"ইসলাম আমাকে খুঁজে পাবার আগ পর্যন্ত ডিপ্রেশান কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছিল" - অসাধারণ রিভার্ট স্টোর
প্রকাশের তারিখ
সেই নারীর স্মৃতি, যা আমি সারাক্ষন ভাবতেই থাকি, আমি তাকে ভুলতেই পারি না। ব্রো লাইক.. ২৪ টা ঘন্টাই আমি তার কথা ভাবতে থাকি। তো, আমি হাইওয়েতে গাড়ি চালাচ্ছি ঘন্টায় ৭৫, ৮০ কি.মি. গতিতে। তারপর গাড়ির ফ্লোরে পা রাখলাম। হাত ছিল স্টিয়ারিংয়ে। এবং নিজের চোঁখ বন্ধ করলাম। পাঁচ। চার। তিন। দুই। এক। ঠিক সেই মুহুর্তে আমি অনুভব করলাম যে, আমাকে আরও গভীর অর্থবহ কিছু খুঁজে পেতে হবে। তখন আমি বইয়ের বিভিন্ন মতবাদ আর এই ধরনের কিছু খুজে দেখার চেষ্টা করলাম। তো আমি বৌদ্ধ ধর্মে খুঁজলাম, হিন্দু ধর্মে খুঁজলাম, তাওরাতে খুঁজলাম, ইঞ্জিল, বাইবেলে খুঁজলাম। এগুলো অর্থবহ মনে হল না। তো ডাউনলোড করলাম কুর’আন অ্যাপ। সেটি পড়তে শুরু করলাম। ২০ মিনিট পেরিয়ে গেল আর মনে হল, আরে দাড়াও। আমি সেই মেয়েটির কথা একবারও ভাবিনি। শেষ টানা ২৫ মিনিটে?
এটা অবিশ্বাস্য! আর তারপর আমি এই আয়াতটি পেলাম। এটা কি করে তা জানতে পারলো? জানার তো কোন উপায় নেই। তাহলে কিভাবে জানল? আসসালামু আলাইকুম, ব্রাদার এসকিউ। আমাদের আমন্ত্রণ গ্রহণ করার জন্য ধন্যবাদ। আপনাকে পেয়ে আমরা খুব খুশি। ব্রাদার এসকিউ এর পরিচয় দিয়ে শুরু করতে চাই। আপনার জীবন সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু বলতে পারেন?
আমি নিজেকে ব্রোঙ্কসের একজন এতিম, সাধারণ মানুষ হিসেবে পরিচয় দিতে চাই। বিনীত সূচনা। আমার পরিবার, বাবার সাথে অনেক অনেক কিছু ঘটেছে। পারিবারিক সংঘাত, অনাচার। আমি আসলে একজন শরণার্থী। মানুষ এটা জানে না, কারণ আমার বাবা, সুবহানাল্লাহ, খুবই অত্যাচার করতেন আমাকে, আমার মা কে, আমার বোনকে। যা করতেন কী বলবো। সুবহানাল্লাহ। দিনের পর দিন এই অত্যাচার বাড়তেই থাকল বাড়তে বাড়তে বাড়তে বাড়তে এমন অবস্থা যে, আমাদের জীবন ঝুঁকিতে ছিল। একদিন, যখন তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন, আমরা, আমরা তখন পালালাম। আমি নিউইয়র্কে চলে এলাম, নিউইয়র্কে, ১০ই সেপ্টেম্বর ২০০১ এ। ৯/১১ এর কয়েক ঘন্টা আগে। এমনটা না যে আমি ৯/১১ সম্পর্কে জানতাম না, বরং এটি আমার জীবনকে সম্পূর্ণ বদলে দেয়। কেউ যদি সাদা চামড়ার না হতো আর যদি সে একটু আলাদা হতো, তাহলে তাকে উপহাস করা হতো তাকে বিদ্রুপ করা হত। আপনি এসবই দেখতে পাবেন। স্কুলের প্রথম দিনের কথা মনে পড়ে, সবার ভাব এমন ছিল যে, “ইও, বিন লাদেন কোথায়?” সবাই অবহেলা করতো। তারা শিশু, বুঝলেন?
তারা তাদের পিতামাতার কাছ থেকে শুনেছে আর সংবাদে প্রচারিত বিষয়গুলো জানত। ইসলামোফোবিয়া তখন ছিল ভয়াবহ। যদি ভাবেন, এখন অবস্থা খারাপ, তখনের মানুষ ছিল অজ্ঞ। আর আমি সেটিকে যুক্ত করতাম ইসলামের সাথে। যেমন, এই বিষয়টি আমার ব্যাপক সমস্যা করেছে, যার সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা আছে বলে আমি মনে করি না। যেমন, আমি কিচ্ছু করিনি....
পুরো বিষয়টির সাথে আমার কোন সম্পর্কই নেই। তারা আমাকে এমন বিষয়ের সাথে জুড়ে দিচ্ছে, যার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। এগুলো দিয়ে আমার কোন কাজ নেই। আমি ভাবতাম, ইসলাম এবং সন্ত্রাস এক। ইসলাম এবং সন্ত্রাস এক। আমি এটাই বিশ্বাস করতাম। হ্যাঁ, মুসলিমরা সন্ত্রাসী। যদিও আপনি নিজেই একজন মুসলিম। হ্যাঁ, তাও সেটা বিশ্বাস করতাম। এসব দেখে বেড়ে ওঠা এক শিশু হিসেবে, আমি ইসলামের বিষয়ে আগ্রহী ছিলাম না। মানুষ জানতে চাইতো আমার জন্মস্থান। আমি বলতাম আমি পুয়ের্তোরিকান। আমি বলতাম, আমি ডমিনিকান। আমি এমনকি, এমনকি এও বলতাম যে, আমি মেক্সিকান কিন্তু আমি যে পাকিস্তানী, সেটা বলতাম না। নিউইয়র্কে, আমাদের স্কুলে মেটাল ডিটেক্টর ছিল। সেটা আমার কাছে বিরক্তিকর মনে হত। তো আমি নিশ্চিত করতাম যে, আমার কোন প্রকার সমস্যা হবে না। কেন?
কারণ, আমি যদি চোঁখ বন্ধ করি আমি শুনতে পাব "হ্যাঁ, ওর কাছে বোমা আছে।" "তুমি সন্ত্রাসী।" সেটা ছিল আমার ছদ্মনাম। সন্ত্রাসী ছিল আমার ছদ্মনাম। এখন আমার জায়গায় নিজেকে ভাবুন, যার বয়স ১৪ বা ১৫ বছর। আপনি কি মুসলিম হতে চান?
অবশ্যই না। একদম না। মুসলিম হওয়াটাই একমাত্র অপরাধ, যা আমাকে সুখ থেকে বঞ্চিত করেছে। এমনটাই অনুভব আর বিশ্বাস করতাম। মুসলিম হওয়ার কারণেই আমি অসুখী ছিলাম। এর থেকে দূরে সরে যেতে হবে। তো যাহোক, আমি নফসের চাওয়া পূরণ করলাম। আমি নারী চাইলে, আমি পেতাম। আমি মাদক চাইলে, সেটা পেতাম। শুরুতে ছিল এটি মজার জন্য, কিন্তু পরে চাহিদা আরও বাড়তে থাকে। কিন্তু এর মাধ্যমেই আমি আমার জীবনে সত্যিকার হতাশাগ্রস্থ হই, হতাশার সর্বোচ্চ স্তর- অবসাদে হতাশায় ভরে যায়, এর মাধ্যমেই আত্মহত্যার সিদ্ধান্তের দিকে এগিয়ে যাই। মূলত একারণেই আমি ইসলাম থেকে আরও দূরে সরে যেতে থাকি। আমার মা, সুবহান আল্লাহ, যখন হাটতেন, আমি যদি আমার মায়ের সঙ্গে হাটতাম, আমি তার পিছু পিছু হাটতাম, বেশ দূরত্ব রেখে। যেন মানুষ জানতে না পারে, তিনিই আমার মা। এটি ছিল নির্মম। আমি এটা গর্বের জন্য বলছি না, বরং আমি শুধু বলছি, যেটা আমার অভিজ্ঞতা হয়েছিল। আমার মাকে অনেক কিছু সহ্য করতে হয়েছে, কারণ, আমার এখনও মনে আছে, আমরা প্রতিবাদী তরুণ ছিলাম। তখনও সেটা যৌক্তিক ছিল, বুঝলেন?
আমার বলা সকল কথা, জাহিলিয়াত এবং হারাম, সবকিছুই আমার মাকে সহ্য করতে হয়েছে। আমি যখন অনেক রাত পর্যন্ত ক্লাবে থাকতাম, আমার মা নির্ঘুম রাত কাটাত। যখন আপনি বাসায় আসেননা বুঝানো যাবে না, অন্যরা তা বোঝে না, আল্লাহর কসম। আমি যদি জান্নাতে যাই, সেটা হবে মায়ের জন্য। আমার মা আমার জন্য অনেক দোয়া করতেন। অনেক দোয়া করতেন, ভাই। তিনি দোয়ায় বলতেন, "আল্লাহ তাকে পথ দেখাও।" এবং রাতারাতি ঠিক হয়ে যায়নি। এটা দু-এক মাসে ঘটেনি। বছর লেগেছে। অনেক সময়। জানেন, যখন তিনি আসলেন। তার প্রাতিষ্ঠানিক কোন শিক্ষা বা অন্যকিছু ছিল না। তিনি গ্যাস স্টেশনের মত জায়গায় কাজ করতেন। গভীর রাতের শিফটে। রাতের বেলাতে, ভাই, রাতের বেলায়। যখন সবচেয়ে খারাপ মানুষগুলো বাইরে থাকে। গ্যাস স্টেশনে একজন নারী। তিনি সেখানে কাজ করতেন আর তার ছেলে উপার্জনের টাকায় নিজের জন্য কিনতে বাধ্য করত দামী দামী সব জিনিসপত্র। "তুমি আমাকে এসব কি জিনিস দিচ্ছ?
স্কুলে সবাই এসব দেখে হাসে। এইগুলো কেমন স্নিকারস? তুমি যদি শিক্ষিত হতে! আমি এ কেমন মা পেয়েছি? তোমার যদি একটু শিক্ষা থাকত! আমাদের সাহায্য করার মত কিছু কর।" চিন্তা করুন। মানুষ আমাকে মায়ের পেশার কথা জিজ্ঞেস করত। আমি আমার মাকে নিয়ে বিব্রত হতাম। আমি তাকে নিয়ে লজ্জিত ছিলাম। তিনি কি এমন কাজ করেন যে, মাথার উপর একটা ছাদ দিতে পারছেন না। আউযুবিল্লাহ, আমি কি রকম সন্তান ছিলাম? ঐ সময়ে আপনার চিন্তা-ভাবনা কি রকম ছিল? সেই অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে পারবেন? আপনি কি সেই জীবনধারা নিয়ে খুশি ছিলেন? শেষ পর্যন্ত মনে হল, আমি সেই নারীকে পেলাম, আমি তাকেই চাই, তিনিই সেইজন, বুঝলেন?
কিন্তু সমস্যাটা হল, তার একটা বয়ফ্রেন্ড ছিল। কিন্তু তার জন্য আলহামদুলিল্লাহ। তিনি যেখানেই থাকুন, যার সাথেই থাকুক না কেন, আল্লাহ তাকে পথ দেখান রহম করুন। তার জন্যই আমি ইসলামে ফিরতে পেরেছিলাম। কারণ, সম্পর্ক ভাঙ্গার পর, আমি তার জন্য অনেক স্মৃতি রোমন্থন করতে লাগলাম, কিন্তু যখন তার প্রতি আমার আনুভূতিগুলো গভীরভাবে জড়িয়ে যায়, মনে হতো, তুমি সেই ছেলেটার সাথে কখন সম্পর্ক ভাঙ্গবে? যতক্ষণ না আমার মন একদম ভেঙ্গে যায় ব্রো। তখন মনে হল, আমাকে এসব শেষ করতে হবে। যতক্ষণ না আমার মন একদম ভেঙ্গে যায় ব্রো। তখন মনে হল, আমাকে এসব শেষ করতে হবে। তো আমি শেষ করলাম, বুঝলেন? আমি সেই সম্পর্কচ্ছেদ করে আমি আমার নিয়ন্ত্রণকারীর কাছে ফিরে গেলাম, আমি মাদকের কাছে ফিরে গেলাম। মানুষ কেন অবসাদকে ভুলতে চায়?
