জন্নাত ও জাহান্নামে প্রথম ২৪ ঘণ্টা | এআই-ভিজ্যুয়ালাইজড কিয়ামতের দিবস সিরিজ - পর্ব ৪
প্রকাশের তারিখ
হিসাব-নিকাশ এখন শেষ হয়ে গেছে। রবের মহান আদালতের বিচার সম্পন্ন হয়েছে, এবং সবার চিরস্থায়ী ঠিকানা নির্ধারিত হয়ে গেছে। আরব–অনারব, কোটি কোটি মানুষ এখন দু’টি দলে বিভক্ত, কারও গন্তব্য জান্নাত, আর কারও পরিণতি জাহান্নাম। যারা জান্নাতের দ্বারে অপেক্ষা করছে, তাদের হৃদয় ভরে আছে বর্ণনাতীত আনন্দে। অধীর আগ্রহে তারা অপেক্ষা করছে নিজেদের চূড়ান্ত ঘরে প্রবেশের জন্য। অবশেষে, একে একে তাদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে জান্নাতের দরজা। তারা এক অদ্ভুত স্বস্তি অনুভব করে, মনে হয় যেন কাঁধের সব বোঝা নেমে গেছে। হঠাৎ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এক উজ্জ্বল নূর, সবকিছু আলোকিত হয়ে ওঠে। আর তখন শোনা যায় জান্নাতের ফেরেশতাদের কণ্ঠ, “তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। তোমরা পবিত্র হয়ে গেছো, চিরকাল থাকার জন্য ভেতরে প্রবেশ করো।” ঈমানদারেরা দীপ্তিময় মুখ নিয়ে একেক কদম ফেলে এগিয়ে যায় চিরস্থায়ী সুখের দিকে। সেই মুহূর্তে, দুনিয়ার সব কষ্ট, সব পরীক্ষা, সব ধৈর্য যেন নতুন অর্থ পেয়ে যায়। কারণ ধৈর্যের প্রতিদানে এখন তাদেরকে দেওয়া হয়েছে সেই প্রতিশ্রুত অশেষ পুরস্কার। এখন আর কোন ক্লান্তি নেই, মৃত্যু নেই, অশ্রুও নেই। একদিকে অফুরন্ত আনন্দ, আর অন্যদিকে রয়ে গেছে দগদগে আফসোস আর যন্ত্রণায় ভরা হাহাকার। জাহান্নাম এখন ধীরে ধীরে পূর্ণ হতে শুরু করেছে, তার অন্তঃস্থল জুড়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে আর্তচিৎকার আর বিলাপের শব্দ। তাহলে জান্নাত আর জাহান্নাম আসলে কেমন জায়গা?
জান্নাত কি আমাদের এই দুনিয়ার মতোই হবে? সেখানেও কি গ্রীষ্ম–শীত, রাত–দিন থাকবে? চিরকাল সেখানে থাকতে থাকতে আমরা কি কখনও বিরক্ত হয়ে যাবো না? আর যে ব্যক্তি সবশেষে জান্নাতে প্রবেশ করবে, তার অবস্থা কেমন হবে?
চলুন সবকিছু একে একে দেখি, দুই দিকেই আমাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে। একটি হাদিসে কুদসিতে আমাদের রব বলেন, “আমি আমার মুত্তাকি বান্দাদের জন্য এমন সব জিনিস প্রস্তুত করে রেখেছি, যা কোনো চোখ কখনও দেখেনি, কোনো কান কখনও শোনেনি, আর কোনো মানুষের কল্পনায়ও কখনও আসেনি।” অর্থাৎ জান্নাত আসলে এই ভিডিওতে আপনি যা দেখবেন তার চেয়েও অগণিত গুণ বেশি মহান ও সুন্দর। আমরা যা দেখাবো, সেগুলো কেবল উপমা মাত্র, আসল সৌন্দর্যের সামান্য ধারণা দেওয়ার জন্য। এবং অবশ্যই, জাহান্নামের ক্ষেত্রেও একই কথা, এক পাশে অবিরাম কান্না আর আর্তনাদ, আর অন্য পাশে উজ্জ্বল হাসি আর আনন্দের ধ্বনি। যারা জুলুম করেছে, তারা পেয়ে যাবে নিজেদের জুলুমের পরিণাম, আর যারা নির্যাতিত হয়েছে, তারা পেয়ে যাবে ধৈর্যের সুন্দর পুরস্কার। জান্নাতের মানুষদের জন্য সব কষ্ট, সব ব্যথা, সব মানসিক চাপ শেষ। সেখানে আর একাকিত্ব নেই, চোখের জলও নেই। কুরআনে জান্নাতকে এমনভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, যাতে তা পড়লে মানুষের মনে সঙ্গে সঙ্গে সেখানে যাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা জেগে ওঠে। “সেখানে তাদের জন্য থাকবে যা তাদের প্রাণ কামনা করে আর চোখ উপভোগ করে। আর তোমরা সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে।” আমাদের নবী (সাঃ) বলেছেন, “সেখানে তোমরা সবসময় সুস্থ থাকবে, কখনও অসুস্থ হবে না। তোমরা চিরকাল বেঁচে থাকবে, কখনও মরবে না। তোমরা তরুণই থাকবে, কখনও বৃদ্ধ হবে না। তোমরা সবসময় স্বাচ্ছন্দ্যে থাকবে, কখনও অভাবগ্রস্ত হবে না।” জান্নাতে একজন মানুষ সবসময় ৩৩ বছরের মতোই থাকবে, শক্তি, তারুণ্য ও সৌন্দর্যের সর্বোচ্চ শিখরে। যে স্বামী–স্ত্রী একসাথে জান্নাতে প্রবেশ করবে, তাদের বন্ধন সুখের মধ্যেই চিরস্থায়ী হবে। আর যারা দুনিয়াতে কখনও বিবাহের সুখ পায়নি, তারাও জান্নাতে যাকে ইচ্ছে তাকে বিয়ে করার সুযোগ পাবে। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) জান্নাত সম্পর্কে বলেছেন, “জান্নাত গঠিত হয়েছে সোনা ও রুপার ইট দিয়ে, এর গাঁথুনির মাটি হলো মেশক, এর কংকর হলো মুক্তা আর রুবি, আর এর মাটি হলো জাফরান। যে সেখানে প্রবেশ করবে, সে চিরকাল বেঁচে থাকবে, কখনও কষ্ট পাবে না। সে আনন্দে থাকবে, কখনও মারা যাবে না। তাদের পোশাক কখনও পুরোনো হবে না, তাদের তারুণ্য কখনও ফুরিয়ে যাবে না।” আর এক বিস্ময়কর বিষয় হলো, সেখানে দুনিয়ার মতো কারণ–কার্য সম্পর্ক আর প্রকৃতির নিয়ম এভাবে কাজ করবে না। আপনি যা চাইবেন, তা সঙ্গে সঙ্গে হাজির হয়ে যাবে। একটি ফল খেতে হলে সেখানে বীজ বুনে গাছ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না, বা কোথাও গিয়ে তা আনতেও হবে না, কারণ জান্নাতে কোনো মাধ্যমের প্রয়োজন নেই। আল্লাহ আপনার ইচ্ছা অনুযায়ী সরাসরি সৃষ্টি করবেন। আপনি গাছ থেকে একটি ফল তুললেই, সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি ফল তার জায়গা পূরণ করবে। গাছ থেকে কিছুই কমে যাবে না। আপনি যেকোনো ধরনের মাংসের কথা ভাববেন, সঙ্গে সঙ্গে তা সুন্দরভাবে প্রস্তুত হয়ে সামনে চলে আসবে। একটু ভেবে দেখুন তো, জন্মের পর থেকে আপনি কত ধরনের খাবার খেয়েছেন?
