Towards Eternity
ব্লগে ফিরে যান

“আমি বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করছিলাম”-ভারতীয় শিখ বোনের ইসলামের পথে ফিরে আসা! - টোয়ার্ডস ইটার্নিটি

প্রকাশের তারিখ

YouTube-এ দেখুন

কখনো কখনো আমি ভাবি, আমি এখনো কেন মুসলিম হয়ে আছি? কারণ কখনো যদি আপনাকে এত পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এমনও সময় গিয়েছে যখন আমি দেয়ালে মাথা ঠু কতে চেয়েছিলাম যাতে আমি ঘুমোতে পারি। আমার ডিভোর্স হয়ে যায়। ওটা খুবই কষ্টের, খুবই কঠিন ছিল সত্যি বলছি আপনাকে আমি, ক্যামেরার সামনে সব বলব, এমনো সময় গিয়েছে যখন আমি নিজের ক্ষতি করতে চেয়েছিলাম। মনে আছে আমি তখন বাথরুমে ছিলাম, যখন আমি আমার চেহারা দেখছিলাম, আমি তা ঘৃণা করছিলাম আর নিজের ক্ষতি করতে চাইছিলাম। আমার পরিবার ছাড়া আমার জীবনের প্রত্যেকটা ক্ষেত্রই কঠিন ছিল, কারণ তারা আমার খুব কাছের ছিল, আর আমি তাদেরকে অনেক ভালোবাসতাম। এটা সবসময়ই হয়। আমি কতদিন এটা করব? আমি কতদিন আরেকজনের আশায় বসে থাকব যে তারা এসে আমাকে বাঁচাবে?

যখন আল্লাহ নিজে বলেছেন, “আমার কাছে এসো, আমার কাছে এসো, আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ করব।” আসসালামুআলাইকুম বোন হানিয়া আদম। আমাদের আমন্ত্রণ গ্রহণের জন্য ধন্যবাদ। আপনাকে আমাদের মাঝে পেয়ে আমরা খুবই আনন্দিত। আমি প্রথমেই শুরু করতে চাই, হানিয়া আদম কে? আপনি কি সংক্ষিপে আপনার জীবন সম্পর্কে বলবেন?

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতু ল্লাহি ওয়া বারাকাতু হ। তো আমি তিন সন্তানের মা। আলহামদুলিল্লাহ। আমি শিখ হিসেবে বড় হয়েছিলাম। আমার বাবা মা ভারতীয়, তাদের জন্ম ও বেড়ে ওঠা যুক্তরাজ্যে। বেশ চমৎকার ছোটবেলা কেটেছে আমার। আলহামদুলিল্লাহ, বাবা মা খুব ভালোবাসতেন। কিন্তু আমি যখন, ২৪ কি ২৫ বছর বয়সে মুসলিম হলাম; আমার পরিবার বেশ বড়সড় একটা ধাক্কা খেয়েছিল। আলহামদুলিল্লাহ এখন গ্রীনলেন মসজিদে কাজ করছি, এবং যে কোনো মুসলিম সংগঠনে' যেখানে আমি সহায়তা করতে পারি। বিশ্বাসের ক্ষেত্রে আপনার জীবন কেমন ছিল? আপনি কীসে বিশ্বাস করতেন?

ছোটবেলায়, আমার মা বাবা শিখ ধর্ম শিক্ষা দিয়েছিলেন। আমি মানছি যে এটা আমি পছন্দ করি। আমার মনে আছে আমরা অমৃত্‌সরের গোল্ডেন টেম্পলে গিয়েছিলাম, খুব ভালো লেগেছিল। আমার মনে আছে আমরা হেমকুন্ড সাহিব এ গিয়েছিলাম যেটা অনেকটা হিন্দু আশ্রমের মতোই। আর আমি খুব উপভোগ করেছিলাম। আমার মনে আছে আমি খুব অল্প বয়স থেকেই আমার জীবনে একজন ঈশ্বরের প্রয়োজন অনুভব করতাম। আমি খুব খুশি আর সন্তুষ্ট হতাম যখন সেসব জায়গায় যেতাম। তো আমি বলব যে, বেড়ে উঠার সময়ে আলহামদুলিল্লাহ, আমার মা বাবা আমার মধ্যে ধর্মবোধ ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন। তারা আমাকে ন্যায়, নীতিশিক্ষা, পরিশ্রম, জ্ঞান অর্জন, সৎ থাকা, এসব বিষয়ে শিক্ষা দিয়েছিলেন। তারা আমাকে বেশ ভালোভাবেই বড় করেছিলেন। আর আমার মনে হয় আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতাম, আমি অনেকটা ধর্মনিরপেক্ষ জীবনযাপন করতাম। আমি বলতে গেলে কোনো ধর্ম চর্চাই করতাম না। একটা আত্মিক দিক ছিল, কিন্তু আমি কোনো ধর্ম চর্চাই করতাম না। আমি তখন, আপনাকে সত্যিটাই বলছি…

মদ্যপান করাকে সমস্যা মনে করতাম না। যা মন চাইত তা পরতাম, এটা কোনো ব্যাপার ছিল না, স্বাভাবিকই ছিল। এর মধ্যে খারাপ কিছু ছিল না। শুধু একটা স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। মুলত এটা, আমি মুসলিম হওয়ার আগে এভাবেই আমার জীবন কাটছিলো। আপনি ইসলামের কথা প্রথম কীভাবে শুনলেন? আপনার মনে কি কোনো ধরণের বিদ্বেষ ছিলো?

