ইসলাম বনাম খ্রিষ্টধর্মঃ সকল প্রশ্নের উত্তর এক ভিডিওতে!
প্রকাশের তারিখ
ইসলাম যীশুর ধর্ম এবং খ্রিস্টধর্ম হলো যীশুকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বিশ্বাস। মুহাম্মদ (সাঃ), তিনি কখনও মরিয়মকে দেখেননি। তিনি তাঁর ৬০০ বছর আগে পৃথিবীতে এসেছিলেন। তাহলে তিনি কীভাবে একমাত্র নারী হতে পারেন যার নাম কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে?
শুধু নাম উল্লেখ করা হয়নি, তাকে সর্বকালের সবচেয়ে ধার্মিক নারী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আমার সংগ্রহে থাকা ৩০০টি বাইবেল ইতিহাসের বিভিন্ন সময় থেকে, বিভিন্ন ভাষা এবং বিভিন্ন সংস্করণ। প্রত্যেকটিই, একটি আরেকটির থেকে আলাদা। ইসলামী বিশ্বাস হলো যীশুর দ্বিতীয়বার আগমন হবে। সুতরাং তাঁকে হত্যাও করা হয়নি। তাঁকে ক্রুশবিদ্ধও করা হয়নি। যিশু, অর্থাৎ ঈশা (আঃ), তিনি একজন একেশ্বরবাদী মানুষ ছিলেন, কখনও মদ পান করেননি, কখনও শুকরের মাংস খাননি, কখনও রক্ত পান করেননি। জানেন তো, তিনি একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম ছিলেন, একজন নবী ছিলেন। তাই যদি আপনি যীশুকে ভালোবাসেন, যীশুর বিশ্বাসকে অনুসরণ করুন। যীশুর বিশ্বাস ছিল ইসলাম। আসসালামু আলাইকুম (আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক), ডক্টর সাবিল আহমেদ। এখানে আশার জন্য এবং আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ। আমরা খ্রিস্টধর্ম সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন সংগ্রহ করেছি এবং আমরা সেসব প্রশ্ন আপনাকে করতে চাই। ওয়াআলাইকুম সালাম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ। অবশ্যই। শুরু করুন। প্রথম প্রশ্ন দিয়ে শুরু করছি, আপনি মানুষের মধ্যে কী ধরণের প্রতিক্রিয়া দেখেন যখন আপনি ইসলামে মরিয়মের (আঃ) মর্যাদা সম্পর্কে বলেন?
আর আপনি কি উত্তর দেবেন যদি আপনাকে ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মের মধ্যে সাদৃশ্য এবং পার্থক্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি? মারিয়ম (আঃ), আপনার জন্য আমার কাছে এক কথায় উত্তর আছে। এটা হল MARY শব্দটি। ঠিক আছে, M. A. R. Y. তাহলে M শব্দটি বোঝায় পবিত্র কুরআনে উল্লেখিত একমাত্র নারী হিসেবে। তো একবার আমি, শিকাগো থেকে হিউস্টনের একটি ফ্লাইটে ছিলাম। আমি জানালার পাশে বসেছিলাম এবং আমার পাশে দুজন ক্যাথলিক মহিলা ছিলেন। তাদের সাথে আমার ইসলাম এবং খ্রিস্টধর্ম নিয়ে একটা কুইজ পর্ব হয়ে গেল। একটি দা'ওয়াহ কুইজ। আমি তাদের এই প্রশ্নটি জিজ্ঞাসা করেছিলাম, জানেন আমার প্রিয় বোনেরা, আপনারা জানেন কি কুরআনে উল্লেখিত একমাত্র নারী কে?
তারা বলললেন, আমরা উত্তর জানি। তিনি হলেন যীশুর মা মরিয়ম। আমি বললাম, চমৎকার। তারপর আমি তাদের প্রশ্ন করলাম, ঠিক আছে, কতবার কুরআনে তার উল্লেখ আছে? এবং তারা বলললেন,আমরা জানি না। আমি বললাম, ৩৪ বার। তারপর আমি তাদের প্রশ্ন করলাম, কতবার আপনাদের বাইবেলে তার উল্লেখ আছে? তারা বলললেন, আমরা জানি না। আমি বললাম, তাকে ১৮ বার উল্লেখ করা হয়েছে। তাই আপনি যদি কুরআনের সাথে ৩৪ বার তুলনা করেন, বাইবেলের সাথে ১৮ বার তুলনা করেন, মুসলিমরা আপনাদের চেয়ে তাঁকে বেশি ভালোবাসেন, তাই না?
তারা ভেঙে পড়েছিল। তাহলে M দিয়ে বোঝায় কুরআনে উল্লেখিত একমাত্র নারী। M দিয়ে কুরআনের একটি অধ্যায়ের নামও বোঝায় ১৯ নম্বর অধ্যায়। তাহলে মেরির জন্য M। দ্বিতীয়টি হচ্ছে A, A দ্বারা বোঝায়, আল্লাহর ইবাদত, আল্লাহর প্রতি আনুগত্য, আল্লাহ ছিলেন তার জীবনের কেন্দ্রবিন্দু তার শালীনতা, তার সতীত্ব, আল্লাহর প্রতি তার আনুগত্য। আপনি জানেন, কুরআনে অনেকবার এটি উল্লেখ করা হয়েছে। R শব্দটি মরিয়মকে আল্লাহ যে সম্মান দিয়েছেন তার প্রতীক। কুরআনের একটি সূরা আছে, সুরা নম্বর ৩, আয়াত নম্বর ৪২, যেখানে একজন ফেরেশতা মরিয়মের কাছে এসেছিলেন এবং বলছেন, মরিয়ম, সৃষ্টিকর্তা তোমাকে মনোনীত করেছেন, সৃষ্টিকর্তা তোমাকে পবিত্র করেছেন, এবং সৃষ্টিকর্তা তোমাকে সকল নারীর উপরে নির্বাচিত করেছেন। দেখুন, কিভাবে আল্লাহ মরিয়মকে সম্মানিত করেছেন। তো আমি আমার খ্রিস্টান বন্ধুদের বলি, মুহাম্মদ (সাঃ), তিনি কখনও মরিয়মকে দেখেননি। তিনি তাঁর ৬০০ বছর আগে পৃথিবীতে এসেছিলেন। তাহলে তিনি কীভাবে একমাত্র নারী হতে পারেন যার নাম কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে?
শুধু নাম উল্লেখ করা হয়নি, তাকে সর্বকালের সবচেয়ে ধার্মিক নারী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই সম্মান মুহাম্মাদ (সাঃ) এর মা, স্ত্রী এবং কন্যাদের দেওয়া হয়নি, বরং তথাকথিত একজন "ইহুদি নারী" কে দেওয়া হয়েছে যাকে তিনি কখনও দেখেননি। এটা একটা প্রমান আমি খ্রিস্টানদের বলি, কুরআন নবী (সাঃ) এর থেকে আসেনি, এটা মানবজাতির স্রষ্টার কাছ থেকে আসছে। তাহলে M A R. আর Y, তাই না? আমাদের কাছে Y বাকি আছে। Y বলতে বোঝায় যে তিনি তরুণী ছিলেন এবং তিনি কুমারী ছিলেন। যখন তিনি যীশুর জন্ম দেন। তো এই হল ইসলামে মেরি। তাহলে, খ্রিস্টধর্ম সম্পর্কে কী বলা যায়? ইসলাম এবং খ্রিস্টধর্মের মধ্যে কি কোন পার্থক্য আছে?
তাই যখন পার্থক্যের কথা আসে, আমি বলব মূল পার্থক্য কুরআনে মরিয়ম (আঃ) নাম মর্যাদা, সম্মান, শ্রদ্ধা এবং আশীর্বাদের সাথে আছে। কিন্তু বাইবেলে, তাঁকে একজন সাধারন নারী হিসেবে দেখানো হয়েছে, সাধারন একজন মা। বিশেষ কিছুই নয়। তাঁকে এলোমেলোভাবে কয়েকটি জায়গায় উল্লেখ করা হয়েছে, যীশু এবং কিছু শিষ্যদের সাথে, সামান্য কিছু কথা, দেখা সাক্ষাত, কিন্তু কুরআনে যে মহিমান্বিতভাবে তাঁর কথা উল্লেখ করা আছে সেভাবে নয়। আর সাদৃশ্য হচ্ছে তিনি কুমারী ছিলেন। তিনি তরুণী, অবিবাহিতা, এবং কুমারী ছিলেন যখন আল্লাহ তার অভ্যন্তরে যীশুর অলৌকিকতা দান করেছিলেন। তাহলে বাইবেলে নবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর উল্লেখ এর ব্যাপারে কি বলবেন?
নবী মুহাম্মদ (সাঃ), মুসলিম ধর্মতত্ত্ববিদদের মতে, ওল্ড টেস্টামেন্ট এবং নিউ টেস্টামেন্টে তাঁর উল্লেখ আছে। আসলে কুরআন নিজেই বলেছে সূরা নম্বর ৭, আয়াত নম্বর ১৫৭, যে নবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর উল্লেখ তাদের ধর্মগ্রন্থে রয়েছে। অর্থাৎ ইহুদি ও খ্রিস্টানদের ধর্মগ্রন্থে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের ধর্মগ্রন্থে আমরা দেখতে পাই যে ওল্ড টেস্টামেন্টে, দ্বিতীয় বিবরণ বইয়ে, অধ্যায় ১৮, পদ সংখ্যা ১৮, নবী মূসা (আঃ), তিনি স্পষ্টতই তাঁর সম্প্রদায়কে বলছেন যে, যে একদিন মূসার পরে একজন নবী আসবেন এবং সেই নবী মূসার মতোই হবেন। এবং সেই নবী নিজে থেকে কিছু বলবেন না, যা কিছু তিনি ওহী হিসেবে পাবেন, তিনি তাই বলবেন। তাই মুসলিম ধর্মতত্ত্ববিদরা বলেন, যে একমাত্র নবী যিনি, মুসা নবীর সাথে খুবই সাদৃশ্য পূর্ণ ছিলেন, তিনি হলেন মুহাম্মদ (সাঃ)। এটা হচ্ছে প্রথম কথা। দ্বিতীয়ত, ইসায়া পুস্তকে একটি ভবিষ্যদ্বাণী আছে, অধ্যায় ২৯, পদ সংখ্যা ১২, যেখানে একজন ফেরেশতা এই মানুষের কাছে আসেন এবং বলেন, পড়ুন, এবং তিনি বলেন আমি পড়তে পারি না। আর এটাই ঘটেছিল মুহাম্মদ (সাঃ)-এর সাথে যখন ফেরেশতা জিব্রাইল এসেছিলেন এবং তিনি অনুরোধ করেছিলেন মুহাম্মদ (সাঃ)-কে পড়ার জন্য। সলোমনের গানে, অধ্যায় ৫, শ্লোক নম্বর ১৬, মোহাম্মদ শব্দটি আছে, তাই না?
হিব্রু ভাষায় মোহাম্মদ শব্দটি আছে। তাহলে এই হচ্ছে ওল্ড টেস্টামেন্ট। নিউ টেস্টামেন্টের কথা বলতে গেলে, মুসলিম ধর্মতত্ত্ববিদরা অনেক ভবিষ্যদ্বাণীর কথা বলেন। ইহুদিরা একজন নবীর আগমনের অপেক্ষায় ছিল। যেমন মূসা বলেছিলেন, আমার পরে একজন নবী আসবেন, তাই না? যিনি আমার মত হবেন। তাই যীশুর সময়ে, খ্রিস্টানরা তখনও সেই নবীর জন্য অপেক্ষা করছিল। তাই তারা ব্যাপ্টিস্ট জনকে জিজ্ঞাসা করল, তুমিই কি সেই নবী?
ব্যাপ্টিস্ট জন বললেন, না। তাহলে সেই নবী, যীশুর মতে, গস্পেল অফ জন অধ্যায় ১৬, পদ নম্বর ৭ এ, আমি চলে যাওয়া, তোমাদের অর্থাৎ আমার শিষ্যদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যদি আমি না যাই, তবে সান্তনাদাতা পাঠানো হবে না। আমি চলে গেলে তবেই তাঁকে পাঠানো হবে। তখন যীশু বললেন, তোমাদেরকে আমার অনেক কিছু বলার আছে, কিন্তু এখন তোমরা তা গ্রহন করতে পারবে না। কিন্তু যখন তিনি আসবেন, তিনি তোমাদের সম্পূর্ণ সত্যটি দেখাবেন। তিনি নিজে থেকে কিছুই বলবেন না, যা কিছু তিনি ওহি হিসেবে পাবেন, তিনি তাই বলবেন। এখানে পুরুষ সর্বনামটি ব্যবহার, পবিত্র আত্মার জন্য করা হয়নি, পুরুষ সর্বনামটি ব্যবহার করা হয়েছে, এবং যীশু বলছেন যে, তিনি সম্পূর্ণ সত্য নিয়ে আসবেন। তিনি দীনকে পরিপূর্ণ করবেন। পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন। তাই মুসলিমরা বলেন যে পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা আল্লাহ মুহাম্মদ (সাঃ) এর মাধ্যমে দান করেছেন। সংক্ষেপে এগুলো কিছু ভবিষ্যদ্বাণী। আপনি যখন খ্রিস্টানদের এই উদাহরণগুলি দেন তখন তারা কী বলে?
তারা কী বলে বা তারা কেমন প্রতিক্রিয়া দেখায়?
আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রাসুলুল্লাহ। কিন্তু তাদের মধ্যে কেউ কেউ, আপত্তি করে। তারা বলে, আপনি যে ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর কথা বলছেন, বিশেষ করে নিউ টেস্টামেন্টে, এগুলো পবিত্র আত্মার সাথে সম্পর্কিত। এগুলোর সাথে, আপনার নবী মুহাম্মদ (সাঃ), এর কোন সম্পর্ক নেই। তাদেরকে আমরা যা বলি তা হচ্ছে। দেখুন যীশু, বলছেন যে তাঁকে সেই সত্তার আগমনের জন্য যেতে হবে। কিন্তু আমরা বলি পবিত্র আত্মা যীশুর সময়ে ইতিমধ্যেই ছিলেন। তাহলে এটা অর্থহীন। যীশু বলছেন যে সেই সত্তার আগমনের জন্য আমাকে যেতে হবে। কিন্তু যদি সেই সত্তা পবিত্র আত্মা হয়, তবে তিনি ইতিমধ্যেই সেখানে আছেন। এটা পবিত্র আত্মা হতে পারে না। খ্রিস্টানদের বোঝানর দ্বিতীয় উপায় হল যীশু বলছেন যে এই সত্তা আপনাকে সম্পূর্ণ সত্য জানাবে, একটি পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা। পবিত্র আত্মা তা করেননি। তৃতীয়ত, আমরা বলতে পারি যে পুরুষ সর্বনামটি 'সে' এই পদগুলিতে ৭ বার ব্যবহৃত হয়েছে। যে তিনি আসবেন, তিনি আমাকে মহিমান্বিত করবেন, তিনি আপনাকে পরিপূর্ণ সত্য দেখাবেন, তাই না?