আমরা দুনিয়াতে আসলে সারা বিশ্বের স্বাদের মাত্র সামান্য অংশই চেখে দেখি, কিন্তু সেই সামান্যটুকুই আমাদেরকে এত আনন্দ দিতে সক্ষম। কল্পনা করুন, যেন বিশাল সাগর থেকে শুধু এক গ্লাস পানি পেয়েও আমরা পুরো জীবন কাটিয়ে দিচ্ছি আর তাতেই খুশি আছি। উদাহরণস্বরূপ একটি টমেটোর নিজস্ব টেস্ট রয়েছে, ডিমের নিজস্ব স্বাদ আছে, ক্যাপসিকাম বা মরিচের নিজস্ব স্বাদ আছে, কিন্তু আপনি যখন এগুলো একসাথে রান্না করেন, তখন তৈরি হয় ভিন্ন আর নতুন আরেক স্বাদ। এখনও পর্যন্ত আমরা দুনিয়ার তরিতরকারির হয়তো ১% ও স্বাদ আস্বাদন করতে পারিনি। আর জান্নাতের স্বাদের সঙ্গে তুলনা করলে, এটা হয়তো এক মিলিয়নেরও কম একটি অংশের সমান। আরেকটি নিয়ামতের কথা বলি, জান্নাতে আমাদের অন্তর থেকে সব হিংসা, ঘৃণা, রাগ মুছে দেওয়া হবে। সব নেতিবাচক, কষ্টদায়ক অনুভূতি চিরতরে তুলে নেওয়া হবে আমাদের ভেতর থেকে। সবাই ভাই–ভাই হয়ে, বোন–বোন হয়ে সুখে–শান্তিতে বসবাস করবে। কুরআনে আল্লাহ এইভাবে বর্ণনা করেছেন, “আমরা তাদের অন্তর থেকে যে কোনো রকম বিদ্বেষ তুলে নেবো, তারা পরস্পর ভাই–ভাই হবে, আর তারা একে–অপরের মুখোমুখি হয়ে আসনে বসে থাকবে।” রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আরও বলেছেন, “তাদের সকলের অন্তর হবে যেন এক মানুষের অন্তর, তাদের মধ্যে কোনো মতভেদ থাকবে না, পারস্পরিক বিদ্বেষও থাকবে না।” বন্ধু আর ভাই–বোনদের মতো, জান্নাতের মানুষরা বসে দুনিয়ার স্মৃতিগুলো ভালবেসে স্মরণ করবে, তারা দুনিয়াতে কাটানো মুহূর্তগুলো আবার যেন চোখের সামনে দেখে নেবে, এমনভাবে যেন নিজেরাই কোনো চলচ্চিত্রের ভেতরে ঢুকে গেছে। তারা ইতিহাসের সবচেয়ে বিস্ময়কর ঘটনাগুলোর দৃশ্যও দেখতে পারবে, এমনকি সেগুলোর কাছে গিয়েও উপস্থিত হতে পারবে। এবার জান্নাতের আরও কিছু সৌন্দর্যের কথা বলি। সেখানে থাকবে স্ফটিকস্বচ্ছ পানির নদী, দুধের নদী, মধুর নদী, আর আমাদের কল্পনারও বাইরে অগণিত নদী। কুরআনে আল্লাহ বলেন, “যে জান্নাত মুত্তাকিদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তার বর্ণনা হলো এর নিচ দিয়ে নদী প্রবাহিত হয়। এর ফল কখনও ফুরায় না, এবং এর ছায়াও কখনও শেষ হয় না।” “সেখানে আছে পানির নদী, যা কখনও বদলে যায় না; দুধের নদী, যার স্বাদ কখনও পরিবর্তিত হয় না, অ্যালকোহল এর নদী, যা পানকারীদের জন্য আনন্দদায়ক, আর আছে পরিশোধিত মধুর নদী। সেখানে তাদের জন্য থাকবে নানা প্রকার ফল আর তাদের রবের পক্ষ থেকে ক্ষমা।” তবে এখানে যে অ্যালকোহলের কথা বলা হয়েছে, তা দুনিয়ার অ্যালকোহলের মতো নয়। এটা জান্নাতের জন্যই নির্দিষ্ট বিশেষ এক পানীয়। এগুলো হবে পবিত্র পানীয়, যা অন্তরে প্রশান্তি ও আনন্দ দেবে, কাউকে কখনও নেশাগ্রস্থ করবে না। এই সব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি, জান্নাতের আবহাওয়াও হবে পরিপূর্ণ আরামদায়ক। দুনিয়ার মতো সেখানে প্রচণ্ড গরম বা তীব্র শীত থাকবে না, বরং থাকবে ঠিক সেই আবহাওয়া যা আমাদের সবচেয়ে ভালো লাগে। আর জান্নাতে কখনও রাত নামবে না। সেখানে সর্বদা থাকবে এমন এক আলো, যা অন্তরকে সুখে ভরে দেবে। “আর আমরা তাদের প্রবেশ করাবো কোমল, শীতল ছায়ায়।” জান্নাতে রাত নেই, সেখানে কেবল আলো আর নূর। আরেকটি বিষয় জান্নাতে ঘুমও নেই। দুনিয়াতে ঘুম আমাদের কাছে আরামদায়ক লাগে, কারণ তা ক্লান্তি দূর করে, কিন্তু জান্নাতে ক্লান্তি বলে কোনো জিনিসই থাকবে না। “সেখানে তাদেরকে কখনও ক্লান্তি স্পর্শ করবে না।” দুনিয়াতে আমরা যখন সবচেয়ে আনন্দদায়ক কাজটাও করি, কিছু সময় পরে কিন্তু বিরক্তি চলে আসে, তাই না?
তাহলে জান্নাতে কি এমন হবে?
কখনও না। যিনি বিরক্তি নামক অনুভূতিটাই সৃষ্টি করেছেন, তিনি চাইলে সহজেই জান্নাতের জীবন থেকে বিরক্তিকে মুছে দিতে পারেন। সুতরাং জান্নাত হবে এমন এক চিরস্থায়ী বাসস্থান, যেখানে থাকবে কেবল আনন্দ, স্বস্তি আর অগণিত নিয়ামত, আর কোনো অভাব, কোনো প্রয়োজন থাকবে না। কুরআন ও হাদিস থেকে আমরা জানতে পারি যে, জান্নাতে আছে আটটি দরজা। মানুষ তাদের আমলের ধরন অনুযায়ী এই সব দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে। দরজাগুলোর নাম হলো বাব আস-সালাত (নামাজের দরজা), বাব আল-জিহাদ (সংগ্রামের দরজা), বাব আস-সাদাকাহ (সদকার দরজা), বাব আর-রাইয়্যান (রোজাদারদের জন্য নির্দিষ্ট দরজা), বাব আল-হজ্জ (হজের দরজা), বাব আল কাযিমীনা আল-গাইয ওয়াল-আফীনা আনিন নাস (ক্রোধ সংবরণ ও মানুষকে ক্ষমা করার দরজা), বাব আল-ইমান (ঈমানের দরজা), বাব আয-যিকর (আল্লাহকে বেশি স্মরণকারীদের দরজা)। এবং মুমিনরা তাদের মর্যাদা ও আল্লাহর কাছে অবস্থানের ভিত্তিতে জান্নাতের সাতটি স্তরের একটিতে অবস্থান করবে। সেগুলো হলো আল-ফিরদাউস, আল-আদন, আন-নাঈম, দারুল খুলুদ, আল-মাওয়া, দারুস্-সালাম এবং ইল্লিয়্যুন। তাহলে যখন জান্নাতের স্তর ও মর্যাদা ভিন্ন ভিন্ন, তখন সর্বোচ্চ স্তরের কেউ কীভাবে নিম্নস্তরের কারও সঙ্গে থাকতে পারবে?
বদিউজ্জামান সাঈদ নুরসি (রহ.) নবীজির (সা.) এক হাদিসের আলোকে এ বিষয়টি খুব সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, হাদিসটি হলো, “তোমরা যাদের ভালোবাসো, তোমরা তাদের সঙ্গেই থাকবে।” উদাহরণস্বরূপ, ধরুন আমার স্বাদ গ্রহণের ক্ষমতা খুব প্রখর, আপনারটা তুলনামূলকভাবে দুর্বল। আমরা দু’জন একই টেবিলে বসে আছি, সামনে অপূর্ব দৃশ্য, আমার দৃষ্টিশক্তিও খুব তীক্ষ্ণ। আমি অনেক দূর পর্যন্ত দেখতে পারি, কিন্তু আপনি অত দূর দেখতে পান না। এখন আমরা পাশাপাশি বসে কথা বলতে বলতে খাচ্ছি, আমাদের মধ্যে কে বেশি উপভোগ করবে?
অবশ্যই আমি কারণ আমার দৃষ্টি তীক্ষ্ণ, আর স্বাদ গ্রহণের ক্ষমতাও বেশি। একইভাবে, আমরা যদি জান্নাতে একই টেবিলে বসে খাবার খাই, একই দৃশ্য দেখি, একই ফল খাই, তবুও প্রত্যেকের উপভোগের মাত্রা তার নিজ নিজ মর্যাদা অনুযায়ী ভিন্ন হবে। কিন্তু কেউ এ নিয়ে অভিযোগও করবে না। প্রত্যেকে নিজের প্রাপ্ত অবস্থাতেই সম্পূর্ণ তৃপ্ত ও সুখী থাকবে। কেউই আফসোস করবে না যে, “ইশ! আমি যদি আরও উঁচু মর্যাদায় যেতে পারতাম” কারণ আগেই বলেছি, সেখান থেকে সব নেতিবাচক অনুভূতি চিরতরে তুলে নেওয়া হবে। এখন প্রশ্ন আসতে পারে, জান্নাতে মানুষের পোশাক কেমন হবে?
কুরআন বলে, জান্নাতের পোশাক হবে রেশমি, সুন্দরভাবে সজ্জিত। "তারা পরবে কোমল সবুজ রেশমি পোষাক ও ইস্তাবরাক নামের ঘন, ঝলমলে রেশমি বস্ত্র।" তাদেরকে সোনার ব্র্যাসলেটস ও মুক্তার অলংকারে সুশোভিত করা হবে, আর তাদের পোশাক হবে রেশম।” তাহলে আমাদের সৌন্দর্য কেমন হবে জান্নাতে? আমরা কি ঠিক দুনিয়ার মতোই দেখাবো?
