর্বাদ ছাড়া বিয়ে করা উচিত। এটি সম্পর্ক থেকে বরকত দূর করবে। আমি একজনকে ভালোবাসি এবং আমরা বিয়ে করতে চাই, কিন্তু তার কিছু খারাপ অভ্যাস আছে। আমি ভয় পাচ্ছি যে এটি ভবিষ্যতে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু আমি তার জন্য প্রার্থনা করা ছাড়া অন্য কোন সমাধান দেখতে পারছি না। সে কি বিয়ের পর ভালো হয়ে যাবে?
আসলে, এটি নির্ভর করে, আমরা কোন অভ্যাসের কথা বলছি। মানে, যদি কারো খারাপ অভ্যাসের দীর্ঘ ইতিহাস থাকে, বিয়ে এমন কাউকে ঠিক করে না। এটি এমন নয় যে বিয়ে করলেই, মাশাআল্লাহ, আপনি হঠাৎ ধার্মিক হয়ে যাবেন। বিয়ে ছাড়লে আপনি ধার্মিকতা হারাবেন। এটি এমনভাবে হয় না। এবং এটি এমনও নয় যে বিয়ে...
যদি কেউ এসে প্রতিশ্রুতি দেয়, দেখো আমি তোমাকে কথা দিচ্ছি, আমি এটা ছেড়ে দেবো। যেমন ধরা যাক ধূমপান, এটি একটি খারাপ অভ্যাস। সে কোনো ধূমপায়ীকে পছন্দ করে না। সে চিন্তিত যে বিয়ের পরও সে ধূমপান চালিয়ে যাবে। সে বলে, ''না, না, চিন্তা করো না। আমি আসলেই সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আমি ধূমপান, ভ্যাপিং - এইসব ছেড়ে দেব।'' কিন্তু এতে কোনো গ্যারান্টি নেই। কারণ কিছু জায়গায় এটি একটি সাংস্কৃতিক বিষয়। তারা সব জায়গায় এটি করে। সে যদি সব সময় সেই সংস্কৃতির সাথে যুক্ত থাকে, তাহলে তার পক্ষে এটি বন্ধ করা কঠিন। তাই এই কারণে আমি বলি না, এবং সব খারাপ অভ্যাস ছেড়ে দেবে। কিন্তু এটাও নিশ্চিত নয় যে একজন ভালো মানুষ বিয়ের পর খারাপ অভ্যাস তৈরি করবে না। তাহলে আমি কি তাকে গ্রহণ করব, নাকি করব না?
আবারও বলছি, এটি নির্ভর করে আমরা কোন অভ্যাসের কথা বলছি। কিছু অভ্যাস অত্যন্ত আসক্তিকর এবং এগুলো পরিবর্তন করা খুব কঠিন। এর কিছু হতে পারে হারাম, এবং সে ক্ষেত্রে আমি না বলব, যদি সে আল্লাহর প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ না হয়। ব্যক্তিগতভাবে, আমি জানি না, সে বিয়ের পর কিভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে। তাই, এটি নির্ভর করে অভ্যাসটি কী এবং সে সেই অভ্যাসে কতটা জড়িয়ে আছে তার ওপর। কিন্তু সাধারণত এটি খারাপের দিকেই যায়। তারা সাধারণত অভ্যাস ত্যাগ করে না, তাই না?
মানুষ অভ্যাস ত্যাগ করাকে কঠিন মনে করে। তারা বলে, আসলে অভ্যাস চলে যায় না, শুধু নতুন অভ্যাসে প্রতিস্থাপিত হয়। যদি তুমি ধরো, এই খারাপ অভ্যাস, অনেকদিন ধরে চর্চা করো, এটি এড়ানোর জন্য, বিরত থাকার জন্য তোমাকে অন্য কিছু করতে হবে। প্রায়ই নতুন অভ্যাসের ভার পুরোনো অভ্যাসকে দমন করে। কিন্তু নতুন অভ্যাস বন্ধ করলে, খারাপ অভ্যাস আবার ফিরে আসে। তাই এটা জানা গুরুত্বপূর্ণ, সে আসলেই সেই পরিবর্তনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কিনা, সে তোমাকে বিয়ে করুক বা না করুক। তাহলে শেখ ইয়াসির বিরজাস কিভাবে বিয়ে করেছিলেন? আপনি কি আপনার প্রক্রিয়াটি বলতে পারেন?
মজার ব্যাপার, এটি ২৬ বছর আগের কথা। আলহামদুলিল্লাহ রব্বুল আলামিন। এবং সত্যি বলতে, এটি ছিল খুবই সাদামাটা পদ্ধতির। মানে, তখনকার দিনে বিষয়গুলো আসলেই সহজ ছিল। আমি তখন ইউরোপে কাজ করতাম এবং আমার মাকে বলেছিলাম, ''মা, আমি ফিরে আসতে চাই, জীবনসঙ্গী খুঁজে পেতে। তুমি কি সাহায্য করতে পারবে? তুমি কি এমন কাউকে খুঁজে দিতে পারবে, যাকে তুমি সুপারিশ করবে।” তিনি বললেন, “ঠিক আছে, তুমি ফিরে এসো; ইনশাআল্লাহ, আমি তোমার জন্য কাউকে ঠিক করে রাখবো।” তিনি ইউএসএ’র ছিলেন?
না, এটা আসলে, আমি জর্ডানে ছিলাম। আর তাই আমি আসলে ইউরোপে ছিলাম, বসনিয়ায় সেখানে কাজ করছিলাম। আর আমি তাকে বলেছিলাম যে , “আমাকে বিয়ে করার জন্য ফিরে আসতে হবে।” তাই সে বললো, “তুমি যখন ফিরে আসবে ইনশাল্লাহ, তোমার জন্য আমার কাছে কেউ প্রস্তুত থাকবে” তাহলে, ঠিক আছে, বিসমিল্লাহ। আমি ফেরার পর, মা তিনজন প্রার্থী ঠিক করেছিলেন। সুবহানাল্লাহ, আমরা তাদের সাথে কথা বলেছিলাম। এবং আল্লাহ তায়ালা চেয়েছিলেন, আমি আমার বর্তমান স্ত্রীকে বেছে নেই, আলহামদুলিল্লাহ। আমাদের বিয়েতে কত সময় লেগেছিল?
সত্যি বলতে, সিদ্ধান্ত নিতে তেমন সময় লাগেনি। ১০ থেকে ১২ দিন লেগেছিল। এক মাসের মধ্যেই আমাদের বিয়ে হলো এবং আমি তার ভিসার জন্য আবেদন করলাম, আর একসঙ্গে বসনিয়ায় উড়াল দিলাম। এখন ২৬ বছর আমরা একসঙ্গে, আর আমাদের চারটি সন্তান আলহামদুলিল্লাহ। মাশাআল্লাহ্। যদি আপনি এই পৃথিবীতে ১০০০ বার ফিরে আসতেন, তাহলে কি আপনি একইভাবে আপনার স্ত্রীকে বেছে নিতেন? অবশ্যই। আমি সত্যিই কিছু পরিবর্তন করতাম না। সত্যি বলতে, এটি ছিল সবচেয়ে সহজ উপায়। আমি বলব, এটি ছিল সবচেয়ে সরল উপায়। অনেকেই মনে করেন, বিয়ের সাফল্য নির্ভর করে কাকে বিয়ে করা হলো তার ওপর...
তারা বলে, বিয়ের আগে মানুষটিকে জানতে হবে। তবে, দেখা গেছে এই ধারণাটি ভুল, ডেটিং অনেক প্রচলিত হলেও মানুষ এতে সফল হচ্ছে না। যেমন, আপনি সেই মানুষটিকে জানেন, শুধু তাদের মন ও ধারনাগুলো নয়। এমনকি, কখনো কখনো তারা একসঙ্গে ঘুমায়ও, অর্থাৎ আর কিছুই লুকানো থাকে না। এর পরও সম্পর্কের সফলতা নিশ্চিত হয় না। তাহলে, যখন... মজার বিষয় হলো, আসলে এটাকে বলা যায়, এটি একটি বিপরীতমুখী ধারণা। যে আমি অনেক লোককে জানি, যারা এমন কাউকে বিয়ে করতে চায় না, যাকে তারা খুব বেশি চেনে। যদিও আমরা বলি, বিয়ের আগে মানুষকে চিনতে হবে, তাই না?
কিন্তু কখনো কখনো অতিরিক্ত জানা মানুষের মধ্যে বিয়ের আগ্রহ কমিয়ে দেয়। তাই, এতে তারা এমন কাউকে বিয়ে করতে পছন্দ করে যার সঙ্গে তাদের কিছুটা রহস্য থাকে। যেমন, উদাহরণস্বরূপ এখানে আমেরিকায়, এমএসএ, অর্থাৎ মুসলিম স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, যেখানে কলেজের তরুণরা একসঙ্গে সময় কাটায়...
