কবরে প্রথম রাত | কিয়ামতের দিন বিষয়ক AI সিরিজ - পর্ব ১
প্রকাশের তারিখ
আমরা আপনাদের জন্য সম্পূর্ণ নতুন একটি সিরিজ নিয়ে এসেছি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে এই সিরিজকে প্রাণবন্ত করে তোলা হয়েছে। কিয়ামতের দিন। কবরের জীবন। আমাকে এখান থেকে বের করো! মান রাব্বুকা? (তোমার রব কে?) তোমার রব কে? আমাকে এখান থেকে বের করো! পৃথিবীর শেষ দিন, কিয়ামতের দিন, এবং জান্নাত ও জাহান্নাম। ধাপে ধাপে আমরা মৃত্যুর পরের জীবনকে এমনভাবে সামনে আনবো, যেন আমরা নিজেরাই সেই মুহূর্তগুলোর মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। মৃত্যুর ঠিক আগের শেষ কয়েক সেকেন্ডে কী ঘটবে? কবরে আমরা কোন বিষয়গুলোর সম্মুখীন হব? যে দিনটি পৃথিবীর শেষ দিন হবে অথবা যখন পুনরুত্থিত হয়ে কিয়ামতের ময়দানে সকলে একত্রিত হব, সে দিন আমরা কী অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাব? জান্নাত এবং জাহান্নামে মানবজাতির জন্য কীই-বা অপেক্ষা করছে?
মৃত্যুর পরের চিরস্থায়ী জীবন নিয়ে আপনাদের সকল প্রশ্নের উত্তর থাকবে এই ভিডিও সিরিজটিতে। আপনি প্রস্তুত থাকলে, চলুন শুরু করা যাক। মৃত্যুর মুহূর্ত। যে দিনটি থেকে আপনি সারাজীবন পালিয়ে বেড়িয়েছেন, সেই দিনটি আজ উপস্থিত। যে দিনটি সম্পর্কে আপনি কখনও ভাবতেও চাননি, আজ সেই দিনেই আপনার ঘুম ভাঙে। আর তখনই, আপনার দিকে এগিয়ে আসছে মৃত্যুর দূত। চারদিকে ঘন অন্ধকার। সময়টা ভোর হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্ত। আপনার বুকের ব্যাথাটা যেন আজ আপনাকে শেষ করে ফেলবে। আপনার শরীর নড়াচড়া করাতে পারছেন না। মনের মধ্যে প্রচণ্ড অস্থিরতা কাজ করছে। আপনার শৈশব, কৈশোরকাল, এবং বর্তমানে আপনার পরিচয়, সবকিছু যেন এক ঝলকে আপনার চোখের সামনে ভেসে উঠছে। আপনি হাঁপাচ্ছেন, শ্বাস নেয়ার প্রাণপণ চেষ্টা করছেন। আপনার ঠোঁট শুকিয়ে গেছে। আপনার মনে হচ্ছে গলায় কিছু একটা আটকে আছে। "আমার এমন কেন লাগছে?" আপনি বিভ্রান্ত আর আতঙ্কিত। আপনার আশেপাশে যা ঘটছে আপনি তার কিছুই বুঝতে পারছেন না। হঠাৎ আপনার আপনজনেরা আপনার চারপাশে জড়ো হয়। তাদের একজন আপনার হাত শক্ত করে ধরে আছে, আর অন্যরা অশ্রুসিক্ত চোখে আপনার জন্য দোয়া পড়ছে। কেউ একজন আপনাকে পানি দিতে চাচ্ছে, কিন্তু তার হাত কাঁপছে। তাদের চোখে মুখে অসহায়ত্ব আর বিষণ্ণতা, চেহারায় যেন নিঃশব্দ বিদায়ের এক আভা। অন্যদিকে, আপনার মনে হচ্ছে সময় যেন ধীরে ধীরে থেমে যাচ্ছে। চারপাশের শব্দগুলো ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে যেন পৃথিবীটা নিঃশব্দে আপনাকে বিদায় দিচ্ছে। যেমনটা আল-কুরআনের এই আয়াতে বলা হয়েছে, "প্রতিটি প্রাণ মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবে।" আপনার চিন্তাগুলো ধীরে ধীরে অস্পষ্ট হয়ে আসছে। আপনার শরীরের নড়াচড়া করার ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। গলায় আটকে থাকা শ্বাসের কারণে আপনার পুরো দেহটা যেন অবশ হয়ে যাচ্ছে। সে মুহূর্তে আপনার মনে একটাই বিষণ্ণতা ভর করে— আপনি দুশ্চিন্তা করেন - আমার মৃত্যুর পর কী ঘটবে?
আর তখনই শুরু হয় শয়তানের সর্বশেষ আক্রমণ। এই মুহূর্তটিই বলা হয় ‘সাকারাতুল মাউত’— অর্থাৎ মৃত্যুযন্ত্রণার সময়। আপনি কি তখন আপনার ঈমান ধরে রাখতে পারবেন? আপনি কি আপনার ঈমান রক্ষা করতে পারবেন? নাকি অনেকে হতভাগার মতো শেষ নিঃশ্বাসের সঙ্গেই আপনার ঈমান হারিয়ে ফেলবেন?
আপনার শরীরের পেশিগুলো তাদের শক্তি হারাচ্ছে। আপনার শরীর, হাত ও পা ঠান্ডা হয়ে আসছে। আপনার শরীরের রঙ ফিকে হয়ে, নিস্তেজ দেখাচ্ছে। আর সেই মুহূর্তেই শয়তান আপনার কাছে আসে। প্রিয় নবী (সাঃ) প্রায়ই এই দোয়া করতেন— “হে আল্লাহ, আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাইছি, পথভ্রষ্ট হওয়া থেকে।” “মৃত্যুর মুহূর্তে শয়তানের প্ররোচনা থেকে।” সেই মুহূর্তে শয়তানের সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা হলো— আপনি যেন বেঈমান অবস্থায় কবরে প্রবেশ করেন। এই কারণেই সে তার শেষ ধোঁকাবাজি লুকিয়ে রাখে জীবনের একেবারে শেষ মুহূর্তের জন্য। হয়তো সে আপনাকে অন্য কোন ধর্মের দিকে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করবে, অথবা আল্লাহ তায়ালার বিরুদ্ধে কোনো অবাধ্য কথা বলাতে চেষ্টা করবে। সে আপনার কানে ফিসফিস করে বলে...
“তোমার সুস্থতার জন্য এরা কতদিন ধরে দোয়া করছে, কিন্তু দেখো তোমার অবস্থা— তোমার শরীর তো কেবলই খারাপের দিকেই যাচ্ছে। এখন তোমার আল্লাহ কোথায়? তুমি কি সত্যিই বিশ্বাস করো, সে তোমার কথা শুনছে?” এর আগেও অগণিত মানুষ তাদের ঈমানের অবস্থা অনুযায়ী এমন মুহূর্তের মধ্য দিয়ে গেছেন। আর এখন, আপনার পালা। ভাবুন তো, প্রিয় নবী (সাঃ) নিজেও মৃত্যুর আগে শয়তানের ধোঁকা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চেয়েছিলেন —এতেই কি বিষয়টির গুরুত্ব বোঝা যায় না?
আসলে, আপনার ঈমান (বিশ্বাস) যত দৃঢ় হবে, মৃত্যুর সময় শয়তানের ধোঁকার বিপরীতে আপনার প্রতিক্রিয়াও ততটাই শক্তিশালী হবে। বলতে গেলে, “আপনি যেমন জীবন যাপন করবেন, আপনার মৃত্যুও তেমনই হবে।” আমরা সারা জীবনে রুহ বা আত্মাকে যেসব কাজের ভেতর ঢুকিয়ে রাখি, মৃত্যুর সময় আমাদের মুখ সেসবের কথাই উচ্চারণ করবে। “ওহ না!