পবিত্র আত্মা হলেন একটি সত্তা। তিনি পুরুষ নন, নারীও নন। আরও একটা কথা আমরা বলতে পারি তা হলো, এই অনুচ্ছেদে যীশু বলছেন তিনি নিজ থেকে কিছু বলবেননা, তিনি ওহি প্রাপ্ত হয়ে যা পাবেন তাই বলবেন। খ্রিস্টানদের মতে, পবিত্র আত্মা হলেন ঈশ্বর। ঈশ্বর অন্য কেউ বলে দেবার জন্য অপেক্ষা করবেন না, তাই না? কি বলতে হবে, কি বলা যাবেনা। তাই তাঁকে পবিত্র আত্মার চেয়ে ভিন্ন একজন ব্যক্তি হতে হবে। আমরা বলি যে একমাত্র ব্যক্তি যিনি বর্ণনার সাথে মিলে যান তিনি হলেন মুহাম্মদ (সাঃ) ইসলাম সম্পর্কে খ্রিস্টানদের সবচেয়ে বেশি কৌতূহলের বিষয় হলো এই ধর্মে যীশুর মর্যাদা। কারণ তাদের অনেকেই শুনে অবাক হয়েছেন যে মুসলিমরাও যীশুকে বিশ্বাস করে। আপনার কি এই সম্পর্কে কোন স্মৃতি আছে? আপনি কি ইসলামে যীশু এবং খ্রিস্টধর্মে যীশুর তুলনা করতে পারবেন?
ঠিক আছে, আলহামদুলিল্লাহ (সকল প্রসংসা আল্লাহর)। তো, একবার শিকাগো হাইওয়েতে আমাদের একটি বিলবোর্ড ছিল আর বিলবোর্ডে লেখা ছিল, কুরআনে যীশুকে খুঁজে বের করুন এবং বাইবেলে মুহাম্মদ (সাঃ)-কে খুঁজে বের করুন। মানুষ সত্যিই কৌতূহলী হয়েছিল, আপনি কুরআনে যীশুকে কীভাবে খুঁজে পাবেন এবং বাইবেলে মুহাম্মদ (সাঃ) কোথায়? অনেক মানুষ প্রশ্ন করার জন্য ফোন করেছিল, অনেক মানুষ বিতর্ক করার জন্য, কিন্তু অনেক মানুষ কোরআনের একটি অনুলিপির জন্য ফোন করেছিল। যদি কেউ আমাকে প্রশ্ন করে, ইসলামে যীশু কে? আমার কাছে তাদের জন্য একটি সহজ এক শব্দের উত্তর আছে। আমি সেই এক শব্দের উত্তর বলছি, ঠিক আছে। এটা হচ্ছে যীশু (জেসাস)। J. E. S. U. S.
এবং যীশু শব্দের প্রতিটি অক্ষর এখন আমাদের জন্য একটি করে বিষয়বস্তু খ্রিস্টানদের জানানোর জন্য, যে ইসলামে যীশু আসলে কে। তাহলে "J" অক্ষর দিয়ে বোঝায় যীশু শুধুমাত্র একজন বার্তাবাহক ছিলেন। এখন বোঝা সহজ। তাহলে "J" অক্ষর দিয়ে বোঝায় তিনি কেবল একজন বার্তাবাহক বা রাসুল ছিলেন। যেমনটা পবিত্র কুরআনের ৫ম সূরার ৭৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, যে যীশু শুধুমাত্র একজন রাসুল ছিলেন। তাঁর আগে অনেক রাসুল গত হয়েছেন। তাহলে, পবিত্র কুরআন অনুসারে, যীশু নবুওয়াতের ধারায় আসা একজন রাসুল ছিলেন। যে সকল রাসূলকে এসেছিল তারা সবাই এক আল্লাহর ইবাদতের জন্য মানুষকে আহ্বান করেছিলেন। সুতরাং যীশু ছিলেন একজন রাসূল। E অক্ষর দিয়ে বোঝায় তিনি সৃস্টিকর্তার দ্বারা অলৌকিক কাজ করার জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। মৃত মানুষকে জীবিত করা, আবার, অন্ধকে দৃষ্টিশক্তি প্রদান করা, অসুস্থ ও কুষ্ঠরোগীদের সুস্থ করা। তো তিনি অলৌকিক কাজ করেছিলেন, সৃষ্টিকর্তার দ্বারা তাঁকে অলৌকিক কাজ করার ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। আর এটা কোথায় বলা হয়েছে?
৩ নম্বর সূরার (পবিত্র কোরআনের অধ্যায়), ৪৯ নম্বর আয়াতে কিন্তু আমরা খ্রিস্টান বন্ধুদের সাথে যে আশ্চর্যজনক জিনিসটি বলতে চাই তা হলো যীশু (আঃ), তাঁর দ্বারা সম্পাদিত প্রতিটি অলৌকিক ঘটনা, তিনি সৃষ্টিকর্তার দ্বারা ক্ষমতাপ্রাপ্ত ছিলেন। এর অর্থ হলো, শক্তি আসছিল স্রষ্টার কাছ থেকে, নিজের কাছ থেকে নয়। তাহলে এটাই হল E, J আর E। S অক্ষর দ্বারা যীশুর একমাত্র লক্ষ্যকে বোঝায় মানবজাতিকে আমন্ত্রণ জানানো এক সৃষ্টিকর্তার ইবাদতের জন্য। তাই কুরআনের ৩য় সুরার ৫১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, "ইন্নাল্লহা রব্বি ওয়ারাব্বুকুম ফাআবুদুহু হাযা সিরতুম মুস্তাকিম" এখানে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে যীশুর উদ্ধৃতি দিচ্ছেন এবং যীশু বলছেন যে নিশ্চয় আল্লাহ আমার রব ও তোমাদের রব। অতএব তোমরা তাঁর ইবাদাত কর এবং এটি সরল পথ S অক্ষর দ্বারা যীশুর একমাত্র লক্ষ্যকে বোঝায়। তাহলে J E S এর পরে আসলো U.
বেশ মজার, তাই না? তা আপনার কি মনে হয়, U কি অর্থ? U অক্ষর দিয়ে আল্লাহর দ্বারা উন্নীত করা হয়েছে বোঝায়। হত্যা করা হয়নি, ক্রুশবিদ্ধও করা হয়নি, আল্লাহ তাকে উন্নীত করেছেন, ক্রুশবিদ্ধ না হয়েই তাকে উপরে উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঠিক আছে? তাহলে হলো J E S U. এবং সর্বশেষে S অক্ষর দিয়ে দ্বিতীয় আগমন বোঝানো হয়েছে। খ্রিস্টানরা অবাক হবে, সত্যিই? আপনারা কি দ্বিতীয় আগমনে বিশ্বাস করেন?
আর আমি ইসলামকে এইভাবে ব্যাখ্যা করি, মনে রাখা সহজ, সবকিছু ধারাবাহিকভাবে চলে আসে, যা দ্বিতীয় আগমনের সাথে শেষ হয়। আর ইসলামে এটাই যীশুর পরিচয়। তাহলে তাকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়নি, তাকে হত্যা করা হয়নি। তাঁকে আকাশে তুলে নেওয়া হয়েছিল। হ্যাঁ, কুরআনের ৪ নম্বর সূরা, সূরা আন-নিসা'র অনুযায়ী, ১৫৭ নং আয়াত অনুযায়ী আল্লাহ তায়ালা বলছেন, যার অনুবাদটি এরকম, তারা গর্ব করে যে, আমরা আল্লাহর রাসূল মারইয়াম পুত্র ঈসা মাসীহকে হত্যা করেছি অথচ তারা তাকে হত্যা করেনি এবং তাকে শূলেও চড়ায়নি। বরং তাদেরকে ধাঁধায় ফেলা হয়েছিল। এবং তারপর আল্লাহ তায়ালা বলেন যে যীশুকে তিনি উপরে উঠিয়ে নিয়েছেন। তাকে ক্রুশেও দেওয়া হয়নি, তিনি নিহতও হয়নি। তাহলে এটিই একটি পার্থক্য, কিন্তু আল্লাহ যীশু সম্পর্কে এটাই বলেছেন। তাহলে কেন তাকে হত্যা করা হলো না বরং আকাশে উঠিয়ে নেওয়া হলো?
এটা কি সেই কারণে যে তিনি আবার আসবেন? আচ্ছা, ইসলামী বিশ্বাস হলো যীশুর দ্বিতীয় আগমন হবে। তো তাকে হত্যাও করা হয়নি, তাকে ক্রুশবিদ্ধও করা হয়নি কারণ খ্রিস্টীয় ধর্মতত্ত্ব অনুসারে, ক্রুশবিদ্ধ হয়ে যীশুর মৃত্যু খ্রিস্টানদের জন্য মুক্তির একটি উপায়। আর যেহেতু আমরা বিশ্বাস করি না যে একজন ব্যক্তি, তার মৃত্যু বা তার জীবিত থাকা মুক্তির একটি উপায় হতে পারে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা (মহান) বলছেন, আচ্ছা, তুমি কি জানো? যীশুর মৃত্যু হয় নি। যদিও তর্কের খাতিরে ধরা হয় যে তিনি মারা গিয়েছেন, সেটা আসলে মুক্তির পথ নয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ যীশুকে নিজের কাছে তুলে নিলেন। তাঁকে আবার অবতরণ করানো হবে দ্বিতীয় আগমনে তিনি অবতরণ করলে, ধারাবাহিকভাবে ঘটনা ধটতে থাকবে। এ ব্যাপারেই প্রশ্ন যে, তিনি যখন আসবেন তখন কী হবে?
তিনি কি একজন রসূল হবেন?
যীশু কখন ফিরে আসবেন, সত্যি বলতে কেউ জানে না যে ঠিক কখন, কোন দিন, বা কোন বছর তিনি আসবেন। কিন্তু ইমাম বুখারী, ইমাম মুসলিমের সংগ্রহে অনেক নির্ভরযোগ্য বর্ণনা রয়েছে। আসলে এগুলো হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস, বাণী, যেগুলো অতীতে মুসলমানেরা সংগ্রহ করেছিলেন। তো নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর প্রায় ১৪টি নির্ভরযোগ্য বর্ণনা রয়েছে যা যীশুর দ্বিতীয় আগমন সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি দামেস্ক শহরে অবতরণ করবেন। তখন ফজরের নামাজের সময় হবে। মুসলমানেরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, তাই এটি দিনের প্রথম নামাজ। তিনি আকাশ থেকে অবতরণ করবেন। তিনি দামেস্কের পূর্ব দিকে অবস্থিত সাদা মসজিদের মিনারের উপর অবতরণ করবেন। তিনি নেমে আসবেন এবং তখনই হবে মুসলিমদের নামাজের সময়। আর মুসলমানরা, তারা অবাক হবে, তারা বিস্মিত হবে এবং তারা বলবে, যীশুকে স্বাগতম, আমরাতো আপনার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। আর তারা তাকে বলবে, যীশু, আপনি নামাজের ইমামতি করেন না কেন?
আর যীশু কি বলবেন জানেন, তিনি বলবেন যে, আপনাদের যিনি ইমাম আছেন তিনি নামাজ পরিচালনা করবেন। তাহলে মূল কথা হল যীশু নবী হিসেবে বা নতুন কোন নবী হিসেবে আসবেন না। বরং তিনি নবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর শরীয়াহ (ইসলামী আইন)-এর একজন অনুসারী হিসেবে আসবেন। এবং তারপর কী হবে তারও বর্ণনা রয়েছে তার পুরো সেনাবাহিনী থাকবে যারা ভুয়া মাসিহের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। এবং সৃষ্টিকর্তার শক্তিতে, ভুয়া মাসিহ পরাজিত হবে। তারপর যীশু কয়েক বছরের জন্য সমগ্র পৃথিবীতে রাজত্ব করবেন। সেই সময় সবাই মুসলিম হবে। মুসলিম বলতে বোঝায় যে কেউ স্রষ্টার কাছে আত্মসমর্পণ করে। এরপর যীশু বিয়ে করবেন। তিনি মক্কায় তীর্থযাত্রা মানে পবিত্র হজ্জ পালন করবেন। তারপর তিনি স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করবেন। মৃত্যুর পরবর্তী জীবন সম্পর্কে ইসলামের বিশ্বাস খ্রিস্টধর্ম থেকে কীভাবে আলাদা?
জান্নাত, জাহান্নাম, বিচারের দিন ইত্যাদি?
বেশ, ঠিক আছে। মুক্তির সম্পর্কে ধারণা, পরকাল সম্পর্কে ধারণা, অনেক বিষয়ে মিল আছে, আবার অনেকগুলোতে পার্থক্য আছে। আর একটা মিল হলো খ্রিস্টানদের মতে, একদিন সবার পুনরুত্থান হবে এবং একদিন সবার বিচার হবে। কিন্তু এই শেষ বিচারের দিনে, এমনটা হবে না যে সৃষ্টীকর্তা মানুষের বিচার করবেন, বরং যীশু সেদিন মানুষের বিচার করবেন। কিন্তু ইসলাম অনুসারে, আল্লাহ সবকিছু জানেন, তিনি সবকিছু দেখেন, তিনি সর্বজ্ঞানী, তিনি সবকিছু জানেন যীশু নন বরং আল্লাহই একমাত্র সত্তা যিনি মনুষ্যজাতির বিচার করার উপযুক্ত, যেহেতু যীশুর জ্ঞানের অভাব রয়েছে, তিনি একজন নবী ছিলেন, তিনি একজন মানুষ ছিলেন। তিনি সবকিছু জানেন না। আর এটাই প্রধান পার্থক্যগুলির মধ্যে একটি। দ্বিতীয় প্রধান পার্থক্য হলো বাইবেলের তুলনায় কুরআনে স্বর্গ বা জান্নাতের বর্ণনা। বাইবেল পড়লে দেখবেন, জান্নাত সম্পর্কে সেখানে বিস্তারিত বর্ণনা করে না। যেখানে কুরআন বিস্তারিত বর্ণনা করে। কুরআন বলে, প্রাসাদ, গাছপালা এবং পোশাক এবং মানুষের খাবার, মানুষের মিথস্ক্রিয়ার কথা, তাই না?