তারা দীর্ঘ সময় ধরে একে অপরের পাশে থাকে। কিন্তু যখন বিয়ের প্রসঙ্গ আসে, তাদের মধ্যে কয়েকজনই একই গ্রুপের কাউকে বিয়ে করে। তারা সম্ভবত দেশের অন্য প্রান্ত থেকে কাউকে খুঁজে বিয়ে করতে চায়। সেই একই গ্রুপের কাউকে বিয়ে করার পরিবর্তে, যাদের সঙ্গে তারা কাজ করেছে। আমি জিজ্ঞেস করি, '"কিন্তু কেন?" তারা বলে, আমরা একে অপরকে খুব ভালোভাবে চিনি। আমরা খুব ঘনিষ্ট। তারা একে অপরের সম্পর্কে এত বেশি জানে যে, এটি আর বিয়ের জন্য আকর্ষণীয় থাকে না। তো এটি সেই ভুল ধারণাগুলোর একটি। মানুষ ভাবে, বিয়ের আগে কাউকে ভালোভাবে জানতে হবে। আসলে, আপনার যথেষ্ট জানা প্রয়োজন। আমি বলব, এটি যুক্তিসঙ্গত। যেমন, আমি জানতে চাই মানুষটি সৎ কিনা, এই ব্যক্তির ধর্মীয় মানসিকতা, আলহামদুলিল্লাহ, যথাযথ। তাদের চরিত্র মাশাআল্লাহ, তাদের সুনাম ভালো। অর্থাৎ, আমার যথেষ্ট জানা প্রয়োজন। তবে কি এর নিশ্চয়তা আছে, এই ব্যক্তি, ঠিক ততটাই নিখুঁত ও সৎ হবে, যতটা আপনি বলেছেন?
আমরা জানি না। সব সময়ই কিছুটা বিস্ময় থাকে। ইতিবাচক হতে পারে, নেতিবাচকও হতে পারে। এটি আমাদের পরীক্ষা, আল্লাহ তাদের জন্য সহজ করুন, যারা এসব পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যায়। আমরা দেখেছি, আপনার কিছু রান্নার ভিডিও রয়েছে। ইয়াসির বিরজাস কি বাড়িতে রান্নাঘরে যান?
আপনার কি কোনো বিশেষ রেসিপি আছে, যেটা আপনার স্ত্রী আপনার মতো ভালো করতে পারে না। আমি প্রায়ই রান্নাঘরে যাই। আমি রান্না করতে ভালোবাসি। জানিয়ে রাখি, আমার ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাকগ্রাউন্ড রয়েছে, যা আমার মনে হয় সবসময় রান্নার মধ্যে থাকে। কারণ রান্না আসলে এক ধরনের ইঞ্জিনিয়ারিং। এটি মশলা, স্বাদ ও অন্যান্য উপাদানের নিখুঁত সামঞ্জস্যের ব্যাপার। তাই আমি এই জিনিসগুলো পছন্দ করি। আমি সত্যিই রান্না করি। মাঝে মাঝে আমি রান্নাঘরে অংশ নিই। বিশেষ করে যদি আমার স্ত্রী সাহায্য চান, অথবা যদি তিনি সেদিন রান্না করতে না পারেন, অথবা যদি তিনি ক্লান্ত হন বা অসুস্থ থাকেন। যদি এমন কোনো বিশেষ খাবার থাকে, যা আমি ভালো করি আমার সন্তানদের জিজ্ঞাসা করলে তারা বলবে, তুমি স্যুপ ও সালাদে ভালো। মূলত এটি আমার বিশেষত্ব। আমি অবশ্যই অন্যান্য জিনিসও রান্না করি, কিন্তু তারা বলে, ''তোমার বানানো স্যুপগুলো খুব ভালো।'' কারণ আমি বিভিন্ন ধরনের স্যুপ তৈরি করি। আমি অনলাইনে বিভিন্ন রেসিপি খুঁজি এবং তাতে আমার নিজস্ব কিছু যোগ করি। এবং এটি ভালো হয়ে যায়। সালাদের ক্ষেত্রেও একই। আমি বিভিন্ন সালাদের রেসিপি দেখি, অনেক বৈচিত্র্য তৈরি করি। অবশ্য, যদি আমার স্ত্রী রান্না শুরু করেন, অবশ্যই তিনি আমার সব কিছুকে ছাড়িয়ে যাবেন। কিন্তু নিশ্চিতভাবে রান্নাঘরে আমার নিজস্ব দখল আছে। আপনার মেয়ের বিয়ের ক্ষেত্রে তাকে আপনি কী পরামর্শ দেবেন?
আমি তাকে বলব, ঠিক কিভাবে বিয়ে হওয়া উচিত। সে বুঝুক যে বিয়ে বিষয়টি সহজ নয়, কিন্তু তুমি এটিকে সুন্দর করে তুলতে পার। আমি বলব, বিয়ে এক ধরনের চিত্রকর্ম এবং তুমি সেই ছবির শিল্পী। আর...
দুজন শিল্পীই একই রঙ ব্যবহার করে, কিন্তু সুন্দর একটি ছবি তৈরি করতে তাদের মধ্যে ভালো সমন্বয় থাকতে হবে। বিয়ের ক্ষেত্রে এটি পুরোপুরি ভালোবাসা ও সহানুভুতির বিষয়। এটিকে শুধু ভালোবাসা হিসেবে ভাবা যাবে না। এতে সহানুভূতি, ক্ষমা ও নমনীয়তাও থাকতে হবে। যখন বিয়ের প্রসঙ্গ আসে, বিয়ে বিষোয়টি এক ধরনের পরীক্ষা, যা এই জীবনেরই অংশ। এই সম্পর্কে আপনি চাইলেই সব কিছু পাবেন না। এটি সব সময়ই পারস্পরিক সমঝোতার বিষয়। সুতরাং এমন কিছু থাকবে যা আপনার পছন্দ হবে না, আবার এমন কিছু থাকবে যা আপনি ভালোবাসবেন, আলহামদুলিল্লাহ। সামগ্রিকভাবে, এটি একটি যাত্রা। সেই যাত্রার সব উত্থান-পতন মেনে নিতে হবে। কখন বুঝবেন যে আপনার বিয়ে সুন্দর ছিল?
হয়তো ৪০ বা ৫০ বছর পর, পেছনে ফিরে তাকিয়ে বলবেন, ''অসাধারণ, কী দুর্দান্ত এক যাত্রা ছিল!'' কিন্তু এর মাঝে, আপনি শুধুই মনোযোগ দেবেন কঠিন সময় আর বিপদের মুহূর্তগুলোতে। শেখ ইয়াসির বিরজাহ, আপনার উত্তরগুলোর জন্য ধন্যবাদ। আমি আপনার থেকে অনেক কিছু শিখলাম। আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিক। তাবারাকাল্লাহ। আমাকে এখানে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ধন্যবাদ।
আসসালামু আলাইকুম, শেখ ইয়াসির বিরজাস আমাদের আমন্ত্রণ গ্রহণের জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনাকে সাথে পেয়ে আমরা খুব আনন্দিত। আজ আমরা বিয়ে সম্পর্কিত কিছু প্রশ্ন করতে চাই। অবশ্যই। তো আজকের প্রশ্নে আপনাকে হয়তো একটু ঘাম ঝরাতে হবে। বিসমিল্লাহ, অপেক্ষায় আছি, শুরু করুন। ঠিক আছে। ডেটিং ইসলামে নিষিদ্ধ। অন্য কোনোভাবে উপযুক্ত মানুষ খুঁজে পাব বলে আমার মনে হয় না। এ ছাড়া, কেউ আমাকে কোনো ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলে, তিনিই আমার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত মানুষ হবেন?
আসলে, আমার মনে হয় ডেটিং নিয়ে সবচেয়ে বড় ভুল ধারণাগুলোর একটি হলো, ডেটিং আপনাকে সফল সিদ্ধান্ত ও সফল বিয়ের দিকে নিয়ে যায়। এখানে আমেরিকায়, অন্তত আমেরিকায়, মানুষ এখন ডেটিংকে তালাকের জন্য অনুশীলন হিসেবে বিবেচনা করে। কারণ তারা বুঝতে পেরেছে, ডেটিং অবধারিতভাবে নিশ্চিত করে না যে, আপনি এমন কাউকে বেছে নেবেন যিনি আপনার সঙ্গে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখবেন। এটা আসলে এক ধরনের শিল্পে পরিণত হয়েছে। এটা মূলত অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকগুলো ডেটিং সাইট এবং ডেটিং সংস্কৃতি এবং এইধরনের নানা বিষয় রয়েছে। এগুলোর প্রচারণা অনেক বেশি, কিন্তু এটি অবধারিতভাবে নিশ্চিত করে না যে, আপনি বিয়ের জন্য উপযুক্ত কাউকে পাবেন। নাহলে, যদি ডেটিং আমেরিকায় সফল হতো, তাহলে কেন আমাদের এখনো বিয়ে করতে এবং বিয়ে টিকিয়ে রাখার সমস্যা রয়েছে?