আমি এই দুনিয়ার জীবনের চাকচিক্যে প্রতারিত হয়েছি।” যে ব্যক্তি তার রুহকে দুনিয়ার জীবনের আকাঙ্ক্ষায় পূর্ণ করেছে, সে মৃত্যুর সময়ও সেই কথাগুলোই উচ্চারণ করবে। “আমার টাকা, আমার সম্পদ, আমার খ্যাতি।” কিন্তু মুমিন ব্যক্তি, যে সারা জীবন মন থেকে আল্লাহকে ভালোবেসেছে এবং সেই অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করেছে, সে মৃত্যুর সময় তার রবকে স্মরণ করবে ও তাঁর নাম নেবে। “ইয়া রব (হে প্রভু), ইয়া লাতিফ (হে দয়াময়), ইয়া রহমান (হে পরম দয়ালু),” “ইয়া আল্লাহ।” আপনি হয়তো ভাবছেন, “কিন্তু আমার তো ইতিমধ্যেই ঈমান আছে।” আসলে, আপনার এমন মজবুত ঈমানের প্রয়োজন যা গভীরভাবে হৃদয়ে গাঁথা। এবং যা আপনার মন সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত হয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছে। ধরুন, আমার হাতে একটি আপেল আছে, এবং একজন চোর যেভাবেই হোক না কেন, সেটা চুরি করতে চায়। এখন আমি যদি আপেলটা শুধু হাতে ধরে রাখি, আর যতই চেষ্টা করি না কেন সেটি রক্ষা করতে, চোর সহজেই সেটা ছিনিয়ে নিতে পারবে। কিন্তু যদি আমি এটা খেয়ে ফেলি, তাহলে এটা হজম হয়ে আমার শরীরে চলে যাবে, তখন চোর চাইলেও আর আপেলটা চুরি করতে পারবেনা। তাই, আপনি যদি আপনার ঈমান শুধু বাহ্যিকভাবে না ধরে রেখে, আপনার হৃদয়, মস্তিষ্ক এবং রূহে প্রবেশ করান, তাহলে আল্লাহর ইচ্ছায়, শয়তান আপনার মৃত্যুর সময় কোন ক্ষতি করতে পারবে না। কিন্তু আপনি যদি পরকালে বিশ্বাসের দাবী করেন, আবার এমন জীবন যাপন করেন যেটা দেখে মনে হয় পরকাল বলে কিছুই নেই; যদি আপনার কাজে এবং কথায় মিল না থাকে, তাহলে সম্ভবত আপনার নিজেকে প্রশ্ন করার সময় চলে এসেছে। এখানে অনন্তকালের জন্য আপনার ভালো অথবা খারাপ থাকার ব্যাপারে কথা হচ্ছে, অথচ আপনি এখনো ব্যাপারটাকে গুরুত্ব সহকারে দেখছেন না। তাহলে মৃত্যুর সময় আর কী কী ঘটবে?
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, "নিশ্চয় যারা বলে, ‘আল্লাহই আমাদের রব’ অতঃপর অবিচল থাকে, ফেরেশতারা তাদের কাছে নাযিল হয় এবং বলে, ‘তোমরা ভয় পেয়ো না, দুশ্চিন্তা করো না। এবং সেই জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ কর যার ওয়াদা দেয়া হয়েছিল তোমাদেরকে’।” একজন ঈমানদার বান্দার কাছে ফেরেশতারা সম্পূর্ণ সাদা পোশাকে সজ্জিত হয়ে, উজ্জ্বল ও সুন্দর মুখাবয়ব নিয়ে, মিষ্টি সুবাসে সুবাসিত হয়ে আসেন। কিন্তু যে ব্যক্তি ঈমান ছাড়া জীবন কাটিয়েছে, তার জন্য এ এক ব্যথায় ভরা মুহূর্ত। যা কিছু তারা অস্বীকার করত এখন তারা সেসব কিছুরই মুখোমুখি। না! না! দয়া করে, আমার কাছে আসবে না! দূরে যাও! আমি ঈমান আনছি! আমি বিশ্বাস করি আল্লাহ সত্য! দয়া কর! আমাকে শুধু আর একবার সুযোগ দাও! আমার বন্ধুরা সব কোথায়? আমার সঙ্গীরা কই?
আমাকে বাঁচানোর মতো কেউ কি নেই?
কিন্তু এই মানুষটার জন্যে ভীতিকর ব্যাপারগুলোর এটা কেবল শুরু। মৃত্যুর পরে কি হয়, সে ব্যাপারে এখন কথা বলা যাক। মৃত্যুই শেষ নয়। এটি অস্তিত্বের বিনাশ নয়। এটা শুধুমাত্র এক জগৎ থেকে অন্য জগতে স্থানান্তরিত হওয়া। যেমন আমরা এক বাড়ী থেকে অন্য বাড়ীতে প্রবেশ করি। এটা এক ভিন্ন জগতের যাত্রা। প্রতি বছর আল্লাহ তায়ালা শীতকালে পৃথিবীকে মৃত্যুবরণ করান এবং গ্রীষ্মকালে জীবন দান করেন। তেমনিভাবে তিনি সকল মানুষকেও মৃত্যু দেবেন যাতে হাশরের ময়দানে তাদের সবাইকে সমবেত করতে পারেন। আর হাশরের ময়দানে উপস্থিত হবার পূর্বে আমরা আলমে বারজাখ নামক এক স্থানে অবস্থান করবো। আমাদের প্রিয় নবী (সাঃ) বলেছেন, “কবর তো হল জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগান, কিংবা জাহান্নামের গহ্বর সমূহের একটি গহ্বর।” হ্যাঁ, আপনি এখন মৃত্যুবরণ করেছেন। আপনার প্রাণহীন দেহ গোসল দেওয়ার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আপনার লাশ গোসলের অপেক্ষায় ঠাণ্ডা মেঝেতে পড়ে আছে। আপনার কাফন, খাটিয়া সবই তৈরি। দরজার বাইরে আপনার পরিবার অপেক্ষা করছে। আপনার মা, বাবা, ভাইবোন, স্ত্রী, সন্তান, কেঁদে কেঁদে তাদের চোখ লাল হয়ে যাচ্ছে, তারা দুঃখে কিছু বলতে পর্যন্ত পারছেননা। কিন্তু শীঘ্রই তারা আপনার খাটিয়া তাদের কাঁধে তুলে মসজিদের প্রাঙ্গণে নিয়ে যাবে। "অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, আমাদের প্রতিবেশী আহমেদ মিদিয়াত ইন্তেকাল করেছেন। তার জানাজার নামাজ আজ, বাদ জোহর আমাদের মসজিদে পড়ানো হবে। তার সকল আত্মীয়, শুভাকাঙ্ক্ষী, ও প্রতিবেশীদেরকে জানাজায় অংশগ্রহণ করার জন্য আহ্বান করা যাচ্ছে। আল্লাহ তার আত্মার মাগফিরাত দান করুন।" সারা জীবন যে জানাজার ঘোষণা শুনে এসেছেন তা এবার আপনার জন্যে দেওয়া হচ্ছে। খবরটা শুনে অনেকে অবাক হয়ে যান, বলেন "তিনি মারা গেছেন?" তারা কিছুক্ষণের জন্য নীরব হয়ে যান, তারপরে তাদের কাজে ব্যস্ত হয়ে যান। মানুষ আপনার জানাজার নামাজ পড়তে সারি করে দাঁড়িয়ে গেছে। ওরে আমার ছেলে!