আমি কারণটা বলছি ভাই। কারণ আপনার কাছে সবই আছে। কিন্তু শুধু আপনার কাছে আল্লাহ নেই। তো আপনার কিচ্ছু নেই। আপনি বোঝতে পারবেন আপনি নিঃস্ব, কারণ আপনার জীবনে আল্লাহ নেই। তো আমি হাইওয়েতে ছিলাম, গাড়ি চালাচ্ছি, ঘণ্টায় ৭৫, ৮০ কি.মি গতিতে। আর আমি গাড়ির ফ্লোরে পা রাখলাম, আমার হাত স্টেয়ারিং এ আর আমি আমার চোঁখ বন্ধ করলাম। পাঁচ। চার। তিন। দুই। এক। আমি এখনও এখানে। আশা করছিলাম সংঘর্ষ হবে। মন চাইছিল যেন, কিছু একটা ঘটুক। কারণ আমি শেষ। আমি এসবের কিচ্ছু চাই না। আপনি এ অবসাদ থেকে কিভাবে বের হলেন?
আমার মনে হয় আমার ক্ষেত্রে, এই অবস্থা থেকে বের হওয়ার আগ পর্যন্ত আমি বিষয়টি অনুভব করিনি। তারপর আমি বুঝলাম, অনেকদিন ধরে অবসাদগ্রস্থ ছিলাম। জানেন, আমি স্মরণ করলাম, আমার বিস্ফোরণের সময় চলে এসেছিল, সবকিছু আমার সহ্যের বাইরে চলে যাচ্ছিল। আমি অসুখী। আমি জেগে উঠলাম..... আর আমার স্পষ্টভাবে মনে আছে। আমি গোসল করছিলাম। আমি তখন আমার বাথটাবে গোসল করছিলাম। পানি পড়ছে আর আমি এদিকে বাথটাবে কেঁদেই চলেছি। আমি কাঁদছি। বাইরে থেকে দেখলে গেলে মনে হবে, আমার অর্থের প্রবাহ দারুণভাবে চলছে। নারীর আগমনও সেভাবে ঘটছে। মা*ক, অ্যা**হল, পার্টি, আমার জনপ্রিয়তা, আমি যা কিছু চাইতাম সবকিছু, বুঝলেন?
জনপ্রিয়, পরিচিত হতে চাইতাম। আমি পার্টির প্রাণ ছিলাম। আমি ভিতরে গেলেই তারা বলত, “ও সে চলে এসেছে।” "সবাই ওঠ!" এটা আমি ছিলাম। এই লোক টয়লেটে বসে কাঁদছে। এই লোক বাড়ি ফেরার পথে কাঁদছে। এই লোকটি আত্মহত্যা করতে চায়। কিছু মানুষ আছে আত্মহত্যা করার পর বলে "আমি তার সাথে কথা বলেছিলাম, সে সুখি ছিল।" জানেন, কেউই আত্মঘাতী চিন্তা প্রদর্শন করে না। আসলে, এটা এভাবে হয় না। কিন্তু শয়তান আপনাকে প্রভাবিত করতে থাকে। কারণ, তার জন্য আপনার আত্মহত্যা করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সেটি জাহান্নামের এক্সপ্রেস, ভিআইপি, প্রথম শ্রেণির টিকেট। আপনি কি করছেন?
শয়তান এভাবেই জেতে। তো আমি বাথটাবে ছিলাম। অনবরত কাঁদছিলাম। আমি আত্মঘাতী অবস্থায় ছিলাম। কাঁদছি, কাঁদছি, আর কাঁদছি। তারপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর কাছে দোয়া করার অনুপ্রেরণা জোগালেন। কিন্তু আমি জানতাম না যে, আমি দোয়া করছিলাম। আমি শুধু বলছিলাম, যে, "যদি এর বাইরেও কিছু থেকে থাকে, তাহলে আমাকে এখনই এই অবস্থা থেকে মুক্ত কর। দোয়া শেষ হতেই আমাকে এখান থেকে মুক্ত কর, এই স্থানকে সঠিক গতিপথে নিয়ে যাও। আমাকে সঠিক পথ প্রদর্শন কর। কিছু নির্দেশনা দাও, আমাকে কিছু দাও, যেন আমার এই অভিজ্ঞতা না হয়। যদি না হয়, এখানেই সব শেষ করে দাও, এখানেই সব শেষ কর। এসব দিয়ে আমার কাজ নেই।" তো আলহামদুলিল্লাহ, সেই গোসলটাই আমার জীবন বদলে দেয়। বের হলাম আর তখনই সেসময় আল্লাহ আমাকে উদ্দীপ্ত করলেন। কিন্তু আমি তখন সেটা জানতাম না। আল্লাহ আমাকে উদ্দীপ্ত করলেন, মানে পাকিস্তান ভ্রমণের জন্য বুঝলেন?
আমার পরিবার আছে, তাহলে কেন না সেখানে যাই? ভালো আমি দেখলাম, আমার মা-ও পাকিস্তানে যেতে চাচ্ছেন। আর একলা একলা। আমি বললাম, " মা আমাকেও সাথে নাও প্লিজ।" আর সেই সময় আমি অনুভব করলাম যে, আমাকে আরও গভীর অর্থবহ কিছু খুঁজে বের করতে হবে। তো, আমি তখন বিভিন্ন ধরনের বই আর বিভিন্ন মতবাদ খুঁজতে থাকলাম। চিন্তা করতে থাকলাম কিভাবে আমার অনুভূত ঝড়টিকে স্তিমিত করা যায়। কারণ, তখন আমি বুঝতে শুরু করেছি যে, সেটা স্বাভাবিক ছিল না। এটা ছিল অনেক গভীর। তো প্রথম যে বইটি আমি দেখছিলাম, সে বইটির নাম ছিল, ‘দ্য সিক্রেট’। এই অভিব্যক্তি, এই ভাল উদ্যম, 'ভালো চিন্তা-ভাবনা করলে, সব ভালো হবে', ঠিক আছে? তো পৃথিবী, আমাকে সাহায্য কর পৃথিবী। বিশ্বকে ডেকে ডেকে, বিভিন্ন ধরনের লক্ষন দেখে বাতাস বইছে, এটা একটা ভাল লক্ষণ। এটা এসব কি বলছে?
আমি বুঝলাম, এতে ভুল আছে। কারণ, যদিও আমি সেটা অনুধাবন করছি, আমার সত্যিকার অবসাদ এটা এখনও যাচ্ছেনা। ঐ নারীর চিন্তা আমার হৃদয় থেকে চলে যায়নি। বরং, সেটি বারবার ফিরে আসছে আর আমাকে এটা থেকে মুক্ত হতে হবে। তো, একদিন আমি একটা বইয়ের দোকানে গেলাম, এবং বৌদ্ধ ধর্মের একটা বুদ্দিজম বই পেলাম। এবং এতে বৌদ্ধ ধর্মের সাতটি নীতির কথা আলোচনা আছে, সুখের নীতি এবং এই ধরণের নীতিসমুহ। আমি সেসব ধ্যানের কৌশলগুলো অনুশীলন করার বার বার চেষ্টা করতে থাকলাম। কিন্তু আপনি কিভাবে শুধু চোঁখ বন্ধ করে এ সকল চিন্তা থেকে মুক্ত হতে পারেন, চিন্তা করে, শ্বাস নিয়ে আর এসব জিনিসের প্রতি খেয়াল রেখে। কিন্তু এটা শেষ হয় না, কারণ, এটা আপনাকে গ্রাস করে রেখেছে। আপনার মনে হয় ধনাত্মক চিন্তা করা উচিৎ। এতে কাজ হচ্ছে না। তখন, আমি একটি বাইবেল হাতে তুলে নিলাম। আর পড়তে শুরু করলাম, জেনেসিস এবং সেইসব বই পড়তে শুরু করলাম। তো, সেটি পড়তে থাকলেও, আমি কিছু ভুল দেখতে পাচ্ছিলাম। কিন্তু আবারও, সেটি আমার অন্তরে কোন প্রভাব ফেলেনি। সত্যিই করেনি। এতে আমার অবসাদ এক ফোঁটাও দূর হয়নি, সেই নারীর স্মৃতি যা আমি সারাক্ষণই ভাবতে থাকি, আমি তাকে কখনই ভুলতে পারিনা। ২৪ টা ঘণ্টাই আমি তার কথা ভাবতে থাকি। এই অবস্থায়, আমি হাল ছেড়ে দিলাম। আমি একেবারেই হাল ছেড়ে দিলাম। আমি বললাম, এসব দিয়ে কিচ্ছু হবে না। এসব অর্থহীন, সবকিছুই। এসব বুদ্ধিজম, কেউ একজন লিখেছে। আর সেই মানুষ সকলকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। ধর্ম বিষয়টা পুরোটাই মিথ্যা, পুরোটাই। আমার মন এমনটাই বলছে। তো সেই মুহূর্তে আমি পাকিস্তান যেতে চাই। এবং হঠাৎ করেই, তখন কয়েকদিন পরেই রমজান ছিল। সে সময় রোজা শুরু হতে চলেছে। আমার মা সেখানে আসলেন, আমার মা সেখানে এসে বললেন, "দেখ, রামাদান শুরু হতে চলেছে আর তুমি রোজা রাখবে। আর নামাজ পরতেও চেষ্টা করো, কারণ, আল্লাহ শুধু চান না তুমি শুধুই অভূক্ত থাক। তাঁর এটার প্রয়োজন নেই। তো সালাতকে অন্তর্ভূক্ত কর আর সালাত আদায় কর। কারণ, তুমি যদি রোজার সত্যিকারের ফল পেতে চাও, নামাজ পড়।" তো আমি নামায পড়তে জানতাম না। আমার মা আমাকে এসব বলল আর তা আমার হৃদয়কে ছুয়ে গেল। আমি আমার মত করে নামাজ পড়তে থাকলাম। যাহোক, আমি ভাবছিলাম যে, আমার নামাজ পড়তে হবে রোজা রাখার সময়, এটা ছিল আমার প্রথম রামাদান। এবং আমি ডাউনলোড করলাম কুরআন এ্যাপ আমার ফোনে। এমনকি আমি বইটাও পাইনি। অন্য সবাই যেমনটা করে যে, বইয়ের দোকানে যেয়ে সেটা কিনলাম, তেমনটা নয়। আমার মনে হল, "এটা ডাউনলোড করা যাক।" আর নামাজের পর আমি এটা পড়তে শুরু করলাম। এর মূল বিষয়গুলো। সুরা ফাতিহা। প্রথমে সেটিতে চোঁখ বুলালাম। পৃষ্ঠা উল্টিয়ে দেখলাম, "ও এখানে অনেক অধ্যায় রয়েছে।" আচ্ছা, যেকোন এক জায়গা থেকে শুরু করা যাক। সুরা ফাতিহা থেকে পড়া শুরু করলাম। শুধু ইংরেজিতেই পড়তাম, আমি আরবি পড়তে জানতাম না। আমি শুধু পড়েই যাচ্ছি। পড়ে যাচ্ছি, ঠিকাছে এর পরেরটাতে গেলাম। সুরা আল-বাকারা। আমি এটা পড়ছি। ও ঠিকাছে। ২০ মিনিট পাড় হয়ে গেল আর মনে হলো আরে দাড়াও। আমি ঐ মেয়টির কথা একবারো চিন্তা করিনি শেষ ২৫ মিনিটে একবারও?
এটা অবিশ্বাস্য!
আপনাকে এটা বুঝতে হবে, ভাই। এটা আমার জন্য একটা ওহী ছিল। আমি সেই নারীর কথা চিন্তা না করে ৫ টা মিনিট সময় অতিবাহিত করতে পারতাম না, তার খেয়াল আমাকে সব কাজ থেকে বিচ্যুত করত। মনে হল, আরেকটু পড়ি। এটা তো দারুণ। আল্লাহর কসম, আমি কুরআনকে শুধু ব্যবহার করছিলাম, আউযুবিল্লাহ। যাতে, আমি নিজে উপকৃত হই আর মেয়টাকে ভুলতে পারি, যাতে তার কথা না ভাবি। আমি তার চিন্তা এড়াতে কুরআনকে ব্যবহার করছিলাম। আমি এজন্যই কুরআনকে ব্যবহার করছিলাম। কুরআন মেয়েটির চিন্তা থেকে, আমার প্রাক্তন সম্পর্কে চিন্তা করা থেকে আমাকে বিচ্যুত করার একটা উপায় ছিল। প্রাক্তনের কথা চিন্তা না করতে আমি এটা ব্যাবহার করছিলাম। পড়ার সময় মনে হত যে, আমি গুপ্তধন পেয়েছি। আমি পেয়েছি, গুপ্তধন পেয়েছি। ইতোমধ্যে আযান শুরু হল। এর অর্থ হল, সালাতের সময় হয়েছে। আমি নামাজ পড়ার জন্য তাগিদ অনুভব করলাম আমি উদ্বেলিত হয়ে পড়লাম। আমি কুরআন পড়ছিলাম!