ছিল, হয়তো একটু ইসলাম বিদ্বেষীই ছিলাম। আমি ভেবেছিলাম যে, তখন অনেক কিছু ঘটছিলো, ইরাক এবং অন্যান্য ব্যাপার। মনে পড়ে আমি ভয় পেয়ে যেতাম যদি “আল্লাহু আকবার” শুনতাম। এটা আমাকে ভয় পাইয়ে দিত। আমি ভাবতাম যে সব মুসলিম পুরুষেরা ভীষণ কঠোর হয়। বুঝলেন, তারা তাদের স্ত্রীদের পেটায় আর আরো অনেক অনেক কিছু করে। আর, বুঝেন, সবসময়ই একটা ইস্যু ছিল আয়েশা (রাঃ) ও তাঁর বয়স নিয়ে। অনেক ধরণের বাঁধাধরা ধারণা ছিল। আমি ভাবতাম মুসলিম নারীরা নির্যাতিতা হয়ে থাকে। তারা কেন হিজাব পরে? এটা তো ঠিক না। আমার অনেক অনেক সমস্যা ছিল এসব নিয়ে। আপনার ইসলামের পথে যাত্রা কীভাবে শুরু হলো? ইসলামের কোন বিষয়টি আপনাকে চমৎকৃত করেছে?

মজার বিষয় হলো, মুসলিম নারীদের ব্যাপারে বাঁধাধরা ধারণা ছিলো আমার, আমি প্রথমেই ইসলামের যে জিনিসটা দেখতে চাইলাম তা হলো ইসলামের নারী। তো আমি অনেক আলোচনা শুনলাম, ইন্টারনেটে অনেক পড়লাম, একটা বই আছে, “দ্য গ্রেট উইমেন অব ইসলাম” নামে, দারুসসালামের লেখা, যা খুবই চমৎকার। আমি মনে করেছিলাম নারীরা শোষিত। অতঃপর আমি ইসলাম নিয়ে পড়াশোনা শুরু করলাম আর বুঝলাম, না, সমাজ নারীদের শোষণ করছে। আর ইসলাম অনেক উন্নত। অর্থাৎ, এতটাই উন্নত যে, আমরা সামাজিকতা এর সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হিমশিম খাচ্ছি। এবং ইনশাআল্লাহ, এটি আরো শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসবে। কারণ এখনো আমাদের যে সমস্যাগুলো রয়েছে লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকা আর পরিচয় নিয়ে, আমার মনে হয় ইসলামে এই সকল সমস্যার সমাধান রয়েছে। আর হয়তো বা এখনি আমাদের তাল মিলানোর উপযুক্ত সময়, কারণ ইসলাম অনেকভাবেই নারীদের স্বাধীনতা দিয়েছে। এটা নারীদের ঠিক এতটাই উপরে তুলে ধরে। যদি সমাজ এটা বুঝতে পারে, তারাও আমার মতো উপলব্ধি করতে পারবে যে, সুবহানআল্লাহ ইসলাম নারীদের কত অধিকার দিয়েছে। এমন সব অধিকার, যেগুলো আমরা, এই দেশে, কিংবা মুসলিম দেশগুলোতে কখনো পাইনি। রাসূল মুহাম্মাদ (সাঃ) আমাদের শিখিয়েছেন নারীদের কীভাবে সম্মান করতে হয়। অর্থাৎ, আমাদের অধিকার দেওয়ার মাধ্যমে, যেমনটা আমি বলেছিলাম, উদাহরণ হিসেবে যৌতুকের কথাই বলি। একজন নারীর একজন পুরুষকে অর্থ দিতে হতো। এখন একজন পুরুষ একজন নারীকে দেনমোহর দিচ্ছে। এটা একটা বেশ বড় ব্যাপার। সেসব মানুষদের জন্য, যারা কন্যা সন্তান জন্ম নিলে দুঃখ প্রকাশ করতো। মানে, এতটাই যে, তাকে হত্যা করা হতো। বুঝলেন, হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) বলেছেন, “তোমরা যদি কন্যা সন্তানদের লালন পালন করো, তাহলে তোমাকে জান্নাত দেওয়া হবে। তুমি আমার সাথে জান্নাতে থাকবে।” আর তারপর, ছোট ছোট জিনিসের মধ্যেও সওয়াব রয়েছে। একজন নারী যদি আপনার সাথে ঝগড়া করে, তর্ক করে, আপনার সাথে চেঁচামেচি করে, চুপ করে থাকুন। তিনি এটাই করেছিলেন। চুপ করে থেকেছেন। উমর বিন খাত্তাব শিখেছেন। উনি অনেক সময়ে তাঁর স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করতেন, কিন্তু পরে তিনি চুপ করে থাকতে শিখেছেন। ঠিক আছে, তাদের আবেগী হতে দিন। নারীদের আবেগ দেখাতে দিন, বুঝতে পেরেছেন?

সুবহানআল্লাহ, কোন দ্বীন আপনাকে এটা শেখাচ্ছে? এরকম অনেক উদাহরণ আমি দিতে পারব, কিন্তু আমার মনে হয় আপনার সেটা রেকর্ড করতে সারাজীবন লেগে যাবে। তো আপনি ইসলামে নারীদের অবস্থান দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন। আর কোন বিষয় আপনাকে চমৎকৃত করেছে?