আপনার খাটিয়া আবার তোলা হয়। এবার সেটা আপনার কবরের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। যা ইতিমধ্যেই খোঁড়া হয়ে গেছে। এটাই আপনার নতুন বাড়ী, যা আপনার জন্যে অপেক্ষা করছে। আপনার প্রিয়জনের মধ্যে কেউ একজন আপনার শরীর ডান দিকে ঘুরিয়ে দেয় মুখ কিবলার দিকে ফিরিয়ে দেয়। তারপর তিনি কবর থেকে বের হয়ে কাঠের খণ্ড দিয়ে আপনার লাশ ঢেকে দেন। আর তার হাত দিয়ে প্রথমবারের মতো একমুঠো মাটি কবরে ফেলেন। রুহ এর সবকিছুই দেখতে পায়। সবকিছুই। রুহ তার শরীর গোসল দেওয়া দেখে, জানাজার নামাজ পড়া দেখে, খাটিয়ায় কবরস্থান পর্যন্ত বহন করা দেখে। কে কে এসেছে কি কি বলছে সবই শুনতে পায়। সবাই যখন কবরস্থান ছেড়ে চলে যেতে শুরু করে, রুহ তাদের পায়ের শব্দ শুনতে পায়। নবী করিম (সাঃ) বলেছেন, তিনটি বস্তু মৃত ব্যক্তি অনুসরণ করে। দু’টি ফিরে আসে, আর একটি তার সঙ্গে থেকে যায়। তার পরিবারবর্গ, তার মাল ও তার আমল তার অনুসরণ করে। তার পরিবারবর্গ ও তার মাল ফিরে আসে, এবং তার আমল তার সঙ্গে থেকে যায়। মৃত বেক্তি যদি ধার্মিক হন, তাহলে তিনি চাইবেন তার দাফন কার্যক্রমে বেশি সময় না লাগুক। যত দ্রুত সম্ভব কবরের জীবনের শান্তি উপভোগ করতে তিনি উদগ্রীব হয়ে থাকেন। কিন্তু যদি সে পাপিষ্ঠ হয়, তাহলে সে চায় দাফন কার্যক্রম শেষ হতে যেন অনেক সময় লাগে। যারা আপনার সঙ্গে কবর পর্যন্ত এসেছিল, তারাও একসময় ফিরে চলে যায়। এবার আপনি সম্পূর্ণ একা। এখন আপনার বারজাখের (মধ্যবর্তী জগৎ) জীবন শুরু হয়ে গেছে। বারজাখ একেবারে ভিন্ন একটি জগৎ, যা এই জীবন ও পরকালের মধ্যে একটি দেয়াল। মৃত্যুর সাথে সাথে এই জীবনের শুরু হয় আর কিয়ামতের দিন শেষ হয়। অনেকটা পরকালের ওয়েটিং রুমের মতো। কোন মানুষের মৃত্যু যদি সমুদ্রে ডুবে হয় এবং তার লাশ হারিয়ে যায় অথবা আগুনে পুড়ে লাশ ছাই হয়ে যায় এবং ছাইগুলো ছড়িয়ে যায়, তাতে তার আত্মার কিছু হয়না, এটা যেমন ছিল তেমনই থাকে। মহান আল্লাহর জ্ঞান থেকে কোন কিছুই লুকানোর কোন উপায় নেই। প্রত্যেককে তাদের কর্ম অনুযায়ী প্রতিফল পেতে হবে। এই বিষয়টি নবী (সাঃ) এক হাদিসে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন: “মুমিন বান্দা দুনিয়ার জীবন শেষ করে পরকালের দিকে যখন ফিরে চলে, তখন আসমান থেকে খুবই আলোকোজ্জ্বল চেহারার কিছু মালায়িকাহ্ তার কাছে যান। তাঁদের চেহারা যেন দীপ্ত সূর্য। তাঁদের সাথে কাফন ও জান্নাতের সুগন্ধি থাকে। তারা তার দৃষ্টির দূর সীমায় বসবে। তারপর মালাকুল মাওত আসবেন, তার মাথার কাছে বসবেন ও বলবেন, “হে পবিত্র আত্মা!
আল্লাহর মাগফিরাত ও তার সন্তুষ্টির কাছে পৌঁছবার জন্য দেহ থেকে বেরিয়ে আসো।" তারপর তার রুহ খুব সহজেই কবজ হয়, আর তা সে দেখতে পায়। কবজ হবার সাথে সাথে, অন্য ফেরেশতারা মালাকুল মাওত এর কাছ থেকে তার আত্মাটা নিয়ে নেয়, এক মুহূর্তের জন্যও দেরি করেনা। তারপর তারা তাকে সেই লেবাস এবং সুগন্ধি পরিয়ে দেয়। এর থেকে এমন সুঘ্রাণ আসে এ যেন পৃথিবীর বুকে পাওয়া সবচেয়ে মিষ্টি সুমধুর কস্তুরী। তারপর তাকে ঊর্ধ্ব আসমানের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। তারা যখনই কোনো ফেরেশতার দলকে অতিক্রম করে, সেই ফেরেশতারা জিজ্ঞেস করে, 'এই পরিশুদ্ধ আত্মা কে?' তাকে বহনকারী ফেরেশতারা তাকে এই দুনিয়ায় যে সব ভালো নামে ডাকা হতো সেইসব নামে ডাকতে থাকে। যখন তারা আসমানে পৌছায় তখন সকল আসমানের দরজা তাদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। প্রতি দরজায় ফেরেশতারা তার রুহকে সম্ভাষণ জানায়। তারপরে আল্লাহ বলেন, “এ বান্দার আমলনামা সৎকর্মশীলদের স্থান লিখে রাখো- আর রূহকে জমিনে পাঠিয়ে দাও। আমি তাদেরকে মাটি হতে সৃষ্টি করেছি। আর মাটিতেই তাদেরকে ফেরত পাঠাব। আর এ মাটি হতেই আমি তাদেরকে আবার উঠাব।" আবার এ রূহকে নিজের দেহের মধ্যে পৌঁছিয়ে দেয়া হয় বারজাখে, আর সেখানে, মুনকার আর নাকির নামে দুইজন ফেরেশতা প্রশ্ন উত্তর পর্ব শুরু করেন। মান রাব্বুকা?
তোমার রব কে? আমার রব আল্লাহ, জীবিত থাকতে আমি যার ইবাদত করতাম। তোমার দীন কি? আমার দীন ইসলাম। এই মানুষটি কে যাকে তোমাদের মধ্যে প্রেরণ করা হয়েছিল?
তিনি আল্লাহর রাসুল, মুহাম্মদ (সাঃ) এভাবেই একজন সত্যিকার ঈমানদার সব প্রশ্নের সব সঠিক জবাব দেবেন। একজন ইমানদারের জীবনের সকল নামাজ সকল ভালো কাজ তাকে তার কবরে সঙ্গ দিতে আসে। যখন মুনকার এবং নাকির তাকে প্রশ্ন করতে আসেন, তার মাথার কাছে এক নুর এসে বসে পড়ে। যা তার জীবদ্দশায় পড়া নামাজ। তারপর একে একে তার উপর ভালো কাজ গুলোও সামনে আসতে থাকে। তার সাওম তার ডানে, যাকাত বামে, অন্যান্য ভালো কাজগুলো তার পায়ের কাছে এসে দাঁড়িয়ে যায়। প্রত্যেকেই দাঁড়িয়ে যায় তার রুহকে রক্ষা করতে, যাতে কবর তার হাড় ভেঙ্গে দিতে না পারে, কোনরকম যন্ত্রণা অথবা কষ্ট দিতে না পারে। প্রশ্ন উত্তর পর্বের পরে, ইমানদাররা যখন সব সঠিক উত্তর দিতে পারে, জান্নাতের একটা জানালা তার জন্য খুলে দেওয়া হয়। তারপর আল্লাহ তার কবরকে প্রশস্থ হতে নির্দেশ দেন, যতদূর চোখ যায় ততদুর পর্যন্ত, এবং একটা জান্নাতি বিছানা তার জন্য প্রস্তুত করা হয়। তারপর তার কবরের এক পাশে, জানালার মতো খুলে যায় ঈমানদারদের চিরস্থায়ী আবাস জান্নাতের দৃশ্য দেখানো হয়। তার হৃদয় প্রশান্তিতে ভরে যায়, এবং সে বিচার দিবসের দিন পর্যন্ত জান্নাতের দৃশ্য দেখতে থাকে। কিন্তু এর আরেকটি দিকও আছে, যন্ত্রণাদায়ক সেই দিক, যা অপেক্ষা করে তাদের জন্য যারা বেঈমান অবস্থায় মৃত্যু বরণ করে, এবং যাদের জীবন ছিল মহাপাপে পরিপূর্ণ। আমাকে আমাকে এখান থেকে বের কর!