আমি সেরকম হবো কেন? কারণ যখনই আমি কুরআন পড়ছিলামনা আমার অবসাদ আসতে থাকে। আমার মাথায় প্রাক্তনের কথা ঘুরে। তার চেহারা আমার সামনে ভেসে উঠে আর সেসব স্মৃতি আসতে শুরু করে। আমার মনে হল, না না না আমার কুরআন পড়া উচিৎ। তাই, আমি বসে পড়তাম, অন্যেরা কথা বলতো বা এমন কিছু। আমি সেসব শুনতাম না। শুধু কুরআন পড়তাম। কুরআন পড়ছিলাম। শুধুমাত্র তাকে চিন্তা না করা উদ্দেশ্যেই কেবল অনুবাদ, তাই না? হ্যাঁ, কুরআনের অনুবাদ। আমি কুরানের অনুবাদটা পড়ছিলাম শুধুমাত্র আমার প্রাক্তন কে ভুলে থাকার জন্য। তো আমি এটা পড়ছিলাম। পড়ছিলাম কিন্তু সেই কাজটি করার সময়, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ধীরে ধীরে আমার অন্তর খুলে দেন। কারণ, আমি তখনও পড়ছি, ঠিক আছে? আমি তখনও বোধ-জ্ঞান সম্পর্ক একজন মানুষ, যে কিছু জিনিস বুঝতে পারে, তাই না?
আর আল্লাহ কুরআনের এই অনুবাদটি কোনো উদ্দেশ্যেই আমার হাতে তুলে দিয়েছেন, কুরআনের একটি ইংরেজি অনুবাদ। আমি খেয়াল করলাম, আমি যখনই কোন আয়াত পড়তাম, এমন যে একটা পড়তাম আর তারপর ভাবতে শুরু করতাম যে, “আচ্ছা, এর মাধ্যমে তিনি কি বোঝাতে চেয়েছেন?" “এই আয়াতের অর্থ কি হতে পারে?” আমি চিন্তার পরিধি বাড়াতে থাকলাম আর নিজের ফোনের দিকে তাকাতে লাগলাম। আমার ফোন বন্ধ। ওয়ালপেপার, স্ক্রিন বন্ধ হয়ে যেত। যেমনটা হয় ফোনকে দীর্ঘ সময় অব্যবহৃত অবস্থায় ফেলে রাখলে। মনে আছে, আমার ক্ষেত্রে এটা ১৫ মিনিট ছিল, আমি নিজের চিন্তায় মগ্ন ছিলাম, সেই আয়াত নিয়ে একটানা ১৫ মিনিট চিন্তা করতাম। যখন ফোনের দিকে তাকাতাম, সেটা বন্ধ। আমাকে সেটি অন করতে পাসওয়ার্ড দিতে হতো। আমার মনে হল, "বাহ, এটাতো একটা শক্তিশালী জিনিস।" এই অবস্থায় আমি অনুভব করলাম যে, স্রষ্টার কাছ থেকে প্রেরিত কোন বই যদি থেকে থাকে, তাহলে এটাই সেটা। কিন্তু আমি পুরোপুরি সন্তুষ্ট ছিলাম না। তো, আমি পরীক্ষা করতে দেখলাম। আউযুবিল্লাহ, আমি পরীক্ষা করে দেখতে চাইলাম। নিজেকে বললাম, “ আজকে পরীক্ষা করার জন্য, আজ আমি কুরআন পড়ব না। নামাজও পড়ব না। আজকে মজা করে বেড়াব।" রোজা রাখব অবশ্যই। তবে, মজা করব আর কোন ইবাদত করব না। বাকি ইবদতগুলো আমি করব না। আমার ভাই আমি মজা করছিনা আল্লাহর কসম, আমি মজা করছিনা। এর সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত না থাকার ১০ মিনিটের মধ্যেই, আমি গোসলের জন্য গেলাম, আগের সব চিন্তাগুলো আমার মাথায় ফিরে আসতে লাগল। অবসাদের সেইসব স্মৃতিগুলো, সেই নারীর সব স্মৃতি। সবকিছু আমার স্মৃতিতে ফিরতে শুরু করল। আমি শাওয়ার বন্ধ করলাম, গা মুছে নিয়ে কোরআনটা পড়তে শুরু করলাম। এই কোরআনই একমাত্র উপায়। এই বই বাঁচার একমাত্র উপায়। আর আমি এটা পড়তে থাকি এটা আমার কাছে আরও বিস্তারিত হতে থাকে। আর আমি ভাবতে থাকলাম আল্লাহ সর্বশক্তিমান। আল্লাহ যেভাবেই হোক এটি প্রেরণ করেছেন। এটা হয়তো বজ্রপাতের সাথে পাঠিয়েছেন, যেমনটা মুসা (আ.) এর সাথে ঘটেছিল, দশটি সমাচার পাঠিয়েছিলেন। আমি জানি না কিভাবে, কিন্তু নবী মুহম্মাদ এর নিকট ওহী প্রেরনের ঘটনা আমি ঠিক নিতে পারছিলাম না। আমি বুঝে উঠতে পারছিলাম না। চিন্তা করলাম যে, স্রষ্টার গ্রন্থ এটি আর তিনি আমাদের শেখাচ্ছেন। আমি এটা পড়েই যাচ্ছি পড়েই যাচ্ছি আমি প্রভাবিত হচ্ছি। তারপর, এই আয়াতটা খুঁজে পেলাম এবং এর ফলে আমি নিজেকে প্রশ্ন করি আমার সম্পূর্ণ...
নিজেকে কিভাবে একজন মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করছি। আয়াতটি এমন , "জেনে রাখ, আল্লাহ তাআলার স্মরণেই চিত্ত প্রশান্ত হয়।” আর সেই সময় বলতে গেলে... শিহরণ অনুভূব করলাম। আমি আমার ফোন বন্ধ করলাম। ভাবলাম, "মোবাইলটি বন্ধ করতে হবে।" আমি জানিনা এই জিনিসটা কি? এটা কি ছিল? এটা কিভাবে জানল? এটা আমার মনের কথা কিভাবে জানল? এটা কিভাবে জানল যে, এখানেই আমার হৃদয় প্রশান্তি খুঁজে পাচ্ছে? এটা কিভাবে তা জানতে পারলো?
সেসময় আমি একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছালাম। আমি জানি না, এটা কিভাবে নাযিল হয়েছে। আমি এর জ্ঞানের পদ্ধতিও জানি না। আমি এর কিছুই জানি না। কিন্তু এটা স্রষ্টার বাণী, সুনিশ্চিতভাবে। এটাই স্রষ্টারই বাণী। তখন রমজান প্রায় শেষ হতে যাচ্ছিল। আমার ভ্রমণের শেষের দিকে। আমাকে এখন নিউইয়র্কে ফিরতে হবে। আবার সকল বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। এড়ানোর কোন উপায় নেই। তেমন কোন কিছুই নেই। আমি কুরআনের অনেকটাই পড়েছি এবং এখন এখানে মদ সম্পর্কে বলা কথাগুলো পড়ছি, যেসব বিষাক্ত দ্রব্যাদি নিয়ে এখানে বলা হয়েছে, এখানে জিনা সম্পর্কিত সব কথা পড়ছি। মনে হল, আচ্ছা একটু চিন্তা করে দেখি। বুঝতে পারছেন অবস্থা, আমি প্রায় দেড় মাসের মত পাকিস্তানে ছিলাম। আমার সব বন্ধুরা আমার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে। অবতরণের পর তারা আমাকে মদ পান করাতে চাইবে, তারা আমাকে মাতাল বানাতে চাইবে। তারা আমাকে নারীর সঙ্গে নিয়ে যেতে চাইবে তারা একটা পার্টি চায়। আর আমি ভাবছি যে, আমার নিজের কিছু প্রতিজ্ঞা করা উচিৎ, ঠিক আছে?
প্রথম প্রতিজ্ঞা হল: ফিরে আসার পর, আমি সালাত পড়া ছেড়ে দিব না। এই সালাত কি জিনিস আমি জানি না এটা কি, তবে সালাতের মধ্যে অবশ্যই শক্তি আছে। এরপর, আমি কুরআন পড়া কখনো বাদ দিব না। এবং এ অনুবাদটিকেও আমি ফেলে রাখব না। কারণ আমি ঐ নারীকে ভুলে যাওয়া এবং অবসাদ থেকে বের হওয়ার জন্য এই দুটি বিষয়কে যুক্ত করেছি। আল্লাহ, আমার সহায় হোন। আমি জানি না আমি কি করব। আমি ফিরে যাই। সবাই আমাকে দেখতে উদগ্রীব। তারা আমাকে বাইরে নিতে চায়। তারা আমাকে ঐসব কাজ করাতে চায়। আমি বাইরে গেলে তারা বলে যে, “আমরা তোমাকে জাগিয়ে তুলব।" তার মানে ধূমপান করতে হবে। "তোমাকে সারিয়ে তলবো, ভাই। এসো, এসো, এসো।” আমি সেখানে গেলাম তারা বলে, “ ইও একটি শট নাও।" তারা আমার জন্য মদ ঢেলে দেয়। নাও নাও ১-২-৩!
এবং আমি বললাম, "ইও মানে আমি পারব না।" তারা বলল, “তুমি এখনও শটটি পান করোনি।” তুমি ড্রিঙ্কটি স্পর্শও করনি। তুমি এটিকে যত্ন করে রাখছো? খেয়ে নাও! "তুমি কি এটা রেখে দিবে নাকি? চল, পান কর।" আমি জানি না কিভাবে তাদের বলবো। নিজেকে মনে হচ্ছিলো লুজার। অসাড় হয়ে রইলাম। "বন্ধুরা, আমি আর মদ পান করবো না।" তো, আমি করি নি। বললাম যে, "আমার ভাল লাগছে না। আমার পেটে সমস্যা। আমি এই মাত্র প্লেন থেকে নামলাম। জানি না কেন এমন লাগছে। ঠিক আছে।” দ্বিতীয়বার তাদের সাথে আড্ডা দিলাম। চল, ধূমপান করি। চল, শুরু করি। শুরু করি, বুঝলে?
বন্ধুরা, ধূমপান আর ঐসব শট নেওয়ার কোনরকম ইচ্ছা করছে না। ঠিক আছে। তৃতীয়বার, তারা আর আমাকে ডাকলোনা। তারা আমাকে ডাকা বন্ধ করে দিল। আমাকে বাজে দেখাতে লাগল। বোরিং হয়ে গেলাম। আমার একজন বন্ধু ছিল। এবার তার কাছে সব স্বীকার করলাম। মনে পড়ে, আমি গাড়ির মধ্যে ছিলাম। বললাম, ভাই... সে জিজ্ঞেস করল। অন্যরা তা করল না। কিন্তু সে জিজ্ঞেস করল। ভাই, আমি দেখছি তুমি মদপান করছো না। সেই নারীর কথা তোমার মনে আছে, যার সাথে তোমার সম্পর্ক ছিল। মানে, সব ঠিক আছে তো? সব কি ঠিক আছে?
আমি বললাম, “ব্রো আমি ইসলামকে জানার চেষ্টা করছি কুরআন পড়ছি আর আর আমার মনে হয় এসব আমার জন্য না।” সে বলল, “সত্যি?” আমি ভাবলাম এটা হয়তো সবচেয়ে বিব্রতকর বিষয় হতে চলেছে কিন্তু সে সন্তুষ্ট দেখে বিস্মিত হলাম। কিন্তু কে জানে তাদেরকে এসব জানালে, তারাও হয়তো বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে? এখান থেকে আমার প্রাপ্তি কি? মানে, এখানে আমি অনুভব করলাম যে, এইসব হারাম অর্থ অপচয় করে। আপনি আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করার জন্য আল্লাহর অসন্তুষ্টি কিনছেন। অর্থ খরচ করছেন, শুধু জাহান্নামের আগুনই কিনছেন না বরং মদ্য পানে অর্থ খরচ হচ্ছে। নারীতে, মাদকে অর্থ খরচ হচ্ছে। ধূমপানে অর্থ নষ্ট হচ্ছে। কিন্তু দোয়া একদম ফ্রি। সালাতও ফ্রি, ঠিক?