কারণ আমাদের এখানে বিয়ের হার খুব কম এবং তালাকের হার খুব বেশি। তাহলে ডেটিং নিশ্চয়তা দেয় না যে আপনি সঠিক মানুষকে খুঁজে পাবেন। তাহলে কাউকে খুঁজে পাওয়ার সঠিক উপায় কী? সত্যি বলতে, যতই আমরা চেষ্টা করিনা কেন, সবচেয়ে ভালো উপায় আসলে মুখে জানানো। একজন এমন কাউকে চেনে, যিনি আরেকজনকে চেনেন, এবং তাদের মাধ্যমে আপনাদের পরিচয় হতে পারে। এরপর যখন তারা তাদের সম্পর্কে জানতে পারে, তখন তারা আনুষ্ঠানিকভাবে সাক্ষাৎকার করে, আলাপ করে, কথা বলে এবং আলোচনা চালায়। এবং শেষপর্যন্ত, আশা করি এভাবে আমরা সেই মানুষকে খুঁজে পাব, যে আপনার বিয়ের জন্য উপযুক্ত। ডেটিং বা বিয়ে সম্পর্কে সবচেয়ে মজার ও অদ্ভুত কোন প্রশ্ন পেয়েছেন?
মানে, ওয়াও। মানুষ, মানুষ আসলে অনেক কিছুই জানতে চায়। তাদের সবচেয়ে আইকনিক প্রশ্নটি হলো, তারা একজন পার্ফেক্ট মানুষ খোঁজে। যখন তারা আমার কাছে আসে, তারা বলে, "আপনি কি আমাকে একজন উপযুক্ত মানুষ খুঁজে দিতে পারেন?" আমি বলি, “অবশ্যই” তাই আমি সাধারণত মানুষকে মজা করে বলি, যখন তারা আমার কাছে এসে বলে, "আপনি কি স্ত্রী বা মেয়ে খুঁজে পেতে আমাকে সাহায্য করতে পারেন?" আমি বলি, "ঠিক আছে, আপনি কেমন মেয়ে খুঁজছেন?" তারপর সে আমাকে দীর্ঘ চাহিদার তালিকা দেয়। সে বলে, "সবচেয়ে সুন্দরী, ধার্মিক, তিনি এমন হবে, তেমনভবে।" সে আমাকে একেবারে নিখুঁত বৈশিষ্ট্যের একটি তালিকা দেয়। তারপর সে জিজ্ঞাসা করে, আপনার কি মনে হয়?
আমি বলি, অসাধারণ। আপনি যদি এমন কাউকে খুঁজে পান, আমাকে জানাবেন। আমি তাকে বিয়ে করতে চাই, কারণ কারণ আমার মনে হয় না যে এমন কেউই বাস্তবে আছে। দেখুন, কেউ সত্যিই সম্পূর্ণ নিখুঁত নয়। আপনি এমন কাউকে খুঁজে পেতে পারেন, যার পরিবার অসাধারন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, মানুষ হিসেবে তিনি হয়ত আপনার জন্য সঠিক নাও হতে পারেন। আপনি এমন কাউকে পেতে পারেন, যিনি মাশাআল্লাহ্ চরিত্রের দিক থেকে অসাধারন। আচার-ব্যবহার অসাধারণ। কিন্তু শিক্ষা, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার দিক থেকে হয়তো আপনার জন্য সেরা নাও হতে পারে। সুতরাং, নিখুঁত কিছুই নেই। মানুষ দুর্ভাগ্যবশত, একধরনের মোহের পেছনে ছুটে। তাদের ধারণা, যদি আমি সেই নিখুঁত মানুষকে পাই, সেই আত্মার সঙ্গীকে পাই, তাহলে আমার জীবন হবে নিখুঁত, অসাধারণ। কিন্তু এটা সত্য নয়। আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়াতা'আলা কুরআনে বলেছেন, লাক্বদ খালাক়নাল ইনসানাফি কাবাদ। নিঃসন্দেহে আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি কষ্ট-ক্লেশের মধ্যে। এরমানে, আপনাকে সবসময় পরীক্ষা দিতে হবে, সংগ্রাম করতে হবে, আর বিয়ে জিনিসটিও এমনই একটি পরীক্ষা। এখন একে সুন্দর করে তোলা বা না তোলা আপনার ব্যাপার। তাই হ্যাঁ, যখন তারা প্রশ্ন করে, তারা অবাস্তব প্রশ্ন করে, এবং তারা যাকে বিয়ে করতে চায় তার সম্পর্কে অবাস্তব চাহিদা তোলে। দেখুন, মানুষ চায়— তারা সাধারণত এমন কাউকে খোঁজে যাকে আমি বলি...
একটি নিখুঁত আদর্শ, অথবা বলা যায় সবচেয়ে উপযুক্ত উদাহরণ। আমি তাদেরকে বলি, "নিখুঁত মানুষ খোঁজো না, সঠিক মানুষ খোঁজো।" আর পার্থক্য হলো, যখন আমরা নিখুঁতার কথা বলি, তা হয় বিমূর্ত, তাত্ত্বিক বিষয়। আপনি এটি খুঁজে পাবেন কাগজে, তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, তাদের বয়স, দৃষ্টিভঙ্গি, ব্যক্তিত্ব—এসব দিয়ে। এ সব কিছুই কাগজে সুন্দর দেখায়। কিন্তু যখন একসাথে থাকা ও জীবন কাটানোর বিষয় আসে, তখন বাস্তবতা ভিন্ন হয়। তাই নিখুঁত মানুষ নয়, সঠিক মানুষ খুঁজে বের করুন। কারণ সঠিক মানুষই আপনার জন্য নিখুঁত মানুষ হবে। তাহলে আপনি কিভাবে বুঝবেন কে আপনার জন্য সেই সঠিক মানুষ? প্রথমত, আপনাকে নিজেকেই আগে বুঝতে হবে। যেমন আমরা সাধারণত মানুষকে বলি, আপনি কি নিজেকে বিয়ে করতেন?
এই প্রশ্নটাই আসল। চমৎকার। মানে, আপনি যদি নিজের বিপরীত লিঙ্গ কল্পনা করেন, তবে কি আপনি তাকে বিয়ে করতেন? আর যদি উত্তর হয় না, তাহলে আপনার আত্মবিশ্বাসে সমস্যা আছে। মানে আপনি নিজেই নিজের সম্পর্কে নিশ্চিত না। তাহলে এর মানে কী দাঁড়ায়? আমি যখন জিজ্ঞেস করি, “আপনি কী খোঁজেন?” তারা বলে, “আমি একজন ধার্মিক মানুষ চাই।” আমি বলি, “কতটা ধার্মিক চান?” আপনি কি এমন কাউকে বিয়ে করবেন, যিনি আপনার চেয়ে কম ধার্মিক। নাকি এমন কাউকে, যিনি আপনার চেয়ে বেশি ধার্মিক?
তারা প্রায়ই বলে, “আমি আমার চেয়ে বেশি ধার্মিক কাউকে চাই” আমি বলি, “কেন?” তারা বলে, আমি চাই সে আমাকে আরো ভালো মুসলিম হতে, সাহায্য করুক আরো ভালো মানুষ হতে। আমি বলি, ঠিক আছে, তুমি যদি এই অবস্থানে থাকো, আর তুমি যদি এমন কাউকে খুঁজতে থাকো, যে তোমার চেয়ে ওপরে, সে এই স্তরের। সে কেন তোমাকে চাইবে? তারা নিশ্চয়ই তাদের চেয়ে ওপরের কারো সন্ধান করবে। এর ফলে, তুমি কখনো কাউকে বিয়ে করতে পারবে না। কারণ তুমি সব সময় তোমার চেয়ে ওপরের কারো অপেক্ষায় থাকবে। তাহলে কী করা উচিত?