মান রব্বুকা? তোমার রব কে? আমাকে আমাকে এখান থেকে বের কর! তোমার দীন কি? এই মানুষটি কে যাকে তোমাদের মধ্যে প্রেরণ করা হয়েছিল?
কবরের মধ্যে, মূলত মস্তিষ্ক থেকে উত্তর আসেনা, আসে হৃদয় থেকে। মানুষটি আল্লাহর কাছে তার অবস্থান অনুযায়ী উত্তর দেয়। যদি সে আল্লাহর ধর্ম ও তাঁর রসূলকে অস্বীকার করে থাকে, তবে সে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে পারবে না। যদিও সে মুসলিম হয়ে থাকে, যদি তার জীবন পাপাচারে ভরা থাকে, উত্তর দিতে গেলে তার জিহ্বা নড়বে না। কারো কারো জন্য এটা ফেরেশতাদের সাথে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়ে থাকে, কিন্তু কারো কারো জন্য এটা এক বিভীষিকাময় জিজ্ঞাসাবাদ। জাহান্নামের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, এবং তাকে ভিতরের শাস্তি প্রদর্শন করা হয়। এবং সে কবরের যন্ত্রণা ভোগ করা শুরু করে। জাহান্নামের আগুনের তীব্র উত্তাপ এবং গন্ধ তার কাছে পৌঁছায়। কবর সংকীর্ণ হয়ে আসে এবং তাকে চেপে ধরতে শুরু করে। এরপর একটি অন্ধকার মুখ ও নোংরা পোশাক পরিহিত ব্যক্তি পাপী আত্মার সামনে উপস্থিত হয় এবং বলে, "তোমাকে এই দিনের প্রতিশ্রুতিই দেওয়া হয়েছিল।" আত্মাটি ভীতির সাথে জিজ্ঞেস করে, "কে তুমি?" "আমি তোমার পাপকাজঃ যে সুদ তুমি খেয়েছ, যেসব গিবত তুমি করেছ, যেসব হারাম জিনিস তুমি দেখেছ। তুমি ভয় কেন পাচ্ছ?
এতো বছরে তুমি কি আমাকেই কামনা করনি?
এইতো, আমি এখানে, তোমার সামনে দাঁড়িয়ে আছি।" এসব দেখে সে প্রার্থনা করে, "হে আমার রব, আপনি কেয়ামত কায়েম করবেন না!" যাইদ ইবন সাবিত বলেছেন, "আমরা নবী করিম (সাঃ) এর সাথে বনু নাজ্জারের মালিকানাধীন একটা বাগানে গিয়েছিলাম। তিনি তাঁর উটে চড়েছিলেন। হঠাৎ, প্রাণীটি ভয় পেয়ে গেল এবং তাঁকে পিঠ থেকে প্রায় ফেলেই দিয়েছিলো। আমরা তাকিয়ে দেখলাম, কাছেই বেশ কয়েকটি কবর রয়েছে। আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বললেন, “এখানে যাদের কবর দেওয়া হয়েছে তারা শাস্তির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তোমরা ভয়ে দাফনও করতে চাইবে না, যদি এ আশঙ্ক না করতাম তবে আমি আল্লাহর নিকট দোয়া করতাম যাতে তিনি তোমাদের কবরের শাস্তি শোনায়, যা আমি শুনি।" এরপর তিনি আমাদের দিকে মুখ ফেরালেন এবং বললেন, “কবরের শাস্তি থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও।” এই তো...
এটাই আপনার নতুন ঠিকানা। পৃথিবীতে সবকিছু ছিল আলোকিত আর রঙ্গিন কিন্তু কবরে ঘন কালো অন্ধকার। সবকিছু কত তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল, তাই না?
আপনি হয়তো বলবেন, “ইয়া আল্লাহ, আমাকে আরেকটি সুযোগ দিন, আমি প্রতিজ্ঞা করছি, ভালো হয়ে যাবো,” যেন আল্লাহ আপনাকে আপনার জীবনের প্রতিটি দিনেই অগণিত সুযোগের কিছুই দেননি। অথবা আপনি বলবেন, “আমার রব, সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা আপনারই,” কারণ আপনি এমন জীবন যাপন করেননি, যা আপনাকে পরকালে বিপদের মধ্যে ফেলবে। আপনি হারাম থেকে দূরে ছিলেন, এবং নিজের ধর্মীয় দায়িত্বগুলো যথাযথভাবে পালন করেছেন। এই দুনিয়ায় আপনার দায়িত্বের সময় শেষ হয়ে গেছে। এখন আপনি আপনার নেক আমলের প্রতিদান গ্রহণের পথে যাত্রা শুরু করেছেন, আর এই কবর হচ্ছে আপনার গন্তব্যের প্রথম ধাপ। যদি এই ভিডিও আপনার কাছে পৌঁছে যায়, নিশ্চিত থাকুন—এটা কোনো কাকতালীয় বিষয় না। আল্লাহ তায়ালা এই ভিডিওটি আপনার সামনে এনেছেন এবং শেষ পর্যন্ত তা দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন। কেন জানেন?
কারণ তিনি চান আপনি আপনার জীবনের কিছু বিষয় পরিবর্তন করুন। তাহলে কি আপনি আল্লাহ তায়ালার প্রতি কৃতজ্ঞতার নিদর্শন হিসেবে তাঁর জন্যে একটি পদক্ষেপও নেবেন না ?
আপনার জীবনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এখনই। আপনি যদি ইবাদত না করেন, তবে তা শুরু করার সময় এখনই। তবে আমাদের সম্পূর্ণ ফ্রি ও বিজ্ঞাপনমুক্ত সালাত (নামাজ) অ্যাপের মাধ্যমে, ইনশাআল্লাহ আপনি দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজকে জীবনের অভ্যাসে পরিণত করতে পারবেন। যদি আপনি আপনার ঈমানকে আরও দৃঢ় করতে চান এবং ইলেম বা ইসলামী জ্ঞান বৃদ্ধি করতে চান, এই চ্যানেলে আমরা আপনার জন্য অনেক ভিডিও তৈরী করেছি। আপনি নিয়মিত ভিডিওগুলো দেখার জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারেন। আর যদি আপনি আরবীতে কুরআন পড়তে না জানেন, আমরা ‘লামেলিফ কুরআন’ নামে একটি অ্যাপ তৈরি করেছি, যেখানে আপনি খুব সহজে, দ্রুত এবং ফ্রিতে সবকিছু শিখতে পারবেন। আর যদি আপনি কুরআনের অর্থ গভীরভাবে বুঝতে চান, তাহলে আপনি আমাদের তাফসিরের অ্যাপ ‘কপগিট’ ডাউনলোড করতে পারেন। মনে রাখবেন, একবার যখন আপনি নিজের জন্য ছোট হলেও একটি লক্ষ্য স্থির করে ফেলবেন, আপনার জীবনের পরিবর্তন শুরু হবে। তাহলে, এরপর কবরে কী ঘটবে?