জান্নাতে আল্লাহ প্রত্যেক বান্দাকে পূর্ণাঙ্গ সৌন্দর্য দান করবেন, যে রূপ তার কাছে সবচেয়ে প্রিয়। আর এই সৌন্দর্য কেবল এক রূপে সীমাবদ্ধ থাকবে না। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ইচ্ছামতো বিভিন্ন রূপ ধারণ করার সুযোগ দেবেন, যখন যেমন চাইবে, তেমন। অর্থাৎ জান্নাতের বাসিন্দারা নিজেদের ইচ্ছামতো রূপ ও সৌন্দর্য উপভোগ করবে। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “নিশ্চয়ই জান্নাতে একটি বাজার থাকবে, যেখানে কোনো কেনাবেচা হবে না, তবে সেখানে থাকবে পুরুষ ও নারীর নানা অবয়ব। যে যখন কোনো অবয়ব কামনা করবে, সে সেই অবয়বেই প্রবেশ করবে।” আপনি নিশ্চয়ই সেই ব্যক্তির গল্প শুনেছেন, যিনি সবশেষে জান্নাতে প্রবেশ করবেন। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “আমি সেই ব্যক্তিকে চিনি, যে জাহান্নাম থেকে সবশেষে বের হবে এবং সবশেষে জান্নাতে প্রবেশ করবে। সে জাহান্নাম থেকে বের হবে আগুন থেকে হামাগুড়ি দিতে দিতে বেরিয়ে আসবে, আর আল্লাহ তাকে বলবেন, ‘যাও, জান্নাতে প্রবেশ করো।’ সে জান্নাতের দিকে যাবে, কিন্তু তার কাছে জান্নাত মনে হবে যেন পূর্ণ হয়ে গেছে। তারপর সে ফিরে এসে বলবে, ‘হে আমার রব, আমি জান্নাতকে পূর্ণ অবস্থায় পেলাম।’ আল্লাহ আবারও বলবেন, ‘যাও, জান্নাতে প্রবেশ করো। তোমার জন্য থাকবে দুনিয়ার সমান সম্পদ, বরং তারও দশ গুণ বেশি।" লোকটি বিস্ময়ে বলবে, “আপনি তো সৃষ্টিকুলের রব, আপনি কি আমার সঙ্গে মজা করছেন, না কি আমার ওপর হাসছেন?” এই হাদিসটি বর্ণনা করা সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা.) বলেন, “আমি দেখেছি, এ কথা বলতে বলতে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এতটাই হাসছিলেন যে তাঁর পেছনের দাঁত পর্যন্ত দেখা যাচ্ছিল।” বলা হয়, জান্নাতের সব বাসিন্দাদের মধ্যে তারই মর্যাদা হবে সবচেয়ে কম। কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, আমরা কি জান্নাতে আল্লাহকে দেখতে পাবো?
হ্যাঁ, ইনশাআল্লাহ, আমাদের সবচেয়ে বড় সুসংবাদ হবে, নিজ রবকে দেখা এবং অবগত হওয়া যে, তিনি আমাদের ওপর সন্তুষ্ট। কুরআনে এই নিয়ামতকে এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, “সেদিন কিছু মুখ দীপ্তিময় হবে, নিজ রবের দিকে তাকিয়ে থাকবে।” এটিই হবে জান্নাতে সর্বোচ্চ পুরস্কার। বদিউজ্জামান সাঈদ নুরসি আরেকটি দারুণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাফসিরে তিনি বলেন, “দুনিয়ার হাজার বছর সুখের জীবনও জান্নাতের এক ঘণ্টার সমান নয়। আর জান্নাতের হাজার বছরের জীবনও আল্লাহর দর্শনের এক ঘণ্টার সমান নয়।” তাই এখনকার জীবনের সঙ্গে এ দৃশ্যের তুলনা করবেন না। বরং এমন এক জীবন কল্পনা করুন যেখানে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটুও কষ্ট নেই, শুধু পরম আনন্দ আর প্রশান্তি। এমন এক হাজার বছরের জীবনও কিসের সমান নয় জানেন?
জান্নাতের মাত্র এক ঘণ্টারও না। আর কল্পনা করুন জান্নাতের হাজার বছর, যা পরিপূর্ণ এমন সব নিয়ামতে যার কল্পনাও আমরা করতে পারি না, তাও সমান নয় আল্লাহর দর্শনের এক ঘণ্টার। যখন মুমিনরা তাঁদের রবের সৌন্দর্য দেখবে, তারা বিমোহিত হয়ে যাবে, এবং কৃতজ্ঞতায় ভরে গিয়ে বলবে, “সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার।” আরেকটি ভয়াবহ কিন্তু সত্য বিষয় হলো জান্নাতের মানুষরা জাহান্নামের লোকদেরও দেখতে পাবে, আর জাহান্নামের লোকেরাও জান্নাতের মানুষদের দেখবে। ফলে এক পক্ষের আফসোস গুণিতক হারে বাড়তে থাকবে, আর অপর পক্ষের কৃতজ্ঞতাও অনেক গুণ বৃদ্ধি পাবে। তাহলে যখন জান্নাতের মানুষরা এভাবে অনন্ত সুখে থাকবে, জাহান্নামের মানুষের অবস্থা কেমন হবে? জাহান্নাম…
যেন হাজার বছর ধরে রাগ আর ক্রোধ বন্দী করে রাখা হয়েছে এক উত্তাল জ্বলন্ত আগুন। অসংখ্য জালেম, যারা নিরীহদের শোষণ করেছে...
শত শত শিশুকে হত্যা করেছে এবং অগণিত মানুষের হক নষ্ট করেছে, আজ তারা সেখানেই বন্দি। ভিতরে কুচকুচে কালো অন্ধকার, আর সেই অন্ধকারের ভেতর প্রতিধ্বনিত হচ্ছে দহন, হাহাকার আর অসহায় কান্নার শব্দ। “নিশ্চয়ই আমি প্রস্তুত করে রেখেছি এক প্রজ্জ্বলিত আগুন তাদের জন্য, যারা কিয়ামতকে অস্বীকার করেছে। আগুন যখন তাদের দূর থেকে দেখবে, তারা তার প্রচণ্ড রোষ আর গর্জনের আওয়াজ শুনবে। যখন তাদের শিকলে বেঁধে জাহান্নামের খুব সংকীর্ণ স্থানে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তারা সেখানে মৃত্যু কামনা করে কাঁদতে থাকবে। আর তাদের বলা হবে, ‘আজ তোমরা এক মৃত্যু নয়, বরং বহু মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা করো।’” যত ভয়ংকরই হোক, ন্যায়বিচার পূর্ণতা পাওয়ার জন্য জাহান্নামের অস্তিত্ব অপরিহার্য। আর এই ন্যায়বিচারই হলো মজলুমদের জন্য এক বিশাল রহমত। আয়াতে আল্লাহ বলেন, “আমরা তো তাদের প্রতি জুলুম করিনি, বরং তারাই নিজেদের ওপর জুলুম করেছিল।” যারা ঈমান এনেছিল, তাদের জন্য জাহান্নাম স্বল্পস্থায়ী হবে। যদি তারা কবিরা গুনাহ করে থাকে কিন্তু তাওবা না করে, আর যদি তাদের গুনাহ সওয়াবের চেয়ে ভারী হয়ে যায়, এবং যদি তাদের জন্য কোনো সুপারিশ গ্রহণ করা না হয়, তাহলে তারা কিছু সময়ের জন্য জাহান্নামে শাস্তি পাবে। অবশ্যই আল্লাহ চাইলে তাদের ক্ষমা করে দিতে পারেন, সেক্ষেত্রে তাদের জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে হবে না। তবে যদি কোনো মুমিন জাহান্নামে প্রবেশ করেও, তার শাস্তির মেয়াদ শেষ হলে অবশেষে তাকে জান্নাতে নিয়ে যাওয়া হবে। জাহান্নামের আজাবের ফিরিশতারা অত্যন্ত কঠোর আর রুক্ষভাবে সবার সাথে আচরণ করবে তাদের ভয়ংকর চেহারা দেখাই জাহান্নামের লোকদের জন্য নিজেই এক শাস্তি। কুরআনে কাফিরদের সঙ্গে জাহান্নামের পাহারাদার ফিরিশতার সংলাপ এভাবে এসেছে, তারা চিৎকার করে বলবে, “হে মালিক, আপনার প্রতিপালক যেন আমাদের অবসান ঘটিয়ে দেন" সে বলবে, “না, তোমরা এখানেই চিরকালই থাকবে। নিশ্চয়ই আমার রব তোমাদের কাছে সত্য এনেছিলেন, কিন্তু তোমাদের অধিকাংশই সেই সত্যকে অপছন্দ করেছিলে।” কিন্তু সেখানে শাস্তি শুধু আগুনের নয়। মানুষ সেখানে দগ্ধ হবে জান্নাতের সব নিয়ামত থেকে বঞ্চিত থাকার কষ্টে, একাকীত্বের কষ্টে, ঘন নিস্তব্ধতায় শয়তানের সঙ্গে একত্রে আজাব ভোগের লজ্জায়, আগুনের জ্বালা আর হিমশীতল শাস্তির দ্বৈত যন্ত্রণায়, আল্লাহ্র প্রতি অকৃতজ্ঞতার অপরাধবোধে, আর প্রভুর সঙ্গে কথা না বলার প্রচণ্ড অনুতাপে। এক কথায়, মানুষকে সেখানে ফেলে রাখা হবে নানান ধরনের শাস্তি ও যন্ত্রণার মাঝে। সেদিন আল্লাহ জাহান্নামের লোকদের উদ্দেশে বলবেন, “আমার সঙ্গে আর কথা বলো না।” এর চেয়ে বেদনাদায়ক কথা আর কি হতে পারে?