যখন আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলাম, সত্যি বলতে আমি এমন একটা জীবন কাটাচ্ছিলাম যেখানে আমার অনেক স্বাধীনতা ছিল। বুঝলেন, আমি বলতে চাচ্ছি যখন আপনার এত স্বাধীনতা রয়েছে আর আপনি বাহিরে যাচ্ছেন, ক্লাবে যাচ্ছেন, নাচছেন, মদ্যপান করছেন, এইসব কিছু করছেন, আর এটা অনেকটা এমন যে, এসব করে আপনি পরের মুহুর্তের সুখ খুঁজার চেষ্টা করছেন, বা আপনি আরেকজনের কাছে স্বীকৃতি খুজছেন যে তারা বলবে, “ওহ, তোমাকে সুন্দর লাগছে,” বা “তোমাকে আমি ভালোবাসি,” বা, যেখানে আপনি সবসময়ই অন্যদের খুজঁছেন, একজন নারী হিসেবে, যে তারা আপনাকে মূল্য দিবে। আর আমি ইসলামে যেমনটা পেলাম, আপনাকে এসব করতে হবে না। এগুলো অন্য মানুষের কাছ থেকে আসে না। বরং হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) আমাদের শিখিয়েছেন যে, আমাদের স্বীকৃতি আল্লাহ তাআলার থেকেই আসবে। আর যখন আপনি আল্লাহকে ভালোবাসতে শিখবেন হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) কে ভালোবাসতে শিখবেন, আপনি অভাবনীয় সন্তুষ্টি পাবেন। আপনার বলতে গেলে অন্য পুরুষের উপর নির্ভর করতে হবে না, সেটা পাবার জন্য। আপনার যদি সেটা থেকে থাকে, সেটা হবে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটা রহমত আর আপনারা একসাথে পাশাপাশি আছেন, উপরে নীচে নয়। এভাবে পাশাপাশি আছেন একসাথে। আল্লাহ সুবহানাহুওয়াতাআলা কুরআনে বলেন তিনি নারী ও পুরুষকে সমান কিন্তু আলাদাভাবে সৃষ্টি করেছেন। আর এটা বিস্ময়কর। আর আমার ক্ষেত্রে, এটা আমাকে শিখিয়েছে যে যখন আল্লাহ সুবহানাহুওয়াতাআলা আপনাকে বলছেন, বুঝলেন, “নারী হিসেবে পর্দা করো, হিজাব পরো,” এর কারণ আমাদেরকে আলাদাভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে। আমার নিজেকে সুন্দর, চমৎকার দেখাতে মন চাইতে পারে, কিন্তু আল্লাহ পুরুষকে আলাদাভাবে সৃষ্টি করেছেন, যেখানে সে আপনাকে দেখবে আর ভাববে, “ওহ, আমি তার কাছে যেতে পারি।” “আমি এটা করতে পারি, বা আমি এটা বলতে পারি।” তো আল্লাহ বলেছেন, “তোমার কী করা উচিত জানো?

নিজেকে রক্ষা করো।” “পর্দা করো।” কিন্তু সেই কামনা পুরুষের মধ্যে আছেই। কারণ এটা যখন হালাল হয়ে যাবে, তখন আপনি সেটা উপভোগ করবেন। কারণ এটা যদি আপনার না থাকত, আপনি অভিযোগ করতেন। প্রধানত কোন জিনিসটা আপনাকে উপলব্ধি করিয়েছিল যে, ইসলাম ১০০% সত্য? প্রধানত কোন জিনিসটা আপনাকে উপলব্ধি করিয়েছিল যে ইসলাম ১০০% সত্য?

গ্রীন লেন মসজিদে যাওয়া। আমার মনে আছে প্রথম যেদিন আমি মসজিদে ঢুকলাম, তখন আমি কিছু বোনদের দেখলাম যাদের মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঢিলেঢালা কালো পোশাক দিয়ে ঢাকা ছিল। আর বেশ মজার বিষয়, হ্যারি পটারের কথা বলি, তারা কিন্তু হ্যারি পটারের একটি দৃশ্যের কথা মনে করিয়ে দিল, হগওয়ার্ট' যেখানে তারা তাদের আলখেল্লা পরে থাকতো। আর এটাই প্রথমে আমার মাথায় আসলো। আর তারপর আমি ভাবলাম, বাহ্, তাদেরকে এটার জন্যেই বেছে নেওয়া হয়েছে। আমি ও সেভাবেই আত্মবিশ্বাসী হতে চাই কারণ আমি মিনি স্কার্ট পরে ঘুরে বেড়াচ্ছি। আমি জানতে চাই যে সেভাবে চলাফেরা করতে কেমন লাগে। শুধু এটাই না, উনারা খুবই সৌহার্দ্যপূর্ণ, খুবই মমতাময়ী, দয়ালু, খুব সহায়ক ছিলেন। আর আপনি হয়তো জানেন না, কখনো আমরা নিজেদের অনেক কিছু নিজেরাই কঠিন করে ফেলি, যখন আমরা অন্যদের সাথে যোগাযোগ না করি। আমি কখনো নিকাবী মুসলিম নারীদের সাথে কথা বলিনি। আসলে, আমি ঠিকমতো কোনো মুসলিম নারীদের সাথেই কথা বলিনি। তো সেটা আমার প্রথমবার ছিল। তারা মুচকি হাসি দিচ্ছে, শুধু এই তথ্যটাই…

আমরা এতটাই পক্ষপাতপূর্ণ! আমাদের মনে এতটাই বাঁধাধরা ধারণা রয়েছে! আমরা মনে করি যে নিকাবী নারীরা হাঁসেন না। সেখানে যে মহিলারা ছিলেন তারা মুচকি হাসি দিচ্ছিলেন, হাসছিলেন, দুষ্টুমি করছিলেন। আর আমি ভাবলাম, তারা স্বাভাবিক, তারা মানুষ, তারা কোনো ভাসমান কালো অবয়ব না। তারা মানুষ আর তারা অসাধারণ মহিলা। আপনি কবে কালেমা পড়েছিলেন আর তখন আপনার কেমন লেগেছিল?

তো আমি পরেরবার যখন মসজিদে গেলাম তখনই কালেমায়ে শাহাদাহ পাঠ করেছিলাম। হ্যাঁ। আলহামদুলিল্লাহ। এবং সেখানে প্রায় ৬০, ৭০ জন মানুষ ছিল। আর আমি কালেমায়ে শাহাদাত পাঠ করার সময়ে যারা যারা কাছে ছিল তারা এখনো আমার সবচেয়ে কাছের মানুষ হয়ে আছেন, আলহামদুলিল্লাহ। তো আমার কালেমা পড়াটা অসাধারণ ছিল। আমার মনে আছে আমি প্রচুর কাঁপছিলাম, কিন্তু ভালো লেগেছিল। অনেক ভালো লেগেছিল। আমার সেই গোসলের কথা মনে আছে, যেটা কালেমা পড়ার পর করতে হয়, আর আমার সত্যিই মনে হচ্ছিল যেন আমি নতুন জীবন শুরু করছি। নতুন করে শুরু করা, এটা জেনে যে আল্লাহ পূর্বের সবকিছু মুছে ফেলেছেন, কিন্তু এখন যে ভালো কাজটি আপনি করছেন সেটার পুরস্কার আপনাকে দেওয়া হচ্ছে। খুব ভালো লেগেছিল, আর আমি একজন মুসলিম নারীর পরিচয় গ্রহণ করতে প্রস্তুত ছিলাম। তো আমি অনেক অনেক পড়তে থাকলাম পড়তে থাকলাম আর…

আপনার পরিবার ও আশপাশের লোকজনের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল যখন তারা আপনার ধর্ম পরিবর্তন, আপনার মুসলিম হওয়ার কথা জানতে পারলেন?