দীর্ঘ সময় কবরে অপেক্ষার পর, আপনি এমন এক শব্দে কেঁপে উঠবেন, যেটা আগে কখনও শোনেননি। ওটা হবে পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ বিপর্যয়ের শব্দ। কারণ সেই মুহূর্ত এসে গেছে, যা নিয়ে প্রতিটি প্রাণ চিন্তিত থাকে। পৃথিবীর সমাপ্তি। পরবর্তী পর্বে পৃথিবীর শেষ দিনে কি হবে তা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে আপনাদের কাছে উপস্থাপন করা হবে। আপনি কি কিছু খেয়াল করেছেন? এই ভিডিওটি দেখার সময় আপনি কোনো বিজ্ঞাপন দেখেননি। কারণ টোওয়ার্ডস ইটার্নিটি একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, আমরা আপনাদের সহযোগিতার মাধ্যমেই এসব ভিডিও তৈরি করতে পারি। যদি আপনিও এই সওয়াবের কাজে অংশীদ্বার হতে চান, তাহলে টোওয়ার্ডস ইটার্নিটি তে দান করুন, এই সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করবেন না।
মৃত্যুর পরের চিরস্থায়ী জীবন নিয়ে আপনাদের সকল প্রশ্নের উত্তর থাকবে এই ভিডিও সিরিজটিতে। আপনি প্রস্তুত থাকলে, চলুন শুরু করা যাক। মৃত্যুর মুহূর্ত। যে দিনটি থেকে আপনি সারাজীবন পালিয়ে বেড়িয়েছেন, সেই দিনটি আজ উপস্থিত। যে দিনটি সম্পর্কে আপনি কখনও ভাবতেও চাননি, আজ সেই দিনেই আপনার ঘুম ভাঙে। আর তখনই, আপনার দিকে এগিয়ে আসছে মৃত্যুর দূত। চারদিকে ঘন অন্ধকার। সময়টা ভোর হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্ত। আপনার বুকের ব্যাথাটা যেন আজ আপনাকে শেষ করে ফেলবে। আপনার শরীর নড়াচড়া করাতে পারছেন না। মনের মধ্যে প্রচণ্ড অস্থিরতা কাজ করছে। আপনার শৈশব, কৈশোরকাল, এবং বর্তমানে আপনার পরিচয়, সবকিছু যেন এক ঝলকে আপনার চোখের সামনে ভেসে উঠছে। আপনি হাঁপাচ্ছেন, শ্বাস নেয়ার প্রাণপণ চেষ্টা করছেন। আপনার ঠোঁট শুকিয়ে গেছে। আপনার মনে হচ্ছে গলায় কিছু একটা আটকে আছে। "আমার এমন কেন লাগছে?" আপনি বিভ্রান্ত আর আতঙ্কিত। আপনার আশেপাশে যা ঘটছে আপনি তার কিছুই বুঝতে পারছেন না। হঠাৎ আপনার আপনজনেরা আপনার চারপাশে জড়ো হয়। তাদের একজন আপনার হাত শক্ত করে ধরে আছে, আর অন্যরা অশ্রুসিক্ত চোখে আপনার জন্য দোয়া পড়ছে। কেউ একজন আপনাকে পানি দিতে চাচ্ছে, কিন্তু তার হাত কাঁপছে। তাদের চোখে মুখে অসহায়ত্ব আর বিষণ্ণতা, চেহারায় যেন নিঃশব্দ বিদায়ের এক আভা। অন্যদিকে, আপনার মনে হচ্ছে সময় যেন ধীরে ধীরে থেমে যাচ্ছে। চারপাশের শব্দগুলো ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে যেন পৃথিবীটা নিঃশব্দে আপনাকে বিদায় দিচ্ছে। যেমনটা আল-কুরআনের এই আয়াতে বলা হয়েছে, "প্রতিটি প্রাণ মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবে।" আপনার চিন্তাগুলো ধীরে ধীরে অস্পষ্ট হয়ে আসছে। আপনার শরীরের নড়াচড়া করার ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। গলায় আটকে থাকা শ্বাসের কারণে আপনার পুরো দেহটা যেন অবশ হয়ে যাচ্ছে। সে মুহূর্তে আপনার মনে একটাই বিষণ্ণতা ভর করে— আপনি দুশ্চিন্তা করেন - আমার মৃত্যুর পর কী ঘটবে?
আর তখনই শুরু হয় শয়তানের সর্বশেষ আক্রমণ। এই মুহূর্তটিই বলা হয় ‘সাকারাতুল মাউত’— অর্থাৎ মৃত্যুযন্ত্রণার সময়। আপনি কি তখন আপনার ঈমান ধরে রাখতে পারবেন? আপনি কি আপনার ঈমান রক্ষা করতে পারবেন? নাকি অনেকে হতভাগার মতো শেষ নিঃশ্বাসের সঙ্গেই আপনার ঈমান হারিয়ে ফেলবেন?
আপনার শরীরের পেশিগুলো তাদের শক্তি হারাচ্ছে। আপনার শরীর, হাত ও পা ঠান্ডা হয়ে আসছে। আপনার শরীরের রঙ ফিকে হয়ে, নিস্তেজ দেখাচ্ছে। আর সেই মুহূর্তেই শয়তান আপনার কাছে আসে। প্রিয় নবী (সাঃ) প্রায়ই এই দোয়া করতেন— “হে আল্লাহ, আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাইছি, পথভ্রষ্ট হওয়া থেকে।” “মৃত্যুর মুহূর্তে শয়তানের প্ররোচনা থেকে।” সেই মুহূর্তে শয়তানের সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা হলো— আপনি যেন বেঈমান অবস্থায় কবরে প্রবেশ করেন। এই কারণেই সে তার শেষ ধোঁকাবাজি লুকিয়ে রাখে জীবনের একেবারে শেষ মুহূর্তের জন্য। হয়তো সে আপনাকে অন্য কোন ধর্মের দিকে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করবে, অথবা আল্লাহ তায়ালার বিরুদ্ধে কোনো অবাধ্য কথা বলাতে চেষ্টা করবে। সে আপনার কানে ফিসফিস করে বলে...
“তোমার সুস্থতার জন্য এরা কতদিন ধরে দোয়া করছে, কিন্তু দেখো তোমার অবস্থা— তোমার শরীর তো কেবলই খারাপের দিকেই যাচ্ছে। এখন তোমার আল্লাহ কোথায়? তুমি কি সত্যিই বিশ্বাস করো, সে তোমার কথা শুনছে?” এর আগেও অগণিত মানুষ তাদের ঈমানের অবস্থা অনুযায়ী এমন মুহূর্তের মধ্য দিয়ে গেছেন। আর এখন, আপনার পালা। ভাবুন তো, প্রিয় নবী (সাঃ) নিজেও মৃত্যুর আগে শয়তানের ধোঁকা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চেয়েছিলেন —এতেই কি বিষয়টির গুরুত্ব বোঝা যায় না?
আসলে, আপনার ঈমান (বিশ্বাস) যত দৃঢ় হবে, মৃত্যুর সময় শয়তানের ধোঁকার বিপরীতে আপনার প্রতিক্রিয়াও ততটাই শক্তিশালী হবে। বলতে গেলে, “আপনি যেমন জীবন যাপন করবেন, আপনার মৃত্যুও তেমনই হবে।” আমরা সারা জীবনে রুহ বা আত্মাকে যেসব কাজের ভেতর ঢুকিয়ে রাখি, মৃত্যুর সময় আমাদের মুখ সেসবের কথাই উচ্চারণ করবে। “ওহ না!