সবচেয়ে ভালো হলো এমন কাউকে খুঁজে বের করা, যে তোমার সঙ্গে প্রায় একই স্তরে রয়েছে, যাতে একসঙ্গে বেড়ে উঠতে পারো। আর যদি এমন কাউকে বিয়ে করতে চাও, যে এই স্তরে রয়েছে, তাহলে আগে নিজেকে উন্নত করো, যতক্ষণ না তুমি ওই পর্যায়ে পৌঁছাও, যাতে তুমি তোমার পর্যায়ের কারো আকর্ষণ পেতে পারো। এটা শিক্ষার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, তোমার ও তোমার পরিবারের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার ক্ষেত্রেও। যেমন, এমন কাউকে খুঁজে বের করো, যে তোমার কাছাকাছি পর্যায়ের। সে-ই তোমার জন্য সঠিক ব্যক্তি হবে। কারণ যত বেশি এসব ক্ষেত্রে তোমাদের মিল থাকবে, ততই ভালো। এতে তোমাদের মধ্যে ভিন্নতার কারণে প্রত্যাশার সমস্যা কম হবে। বিয়ে করার জন্য কি প্রেমে পড়া বাধ্যতামূলক?
এটা নির্ভর করে আপনি কিভাবে ভালোবাসার সংজ্ঞা দেবেন। যদি আপনি টিভিতে দেখানো ওইসবকে ভালোবাসা বলেন, তাহলে বলব, এমনকি তথাকথিত অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও আশা করে, তাদের বাস্তব জীবনের ভালোবাসা যেন টিভির মতো নিখুঁত হতো। কিন্তু আমেরিকার অনেক সেলিব্রিটির মধ্যে, দুঃখজনকভাবে তারা বিয়ে করে, তালাক দেয়, আবার বিয়ে করে, আবার তালাক দেয়। কখনো কখনো তারা আসলে বিয়েই করে না, এটা শুধু... যদিও তারা টিভিতে সবচেয়ে নিখুঁত প্রেমের গল্প উপস্থাপন করে, কিন্তু তাদের বাস্তব জীবন দুঃখজনকভাবে সে রকম নয়। তাহলে, ভালোবাসা বলতে কী বোঝায়? আমি বিশ্বাস করি, ভালোবাসা অবশ্যই অবশ্যই সম্পর্কের সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শুধু এটুকুই সব কিছু নয়। এছাড়াও ভালোবাসা...
আল্লাহ সুবহানাহু সূরা আর-রূমে বলেছেন, “ওয়ামিন আয়াতিহি আন খালাকা লাকুম মিন আনফুসিকুম আজওয়াজাল লিতাসকুনু ইলাইহা” তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য হতেই তোমাদের সঙ্গিণী সৃষ্টি করেছেন। কেন?
যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মধ্যে সৃষ্টি করেছেন মাওয়াদ্দাতাওঁ ওয়া রাহমাহ, ভালবাসা ও দয়া। আবেগ ও সহানুভূতি দিয়েছেন। ইন্না ফি যালিকা লা-আয়াতিল লিকাওমিন ইয়াতাফাক্কারুন চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য এতে অবশ্যই বহু নিদর্শন রয়েছে। এখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা আমাদের বলছেন, ''আমি তোমাদের শান্তি ও প্রশান্তির নিশ্চয়তা দিচ্ছি, যা একটি সম্পর্কে সবাই খোঁজে, যদি তোমরা ভালোবাসা ও দয়ার সঙ্গে একসাথে বাস করো।'' তাহলে ভালোবাসা একটি সফল সম্পর্কের একটি উপাদান। কিন্তু আসলে এটি কী বোঝায়?
এটাই মূল প্রশ্ন। মানুষকে জিজ্ঞাসা করলে, ভালোবাসার নির্দিষ্ট সংজ্ঞা পাওয়া যাবে না। ভালোবাসা একটি বিস্তৃত ধারণা, যা পরবর্তিতে সম্পর্কে পরিবর্তিত হয়। মানুষ কখনো কাউকে বিশেষ কারণে ভালোবাসে, পরে সেই কারণ ম্লান হয়ে যায় এবং সম্পর্কের নতুন দিক উদ্ভাসিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, আপনার সন্তান রয়েছে, যাদেরকে আপনি পিতা-মাতা হওয়ার কারণে ভালোবাসেন আর এভাবেই। কিন্তু অনেক মানুষ, দুর্ভাগ্যবশত, ভালোবাসাকে শুধু আবেগ মনে করে, যার অর্থ, হৃদয়ে কিছু অনুভব করা। আর যদি আমার সেটা থাকে, আমরা একসঙ্গে থাকতে পারি। যদি না থাকে, তবে শেষ। তাহলে সম্পর্কও শেষ হয়ে যাবে। এটা সঠিক নয়। কারণ অনেক সম্পর্ক ভালোবাসার ওপর ভিত্তি করে চলে না। সেগুলো চলে দয়ার ভিত্তিতে, রহমতের ভিত্তিতে। একবার এক ব্যক্তি ওমর (রাঃ)-এর কাছে গেল আর জিজ্ঞেস করলো, সে বলল, ''আমার মনে হয় আমি আর আমার স্ত্রীকে ভালোবাসি না।'' ফাক্বালা ওয়া-হাল কুল্লুল বুয়ূত্তুবনা আলাল-মাহাব্বা তুমি কি মনে করো সব ঘর ভালোবাসার উপর টিকে থাকে?
মনে করো যে সব ঘর ভালোবাসার উপর গড়া?
হ্যাঁ, কখনো কখনো আমাদের মধ্যে এতটা আবেগ নাও থাকতে পারে, কিন্তু আমরা এখনো একসঙ্গে থাকি, কারণ এখনো একে অন্যের জন্য সম্মান আছে। আমাদের মধ্যে এখনো সহানুভূতি আছে। অন্যান্য মূল্যবোধ রয়েছে। আর এই কারণেই মানুষ বিভিন্ন কারণে বিয়ে করে, এটাই স্বাভাবিক। কখনো কখনো মানুষ কাউকে বিয়ে করে, এটা না জেনেই যে সে তাকে ভালোবাসবে। কিন্তু সুবহানাল্লাহ, তাদের আচরণ ও নীতির কারণে, তারা একে-অপরের প্রেমে পড়ে যায়। একজনের প্রশ্ন, ''একজন পাত্র বা পাত্রী আছে, যাকে আমি বিয়ে করতে চাই। সে আমার কিছু মানদণ্ড পূরণ করলেও সব করে না। আমার মনের এক অংশ বলে, যদি ছেড়ে দিই, ভবিষ্যতে আফসোস হবে। আরেক অংশ বলে, যদি বিয়ে করি, ভবিষ্যতে আফসোস হতে পারে। মাঝামাঝি অবস্থানে আছি এই মানুষটাকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে কত শতাংশ মানদণ্ড পূরণ হওয়া উচিত?
ওহ, এটা কঠিন প্রশ্ন। কারণ সত্যি বলতে, এর নির্দিষ্ট কোনো হিসাব নেই। কিন্তু আমি যা বলেছি, তা নির্ভর করে পরিস্থিতির ওপর। আপনি একজন জীবনসঙ্গীর মধ্যে কী খুঁজছেন? দেখুন, এটা হলো... আমরা এটি নবী (সা.)-এর হাদিস থেকে জানি, একবার নবী (সা.) একটি সফর থেকে ফিরছিলেন, তখন তিনি দেখলেন জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) মদিনায় ফিরতে খুব তাড়াহুড়া করছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর সঙ্গে একটু রসিকতা করলেন। "তোমার এত তাড়াহুড়া কেন?
এত ব্যস্ত কেন?" তিনি বললেন, "ইয়া রাসূলুল্লাহ, যাওয়ার আগে আমি বিয়ে করেছিলাম। তাই আমি আবার স্ত্রীর কাছে ফিরতে চাই।" "আমি তাঁর সঙ্গে খুব বেশি সময় কাটাতে পারিনি। তাই আমি দ্রুত ফিরে যেতে চাই। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, বিকরুন আম সাইয়্যিব তুমি কি তোমার বয়সী কাউকে বিয়ে করেছো, নাকি এমন কাউকে, যে আগেও বিয়ে করেছে?