এটি সমস্ত বিস্ময়কর পুরষ্কারের বর্ণনা দেয় এবং বর্ণনা করে জানাতে আমাদের স্বামী/স্ত্রী এবং পরিবারের ব্যাপারে। বাইবেল কেবল এটাই বলে যে জান্নাতে তাদের সরাসরি যোগাযোগ থাকবে সৃষ্টিকর্তার সাথে। কিন্তু আমি বলতে চাইছি যে, এটা আমাদের মনে অনেক প্রশ্ন রেখে যায়। তার মানে কি অনন্তকাল ধরে আমরা শুধু সেখানে বসে থাকবে আর সৃষ্টিকর্তাও ওখানে থাকবেন, আমরা সেখানে করবো কী?
সকল পুরস্কারের বিস্তারিত বর্ণনার দ্বারা, কোরআন কি ঘটবে এই প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর প্রদান করে। তাহলে এটা একটা পার্থক্য। দ্বিতীয় পার্থক্য হবে নরক বা জাহান্নামের ধারণা। কিছু কিছু খ্রিস্টান আক্ষরিক অর্থে জাহান্নামে বিশ্বাস করে, যেখানে থাকবে শাস্তি এবং যন্ত্রণা। কিন্তু বেশিরভাগ খ্রিস্টানরা বলে জাহান্নাম হলো এমন একটি স্থান যেখানে স্রষ্টা এবং সৃষ্টির মধ্যে বিচ্ছেদ রয়েছে। আর এই বিচ্ছেদের কারণে মানুষের মধ্যে ব্যর্থতা, হতাশা এবং দুঃখ তৈরি হয়। কিন্তু ইসলামের ধারণা অনুযায়ী জাহান্নাম হলো যারা সৃষ্টিকর্তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে তাদের জন্য শাস্তির স্থান। তাদের কাছে অনেক নিদর্শন আসার পর, মানে তাদের কাছে সতর্কবাণী আসার পরেও, তারা তবুও সৃষ্টিকর্তাকে প্রত্যাখ্যান করেছিল, তারা পাপ কাজে লিপ্ত ছিলো, তারা শিরক করেছিল অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তার সাথে অংশীদারিত্ব স্থাপন করেছিল তাই না?
তারা স্রষ্টা ছাড়াও অন্য কারো অথবা স্রষ্টার পাশাপাশি অন্য কারো ইবাদত করেছিল। তাহলে কোরানের বর্ণনা অনুযায়ী জাহান্নাম হলো একটি জায়গা। আল্লাহ আমাদের সকলকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করুন এবং আমাদেরকে চিরকালের জন্য জান্নাতে প্রবেশ করতে সাহায্য করুন তাহলে কি খ্রিস্টানরা বিশ্বাস করে যে মুসলিমরা জাহান্নামে যাবে?
আচ্ছা, খ্রিস্টানদের মতে, আপনি জানেন, ঠিক যেমন মুসলমানদের ছয়টি মৌলিক বিশ্বাস এবং পাঁচটি স্তম্ভ এবং অন্যান্য বাধ্যবাধকতা রয়েছে, আর যদি কোন ব্যক্তি ইসলামের বিশ্বাসের সাথে একমত না হন এবং তা পালন না করেন, তাহলে সেই ব্যক্তির শাস্তি হতে পারে। অথবা মানবজাতির মধ্যে এমন একজন ব্যক্তি যিনি সতর্কতা সত্ত্বেও, জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও ইসলামে বিশ্বাস করেন না, আমরা তাদের ক্ষেত্রে বলি, এটাই হলো একজন ব্যক্তির জাহান্নামে যাওয়ার কারণ। খ্রিস্টানদের মতে, যদি কোন ব্যক্তি যীশুকে স্রস্টা বলে না মানে, স্রস্টার পুত্র অথবা ট্রিনিটির অংশ বলে না মানে, অথবা তিনি মানবজাতির জন্য, অর্থাৎ মুক্তির জন্য মৃত্যুবরণ করেছেন সেটা না মানে, যদি কোন ব্যক্তি যীশু সম্পর্কে এই ধারণাগুলোতে বিশ্বাস না করে, তবে সেই ব্যক্তি জাহান্নামে যাবে। তাই তারা বলে যে, মুসলমান তোমরা যদি যীশুতে অর্থাৎ যীশু যে কাজে এসেছিলো তাতে বিশ্বাস না করো, তবে তোমরা জাহান্নামে যাবে। তাই তারা, তারা বলে যে, মুসলমানরা জাহান্নামে যাবে যদি তারা যীশুকে স্রস্টা এবং ত্রাণকর্তা হিসেবে না গ্রহণ করে । কিন্তু বাইবেল থেকেই, আমরা তাদের বলে দিতে পারি তারা যা বলছে সেটা যীশু মুক্তির বিষয়ে যা বলেছেন তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আমি মনে করি এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির মধ্যে একটি। যীশুর মতে, মুক্তির পথ হলো একজন ব্যক্তির সঠিক বিশ্বাস থাকতে হবে এবং তাকে সৎকর্ম করতে হবে। ইসলামও তাই বলে। পবিত্র কুরআনের ২য় সূরার, ২৫ নম্বর আয়াতে, আল্লাহ বলছেন এবং যার অনুবাদ হচ্ছে যদি কোন ব্যক্তির সঠিক বিশ্বাস থাকে এবং সে সৎকর্ম করে, আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে চিরস্থায়ী জান্নাতের নিশ্চয়তা দেন। বাইবেল অনুসারে একজন ব্যক্তি একবার যীশুর কাছে এলেন, এবং তিনি যীশুকে কিছু মৌলিক প্রশ্ন করলেন। এটা নিউ টেস্টামেন্টের ১ম গস্পেলে যাকে ম্যাথিউসের গস্পেলে বলা হয় তার ১৯ অধ্যায়ের ১৬ নম্বর শ্লোকে বলা হয়েছে। একজন ব্যক্তি যীশুর কাছে এসে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন হে সদাপ্রভু, আমাকে কী করতে হবে যাতে আমি জান্নাতে যেতে পারি?
দেখুন, সরাসরি উত্তর, তাই না? আর যীশু বলে উঠলেন তুমি আমাকে ভালো কেন বলছো?
স্রস্টা ছাড়া আর কেউ ভালো নেই। তাই এই অনুচ্ছেদ অনুসারে যীশু স্রস্টা হতে পারেন না কারণ স্রস্টা হলেন-- যীশু বলছেন যে অন্য কোনও সত্তা আছে, তিনি হলেন সকল মঙ্গল, আমি সকল মঙ্গল নই। আর তারপর তিনি উত্তরে দিলেন। যীশু বলেছিলেন, যদি তুমি অনন্ত জীবন পেতে চাও, যদি তুমি স্বর্গে যেতে চাও, আদেশগুলো মেনে চলো। যীশুও একথা বলতে পারতেন যে, আর কিছু দিন, কিছু মাস বা বছর শেষে, আমি মরতে যাচ্ছি, আর ওরা আমাকে শুলে চড়াবে। বিষ্বস করবে যে আমি মারা গিয়েছি এবং আমাকে পুনরায় জীবিত করা হবে এবং এটাই জান্নাতের পথ। তিনি এগুলো কখনও বলেননি এই ধর্মতত্বগুলো তারা তৈরী করেছে। কিন্তু যীশু বলেছেন যে যদি তুমি জান্নাতে যেতে চাও আদেশের অনুসরণ করো লোকটি জিজ্ঞেস করলো, কি ধরণের আদেশ?
যীশু তখন বললেন পুরাতন আদেশ যাকে ওল্ড টেস্টামেন্ট বলে। আসলে তিনি দশটি আদেশের প্রতি ইঙ্গিত করছিলেন। ওল্ড টেস্টামেন্টের, বুক অফ এক্সোডাসের, দশটি আদেশে বলা হয়েছে, অধ্যায় ২০, পদ নম্বর ৩, একমাত্র ঈশ্বরের উপাসনা এবং বিশ্বাস করো। এবং বাকি নয়টি আদেশ সৎকর্মের কথা বলে। ঈশ্বরের নামের অবমাননা করো না, তোমার পিতামাতাকে সম্মান করো, তোমার প্রতিবেশীদের সাথে ভালো ব্যবহার করো, মিথ্যা বলো না, প্রতারণা করো না, হত্যা করো না, সৎকর্ম কর। দশটি আদেশের মধ্যে, প্রথম আদেশ হল এক ঈশ্বরে বিশ্বাস করো। বাকি আদেশগুলো, সৎকর্মের কথা বলে। তাই যীশুর (আঃ) মতে, এমনকি বাইবেলও, বেহেস্ত নসিব হওয়ার জন্য, সৎকর্মের সাথে সঠিক বিশ্বাস প্রয়োজন। খ্রিস্টধর্ম অনুযায়ী, যিশু মানবজাতির ক্ষমার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। কেন এই বিশ্বাস ভুল?
কেন যীশুকে আপনার ত্রাণকর্তা হিসেবে গ্রহণ করা একজনের পরিত্রাণের জন্য যথেষ্ট হবে না? এটি বিভিন্ন স্তরে ভুল, যাইহোক। যৌক্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি ভুল যে যীশুর মৃত্যু মানবজাতিকে মুক্তি দেবে। আমি আমার বাসা থেকে এখানে গাড়ি চালিয়ে এসেছি। ধরুন যদি আমি গতিসীমার ওপরে গাড়ি চালাই, তাহলে পুলিশের, আমাকেই ধরা উচিত, এবং আমাকেই এর পরিণাম ভোগ করতে হবে, শাস্তির টিকিটও আমারই প্রাপ্য। আমার স্ত্রীকে নয়, আমার প্রতিবেশীকে নয়, আমার বাবা-মাকে নয়। তাহলে যুক্তিসঙ্গতভাবে, যদি একজন মানুষ মারা যায়, সেই মানুষের মৃত্যুতে, অন্য কারো মুক্তি লাভ কীভাবে সম্ভব?
ইসলামী মতেবাদে, যুক্তি অনুযায়ী, তা হল তুমি যা করো তারই ফলাফল বহন করো। এর অর্থ হলো, যদি তুমি ভালো কাজ করো, তোমার জন্য পুরষ্কার। যদি তুমি খারাপ কাজ করো, অনুতপ্ত হলে ক্ষমা আছে, নয়তো পরিণতি ভোগ করতে হবে। ইসলামে পরিত্রাণ যুক্তিসঙ্গত ও বিবেচক। পৃথিবীর প্রতিটি আদালত ব্যবস্থা, ইসলামের স্ব-দায়বদ্ধতার ধারণা প্রয়োগ করে। আপনি যাদি কিছু করেন, যদি কোন অপরাধী কিছু করে, তার শাস্তি সেই পাবে, অন্য কেউ নয়। তাই যুক্তিভিত্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে, খ্রিস্টানদের পরিত্রাণের ধারণা অর্থবহ নয়। ধর্মগ্রন্থের দৃষ্টিকোণ থেকে, যেমন আমি আগে উল্লেখ করেছি, যীশু মুক্তির পথ দেখিয়েছিলেন, জান্নাতে যাওয়ার পথ হচ্ছে, সঠিক বিশ্বাস রাখা এবং সৎকর্ম করা। যা ম্যাথিউ, ১৯ অধ্যায়ে ১৬ নম্বর পদ এবং তার পরেও আছে। তাহলে আমরা যেভাবেই দেখি না কেন, এমনকি ওল্ড টেস্টামেন্টেও, ওল্ড টেস্টামেন্টের ইজিকিয়েল গ্রন্থেও বলা আছে তুমি যা করবে তার ফলাফলও তুমিই ভোগ করবে। ওল্ড টেস্টামেন্ট বলছে, যীশু বলেছেন, কুরআন বলে, যুক্তি বলে, প্রত্তেক আদালত ব্যবস্থা বলে যে যে ব্যক্তি অন্যায় করেছে তাকেই শাস্তি দেওয়া উচিত, যে ব্যক্তি ভালো কাজ করেছে, তাকে পুরস্কৃত করা উচিত। তাহলে আদি পাপের ধারণাটি অর্থহীন, আপনার কি মনে হয়?
আদি পাপ অনুসারে, আদম ও হাওয়া, পাপ করেছিল এবং তারা সৃষ্টিকর্তার অবাধ্য হয়েছিল এবং তারা আপেল খেয়েছিল অথবা তারা গাছের কাছে গিয়েছিল, এবং এর শাস্তি হল প্রতিটি বংশধর, আদম ও হাওয়ার প্রতিটি সন্তান, তারা সেই আদি পাপের উত্তরাধিকারী হবে। কিন্তু যুক্তিভিত্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে, আমার বাবা-মায়ের পাপের শাস্তি আমকে কেন দেওয়া হবে? কোনও আদালত ব্যবস্থা এই ধারণার সাথে একমত নয় যে বাবার অপরাধের জন্য সন্তানকে শাস্তি দেওয়া হবে। ইসলাম আদি পাপের কথা বলে না, ইসলাম মানুষের অন্তর্নিহিত নৈতিকতার কথা বলে। প্রতিটি শিশু, প্রত্যেক ব্যক্তি একটি শুদ্ধ হৃদয় নিয়ে জন্মগ্রহণ করে, নিস্পাপ অবস্থায়, ঠিক না?
নিষ্পাপ, পবিত্র, কলঙ্কহীন। যতক্ষণ না আপনি বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছান, এবং যদি আপনি ভালো কাজ করেন, আপনাকে পুরস্কৃত করা হবে, আপনি যদি খারাপ কাজ করেন, তার পরিণামও ভোগ করতে হবে। তাই ইসলামী দৃষ্টিকোণ অনুসারে, যখন আদম ও হাওয়া পাপ করেছিলেন, যখন তারা ভুল করেছিলেন, তারা উভয়েই আল্লাহর কাছে তওবা করেছিলেন। আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করে দিন। এবং আল্লাহ তাদের ক্ষমা করে দিলেন। গল্প শেষ। এবং প্রতিটি শিশুই জন্মগ্রহণ করে আদি শুদ্ধতা নিয়ে। আমি এই উত্তরটি অনেকবার দিয়েছি, প্রত্তেকবার মসজিদের খোলা ঘরে যখন খ্রিস্টানরা এই প্রশ্নটি করে, প্রতিবার তারা বলে, আপনি জানেন সাবিল, আপনি ইসলামে মুক্তির ধারণা সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন, তা যুক্তিসঙ্গত, এটা অর্থবহ। খ্রিস্টানরা প্রশ্ন করে, তাহলে ঈশ্বর কেন বাইবেলকে রক্ষা করেননি?
তাহলে কেন আল্লাহ ঈসার ওপর নাজিল হওয়া ইনজিলকে (গস্পেল) রক্ষা করেননি? দাউদকে প্রদত্ত যাবুর, মূসাকে প্রদান করা তাওরাত, এবং ইব্রাহিমকে প্রদত্ত সহিফাসমূহ। আল্লাহ যদি চাইতেন, তিনি সেগুলো সংরক্ষণ করতে পারতেন তাহলে আজ আমাদের হাতে মূল গ্রন্থগুলো থাকত, ঠিক না?