তাহাজ্জুদও ফ্রি, কুরআন পড়াটাও ফ্রি। যিকির করা ফ্রি। অবিশ্বাস্য। আমরা হারামের জন্য ব্যয় করছি। সবকিছুর জন্য ব্যয় করছি, অথচ আল্লাহ তা’আলা, এর সমাধানকে একদম ফ্রি করে দিয়েছেন। জানেন কি? সে এখনও আমার বন্ধু। সে বলল, “আমরা এখনও বাইরে যেতে পারি, তুমি সহায়ক বন্ধু হলেই হবে। তুমি আমাদের মনোনীত ড্রাইভার হবে, তাহলে আমরা ভালো একটা সময় কাটাব। আর আমাদের চিন্তা করতে হবে না, আমরা জানি তুমি ঠিক আর ভাল। আমি বললাম, ঠিকাছে বাড়িতে বসে থেকেই বা কি করব?
তো, ঐসব জায়গায় যাওয়াই যায়। আমি এখন বার এবং ক্লাবগুলোতে যাব। কিন্তু আর আমি নেশাগ্রস্থ হব না। এবার আমি ঐসবের কিছুই করবো না। আমি বারগুলোতে গেলাম ক্লাবগুলোতে গেলাম। আউযুবিল্লাহ, কিন্তু এবার আমি নেশাগ্রস্থ হইনি। বরং আমিই সেই দায়িত্বপ্রাপ্ত চালক। আর আমি সেইসব লোকদের দেখছিলাম বরং তাদের বিশৃঙ্খল দেখাচ্ছিল। তাদের দেখে মনে হচ্ছিল বিমোহিত। তাদের সবাইকে দেখে মনে হচ্ছিল মোহগ্রস্থ । তাদের দেখে মনে হচ্ছিল, তারা একে অন্যের মত হতে চাচ্ছে। এবং তারা সবাই একই দিকে আসছে। আমি ভাবলাম, আমি এখানে থাকতে চাইনা। এটা খুব ভয়ানক। তখন আমি বেরিয়ে এলাম। আমি বললাম, তোমরা তোমাদের কাজ কর, আমি বাইরে যাচ্ছি, আমি চাই না...
আল্লাহ আমার অন্তর থেকে এটা বের করেছেন, আমি আর ওখানে থাকতে চাই না। তো, আমি বারের এক কোণে বসে ছিলাম। এক নারী এসে আমার পাশে বসলেন। তিনি ওখানে ছিলেন। তার সাথে আমার পূর্ণ কথোপকথন হল। সে আমার সাথে কথা বলছে আর আমি তাকে ইসলাম সম্পর্কে না বলে পারলাম না। আমি বললাম, আমি এগুলো নিয়মিত পড়ছি, এটি কিয়ামত দিবস সম্পর্কিত, এরপর জান্নাতও আছে। আর যখন তুমি মারা যাবে তুমি জান্নাতে যেতে পারবে, আর তুমি চাইলে এখান থেকে বের হতে পার। আর এটা খুব সুন্দর বিষয়। আর আমাদের সৃষ্টিকর্তা আছেন। তিনি একজনই আর আমরা তাঁর কাছে ফিরে যাব তিনি জীবনে করুণা করেন, পরীক্ষা করেন। এবং এমন আরও অনেক কিছু এবং এসবকিছু কিভাবে আমাদের সত্যের আহ্বান এবং প্রকৃতি সম্পর্কে উদাসীন করে রাখে। এটা আমাদের স্বতঃস্ফূর্ততা হ্রাস করে। এটি আমাদের নিজেদের সেরা রুপে আসতে বাঁধা প্রদান করে। তারপর বুঝলেন, সে কাঁদতে শুরু করল। তিনি বারে এসেছেন এবং বাইরে সেই একই নারী, সে কাঁদতে শুরু করল। সে বলল, “এটা সুন্দর।” আমি বললাম, “তাই?” সে বলল, “আমার একটা প্রশ্ন আছে।” আমি পুরো সময়জুড়ে কথা বললাম, শুধু ইসলাম সম্পর্কেই কথা বলে গেলাম। "আমার কিছু প্রশ্ন ছিল।" আমি বললাম, "বল" সে বলল, “তুমি বিশ্বাস কর এগুলো সত্যি?" আমি বললাম, “হ্যাঁ।” সে বলল, “তুমি এখানে কি করছ?” আমি তাকে কি বললাম জানেন?
আমি জানি না। আমি শুধু বললাম, “আমি জানি না।” সে বলল, "তোমার এখানে থাকা উচিৎ না।" এখানে থেকো না। সেটাই ছিল শেষবার আমার বারে যাওয়া। অনুধাবন করলাম যে, আল্লাহ আমার মনে সেটির প্রতি আকর্ষণ রাখেন নি। আমি শুধু বাড়ি গিয়ে কুরআন পড়তে চাইলাম। এটাই আমার একমাত্র কাজ। কুরআনের অনুবাদ পড়া চলমান রাখ আর এসব নারীদের থেকে দূরে সরে যাও। তখনই এসব ঘটা শুরু করল। আর আমি কি অনুভব করলাম জানেন?
আমার এই জীবনে ভিন্ন পরিবর্তন প্রয়োজন, খুব জরুরি। আমি এই পথে থাকতে চাইলে, আমাকে আমার সমমনা লোকদের আশপাশে থাকার চেষ্টা করতে হবে, যারা এই পথ অর্জন করতে চায়। আর আমি তখন মসজিদে যাওয়া শুরু করলাম এবং আমি সেসব লোকেদের সাথে পরিচিত হলাম যারা আমার মত চিন্তা করছে এবং তাদের বিশ্বাস সম্পর্কে জানলাম। আর ভাবলাম, ও এটা তো ভাল। এমন লোকেদের আশপাশেই আমার থাকা উচিৎ। তাই, বিশাল ঘটনার সংক্ষেপ হিসেবে, আমি যদি বলতে চাই এটাই হচ্ছে আমার গল্প, আলহামদুলিল্লাহ। যে কিভাবে...
আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ আমার অন্তরে এবং জীবনে ইসলাম এনেছেন এবং আমাকে টেনে তুলেছেন। এবং তিনি যেন আমাকে সরল পথে রাখেন, কারণ এর থেকে পা পিছলে যাওয়া, বা জানেন তো মদপানে ফিরে যাওয়া, এবং ধূমপান আর নারী আসক্তিতে ফিরে যাওয়া সম্ভব। এবং যারাই এইগুলো এই মুহুর্তে শুনছেন, ঐসব বন্ধু আর পরিবেশ থেকে দূরে সরে যান। আমাদের জন্য, জাহিলিয়াতের মত জীবন-যাপন করা যেমন বাইক চালানোর মত কাজ। আমরা দ্রুতই সেগুলোতে ফিরে পেতে পারি। আমাদের পরিবেশ পরিবর্তন করতে হবে, ঐসব মানুষ থেকে হিজরত করতে হবে। সেই একইভাবে যে লোকটি ৯৯ জনকে হত্যা করেছিল, বুঝলেন?
তারপর মোট ১০০ জনকে হত্যা করল, তারপর একজন আলেমের উপদেশ গ্রহণ করল। আলেম বললেন, “আল্লাহ ক্ষমা করবেন, কিন্তু তোমাকে হিজরত করতে হবে।” এগুলো থেকে দূরে সরে যাও। নতুন জীবন শুরু কর। তোমার অতীত না জানা লোকের সাথে বসবাস কর, যারা সেগুলো স্মরণ করাবে না। ইও কি অবস্থা ব্র? তুমি মদপান, ধূমপান বন্ধ করে দিয়েছ। না, না, না। আরেক বার এসো। একবারের জন্য এসো একবার। মাত্র একবার। আমার জন্য এক শট। তোমাকে এই জীবন থেকে দূরে থাকতে হবে। ওইসব হারাম হতে দূরে থাকার এটা একমাত্র উপায়। আল্লাহ তা’আলার সাথে সম্পর্ক তৈরি কর। আল্লাহর কসম, এটি অবশ্যই কঠিন হবে, কিন্তু আল্লাহ সেটিকে সহজ করে দিবেন, ইনশাল্লাহ। তাহলে, তখন আপনার জীবনের উদ্দেশ্য কী ছিল? আপনি তারপর রাস্তায় দাওয়াহ করতে লাগলেন। আমাদের সেই দিনগুলোর সম্পর্কে বলবেন?
এটা এমন যেন আপনার ভালবাসার আদরের জন্য কিছু একটা আছে। আপনি এই বিষয়ে কথা বলতে চান, ঠিক?
এটাই স্বাভাবিক। আমরা যখন কিছুকে ভালবাসি, আমরা সেটার গবেষণা করি। এটা আমাদের ফিতরাতেই আছে যে, আমাদের ভাললাগার বিষয়গুলো নিয়ে আমরা জ্ঞানার্জন করি। শুধু ভালোবাসার কারণেই আমরা সেটি নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জ্ঞান অর্জন করি। আমি যখন ইসলাম সম্পর্কে জানতে শুরু করি তখন আলহামদুলিল্লাহ। আলহামদুলিল্লাহ। মাশাআল্লাহ। আল্লাহর ইচ্ছায়, তিনি আমার অন্তরে সেই ভালবাসা দিয়ে দিয়েছিলেন। এর প্রতি আমার ভালবাসার কারণ হলো, আমি জানতাম, এটি সত্য আর এটা কতটা কার্যকরী। কারণ ব্যক্তিগতভাবে, ইসলাম আমার অবসাদ দূর করেছে। আমাকে মুক্তি দিয়েছে। কুরআনের অনুবাদ, কুরআন তিলাওয়াত করা। আমার অবসাদ দূর করেছে। আমি জানি এটা কতটা শক্তিশালী বাস্তবিকভাবেই। আমি জানি কত মানুষ গোপনে অবসাদগ্রস্থ, যারা এই ওষুধের কথা জানেও না। তাদের এই ওষুধটা দরকার। তাদের চিকিৎসা দরকার। আর আল্লাহ যদি আমার মাধ্যমে এটা পুরো বিশ্বের কাছে পৌঁছে দেন, তাহলে, এটিই কি আমার জীবনের উদ্দেশ্য নয়?
আর যদি সেটিই হয়, তাহলে আল্লাহ আমার উপর তোমার করুণা অব্যাহত রাখো। এই দ্বীন প্রচারে আমাকে ব্যবহার কর আর প্রতিটি গৃহে এটা পৌঁছানোর ব্যবস্থা কর। আপনার এই প্রত্যাবর্তনের কত বছর হল?