আমি এই দুনিয়ার জীবনের চাকচিক্যে প্রতারিত হয়েছি।” যে ব্যক্তি তার রুহকে দুনিয়ার জীবনের আকাঙ্ক্ষায় পূর্ণ করেছে, সে মৃত্যুর সময়ও সেই কথাগুলোই উচ্চারণ করবে। “আমার টাকা, আমার সম্পদ, আমার খ্যাতি।” কিন্তু মুমিন ব্যক্তি, যে সারা জীবন মন থেকে আল্লাহকে ভালোবেসেছে এবং সেই অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করেছে, সে মৃত্যুর সময় তার রবকে স্মরণ করবে ও তাঁর নাম নেবে। “ইয়া রব (হে প্রভু), ইয়া লাতিফ (হে দয়াময়), ইয়া রহমান (হে পরম দয়ালু),” “ইয়া আল্লাহ।” আপনি হয়তো ভাবছেন, “কিন্তু আমার তো ইতিমধ্যেই ঈমান আছে।” আসলে, আপনার এমন মজবুত ঈমানের প্রয়োজন যা গভীরভাবে হৃদয়ে গাঁথা। এবং যা আপনার মন সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত হয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছে। ধরুন, আমার হাতে একটি আপেল আছে, এবং একজন চোর যেভাবেই হোক না কেন, সেটা চুরি করতে চায়। এখন আমি যদি আপেলটা শুধু হাতে ধরে রাখি, আর যতই চেষ্টা করি না কেন সেটি রক্ষা করতে, চোর সহজেই সেটা ছিনিয়ে নিতে পারবে। কিন্তু যদি আমি এটা খেয়ে ফেলি, তাহলে এটা হজম হয়ে আমার শরীরে চলে যাবে, তখন চোর চাইলেও আর আপেলটা চুরি করতে পারবেনা। তাই, আপনি যদি আপনার ঈমান শুধু বাহ্যিকভাবে না ধরে রেখে, আপনার হৃদয়, মস্তিষ্ক এবং রূহে প্রবেশ করান, তাহলে আল্লাহর ইচ্ছায়, শয়তান আপনার মৃত্যুর সময় কোন ক্ষতি করতে পারবে না। কিন্তু আপনি যদি পরকালে বিশ্বাসের দাবী করেন, আবার এমন জীবন যাপন করেন যেটা দেখে মনে হয় পরকাল বলে কিছুই নেই; যদি আপনার কাজে এবং কথায় মিল না থাকে, তাহলে সম্ভবত আপনার নিজেকে প্রশ্ন করার সময় চলে এসেছে। এখানে অনন্তকালের জন্য আপনার ভালো অথবা খারাপ থাকার ব্যাপারে কথা হচ্ছে, অথচ আপনি এখনো ব্যাপারটাকে গুরুত্ব সহকারে দেখছেন না। তাহলে মৃত্যুর সময় আর কী কী ঘটবে?
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, "নিশ্চয় যারা বলে, ‘আল্লাহই আমাদের রব’ অতঃপর অবিচল থাকে, ফেরেশতারা তাদের কাছে নাযিল হয় এবং বলে, ‘তোমরা ভয় পেয়ো না, দুশ্চিন্তা করো না। এবং সেই জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ কর যার ওয়াদা দেয়া হয়েছিল তোমাদেরকে’।” একজন ঈমানদার বান্দার কাছে ফেরেশতারা সম্পূর্ণ সাদা পোশাকে সজ্জিত হয়ে, উজ্জ্বল ও সুন্দর মুখাবয়ব নিয়ে, মিষ্টি সুবাসে সুবাসিত হয়ে আসেন। কিন্তু যে ব্যক্তি ঈমান ছাড়া জীবন কাটিয়েছে, তার জন্য এ এক ব্যথায় ভরা মুহূর্ত। যা কিছু তারা অস্বীকার করত এখন তারা সেসব কিছুরই মুখোমুখি। না! না! দয়া করে, আমার কাছে আসবে না! দূরে যাও! আমি ঈমান আনছি! আমি বিশ্বাস করি আল্লাহ সত্য! দয়া কর! আমাকে শুধু আর একবার সুযোগ দাও! আমার বন্ধুরা সব কোথায়? আমার সঙ্গীরা কই?
আমাকে বাঁচানোর মতো কেউ কি নেই?
কিন্তু এই মানুষটার জন্যে ভীতিকর ব্যাপারগুলোর এটা কেবল শুরু। মৃত্যুর পরে কি হয়, সে ব্যাপারে এখন কথা বলা যাক। মৃত্যুই শেষ নয়। এটি অস্তিত্বের বিনাশ নয়। এটা শুধুমাত্র এক জগৎ থেকে অন্য জগতে স্থানান্তরিত হওয়া। যেমন আমরা এক বাড়ী থেকে অন্য বাড়ীতে প্রবেশ করি। এটা এক ভিন্ন জগতের যাত্রা। প্রতি বছর আল্লাহ তায়ালা শীতকালে পৃথিবীকে মৃত্যুবরণ করান এবং গ্রীষ্মকালে জীবন দান করেন। তেমনিভাবে তিনি সকল মানুষকেও মৃত্যু দেবেন যাতে হাশরের ময়দানে তাদের সবাইকে সমবেত করতে পারেন। আর হাশরের ময়দানে উপস্থিত হবার পূর্বে আমরা আলমে বারজাখ নামক এক স্থানে অবস্থান করবো। আমাদের প্রিয় নবী (সাঃ) বলেছেন, “কবর তো হল জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগান, কিংবা জাহান্নামের গহ্বর সমূহের একটি গহ্বর।” হ্যাঁ, আপনি এখন মৃত্যুবরণ করেছেন। আপনার প্রাণহীন দেহ গোসল দেওয়ার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আপনার লাশ গোসলের অপেক্ষায় ঠাণ্ডা মেঝেতে পড়ে আছে। আপনার কাফন, খাটিয়া সবই তৈরি। দরজার বাইরে আপনার পরিবার অপেক্ষা করছে। আপনার মা, বাবা, ভাইবোন, স্ত্রী, সন্তান, কেঁদে কেঁদে তাদের চোখ লাল হয়ে যাচ্ছে, তারা দুঃখে কিছু বলতে পর্যন্ত পারছেননা। কিন্তু শীঘ্রই তারা আপনার খাটিয়া তাদের কাঁধে তুলে মসজিদের প্রাঙ্গণে নিয়ে যাবে। "অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, আমাদের প্রতিবেশী আহমেদ মিদিয়াত ইন্তেকাল করেছেন। তার জানাজার নামাজ আজ, বাদ জোহর আমাদের মসজিদে পড়ানো হবে। তার সকল আত্মীয়, শুভাকাঙ্ক্ষী, ও প্রতিবেশীদেরকে জানাজায় অংশগ্রহণ করার জন্য আহ্বান করা যাচ্ছে। আল্লাহ তার আত্মার মাগফিরাত দান করুন।" সারা জীবন যে জানাজার ঘোষণা শুনে এসেছেন তা এবার আপনার জন্যে দেওয়া হচ্ছে। খবরটা শুনে অনেকে অবাক হয়ে যান, বলেন "তিনি মারা গেছেন?" তারা কিছুক্ষণের জন্য নীরব হয়ে যান, তারপরে তাদের কাজে ব্যস্ত হয়ে যান। মানুষ আপনার জানাজার নামাজ পড়তে সারি করে দাঁড়িয়ে গেছে। ওরে আমার ছেলে!