আল্লাহ এটা করতে পারতেন, তিনি সর্বশক্তিমান। তাঁর সেই ক্ষমতা আছে। আল্লাহ তা করার ইচ্ছা করেননি কারন সেসব ওহি শুধু মাত্র সে সময়ের সেসব মানুষেরই জন্য। সেখানে সীমিত নির্দেশনা ছিল। সিমিত শারি'য়াহ বুঝলেন। সেই শারি'য়াহ সকল মানুষের জন্য এবং সর্বকালের জন্য প্রযোজ্য ছিল না। শারি'য়াহ অর্থ পথ নির্দেশনা। উদাহরণস্বরূপ, আমি আপনাকে এই সহজ উপমাটি দেই। আপনার কাছে নরওয়ের সংবিধান আছে। নরওয়ের সংবিধান শুধুমাত্র, নরওয়েজিয়ান সেই ৫০ লক্ষ মানুষের জন্য লেখা হয়েছিল, ভৌগোলিকভাবে, তাদের সংস্কৃতির উপর ভিত্তি করে, তাদের পটভূমির প্রেক্ষাপটে। নরওয়ের সংবিধান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের জন্য অথবা ভারতের জনগণের জন্য, আফ্রিকার জনগণের জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রযোজ্য হবে না। মার্কিন সংবিধান অন্যান্য দেশের জন্য প্রযোজ্য হবে না কারণ এটি একটি নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে লেখা। কিন্তু কল্পনা করুন যদি এমন একটি সংবিধান থাকে যা সমগ্র বিশ্বের জন্য প্রযোজ্য, সর্বকালের জন্য সকল সংস্কৃতি, সকল জাতির জন্য। এটা কোরআনের সাথে নরওয়ে ও যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের তুলনার মতো, একইভাবে বাইবেলের ওল্ড এবং নিউ টেস্টামেন্টের সাথে তুলনীয়। যদিও বা আল্লাহ যীশুর ওপর নাজিল হওয়া ইঞ্জিল (গস্পেল) সংরক্ষন করতেন এটা এখনকার দিনের সকল প্রকার সমস্যা সমাধানের জন্য যথেষ্ট হতো না। তাই এর পরিধি সীমিত ছিল, এটি শুধুমাত্র সেসব মানুষের জন্য এবং শুধুমাত্র সেই সময়ের জন্য ছিল। এই কারণেই, আল্লাহ তাঁর অসীম প্রজ্ঞায় এটি সংরক্ষণের অঙ্গীকার গ্রহণ করেননি। কিন্তু কুরআন সমগ্র মানবজাতির জন্য, সর্বকালের জন্য, সকল সমাধানের জন্য, যেকোনো সমস্যার জন্য, যেকোনো সংস্কৃতির জন্য, মানবতার জন্য যেকোনো জাতির জন্য, এবং এটি সর্বশেষ ওহী, তাই আল্লাহ এটিকে সংরক্ষণের অঙ্গীকার করেছেন। মুসলিমরা বিশ্বাস করে যে কুরআন সংরক্ষিত, কিন্তু বাইবেলের পরিবর্তন করা হয়েছে। তাহলে এর কারণ কী?
আপনি কি এটা প্রমাণ করতে পারবেন? এটা একটা অনেক বড় দাবি। এটা একটা বিরাট দাবি এবং এই বিরাট দাবির তো বিরাট প্রমাণ থাকা উচিত, তাই না?
এখন কুরআনের দিকে আসি। দেখুন, আল্লাহ কুরানের ১৫ নম্বর অধ্যায়ের ৯নং আয়াতে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, আল্লাহ এই যিকির, এই বার্তা, পাঠিয়েছেন তিনিই এটি সংরক্ষণ করবেন। তিনি দুটি ভিন্ন উপায়ে এটি সংরক্ষণ করছেন। এক মানুষের অন্তরে, স্মৃতিতে। মুহাম্মদ (সাঃ) যখন তাঁর কাছে ওহী এসেছিল, তিনি পুরো কুরআনের প্রথম মুখস্থকারী হয়ে গিয়েছিলেন। তার অনুসারীরা কুরআন মুখস্থ করেছিল এবং তারা পরবর্তী প্রজন্মকে কুরআন শিক্ষা দিয়েছিল এভাবে আমাদের প্রজন্ম পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে এ প্রথা চলে আসছে। স্মৃতির ধারায় বা হিফয করার মাধ্যমে ১৪০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে একাধিক শৃঙ্খল অবিরতভাবে চলে এসেছে কোনো ব্যবধান ছাড়াই। প্রতি প্রজন্মে হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ মানুষ এটি মুখস্থ করেছে। আমাদের প্রজন্মে, ২০২১ সালে, মানুষ জেনে অবাক হবে যে সারা বিশ্বে প্রায় ১ কোটি ৫০ লক্ষ কুরআন হিফযকারি বা মুখস্থকারী আছেন। বাইবেলের কতজন?
মূল ভাষায়? শূন্য। আমি মূল ভাষার কথা বলছি, তাই না? আরামাইক ভাষার কথা বলছি ওল্ড টেস্টামেন্টের, প্রাচীন ধ্রুপদী হিব্রু ভাষা। বাইবেলের কোন মুখস্থকারী নেই, কিন্তু কোরআনের ১ কোটি ৫০ লক্ষ মুখস্থকারী আছে। তাহলে এই উপায়ে আমরা বলতে পারি যে কুরআন অন্তঃস্থ করা হয়, তাই না?
এবং আমরা একটি পরীক্ষা করতে পারি। একজন খ্রিস্টান আসবেন যিনি কুরআন পড়তে জানেন, তিনি কুরআন খুলবেন এবং আমার ছেলে যে কিনা কুরআন মুখস্থ করেছে মাশাআল্লাহ সে হিফয করার খুব কাছেই। তাই সে অন্য দিকে তাকিয়ে কোনরকম ফোন, গাজেট ছাড়াই, স্মৃতিশক্তি থেকেই সে কুরআন তেলাওয়াত করতে পারে। আর যে খ্রিস্টান আরবি পড়তে জানেন, তিনি কুরআন পড়বেন, এটা একদম তাই হবে যা আমার ছেলে, ইউসুফ তেলাওয়াত করবে। সহজ পরীক্ষা। দ্বিতীয় যে উপায়ে কুরআন সংরক্ষিত হয়েছে, শুরু থেকেই, মুহাম্মদ (সা:), তিনি পড়তে এবং লিখতে জানতেন না। যখনই তাঁর কাছে কোন ওহী আসত, তখনই তাঁর কাছে ৫৫ থেকে ৭৭ জন লেখক আসতেন। তারা আসতেন, তিনি তাঁদের, আয়াতটি লিখার অনুরোধ করতেন, কুরআনের এই সূরা। তাঁরা লিখে রাখতেন এবং তারপর তিনি তাঁদের অনুরোধ করতেন, তেলাওয়াত করে শোনানোর জন্য যা তাঁরা লিখেছেন। নিশ্চিত করার জন্য যে তাঁরা ঠিকঠাক লিখেছিলেন কিনা। তো এভাবে, পুরো কুরআন লেখা হয়েছিল এবং পুরো কুরআন মুখস্থ করা হয়েছিল। যদি লেখকরা কোন ভুল করেন, যেহেতু ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা হবার আগে, মানুষ কেবল তাদের হাতে অনুলিপিগুলো, লিখত, এবং মানুষ ভুল করে। যদি কুরআনের লিখিত পাণ্ডুলিপিতে কোন ভুল থাকে, যারা কুরআনের হাফিয, যদি তাঁরা পাণ্ডুলিপিতে কোন রকম ভুল লক্ষ করে, তাঁরা তা ধরবে এবং সংশোধন করবে, এটি মূল সংস্করনের মতোই হবে। তাহলে কুরআনের দ্বৈত নিয়ন্ত্রণ এবং ভারসাম্য ব্যবস্থা রয়েছে যা অন্য কোনও গ্রন্থে নেই। এটাই প্রমাণ কোরআন সংরক্ষিত রয়েছে। এবং আমাদের কাছে কুরআনের পাণ্ডুলিপি রয়েছে নবী (সাঃ)-এর সময়কাল থেকে শুরু করে। এরমধ্যে একটি হল বার্মিংহাম কুরআন, যা তারা বার্মিংহাম লাইব্রেরিতে আবিষ্কার করেছিল। তাই আমরা বলতে পারি যে কুরআন সংরক্ষিত রয়েছে। এটি কেবল একটি অন্ধ বিশ্বাস নয়, এর পিছনে প্রমাণ রয়েছে। বাইবেল সম্পর্কে কী বলা যায়?
মানুষ হয়তো ভাবছে। তোমরা মুসলিমরা বাইবেল পরিবর্তন করা হয়েছে বলে অভিযোগ কর। ঠিক আছে, প্রমাণ কী? কে পরিবর্তন করেছে? কখন পরিবর্তন করা হয়েছে? পরিবর্তনগুলো কোথায়?
ঈসা (আঃ) যখন তিনি হেদায়েতের কথা বলেছিলেন, এক সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে, পরিত্রাণ সম্পর্কে, তখন কেউ এটি লিখে রাখেনি। বাইবেলের কোনও ঐতিহাসিক বলেননি যে, যীশুর বাণী যীশুর সময়েই লেখা হয়েছিল। যীশু চলে যাওয়ার পর, তার বহু দশক পরে, মানুষ মনে করতে শুরু করে এবং তারা লিখতে শুরু করে। যীশুর পৃথিবী ছেড়ে যাওয়ার সময় থেকে প্রায় ৩০ থেকে ৬০ বছরের ব্যবধান ছিল। এবং খ্রিস্টানদের মতে, যারা এটি লিখেছে, চারজন গস্পেল, তারা প্রকৃত প্রত্যক্ষদর্শী নন। তারা অজানা লেখক। এবং যখন তারা এটি লিখেছিলেন, তখনও তারা সেটি যীশুর ভাষায় লিখেননি। বিশ্বকোষ ব্রিটানিকা অনুসারে যীশু, আরামাইক ভাষায় কথা বলতেন। কিন্তু নিউ টেস্টামেন্টের মূল লেখাগুলি গ্রীক ভাষায়। দেখুন, মুসলিমদের কুরআন আরবিতে লেখা, আরবি ভাষায় অন্তঃস্থ করা, আরবিতে অবতীর্ণ, যখন আমরা নামাজে তেলাওয়াত করি, তখনও আমরা আরবিতেই করি। তাদের তা নেই। তাহলে বাইবেল, নিউ টেস্টামেন্ট, গ্রীক ভাষায় লেখা হয়েছিল, কিন্তু যীশুর ভাষা আরামাইক ছিল, তাই না?
সুতরাং তাদের সমস্ত ফাঁকফোকরগুলো লক্ষ্য করুন। যীশুর সময়ে লেখা হয়নি, অন্য ভাষায় লেখা, যারা লিখেছেন তারা শিষ্য বা প্রত্যক্ষদর্শী নন, এবং অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। আর এত এত পরিবর্তন এর কারণ হলো এইগুলোই। ঠিক আছে, কল্পনা করুন। আপনার কাছে বাইবেলের একটি পাণ্ডুলিপি আছে, আর তারপর একজন ব্যক্তিকে তার অনুলিপি লিখতে হবে। কারণ বাইবেলের মুখস্থকারী কেউ নেই, এই ব্যক্তি অনুলিপি লেখার সময়ে একটু ভুল করতেই পারে। তার কারণ স্মৃতিশক্তি, একজন মানুষ ক্লান্ত থাকতে পারে, তাই না?
যথেষ্ট আলকপাত নেই। তারা একটি অনুলিপি তৈরি করতে পারে এবং এই অনুলিপিটি এটির মতো হবে না কারণ এখন এতে একটি ভুল আছে। যদি কেউ এই অনুলিপি থেকে আরও একটি অনুলিপি তৈরি করে, তারা এই ভুলটি অন্তর্ভুক্ত করতে পারে এবং তারা আরও ভুল যোগ করতে পারে। তাই তাদের যত বেশি অনুলিপি থাকবে, ভুল ততই বাড়তে থাকবে। এখন, আমরা তাদের বোঝানর জন্য আরও একটি উপায় বলতে পারি যে বাইবেল পরিবর্তন করা হয়েছে কারণ আমি বাইবেলের একজন সংগ্রাহক। আমার সংগ্রহে ৩০০টি বাইবেল আছে। একবার আমার লাইব্রেরিতে আসুন। ইতিহাসের বিভিন্ন সময় থেকে, বিভিন্ন ভাষা এবং বিভিন্ন সংস্করণ আমার কাছে আছে। প্রত্যেকেই একটি থেকে অপরটি ভিন্ন। উদাহরণ, বাইবেলের কিং জেমস সংস্করণটি ১৬১১ সালে প্রকাশিত হয়েছিল ইংল্যান্ডের রাজা জেমসের তত্ত্বাবধানে রচিত। বাইবেলটি ১৮৮১ থেকে ১৮৮৫ সালে সংশোধিত হয়েছিল কারণ এতে ত্রুটি ছিল এবং এটি কোন প্রাচীন পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি করা হয়নি। তাই তারা ১৮৮১ সালে ইংল্যান্ডে এটি সংশোধন করেছিল। এতেও কিছু ত্রুটি ছিল, তাই তারা ১৯০১ সালে আবার সংশোধন করা শুরু করে, যাকে আমেরিকান স্ট্যান্ডার্ড ভার্সন বলা হয়। এতেও ভুল ছিল কারণ, মানুষ নতুন পাণ্ডুলিপি আবিষ্কার করতে শুরু করেছিল। এবং নতুন পাণ্ডুলিপিগুলো আবার, এই বাইবেলের থেকে আলাদা, তাই তাদের বাইবেল আপডেট করতে থাকতে হবে। এবং আমি কিছু উদাহরণ দেব, ঠিক আছে?
তাহলে বাইবেলের ১৯০১ সালের সংস্করণ, আমেরিকান স্ট্যান্ডার্ড সংস্করণ, এতে ভুল আছে বলে, তারা ১৯৫২ সালে এটি সংশোধন করেছিল। এতেও ভুল আছে, তাই তারা ১৯৭১ সালে এটি পুনরায় সংশোধন করেছিল, NASB। এতেও ভুল আছে, তাই তারা ১৯৮৯ সালে এবং ২০২০ সালে এটি আবারো সংশোধন করেছে, এবং তারপর ২০২১ সালে। তাহলে আপনি হয়তো ভাবছেন, ভাই সাবিল, এখানে হচ্ছেটা কি? ঠিক আছে, আপনার কাছে একটি বাইবেল আছে, কিন্তু যদি তারা নতুন পাণ্ডুলিপি আবিষ্কার করে, তাদের এই বাইবেলটি আপডেট করতে হবে, এর অনুবাদ নয় কিন্তু, এর বিষয়বস্তু। তাহলে আসলটি কী হতে পারে অর্থাৎ যেসব পদ মানুষ বাইবেলে পরিবর্তন করেছে?