তাদের রবের সঙ্গে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। জাহান্নামে মানুষের হাত শিকলে বাঁধা, সারা দেহ আগুনে পরিবেষ্টিত। তাদের চোখে ভর করে থাকবে বর্ণনাতীত এক আতঙ্ক। প্রত্যেক শ্বাস–প্রশ্বাসের সঙ্গে তার ফুসফুসে ঢুকে যাবে জাহান্নামের দগদগে উত্তাপ। তারা চেষ্টা করবে পালিয়ে বাঁচতে, কিন্তু কোথাও কোনো পথ খুঁজে পাবে না। টগবগে ফুটন্ত পানি তাদের মাথার ওপর ঢেলে দেওয়া হবে, যা তাদের চামড়া গলিয়ে দেবে, ভেতরের অঙ্গ–প্রত্যঙ্গ ঝলসে দেবে। কুরআন এভাবে বর্ণনা করে, “আর তুমি কীভাবে বুঝবে সাকার কী?
এটি এমন আগুন, যা কিছুই অক্ষত রাখবে না, মানুষের চামড়া কালো করে ফেলবে।" তাদের খাবার হবে যাক্কুম, জাহান্নামের গাছের ফল, আর কাঁটাযুক্ত উদ্ভিদ। তাদের পানীয় হবে ফুটন্ত পানি এবং পুঁজ। প্রত্যেকবার যখন তারা পান করবে, শাস্তি তাদের অস্থির গহীনে গিয়ে বিঁধবে। “তার সামনে আছে জাহান্নাম, এবং তাকে পান করানো হবে পুঁজ মিশ্রিত পানি। সে সেটা চুমুক দিয়ে খেতে চাইবে, কিন্তু কোনোভাবেই গিলতে পারবে না। তার চারদিক থেকে মৃত্যু তার দিকে ধেয়ে আসবে, কিন্তু সে মরবে না, আরও কঠিন শাস্তি তার জন্য অপেক্ষা করে থাকবে।” আরেক আয়াতে আল্লাহ বলেন, “তাদের জন্য কোনো খাবার নেই শুধু কণ্টকাকীর্ণ বিষাক্ত গাছ ছাড়া, যা না পুষ্টি দেবে, না ক্ষুধা নিবারণ করবে।” তারা যখনই আর্তনাদ করে বলবে, “আর সহ্য করতে পারছি না!”, শাস্তি আরও বাড়িয়ে দেওয়া হবে। তাদের একমাত্র আশা হবে, “ইশ, যদি মরে শেষ হয়ে যেতে পারতাম!”, কিন্তু সে সুযোগ কখনও আসবে না। দুনিয়ায় যারা নিষ্পাপ মানুষের ওপর বোমা ফেলেছে, কারো কান্না, কারো আর্তচিৎকার তাদের বিন্দুমাত্র না নাড়িয়েছে, আজ সেইসব মানুষই শাস্তির এই ভয়াবহতায় আকুল হয়ে বলবে, “হায়, যদি আমি আরও আগে বুঝে উঠতে পারতাম!
যদি ফিরে যাওয়ার আরেকটা সুযোগ পেতাম!” কিন্তু অন্ধকারের ভেতর তার আক্ষেপের শব্দ শুধু প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরে আসবে, কোনো ফল দেবে না। দুনিয়ার পরীক্ষার সময় শেষ, এখন কেবল ফল প্রকাশ। আবার সেদিন জাহান্নামের ভিতর বিভিন্ন দল এক–অপরের সঙ্গে ঝগড়া করবে। প্রত্যেকে অপরের ওপর দোষ চাপাবে, এক–অপরকে অভিশাপ দেবে। কুরআনে এ দৃশ্যকে এভাবে তুলে ধরা হয়েছে, “আল্লাহ বলবেন, 'তোমাদের আগে যে সমস্ত জিন ও মানুষের দল অতীত হয়ে গেছে, তোমরা তাদের সঙ্গেই জাহান্নামে প্রবেশ করো।’ প্রতিবার যখন কোনো জাতি প্রবেশ করবে, তারা নিজেদের আগে আসা দলকে অভিশাপ দেবে। অবশেষে যখন তারা সবাই একত্রিত হবে, সবচেয়ে শেষের দলটি আগেরদের সম্পর্কে বলবে, ‘হে প্রভু, তারা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে, সুতরাং তাদেরকে আগুনের দ্বিগুণ শাস্তি দিন।’ আল্লাহ বলবেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকের জন্যই দ্বিগুণ শাস্তি রয়েছে, কিন্তু তোমরা তা উপলব্ধি করছো না।’ তারপর প্রথম দলের লোকেরা শেষের দলকে বলবে, "‘তোমাদের কোনো বাড়তি সুবিধা নেই আমাদের ওপর। তোমরাও আস্বাদন করো শাস্তি, তোমরা যা কামাই করে নিয়ে এসেছো।” এছাড়া, জাহান্নামের কিছু মানুষ শয়তানকে দোষারোপ করবে। আর শয়তান তখন তাদের উত্তর দেবে “আল্লাহ তোমাদেরকে সত্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আমিও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, কিন্তু আমার প্রতিশ্রুতি ছিল মিথ্যা। আমি তোমাদের জোরজবরদস্তি করিনি, বরং শুধু আহ্বান করেছি,, আর তোমরা সাড়া দিয়েছো। সুতরাং আমাকে দোষ দিও না, দোষ তোমাদেরই। আজ না তোমরা আমার আর না আমি তোমাদের সাহায্য করতে পারবো, তোমরা আগে যেভাবে আমাকে আল্লাহর শরিক বানাতে, আজ আমি তা প্রত্যাখ্যান করছি।” অবশেষে জালেম তার প্রাপ্য পাবে, মজলুমও পাবে তার প্রাপ্য ন্যায়বিচার। আমাদের কারোই জানা নেই মৃত্যু কখন এসে দরজায় কড়া নাড়বে। কিন্তু এই পুরো সিরিজে যে বিষয়গুলো নিয়ে কথা হলো, সবই একদিন বাস্তব হয়ে উঠবে। মালাকুল মাউত আপনার দিকে নজর রাখছে। কবর আপনার অপেক্ষায় রয়েছে। কেয়ামতের মাঠ মোটেই সহজ হবেনা। এক পাশে আছে জান্নাত, আর অন্য পাশে আছে জাহান্নাম। আর আপনি যদি এখনো এই ভিডিওটি দেখে থাকেন, তাহলে তার মানে আপনার পরীক্ষা এখনো শেষ হয়নি। এর মানে, আপনার কাছে এখনও নিজেকে ঠিক করে নেওয়ার সুযোগ আছে। এই দুনিয়ার ঠিক কোন আনন্দ জান্নাতের নেয়ামতের চেয়ে বড় হতে পারে?
এই সাময়িক জীবনের অস্থায়ী সুখের জন্য অনন্ত নেয়ামত হারানো, এটা কি সার্থক? কোনটা বেশি কঠিন? যে সামান্য পরিশ্রমের জন্য আমরা নামাজে আলসেমি করি, সেটা, না কি জাহান্নামের শাস্তি? তাওবা করা আসলে কতটা কঠিন, এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া, যেগুলো পড়তে সারাদিনের এক ঘণ্টাও সময় যায়না? যখন সবাই ভয় আর আতঙ্কে ডুবে থাকবে মৃত্যুর পরের সেই ভয়াবহ ঘটনাগুলোতে, তখন কি হাসিমুখে চিরস্থায়ী জান্নাতে প্রবেশ করা মূল্যহীন? আমাদের এই দুনিয়ায় উদ্দেশ্যহীনভাবে পাঠানো হয়নি। মৃত্যু চরম সত্য। কবর বাস্তব। আর কেয়ামতের দিন অবশ্যই আসবে। আমরা এসব সত্যকে অস্বীকার করতে পারি না। এতগুলো বাস্তবতা সামনে থাকার পরও, আমরা কীভাবে এমনভাবে জীবনযাপন করি, যেন এগুলোর কোনোটা নেই?
প্রতিদিন প্রায় ২৫০,০০০ মানুষের দরজায় মৃত্যু কড়া নাড়ে। এর পরও কি আপনার ভেতরে কোনো অনুভূতি জাগে না?
মৃত্যু আপনাকে চিরনিদ্রায় পাঠানোর আগেই জেগে উঠুন, কারণ মৃত্যুর কোন মৃত্যু নেই। আপনি আপনার তাওবায় গাফিলতি করবেন না। আজই, যতক্ষণ পর্যন্ত সময় আছে, যতক্ষণ আপনার হৃদস্পন্দন চলছে, যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি এখনও সিজদায় পড়তে সক্ষম, যতক্ষণ পর্যন্ত তাওবার দরজা এখনও খোলা আছে। আপনি যদি নামাজ না পড়ে থাকেন, তাহলে এটাকেই নামাজ শুরুর মোটিভেশান বানিয়ে নিন। আমাদের সম্পূর্ণ ফ্রি, বিজ্ঞাপনমুক্ত সালাত অ্যাপের মাধ্যমে আপনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজকে আপনার জীবনের একটি নিয়মিত অংশ বানাতে পারবেন। আপনি যদি আপনার ঈমানকে শক্তিশালী করতে চান এবং ইসলামি জ্ঞান আরও গভীর করতে চান, আমরা এই চ্যানেলে আপনার জন্য অনেক ভিডিও প্রস্তুত করেছি। আপনি সেগুলো নিয়মিত দেখার একটি লক্ষ্য সেট করতে পারেন। আপনি যদি এখনো না জানেন কীভাবে আরবিতে কুরআন পড়তে হয়, আমরা লামেলিফ কুরআন নামে একটি অ্যাপ তৈরি করেছি, যেখানে আপনি খুব দ্রুত, এবং সহজভাবে আরবি শিখতে পারবেন। আর আপনি যদি কুরআনের অর্থ আরও গভীরভাবে জানতে চান, তাহলে আপনি আমাদের ফ্রি রিডিং অ্যাপটি ডাউনলোড করতে পারেন। মনে রাখবেন, আপনি একবার নিজের জন্য কোনো লক্ষ্য সেট করলে, সেটা যত ছোটই হোক না কেন, আপনার পৃথিবী বদলাতে শুরু করবে। চলুন আমরা কুরআনের সেই আয়াত দিয়ে শেষ করি, যেটি সবচেয়ে বড় আশা’র দরজা খুলে দেয়, "বলুন, ‘হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজেদের ওপর সীমালঙ্ঘন করেছে, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ মাফ করেন। নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল, অত্যন্ত দয়ালু।" আপনি কি কিছু খেয়াল করেছেন?