আপনার খাটিয়া আবার তোলা হয়। এবার সেটা আপনার কবরের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। যা ইতিমধ্যেই খোঁড়া হয়ে গেছে। এটাই আপনার নতুন বাড়ী, যা আপনার জন্যে অপেক্ষা করছে। আপনার প্রিয়জনের মধ্যে কেউ একজন আপনার শরীর ডান দিকে ঘুরিয়ে দেয় মুখ কিবলার দিকে ফিরিয়ে দেয়। তারপর তিনি কবর থেকে বের হয়ে কাঠের খণ্ড দিয়ে আপনার লাশ ঢেকে দেন। আর তার হাত দিয়ে প্রথমবারের মতো একমুঠো মাটি কবরে ফেলেন। রুহ এর সবকিছুই দেখতে পায়। সবকিছুই। রুহ তার শরীর গোসল দেওয়া দেখে, জানাজার নামাজ পড়া দেখে, খাটিয়ায় কবরস্থান পর্যন্ত বহন করা দেখে। কে কে এসেছে কি কি বলছে সবই শুনতে পায়। সবাই যখন কবরস্থান ছেড়ে চলে যেতে শুরু করে, রুহ তাদের পায়ের শব্দ শুনতে পায়। নবী করিম (সাঃ) বলেছেন, তিনটি বস্তু মৃত ব্যক্তি অনুসরণ করে। দু’টি ফিরে আসে, আর একটি তার সঙ্গে থেকে যায়। তার পরিবারবর্গ, তার মাল ও তার আমল তার অনুসরণ করে। তার পরিবারবর্গ ও তার মাল ফিরে আসে, এবং তার আমল তার সঙ্গে থেকে যায়। মৃত বেক্তি যদি ধার্মিক হন, তাহলে তিনি চাইবেন তার দাফন কার্যক্রমে বেশি সময় না লাগুক। যত দ্রুত সম্ভব কবরের জীবনের শান্তি উপভোগ করতে তিনি উদগ্রীব হয়ে থাকেন। কিন্তু যদি সে পাপিষ্ঠ হয়, তাহলে সে চায় দাফন কার্যক্রম শেষ হতে যেন অনেক সময় লাগে। যারা আপনার সঙ্গে কবর পর্যন্ত এসেছিল, তারাও একসময় ফিরে চলে যায়। এবার আপনি সম্পূর্ণ একা। এখন আপনার বারজাখের (মধ্যবর্তী জগৎ) জীবন শুরু হয়ে গেছে। বারজাখ একেবারে ভিন্ন একটি জগৎ, যা এই জীবন ও পরকালের মধ্যে একটি দেয়াল। মৃত্যুর সাথে সাথে এই জীবনের শুরু হয় আর কিয়ামতের দিন শেষ হয়। অনেকটা পরকালের ওয়েটিং রুমের মতো। কোন মানুষের মৃত্যু যদি সমুদ্রে ডুবে হয় এবং তার লাশ হারিয়ে যায় অথবা আগুনে পুড়ে লাশ ছাই হয়ে যায় এবং ছাইগুলো ছড়িয়ে যায়, তাতে তার আত্মার কিছু হয়না, এটা যেমন ছিল তেমনই থাকে। মহান আল্লাহর জ্ঞান থেকে কোন কিছুই লুকানোর কোন উপায় নেই। প্রত্যেককে তাদের কর্ম অনুযায়ী প্রতিফল পেতে হবে। এই বিষয়টি নবী (সাঃ) এক হাদিসে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন: “মুমিন বান্দা দুনিয়ার জীবন শেষ করে পরকালের দিকে যখন ফিরে চলে, তখন আসমান থেকে খুবই আলোকোজ্জ্বল চেহারার কিছু মালায়িকাহ্ তার কাছে যান। তাঁদের চেহারা যেন দীপ্ত সূর্য। তাঁদের সাথে কাফন ও জান্নাতের সুগন্ধি থাকে। তারা তার দৃষ্টির দূর সীমায় বসবে। তারপর মালাকুল মাওত আসবেন, তার মাথার কাছে বসবেন ও বলবেন, “হে পবিত্র আত্মা!
আল্লাহর মাগফিরাত ও তার সন্তুষ্টির কাছে পৌঁছবার জন্য দেহ থেকে বেরিয়ে আসো।" তারপর তার রুহ খুব সহজেই কবজ হয়, আর তা সে দেখতে পায়। কবজ হবার সাথে সাথে, অন্য ফেরেশতারা মালাকুল মাওত এর কাছ থেকে তার আত্মাটা নিয়ে নেয়, এক মুহূর্তের জন্যও দেরি করেনা। তারপর তারা তাকে সেই লেবাস এবং সুগন্ধি পরিয়ে দেয়। এর থেকে এমন সুঘ্রাণ আসে এ যেন পৃথিবীর বুকে পাওয়া সবচেয়ে মিষ্টি সুমধুর কস্তুরী। তারপর তাকে ঊর্ধ্ব আসমানের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। তারা যখনই কোনো ফেরেশতার দলকে অতিক্রম করে, সেই ফেরেশতারা জিজ্ঞেস করে, 'এই পরিশুদ্ধ আত্মা কে?' তাকে বহনকারী ফেরেশতারা তাকে এই দুনিয়ায় যে সব ভালো নামে ডাকা হতো সেইসব নামে ডাকতে থাকে। যখন তারা আসমানে পৌছায় তখন সকল আসমানের দরজা তাদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। প্রতি দরজায় ফেরেশতারা তার রুহকে সম্ভাষণ জানায়। তারপরে আল্লাহ বলেন, “এ বান্দার আমলনামা সৎকর্মশীলদের স্থান লিখে রাখো- আর রূহকে জমিনে পাঠিয়ে দাও। আমি তাদেরকে মাটি হতে সৃষ্টি করেছি। আর মাটিতেই তাদেরকে ফেরত পাঠাব। আর এ মাটি হতেই আমি তাদেরকে আবার উঠাব।" আবার এ রূহকে নিজের দেহের মধ্যে পৌঁছিয়ে দেয়া হয় বারজাখে, আর সেখানে, মুনকার আর নাকির নামে দুইজন ফেরেশতা প্রশ্ন উত্তর পর্ব শুরু করেন। মান রাব্বুকা?
তোমার রব কে? আমার রব আল্লাহ, জীবিত থাকতে আমি যার ইবাদত করতাম। তোমার দীন কি? আমার দীন ইসলাম। এই মানুষটি কে যাকে তোমাদের মধ্যে প্রেরণ করা হয়েছিল?
তিনি আল্লাহর রাসুল, মুহাম্মদ (সাঃ) এভাবেই একজন সত্যিকার ঈমানদার সব প্রশ্নের সব সঠিক জবাব দেবেন। একজন ইমানদারের জীবনের সকল নামাজ সকল ভালো কাজ তাকে তার কবরে সঙ্গ দিতে আসে। যখন মুনকার এবং নাকির তাকে প্রশ্ন করতে আসেন, তার মাথার কাছে এক নুর এসে বসে পড়ে। যা তার জীবদ্দশায় পড়া নামাজ। তারপর একে একে তার উপর ভালো কাজ গুলোও সামনে আসতে থাকে। তার সাওম তার ডানে, যাকাত বামে, অন্যান্য ভালো কাজগুলো তার পায়ের কাছে এসে দাঁড়িয়ে যায়। প্রত্যেকেই দাঁড়িয়ে যায় তার রুহকে রক্ষা করতে, যাতে কবর তার হাড় ভেঙ্গে দিতে না পারে, কোনরকম যন্ত্রণা অথবা কষ্ট দিতে না পারে। প্রশ্ন উত্তর পর্বের পরে, ইমানদাররা যখন সব সঠিক উত্তর দিতে পারে, জান্নাতের একটা জানালা তার জন্য খুলে দেওয়া হয়। তারপর আল্লাহ তার কবরকে প্রশস্থ হতে নির্দেশ দেন, যতদূর চোখ যায় ততদুর পর্যন্ত, এবং একটা জান্নাতি বিছানা তার জন্য প্রস্তুত করা হয়। তারপর তার কবরের এক পাশে, জানালার মতো খুলে যায় ঈমানদারদের চিরস্থায়ী আবাস জান্নাতের দৃশ্য দেখানো হয়। তার হৃদয় প্রশান্তিতে ভরে যায়, এবং সে বিচার দিবসের দিন পর্যন্ত জান্নাতের দৃশ্য দেখতে থাকে। কিন্তু এর আরেকটি দিকও আছে, যন্ত্রণাদায়ক সেই দিক, যা অপেক্ষা করে তাদের জন্য যারা বেঈমান অবস্থায় মৃত্যু বরণ করে, এবং যাদের জীবন ছিল মহাপাপে পরিপূর্ণ। আমাকে আমাকে এখান থেকে বের কর!
মান রব্বুকা? তোমার রব কে? আমাকে আমাকে এখান থেকে বের কর! তোমার দীন কি? এই মানুষটি কে যাকে তোমাদের মধ্যে প্রেরণ করা হয়েছিল?