সেটা খুব, খুব কঠিন ছিল। কিন্তু সেই কষ্টতে একই সময়ে স্বস্তিও ছিল। আমি তখন বুঝিনি, কারণ তারা পুরোপুরিভাবে আমাকে ত্যাগ করেছিল। আমার আল্লাহর উপর নির্ভর করা ছাড়া আর কোন উপায় ছিলো না কারণ তার ফলশ্রুতিতে আমার বিবাহিত জীবনও বেশ কঠিন হয়ে পড়ল। একা একা সন্তানদের লালন পালন করা কাজটা এমনিতেই কঠিন ছিল। আমার জীবনের প্রত্যেকটা অংশ কঠিন হয়ে গেল আমার পরিবার ছাড়া, কারণ তারা আমার খুব কাছের ছিল, আর আমি তাদেরকে খুব খুব ভালোবাসি। এমনও সময় গিয়েছে যখন আমি দেয়ালে মাথা ঠুকতে চেয়েছিলাম যাতে আমি ঘুমোতে পারি। কারণ আপনি যখন এরকম কষ্ট পান, আপনি থেমে যেতে পারেন না আর আপনি সেই জিনিসগুলো মাথায় বারবার আনতে থাকেন। আমি যেদিকে তাকাই সেখানেই আমার বাবা মা, পরিবার, এসব দেখতে পেতাম। আমি যদি সুপারমার্কেটে যেতাম, আমার মনে পড়ত যে আমি সপ্তাহান্তে বাবার সাথে সুপারমার্কেটে যেতাম আর বাজারসদাই করতাম। যদি আমি অ্যাসডাতে গান শুনতাম, আমার মনে পড়ে যেত যে আমি আমার বোনের সাথে সেই গানে নাচতাম। বুঝলেন, আমি যদি টিভিতে একটা অনুষ্ঠান দেখতাম, তখন মনে পড়ত যে আমি আমার ভাইয়ের সাথে সেটা দেখতাম। সবকিছুতেই। আমার বিবাহিত জীবনে কিছু সমস্যা হলে আমি ছুটে আমার পরিবারের কাছে যেতে চাইতাম, কিন্তু পারতাম না। আমি বলতে গেলে যেতাম আর বাহিরে গিয়ে একটা গাড়িতে বসে থাকতাম। পরিবার ছাড়া বেঁচে থাকাটা খুব, খুবই কষ্টকর, খুব কঠিন। এটা খুব কঠিন।আজ অবদি কঠিন। মুসলিম হিসেবে আমরা বুঝি, এবং সেই সাহাবীদের গল্পগুলো বুঝতে পারি যাঁদের পরিবারের সাথে ও একই ঘটনা ঘটেছিল এবং তাঁদের পরিবারকে ত্যাগ করতে হয়েছিল। আমরা জানি যে হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ)- কে তাঁর চাচাদের বলতে হয়েছিল “দেখুন, আমি এখন থেকে আলাদাভাবে জীবনযাপন করব।” আমরা যা শিখি সেটা হচ্ছে তারা সবাই মানুষ আর তাদের অনুভূতি থাকার অধিকার আছে। আর এখন আমার তাদের প্রতি কোনো ক্ষোভ নেই। আচ্ছা যাই হোক, আমি আপনাকে বলব, আমার মা এখনো আমার আদর্শ। আমি উনাকে এখনো পৃথিবীর সবার চাইতে বেশি ভালোবাসি। ঠিক যেভাবে হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) তাঁর অমুসলিম চাচাকে ভালোবাসতেন। আর তাঁর চাচার জন্য কাঁদতেন আর তাঁর সাধ্যমতো সবকিছু করতেন। আমি আমার মায়ের প্রতিও এমন অনুভব করি। উনি একজন চমৎকার মহিলা। উনার এমন অনুভব করার পূর্ণ অধিকার আছে। আমি উনাকে কষ্ট দিয়েছি আর আমি মারা যাবার আগ পর্যন্ত উনাকে কষ্ট দেবার জন্য ক্ষমা চেয়ে যাবো। তো আমি উনাদের জন্য দোআ করি আমি তাদের খুব ভালোবাসি। আমি আপনাকে বলতে পারব যে তারা খুব ভালো মানুষ। আমার আফসোস থাকবে যে আমি তাদের কাঁদিয়েছি, আমার বাবা মাকে কাঁদিয়েছি। আমার চিন্তায় এমন মুহুর্ত ছিল যখন আমি ইসলাম ও আমার সিদ্ধান্তকে প্রতিহত করেছি, আর হয়তো মায়ের মুখের উপর কথা বলেছি, আর হয়তো এক পর্যায়ে চিৎকার ও করেছি, আর সেটা নিয়ে আমার আফসোস হয়। কারণ আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেছেন, “তোমার পিতামাতাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সম্মান দাও, তারা মুসলিম হোক বা না হোক।” মাঝে মাঝে আমি ভাবি, আমি এখনো মুসলিম রয়েছি কেন?