এই ভিডিওটি দেখার সময় আপনি কোনো বিজ্ঞাপন দেখেননি। কারণ টোওয়ার্ডস ইটার্নিটি একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, আমরা আপনাদের সহযোগিতার মাধ্যমেই এসব ভিডিও তৈরি করতে পারি। যদি আপনিও এই সওয়াবের কাজে অংশীদ্বার হতে চান, তাহলে টোওয়ার্ডস ইটার্নিটি তে দান করুন, এই সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করবেন না।
জান্নাত কি আমাদের এই দুনিয়ার মতোই হবে? সেখানেও কি গ্রীষ্ম–শীত, রাত–দিন থাকবে? চিরকাল সেখানে থাকতে থাকতে আমরা কি কখনও বিরক্ত হয়ে যাবো না? আর যে ব্যক্তি সবশেষে জান্নাতে প্রবেশ করবে, তার অবস্থা কেমন হবে?
চলুন সবকিছু একে একে দেখি, দুই দিকেই আমাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে। একটি হাদিসে কুদসিতে আমাদের রব বলেন, “আমি আমার মুত্তাকি বান্দাদের জন্য এমন সব জিনিস প্রস্তুত করে রেখেছি, যা কোনো চোখ কখনও দেখেনি, কোনো কান কখনও শোনেনি, আর কোনো মানুষের কল্পনায়ও কখনও আসেনি।” অর্থাৎ জান্নাত আসলে এই ভিডিওতে আপনি যা দেখবেন তার চেয়েও অগণিত গুণ বেশি মহান ও সুন্দর। আমরা যা দেখাবো, সেগুলো কেবল উপমা মাত্র, আসল সৌন্দর্যের সামান্য ধারণা দেওয়ার জন্য। এবং অবশ্যই, জাহান্নামের ক্ষেত্রেও একই কথা, এক পাশে অবিরাম কান্না আর আর্তনাদ, আর অন্য পাশে উজ্জ্বল হাসি আর আনন্দের ধ্বনি। যারা জুলুম করেছে, তারা পেয়ে যাবে নিজেদের জুলুমের পরিণাম, আর যারা নির্যাতিত হয়েছে, তারা পেয়ে যাবে ধৈর্যের সুন্দর পুরস্কার। জান্নাতের মানুষদের জন্য সব কষ্ট, সব ব্যথা, সব মানসিক চাপ শেষ। সেখানে আর একাকিত্ব নেই, চোখের জলও নেই। কুরআনে জান্নাতকে এমনভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, যাতে তা পড়লে মানুষের মনে সঙ্গে সঙ্গে সেখানে যাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা জেগে ওঠে। “সেখানে তাদের জন্য থাকবে যা তাদের প্রাণ কামনা করে আর চোখ উপভোগ করে। আর তোমরা সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে।” আমাদের নবী (সাঃ) বলেছেন, “সেখানে তোমরা সবসময় সুস্থ থাকবে, কখনও অসুস্থ হবে না। তোমরা চিরকাল বেঁচে থাকবে, কখনও মরবে না। তোমরা তরুণই থাকবে, কখনও বৃদ্ধ হবে না। তোমরা সবসময় স্বাচ্ছন্দ্যে থাকবে, কখনও অভাবগ্রস্ত হবে না।” জান্নাতে একজন মানুষ সবসময় ৩৩ বছরের মতোই থাকবে, শক্তি, তারুণ্য ও সৌন্দর্যের সর্বোচ্চ শিখরে। যে স্বামী–স্ত্রী একসাথে জান্নাতে প্রবেশ করবে, তাদের বন্ধন সুখের মধ্যেই চিরস্থায়ী হবে। আর যারা দুনিয়াতে কখনও বিবাহের সুখ পায়নি, তারাও জান্নাতে যাকে ইচ্ছে তাকে বিয়ে করার সুযোগ পাবে। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) জান্নাত সম্পর্কে বলেছেন, “জান্নাত গঠিত হয়েছে সোনা ও রুপার ইট দিয়ে, এর গাঁথুনির মাটি হলো মেশক, এর কংকর হলো মুক্তা আর রুবি, আর এর মাটি হলো জাফরান। যে সেখানে প্রবেশ করবে, সে চিরকাল বেঁচে থাকবে, কখনও কষ্ট পাবে না। সে আনন্দে থাকবে, কখনও মারা যাবে না। তাদের পোশাক কখনও পুরোনো হবে না, তাদের তারুণ্য কখনও ফুরিয়ে যাবে না।” আর এক বিস্ময়কর বিষয় হলো, সেখানে দুনিয়ার মতো কারণ–কার্য সম্পর্ক আর প্রকৃতির নিয়ম এভাবে কাজ করবে না। আপনি যা চাইবেন, তা সঙ্গে সঙ্গে হাজির হয়ে যাবে। একটি ফল খেতে হলে সেখানে বীজ বুনে গাছ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না, বা কোথাও গিয়ে তা আনতেও হবে না, কারণ জান্নাতে কোনো মাধ্যমের প্রয়োজন নেই। আল্লাহ আপনার ইচ্ছা অনুযায়ী সরাসরি সৃষ্টি করবেন। আপনি গাছ থেকে একটি ফল তুললেই, সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি ফল তার জায়গা পূরণ করবে। গাছ থেকে কিছুই কমে যাবে না। আপনি যেকোনো ধরনের মাংসের কথা ভাববেন, সঙ্গে সঙ্গে তা সুন্দরভাবে প্রস্তুত হয়ে সামনে চলে আসবে। একটু ভেবে দেখুন তো, জন্মের পর থেকে আপনি কত ধরনের খাবার খেয়েছেন?
আমরা দুনিয়াতে আসলে সারা বিশ্বের স্বাদের মাত্র সামান্য অংশই চেখে দেখি, কিন্তু সেই সামান্যটুকুই আমাদেরকে এত আনন্দ দিতে সক্ষম। কল্পনা করুন, যেন বিশাল সাগর থেকে শুধু এক গ্লাস পানি পেয়েও আমরা পুরো জীবন কাটিয়ে দিচ্ছি আর তাতেই খুশি আছি। উদাহরণস্বরূপ একটি টমেটোর নিজস্ব টেস্ট রয়েছে, ডিমের নিজস্ব স্বাদ আছে, ক্যাপসিকাম বা মরিচের নিজস্ব স্বাদ আছে, কিন্তু আপনি যখন এগুলো একসাথে রান্না করেন, তখন তৈরি হয় ভিন্ন আর নতুন আরেক স্বাদ। এখনও পর্যন্ত আমরা দুনিয়ার তরিতরকারির হয়তো ১% ও স্বাদ আস্বাদন করতে পারিনি। আর জান্নাতের স্বাদের সঙ্গে তুলনা করলে, এটা হয়তো এক মিলিয়নেরও কম একটি অংশের সমান। আরেকটি নিয়ামতের কথা বলি, জান্নাতে আমাদের অন্তর থেকে সব হিংসা, ঘৃণা, রাগ মুছে দেওয়া হবে। সব নেতিবাচক, কষ্টদায়ক অনুভূতি চিরতরে তুলে নেওয়া হবে আমাদের ভেতর থেকে। সবাই ভাই–ভাই হয়ে, বোন–বোন হয়ে সুখে–শান্তিতে বসবাস করবে। কুরআনে আল্লাহ এইভাবে বর্ণনা করেছেন, “আমরা তাদের অন্তর থেকে যে কোনো রকম বিদ্বেষ তুলে নেবো, তারা পরস্পর ভাই–ভাই হবে, আর তারা একে–অপরের মুখোমুখি হয়ে আসনে বসে থাকবে।” রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আরও বলেছেন, “তাদের সকলের অন্তর হবে যেন এক মানুষের অন্তর, তাদের মধ্যে কোনো মতভেদ থাকবে না, পারস্পরিক বিদ্বেষও থাকবে না।” বন্ধু আর ভাই–বোনদের মতো, জান্নাতের মানুষরা বসে দুনিয়ার স্মৃতিগুলো ভালবেসে স্মরণ করবে, তারা দুনিয়াতে কাটানো মুহূর্তগুলো আবার যেন চোখের সামনে দেখে নেবে, এমনভাবে যেন নিজেরাই কোনো চলচ্চিত্রের ভেতরে ঢুকে গেছে। তারা ইতিহাসের সবচেয়ে বিস্ময়কর ঘটনাগুলোর দৃশ্যও দেখতে পারবে, এমনকি সেগুলোর কাছে গিয়েও উপস্থিত হতে পারবে। এবার জান্নাতের আরও কিছু সৌন্দর্যের কথা বলি। সেখানে থাকবে স্ফটিকস্বচ্ছ পানির নদী, দুধের নদী, মধুর নদী, আর আমাদের কল্পনারও বাইরে অগণিত নদী। কুরআনে আল্লাহ বলেন, “যে জান্নাত মুত্তাকিদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তার বর্ণনা হলো এর নিচ দিয়ে নদী প্রবাহিত হয়। এর ফল কখনও ফুরায় না, এবং এর ছায়াও কখনও শেষ হয় না।” “সেখানে আছে পানির নদী, যা কখনও বদলে যায় না; দুধের নদী, যার স্বাদ কখনও পরিবর্তিত হয় না, অ্যালকোহল এর নদী, যা পানকারীদের জন্য আনন্দদায়ক, আর আছে পরিশোধিত মধুর নদী। সেখানে তাদের জন্য থাকবে নানা প্রকার ফল আর তাদের রবের পক্ষ থেকে ক্ষমা।” তবে এখানে যে অ্যালকোহলের কথা বলা হয়েছে, তা দুনিয়ার অ্যালকোহলের মতো নয়। এটা জান্নাতের জন্যই নির্দিষ্ট বিশেষ এক পানীয়। এগুলো হবে পবিত্র পানীয়, যা অন্তরে প্রশান্তি ও আনন্দ দেবে, কাউকে কখনও নেশাগ্রস্থ করবে না। এই সব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি, জান্নাতের আবহাওয়াও হবে পরিপূর্ণ আরামদায়ক। দুনিয়ার মতো সেখানে প্রচণ্ড গরম বা তীব্র শীত থাকবে না, বরং থাকবে ঠিক সেই আবহাওয়া যা আমাদের সবচেয়ে ভালো লাগে। আর জান্নাতে কখনও রাত নামবে না। সেখানে সর্বদা থাকবে এমন এক আলো, যা অন্তরকে সুখে ভরে দেবে। “আর আমরা তাদের প্রবেশ করাবো কোমল, শীতল ছায়ায়।” জান্নাতে রাত নেই, সেখানে কেবল আলো আর নূর। আরেকটি বিষয় জান্নাতে ঘুমও নেই। দুনিয়াতে ঘুম আমাদের কাছে আরামদায়ক লাগে, কারণ তা ক্লান্তি দূর করে, কিন্তু জান্নাতে ক্লান্তি বলে কোনো জিনিসই থাকবে না। “সেখানে তাদেরকে কখনও ক্লান্তি স্পর্শ করবে না।” দুনিয়াতে আমরা যখন সবচেয়ে আনন্দদায়ক কাজটাও করি, কিছু সময় পরে কিন্তু বিরক্তি চলে আসে, তাই না?