আপনি যদি বাইবেলের নিউ টেস্টামেন্টের কিং জেমস সংস্করণ দেখেন, দ্বিতীয় বইয়ে, মার্কের গস্পেল, ১৬ নম্বর অধ্যায়ে, আমি এত কিছু বলছি, আশা করি আপনি বুঝতে পারছেন। নিউ টেস্টামেন্ট, দ্বিতীয় গস্পেল, অধ্যায় নম্বর ১৬, কিং জেমস সংস্করণে এর ২০টি পদ রয়েছে। তাহলে এটা একটা বাইবেল। আমার কাছে আছে, বাইবেলের ১৯৫২ সালের সংস্করণ, মার্কের গস্পেলের ১৬ অধ্যায়ে, এটিতে ২০টি পদ রয়েছে, এইটিতে মাত্র ৮টি পদ আছে। তারা হয়তো ভাবছে। মুসলিমরা, হয়তো অনুবাদকে সংস্করণের সাথে বিভ্রান্ত করছে। না, অনুবাদ আমরা বুঝি। উদাহরণস্বরূপ, অনুবাদ অর্থ ইংরেজি থেকে তুর্কি ভাষায় রুপান্তর, তাই না?
এটা অনুবাদ। সংস্করণের অর্থ আপনি আসল শব্দে পরিবর্তন করেছেন, আপনি আসল অনুচ্ছেদে পরিবর্তন করেছেন। এই সংস্করণে বেশি অনুচ্ছেদ রয়েছে, এই সংস্করণে কম অনুচ্ছেদ রয়েছে। তাহলে এটা একটা উদাহরণ, সহজ উদাহরণ। আরও একটি উদাহরণ জনের গস্পেল, চতুর্থ গস্পেল, সপ্তম অধ্যায়, পদ সংখ্যা ৫৩, এটি একটি পতিতা সম্পর্কে কথা বলে এবং কীভাবে মানুষ তাকে পাথর ছুঁড়ে মারার জন্য তার তার পাশে জড়ো হয়েছিল। আর যীশু ঘটনাস্থলে এসে বললেন, ঠিক আছে, যারা পাপমুক্ত তারাই প্রথম পাথর ছুঁড়ে মারবে। আপনি হয়তো গল্পটি শুনেছেন। প্রাচীন পাণ্ডুলিপিতে সেই গল্পটি নেই। কিন্তু কিং জেমস সংস্করণে এটি আছে। বাইবেলের আএসভি সংস্করণে বলা হয়েছে, এই গল্পটি যোগ করা হয়েছে, এই গল্প প্রাচীন পাণ্ডুলিপিতে নেই। তাহলে কেউ এতে সেই গল্পটি যোগ করেছে। আরও একটি সংক্ষিপ্ত উদাহরণ দেই। জনের প্রথম পত্রে, অধ্যায় ৫, পদ নম্বর ৭, কিং জেমস সংস্করণ বলে যে স্বর্গে তিনজন আছেন যারা সাক্ষ্য দেন, পিতা, পুত্র এবং পবিত্র আত্মা। এটা কিং জেমস সংস্করণ বলে। বাইবেলের নতুন সংস্করণগুলি, তারা এটি বের করে দিয়েছে কারণ তারা বুঝতে পেরেছিল যে কেউ এটি যোগ করেছে। তাই আমি যা বলছি তা হল শতাব্দী ধরে গ্রীক পাণ্ডুলিপিতে, মানুষ কিছু সংযোজন করেছে, কিছু বিয়োগ করেছে। এই কারণে, আমরা বলি যে বাইবেল পরিবর্তন করা হয়েছে। তাহলে খ্রিস্টানদের দ্বন্দ্ব এখানেই। তাদের কাছে মূল বাইবেল নেই, তাদের কাছে বাইবেলের কোন হাফেয নেই, মুখস্থকারী নেই, তাদের কাছে কেবল এই পাণ্ডুলিপিগুলি আছে এবং প্রতিটি পাণ্ডুলিপি আলাদা। তাই তারা নিজেদের চিন্তা-ভাবনা অনুযায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা করে, যেমন সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট গ্রহণ করে, এখানে কোন অংশটি লেখা উচিত, ওখানে কোন অংশটি লেখা উচিত এভাবে। তারা এভাবেই বাইবেল তৈরি করে। তাহলে মুসলিমরা যখন আমরা এই বিবৃতি দেই, যে বাইবেল পরিবর্তন করা হয়েছে, কোরআন সংরক্ষিত, আমরা যা বলি তার জন্য আমাদের কাছে যথেষ্ট, বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ রয়েছে। তাহলে কি এই ৪টি বাইবেলই লেখা হয়েছিল নাকি যীশুর সময়ে কি অন্যান্য বাইবেলও উপস্থিত ছিল?
তো যা ঘটেছিল তা হল যীশুকে ৩৩ সালের দিকে, আসমানে তুলে নেবার পর কেউ তাঁর শিক্ষা সম্পর্কে কোনও বিবৃতি লেখেনি। এর বহু দশক পরে, মানুষ অনেক গস্পেলে লিখতে শুরু করে। গস্পেলে সংজ্ঞা হল এটি হযরত নবী ঈসা (আঃ) এর জীবনী। অনেকেই নবী যীশুর জীবনী লিখেছেন । যাদের মধ্যে রয়েছে ম্যাথিউ, মার্ক, লুক এবং যোহান। কিন্তু অনেকগুলো গস্পেল লিখা হয়েছে। কেউ বলে ৭৭ কেউ বলে ১০০ এবং কেউ বলে ২০০টা আসলে যা ঘটেছিল তা হল যখন যীশুর প্রকৃত অনুসারীরা এবং তাদের বংশধররা, তারা পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে গিয়ে যীশুর প্রচারিত একেশ্বরবাদে বিশ্বাসের শিক্ষা দিয়েছিলেন। আর এই খ্রিস্টানরা অথবা এই আদি শিষ্যরা, যখন তারা রোমান সাম্রাজ্যে গিয়েছিল, যখন তারা পারস্যে গিয়েছিল, যখন তারা মিশরে গিয়েছিল, অথবা যখন ভারত উপমহাদেশ বা চীনে গিয়েছিলো, সেই জায়গাগুলিতে, সেই সংস্কৃতিতে, ট্রিনিটি বা বিভিন্ন আকার ও রূপে ট্রিনিটির আসলেই প্রচলন ছিলো দুর্ভাগ্যবশত, যীশুর একেশ্বরবাদী অনুসারীরা, একেশ্বরবাদকে ভুলে যায় এবং তারা ট্রিনিটিকে এতে অন্তর্ভুক্ত করেছে। তাহলে রোমান সাম্রাজ্যে আগে যা হত তা হলো খ্রিস্টানদের দুটি দল তৈরি হলো, ট্রিনিটিতে বিশ্বাসী খ্রিস্টান, এবং একেশ্বরবাদী খ্রিস্টান। অথবা আপনি যাকে বলতে পারেন তা হল ইউনিটেরিয়ান খ্রিস্টান, তাই না?
তো ট্রিনিটিতে বিশ্বাসী খ্রিস্টান এবং ইউনিটারিয়ান তাদের মধ্যে আগে লড়াই হতো এবং সংঘর্ষ লেগে থাকতো।. তাহলে রোমের সম্রাট কনস্টানটাইন যিনি একজন পৌত্তলিক সম্রাট ছিলেন তিনি বললেন যে শান্তি থাকা উচিত, সম্প্রীতি থাকা উচিত, আসুন এই দল দুটিকে একত্রিত করি।.
তাই তিনি সকল খ্রিস্টান বিশপদের একত্রিত করেন। তিনি একটি সম্পূর্ণ কাউন্সিল করলেন, যাকে বলা হয় নাসিয়া কাউন্সিল। এখানে তারা সিদ্ধান্ত নিল যীশু তার পিতার সমান। তার আগে কিন্তু বিষয়টি এমন ছিলো না। কিন্তু এখন বিষয়টি একটি প্রচলিত বিষয় হয়ে উঠেছে। যখন এটি প্রচারিত হচ্ছে, অনেকগুলো গস্পেল ও রয়েছে, আর খ্রিস্টানরা নির্ধারণ করতেই সক্ষম হয়নি যে কোনটি সঠিক, আর কোনটি ভুল। কিন্তু ততদিনে ট্রিনিটির এই প্রচলন গোঁড়ামিতে পরিণত হয়েছে। ৩৬৭ সালে যখন তাদের চূড়ান্তভাবে বাইবেল নির্ধারণ করলো, সেটা যীশুর মৃত্যুর অনেক পরে। ৩৬৭ সালে তারা ট্রিনিটিয়ান বিশ্বাসকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল এবং তারা কেবল সেই গস্পেলগুলোকেই নির্বাচন করেছিল যা খ্রিস্টানদের ট্রিনিটিয়ান বিশ্বাসের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। সেটা ৩৬৭ সালে, যীশুর ৩০০ বছরেরও বেশি সময় পরে। তাই ট্রিনিটির সাথে একমত এমন গস্পেলগুলোকেই তারা বাইবেলে স্থান দিয়েছে। যারা এর সাথে দ্বিমত পোষণ করেছিল, তারা সেগুলো ফেলে দিয়েছে। তাই আরও অনেক গস্পেল ছিল, যেমন থমাসের গস্পেল, অথবা মানুষ বলে বার্নাবাসের গস্পেল অথবা অন্যান্য গসপ্যাল, যেখানে বলা হয় যে যীশু কেবলমাত্র একজন নবী ছিলেন, শুধুমাত্র একজন স্রস্টা আছেন, যীশু মারা যাননি, ইত্যাদি। ইসলাম মুক্তি সম্পর্কে যে ধারণা দেয়, সেই সকল গস্পেল ফেলে দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল, নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, এবং শুধুমাত্র সেইসব গস্পেল যা ট্রিনিটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, সেগুলিকেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তাহলে তারা কীভাবে এই ট্রিনিটির বিষয়টি নিয়ে আসলো?
এটি কি অন্য কোন ধর্মের ছিল, যার সদস্য তারা খ্রিস্টধর্ম অনুসরণের আগে ছিল? ট্রিনিটি বা ট্রিনিটির ধারণাটি বিভিন্ন সংস্কৃতিতে সত্যিই প্রচলিত ছিল। ব্যাপারটা শুধু ট্রিনিটি নয়। যেমন কিছু কিছু সংস্কৃতিতে তারা স্রস্টার ধারণাকে এতটাই দুর্বল করে দিয়েছিল যে, তারা মূর্তি, মানুষ, প্রাণী, ট্রিনিটির ধারণার পূজা শুরু করেছিল। যেমন হিন্দুদের ক্ষেত্রে,, ট্রিনিটি এখনো তাদের ধর্মে রয়েছে। তাদের স্রষ্টা ব্রহ্মা, আর রয়েছে বিষ্ণু, এবং তারপর রয়েছে শিব, রক্ষক এবং ধ্বংসকারী।. এছাড়া মিশরীয় সংস্কৃতিতে, তাদের একই রকম ট্রিনিটি ছিল, রোমান সাম্রাজ্য, পারস্যে। আসলে একেশ্বরবাদকে কলুষিত করা হয়েছিল।. আইনি জানেন যে, আমি ভারত থেকে এসেছি, তাই না?
আমি ভারতে জন্মগ্রহণ করেছি এবং বেড়ে উঠেছি। আমি আসলে কিছু মুসলিমকে মৃত মানুষের কবরের চারপাশে ঘুরতে দেখতাম। এদের পরিচয় মুসলিম। এবং তারা সিজদা করত মৃত ব্যক্তিকে আর দাবী করতো যে তারা মুসলিম। আসলে তাদের জ্ঞান ছিলো না, তারা নতুন কিছু করতো। ঠিক একইভাবে, যখন যীশুর সেই প্রাথমিক অনুসারীরা, যখন তারা এই অন্যান্য সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হয়, তারা কোন না কোনভাবে ঐ সংস্কৃতির প্রতি, তাদের জীবনযাত্রার প্রতি আকৃষ্ট হয়, তাদের ধর্ম বিশ্বাসের প্রতিও, এবং তারা একেশ্বরবাদকে কলুষিত করে আর ট্রিনিটির মতবাদগুলোকে তারা তাদের অন্তর্ভুক্ত করে ফেলে। তাই প্রাথমিকভাবে অতীতের কিছু সংস্কৃতিতে, যেমন ইহুদীদের সংস্কৃতিতে, তারা ধার্মিক ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিদেরকে স্রস্টার পুত্র বলে ডাকে। আক্ষরিক অর্থে নয়, কিন্তু রূপক অর্থে। কিন্তু তারপর খ্রীষ্টের অনুসারীরা এসে বললেন, অন্যান্য সংস্কৃতিতে, স্রস্টার পুত্র আছে। হয়তো যীশুও স্রস্টার পুত্র। তাই তারা একটি আক্ষরিক অর্থ দিয়েছিলেন যেখানে এটিকে রূপক অর্থে বলার কথা ছিলো । এরপর যখন তারা আক্ষরিক অর্থে বললো স্রস্টার একটি পুত্র আছে, তাহলে পুত্রকেও স্রস্টার একই গুণাবলী ধারণ করতে হবে। এর অর্থ হলো পুত্রকেও স্রস্টা হতে হবে। তারপর তারা আরও একটি সত্তা তৈরী করলো যার নাম দিলো পবিত্র আত্মা। অর্থাৎ স্রস্টার আত্মা একটি রূপক অর্থে, স্রস্টার আত্মা হলেন স্বয়ং স্রস্টা।.
কিন্তু তারা স্রস্টার আত্মাকে একটি পৃথক ব্যক্তি হিসেবে তৈরি করেছে এবং তাকে ঐশ্বরিক গুণাবলী দিয়েছে। তাহলে এখন তারা বলে, যদি পিতা স্রস্টা হন, তাহলে পুত্রেরও স্রস্টার গুণাবলী আছে, এবং পবিত্র আত্মারও ঐশ্বরিক গুণাবলী রয়েছে। হয়তো ঠিক ঐ সংস্কৃতিগুলোর মতোই, স্রস্টা তিন ব্যক্তির মধ্যে আছেন। এভাবেই ট্রিনিটির ধারণাটি যীশুর মৃত্যুর বহু শতাব্দী পরেও, খ্রিস্টীয় ধর্মমতে অর্থোডক্স বা প্রচলিত বিশ্বাসের অংশে পরিণত হয়েছিল। আপনার ব্যাখ্যা সত্যিই যৌক্তিক, কিন্তু অনেক খ্রিস্টান বলে যে আমি খ্রিস্টধর্মে আধ্যাত্মিকতা খুঁজে পেয়েছি এবং আমি স্রস্টার সাথে সংযোগ অনুভব করি। তাহলে আমাকে কেন আমার বিশ্বাস কেন পরিবর্তন করতে হবে?