আমার মনে হয়, ১২ বছর ধরে এটা চলছে। আলহামদুলিল্লাহ। আমি এখনো শিশু। আমি এখনও ১২ বছর বয়সী ছোট শিশু। বলতেই হবে, ১২ বছর হল। দেখুন, উত্থান-পতন আছেই। আর সেটা এখনও রয়ে গেছে। আলহামদুলিল্লাহ, আমরা এখনও দ্বীনে, তাওহীদের রাস্তায় আছি আমারা আর এটিই জরুরি বিষয়। পা পিছলাবে। সব এলোমেলো হয়ে যেতে পারে। বছর বছর ধরে চলা এত জাহিলিয়াহ রাতারাতি ত্যাগ করা যায়না। আপনি বিচ্যুত, পরীক্ষিত হতে পারেন। কিন্তু আল্লাহ তা’আলা হলেন গাফুরুর-রাহিম। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ক্ষমা করবেন। এমন জাহিলিয়াতের মধ্য দিয়ে গমন করা আর এর থেকে উত্তরণ পাওয়া ব্যক্তিগণ, আপনি বিচ্যুতি হতে পারেন, কিন্তু আল্লাহ ক্ষমা করবেন। শয়তান বলবে, আপনি ক্ষমা পাবেন না। শয়তান বলবে, আপনার কোন আশা নেই। সে বলবে, আপনি কপট, মুনাফিক। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তওবাকারীদের ভালবাসেন। তো, আল্লাহর কাছে তওবা করুন। তিনি সবকিছু ক্ষমা করে দেবেন। আন্তরিকভাবে আপনার গল্প বলার জন্য ধন্যবাদ। আমরা অনেক কিছু জানলাম। আমরা এই গল্প থেকে অনেক অনুপ্রাণিত হয়েছি। আল্লাহ এই উম্মাহর জন্য কৃতজ্ঞ আপনার সকল কাজের বিনিময় দান করুন। যাযাকাল্লাহ খাইরান। স্বাগতম, আপনাকে আর সকল দর্শককে ধন্যবাদ। আল্লাহ আপনাদের সহায় হোন। আল্লাহ তা’আলা সবার ঈমান বৃদ্ধি করুন। আল্লাহ তা’আলা এই চ্যানেলটিকেও বিনিময় দান করুন, কারণ এটি সত্যিই অসাধারণ। চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করতে ভুলবেন না।
এটা অবিশ্বাস্য! আর তারপর আমি এই আয়াতটি পেলাম। এটা কি করে তা জানতে পারলো? জানার তো কোন উপায় নেই। তাহলে কিভাবে জানল? আসসালামু আলাইকুম, ব্রাদার এসকিউ। আমাদের আমন্ত্রণ গ্রহণ করার জন্য ধন্যবাদ। আপনাকে পেয়ে আমরা খুব খুশি। ব্রাদার এসকিউ এর পরিচয় দিয়ে শুরু করতে চাই। আপনার জীবন সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু বলতে পারেন?
আমি নিজেকে ব্রোঙ্কসের একজন এতিম, সাধারণ মানুষ হিসেবে পরিচয় দিতে চাই। বিনীত সূচনা। আমার পরিবার, বাবার সাথে অনেক অনেক কিছু ঘটেছে। পারিবারিক সংঘাত, অনাচার। আমি আসলে একজন শরণার্থী। মানুষ এটা জানে না, কারণ আমার বাবা, সুবহানাল্লাহ, খুবই অত্যাচার করতেন আমাকে, আমার মা কে, আমার বোনকে। যা করতেন কী বলবো। সুবহানাল্লাহ। দিনের পর দিন এই অত্যাচার বাড়তেই থাকল বাড়তে বাড়তে বাড়তে বাড়তে এমন অবস্থা যে, আমাদের জীবন ঝুঁকিতে ছিল। একদিন, যখন তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন, আমরা, আমরা তখন পালালাম। আমি নিউইয়র্কে চলে এলাম, নিউইয়র্কে, ১০ই সেপ্টেম্বর ২০০১ এ। ৯/১১ এর কয়েক ঘন্টা আগে। এমনটা না যে আমি ৯/১১ সম্পর্কে জানতাম না, বরং এটি আমার জীবনকে সম্পূর্ণ বদলে দেয়। কেউ যদি সাদা চামড়ার না হতো আর যদি সে একটু আলাদা হতো, তাহলে তাকে উপহাস করা হতো তাকে বিদ্রুপ করা হত। আপনি এসবই দেখতে পাবেন। স্কুলের প্রথম দিনের কথা মনে পড়ে, সবার ভাব এমন ছিল যে, “ইও, বিন লাদেন কোথায়?” সবাই অবহেলা করতো। তারা শিশু, বুঝলেন?
তারা তাদের পিতামাতার কাছ থেকে শুনেছে আর সংবাদে প্রচারিত বিষয়গুলো জানত। ইসলামোফোবিয়া তখন ছিল ভয়াবহ। যদি ভাবেন, এখন অবস্থা খারাপ, তখনের মানুষ ছিল অজ্ঞ। আর আমি সেটিকে যুক্ত করতাম ইসলামের সাথে। যেমন, এই বিষয়টি আমার ব্যাপক সমস্যা করেছে, যার সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা আছে বলে আমি মনে করি না। যেমন, আমি কিচ্ছু করিনি....
পুরো বিষয়টির সাথে আমার কোন সম্পর্কই নেই। তারা আমাকে এমন বিষয়ের সাথে জুড়ে দিচ্ছে, যার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। এগুলো দিয়ে আমার কোন কাজ নেই। আমি ভাবতাম, ইসলাম এবং সন্ত্রাস এক। ইসলাম এবং সন্ত্রাস এক। আমি এটাই বিশ্বাস করতাম। হ্যাঁ, মুসলিমরা সন্ত্রাসী। যদিও আপনি নিজেই একজন মুসলিম। হ্যাঁ, তাও সেটা বিশ্বাস করতাম। এসব দেখে বেড়ে ওঠা এক শিশু হিসেবে, আমি ইসলামের বিষয়ে আগ্রহী ছিলাম না। মানুষ জানতে চাইতো আমার জন্মস্থান। আমি বলতাম আমি পুয়ের্তোরিকান। আমি বলতাম, আমি ডমিনিকান। আমি এমনকি, এমনকি এও বলতাম যে, আমি মেক্সিকান কিন্তু আমি যে পাকিস্তানী, সেটা বলতাম না। নিউইয়র্কে, আমাদের স্কুলে মেটাল ডিটেক্টর ছিল। সেটা আমার কাছে বিরক্তিকর মনে হত। তো আমি নিশ্চিত করতাম যে, আমার কোন প্রকার সমস্যা হবে না। কেন?
কারণ, আমি যদি চোঁখ বন্ধ করি আমি শুনতে পাব "হ্যাঁ, ওর কাছে বোমা আছে।" "তুমি সন্ত্রাসী।" সেটা ছিল আমার ছদ্মনাম। সন্ত্রাসী ছিল আমার ছদ্মনাম। এখন আমার জায়গায় নিজেকে ভাবুন, যার বয়স ১৪ বা ১৫ বছর। আপনি কি মুসলিম হতে চান?
অবশ্যই না। একদম না। মুসলিম হওয়াটাই একমাত্র অপরাধ, যা আমাকে সুখ থেকে বঞ্চিত করেছে। এমনটাই অনুভব আর বিশ্বাস করতাম। মুসলিম হওয়ার কারণেই আমি অসুখী ছিলাম। এর থেকে দূরে সরে যেতে হবে। তো যাহোক, আমি নফসের চাওয়া পূরণ করলাম। আমি নারী চাইলে, আমি পেতাম। আমি মাদক চাইলে, সেটা পেতাম। শুরুতে ছিল এটি মজার জন্য, কিন্তু পরে চাহিদা আরও বাড়তে থাকে। কিন্তু এর মাধ্যমেই আমি আমার জীবনে সত্যিকার হতাশাগ্রস্থ হই, হতাশার সর্বোচ্চ স্তর- অবসাদে হতাশায় ভরে যায়, এর মাধ্যমেই আত্মহত্যার সিদ্ধান্তের দিকে এগিয়ে যাই। মূলত একারণেই আমি ইসলাম থেকে আরও দূরে সরে যেতে থাকি। আমার মা, সুবহান আল্লাহ, যখন হাটতেন, আমি যদি আমার মায়ের সঙ্গে হাটতাম, আমি তার পিছু পিছু হাটতাম, বেশ দূরত্ব রেখে। যেন মানুষ জানতে না পারে, তিনিই আমার মা। এটি ছিল নির্মম। আমি এটা গর্বের জন্য বলছি না, বরং আমি শুধু বলছি, যেটা আমার অভিজ্ঞতা হয়েছিল। আমার মাকে অনেক কিছু সহ্য করতে হয়েছে, কারণ, আমার এখনও মনে আছে, আমরা প্রতিবাদী তরুণ ছিলাম। তখনও সেটা যৌক্তিক ছিল, বুঝলেন?
আমার বলা সকল কথা, জাহিলিয়াত এবং হারাম, সবকিছুই আমার মাকে সহ্য করতে হয়েছে। আমি যখন অনেক রাত পর্যন্ত ক্লাবে থাকতাম, আমার মা নির্ঘুম রাত কাটাত। যখন আপনি বাসায় আসেননা বুঝানো যাবে না, অন্যরা তা বোঝে না, আল্লাহর কসম। আমি যদি জান্নাতে যাই, সেটা হবে মায়ের জন্য। আমার মা আমার জন্য অনেক দোয়া করতেন। অনেক দোয়া করতেন, ভাই। তিনি দোয়ায় বলতেন, "আল্লাহ তাকে পথ দেখাও।" এবং রাতারাতি ঠিক হয়ে যায়নি। এটা দু-এক মাসে ঘটেনি। বছর লেগেছে। অনেক সময়। জানেন, যখন তিনি আসলেন। তার প্রাতিষ্ঠানিক কোন শিক্ষা বা অন্যকিছু ছিল না। তিনি গ্যাস স্টেশনের মত জায়গায় কাজ করতেন। গভীর রাতের শিফটে। রাতের বেলাতে, ভাই, রাতের বেলায়। যখন সবচেয়ে খারাপ মানুষগুলো বাইরে থাকে। গ্যাস স্টেশনে একজন নারী। তিনি সেখানে কাজ করতেন আর তার ছেলে উপার্জনের টাকায় নিজের জন্য কিনতে বাধ্য করত দামী দামী সব জিনিসপত্র। "তুমি আমাকে এসব কি জিনিস দিচ্ছ?
স্কুলে সবাই এসব দেখে হাসে। এইগুলো কেমন স্নিকারস? তুমি যদি শিক্ষিত হতে! আমি এ কেমন মা পেয়েছি? তোমার যদি একটু শিক্ষা থাকত! আমাদের সাহায্য করার মত কিছু কর।" চিন্তা করুন। মানুষ আমাকে মায়ের পেশার কথা জিজ্ঞেস করত। আমি আমার মাকে নিয়ে বিব্রত হতাম। আমি তাকে নিয়ে লজ্জিত ছিলাম। তিনি কি এমন কাজ করেন যে, মাথার উপর একটা ছাদ দিতে পারছেন না। আউযুবিল্লাহ, আমি কি রকম সন্তান ছিলাম? ঐ সময়ে আপনার চিন্তা-ভাবনা কি রকম ছিল? সেই অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে পারবেন? আপনি কি সেই জীবনধারা নিয়ে খুশি ছিলেন? শেষ পর্যন্ত মনে হল, আমি সেই নারীকে পেলাম, আমি তাকেই চাই, তিনিই সেইজন, বুঝলেন?
কিন্তু সমস্যাটা হল, তার একটা বয়ফ্রেন্ড ছিল। কিন্তু তার জন্য আলহামদুলিল্লাহ। তিনি যেখানেই থাকুন, যার সাথেই থাকুক না কেন, আল্লাহ তাকে পথ দেখান রহম করুন। তার জন্যই আমি ইসলামে ফিরতে পেরেছিলাম। কারণ, সম্পর্ক ভাঙ্গার পর, আমি তার জন্য অনেক স্মৃতি রোমন্থন করতে লাগলাম, কিন্তু যখন তার প্রতি আমার আনুভূতিগুলো গভীরভাবে জড়িয়ে যায়, মনে হতো, তুমি সেই ছেলেটার সাথে কখন সম্পর্ক ভাঙ্গবে? যতক্ষণ না আমার মন একদম ভেঙ্গে যায় ব্রো। তখন মনে হল, আমাকে এসব শেষ করতে হবে। যতক্ষণ না আমার মন একদম ভেঙ্গে যায় ব্রো। তখন মনে হল, আমাকে এসব শেষ করতে হবে। তো আমি শেষ করলাম, বুঝলেন? আমি সেই সম্পর্কচ্ছেদ করে আমি আমার নিয়ন্ত্রণকারীর কাছে ফিরে গেলাম, আমি মাদকের কাছে ফিরে গেলাম। মানুষ কেন অবসাদকে ভুলতে চায়?
আমি কারণটা বলছি ভাই। কারণ আপনার কাছে সবই আছে। কিন্তু শুধু আপনার কাছে আল্লাহ নেই। তো আপনার কিচ্ছু নেই। আপনি বোঝতে পারবেন আপনি নিঃস্ব, কারণ আপনার জীবনে আল্লাহ নেই। তো আমি হাইওয়েতে ছিলাম, গাড়ি চালাচ্ছি, ঘণ্টায় ৭৫, ৮০ কি.মি গতিতে। আর আমি গাড়ির ফ্লোরে পা রাখলাম, আমার হাত স্টেয়ারিং এ আর আমি আমার চোঁখ বন্ধ করলাম। পাঁচ। চার। তিন। দুই। এক। আমি এখনও এখানে। আশা করছিলাম সংঘর্ষ হবে। মন চাইছিল যেন, কিছু একটা ঘটুক। কারণ আমি শেষ। আমি এসবের কিচ্ছু চাই না। আপনি এ অবসাদ থেকে কিভাবে বের হলেন?