তাহলে জান্নাতে কি এমন হবে?
কখনও না। যিনি বিরক্তি নামক অনুভূতিটাই সৃষ্টি করেছেন, তিনি চাইলে সহজেই জান্নাতের জীবন থেকে বিরক্তিকে মুছে দিতে পারেন। সুতরাং জান্নাত হবে এমন এক চিরস্থায়ী বাসস্থান, যেখানে থাকবে কেবল আনন্দ, স্বস্তি আর অগণিত নিয়ামত, আর কোনো অভাব, কোনো প্রয়োজন থাকবে না। কুরআন ও হাদিস থেকে আমরা জানতে পারি যে, জান্নাতে আছে আটটি দরজা। মানুষ তাদের আমলের ধরন অনুযায়ী এই সব দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে। দরজাগুলোর নাম হলো বাব আস-সালাত (নামাজের দরজা), বাব আল-জিহাদ (সংগ্রামের দরজা), বাব আস-সাদাকাহ (সদকার দরজা), বাব আর-রাইয়্যান (রোজাদারদের জন্য নির্দিষ্ট দরজা), বাব আল-হজ্জ (হজের দরজা), বাব আল কাযিমীনা আল-গাইয ওয়াল-আফীনা আনিন নাস (ক্রোধ সংবরণ ও মানুষকে ক্ষমা করার দরজা), বাব আল-ইমান (ঈমানের দরজা), বাব আয-যিকর (আল্লাহকে বেশি স্মরণকারীদের দরজা)। এবং মুমিনরা তাদের মর্যাদা ও আল্লাহর কাছে অবস্থানের ভিত্তিতে জান্নাতের সাতটি স্তরের একটিতে অবস্থান করবে। সেগুলো হলো আল-ফিরদাউস, আল-আদন, আন-নাঈম, দারুল খুলুদ, আল-মাওয়া, দারুস্-সালাম এবং ইল্লিয়্যুন। তাহলে যখন জান্নাতের স্তর ও মর্যাদা ভিন্ন ভিন্ন, তখন সর্বোচ্চ স্তরের কেউ কীভাবে নিম্নস্তরের কারও সঙ্গে থাকতে পারবে?
বদিউজ্জামান সাঈদ নুরসি (রহ.) নবীজির (সা.) এক হাদিসের আলোকে এ বিষয়টি খুব সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, হাদিসটি হলো, “তোমরা যাদের ভালোবাসো, তোমরা তাদের সঙ্গেই থাকবে।” উদাহরণস্বরূপ, ধরুন আমার স্বাদ গ্রহণের ক্ষমতা খুব প্রখর, আপনারটা তুলনামূলকভাবে দুর্বল। আমরা দু’জন একই টেবিলে বসে আছি, সামনে অপূর্ব দৃশ্য, আমার দৃষ্টিশক্তিও খুব তীক্ষ্ণ। আমি অনেক দূর পর্যন্ত দেখতে পারি, কিন্তু আপনি অত দূর দেখতে পান না। এখন আমরা পাশাপাশি বসে কথা বলতে বলতে খাচ্ছি, আমাদের মধ্যে কে বেশি উপভোগ করবে?
অবশ্যই আমি কারণ আমার দৃষ্টি তীক্ষ্ণ, আর স্বাদ গ্রহণের ক্ষমতাও বেশি। একইভাবে, আমরা যদি জান্নাতে একই টেবিলে বসে খাবার খাই, একই দৃশ্য দেখি, একই ফল খাই, তবুও প্রত্যেকের উপভোগের মাত্রা তার নিজ নিজ মর্যাদা অনুযায়ী ভিন্ন হবে। কিন্তু কেউ এ নিয়ে অভিযোগও করবে না। প্রত্যেকে নিজের প্রাপ্ত অবস্থাতেই সম্পূর্ণ তৃপ্ত ও সুখী থাকবে। কেউই আফসোস করবে না যে, “ইশ! আমি যদি আরও উঁচু মর্যাদায় যেতে পারতাম” কারণ আগেই বলেছি, সেখান থেকে সব নেতিবাচক অনুভূতি চিরতরে তুলে নেওয়া হবে। এখন প্রশ্ন আসতে পারে, জান্নাতে মানুষের পোশাক কেমন হবে?
কুরআন বলে, জান্নাতের পোশাক হবে রেশমি, সুন্দরভাবে সজ্জিত। "তারা পরবে কোমল সবুজ রেশমি পোষাক ও ইস্তাবরাক নামের ঘন, ঝলমলে রেশমি বস্ত্র।" তাদেরকে সোনার ব্র্যাসলেটস ও মুক্তার অলংকারে সুশোভিত করা হবে, আর তাদের পোশাক হবে রেশম।” তাহলে আমাদের সৌন্দর্য কেমন হবে জান্নাতে? আমরা কি ঠিক দুনিয়ার মতোই দেখাবো?
জান্নাতে আল্লাহ প্রত্যেক বান্দাকে পূর্ণাঙ্গ সৌন্দর্য দান করবেন, যে রূপ তার কাছে সবচেয়ে প্রিয়। আর এই সৌন্দর্য কেবল এক রূপে সীমাবদ্ধ থাকবে না। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ইচ্ছামতো বিভিন্ন রূপ ধারণ করার সুযোগ দেবেন, যখন যেমন চাইবে, তেমন। অর্থাৎ জান্নাতের বাসিন্দারা নিজেদের ইচ্ছামতো রূপ ও সৌন্দর্য উপভোগ করবে। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “নিশ্চয়ই জান্নাতে একটি বাজার থাকবে, যেখানে কোনো কেনাবেচা হবে না, তবে সেখানে থাকবে পুরুষ ও নারীর নানা অবয়ব। যে যখন কোনো অবয়ব কামনা করবে, সে সেই অবয়বেই প্রবেশ করবে।” আপনি নিশ্চয়ই সেই ব্যক্তির গল্প শুনেছেন, যিনি সবশেষে জান্নাতে প্রবেশ করবেন। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “আমি সেই ব্যক্তিকে চিনি, যে জাহান্নাম থেকে সবশেষে বের হবে এবং সবশেষে জান্নাতে প্রবেশ করবে। সে জাহান্নাম থেকে বের হবে আগুন থেকে হামাগুড়ি দিতে দিতে বেরিয়ে আসবে, আর আল্লাহ তাকে বলবেন, ‘যাও, জান্নাতে প্রবেশ করো।’ সে জান্নাতের দিকে যাবে, কিন্তু তার কাছে জান্নাত মনে হবে যেন পূর্ণ হয়ে গেছে। তারপর সে ফিরে এসে বলবে, ‘হে আমার রব, আমি জান্নাতকে পূর্ণ অবস্থায় পেলাম।’ আল্লাহ আবারও বলবেন, ‘যাও, জান্নাতে প্রবেশ করো। তোমার জন্য থাকবে দুনিয়ার সমান সম্পদ, বরং তারও দশ গুণ বেশি।" লোকটি বিস্ময়ে বলবে, “আপনি তো সৃষ্টিকুলের রব, আপনি কি আমার সঙ্গে মজা করছেন, না কি আমার ওপর হাসছেন?” এই হাদিসটি বর্ণনা করা সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা.) বলেন, “আমি দেখেছি, এ কথা বলতে বলতে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এতটাই হাসছিলেন যে তাঁর পেছনের দাঁত পর্যন্ত দেখা যাচ্ছিল।” বলা হয়, জান্নাতের সব বাসিন্দাদের মধ্যে তারই মর্যাদা হবে সবচেয়ে কম। কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, আমরা কি জান্নাতে আল্লাহকে দেখতে পাবো?