কবরের মধ্যে, মূলত মস্তিষ্ক থেকে উত্তর আসেনা, আসে হৃদয় থেকে। মানুষটি আল্লাহর কাছে তার অবস্থান অনুযায়ী উত্তর দেয়। যদি সে আল্লাহর ধর্ম ও তাঁর রসূলকে অস্বীকার করে থাকে, তবে সে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে পারবে না। যদিও সে মুসলিম হয়ে থাকে, যদি তার জীবন পাপাচারে ভরা থাকে, উত্তর দিতে গেলে তার জিহ্বা নড়বে না। কারো কারো জন্য এটা ফেরেশতাদের সাথে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়ে থাকে, কিন্তু কারো কারো জন্য এটা এক বিভীষিকাময় জিজ্ঞাসাবাদ। জাহান্নামের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, এবং তাকে ভিতরের শাস্তি প্রদর্শন করা হয়। এবং সে কবরের যন্ত্রণা ভোগ করা শুরু করে। জাহান্নামের আগুনের তীব্র উত্তাপ এবং গন্ধ তার কাছে পৌঁছায়। কবর সংকীর্ণ হয়ে আসে এবং তাকে চেপে ধরতে শুরু করে। এরপর একটি অন্ধকার মুখ ও নোংরা পোশাক পরিহিত ব্যক্তি পাপী আত্মার সামনে উপস্থিত হয় এবং বলে, "তোমাকে এই দিনের প্রতিশ্রুতিই দেওয়া হয়েছিল।" আত্মাটি ভীতির সাথে জিজ্ঞেস করে, "কে তুমি?" "আমি তোমার পাপকাজঃ যে সুদ তুমি খেয়েছ, যেসব গিবত তুমি করেছ, যেসব হারাম জিনিস তুমি দেখেছ। তুমি ভয় কেন পাচ্ছ?
এতো বছরে তুমি কি আমাকেই কামনা করনি?
এইতো, আমি এখানে, তোমার সামনে দাঁড়িয়ে আছি।" এসব দেখে সে প্রার্থনা করে, "হে আমার রব, আপনি কেয়ামত কায়েম করবেন না!" যাইদ ইবন সাবিত বলেছেন, "আমরা নবী করিম (সাঃ) এর সাথে বনু নাজ্জারের মালিকানাধীন একটা বাগানে গিয়েছিলাম। তিনি তাঁর উটে চড়েছিলেন। হঠাৎ, প্রাণীটি ভয় পেয়ে গেল এবং তাঁকে পিঠ থেকে প্রায় ফেলেই দিয়েছিলো। আমরা তাকিয়ে দেখলাম, কাছেই বেশ কয়েকটি কবর রয়েছে। আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বললেন, “এখানে যাদের কবর দেওয়া হয়েছে তারা শাস্তির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তোমরা ভয়ে দাফনও করতে চাইবে না, যদি এ আশঙ্ক না করতাম তবে আমি আল্লাহর নিকট দোয়া করতাম যাতে তিনি তোমাদের কবরের শাস্তি শোনায়, যা আমি শুনি।" এরপর তিনি আমাদের দিকে মুখ ফেরালেন এবং বললেন, “কবরের শাস্তি থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও।” এই তো...
এটাই আপনার নতুন ঠিকানা। পৃথিবীতে সবকিছু ছিল আলোকিত আর রঙ্গিন কিন্তু কবরে ঘন কালো অন্ধকার। সবকিছু কত তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল, তাই না?
আপনি হয়তো বলবেন, “ইয়া আল্লাহ, আমাকে আরেকটি সুযোগ দিন, আমি প্রতিজ্ঞা করছি, ভালো হয়ে যাবো,” যেন আল্লাহ আপনাকে আপনার জীবনের প্রতিটি দিনেই অগণিত সুযোগের কিছুই দেননি। অথবা আপনি বলবেন, “আমার রব, সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা আপনারই,” কারণ আপনি এমন জীবন যাপন করেননি, যা আপনাকে পরকালে বিপদের মধ্যে ফেলবে। আপনি হারাম থেকে দূরে ছিলেন, এবং নিজের ধর্মীয় দায়িত্বগুলো যথাযথভাবে পালন করেছেন। এই দুনিয়ায় আপনার দায়িত্বের সময় শেষ হয়ে গেছে। এখন আপনি আপনার নেক আমলের প্রতিদান গ্রহণের পথে যাত্রা শুরু করেছেন, আর এই কবর হচ্ছে আপনার গন্তব্যের প্রথম ধাপ। যদি এই ভিডিও আপনার কাছে পৌঁছে যায়, নিশ্চিত থাকুন—এটা কোনো কাকতালীয় বিষয় না। আল্লাহ তায়ালা এই ভিডিওটি আপনার সামনে এনেছেন এবং শেষ পর্যন্ত তা দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন। কেন জানেন?
কারণ তিনি চান আপনি আপনার জীবনের কিছু বিষয় পরিবর্তন করুন। তাহলে কি আপনি আল্লাহ তায়ালার প্রতি কৃতজ্ঞতার নিদর্শন হিসেবে তাঁর জন্যে একটি পদক্ষেপও নেবেন না ?
আপনার জীবনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এখনই। আপনি যদি ইবাদত না করেন, তবে তা শুরু করার সময় এখনই। তবে আমাদের সম্পূর্ণ ফ্রি ও বিজ্ঞাপনমুক্ত সালাত (নামাজ) অ্যাপের মাধ্যমে, ইনশাআল্লাহ আপনি দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজকে জীবনের অভ্যাসে পরিণত করতে পারবেন। যদি আপনি আপনার ঈমানকে আরও দৃঢ় করতে চান এবং ইলেম বা ইসলামী জ্ঞান বৃদ্ধি করতে চান, এই চ্যানেলে আমরা আপনার জন্য অনেক ভিডিও তৈরী করেছি। আপনি নিয়মিত ভিডিওগুলো দেখার জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারেন। আর যদি আপনি আরবীতে কুরআন পড়তে না জানেন, আমরা ‘লামেলিফ কুরআন’ নামে একটি অ্যাপ তৈরি করেছি, যেখানে আপনি খুব সহজে, দ্রুত এবং ফ্রিতে সবকিছু শিখতে পারবেন। আর যদি আপনি কুরআনের অর্থ গভীরভাবে বুঝতে চান, তাহলে আপনি আমাদের তাফসিরের অ্যাপ ‘কপগিট’ ডাউনলোড করতে পারেন। মনে রাখবেন, একবার যখন আপনি নিজের জন্য ছোট হলেও একটি লক্ষ্য স্থির করে ফেলবেন, আপনার জীবনের পরিবর্তন শুরু হবে। তাহলে, এরপর কবরে কী ঘটবে?
দীর্ঘ সময় কবরে অপেক্ষার পর, আপনি এমন এক শব্দে কেঁপে উঠবেন, যেটা আগে কখনও শোনেননি। ওটা হবে পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ বিপর্যয়ের শব্দ। কারণ সেই মুহূর্ত এসে গেছে, যা নিয়ে প্রতিটি প্রাণ চিন্তিত থাকে। পৃথিবীর সমাপ্তি। পরবর্তী পর্বে পৃথিবীর শেষ দিনে কি হবে তা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে আপনাদের কাছে উপস্থাপন করা হবে। আপনি কি কিছু খেয়াল করেছেন? এই ভিডিওটি দেখার সময় আপনি কোনো বিজ্ঞাপন দেখেননি। কারণ টোওয়ার্ডস ইটার্নিটি একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, আমরা আপনাদের সহযোগিতার মাধ্যমেই এসব ভিডিও তৈরি করতে পারি। যদি আপনিও এই সওয়াবের কাজে অংশীদ্বার হতে চান, তাহলে টোওয়ার্ডস ইটার্নিটি তে দান করুন, এই সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করবেন না।