তিনি বললেন, "না, আমি এমন একজনকে বিয়ে করেছি, যার আগেও বিয়ে হয়েছে।" তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, "তোমার বয়সী কাউকে কেন বিয়ে করোনি?" তিনি বললেন, "ইয়া রাসূলুল্লাহ, আমার বাবা যখন মারা যান, আমি ছিলাম একমাত্র ছেলে। তাই আমাকে এমন কাউকে দরকার ছিল, যে আমার বোনদের দেখাশোনা করতে সাহায্য করবে। আমি এমন কাউকে আনতে চাইনি, যার দায়িত্ব আমাকেই নিতে হবে।" তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর সিদ্ধান্তকে অনুমোদন দিলেন এবং তাঁর জন্য দোয়া করলেন। এর অর্থ কী দাঁড়ায়? জাবিরের জন্য সবচেয়ে ভালো হতো তাঁর সমবয়সী কাউকে বিয়ে করা, যেন তারা একসঙ্গে বেড়ে উঠতে পারে। কিন্তু তাঁর পরিস্থিতি দাবি করেছিল যে, তিনি এমন কাউকে বিয়ে করুক, যিনি অভিজ্ঞ, যিনি তাঁর বোনদের দেখভালে সাহায্য করতে পারবেন। এটাই ছিল তাঁর জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত। ঠিক?
এখন বলাটা কঠিন যে ৫০ শতাংশ, ৩০ শতাংশ নাকি ২০ শতাংশ করতে হবে। কারণ প্রত্যেকের ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতি রয়েছে। কাউকে অর্থনৈতিক দিক বিবেচনায় নিতে হয়, কাউকে পারিবারিক বা সাংস্কৃতিক দিক। সবই ঠিক আছে, কিন্তু সে আমার সংস্কৃতির নয়। সে ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষ। এটা তাদের জন্য বড় ব্যাপার হতে পারে। তাই না? যদিও সেটা হয়তো পুরো যোগ্যতার মাত্র ১০ শতাংশ। কিন্তু সেই ১০ শতাংশ অনেক সময় পুরো ৯০ শতাংশ এর থেকে বেশি গুরুত্ব পায়। প্রথম দেখা হয়ে গেছে, কিন্তু আমি নিশ্চিত নই তার প্রতি আমার অনুভূতি কী। আমার কি প্রথম দেখাতেই প্রেমে পড়া উচিত ছিল না? আমার মত নেতিবাচক না, আবার নিশ্চিতভাবে ইতিবাচক বলতে পারি না। এমতাবস্থায় কী করা উচিত?
এটা সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি, এ সময়ের এবং প্রজন্মের, বিশেষ করে তরুণদের। এবং এর মূল কারণ হচ্ছে, আজকের প্রজন্ম এমন কিছু পরিস্থিতিতে আছে যা আগের প্রজন্মের জন্য সহজলভ্য ছিল না। যাকে বলে প্রাচুর্যের সংস্কৃতি। অর্থাৎ চারদিকেই বিভিন্ন বিকল্প রয়েছে, আর বিকল্প যত বেশি, ততই সিদ্ধান্ত নিতে কষ্ট হয়। ফলে মানুষ দ্বিধায় পড়ে যায়। তারা অনেককেই দেখে, অনেকের সঙ্গে কথা বলে। আর তখনই জুয়া খেলার মানসিকতা চলে আসে। আরো একটু অপেক্ষা করি, পরের জন হয়তো পারফেক্ট হবে, এমন ভাবনা আসে। যত বেশিজনকে দেখবেন, ততই সন্তুষ্ট হতে বেশি কষ্ট হবে। আর সিদ্ধান্ত নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। তাই আমি তরুণদের বলি, দেখুন, ব্যাপারটা প্রেমে পড়া না, বরং একটা জোনে, তাদের সাথে একটা কমফোর্ট জোনে পৌঁছনো। মানে কী?
মানে আমি তার সঙ্গে কথা বলি, এবং তার সঙ্গে স্বাচ্ছন্দ বোধ করি। তাকে ভালোবাসি? তা ঠিক জানি না কিন্তু... মানে, এটা এখনো প্রক্রিয়াধীন। আমি এখনো বেশি কিছু জানি না, সম্ভবত সময়ের সঙ্গে সব ঠিক হয়ে যাবে। ঠিক? তাহলে, এটা আসলে প্রেমে পড়ার বিষয় নয়। পাগলের মতো প্রেমে পড়ার বিষয় নয়। এটা হলো তার সঙ্গে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করার বিষয়, এবং এটা অনুভব হতে পারা যে সে একদিন আমার সন্তানদের মা হবে। অথবা সে আমার স্বামী, আমার সন্তানদের বাবা হবে। যদি এই স্বস্তির পর্যায়ে পৌঁছাও, আমি বলব এগিয়ে যাও। বিয়ের আগে পাত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে কী কী নীতি অনুসরণ করা উচিত? উমম... একজন পুরুষ বা নারী যখন দেখা করতে চায়, তারা চায়, বিয়ে নিয়ে সম্পর্কটি অন্বেষণ করতে, তাদের কী খুঁজে দেখা উচিত? স্পষ্টতই এখানে দুই...
দুটি ক্ষেত্র রয়েছে। মূল গুণাবলি এবং পার্শ্ব গুণাবলি, অন্যান্য গুণাবলি। মূল গুণগুলো নবি (সাঃ) এর হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বীন এবং আখলাখ হলো মূল গুণ। ইজা জা'আকুম মান তারদাউনা দিনাহু ওয়া খুলুকাহু ফাজাওয়্বিজূহু। যদি কেউ তোমার কাছে আসে, আর তুমি তাদের দ্বীনে সন্তুষ্ট হও, স্রষ্টার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক এবং আখলাক নিয়ে, সৃষ্টির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক, অর্থাৎ তাদের আচরণ ও শিষ্টাচার। সুতরাং এ দুটি হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোই মূলত মূল গুণাবলি। কখনো কখনো এগুলোও একটি মাত্রার মধ্যে থাকে। এমনকি ধার্মিক হওয়া নিয়েও, যেমন আমরা বলেছি, নিজের থেকে অনেক উপরের কাউকে খুঁজবেন না। কাছাকাছি পর্যায়ের কাউকে দেখেন, একসঙ্গে বেড়ে উঠুন। আর অন্য, মানে...
অন্য গুণাবলির ক্ষেত্রে, অবশ্যই বয়সের বিষয়, সৌন্দর্য, জাতিগত, পেশা ও শিক্ষার বিষয় দেখতে পারো। এই বিষয়গুলো মূলত পছন্দ-অপছন্দের ওপর নির্ভর করে। মানুষ সাধারণত এগুলোকে নির্দিষ্ট অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সাজায়। কেউ কেউ এগুলোকে খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। আবার কারো কাছে এগুলো তেমন বড় বিষয় নয়। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয়, সেগুলো হলো দ্বীন ও আখলাক। এটাই প্রথম বিষয়। দ্বিতীয়ত, যা মানুষকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলার জন্য খুঁজতে হবে্ আপনাকে ব্যক্তিত্বের ক্ষেত্রে সামঞ্জস্য খুঁজতে হবে। তো, আপনি কি ইন্ট্রোভার্ট নাকি এক্সট্রোভার্ট, মানুষের মাঝে থাকতে পছন্দ করেন বা করেন না, সক্রিয় জীবনযাপন করেন না কি করেন না, নাকি শুধু ঘরে থেকে বই পড়তে পছন্দ করেন - এইসব। ব্যক্তিত্বের দিকটি অন্বেষণ করুন। এ ছাড়া ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি অন্বেষণ শুরু করুন। আপনার কাছে বিয়েটা কেমন হবে বলে মনে হয়?
স্বামী বা স্ত্রী হিসেবে আপনার ভূমিকা কী হবে বলে মনে করেন? ভবিষ্যতে আপনার ভূমিকা কী হবে বলে মনে করেন? সন্তান হওয়ার পরের পরিকল্পনা কী? দুজন কি একই পথ ধরে এগোচ্ছেন, নাকি ভবিষ্যতে ভিন্ন পথে যাবেন? উমম... তাদের জিজ্ঞেস করুন। হতে পারে, হয়তো অর্থ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে কথা বলুন, এই সম্পর্কের আর্থিক লক্ষ্যগুলো কী? তারা কি বাজেট মেনে চলা পছন্দ করে, নাকি তারা ইচ্ছেমতো খরচ করতে চায়? মূলত, যতটুক সম্ভব তাদের ভবিষ্যৎ ভাবনা সম্পর্কে জানা, ব্যক্তিত্ব, শিষ্টাচার, আখলাক, তারা কিভাবে সংকট, কষ্ট, রাগ সামলায়, এসব সম্পর্কে যতটা সম্ভব জানা যায়। আশা করি, এমন উত্তর পাবেন, যা সন্তোষজনক হবে। সাক্ষাতের সময় অনুসরণযোগ্য নিয়মগুলো কী হওয়া উচিত?