হ্যাঁ, ইনশাআল্লাহ, আমাদের সবচেয়ে বড় সুসংবাদ হবে, নিজ রবকে দেখা এবং অবগত হওয়া যে, তিনি আমাদের ওপর সন্তুষ্ট। কুরআনে এই নিয়ামতকে এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, “সেদিন কিছু মুখ দীপ্তিময় হবে, নিজ রবের দিকে তাকিয়ে থাকবে।” এটিই হবে জান্নাতে সর্বোচ্চ পুরস্কার। বদিউজ্জামান সাঈদ নুরসি আরেকটি দারুণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাফসিরে তিনি বলেন, “দুনিয়ার হাজার বছর সুখের জীবনও জান্নাতের এক ঘণ্টার সমান নয়। আর জান্নাতের হাজার বছরের জীবনও আল্লাহর দর্শনের এক ঘণ্টার সমান নয়।” তাই এখনকার জীবনের সঙ্গে এ দৃশ্যের তুলনা করবেন না। বরং এমন এক জীবন কল্পনা করুন যেখানে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটুও কষ্ট নেই, শুধু পরম আনন্দ আর প্রশান্তি। এমন এক হাজার বছরের জীবনও কিসের সমান নয় জানেন?
জান্নাতের মাত্র এক ঘণ্টারও না। আর কল্পনা করুন জান্নাতের হাজার বছর, যা পরিপূর্ণ এমন সব নিয়ামতে যার কল্পনাও আমরা করতে পারি না, তাও সমান নয় আল্লাহর দর্শনের এক ঘণ্টার। যখন মুমিনরা তাঁদের রবের সৌন্দর্য দেখবে, তারা বিমোহিত হয়ে যাবে, এবং কৃতজ্ঞতায় ভরে গিয়ে বলবে, “সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার।” আরেকটি ভয়াবহ কিন্তু সত্য বিষয় হলো জান্নাতের মানুষরা জাহান্নামের লোকদেরও দেখতে পাবে, আর জাহান্নামের লোকেরাও জান্নাতের মানুষদের দেখবে। ফলে এক পক্ষের আফসোস গুণিতক হারে বাড়তে থাকবে, আর অপর পক্ষের কৃতজ্ঞতাও অনেক গুণ বৃদ্ধি পাবে। তাহলে যখন জান্নাতের মানুষরা এভাবে অনন্ত সুখে থাকবে, জাহান্নামের মানুষের অবস্থা কেমন হবে? জাহান্নাম…
যেন হাজার বছর ধরে রাগ আর ক্রোধ বন্দী করে রাখা হয়েছে এক উত্তাল জ্বলন্ত আগুন। অসংখ্য জালেম, যারা নিরীহদের শোষণ করেছে...
শত শত শিশুকে হত্যা করেছে এবং অগণিত মানুষের হক নষ্ট করেছে, আজ তারা সেখানেই বন্দি। ভিতরে কুচকুচে কালো অন্ধকার, আর সেই অন্ধকারের ভেতর প্রতিধ্বনিত হচ্ছে দহন, হাহাকার আর অসহায় কান্নার শব্দ। “নিশ্চয়ই আমি প্রস্তুত করে রেখেছি এক প্রজ্জ্বলিত আগুন তাদের জন্য, যারা কিয়ামতকে অস্বীকার করেছে। আগুন যখন তাদের দূর থেকে দেখবে, তারা তার প্রচণ্ড রোষ আর গর্জনের আওয়াজ শুনবে। যখন তাদের শিকলে বেঁধে জাহান্নামের খুব সংকীর্ণ স্থানে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তারা সেখানে মৃত্যু কামনা করে কাঁদতে থাকবে। আর তাদের বলা হবে, ‘আজ তোমরা এক মৃত্যু নয়, বরং বহু মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা করো।’” যত ভয়ংকরই হোক, ন্যায়বিচার পূর্ণতা পাওয়ার জন্য জাহান্নামের অস্তিত্ব অপরিহার্য। আর এই ন্যায়বিচারই হলো মজলুমদের জন্য এক বিশাল রহমত। আয়াতে আল্লাহ বলেন, “আমরা তো তাদের প্রতি জুলুম করিনি, বরং তারাই নিজেদের ওপর জুলুম করেছিল।” যারা ঈমান এনেছিল, তাদের জন্য জাহান্নাম স্বল্পস্থায়ী হবে। যদি তারা কবিরা গুনাহ করে থাকে কিন্তু তাওবা না করে, আর যদি তাদের গুনাহ সওয়াবের চেয়ে ভারী হয়ে যায়, এবং যদি তাদের জন্য কোনো সুপারিশ গ্রহণ করা না হয়, তাহলে তারা কিছু সময়ের জন্য জাহান্নামে শাস্তি পাবে। অবশ্যই আল্লাহ চাইলে তাদের ক্ষমা করে দিতে পারেন, সেক্ষেত্রে তাদের জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে হবে না। তবে যদি কোনো মুমিন জাহান্নামে প্রবেশ করেও, তার শাস্তির মেয়াদ শেষ হলে অবশেষে তাকে জান্নাতে নিয়ে যাওয়া হবে। জাহান্নামের আজাবের ফিরিশতারা অত্যন্ত কঠোর আর রুক্ষভাবে সবার সাথে আচরণ করবে তাদের ভয়ংকর চেহারা দেখাই জাহান্নামের লোকদের জন্য নিজেই এক শাস্তি। কুরআনে কাফিরদের সঙ্গে জাহান্নামের পাহারাদার ফিরিশতার সংলাপ এভাবে এসেছে, তারা চিৎকার করে বলবে, “হে মালিক, আপনার প্রতিপালক যেন আমাদের অবসান ঘটিয়ে দেন" সে বলবে, “না, তোমরা এখানেই চিরকালই থাকবে। নিশ্চয়ই আমার রব তোমাদের কাছে সত্য এনেছিলেন, কিন্তু তোমাদের অধিকাংশই সেই সত্যকে অপছন্দ করেছিলে।” কিন্তু সেখানে শাস্তি শুধু আগুনের নয়। মানুষ সেখানে দগ্ধ হবে জান্নাতের সব নিয়ামত থেকে বঞ্চিত থাকার কষ্টে, একাকীত্বের কষ্টে, ঘন নিস্তব্ধতায় শয়তানের সঙ্গে একত্রে আজাব ভোগের লজ্জায়, আগুনের জ্বালা আর হিমশীতল শাস্তির দ্বৈত যন্ত্রণায়, আল্লাহ্র প্রতি অকৃতজ্ঞতার অপরাধবোধে, আর প্রভুর সঙ্গে কথা না বলার প্রচণ্ড অনুতাপে। এক কথায়, মানুষকে সেখানে ফেলে রাখা হবে নানান ধরনের শাস্তি ও যন্ত্রণার মাঝে। সেদিন আল্লাহ জাহান্নামের লোকদের উদ্দেশে বলবেন, “আমার সঙ্গে আর কথা বলো না।” এর চেয়ে বেদনাদায়ক কথা আর কি হতে পারে?
তাদের রবের সঙ্গে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। জাহান্নামে মানুষের হাত শিকলে বাঁধা, সারা দেহ আগুনে পরিবেষ্টিত। তাদের চোখে ভর করে থাকবে বর্ণনাতীত এক আতঙ্ক। প্রত্যেক শ্বাস–প্রশ্বাসের সঙ্গে তার ফুসফুসে ঢুকে যাবে জাহান্নামের দগদগে উত্তাপ। তারা চেষ্টা করবে পালিয়ে বাঁচতে, কিন্তু কোথাও কোনো পথ খুঁজে পাবে না। টগবগে ফুটন্ত পানি তাদের মাথার ওপর ঢেলে দেওয়া হবে, যা তাদের চামড়া গলিয়ে দেবে, ভেতরের অঙ্গ–প্রত্যঙ্গ ঝলসে দেবে। কুরআন এভাবে বর্ণনা করে, “আর তুমি কীভাবে বুঝবে সাকার কী?