কারণ কখনো কখনো আপনাকে এমন অনেক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। যেমনটা আমি বলেছিলাম, একটা খেয়াল আমার মাথায় সবসময়ই আসতো, যে আমার পরিবার এখানে আছে। আমার থেকে তাদের দুরত্ব এক ঘন্টার পথ। আমি এভাবে কেন বেঁচে আছি? যখন আমি একা একা হিমশিম খেতে থাকি, যখন ধরুন, আমার বাচ্চাদের ম্যানেজ করতে বা আর্থিকভাবে বা যেকোনো ভাবেই। আমি কেন এখানে আছি?

আর এই চিন্তাটাই আমাকে ধাবিত করে। কারণ, উদাহরণ হিসেবে বলি, আমার তখন ডিভোর্স হয়েছিল। ওটা খুব কষ্টদায়ক, খুব কঠিন ছিল। আর ঐ সময়টাতে আমি একা ছিলাম, আর আমি খুব, আমি সত্যিটাই বলব, আমার বেঁচে থাকাটাও কষ্টকর মনে হচ্ছিল। আমি জানতাম না যে আমি বাঁচতে চাই কিনা। অনেক সমস্যার সাথে তখন আমি লড়াই করে যাচ্ছিলাম। আর ঐ সময়ে আমি আমার খালাকে দেখতে গেলাম। একদম অতর্কিত ভাবেই ।এক্কেবারে হঠাৎ করেই হলো। আমি শুধু তার দরজায় এসে দাঁড়ালাম। আর দশ বছরে প্রথমবার, আমার পরিবারের কেউ তো আমাকে ভালোবাসা দিয়েছিল। উনি খুবি ভালো। আমাকে চা বানিয়ে দিলেন। আমার সাথে বসলেন আর জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি ভালো আছো?” যাস্ট এটাই। “তুমি ভালো আছো?” সবসময় এটাই হয়। আমার খালা সেই, যে প্রথমবার আমার পরিবারের কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করল, “তুমি ঠিক আছো?” এরপর জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কী করবে?

তোমার কি কোনো প্ল্যান আছে?” কারণ আমার কিছু ই ছিল না, শুধু আমার তিন সন্তান ছিল এবং আল্লাহর কসম, আমি তার বাসা ছেড়ে যেতে চাইছিলাম না। আর আমি সেখানে বসে ভাবছিলাম, “খোদা, আমি যদি আমার ইসলাম লুকিয়ে রাখি? ইসলাম কি শুধু আমার অন্তরেই আছে?” কিন্তু যদি আমাকে বাসায় ফিরে আসতে হয়?

কারণ তারা আমাকে ভালোবাসে আর আমি ও থাকতে চাচ্ছিলাম। আমি তার বাসা ছেড়ে যেতে চাচ্ছিলাম না। আমি তার বাসায় থাকতে চাচ্ছিলাম। আমি সব ছেড়ে দিতে চাচ্ছিলাম। আমার দ্বীনকে না। আমি ভেবেছিলাম আমি সেটা লুকিয়ে রাখতে পারব। আমি উপরতলায় গিয়ে নামাজ পড়ে নিব, যখন কেউ দেখবে না। আর আমি বাসায় ফিরে যেতে চেয়েছিলাম। ক্বদরআল্লাহ, আমার নানী, যিনি আমাকে দশ বছর ধরে দেখেননি, উনি অনেক বয়স্ক। উনি ঘর থেকে বের হলেন আর আমাকে দেখে ফেলতেন। আর আমার খালা আমাকে বললেন, “জলদি চলে যাও, দৌড়ে ফালাও, অন্যথায় উনি যদি তোমাকে দেখে ফেলেন…” “উনি অনেক বয়স্ক, আমরা জানি না কী হতে পারে।” উনি আমাকে বের হয়ে যেতে বাধ্য করলেন। পেছনের দরজা, পিছনের গেটে, যাও। আর আমাকে বের হয়ে যেতে হলো। কোনো বিদায় বা কিছু ই দেওয়া হলো না। আমি বাসা থেকে বের হলাম। গাড়িতে উঠলাম। আর সবার আগে আমার প্রতিক্রিয়া ছিল, আমার কাউকে ফোন দিতে হবে কারণ এখন আমি বাসায় থাকতে চাই। আমি আমার পরিবারের কাছে যেতে চাই। আমার কিছুই নেই। আমার কেউ নেই। প্রথমেই আমি আমার সবচেয়ে ধার্মিক বান্ধবীকে ফোন করলাম। আর সে ধরলো না। কারণ আমি চেয়েছিলাম সে আমাকে বলুক, “না সোনা। সব ঠিক আছে, ঠিক আছে।” তারপর আমি আরেক বান্ধবীকে ফোন করলাম, কারণ তার কুরআন তিলওয়াত খুব সুন্দর আর আমার মনে হচ্ছিল আমার কুরআন শোনা দরকার। সেও ধরল না। আর তারপর ভাবলাম, আমি কতদিন এসব করতে থাকব?

কতদিন আমি এই আশায় বসে থাকব যে আরেকজন এসে আমাকে বাঁচাবে? যখন আল্লাহ নিজে বলেছেন, “আমার কাছে আসো, আমার কাছে আসো। আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ করব।” আপনার সাথে আল্লাহর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তো আমি গাড়িতে বসে আয়াতুল কুরসি পাঠ করলাম। তিন কুল্‌ পড়লাম। আর আমি আল্লাহর কাছে ভিক্ষা চাইলাম যেন তিনি আমাকে দ্বীনের মধ্যে রাখেন। আমি তখন আল্লাহর কাছে ভিক্ষা চাইতে লাগলাম, আমাকে দ্বীনের মধ্যে রাখুন, আমাকে দ্বীনের মধ্যে রাখুন। আমার যাই হোক, সেটা ব্যাপার না। শুধু আমাকে মুসলিম হয়ে মরতে দিন। আমি সেটাই করলাম। আর আমার মনে হয় এটা আবার এমন একটা মুহুর্ত ছিল যখন আমি জানতাম যে, হ্যা, আমি মুসলিম। কারণ শয়তান আপনার কাছে অনেকবার আসবে আর এসে… এসে আপনার ইসলাম নিয়ে আপনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। আমি কি মুসলিম?