আমার মনে হয় আমার ক্ষেত্রে, এই অবস্থা থেকে বের হওয়ার আগ পর্যন্ত আমি বিষয়টি অনুভব করিনি। তারপর আমি বুঝলাম, অনেকদিন ধরে অবসাদগ্রস্থ ছিলাম। জানেন, আমি স্মরণ করলাম, আমার বিস্ফোরণের সময় চলে এসেছিল, সবকিছু আমার সহ্যের বাইরে চলে যাচ্ছিল। আমি অসুখী। আমি জেগে উঠলাম..... আর আমার স্পষ্টভাবে মনে আছে। আমি গোসল করছিলাম। আমি তখন আমার বাথটাবে গোসল করছিলাম। পানি পড়ছে আর আমি এদিকে বাথটাবে কেঁদেই চলেছি। আমি কাঁদছি। বাইরে থেকে দেখলে গেলে মনে হবে, আমার অর্থের প্রবাহ দারুণভাবে চলছে। নারীর আগমনও সেভাবে ঘটছে। মা*ক, অ্যা**হল, পার্টি, আমার জনপ্রিয়তা, আমি যা কিছু চাইতাম সবকিছু, বুঝলেন?
জনপ্রিয়, পরিচিত হতে চাইতাম। আমি পার্টির প্রাণ ছিলাম। আমি ভিতরে গেলেই তারা বলত, “ও সে চলে এসেছে।” "সবাই ওঠ!" এটা আমি ছিলাম। এই লোক টয়লেটে বসে কাঁদছে। এই লোক বাড়ি ফেরার পথে কাঁদছে। এই লোকটি আত্মহত্যা করতে চায়। কিছু মানুষ আছে আত্মহত্যা করার পর বলে "আমি তার সাথে কথা বলেছিলাম, সে সুখি ছিল।" জানেন, কেউই আত্মঘাতী চিন্তা প্রদর্শন করে না। আসলে, এটা এভাবে হয় না। কিন্তু শয়তান আপনাকে প্রভাবিত করতে থাকে। কারণ, তার জন্য আপনার আত্মহত্যা করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সেটি জাহান্নামের এক্সপ্রেস, ভিআইপি, প্রথম শ্রেণির টিকেট। আপনি কি করছেন?
শয়তান এভাবেই জেতে। তো আমি বাথটাবে ছিলাম। অনবরত কাঁদছিলাম। আমি আত্মঘাতী অবস্থায় ছিলাম। কাঁদছি, কাঁদছি, আর কাঁদছি। তারপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর কাছে দোয়া করার অনুপ্রেরণা জোগালেন। কিন্তু আমি জানতাম না যে, আমি দোয়া করছিলাম। আমি শুধু বলছিলাম, যে, "যদি এর বাইরেও কিছু থেকে থাকে, তাহলে আমাকে এখনই এই অবস্থা থেকে মুক্ত কর। দোয়া শেষ হতেই আমাকে এখান থেকে মুক্ত কর, এই স্থানকে সঠিক গতিপথে নিয়ে যাও। আমাকে সঠিক পথ প্রদর্শন কর। কিছু নির্দেশনা দাও, আমাকে কিছু দাও, যেন আমার এই অভিজ্ঞতা না হয়। যদি না হয়, এখানেই সব শেষ করে দাও, এখানেই সব শেষ কর। এসব দিয়ে আমার কাজ নেই।" তো আলহামদুলিল্লাহ, সেই গোসলটাই আমার জীবন বদলে দেয়। বের হলাম আর তখনই সেসময় আল্লাহ আমাকে উদ্দীপ্ত করলেন। কিন্তু আমি তখন সেটা জানতাম না। আল্লাহ আমাকে উদ্দীপ্ত করলেন, মানে পাকিস্তান ভ্রমণের জন্য বুঝলেন?
আমার পরিবার আছে, তাহলে কেন না সেখানে যাই? ভালো আমি দেখলাম, আমার মা-ও পাকিস্তানে যেতে চাচ্ছেন। আর একলা একলা। আমি বললাম, " মা আমাকেও সাথে নাও প্লিজ।" আর সেই সময় আমি অনুভব করলাম যে, আমাকে আরও গভীর অর্থবহ কিছু খুঁজে বের করতে হবে। তো, আমি তখন বিভিন্ন ধরনের বই আর বিভিন্ন মতবাদ খুঁজতে থাকলাম। চিন্তা করতে থাকলাম কিভাবে আমার অনুভূত ঝড়টিকে স্তিমিত করা যায়। কারণ, তখন আমি বুঝতে শুরু করেছি যে, সেটা স্বাভাবিক ছিল না। এটা ছিল অনেক গভীর। তো প্রথম যে বইটি আমি দেখছিলাম, সে বইটির নাম ছিল, ‘দ্য সিক্রেট’। এই অভিব্যক্তি, এই ভাল উদ্যম, 'ভালো চিন্তা-ভাবনা করলে, সব ভালো হবে', ঠিক আছে? তো পৃথিবী, আমাকে সাহায্য কর পৃথিবী। বিশ্বকে ডেকে ডেকে, বিভিন্ন ধরনের লক্ষন দেখে বাতাস বইছে, এটা একটা ভাল লক্ষণ। এটা এসব কি বলছে?
আমি বুঝলাম, এতে ভুল আছে। কারণ, যদিও আমি সেটা অনুধাবন করছি, আমার সত্যিকার অবসাদ এটা এখনও যাচ্ছেনা। ঐ নারীর চিন্তা আমার হৃদয় থেকে চলে যায়নি। বরং, সেটি বারবার ফিরে আসছে আর আমাকে এটা থেকে মুক্ত হতে হবে। তো, একদিন আমি একটা বইয়ের দোকানে গেলাম, এবং বৌদ্ধ ধর্মের একটা বুদ্দিজম বই পেলাম। এবং এতে বৌদ্ধ ধর্মের সাতটি নীতির কথা আলোচনা আছে, সুখের নীতি এবং এই ধরণের নীতিসমুহ। আমি সেসব ধ্যানের কৌশলগুলো অনুশীলন করার বার বার চেষ্টা করতে থাকলাম। কিন্তু আপনি কিভাবে শুধু চোঁখ বন্ধ করে এ সকল চিন্তা থেকে মুক্ত হতে পারেন, চিন্তা করে, শ্বাস নিয়ে আর এসব জিনিসের প্রতি খেয়াল রেখে। কিন্তু এটা শেষ হয় না, কারণ, এটা আপনাকে গ্রাস করে রেখেছে। আপনার মনে হয় ধনাত্মক চিন্তা করা উচিৎ। এতে কাজ হচ্ছে না। তখন, আমি একটি বাইবেল হাতে তুলে নিলাম। আর পড়তে শুরু করলাম, জেনেসিস এবং সেইসব বই পড়তে শুরু করলাম। তো, সেটি পড়তে থাকলেও, আমি কিছু ভুল দেখতে পাচ্ছিলাম। কিন্তু আবারও, সেটি আমার অন্তরে কোন প্রভাব ফেলেনি। সত্যিই করেনি। এতে আমার অবসাদ এক ফোঁটাও দূর হয়নি, সেই নারীর স্মৃতি যা আমি সারাক্ষণই ভাবতে থাকি, আমি তাকে কখনই ভুলতে পারিনা। ২৪ টা ঘণ্টাই আমি তার কথা ভাবতে থাকি। এই অবস্থায়, আমি হাল ছেড়ে দিলাম। আমি একেবারেই হাল ছেড়ে দিলাম। আমি বললাম, এসব দিয়ে কিচ্ছু হবে না। এসব অর্থহীন, সবকিছুই। এসব বুদ্ধিজম, কেউ একজন লিখেছে। আর সেই মানুষ সকলকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। ধর্ম বিষয়টা পুরোটাই মিথ্যা, পুরোটাই। আমার মন এমনটাই বলছে। তো সেই মুহূর্তে আমি পাকিস্তান যেতে চাই। এবং হঠাৎ করেই, তখন কয়েকদিন পরেই রমজান ছিল। সে সময় রোজা শুরু হতে চলেছে। আমার মা সেখানে আসলেন, আমার মা সেখানে এসে বললেন, "দেখ, রামাদান শুরু হতে চলেছে আর তুমি রোজা রাখবে। আর নামাজ পরতেও চেষ্টা করো, কারণ, আল্লাহ শুধু চান না তুমি শুধুই অভূক্ত থাক। তাঁর এটার প্রয়োজন নেই। তো সালাতকে অন্তর্ভূক্ত কর আর সালাত আদায় কর। কারণ, তুমি যদি রোজার সত্যিকারের ফল পেতে চাও, নামাজ পড়।" তো আমি নামায পড়তে জানতাম না। আমার মা আমাকে এসব বলল আর তা আমার হৃদয়কে ছুয়ে গেল। আমি আমার মত করে নামাজ পড়তে থাকলাম। যাহোক, আমি ভাবছিলাম যে, আমার নামাজ পড়তে হবে রোজা রাখার সময়, এটা ছিল আমার প্রথম রামাদান। এবং আমি ডাউনলোড করলাম কুরআন এ্যাপ আমার ফোনে। এমনকি আমি বইটাও পাইনি। অন্য সবাই যেমনটা করে যে, বইয়ের দোকানে যেয়ে সেটা কিনলাম, তেমনটা নয়। আমার মনে হল, "এটা ডাউনলোড করা যাক।" আর নামাজের পর আমি এটা পড়তে শুরু করলাম। এর মূল বিষয়গুলো। সুরা ফাতিহা। প্রথমে সেটিতে চোঁখ বুলালাম। পৃষ্ঠা উল্টিয়ে দেখলাম, "ও এখানে অনেক অধ্যায় রয়েছে।" আচ্ছা, যেকোন এক জায়গা থেকে শুরু করা যাক। সুরা ফাতিহা থেকে পড়া শুরু করলাম। শুধু ইংরেজিতেই পড়তাম, আমি আরবি পড়তে জানতাম না। আমি শুধু পড়েই যাচ্ছি। পড়ে যাচ্ছি, ঠিকাছে এর পরেরটাতে গেলাম। সুরা আল-বাকারা। আমি এটা পড়ছি। ও ঠিকাছে। ২০ মিনিট পাড় হয়ে গেল আর মনে হলো আরে দাড়াও। আমি ঐ মেয়টির কথা একবারো চিন্তা করিনি শেষ ২৫ মিনিটে একবারও?
এটা অবিশ্বাস্য!
আপনাকে এটা বুঝতে হবে, ভাই। এটা আমার জন্য একটা ওহী ছিল। আমি সেই নারীর কথা চিন্তা না করে ৫ টা মিনিট সময় অতিবাহিত করতে পারতাম না, তার খেয়াল আমাকে সব কাজ থেকে বিচ্যুত করত। মনে হল, আরেকটু পড়ি। এটা তো দারুণ। আল্লাহর কসম, আমি কুরআনকে শুধু ব্যবহার করছিলাম, আউযুবিল্লাহ। যাতে, আমি নিজে উপকৃত হই আর মেয়টাকে ভুলতে পারি, যাতে তার কথা না ভাবি। আমি তার চিন্তা এড়াতে কুরআনকে ব্যবহার করছিলাম। আমি এজন্যই কুরআনকে ব্যবহার করছিলাম। কুরআন মেয়েটির চিন্তা থেকে, আমার প্রাক্তন সম্পর্কে চিন্তা করা থেকে আমাকে বিচ্যুত করার একটা উপায় ছিল। প্রাক্তনের কথা চিন্তা না করতে আমি এটা ব্যাবহার করছিলাম। পড়ার সময় মনে হত যে, আমি গুপ্তধন পেয়েছি। আমি পেয়েছি, গুপ্তধন পেয়েছি। ইতোমধ্যে আযান শুরু হল। এর অর্থ হল, সালাতের সময় হয়েছে। আমি নামাজ পড়ার জন্য তাগিদ অনুভব করলাম আমি উদ্বেলিত হয়ে পড়লাম। আমি কুরআন পড়ছিলাম!