এটি এমন আগুন, যা কিছুই অক্ষত রাখবে না, মানুষের চামড়া কালো করে ফেলবে।" তাদের খাবার হবে যাক্কুম, জাহান্নামের গাছের ফল, আর কাঁটাযুক্ত উদ্ভিদ। তাদের পানীয় হবে ফুটন্ত পানি এবং পুঁজ। প্রত্যেকবার যখন তারা পান করবে, শাস্তি তাদের অস্থির গহীনে গিয়ে বিঁধবে। “তার সামনে আছে জাহান্নাম, এবং তাকে পান করানো হবে পুঁজ মিশ্রিত পানি। সে সেটা চুমুক দিয়ে খেতে চাইবে, কিন্তু কোনোভাবেই গিলতে পারবে না। তার চারদিক থেকে মৃত্যু তার দিকে ধেয়ে আসবে, কিন্তু সে মরবে না, আরও কঠিন শাস্তি তার জন্য অপেক্ষা করে থাকবে।” আরেক আয়াতে আল্লাহ বলেন, “তাদের জন্য কোনো খাবার নেই শুধু কণ্টকাকীর্ণ বিষাক্ত গাছ ছাড়া, যা না পুষ্টি দেবে, না ক্ষুধা নিবারণ করবে।” তারা যখনই আর্তনাদ করে বলবে, “আর সহ্য করতে পারছি না!”, শাস্তি আরও বাড়িয়ে দেওয়া হবে। তাদের একমাত্র আশা হবে, “ইশ, যদি মরে শেষ হয়ে যেতে পারতাম!”, কিন্তু সে সুযোগ কখনও আসবে না। দুনিয়ায় যারা নিষ্পাপ মানুষের ওপর বোমা ফেলেছে, কারো কান্না, কারো আর্তচিৎকার তাদের বিন্দুমাত্র না নাড়িয়েছে, আজ সেইসব মানুষই শাস্তির এই ভয়াবহতায় আকুল হয়ে বলবে, “হায়, যদি আমি আরও আগে বুঝে উঠতে পারতাম!
যদি ফিরে যাওয়ার আরেকটা সুযোগ পেতাম!” কিন্তু অন্ধকারের ভেতর তার আক্ষেপের শব্দ শুধু প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরে আসবে, কোনো ফল দেবে না। দুনিয়ার পরীক্ষার সময় শেষ, এখন কেবল ফল প্রকাশ। আবার সেদিন জাহান্নামের ভিতর বিভিন্ন দল এক–অপরের সঙ্গে ঝগড়া করবে। প্রত্যেকে অপরের ওপর দোষ চাপাবে, এক–অপরকে অভিশাপ দেবে। কুরআনে এ দৃশ্যকে এভাবে তুলে ধরা হয়েছে, “আল্লাহ বলবেন, 'তোমাদের আগে যে সমস্ত জিন ও মানুষের দল অতীত হয়ে গেছে, তোমরা তাদের সঙ্গেই জাহান্নামে প্রবেশ করো।’ প্রতিবার যখন কোনো জাতি প্রবেশ করবে, তারা নিজেদের আগে আসা দলকে অভিশাপ দেবে। অবশেষে যখন তারা সবাই একত্রিত হবে, সবচেয়ে শেষের দলটি আগেরদের সম্পর্কে বলবে, ‘হে প্রভু, তারা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে, সুতরাং তাদেরকে আগুনের দ্বিগুণ শাস্তি দিন।’ আল্লাহ বলবেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকের জন্যই দ্বিগুণ শাস্তি রয়েছে, কিন্তু তোমরা তা উপলব্ধি করছো না।’ তারপর প্রথম দলের লোকেরা শেষের দলকে বলবে, "‘তোমাদের কোনো বাড়তি সুবিধা নেই আমাদের ওপর। তোমরাও আস্বাদন করো শাস্তি, তোমরা যা কামাই করে নিয়ে এসেছো।” এছাড়া, জাহান্নামের কিছু মানুষ শয়তানকে দোষারোপ করবে। আর শয়তান তখন তাদের উত্তর দেবে “আল্লাহ তোমাদেরকে সত্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আমিও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, কিন্তু আমার প্রতিশ্রুতি ছিল মিথ্যা। আমি তোমাদের জোরজবরদস্তি করিনি, বরং শুধু আহ্বান করেছি,, আর তোমরা সাড়া দিয়েছো। সুতরাং আমাকে দোষ দিও না, দোষ তোমাদেরই। আজ না তোমরা আমার আর না আমি তোমাদের সাহায্য করতে পারবো, তোমরা আগে যেভাবে আমাকে আল্লাহর শরিক বানাতে, আজ আমি তা প্রত্যাখ্যান করছি।” অবশেষে জালেম তার প্রাপ্য পাবে, মজলুমও পাবে তার প্রাপ্য ন্যায়বিচার। আমাদের কারোই জানা নেই মৃত্যু কখন এসে দরজায় কড়া নাড়বে। কিন্তু এই পুরো সিরিজে যে বিষয়গুলো নিয়ে কথা হলো, সবই একদিন বাস্তব হয়ে উঠবে। মালাকুল মাউত আপনার দিকে নজর রাখছে। কবর আপনার অপেক্ষায় রয়েছে। কেয়ামতের মাঠ মোটেই সহজ হবেনা। এক পাশে আছে জান্নাত, আর অন্য পাশে আছে জাহান্নাম। আর আপনি যদি এখনো এই ভিডিওটি দেখে থাকেন, তাহলে তার মানে আপনার পরীক্ষা এখনো শেষ হয়নি। এর মানে, আপনার কাছে এখনও নিজেকে ঠিক করে নেওয়ার সুযোগ আছে। এই দুনিয়ার ঠিক কোন আনন্দ জান্নাতের নেয়ামতের চেয়ে বড় হতে পারে?
এই সাময়িক জীবনের অস্থায়ী সুখের জন্য অনন্ত নেয়ামত হারানো, এটা কি সার্থক? কোনটা বেশি কঠিন? যে সামান্য পরিশ্রমের জন্য আমরা নামাজে আলসেমি করি, সেটা, না কি জাহান্নামের শাস্তি? তাওবা করা আসলে কতটা কঠিন, এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া, যেগুলো পড়তে সারাদিনের এক ঘণ্টাও সময় যায়না? যখন সবাই ভয় আর আতঙ্কে ডুবে থাকবে মৃত্যুর পরের সেই ভয়াবহ ঘটনাগুলোতে, তখন কি হাসিমুখে চিরস্থায়ী জান্নাতে প্রবেশ করা মূল্যহীন? আমাদের এই দুনিয়ায় উদ্দেশ্যহীনভাবে পাঠানো হয়নি। মৃত্যু চরম সত্য। কবর বাস্তব। আর কেয়ামতের দিন অবশ্যই আসবে। আমরা এসব সত্যকে অস্বীকার করতে পারি না। এতগুলো বাস্তবতা সামনে থাকার পরও, আমরা কীভাবে এমনভাবে জীবনযাপন করি, যেন এগুলোর কোনোটা নেই?
প্রতিদিন প্রায় ২৫০,০০০ মানুষের দরজায় মৃত্যু কড়া নাড়ে। এর পরও কি আপনার ভেতরে কোনো অনুভূতি জাগে না?
মৃত্যু আপনাকে চিরনিদ্রায় পাঠানোর আগেই জেগে উঠুন, কারণ মৃত্যুর কোন মৃত্যু নেই। আপনি আপনার তাওবায় গাফিলতি করবেন না। আজই, যতক্ষণ পর্যন্ত সময় আছে, যতক্ষণ আপনার হৃদস্পন্দন চলছে, যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি এখনও সিজদায় পড়তে সক্ষম, যতক্ষণ পর্যন্ত তাওবার দরজা এখনও খোলা আছে। আপনি যদি নামাজ না পড়ে থাকেন, তাহলে এটাকেই নামাজ শুরুর মোটিভেশান বানিয়ে নিন। আমাদের সম্পূর্ণ ফ্রি, বিজ্ঞাপনমুক্ত সালাত অ্যাপের মাধ্যমে আপনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজকে আপনার জীবনের একটি নিয়মিত অংশ বানাতে পারবেন। আপনি যদি আপনার ঈমানকে শক্তিশালী করতে চান এবং ইসলামি জ্ঞান আরও গভীর করতে চান, আমরা এই চ্যানেলে আপনার জন্য অনেক ভিডিও প্রস্তুত করেছি। আপনি সেগুলো নিয়মিত দেখার একটি লক্ষ্য সেট করতে পারেন। আপনি যদি এখনো না জানেন কীভাবে আরবিতে কুরআন পড়তে হয়, আমরা লামেলিফ কুরআন নামে একটি অ্যাপ তৈরি করেছি, যেখানে আপনি খুব দ্রুত, এবং সহজভাবে আরবি শিখতে পারবেন। আর আপনি যদি কুরআনের অর্থ আরও গভীরভাবে জানতে চান, তাহলে আপনি আমাদের ফ্রি রিডিং অ্যাপটি ডাউনলোড করতে পারেন। মনে রাখবেন, আপনি একবার নিজের জন্য কোনো লক্ষ্য সেট করলে, সেটা যত ছোটই হোক না কেন, আপনার পৃথিবী বদলাতে শুরু করবে। চলুন আমরা কুরআনের সেই আয়াত দিয়ে শেষ করি, যেটি সবচেয়ে বড় আশা’র দরজা খুলে দেয়, "বলুন, ‘হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজেদের ওপর সীমালঙ্ঘন করেছে, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ মাফ করেন। নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল, অত্যন্ত দয়ালু।" আপনি কি কিছু খেয়াল করেছেন?
এই ভিডিওটি দেখার সময় আপনি কোনো বিজ্ঞাপন দেখেননি। কারণ টোওয়ার্ডস ইটার্নিটি একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, আমরা আপনাদের সহযোগিতার মাধ্যমেই এসব ভিডিও তৈরি করতে পারি। যদি আপনিও এই সওয়াবের কাজে অংশীদ্বার হতে চান, তাহলে টোওয়ার্ডস ইটার্নিটি তে দান করুন, এই সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করবেন না।