আমি কার জন্য মুসলিম হয়েছি? আমি মুসলিম কেন হয়েছি? আমি ইসলামের কীইবা পছন্দ করি?

যখন আপনি দূর্বল এবং হীনম্মন্যতায় ভুগবেন তখন শয়তান আপনার কাছে আসবে। শয়তান আপনার কাছে আসবে। আর এই নয় দশ বছরে আমি দ্বীনের ব্যাপারে যা শিখেছিলাম তার সব সেই মুহুর্তে চলে আসলো। তো একটা কথা আমি বাচ্চাদের বলে থাকি যারা বোঝে না তারা ইসলামের আত্মিক দিকটা অনুভব করে না কারণ তাদের বয়স কম আর জীবন ভালোই কাটছে। আমি তাদের বলি, তবুও শিখো, কারণ তোমরা জানো না যে কোন মুহুর্তে তোমরা হোঁচট খাবে বা যা তোমরা শিখেছিলে আর তোমরা জানতে না কেন শিখেছিলে, ওটা তোমাদের কাছে আসবে আর ওটা তোমাদের রক্ষা করবে, তোমাদের জীবন বাঁচাবে। সেইজন্যে যখন তোমার মা বলবে, “যাও, মাদ্রাসায় যাও।” যখন তোমার মা বলবে, “ইসলাম শিক্ষার ক্লাসে যাও,” যাও। আর যারা ধর্মান্তর হতে চান, শিখুন আপনারা হঠাৎ করেই মুসলিম হতে পারবেন না। “ওহ, আমি আল্লাহকে বিশ্বাস করি।” শুধু তা না। যানুন এবং শিখুন। দ্বীন শিখুন, ভালোভাবে শিখুন। প্রতিদিন শিখুন, অল্প হলেও। কারণ আপনি যখনই হীনম্মন্যতায় ভুগবেন, শয়তান আপনার কাছে আসবে আর আপনাকে দূরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে। আর তখন আপনার সেসব শিক্ষা, হঠাৎ করে আপনার কাছে আসবে আর আপনাকে বাঁচাবে। আর সেটা আমাকে সেদিন বাঁচিয়েছিল। এমন আরো অনেক উদাহরণ আমি আপনাকে দিতে পারব আর ক্যামেরায় আপনাকে সত্যিটাই বলব, এমনও সময় গিয়েছে যখন আমি নিজের ক্ষতি করতে চেয়েছিলাম। একটা উদাহরণ দিই, আমার মনে আছে আমি বাথরুমে ছিলাম আর আমি আমার চেহারার দিকে তাকালাম, আমার তখন ঘৃণা লাগছিলো আর আমি নিজের ক্ষতি করতে চাচ্ছিলাম। বাথরুমে থাকা একটা বাজে ব্যাপার কারণ আপনি বাথরুমে থাকলে আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বনির রাজীম বলতে পারেন না। আপনার মন খারাপ থাকলে কখনোই বাথরুমে যাবেন না। কিন্তু যাই হোক, আমি তখন একটা কথা শুনতে পেলাম, যেন আমার মাথার ভেতর কেউ বলল, “জানালার বাইরে তাকাও!” আর আমি জানালা দিয়ে আকাশটা দেখলাম। আর আমি নিচে দৌঁড়ে গেলাম। দরজা খুললাম। বাগানে গেলাম, আর আকাশের দিকে তাকালাম, উপরে আকাশের দিকে তাকালাম, কারণ আমার কুরআনের একটা আয়াত মনে পড়েছিল…

আমার মনে হয় ওটা কুরআন। হাদীস ও হতে পারে। আল্লাহ সুবহানাহুওয়াতাআলা বলেছেন “যারা বিশ্বাস এনেছে, তারা যেন আকাশের দিকে তাকায়, আর এটা তাদের জন্য একটি নিদর্শন।” আর আমি হাঁটু ভেঙে বসে পড়লাম আর প্রার্থনা করলাম আল্লাহর কাছে, “ইয়া আল্লাহ, আমাকে দ্বীনের মধ্যে রাখুন।” এটাই স্বাধীনতা। এটাই সন্তুষ্টি। যেখানে আপনার কারো উপর নির্ভর করতে হবে না। আপনার কাউকেই দরকার নেই। আপনার জীবনে প্রয়োজন রয়েছে শুধু আল্লাহ তাআলার। আর আমি ঐটা করেছিলাম। আর আমি নিজের ক্ষতি করিনি কারণ আমার আল্লাহ আছে। তো আপনার ১৪ বছরের মুসলিম জীবনের মুহুর্ত গুলোর মধ্যে, কোন মুহুর্তে আপনার মনে হয়েছে যে আপনার পরিবারকে আপনার খুব প্রয়োজন, কিন্তু তাদের কাছে পাননি?

আমার বিবাহিত জীবনের ঝামেলার সময়ে আমি আমার বাবাকে চেয়েছিলাম। আমি উনার কাছে সুরক্ষা চেয়েছিলাম। উনার কাছে নিরাপত্তা চেয়েছিলাম। একজন নারীর কমপক্ষে একজন ভাইয়ের প্রয়োজন হয়, যেমন আমার সেই সময়ে আমার ভাইয়ের প্রয়োজন ছিল। আমি এগুলো অনেক মিস করেছি। জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রেই একজন মাহরামের সুরক্ষা, নিরাপত্তার দরকার রয়েছে। দেখুন, জিনিসটা এমন যে… “ওহ, আমাদের কোনো পুরুষের প্রয়োজন নেই।” জি হ্যাঁ, আপনি অবশ্যই পারেন। যখন তোমার জীবনের প্রত্যেকটা পুরুষ হারিয়ে যাবে, তখন তুমি বুঝবে, যে হ্যাঁ, আমার জীবনে একজন পুরুষের প্রয়োজন আছে। আমার মা, মাকে খুব মিস করেছি যখন আমার ছেলেমেয়ে হয়েছিল। আমি আসলে তখন থেকেই তাকে মিস করেছি যখন আমি কাজ করতে শুরু করলাম, কারণ আমার মা…

তিনি একজন দক্ষ মহিলা। আমি তার থেকে অনেক কিছু শিখতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ আমার অনেক ভালো স্মৃতি আছে আমি তার সাথে অনেক সময় কাটিয়েছি যখন আমার মা অনেক শক্তিমান মহিলা ছিলেন। আলহামদুলিল্লাহ, আমি এখনো তার শিক্ষা ধরে রেখেছি। আমি এখনো আমার মা বাবার দেওয়া অনেক শিক্ষা মেনে চলি কারণ ওগুলো ইসলাম বিরোধী না, তো কেন নয়?