উদাহরণস্বরূপ, দুজন একা না থাকা। অন্যান্য বিষয়, যেমন আচরণবিধি। আসলে, স্পষ্টতই, ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে বললে, প্রথম থেকেই সম্পর্কের মধ্যে বরকত রাখার চেষ্টা করতে হবে। কিছু তরুণ-তরুণী, দুর্ভাগ্যবশত, বিপরীত লিঙ্গের মধ্যে কিছু নিয়ম লঙ্ঘন করে। তারা একসঙ্গে বাহিরে যায়, একে অপরকে ডেট করে, এমনকি একসাথে রাতও কাটায়। এগুলো কখনোই বিয়ের পাত্র-পাত্রীর মধ্যে হওয়া উচিত নয়। যতদিন না তাদের নিকাহ, আকদ্-আল কিতাব সম্পন্ন হয় মূলত, আকদ্ সম্পাদন পর্যন্ত। এই ক্ষেত্রে কী করা উচিত?
এক্ষেত্রে শুরু থেকেই পরিবারকে যুক্ত করা শ্রেষ্ঠ উপায়। কেউ আগ্রহ প্রকাশ করলে বলুন, “ঠিক আছে, আমার পরিবারের সঙ্গে কথা বলুন।” এতে তারা পরিবারকে সম্পৃক্ত করতে পারবে, কথা বলা ও জানার সুযোগ পাবে। আলহামদুলিল্লাহ, একবার পারস্পরিক বোঝাপড়া হলে, তারপর তারা ফোনে কথা বলতে শুরু করতে পারে বা কমপক্ষে একে অপরকে চেনার জন্য টেক্সট করতে পারে। তারা যদি বাইরে দেখা করতে চায়, তাহলে সঙ্গে পরিবারের একজন তৃতীয় পক্ষ থাকা উচিত, যদি সম্ভব হয়, অবশ্যই। উমম... বিয়ে হওয়া পর্যন্ত দুজন একা থাকা যতটা সম্ভব এড়ানো উচিত। এখন, মনে হতে পারে, কেউ সিদ্ধান্ত নিতে কতক্ষণ সময় নেয়?
মানে, কখন তারা বলে, হ্যাঁ, সে সঠিক মানুষ। মজার বিষয় হলো, অনেকে মনে করে, সিদ্ধান্ত নিতে অনেক সময় লাগে। কিন্তু পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সিদ্ধান্ত নেয়া এক মুহূর্তের ব্যাপার। এর মানে কী? আপনি যখন তাকে দেখবেন, যদি হৃদয়ে অনুভূতি হয়, যে সে-ই উপযুক্ত স্বামী বা সে-ই উপযুক্ত স্ত্রী। অথবা ভেতরে অসন্তুষ্টি থাকবে। তারপর কী করা উচিত? ঘণ্টার পর ঘণ্টা যুক্তি খুঁজেন, মানসিক স্বীকৃতি দিতে। আপনি এখন শুধু প্রশ্ন করছেন এবং আপনার মন এবং হৃদয় যুক্তি দিচ্ছে, যে কেন এটি ভালো বা খারাপ সিদ্ধান্ত। আমি মজার ছলে বলি, দোকানে কিছু কেনার সময় তুমি কি আবেগ দিয়ে কিনো নাকি যুক্তি দিয়ে? সবাই বলে, যুক্তি দিয়ে, কারণ এটা প্রয়োজন। আমি বলি, না, না। কেন এটা, ওটা নয়? এমনকি টমেটোর বেলায়ও, ওটা নিলেনা কেনো?
কারণ প্রথমেই তোমার এটি পছন্দ হয়েছে সিদ্ধান্ত সবসময় আবেগ থেকে আসে। আমরা প্রথমে পছন্দ করি, তারপর যুক্তি খুঁজি। তাই দোকান থেকে কেনাকাটার পর রশিদ রেখে দেই কারণ যদি মত পরিবর্তন হয়, তাহলে যেনো ফেরত দেয়া যায়। কারণ প্রথমে যখন দেখেছিলেন ভালো লেগেছিল, তাই কিনেছিলেন। কিন্তু পরে যখন ভেবে দেখেন, বুঝেন যে, এটা অনেক দামি, আমার আসলে প্রয়োজন নেই। এরপর ফেরত দিয়ে দেন। সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একই বিষয় ঘটে। কাউকে দেখেই আপনার হৃদয়ে একটি সিদ্ধান্ত হয়ে যায়। তারপর আপনি নানারকম যুক্তি খুঁজতে থাকেন। তো হ্যা, যতবারই দেখো, যতবারই কথা বলো, শতবার বা হাজারবার, তাতে কিছুই যায় আসে না। আসলে, পরিসংখ্যান অনুযায়ী অনেকবার দেখা করা বা অনেকের সঙ্গে দেখা করা তোমার সফলতার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। কারণ যত বেশি দেখবে, তত বেশি বিভ্রান্ত হবে। এটা এক ধরনের জুয়ার মতো হয়ে যায়। তুমি ভাবতে শুরু করবে, ছেলেটা প্রায় নিখুঁত। মেয়েটা প্রায় নিখুঁত। আরেকবার দেখা করি, কিংবা অন্য কাউকে দেখি। হয়তো এইজন, হয়তো ওইজন। এভাবেই আমরা একে বলি বিশ্লেষণহীনতা বা সিদ্ধান্তহীনতা যত বেশি বিকল্প থাকবে, ততই সঠিক বা ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা কমবে। কী করবো যদি আমার আবেগ হ্যাঁ বলে, কিন্তু যুক্তি বলে না। অথবা উল্টোটা?
এটি আমাদের নিয়ে যায় সেই জায়গায়, আসলে, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে, যখন কেউ জীবনসঙ্গী নির্বাচন করতে চায়, সঠিক ব্যক্তিকে বেছে নিন, সেরা বা নিখুঁত ব্যাক্তিকে নয়। এর অর্থ? যদি আপনার হৃদয় বলে যে সে-ই সঠিক, কিন্তু পরিস্থিতি বলে এটা ভালো হবে না, যেমন, আপনার চাকরি নেই বা তার ভিসার জন্য আবেদন করা, মানুষের নানা পরিস্থিতি থাকে। এটি শুধু আগ্রহ বা ভালোবাসার জন্যই নয়, এটি সঠিক পরিস্থিতিতেও হওয়া উচিত। সুতরাং, যদি হৃদয় বলে যে সে-ই সঠিক, কিন্তু আপনার সামনে সকল যুক্তি বলে এটি ভালো হবে না, তাহলে যুক্তি শুনতে হবে। কারন এটি সত্যি ভালো নাও হতে পারে। হ্যাঁ, হয়তো আপনি মনে করছেন যে তাকে ভালোবাসেন, কিন্তু আপনার পরিস্থিতি ঠিক নেই। তাহলে কি করবেন?
আপনাকে পরিস্থিতি বদলাতে হবে, যাতে সম্পর্কটি পুরোপুরি কার্যকর হয়। যদি যুক্তি বলে, ধরুন, আমার যুক্তি বলছে, এটিই ভালো ধারণা, কিন্তু হৃদয় সাড়া না দেয়, তাহলে কী করবেন? এখন আবার একই নীতিতে ফিরে আসি। যদি পরিস্থিতি ঠিক থাকে তাহলে এই সম্পর্কের সফলতার সম্ভাবনা বেশি। কিন্তু আপনি তাকে ভালোবাসেন না ঠিক আছে। কিন্তু আপনি কি অন্তত মনে করেন, তিনি উপযুক্ত, তার এই যোগ্যতা আছে? এমন মানসিক প্রস্তুতি ও গ্রহণযোগ্যতা আছে? যদি থাকে, তাহলে আশা করা যায় সঠিক পরিস্থিতি সেই ভালোবাসার অগ্নি আপনার জন্য জাগিয়ে তুলবে। মূলত এটাই বিষয়। সব কিছুই সঠিক পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে। আমি যাকে বিয়ে করতে চাই, কিন্তু আমি আমার প্রার্থী সঙ্গীর প্রতি টান অনুভব করি। আমি মনে করি আমরা সুখী হব,কিন্তু আমি কারও বিরুদ্ধে যেতে চাই না। আমি কী করব?