আমি বলব তিনটি কারনে একজন ব্যক্তিকে খ্রিস্টধর্ম থেকে ইসলামে ধর্ম পরিবর্তন করতে হবে তিনটি সহজ কারণ, দ্রুত বলছি। প্রথমত, কেবলমাত্র একজন ব্যক্তি কোন বিশ্বাসের ব্যপারে আধ্যাত্মিক সম্পর্ক বা ভালো অনুভব করেন, এ বিষয়টা সেই বিশ্বাসের সত্যতার মানদণ্ড নয়। একজন হিন্দু যখন একটি মন্দিরে যায়, তখন তিনি একই কথা বলতে পারেন, আমি বোধ করি, যে তিনি আধ্যাত্মিক সম্পর্ক অনুভব করছেন এবং তার মনে হচ্ছে এটাই সঠিক বিশ্বাস। আমরা যা অনুভব করি, তা সবসময় বাস্তব সত্য নয়। একজন বৌদ্ধ একই কথা বলতে পারেন, একজন ইহুদিও একই কথা বলতে পারেন, তাই না? মুসলিমরাও একই কথা বলে। আমরা কিছু বলি বলেই সেটা সঠিক হয়ে যায় না। অনুভূতি, তাই না? আমাদের সকলেরই অনুভূতি আছে। তাই একে বলা হয় একটি বিষয়গত যুক্তি। বিষয়গত, ঠিক না?
আমরা অনুভূতিকে প্রাধান্য দিয়ে চলতে পারি না, আমাদের বাস্তবতাকে প্রাধান্য দিতে হবে। এখন চলুন বাস্তবতার কথায় আসি, দুটি বিষয় বলবো। প্রথমত, আমাদের জন্য সঠিক বিশ্বাসের একটি শর্ত হলো সেই বিশ্বাসে সৃষ্টিকর্তার সঠিক ধারণা থাকা। যদি সৃষ্টিকর্তার ধারণা সঠিক হয়, তাহলে সবকিছু ঠিকভাবে চলবে। আর যদি ধারণাটা ভুল হয়, তাহলে অন্য কিছুই গুরুত্বপূর্ণ নয়। ইসলাম সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে যে ধারণা দেয়, তা হলো একত্ববাদ, শুধুমাত্র একজন সৃষ্টিকর্তা, যার অসাধারণ গুণাবলি, কোনো অংশীদার নেই, ট্রিনিটি নেই, সম্পূর্ণ একত্ববাদ। প্রত্যেক নবী, রাসূল এই ধারণার প্রচার করেছেন, এমনকি বাইবেলেও এই ধারণা পাওয়া যায়।.
আমি আমার খ্রিস্টান এবং ইহুদি বন্ধুদের বলি, আদম (আঃ) কে দেখুন, ওল্ড টেস্টামেন্ট অনুযায়ী তিনি একত্ববাদী ছিলেন, তিনি ট্রিনিটারিয়ান ছিলেন না। মূসা (আঃ) ও ট্রিনিটারিয়ান ছিলেন না, তিনি একত্ববাদ প্রচার করেছেন, এবং অন্যান্য নবীরাও, এমনকি যীশুও একত্ববাদ প্রচার করেছেন। যীশু ট্রিনিটারিয়ান ছিলেন না। এজন্য বলবো এটি দ্বিতীয় কারণ যে খ্রিস্টানদের ইসলামকে বিবেচনায় নেওয়া উচিত, কারণ যীশু ও সকল নবী যা প্রচার করেছেন ইসলাম তা পুনরায় জীবন্ত করেছে। আর তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো— আমি যদি একজন ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থান থেকে চিন্তা করি, আমার সামনে যদি ইসলাম, খ্রিস্টধর্ম, ইহুদিধর্ম, হিন্দুধর্ম থাকে, তাহলে আমি যদি একটি ধর্ম বেছে নিতে চাই, তখন একটি মানদণ্ড হবে এইটা। মানবজাতি আজ নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জাতিগত বৈষম্য, পারিবারিক কাঠামোর ভাঙন, নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, হত্যা, আত্মহত্যা, জুয়া—এই সমস্যাগুলো চলছেই, যার তালিকা অনেক দীর্ঘ তাহলে সমাধান কী?
তাই সঠিক বিশ্বাসের একটি মানদণ্ড হলো, যদি তা স্রস্টার পক্ষ থেকে আসে, তাহলে সেখানে প্রতিটি সমস্যার জন্য ব্যবহারযোগ্য, বাস্তবসম্মত সমাধান থাকবে। আপনি যদি নিউ টেস্টামেন্ট দেখেন, এখানে বলা হয়নি একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, রাজনৈতিক ব্যবস্থা, বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, পারিবারিক ব্যবস্থা, বৈবাহিক ব্যবস্থা এইসব সম্পর্কেও নয়। নিউ টেস্টামেন্ট আমাদের দরকার, কিন্তু তাতে এসব বিষয় নেই। ওল্ড টেস্টামেন্টে কিছু পরিমাণে আছে, কিন্তু তা কেবল ইহুদি জাতির জন্যই প্রযোজ্য। এগুলো সীমিত, নির্দিষ্ট সময় ও নির্দিষ্ট জাতির জন্যই ছিল। আমরা এটা দরকার, কিন্তু ওটার মধ্যে ওই বিষয়গুলো নেই। হিন্দু বেদগুলোতেও পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থার বিষয়গুলো নেই। বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থেও নেই, ঠিক তো?
মানবজাতিতে রয়েছে ৮ বিলিয়ন মানুষ আমাদের প্রয়োজন সমাধান, প্রয়োজন দিকনির্দেশনা। শুধু মানবিক যুক্তি দিয়ে বললেও তাদের কাছে এই সমাধানগুলো নেই। বাস্তবসম্মত সমাধান নেই, বুঝলেন? শুধু এইভাবে নয়—“তোমার প্রতিবেশীকে ভালোবাসো”— ভালো, কিন্তু ভালোবাসা মানে কী?
এসবের বিশদভাবে ব্যাখ্যা থাকতে হবে। ইসলামে সেই সমাধান আছে। কুরআনে আছে, যা মানবজাতির জন্য আল্লাহর বাণী, এবং আছে সুন্নাহ পালনের মধ্যে, যা নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবনের উদাহরণ। মানবজাতির দরকার এসব সমাধান, ওদের নেই কিন্তু ইসলাম এসব প্রদান করে। তাই এই তিনটি কারণে, যুক্তিভিত্তিক, বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি থেকে—ইসলামই সঠিক বিশ্বাস। তাহলে আপনি বলছেন আগের নবীগণ, আপনি বলছেন, ওল্ড টেস্টামেন্ট অনুযায়ী নবীরা এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস এবং একত্ববাদ শেখাতেন। আপনি বললেন যীশু ও একই কথা বলেছেন। তাহলে খ্রিস্টানদের মতে, ওই নবীদের কী হবে? কারণ তারা তো যীশুকে বিশ্বাস করতেন না কারণ যিশু তো তাঁদের পরে এসেছেন। তাহলে সেই নবীদের পরিণতি কী? যারা যীশুর আগেই এসেছিলেন। তাঁদের মুক্তির উপায় কী?
তাঁদের মুক্তির উপায় ছিল একই সঠিক বিশ্বাস রাখা, ভালো কাজ করা। যদি তাদের ভুল হতো, তাহলে স্রস্টার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন। এটা যুক্তিসঙ্গত, কারণ মূসার (আঃ) সময়কার মানুষরা, যাঁরা তাঁর সাথী ছিলেন, তাঁদের আমরা বলি মুসলিম। তাঁরা স্রস্টার কাছে আত্মসমর্পণ করতেন। আরবি ভাষায় তাঁদের আমরা বলি মুসলিম। যে কেউ মূসাকে নবী হিসেবে মানতেন, এবং আল্লাহপ্রদত্ত তাওরাত অনুসরণ করতেন, সাধ্যমতো পালন করতেন, এবং ক্ষমার জন্য আল্লাহর কাছে চাইতেন, আমরা বলি, আল্লাহর রহমতে তিনি জান্নাতে যাবেন। মূসা, ইব্রাহিম, সোলায়মান, দাউদ, ইসমাঈল, ইসহাক (আঃ) সবার সময়েই তাই। এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যীশু বা ঈসা (আঃ) সময়ও, যে কেউ তাকে নবী হিসেবে মানতেন, এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করতেন, আত্মসমর্পণ করতেন, এবং ঈসার (আঃ) প্রতি অবতীর্ণ ইনজিল (গস্পেল) মেনে চলতেন, তাঁদের আমরা বলি মুসলিম, খ্রিস্টের অনুসারী, তাঁদের মুক্তির পথ হচ্ছে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস, ঈসাকে নবী হিসেবে মানা, এবং তাওরাত অথবা ইনজিল (গস্পেল) অনুসরণ করা। বাইবেলে একটি চমৎকার বাণী রয়েছে আমি কেন বলছি এটা চমৎকার?
একজন মানুষ মুসলমান হতে চাইলে, ধরুন কেউ মসজিদে এসে বলল, আমি কুরআন পড়েছি, আমি মুসলমান হতে চাই। তাকে শাহাদাহ পাঠ করতে হবে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই, এবং মুহাম্মাদ (সাঃ) আল্লাহর রাসূল। ঈসার সময়েও কি এটা একই বক্তব্য ছিল না? যে ঈসা (আঃ) হলেন আল্লাহর একজন রাসূল, ঠিক? আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই, এবং ঈসা (আঃ) হলেন তাঁর প্রেরিত একজন রাসূল। আপনি বাইবেলেই এই বার্তাটি পাবেন। যীশু বলছেন—যদি তুমি চিরন্তন জীবন পেতে চাও, যদি তুমি জান্নাতে যেতে চাও, তাহলে জেনে রাখো, আল্লাহই একমাত্র সত্য ইলাহ, এবং তিনি যীশুকে রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছেন। বাহ!
বাইবেলে শাহাদাহ রয়েছে। এবং যিশু বলছেন, এটাই জান্নাতে যাওয়ার পথ। এটা জানা এবং সেই শাহাদাহ পাঠ করার মাধ্যমেই। নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি ওল্ড ও নিউ টেস্টামেন্ট কপি করে কুরআন রচনা করেছেন?
প্রশ্নটা হলো—আপনিও জানেন যে, অনেকেই এই অভিযোগ করে থাকেন, যে কুরআন বাইবেল থেকে কপি করে তৈরি করা হয়েছে। আমরা অনেকভাবে এই অভিযোগ খণ্ডন করতে পারি, অথবা আপনি বলতে পারেন, মিথ্যা প্রমাণ করতে পারি। আমরা একটি প্রধান বিষয় বলতে পারি কুরআন বাইবেল থেকে কপি করা হয়নি, কারণ নবী মুহাম্মদ (সাঃ) তিনি পড়তে ও লিখতে জানতেন না। তাই, যদি তিনি লিখতে চাইতেনও, তবে তিনি বাইবেল পড়ে তা কপি করতে পারতেন না। এটাই প্রথম পয়েন্ট। সুতরাং কুরআনে ৭ নম্বর সূরার ১৫৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে— তিনি ছিলেন একজন উম্মী নবী—যিনি পড়া-লেখা জানতেন না। দ্বিতীয় যে পয়েন্টটা বলা যায় তা হলো—তাঁর সময় আরবিতে কোনো সম্পূর্ণ বাইবেল ছিল না যেটা তিনি পড়ে কপি করতে পারতেন। ওল্ড টেস্টামেন্টের প্রথম অনুবাদ সমাপ্ত হয়েছিল আনুমানিক ৯০০ খ্রিস্টাব্দে, সেটা করেন একজন ইহুদি পণ্ডিত, যার নাম ছিল সাদিয়্যাহ গাওন। অতএব, নবী মুহাম্মদ (সা.) এর সময়, অর্থাৎ ৭ম শতাব্দীতে, ইহুদি বাইবেল আরবিতে অনূদিতই হয়নি। আর নিউ টেস্টামেন্ট সম্পূর্ণভাবে অনুবাদই হয়নি, ১৬শ শতাব্দীর আগে পর্যন্ত। সুতরাং সম্পূর্ণ বাইবেল আরবিতে ছিল না। যাতে নবী মুহাম্মদ (সাঃ) তা কপি করতে পারতেন, তাই তো?
এটা আরবিতে অনূদিতই ছিল না। তৃতীয় যে বিষয়টি আমরা বলতে পারি তা হলো, বাইবেলে কিছু অংশ আছে যা কুরআনে নেই, আবার কুরআনের কিছু অংশ বাইবেলেও নেই। আমি এর মানে কী বলছি?
কুরআনে ফেরাউনের কাহিনী উল্লেখ আছে। বাইবেলেও ফেরাউনের গল্প বলা হয়েছে, কিন্তু কুরআন সেই কাহিনীকে সম্পূর্ণ করেছে। উদাহরণস্বরূপ, বাইবেলের 'এক্সোডাস' অধ্যায় ৩-এ আছে, ফেরাউন ও তার বাহিনী মুসা (আঃ)-কে ধাওয়া করে এবং তারা ডুবে যায়। কুরআনেও একই কাহিনী আছে, কিন্তু কুরআনে আরও বলা হয়েছে, ফেরাউন ডুবে যাওয়ার পর, তার দেহকে সংরক্ষণ করা হবে পরবর্তী মানুষের জন্য নিদর্শন হিসেবে। এখন আমরা সেই ফেরাউনের দেহ আবিষ্কার করেছি, আর অটপসির মাধ্যমে জানা গেছে, এই ফেরাউনই মুসার সময়কার ফেরাউন। তাহলে দেখা যাচ্ছে, কুরআনে আরো তথ্য রয়েছে। তাহলে যদি নবী (সাঃ) কপি করে থাকেন, এই অতিরিক্ত সঠিক তথ্যটা তাকে কে দিয়েছে? যেটা আজকের যুগের গবেষকেরা এখন আবিষ্কার করেছেন। দ্বিতীয়ত, কুরআন আর কী নিয়ে কথা বলে?