আমি সেরকম হবো কেন? কারণ যখনই আমি কুরআন পড়ছিলামনা আমার অবসাদ আসতে থাকে। আমার মাথায় প্রাক্তনের কথা ঘুরে। তার চেহারা আমার সামনে ভেসে উঠে আর সেসব স্মৃতি আসতে শুরু করে। আমার মনে হল, না না না আমার কুরআন পড়া উচিৎ। তাই, আমি বসে পড়তাম, অন্যেরা কথা বলতো বা এমন কিছু। আমি সেসব শুনতাম না। শুধু কুরআন পড়তাম। কুরআন পড়ছিলাম। শুধুমাত্র তাকে চিন্তা না করা উদ্দেশ্যেই কেবল অনুবাদ, তাই না? হ্যাঁ, কুরআনের অনুবাদ। আমি কুরানের অনুবাদটা পড়ছিলাম শুধুমাত্র আমার প্রাক্তন কে ভুলে থাকার জন্য। তো আমি এটা পড়ছিলাম। পড়ছিলাম কিন্তু সেই কাজটি করার সময়, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ধীরে ধীরে আমার অন্তর খুলে দেন। কারণ, আমি তখনও পড়ছি, ঠিক আছে? আমি তখনও বোধ-জ্ঞান সম্পর্ক একজন মানুষ, যে কিছু জিনিস বুঝতে পারে, তাই না?
আর আল্লাহ কুরআনের এই অনুবাদটি কোনো উদ্দেশ্যেই আমার হাতে তুলে দিয়েছেন, কুরআনের একটি ইংরেজি অনুবাদ। আমি খেয়াল করলাম, আমি যখনই কোন আয়াত পড়তাম, এমন যে একটা পড়তাম আর তারপর ভাবতে শুরু করতাম যে, “আচ্ছা, এর মাধ্যমে তিনি কি বোঝাতে চেয়েছেন?" “এই আয়াতের অর্থ কি হতে পারে?” আমি চিন্তার পরিধি বাড়াতে থাকলাম আর নিজের ফোনের দিকে তাকাতে লাগলাম। আমার ফোন বন্ধ। ওয়ালপেপার, স্ক্রিন বন্ধ হয়ে যেত। যেমনটা হয় ফোনকে দীর্ঘ সময় অব্যবহৃত অবস্থায় ফেলে রাখলে। মনে আছে, আমার ক্ষেত্রে এটা ১৫ মিনিট ছিল, আমি নিজের চিন্তায় মগ্ন ছিলাম, সেই আয়াত নিয়ে একটানা ১৫ মিনিট চিন্তা করতাম। যখন ফোনের দিকে তাকাতাম, সেটা বন্ধ। আমাকে সেটি অন করতে পাসওয়ার্ড দিতে হতো। আমার মনে হল, "বাহ, এটাতো একটা শক্তিশালী জিনিস।" এই অবস্থায় আমি অনুভব করলাম যে, স্রষ্টার কাছ থেকে প্রেরিত কোন বই যদি থেকে থাকে, তাহলে এটাই সেটা। কিন্তু আমি পুরোপুরি সন্তুষ্ট ছিলাম না। তো, আমি পরীক্ষা করতে দেখলাম। আউযুবিল্লাহ, আমি পরীক্ষা করে দেখতে চাইলাম। নিজেকে বললাম, “ আজকে পরীক্ষা করার জন্য, আজ আমি কুরআন পড়ব না। নামাজও পড়ব না। আজকে মজা করে বেড়াব।" রোজা রাখব অবশ্যই। তবে, মজা করব আর কোন ইবাদত করব না। বাকি ইবদতগুলো আমি করব না। আমার ভাই আমি মজা করছিনা আল্লাহর কসম, আমি মজা করছিনা। এর সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত না থাকার ১০ মিনিটের মধ্যেই, আমি গোসলের জন্য গেলাম, আগের সব চিন্তাগুলো আমার মাথায় ফিরে আসতে লাগল। অবসাদের সেইসব স্মৃতিগুলো, সেই নারীর সব স্মৃতি। সবকিছু আমার স্মৃতিতে ফিরতে শুরু করল। আমি শাওয়ার বন্ধ করলাম, গা মুছে নিয়ে কোরআনটা পড়তে শুরু করলাম। এই কোরআনই একমাত্র উপায়। এই বই বাঁচার একমাত্র উপায়। আর আমি এটা পড়তে থাকি এটা আমার কাছে আরও বিস্তারিত হতে থাকে। আর আমি ভাবতে থাকলাম আল্লাহ সর্বশক্তিমান। আল্লাহ যেভাবেই হোক এটি প্রেরণ করেছেন। এটা হয়তো বজ্রপাতের সাথে পাঠিয়েছেন, যেমনটা মুসা (আ.) এর সাথে ঘটেছিল, দশটি সমাচার পাঠিয়েছিলেন। আমি জানি না কিভাবে, কিন্তু নবী মুহম্মাদ এর নিকট ওহী প্রেরনের ঘটনা আমি ঠিক নিতে পারছিলাম না। আমি বুঝে উঠতে পারছিলাম না। চিন্তা করলাম যে, স্রষ্টার গ্রন্থ এটি আর তিনি আমাদের শেখাচ্ছেন। আমি এটা পড়েই যাচ্ছি পড়েই যাচ্ছি আমি প্রভাবিত হচ্ছি। তারপর, এই আয়াতটা খুঁজে পেলাম এবং এর ফলে আমি নিজেকে প্রশ্ন করি আমার সম্পূর্ণ...
নিজেকে কিভাবে একজন মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করছি। আয়াতটি এমন , "জেনে রাখ, আল্লাহ তাআলার স্মরণেই চিত্ত প্রশান্ত হয়।” আর সেই সময় বলতে গেলে... শিহরণ অনুভূব করলাম। আমি আমার ফোন বন্ধ করলাম। ভাবলাম, "মোবাইলটি বন্ধ করতে হবে।" আমি জানিনা এই জিনিসটা কি? এটা কি ছিল? এটা কিভাবে জানল? এটা আমার মনের কথা কিভাবে জানল? এটা কিভাবে জানল যে, এখানেই আমার হৃদয় প্রশান্তি খুঁজে পাচ্ছে? এটা কিভাবে তা জানতে পারলো?
সেসময় আমি একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছালাম। আমি জানি না, এটা কিভাবে নাযিল হয়েছে। আমি এর জ্ঞানের পদ্ধতিও জানি না। আমি এর কিছুই জানি না। কিন্তু এটা স্রষ্টার বাণী, সুনিশ্চিতভাবে। এটাই স্রষ্টারই বাণী। তখন রমজান প্রায় শেষ হতে যাচ্ছিল। আমার ভ্রমণের শেষের দিকে। আমাকে এখন নিউইয়র্কে ফিরতে হবে। আবার সকল বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। এড়ানোর কোন উপায় নেই। তেমন কোন কিছুই নেই। আমি কুরআনের অনেকটাই পড়েছি এবং এখন এখানে মদ সম্পর্কে বলা কথাগুলো পড়ছি, যেসব বিষাক্ত দ্রব্যাদি নিয়ে এখানে বলা হয়েছে, এখানে জিনা সম্পর্কিত সব কথা পড়ছি। মনে হল, আচ্ছা একটু চিন্তা করে দেখি। বুঝতে পারছেন অবস্থা, আমি প্রায় দেড় মাসের মত পাকিস্তানে ছিলাম। আমার সব বন্ধুরা আমার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে। অবতরণের পর তারা আমাকে মদ পান করাতে চাইবে, তারা আমাকে মাতাল বানাতে চাইবে। তারা আমাকে নারীর সঙ্গে নিয়ে যেতে চাইবে তারা একটা পার্টি চায়। আর আমি ভাবছি যে, আমার নিজের কিছু প্রতিজ্ঞা করা উচিৎ, ঠিক আছে?
প্রথম প্রতিজ্ঞা হল: ফিরে আসার পর, আমি সালাত পড়া ছেড়ে দিব না। এই সালাত কি জিনিস আমি জানি না এটা কি, তবে সালাতের মধ্যে অবশ্যই শক্তি আছে। এরপর, আমি কুরআন পড়া কখনো বাদ দিব না। এবং এ অনুবাদটিকেও আমি ফেলে রাখব না। কারণ আমি ঐ নারীকে ভুলে যাওয়া এবং অবসাদ থেকে বের হওয়ার জন্য এই দুটি বিষয়কে যুক্ত করেছি। আল্লাহ, আমার সহায় হোন। আমি জানি না আমি কি করব। আমি ফিরে যাই। সবাই আমাকে দেখতে উদগ্রীব। তারা আমাকে বাইরে নিতে চায়। তারা আমাকে ঐসব কাজ করাতে চায়। আমি বাইরে গেলে তারা বলে যে, “আমরা তোমাকে জাগিয়ে তুলব।" তার মানে ধূমপান করতে হবে। "তোমাকে সারিয়ে তলবো, ভাই। এসো, এসো, এসো।” আমি সেখানে গেলাম তারা বলে, “ ইও একটি শট নাও।" তারা আমার জন্য মদ ঢেলে দেয়। নাও নাও ১-২-৩!
এবং আমি বললাম, "ইও মানে আমি পারব না।" তারা বলল, “তুমি এখনও শটটি পান করোনি।” তুমি ড্রিঙ্কটি স্পর্শও করনি। তুমি এটিকে যত্ন করে রাখছো? খেয়ে নাও! "তুমি কি এটা রেখে দিবে নাকি? চল, পান কর।" আমি জানি না কিভাবে তাদের বলবো। নিজেকে মনে হচ্ছিলো লুজার। অসাড় হয়ে রইলাম। "বন্ধুরা, আমি আর মদ পান করবো না।" তো, আমি করি নি। বললাম যে, "আমার ভাল লাগছে না। আমার পেটে সমস্যা। আমি এই মাত্র প্লেন থেকে নামলাম। জানি না কেন এমন লাগছে। ঠিক আছে।” দ্বিতীয়বার তাদের সাথে আড্ডা দিলাম। চল, ধূমপান করি। চল, শুরু করি। শুরু করি, বুঝলে?
বন্ধুরা, ধূমপান আর ঐসব শট নেওয়ার কোনরকম ইচ্ছা করছে না। ঠিক আছে। তৃতীয়বার, তারা আর আমাকে ডাকলোনা। তারা আমাকে ডাকা বন্ধ করে দিল। আমাকে বাজে দেখাতে লাগল। বোরিং হয়ে গেলাম। আমার একজন বন্ধু ছিল। এবার তার কাছে সব স্বীকার করলাম। মনে পড়ে, আমি গাড়ির মধ্যে ছিলাম। বললাম, ভাই... সে জিজ্ঞেস করল। অন্যরা তা করল না। কিন্তু সে জিজ্ঞেস করল। ভাই, আমি দেখছি তুমি মদপান করছো না। সেই নারীর কথা তোমার মনে আছে, যার সাথে তোমার সম্পর্ক ছিল। মানে, সব ঠিক আছে তো? সব কি ঠিক আছে?
আমি বললাম, “ব্রো আমি ইসলামকে জানার চেষ্টা করছি কুরআন পড়ছি আর আর আমার মনে হয় এসব আমার জন্য না।” সে বলল, “সত্যি?” আমি ভাবলাম এটা হয়তো সবচেয়ে বিব্রতকর বিষয় হতে চলেছে কিন্তু সে সন্তুষ্ট দেখে বিস্মিত হলাম। কিন্তু কে জানে তাদেরকে এসব জানালে, তারাও হয়তো বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে? এখান থেকে আমার প্রাপ্তি কি? মানে, এখানে আমি অনুভব করলাম যে, এইসব হারাম অর্থ অপচয় করে। আপনি আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করার জন্য আল্লাহর অসন্তুষ্টি কিনছেন। অর্থ খরচ করছেন, শুধু জাহান্নামের আগুনই কিনছেন না বরং মদ্য পানে অর্থ খরচ হচ্ছে। নারীতে, মাদকে অর্থ খরচ হচ্ছে। ধূমপানে অর্থ নষ্ট হচ্ছে। কিন্তু দোয়া একদম ফ্রি। সালাতও ফ্রি, ঠিক?