আমি মনে করি না, পরিবারের বিরুদ্ধে যাওয়া কোন ভালো ধারনা। আপনাকে তাদের গ্রহণ করাতে, বা অন্তত মানিয়ে নিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। কারণ মানুষ ভাবে, একবার আপনারা বিয়ে করলেই, আপনারা চিরকাল সুখী থাকবেন। কিন্তু এক সময় অসুবিধা ও সংকট আসবে, তখন পরিবার ও তাদের সহযোগিতার প্রয়োজন হবে আপনার জীবনে। তাই সব সময়, সব সময় আমাদের পরিবারের আশীর্বাদ নিয়ে জীবনে এগিয়ে যাওয়া ভালো। যদি না, পরিবারের আর আপনার চাওয়া একেবারেই আলাদা হয়। যেমন, আলহামদুলিল্লাহ, আমি একজন ধার্মিক মুসলিম। আমি একজন ধর্মভীরু। আমি এমন কাউকে চাই, যিনি ধার্মিক, যথেষ্ট আমল করেন। অন্তত আমরা একসাথে ধর্মবিশ্বাস ও দ্বীনে, বেড়ে উঠতে পারার মতো। কিন্তু পরিবার এসবে গুরুত্ব দেয় না। তারা এমন কাউকে চায়, যে শুধু ধনী, এবং এমন কেউ; যে আমাদের পরিবারের, ঐতিহ্যের, সংস্কৃতির। তাহলে হ্যাঁ, এটা নির্ভর করে, যদি তাদের পছন্দ আপনার নির্ধারিত মানদণ্ড থেকে অনেক দূরে থাকে, যেমন, দ্বীন ও আখলাক। অর্থাৎ ধর্মীয় বিশ্বাস, আমল, শিষ্টাচার ও আচরণের মাপকাঠি হতে ভিন্ন। সে ক্ষেত্রে আমাকে আমার মানদণ্ডে অটল থাকতে হবে। আমি পরিবারকে বলব, যদি তোমরা আমার প্রধান মানদণ্ডের মধ্যে কাউকে না আনো, তাহলে আমার নিজেকেই কাউকে পছন্দ করতে হবে। তো এক পর্যায়ে তাদের সিদ্ধান্ত নিতেই হবে। কিন্তু আমি মনে করি না, কারো জন্য পরিবারের আশীর্বাদ ছাড়া বিয়ে করা উচিত। এটি সম্পর্ক থেকে বরকত দূর করবে। আমি একজনকে ভালোবাসি এবং আমরা বিয়ে করতে চাই, কিন্তু তার কিছু খারাপ অভ্যাস আছে। আমি ভয় পাচ্ছি যে এটি ভবিষ্যতে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু আমি তার জন্য প্রার্থনা করা ছাড়া অন্য কোন সমাধান দেখতে পারছি না। সে কি বিয়ের পর ভালো হয়ে যাবে?
আসলে, এটি নির্ভর করে, আমরা কোন অভ্যাসের কথা বলছি। মানে, যদি কারো খারাপ অভ্যাসের দীর্ঘ ইতিহাস থাকে, বিয়ে এমন কাউকে ঠিক করে না। এটি এমন নয় যে বিয়ে করলেই, মাশাআল্লাহ, আপনি হঠাৎ ধার্মিক হয়ে যাবেন। বিয়ে ছাড়লে আপনি ধার্মিকতা হারাবেন। এটি এমনভাবে হয় না। এবং এটি এমনও নয় যে বিয়ে...
যদি কেউ এসে প্রতিশ্রুতি দেয়, দেখো আমি তোমাকে কথা দিচ্ছি, আমি এটা ছেড়ে দেবো। যেমন ধরা যাক ধূমপান, এটি একটি খারাপ অভ্যাস। সে কোনো ধূমপায়ীকে পছন্দ করে না। সে চিন্তিত যে বিয়ের পরও সে ধূমপান চালিয়ে যাবে। সে বলে, ''না, না, চিন্তা করো না। আমি আসলেই সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আমি ধূমপান, ভ্যাপিং - এইসব ছেড়ে দেব।'' কিন্তু এতে কোনো গ্যারান্টি নেই। কারণ কিছু জায়গায় এটি একটি সাংস্কৃতিক বিষয়। তারা সব জায়গায় এটি করে। সে যদি সব সময় সেই সংস্কৃতির সাথে যুক্ত থাকে, তাহলে তার পক্ষে এটি বন্ধ করা কঠিন। তাই এই কারণে আমি বলি না, এবং সব খারাপ অভ্যাস ছেড়ে দেবে। কিন্তু এটাও নিশ্চিত নয় যে একজন ভালো মানুষ বিয়ের পর খারাপ অভ্যাস তৈরি করবে না। তাহলে আমি কি তাকে গ্রহণ করব, নাকি করব না?
আবারও বলছি, এটি নির্ভর করে আমরা কোন অভ্যাসের কথা বলছি। কিছু অভ্যাস অত্যন্ত আসক্তিকর এবং এগুলো পরিবর্তন করা খুব কঠিন। এর কিছু হতে পারে হারাম, এবং সে ক্ষেত্রে আমি না বলব, যদি সে আল্লাহর প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ না হয়। ব্যক্তিগতভাবে, আমি জানি না, সে বিয়ের পর কিভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে। তাই, এটি নির্ভর করে অভ্যাসটি কী এবং সে সেই অভ্যাসে কতটা জড়িয়ে আছে তার ওপর। কিন্তু সাধারণত এটি খারাপের দিকেই যায়। তারা সাধারণত অভ্যাস ত্যাগ করে না, তাই না?
মানুষ অভ্যাস ত্যাগ করাকে কঠিন মনে করে। তারা বলে, আসলে অভ্যাস চলে যায় না, শুধু নতুন অভ্যাসে প্রতিস্থাপিত হয়। যদি তুমি ধরো, এই খারাপ অভ্যাস, অনেকদিন ধরে চর্চা করো, এটি এড়ানোর জন্য, বিরত থাকার জন্য তোমাকে অন্য কিছু করতে হবে। প্রায়ই নতুন অভ্যাসের ভার পুরোনো অভ্যাসকে দমন করে। কিন্তু নতুন অভ্যাস বন্ধ করলে, খারাপ অভ্যাস আবার ফিরে আসে। তাই এটা জানা গুরুত্বপূর্ণ, সে আসলেই সেই পরিবর্তনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কিনা, সে তোমাকে বিয়ে করুক বা না করুক। তাহলে শেখ ইয়াসির বিরজাস কিভাবে বিয়ে করেছিলেন? আপনি কি আপনার প্রক্রিয়াটি বলতে পারেন?
মজার ব্যাপার, এটি ২৬ বছর আগের কথা। আলহামদুলিল্লাহ রব্বুল আলামিন। এবং সত্যি বলতে, এটি ছিল খুবই সাদামাটা পদ্ধতির। মানে, তখনকার দিনে বিষয়গুলো আসলেই সহজ ছিল। আমি তখন ইউরোপে কাজ করতাম এবং আমার মাকে বলেছিলাম, ''মা, আমি ফিরে আসতে চাই, জীবনসঙ্গী খুঁজে পেতে। তুমি কি সাহায্য করতে পারবে? তুমি কি এমন কাউকে খুঁজে দিতে পারবে, যাকে তুমি সুপারিশ করবে।” তিনি বললেন, “ঠিক আছে, তুমি ফিরে এসো; ইনশাআল্লাহ, আমি তোমার জন্য কাউকে ঠিক করে রাখবো।” তিনি ইউএসএ’র ছিলেন?
না, এটা আসলে, আমি জর্ডানে ছিলাম। আর তাই আমি আসলে ইউরোপে ছিলাম, বসনিয়ায় সেখানে কাজ করছিলাম। আর আমি তাকে বলেছিলাম যে , “আমাকে বিয়ে করার জন্য ফিরে আসতে হবে।” তাই সে বললো, “তুমি যখন ফিরে আসবে ইনশাল্লাহ, তোমার জন্য আমার কাছে কেউ প্রস্তুত থাকবে” তাহলে, ঠিক আছে, বিসমিল্লাহ। আমি ফেরার পর, মা তিনজন প্রার্থী ঠিক করেছিলেন। সুবহানাল্লাহ, আমরা তাদের সাথে কথা বলেছিলাম। এবং আল্লাহ তায়ালা চেয়েছিলেন, আমি আমার বর্তমান স্ত্রীকে বেছে নেই, আলহামদুলিল্লাহ। আমাদের বিয়েতে কত সময় লেগেছিল?
সত্যি বলতে, সিদ্ধান্ত নিতে তেমন সময় লাগেনি। ১০ থেকে ১২ দিন লেগেছিল। এক মাসের মধ্যেই আমাদের বিয়ে হলো এবং আমি তার ভিসার জন্য আবেদন করলাম, আর একসঙ্গে বসনিয়ায় উড়াল দিলাম। এখন ২৬ বছর আমরা একসঙ্গে, আর আমাদের চারটি সন্তান আলহামদুলিল্লাহ। মাশাআল্লাহ্। যদি আপনি এই পৃথিবীতে ১০০০ বার ফিরে আসতেন, তাহলে কি আপনি একইভাবে আপনার স্ত্রীকে বেছে নিতেন? অবশ্যই। আমি সত্যিই কিছু পরিবর্তন করতাম না। সত্যি বলতে, এটি ছিল সবচেয়ে সহজ উপায়। আমি বলব, এটি ছিল সবচেয়ে সরল উপায়। অনেকেই মনে করেন, বিয়ের সাফল্য নির্ভর করে কাকে বিয়ে করা হলো তার ওপর...