আমি মনে করি প্রত্যেক ধর্মান্তরদের একটা জিনিস জেনে রাখা উচিত, আপনি আপনার পরিবারকে ভালোবাসতে পারেন। রাসূল মুহাম্মাদ (সাঃ) তাঁর চাচাকে ভালোবাসতেন। আমার ক্ষেত্রে, আমি আমার বাবা মাকে বলতে চাই, আমি তোমাদের ভালোবাসি, তোমাদের শ্রদ্ধা করি। আমি এখনো তোমাদের একটা অংশ। আমার মধ্যে তোমাদের রক্ত রয়েছে। তোমাদের দেওয়া শিক্ষাগুলো এখনো আমার কাছে আছে। সেগুলোর কিছুই আমি ছেড়ে দিইনি। এটা অসম্ভব। তোমরা আমার আদর্শ। তোমরা আমার সব। আবার তোমাদের পাশে বসার জন্য আমি সব করতে পারব। তোমাদের সাথে আবার থাকার জন্য। শুধু তোমাদেরকে আমি আল্লাহর আগে রাখতে পারব না। আপনি কি কখনো কোনো আশ্চর্য ঘটনার সম্মুখীন হয়েছেন যখন আপনার মনে হয়েছে যে আপনার আল্লাহর সাথে বিশেষ সম্পর্ক আছে?

আমার মনে হয় আমি আমার জীবনের কষ্টের কথাগুলো বেশি বলে ফেলেছি। আমি আপনাকে এখন আল্লাহ তাআলা আমাকে যেসব রহমত দিয়েছেন, সেগুলোর কথা বলব, আলহামদুলিল্লাহ। এখানে… আপনাকে দুটো সময়ের কথা বলব। একটা সময় ছিল যখন আমি অনেক কষ্ট করছিলাম, ঠিক আছে?

আমি জীবনে অনেকবার কষ্ট করেছি, সুবহানআল্লাহ। একজন আমাকে বলেছিল, “দেখো, যখন তুমি অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে যাও, তুমি তোমার ঘুমন্ত বাচ্চাদের কাছে যাবে আর তাদের দেখবে।” আর আমি সেটা করলাম। তো আবার একটা সময় ছিল যখন আমি জীবনের আশা ছেড়ে দেওয়ার জন্য রেডি হয়ে গিয়েছিলাম। তখন আমি নিজেকে ঘৃণা করতাম, ভাবতাম আমি মানুষের উপর বোঝা হয়ে আছি। যাই হোক, আমি প্রথমে আমার মেয়ের ঘরে গেলাম, তখন তার বয়স ছিল এগারো, কিন্তু এখনো, যখন সে ঘুমায়, তাকে দেখতে পাঁচ বছরের ছোট্ট মেয়ের মতো মনে হয়। সুবহানআল্লাহ। আমার মেয়ে। এটা আমার মেয়ে। আল্লাহ তাআলা আমাকে একটা কন্যা সন্তান দিয়েছেন। আল্লাহ আমার মাধ্যমে একটি জীবনকে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন। তারপর আমি আমার ছেলেদের ঘরে গেলাম, তারা তখন গভীর ঘুমে ছিল। আমার মনে সূরাহ মুলকের সেই আয়াতটি আসলো। “খুব অল্পই তারা শুকরিয়া আদায় করে।” আমি ভাবলাম আমি কেন অভিযোগ করছি?

কেন আমি নিজেকে ঘৃণা করছি যখন আল্লাহ আমাকে এমন নিয়ামত দিয়েছেন, আমার তিন সন্তান। সেই মুহুর্তে আমি নিজেকে আল্লাহর খুব কাছে অনুভব করছিলাম কারণ আমি তাঁর নিয়ামত উপলব্ধি করতে পেরেছিলাম। কারণ আমি তাঁর শুকরিয়া আদায় করছিলাম আর সেটা আমাকে তাঁর কাছের অনুভব করিয়েছিল। আমাদের রাসূল (সাঃ) এর কোন জিনিসটি আপনাকে মুগ্ধ করেছিল?

তাঁর চরিত্র। সবসময়ই তাঁর চরিত্র। সবসময়ই তাঁর চরিত্র, নারীদের প্রতি তাঁর ব্যবহার। নারীদের তাঁর ব্যবহার এমন ছিল যে তিনি ঐ লোকের সাথে কথা বলতে চাইতেন না যে তার কন্যাকে চুমো দেয় না। মূলত তিনি তাঁর স্ত্রীদের আবেগ দেখাতে দিতেন, অনুভূতি প্রকাশ করতে দিতেন আর সেগুলোর সাথে সর্বোত্তম পদ্ধতিতে মানিয়ে চলতেন। তিনি তাঁর এক সাহাবীর বাড়িতে খেতে যাননি কারণ আয়িশা (রাঃ) কে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। সবকিছু , তাঁর নম্রতা, তাঁর ন্যায়, যখন তিনি স্ত্রীদের সাথে থাকতেন, ঘরে তাঁর নম্রতা, আর যুদ্ধের ময়দানে তাঁর শক্তি। তাঁর দূর্বলতা, যখন তিনি তায়েফে ছিলেন, যখন তিনি সাহায্যের জন্য গিয়েছিলেন। আর তার বদলে দেখুন কী হয়েছিল তাঁর সাথে। মূলত তিনি কাঁদতে পারতেন। এখনকার পুরুষ মানুষেরা ভাবে, “আমরা কাঁদতে পারব না। আমাদের শক্ত হতে হবে…” না, তিনি কাঁদতেন। এখন আমরা লিঙ্গের কথা বলি আর পুরুষ কী, নারী কী। হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) কে দেখুন বর্তমানে আমি ইয়াসির কাদ্বী'র লেখা বই “হিজ সীরাহ” পড়েছি আর প্রত্যেকটা অনুচ্ছেদে আমি কিছু না কিছু শিখেছি। কী চমৎকার একটা বই!