তাহাজ্জুদও ফ্রি, কুরআন পড়াটাও ফ্রি। যিকির করা ফ্রি। অবিশ্বাস্য। আমরা হারামের জন্য ব্যয় করছি। সবকিছুর জন্য ব্যয় করছি, অথচ আল্লাহ তা’আলা, এর সমাধানকে একদম ফ্রি করে দিয়েছেন। জানেন কি? সে এখনও আমার বন্ধু। সে বলল, “আমরা এখনও বাইরে যেতে পারি, তুমি সহায়ক বন্ধু হলেই হবে। তুমি আমাদের মনোনীত ড্রাইভার হবে, তাহলে আমরা ভালো একটা সময় কাটাব। আর আমাদের চিন্তা করতে হবে না, আমরা জানি তুমি ঠিক আর ভাল। আমি বললাম, ঠিকাছে বাড়িতে বসে থেকেই বা কি করব?
তো, ঐসব জায়গায় যাওয়াই যায়। আমি এখন বার এবং ক্লাবগুলোতে যাব। কিন্তু আর আমি নেশাগ্রস্থ হব না। এবার আমি ঐসবের কিছুই করবো না। আমি বারগুলোতে গেলাম ক্লাবগুলোতে গেলাম। আউযুবিল্লাহ, কিন্তু এবার আমি নেশাগ্রস্থ হইনি। বরং আমিই সেই দায়িত্বপ্রাপ্ত চালক। আর আমি সেইসব লোকদের দেখছিলাম বরং তাদের বিশৃঙ্খল দেখাচ্ছিল। তাদের দেখে মনে হচ্ছিল বিমোহিত। তাদের সবাইকে দেখে মনে হচ্ছিল মোহগ্রস্থ । তাদের দেখে মনে হচ্ছিল, তারা একে অন্যের মত হতে চাচ্ছে। এবং তারা সবাই একই দিকে আসছে। আমি ভাবলাম, আমি এখানে থাকতে চাইনা। এটা খুব ভয়ানক। তখন আমি বেরিয়ে এলাম। আমি বললাম, তোমরা তোমাদের কাজ কর, আমি বাইরে যাচ্ছি, আমি চাই না...
আল্লাহ আমার অন্তর থেকে এটা বের করেছেন, আমি আর ওখানে থাকতে চাই না। তো, আমি বারের এক কোণে বসে ছিলাম। এক নারী এসে আমার পাশে বসলেন। তিনি ওখানে ছিলেন। তার সাথে আমার পূর্ণ কথোপকথন হল। সে আমার সাথে কথা বলছে আর আমি তাকে ইসলাম সম্পর্কে না বলে পারলাম না। আমি বললাম, আমি এগুলো নিয়মিত পড়ছি, এটি কিয়ামত দিবস সম্পর্কিত, এরপর জান্নাতও আছে। আর যখন তুমি মারা যাবে তুমি জান্নাতে যেতে পারবে, আর তুমি চাইলে এখান থেকে বের হতে পার। আর এটা খুব সুন্দর বিষয়। আর আমাদের সৃষ্টিকর্তা আছেন। তিনি একজনই আর আমরা তাঁর কাছে ফিরে যাব তিনি জীবনে করুণা করেন, পরীক্ষা করেন। এবং এমন আরও অনেক কিছু এবং এসবকিছু কিভাবে আমাদের সত্যের আহ্বান এবং প্রকৃতি সম্পর্কে উদাসীন করে রাখে। এটা আমাদের স্বতঃস্ফূর্ততা হ্রাস করে। এটি আমাদের নিজেদের সেরা রুপে আসতে বাঁধা প্রদান করে। তারপর বুঝলেন, সে কাঁদতে শুরু করল। তিনি বারে এসেছেন এবং বাইরে সেই একই নারী, সে কাঁদতে শুরু করল। সে বলল, “এটা সুন্দর।” আমি বললাম, “তাই?” সে বলল, “আমার একটা প্রশ্ন আছে।” আমি পুরো সময়জুড়ে কথা বললাম, শুধু ইসলাম সম্পর্কেই কথা বলে গেলাম। "আমার কিছু প্রশ্ন ছিল।" আমি বললাম, "বল" সে বলল, “তুমি বিশ্বাস কর এগুলো সত্যি?" আমি বললাম, “হ্যাঁ।” সে বলল, “তুমি এখানে কি করছ?” আমি তাকে কি বললাম জানেন?
আমি জানি না। আমি শুধু বললাম, “আমি জানি না।” সে বলল, "তোমার এখানে থাকা উচিৎ না।" এখানে থেকো না। সেটাই ছিল শেষবার আমার বারে যাওয়া। অনুধাবন করলাম যে, আল্লাহ আমার মনে সেটির প্রতি আকর্ষণ রাখেন নি। আমি শুধু বাড়ি গিয়ে কুরআন পড়তে চাইলাম। এটাই আমার একমাত্র কাজ। কুরআনের অনুবাদ পড়া চলমান রাখ আর এসব নারীদের থেকে দূরে সরে যাও। তখনই এসব ঘটা শুরু করল। আর আমি কি অনুভব করলাম জানেন?
আমার এই জীবনে ভিন্ন পরিবর্তন প্রয়োজন, খুব জরুরি। আমি এই পথে থাকতে চাইলে, আমাকে আমার সমমনা লোকদের আশপাশে থাকার চেষ্টা করতে হবে, যারা এই পথ অর্জন করতে চায়। আর আমি তখন মসজিদে যাওয়া শুরু করলাম এবং আমি সেসব লোকেদের সাথে পরিচিত হলাম যারা আমার মত চিন্তা করছে এবং তাদের বিশ্বাস সম্পর্কে জানলাম। আর ভাবলাম, ও এটা তো ভাল। এমন লোকেদের আশপাশেই আমার থাকা উচিৎ। তাই, বিশাল ঘটনার সংক্ষেপ হিসেবে, আমি যদি বলতে চাই এটাই হচ্ছে আমার গল্প, আলহামদুলিল্লাহ। যে কিভাবে...
আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ আমার অন্তরে এবং জীবনে ইসলাম এনেছেন এবং আমাকে টেনে তুলেছেন। এবং তিনি যেন আমাকে সরল পথে রাখেন, কারণ এর থেকে পা পিছলে যাওয়া, বা জানেন তো মদপানে ফিরে যাওয়া, এবং ধূমপান আর নারী আসক্তিতে ফিরে যাওয়া সম্ভব। এবং যারাই এইগুলো এই মুহুর্তে শুনছেন, ঐসব বন্ধু আর পরিবেশ থেকে দূরে সরে যান। আমাদের জন্য, জাহিলিয়াতের মত জীবন-যাপন করা যেমন বাইক চালানোর মত কাজ। আমরা দ্রুতই সেগুলোতে ফিরে পেতে পারি। আমাদের পরিবেশ পরিবর্তন করতে হবে, ঐসব মানুষ থেকে হিজরত করতে হবে। সেই একইভাবে যে লোকটি ৯৯ জনকে হত্যা করেছিল, বুঝলেন?
তারপর মোট ১০০ জনকে হত্যা করল, তারপর একজন আলেমের উপদেশ গ্রহণ করল। আলেম বললেন, “আল্লাহ ক্ষমা করবেন, কিন্তু তোমাকে হিজরত করতে হবে।” এগুলো থেকে দূরে সরে যাও। নতুন জীবন শুরু কর। তোমার অতীত না জানা লোকের সাথে বসবাস কর, যারা সেগুলো স্মরণ করাবে না। ইও কি অবস্থা ব্র? তুমি মদপান, ধূমপান বন্ধ করে দিয়েছ। না, না, না। আরেক বার এসো। একবারের জন্য এসো একবার। মাত্র একবার। আমার জন্য এক শট। তোমাকে এই জীবন থেকে দূরে থাকতে হবে। ওইসব হারাম হতে দূরে থাকার এটা একমাত্র উপায়। আল্লাহ তা’আলার সাথে সম্পর্ক তৈরি কর। আল্লাহর কসম, এটি অবশ্যই কঠিন হবে, কিন্তু আল্লাহ সেটিকে সহজ করে দিবেন, ইনশাল্লাহ। তাহলে, তখন আপনার জীবনের উদ্দেশ্য কী ছিল? আপনি তারপর রাস্তায় দাওয়াহ করতে লাগলেন। আমাদের সেই দিনগুলোর সম্পর্কে বলবেন?
এটা এমন যেন আপনার ভালবাসার আদরের জন্য কিছু একটা আছে। আপনি এই বিষয়ে কথা বলতে চান, ঠিক?
এটাই স্বাভাবিক। আমরা যখন কিছুকে ভালবাসি, আমরা সেটার গবেষণা করি। এটা আমাদের ফিতরাতেই আছে যে, আমাদের ভাললাগার বিষয়গুলো নিয়ে আমরা জ্ঞানার্জন করি। শুধু ভালোবাসার কারণেই আমরা সেটি নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জ্ঞান অর্জন করি। আমি যখন ইসলাম সম্পর্কে জানতে শুরু করি তখন আলহামদুলিল্লাহ। আলহামদুলিল্লাহ। মাশাআল্লাহ। আল্লাহর ইচ্ছায়, তিনি আমার অন্তরে সেই ভালবাসা দিয়ে দিয়েছিলেন। এর প্রতি আমার ভালবাসার কারণ হলো, আমি জানতাম, এটি সত্য আর এটা কতটা কার্যকরী। কারণ ব্যক্তিগতভাবে, ইসলাম আমার অবসাদ দূর করেছে। আমাকে মুক্তি দিয়েছে। কুরআনের অনুবাদ, কুরআন তিলাওয়াত করা। আমার অবসাদ দূর করেছে। আমি জানি এটা কতটা শক্তিশালী বাস্তবিকভাবেই। আমি জানি কত মানুষ গোপনে অবসাদগ্রস্থ, যারা এই ওষুধের কথা জানেও না। তাদের এই ওষুধটা দরকার। তাদের চিকিৎসা দরকার। আর আল্লাহ যদি আমার মাধ্যমে এটা পুরো বিশ্বের কাছে পৌঁছে দেন, তাহলে, এটিই কি আমার জীবনের উদ্দেশ্য নয়?
আর যদি সেটিই হয়, তাহলে আল্লাহ আমার উপর তোমার করুণা অব্যাহত রাখো। এই দ্বীন প্রচারে আমাকে ব্যবহার কর আর প্রতিটি গৃহে এটা পৌঁছানোর ব্যবস্থা কর। আপনার এই প্রত্যাবর্তনের কত বছর হল?
আমার মনে হয়, ১২ বছর ধরে এটা চলছে। আলহামদুলিল্লাহ। আমি এখনো শিশু। আমি এখনও ১২ বছর বয়সী ছোট শিশু। বলতেই হবে, ১২ বছর হল। দেখুন, উত্থান-পতন আছেই। আর সেটা এখনও রয়ে গেছে। আলহামদুলিল্লাহ, আমরা এখনও দ্বীনে, তাওহীদের রাস্তায় আছি আমারা আর এটিই জরুরি বিষয়। পা পিছলাবে। সব এলোমেলো হয়ে যেতে পারে। বছর বছর ধরে চলা এত জাহিলিয়াহ রাতারাতি ত্যাগ করা যায়না। আপনি বিচ্যুত, পরীক্ষিত হতে পারেন। কিন্তু আল্লাহ তা’আলা হলেন গাফুরুর-রাহিম। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ক্ষমা করবেন। এমন জাহিলিয়াতের মধ্য দিয়ে গমন করা আর এর থেকে উত্তরণ পাওয়া ব্যক্তিগণ, আপনি বিচ্যুতি হতে পারেন, কিন্তু আল্লাহ ক্ষমা করবেন। শয়তান বলবে, আপনি ক্ষমা পাবেন না। শয়তান বলবে, আপনার কোন আশা নেই। সে বলবে, আপনি কপট, মুনাফিক। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তওবাকারীদের ভালবাসেন। তো, আল্লাহর কাছে তওবা করুন। তিনি সবকিছু ক্ষমা করে দেবেন। আন্তরিকভাবে আপনার গল্প বলার জন্য ধন্যবাদ। আমরা অনেক কিছু জানলাম। আমরা এই গল্প থেকে অনেক অনুপ্রাণিত হয়েছি। আল্লাহ এই উম্মাহর জন্য কৃতজ্ঞ আপনার সকল কাজের বিনিময় দান করুন। যাযাকাল্লাহ খাইরান। স্বাগতম, আপনাকে আর সকল দর্শককে ধন্যবাদ। আল্লাহ আপনাদের সহায় হোন। আল্লাহ তা’আলা সবার ঈমান বৃদ্ধি করুন। আল্লাহ তা’আলা এই চ্যানেলটিকেও বিনিময় দান করুন, কারণ এটি সত্যিই অসাধারণ। চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করতে ভুলবেন না।