তারা বলে, বিয়ের আগে মানুষটিকে জানতে হবে। তবে, দেখা গেছে এই ধারণাটি ভুল, ডেটিং অনেক প্রচলিত হলেও মানুষ এতে সফল হচ্ছে না। যেমন, আপনি সেই মানুষটিকে জানেন, শুধু তাদের মন ও ধারনাগুলো নয়। এমনকি, কখনো কখনো তারা একসঙ্গে ঘুমায়ও, অর্থাৎ আর কিছুই লুকানো থাকে না। এর পরও সম্পর্কের সফলতা নিশ্চিত হয় না। তাহলে, যখন... মজার বিষয় হলো, আসলে এটাকে বলা যায়, এটি একটি বিপরীতমুখী ধারণা। যে আমি অনেক লোককে জানি, যারা এমন কাউকে বিয়ে করতে চায় না, যাকে তারা খুব বেশি চেনে। যদিও আমরা বলি, বিয়ের আগে মানুষকে চিনতে হবে, তাই না?
কিন্তু কখনো কখনো অতিরিক্ত জানা মানুষের মধ্যে বিয়ের আগ্রহ কমিয়ে দেয়। তাই, এতে তারা এমন কাউকে বিয়ে করতে পছন্দ করে যার সঙ্গে তাদের কিছুটা রহস্য থাকে। যেমন, উদাহরণস্বরূপ এখানে আমেরিকায়, এমএসএ, অর্থাৎ মুসলিম স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, যেখানে কলেজের তরুণরা একসঙ্গে সময় কাটায়...
তারা দীর্ঘ সময় ধরে একে অপরের পাশে থাকে। কিন্তু যখন বিয়ের প্রসঙ্গ আসে, তাদের মধ্যে কয়েকজনই একই গ্রুপের কাউকে বিয়ে করে। তারা সম্ভবত দেশের অন্য প্রান্ত থেকে কাউকে খুঁজে বিয়ে করতে চায়। সেই একই গ্রুপের কাউকে বিয়ে করার পরিবর্তে, যাদের সঙ্গে তারা কাজ করেছে। আমি জিজ্ঞেস করি, '"কিন্তু কেন?" তারা বলে, আমরা একে অপরকে খুব ভালোভাবে চিনি। আমরা খুব ঘনিষ্ট। তারা একে অপরের সম্পর্কে এত বেশি জানে যে, এটি আর বিয়ের জন্য আকর্ষণীয় থাকে না। তো এটি সেই ভুল ধারণাগুলোর একটি। মানুষ ভাবে, বিয়ের আগে কাউকে ভালোভাবে জানতে হবে। আসলে, আপনার যথেষ্ট জানা প্রয়োজন। আমি বলব, এটি যুক্তিসঙ্গত। যেমন, আমি জানতে চাই মানুষটি সৎ কিনা, এই ব্যক্তির ধর্মীয় মানসিকতা, আলহামদুলিল্লাহ, যথাযথ। তাদের চরিত্র মাশাআল্লাহ, তাদের সুনাম ভালো। অর্থাৎ, আমার যথেষ্ট জানা প্রয়োজন। তবে কি এর নিশ্চয়তা আছে, এই ব্যক্তি, ঠিক ততটাই নিখুঁত ও সৎ হবে, যতটা আপনি বলেছেন?
আমরা জানি না। সব সময়ই কিছুটা বিস্ময় থাকে। ইতিবাচক হতে পারে, নেতিবাচকও হতে পারে। এটি আমাদের পরীক্ষা, আল্লাহ তাদের জন্য সহজ করুন, যারা এসব পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যায়। আমরা দেখেছি, আপনার কিছু রান্নার ভিডিও রয়েছে। ইয়াসির বিরজাস কি বাড়িতে রান্নাঘরে যান?
আপনার কি কোনো বিশেষ রেসিপি আছে, যেটা আপনার স্ত্রী আপনার মতো ভালো করতে পারে না। আমি প্রায়ই রান্নাঘরে যাই। আমি রান্না করতে ভালোবাসি। জানিয়ে রাখি, আমার ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাকগ্রাউন্ড রয়েছে, যা আমার মনে হয় সবসময় রান্নার মধ্যে থাকে। কারণ রান্না আসলে এক ধরনের ইঞ্জিনিয়ারিং। এটি মশলা, স্বাদ ও অন্যান্য উপাদানের নিখুঁত সামঞ্জস্যের ব্যাপার। তাই আমি এই জিনিসগুলো পছন্দ করি। আমি সত্যিই রান্না করি। মাঝে মাঝে আমি রান্নাঘরে অংশ নিই। বিশেষ করে যদি আমার স্ত্রী সাহায্য চান, অথবা যদি তিনি সেদিন রান্না করতে না পারেন, অথবা যদি তিনি ক্লান্ত হন বা অসুস্থ থাকেন। যদি এমন কোনো বিশেষ খাবার থাকে, যা আমি ভালো করি আমার সন্তানদের জিজ্ঞাসা করলে তারা বলবে, তুমি স্যুপ ও সালাদে ভালো। মূলত এটি আমার বিশেষত্ব। আমি অবশ্যই অন্যান্য জিনিসও রান্না করি, কিন্তু তারা বলে, ''তোমার বানানো স্যুপগুলো খুব ভালো।'' কারণ আমি বিভিন্ন ধরনের স্যুপ তৈরি করি। আমি অনলাইনে বিভিন্ন রেসিপি খুঁজি এবং তাতে আমার নিজস্ব কিছু যোগ করি। এবং এটি ভালো হয়ে যায়। সালাদের ক্ষেত্রেও একই। আমি বিভিন্ন সালাদের রেসিপি দেখি, অনেক বৈচিত্র্য তৈরি করি। অবশ্য, যদি আমার স্ত্রী রান্না শুরু করেন, অবশ্যই তিনি আমার সব কিছুকে ছাড়িয়ে যাবেন। কিন্তু নিশ্চিতভাবে রান্নাঘরে আমার নিজস্ব দখল আছে। আপনার মেয়ের বিয়ের ক্ষেত্রে তাকে আপনি কী পরামর্শ দেবেন?
আমি তাকে বলব, ঠিক কিভাবে বিয়ে হওয়া উচিত। সে বুঝুক যে বিয়ে বিষয়টি সহজ নয়, কিন্তু তুমি এটিকে সুন্দর করে তুলতে পার। আমি বলব, বিয়ে এক ধরনের চিত্রকর্ম এবং তুমি সেই ছবির শিল্পী। আর...
দুজন শিল্পীই একই রঙ ব্যবহার করে, কিন্তু সুন্দর একটি ছবি তৈরি করতে তাদের মধ্যে ভালো সমন্বয় থাকতে হবে। বিয়ের ক্ষেত্রে এটি পুরোপুরি ভালোবাসা ও সহানুভুতির বিষয়। এটিকে শুধু ভালোবাসা হিসেবে ভাবা যাবে না। এতে সহানুভূতি, ক্ষমা ও নমনীয়তাও থাকতে হবে। যখন বিয়ের প্রসঙ্গ আসে, বিয়ে বিষোয়টি এক ধরনের পরীক্ষা, যা এই জীবনেরই অংশ। এই সম্পর্কে আপনি চাইলেই সব কিছু পাবেন না। এটি সব সময়ই পারস্পরিক সমঝোতার বিষয়। সুতরাং এমন কিছু থাকবে যা আপনার পছন্দ হবে না, আবার এমন কিছু থাকবে যা আপনি ভালোবাসবেন, আলহামদুলিল্লাহ। সামগ্রিকভাবে, এটি একটি যাত্রা। সেই যাত্রার সব উত্থান-পতন মেনে নিতে হবে। কখন বুঝবেন যে আপনার বিয়ে সুন্দর ছিল?
হয়তো ৪০ বা ৫০ বছর পর, পেছনে ফিরে তাকিয়ে বলবেন, ''অসাধারণ, কী দুর্দান্ত এক যাত্রা ছিল!'' কিন্তু এর মাঝে, আপনি শুধুই মনোযোগ দেবেন কঠিন সময় আর বিপদের মুহূর্তগুলোতে। শেখ ইয়াসির বিরজাহ, আপনার উত্তরগুলোর জন্য ধন্যবাদ। আমি আপনার থেকে অনেক কিছু শিখলাম। আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিক। তাবারাকাল্লাহ। আমাকে এখানে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ধন্যবাদ।