আমি সবাইকে সেটা পড়তে বলি। সবকিছু … তাঁর মৃত্যুশয্যার পাশে আয়িশা (রাঃ) নিজের মাথাব্যথা নিয়ে অভিযোগ করছিলেন, তিনি তাঁর মাথাব্যথা নিয়ে অভিযোগ করছিলেন, তখন তিঁনি মজা করে বললেন, “না, তাহলে আমার মাথাব্যথার কী হবে? আমি তো মারা যাচ্ছি, তাই না?” আর সুবহানআল্লাহ, এত… তিনি এতকিছুর মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন, যাতে আমরা ভালো হতে পারি আর জান্নাতে যেতে পারি। তাঁর ত্যাগ, তাঁর পরিবারের মাধ্যমে, তাঁর সম্পদের মাধ্যমে তিনি যেসব পরীক্ষার মধ্য দিয়ে গিয়েছেন। কীসের জন্য? আমাদের জন্য। ইসলাম গ্রহণের আগে আপনার জীবনের লক্ষ্য কী ছিল আর ইসলামের পর তা কী হয়েছে?

খোদা, আমার উদ্দেশ্য হল বাড়ি যাওয়া। আমি বাড়ি যেতে চাই, আল্লাহর কাছে। বাড়ি যেতে চাই। আমি শুধু বাড়ি যেতে চাই। আর আমি চাই আল্লাহ তাআলা আমাকে যেন আমার পরিবার দিয়ে দেন যখন আমি সেখানে যাবো। আর এটাই আমার উদ্দেশ্য। ইয়া আল্লাহ, আমাকে আমার পরিবার দিয়ে দিন। এটা তো শুধু দুনিয়া। আমি নিজেকে সবসময় এটাই বলি। এটা তো শুধু দুনিয়া। শুধু দুনিয়া। আপনি চিরকালের জন্য এখানে থাকবেন না। শুধু বাড়ি যেতে চাই। শেষে, আপনি ঐসকল মানুষকে কী বলতে চান যারা আপনাকে দেখছে, যাদের হৃদয় ইসলামের নিকট আসছে কিন্তু তাঁরা পরিবার ও কাছের মানুষদের প্রতিক্রিয়াকে ভয় পাচ্ছে? আপনার শেষ লক্ষ্যটি মাথায় রাখুন। শেষ লক্ষ্যটি হলো…

আপনার যদি কণা পরিমাণও ঈমান থাকে, যদি আপনি অল্পও অনুভব করে থাকেন, আপনার শেষ লক্ষ্য হলো জান্নাতে যাওয়া। যদি আপনি সত্যিই বিশ্বাস করেন, যে আল্লাহ্‌ আছে, আমি বলব প্রথমে নিজেকে শিক্ষা দিন। সেই অল্প ঈমানকে ধরে রাখুন আর শিখুন। শয়তান এসে সেই অল্পটু কুও যেন নষ্ট করে দিতে না পারে, কারণ প্রথম দিকে সে অনেক চেষ্টা করবে সেটা করার। শয়তান অনেক চেষ্টা করবে আপনার কাছে এসে আপনাকে দূরে টেনে নিয়ে যেতে। তো শিখুন, নিজেকে শিক্ষা দিন। নিজের লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। মনে মনে টার্গেট সেট করুন। আপনাকে বলছি যে, আমি আমার মাথার ভেতর আওয়াজ শুনতে পাই। আমি কখনো মাথায় নিজের সাথে কথোপকথন করে থাকি যেখানে খারাপ কথাও আছে ভালো কথাও আছে, আর কখনো আপনাকে সেটাই করতে হবে। আপনাকে জোরে বলতে হবে, বুঝলেন?

“ইয়া আল্লাহ, আমার আপনার সাহায্য দরকার।” “আমাকে সরল পথে পরিচালিত করুন।” যদি আপনার মনে প্রশ্ন থাকে, “আমি কি করব, নাকি করব না, কারণ আমার পরিবার কী বলবে?” জেনে রাখুন যে আপনি একাই মারা যাবেন আপনার পরিবার আপনার সাথে থাকবে না যখন কিয়ামতের দিন আপনাকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে। আর আপনি যদি কিয়ামতে বিশ্বাস না করেন, কারণ অনেকেই করে না, বুঝলেন? তখন ভাবুন, এই দুনিয়াতে আমি আমার পরিবার থেকে কী সুবিধা পাচ্ছি? আর আমি আত্মিকতা, ঈশ্বরে বিশ্বাস করা থেকে কী সুবিধা পাচ্ছি?

আমি এই পর্যায়ে এসে বলব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হলো শেখা। শিখতে থাকুন আর তাতেই আপনি পৌঁছতে পারবেন। আর আপনার মনে একনিষ্ঠ লক্ষ্য রাখুন যে আপনি সেখানে যেতে চান। আল্লাহ বলেন, “আমার দিকে এক পা বাড়াও। দাঁড়িয়ে থেকো না” আপনি যদি মুসলিম হওয়ার চিন্তা করেন, এক পা বাড়ান, আর আল্লাহ আপনার কাছে দৌঁড়ে আসবেন।