নূহ (আঃ) ও প্লাবনের কথা। বাইবেলেও প্লাবনের কথা আছে, কুরআনেও আছে। কিন্তু বাইবেলের মতে, এটা ছিল একটি বৈশ্বিক প্লাবন। 'জেনেসিস' এর অধ্যায় ৭, শ্লোক ২১-এ বলা হয়েছে, পৃথিবীর সব কিছু পানিতে নিমজ্জিত হয়েছিল। সবাই ধ্বংস হয়েছিল, শুধু নৌকায় থাকা লোকজন ছাড়া। 'জেনেসিস' এর অধ্যায় ৭, শ্লোক ২১ এটাই বলে, যা ওল্ড টেস্টামেন্টের অংশ। কিন্তু কুরআন প্লাবনের কথা বলেছে, তবে কুরআন বলেছে সেটা ছিল একটি স্থানীয় প্লাবন। শুধু সেই মানুষরাই, যারা নূহ (আঃ)-এর বিরোধিতা করেছিল, তাঁর শিক্ষাকে উপহাস করেছিল এবং আল্লাহর পথ থেকে সরে গিয়েছিল, তারাই ছিল আল্লাহর শাস্তিপ্রাপ্ত। এটা ছিল একটি স্থানীয় বন্যা। এখন আপনার কাছে আছে কুরআনের গল্প, বাইবেলের গল্প দুটোই আছে। আধুনিক প্রত্নতত্ত্ববিদরা এখন কুরআনের কাহিনীকেই সমর্থন করছে। বিজ্ঞানও কুরআনের গল্পকে সমর্থন করে, ঠিক না?
তৃতীয় বিষয় হলো, সেই অতিরিক্ত তথ্য কে দিয়েছিল নবী মুহাম্মদ (সাঃ)-কে? তৃতীয়ত, আমরা বলতে পারি, কুরআনে বৈজ্ঞানিক তথ্য রয়েছে। ৫০০-রও বেশি বৈজ্ঞানিক তথ্য, কোনো ভুল নেই। বাইবেলে এই তথ্যগুলো নেই, কিন্তু কুরআনে আছে। তাহলে যদি কুরআন বাইবেল থেকে অনুলিপি করে থাকত, তবে এই অতিরিক্ত বৈজ্ঞানিক তথ্য কে দিল কুরআনকে? তাই এটাও একটা বড় প্রমাণ, তাই না? আমি একটা সহজ উদহারণ দিতে পারি—ধরুন, দুজন শিক্ষার্থী আছে। ধরা যাক, ডেভিড পেয়েছে D গ্রেড, আর বিল পেয়েছে B গ্রেড। সহজ উদাহরণ, তাই না? এখন ধরুন, চূড়ান্ত পরীক্ষায় ডেভিড বসে আছে বিলের পাশে, এবং বিলের সব উত্তর সে অনুলিপি করছে। এবং বিল পেল B গ্রেড, ধরুন ৮০%। তাহলে ডেভিড কত পাবে বলে মনে করেন? সে যদি হুবহু সব উত্তর কপি করে? সে-ও B গ্রেড পাবে, তাই না?
কারণ ডেভিড শুধু সঠিক উত্তর নয়, ভুল উত্তরেরও অনুলিপি করেছে। তাই যদি কুরআন বাইবেল থেকে অনুলিপি করে থাকত, তবে বাইবেলের ভুলগুলোকেও কুরআনে থাকা উচিত ছিল, বিভ্রান্তিকর কথাগুলোও থাকত, কিন্তু কুরআনে তা নেই। কুরআনে কোনো ভুল নেই, অথচ বাইবেলে অনেক ভুল রয়েছে। তাহলে কে শুধুমাত্র সঠিক জিনিসগুলো গ্রহণ করেছে, এবং কে সঠিকভাবে সংযোজন করেছে?
এখন বিজ্ঞানও তা প্রমাণ করে। এই কারণেই আমরা বলি, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে, পুরাতত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে, ধর্মগ্রন্থভিত্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে, এবং ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকেও, কুরআন এসেছে স্বতন্ত্রভাবে এবং বাইবেল থেকে কপি করা হয়নি। কিন্তু তারপরেও কেউ কেউ বলতেই পারে, কুরআন ও বাইবেলের মধ্যে কিছু মিল আছে। এই কারণেই অনেকে বলে, এটি কপি করা হয়েছে। আমি তাদের এই কথাটি বলি বাইবেলও এসেছে কুরআনের মতো একই উৎস থেকে, অর্থাৎ আল্লাহর কাছ থেকে কিন্তু বাইবেলে পরিবর্তন আনা হয়েছে, যদিও আগের কিছু অংশ রয়ে গেছে। তারপর আল্লাহ প্রেরণ করেছেন চূড়ান্ত বার্তা আর কুরআনেও বাইবেলের সঙ্গে কিছু মিল রয়েছে। তাই এক গ্রন্থ অন্য গ্রন্থ থেকে কপি করেছে ব্যাপারটা এমনটা নয়, তাদের উৎস একই, আল্লাহ। চলুন আমরা বিষয়টা যুক্তির সমাপ্তিতে নিয়ে যাই, ঠিক আছে?
যদি কেউ বলে কুরআন বাইবেল থেকে কপি করা হয়েছে, তাহলে আমরাও বলতে পারি—ঠিক আছে, নিউ টেস্টামেন্টের সাথে ওল্ড টেস্টামেন্টের মিল আছে, তবে কি আমরা বলবো, খ্রিস্টানরা কি এটাতে একমত যে খ্রিস্টান লেখকরা ইহুদি লেখকদের থেকে কপি করেছেন? তারা কি ইহুদি লেখকদের লেখা চুরি করেছেন? আমরা কি এখানেই থেমে যাব? ওল্ড টেস্টামেন্টের হিন্দু বেদের সঙ্গে মিল আছে। তাহলে কি আমরা বলব, জানো কী? ওল্ড টেস্টামেন্টের লেখকরা হিন্দুদের থেকে কপি বা চুরি করেছেন? সেখানেওবা কেন থামবো? হিন্দু বেদের সাথে ব্যাবেলীয় ধর্মগ্রন্থের সঙ্গে মিল রয়েছে। তাহলে বলুন, কোথায় গিয়ে আমরা থামবো?
আমরা যা বলতে পারি তা হলো, কুরআন এসেছে স্বতন্ত্রভাবে একই উৎস আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর বাইবেলেও কিছু অবশিষ্ট অংশ রয়েছে, যেগুলোও এসেছে আল্লাহর কাছ থেকেই। যেহেতু উৎস একই, তাই কিছু মিল দেখা যায়। না যে একজন অন্যজনকে কপি করেছে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ইহুদিরা মসীহ বা খ্রিস্টের জন্য অপেক্ষা করেছে। কিন্তু যীশু যখন এলেন, তারা তাঁকে অস্বীকার করল। এবং ধর্মগ্রন্থগুলোতেও নবী মুহাম্মদের (সাঃ) আগমনের কথা বলা হয়েছে। তাদের নিজস্ব ধর্মগ্রন্থেই। কিন্তু যখন খ্রিস্টানরাও নবী মুহাম্মদকে অস্বীকার করে, তবে কি তারা সেই ইহুদিদের মতো আচরণ করছে না? হ্যাঁ, কিছু মিল তো থাকবেই। খ্রিস্টানরা কেন নবী মুহাম্মদ (সাঃ)-কে অস্বীকার করছে? আর কেন ইহুদিরা শুধু যীশুই নয়, নবী মুহাম্মদকেও অস্বীকার করল?
আপনি জানেন, ইহুদি পণ্ডিতরা তারা মসীহ সম্পর্কে নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্য খুঁজত। মসীহ হবেন দাউদের মতো একজন রাজা। মসীহ হবেন একজন সামরিক নেতা। মসীহ সামরিক ক্ষমতার মাধ্যমে শাসন করবেন, তাই না?
একটি বিশাল সাম্রাজ্যের শাসক হবেন। তাই যখন তারা যীশুকে এমন একজন হিসেবে দেখল, যেন তিনি“দুর্বল” তাঁকে মানুষ উপহাস করত, প্রত্যাখ্যান করত, তাঁর কোনো সেনাবাহিনী ছিল না, শক্তিও ছিল না। তাদের মনে তারা ভাবছিল এটা মসীহ হতে পারে না, কারণ তাদের বাইবেল অনুযায়ী, তারা ভেবেছিলো, মসীহের এসব বৈশিষ্ট্য থাকা বাধ্যতামূলক। এই কারণেই মূলত তারা যীশু বা ঈসা (আঃ)-কে প্রত্যাখ্যান করে। এরপর ইহুদি জনগণ নবী মুহাম্মদ (সাঃ)-কেও প্রত্যাখ্যান করে কারণ অনেক সময় তাদের মধ্যে অহংকার কাজ করে। তারা হয়ত ভেবেছে সব নবী এসেছেন ইসহাক (আঃ)-এর বংশধারা থেকে, এবং তারা ভাবত, তারাই আল্লাহর মনোনীত জাতি। ধর্মগ্রন্থ তাদের দেওয়া হয়েছে, নবীগণ তাদের মধ্যেই এসেছেন। তারা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জাতি। কিন্তু যখন তারা মুহাম্মদ (সাঃ) কে দেখল, তিনি আসছেন এমন এক বংশধারা থেকে যা ইসমাঈল (আঃ)-এর বংশধারা এবং আরবদের মধ্য থেকে। তাদের অহংকারের কারণে, দুঃখজনকভাবে, তারা অস্বীকার করল। যদিও তারা নিজেদের ধর্মগ্রন্থেই সেই নিদর্শন দেখতে পেয়েছিল। তবে কিছু ইহুদি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, কিন্তু মোটের ওপর তারা অস্বীকার করেছে এবং প্রত্যাখ্যান করেছে, যেমনভাবে তারা ঈসা (আঃ)-কে প্রত্যাখ্যান করেছিল। এখন খ্রিস্টানরাও মুহাম্মদ (সাঃ)-কে অস্বীকার করে, কারণ তাদের মতে, বাইবেল সম্পূর্ণ—এটি একটি পূর্ণাঙ্গ কাহিনী, তাদের মতে মুক্তি বা পরিত্রাণ তো বাইবেলেই পুরোপুরি বলা হয়ে গেছে, যীশু এলেন, তিনি মৃত্যুবরণ করলেন—এটাই গল্পের শেষ। নতুন কেউ আসবে না, বাইবেলের দিকনির্দেশনায় আর কিছু যোগ করার প্রয়োজন নেই। এই কারণেই তারা বলে বাইবেলই যথেষ্ট, যীশুই যথেষ্ট, দিকনির্দেশনা পূর্ণ, তাই নতুন কোনো রাসূলের প্রয়োজন নেই, নতুন কোনো নবীরও দরকার নেই। এই কারণেই তারা নবী মুহাম্মদ (সাঃ) কে অস্বীকার করে। কিন্তু আগেই যেমন বলা হয়েছে, অসংখ্য নিদর্শন রয়েছে, ওল্ড এবং নিউ টেস্টামেন্ট দুইটিতেই যথেষ্ট নিদর্শন রয়েছে নবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আগমনের ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে। তাই যদি কোনো আন্তরিক ইহুদী বা খ্রিস্টান সেসব ভবিষ্যদ্বাণীর দিকে ভালোভাবে নজর দেয়, তারা দেখতে পাবে বিস্ময়কর কিছু নিদর্শন যা নবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর মধ্যেই ছিলো, এবং তাঁর মাধ্যমে আল্লাহ যে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, যে একত্ববাদ আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে প্রেরণ করেছেন, ইনশাআল্লাহ, যদি তারা সত্যনিষ্ঠ ও আন্তরিক হয়, তবে তারাও তাঁকে নবী হিসেবে মেনে নেবে এবং ইসলাম ধর্ম অনুসরণ করবে, যা আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত। হয়তো কোনো খ্রিস্টান আপনাকে দেখছে এবং বলছে, ঠিক আছে, ইসলাম আমার কাছে যুক্তিসঙ্গত মনে হচ্ছে, কিন্তু আমি যিশুকে ছাড়তে চাই না। আমি যীশুকে অনেক ভালোবাসি, আমি তাঁকে ত্যাগ করতে চাই না। যদি আমি মুসলিম হই, তাহলে যীশুর সঙ্গে আমার সম্পর্কটা কী হবে?
আমি যদি মুসলমান হয়ে যাই? যদি কোনো খ্রিস্টান বলেন, ইসলাম ভালো লাগছে, আকর্ষণীয় মনে হচ্ছে, কিন্তু আমাকে কি যীশুকে হারাতে হবে? আমি যীশুকে ভালোবাসি। আমি বলব আপনি যিশুকে যেভাবে ভালোবাসেন, সেটার সাথে আরও কিছু যোগ করুন। তাই আপনার যীশুকে ত্যাগ করতে হবে না। আপনি বরং এখন যীশু যেমন ছিলেন তাঁকে তেমনই রাখছেন। তিনি একজন পরাক্রমশালী নবী ছিলেন। বাইবেল অনেকবার বলে যে তিনি একজন পরাক্রমশালী নবী ছিলেন, তাই না? ম্যাথিউ ১৩:৫৭, জন ৪:৪৪, মার্ক ৬:৪, লিউক ১৩:৩৩। তাই যদি আপনি যীশুকে ভালোবাসেন, তাহলে তিনি যা বলেন তা অনুসরণ করুন। তিনি একজন একেশ্বরবাদী মানুষ ছিলেন, আপনিও তাই করবেন, তাই না?
এবং এই সত্য মানবেন যে যীশু একজন নবী, কুরআনও একই কথা বলে, এবং আপনি যিশু যেভাবে পোশাক পরতেন সেভাবে পরবেন। তিনি দাড়ি রাখতেন, শালীন পোশাক পরতেন। আপনিও যেভাবে যীশু তাঁর শিষ্যদের বলতেন তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক সেভাবে বলবেন। মুসলিমরাও একই ভাবে বলে আপনিও তা আপনার মধ্যে ধারন করবেন। যীশু প্রায় ৪০ দিন, ৪০ রাত ধরে সিয়াম পালন করতেন তাও করবেন, মুসলিমরা যেভাবে সিয়াম পালন করে সেভাবে করবেন। এবং আপনি আরও যা গ্রহন করতে পারেন তার মধ্যে সবচেয়ে ভালো জিনিস হচ্ছে যীশু যেভাবে ইবাদত করতেন। তিনি সিজদা দিয়ে সৃষ্টিকর্তার ইবাদত করতেন। তিনি সৃষ্টিকর্তার উপর ভরসা করতেন। আপনি তাও গ্রহন করবেন কারন মুসলিমরাও তাই করে। তাহলে আপনি যীশুকে হারাচ্ছেন না, আপনি যীশুকে গ্রহন করছেন, বরং আরও কিছু যোগ করছেন, আরও ভালো কিছু, সৃষ্টিকর্তার প্রদান করা কিছু। যিশু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, কখনো মদ পান করেননি, কখনও শুকরের মাংস খাননি, কখনো রক্ত পান করেননি, কারণ তিনি ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ, আমি কি বলব, একজন মুসলিম, একজন নবী, তিনি আদেশ পালন করতেন যা অহির মাধ্যমে তাঁকে দেওয়া হতো, সৃষ্টিকর্তার নবী মূসাকে প্রদত্ত নির্দেশনার মত। তাই ওল্ড টেস্টামেন্টে বলা হয়েছে, শুকরের মাংস খাবে না ওল্ড টেস্টামেন্টের, লেভিটিকাসের বইয়ে আছে, রক্ত খাবেন না, এবং সেখানে অনেক আদেশ রয়েছে। এবং আল্লাহর নবী হিসেবে, যিশু বলেন, নিউ টেস্টামেন্টের, প্রথম গস্পেলেই, ম্যাথিউ এর গস্পেল, অধ্যায় ৫, পদ নম্বর ১৭ এবং তার পরে, আমি আইন-কানুন অথবা নবীদের ধ্বংস করতে আসিনি, আমি পরিপূর্ণ করতে এসেছি। যে কেউ ওল্ড টেস্টামেন্টের আইনের যেকোনো অংশ বাতিল মনে করে, সেই ব্যক্তি রাজ্যের সবচেয়ে নীচ হবে। কিন্তু যে কেউ আইন মেনে চলবে, সে রাজ্যের সর্বোচ্চ স্থান পাবে। আর সেই আইনগুলির মধ্যে একটি হল, শুকরের মাংস খেও না, রক্ত পান কর না, তাই না?
এবং যেসব শরী'য়াহ (ইসলামী আইন) আইন আমরা অনুসরণ করি, হালাল হারাম আইন। তো আপনি যদি যীশুকে ভালোবাসেন, আপনি সেগুলো পরিত্যাগ করবেন কারণ মুসলিমরাও এগুলো পরিত্যাগ করেছে। তাই যদি আপনি যীশুকে ভালোবাসেন, যীশুর বিশ্বাস অনুসরণ করুন। যিশুর বিশ্বাস ছিল ইসলাম এবং আমরা আপনাদের এবং সমগ্র মানবজাতিকে ইসলামের বিশ্বাসে স্বাগত জানাই। এতেই মুক্তি রয়েছে এবং এতেই আপনার জন্য কল্যাণ রয়েছে। জাযাকাল্লাহু খায়রান আপনাকে আপনার উত্তরের জন্য ধন্যবাদ, ভাই সাবিল আহমেদ। তাহলে ইসলামে নারী, শরী'য়াহ (ইসলামী আইন), জিহাদ ইত্যাদি। আমাদের আরও অনেক প্রশ্ন আছে যা খ্রিস্টানরা ইসলাম সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসা করে এবং এটি দ্বিতীয় ভিডিওতে থাকবে, ইনশাআল্লাহ। দেখা যাক ডঃ সাবিল আহমেদ আবার এত সহজে উত্তর দিতে পারবেন কিনা। তাহলে ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের সাথেই থাকুন এবং সাবস্ক্রাইব করতে ভুলবেন না। আস-সালামু আলাইকুম (আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক)।
শুধু নাম উল্লেখ করা হয়নি, তাকে সর্বকালের সবচেয়ে ধার্মিক নারী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আমার সংগ্রহে থাকা ৩০০টি বাইবেল ইতিহাসের বিভিন্ন সময় থেকে, বিভিন্ন ভাষা এবং বিভিন্ন সংস্করণ। প্রত্যেকটিই, একটি আরেকটির থেকে আলাদা। ইসলামী বিশ্বাস হলো যীশুর দ্বিতীয়বার আগমন হবে। সুতরাং তাঁকে হত্যাও করা হয়নি। তাঁকে ক্রুশবিদ্ধও করা হয়নি। যিশু, অর্থাৎ ঈশা (আঃ), তিনি একজন একেশ্বরবাদী মানুষ ছিলেন, কখনও মদ পান করেননি, কখনও শুকরের মাংস খাননি, কখনও রক্ত পান করেননি। জানেন তো, তিনি একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম ছিলেন, একজন নবী ছিলেন। তাই যদি আপনি যীশুকে ভালোবাসেন, যীশুর বিশ্বাসকে অনুসরণ করুন। যীশুর বিশ্বাস ছিল ইসলাম। আসসালামু আলাইকুম (আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক), ডক্টর সাবিল আহমেদ। এখানে আশার জন্য এবং আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ। আমরা খ্রিস্টধর্ম সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন সংগ্রহ করেছি এবং আমরা সেসব প্রশ্ন আপনাকে করতে চাই। ওয়াআলাইকুম সালাম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ। অবশ্যই। শুরু করুন। প্রথম প্রশ্ন দিয়ে শুরু করছি, আপনি মানুষের মধ্যে কী ধরণের প্রতিক্রিয়া দেখেন যখন আপনি ইসলামে মরিয়মের (আঃ) মর্যাদা সম্পর্কে বলেন?
আর আপনি কি উত্তর দেবেন যদি আপনাকে ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মের মধ্যে সাদৃশ্য এবং পার্থক্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি? মারিয়ম (আঃ), আপনার জন্য আমার কাছে এক কথায় উত্তর আছে। এটা হল MARY শব্দটি। ঠিক আছে, M. A. R. Y. তাহলে M শব্দটি বোঝায় পবিত্র কুরআনে উল্লেখিত একমাত্র নারী হিসেবে। তো একবার আমি, শিকাগো থেকে হিউস্টনের একটি ফ্লাইটে ছিলাম। আমি জানালার পাশে বসেছিলাম এবং আমার পাশে দুজন ক্যাথলিক মহিলা ছিলেন। তাদের সাথে আমার ইসলাম এবং খ্রিস্টধর্ম নিয়ে একটা কুইজ পর্ব হয়ে গেল। একটি দা'ওয়াহ কুইজ। আমি তাদের এই প্রশ্নটি জিজ্ঞাসা করেছিলাম, জানেন আমার প্রিয় বোনেরা, আপনারা জানেন কি কুরআনে উল্লেখিত একমাত্র নারী কে?
তারা বলললেন, আমরা উত্তর জানি। তিনি হলেন যীশুর মা মরিয়ম। আমি বললাম, চমৎকার। তারপর আমি তাদের প্রশ্ন করলাম, ঠিক আছে, কতবার কুরআনে তার উল্লেখ আছে? এবং তারা বলললেন,আমরা জানি না। আমি বললাম, ৩৪ বার। তারপর আমি তাদের প্রশ্ন করলাম, কতবার আপনাদের বাইবেলে তার উল্লেখ আছে? তারা বলললেন, আমরা জানি না। আমি বললাম, তাকে ১৮ বার উল্লেখ করা হয়েছে। তাই আপনি যদি কুরআনের সাথে ৩৪ বার তুলনা করেন, বাইবেলের সাথে ১৮ বার তুলনা করেন, মুসলিমরা আপনাদের চেয়ে তাঁকে বেশি ভালোবাসেন, তাই না?
তারা ভেঙে পড়েছিল। তাহলে M দিয়ে বোঝায় কুরআনে উল্লেখিত একমাত্র নারী। M দিয়ে কুরআনের একটি অধ্যায়ের নামও বোঝায় ১৯ নম্বর অধ্যায়। তাহলে মেরির জন্য M। দ্বিতীয়টি হচ্ছে A, A দ্বারা বোঝায়, আল্লাহর ইবাদত, আল্লাহর প্রতি আনুগত্য, আল্লাহ ছিলেন তার জীবনের কেন্দ্রবিন্দু তার শালীনতা, তার সতীত্ব, আল্লাহর প্রতি তার আনুগত্য। আপনি জানেন, কুরআনে অনেকবার এটি উল্লেখ করা হয়েছে। R শব্দটি মরিয়মকে আল্লাহ যে সম্মান দিয়েছেন তার প্রতীক। কুরআনের একটি সূরা আছে, সুরা নম্বর ৩, আয়াত নম্বর ৪২, যেখানে একজন ফেরেশতা মরিয়মের কাছে এসেছিলেন এবং বলছেন, মরিয়ম, সৃষ্টিকর্তা তোমাকে মনোনীত করেছেন, সৃষ্টিকর্তা তোমাকে পবিত্র করেছেন, এবং সৃষ্টিকর্তা তোমাকে সকল নারীর উপরে নির্বাচিত করেছেন। দেখুন, কিভাবে আল্লাহ মরিয়মকে সম্মানিত করেছেন। তো আমি আমার খ্রিস্টান বন্ধুদের বলি, মুহাম্মদ (সাঃ), তিনি কখনও মরিয়মকে দেখেননি। তিনি তাঁর ৬০০ বছর আগে পৃথিবীতে এসেছিলেন। তাহলে তিনি কীভাবে একমাত্র নারী হতে পারেন যার নাম কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে?
শুধু নাম উল্লেখ করা হয়নি, তাকে সর্বকালের সবচেয়ে ধার্মিক নারী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই সম্মান মুহাম্মাদ (সাঃ) এর মা, স্ত্রী এবং কন্যাদের দেওয়া হয়নি, বরং তথাকথিত একজন "ইহুদি নারী" কে দেওয়া হয়েছে যাকে তিনি কখনও দেখেননি। এটা একটা প্রমান আমি খ্রিস্টানদের বলি, কুরআন নবী (সাঃ) এর থেকে আসেনি, এটা মানবজাতির স্রষ্টার কাছ থেকে আসছে। তাহলে M A R. আর Y, তাই না? আমাদের কাছে Y বাকি আছে। Y বলতে বোঝায় যে তিনি তরুণী ছিলেন এবং তিনি কুমারী ছিলেন। যখন তিনি যীশুর জন্ম দেন। তো এই হল ইসলামে মেরি। তাহলে, খ্রিস্টধর্ম সম্পর্কে কী বলা যায়? ইসলাম এবং খ্রিস্টধর্মের মধ্যে কি কোন পার্থক্য আছে?
তাই যখন পার্থক্যের কথা আসে, আমি বলব মূল পার্থক্য কুরআনে মরিয়ম (আঃ) নাম মর্যাদা, সম্মান, শ্রদ্ধা এবং আশীর্বাদের সাথে আছে। কিন্তু বাইবেলে, তাঁকে একজন সাধারন নারী হিসেবে দেখানো হয়েছে, সাধারন একজন মা। বিশেষ কিছুই নয়। তাঁকে এলোমেলোভাবে কয়েকটি জায়গায় উল্লেখ করা হয়েছে, যীশু এবং কিছু শিষ্যদের সাথে, সামান্য কিছু কথা, দেখা সাক্ষাত, কিন্তু কুরআনে যে মহিমান্বিতভাবে তাঁর কথা উল্লেখ করা আছে সেভাবে নয়। আর সাদৃশ্য হচ্ছে তিনি কুমারী ছিলেন। তিনি তরুণী, অবিবাহিতা, এবং কুমারী ছিলেন যখন আল্লাহ তার অভ্যন্তরে যীশুর অলৌকিকতা দান করেছিলেন। তাহলে বাইবেলে নবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর উল্লেখ এর ব্যাপারে কি বলবেন?
নবী মুহাম্মদ (সাঃ), মুসলিম ধর্মতত্ত্ববিদদের মতে, ওল্ড টেস্টামেন্ট এবং নিউ টেস্টামেন্টে তাঁর উল্লেখ আছে। আসলে কুরআন নিজেই বলেছে সূরা নম্বর ৭, আয়াত নম্বর ১৫৭, যে নবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর উল্লেখ তাদের ধর্মগ্রন্থে রয়েছে। অর্থাৎ ইহুদি ও খ্রিস্টানদের ধর্মগ্রন্থে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের ধর্মগ্রন্থে আমরা দেখতে পাই যে ওল্ড টেস্টামেন্টে, দ্বিতীয় বিবরণ বইয়ে, অধ্যায় ১৮, পদ সংখ্যা ১৮, নবী মূসা (আঃ), তিনি স্পষ্টতই তাঁর সম্প্রদায়কে বলছেন যে, যে একদিন মূসার পরে একজন নবী আসবেন এবং সেই নবী মূসার মতোই হবেন। এবং সেই নবী নিজে থেকে কিছু বলবেন না, যা কিছু তিনি ওহী হিসেবে পাবেন, তিনি তাই বলবেন। তাই মুসলিম ধর্মতত্ত্ববিদরা বলেন, যে একমাত্র নবী যিনি, মুসা নবীর সাথে খুবই সাদৃশ্য পূর্ণ ছিলেন, তিনি হলেন মুহাম্মদ (সাঃ)। এটা হচ্ছে প্রথম কথা। দ্বিতীয়ত, ইসায়া পুস্তকে একটি ভবিষ্যদ্বাণী আছে, অধ্যায় ২৯, পদ সংখ্যা ১২, যেখানে একজন ফেরেশতা এই মানুষের কাছে আসেন এবং বলেন, পড়ুন, এবং তিনি বলেন আমি পড়তে পারি না। আর এটাই ঘটেছিল মুহাম্মদ (সাঃ)-এর সাথে যখন ফেরেশতা জিব্রাইল এসেছিলেন এবং তিনি অনুরোধ করেছিলেন মুহাম্মদ (সাঃ)-কে পড়ার জন্য। সলোমনের গানে, অধ্যায় ৫, শ্লোক নম্বর ১৬, মোহাম্মদ শব্দটি আছে, তাই না?
হিব্রু ভাষায় মোহাম্মদ শব্দটি আছে। তাহলে এই হচ্ছে ওল্ড টেস্টামেন্ট। নিউ টেস্টামেন্টের কথা বলতে গেলে, মুসলিম ধর্মতত্ত্ববিদরা অনেক ভবিষ্যদ্বাণীর কথা বলেন। ইহুদিরা একজন নবীর আগমনের অপেক্ষায় ছিল। যেমন মূসা বলেছিলেন, আমার পরে একজন নবী আসবেন, তাই না? যিনি আমার মত হবেন। তাই যীশুর সময়ে, খ্রিস্টানরা তখনও সেই নবীর জন্য অপেক্ষা করছিল। তাই তারা ব্যাপ্টিস্ট জনকে জিজ্ঞাসা করল, তুমিই কি সেই নবী?
ব্যাপ্টিস্ট জন বললেন, না। তাহলে সেই নবী, যীশুর মতে, গস্পেল অফ জন অধ্যায় ১৬, পদ নম্বর ৭ এ, আমি চলে যাওয়া, তোমাদের অর্থাৎ আমার শিষ্যদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যদি আমি না যাই, তবে সান্তনাদাতা পাঠানো হবে না। আমি চলে গেলে তবেই তাঁকে পাঠানো হবে। তখন যীশু বললেন, তোমাদেরকে আমার অনেক কিছু বলার আছে, কিন্তু এখন তোমরা তা গ্রহন করতে পারবে না। কিন্তু যখন তিনি আসবেন, তিনি তোমাদের সম্পূর্ণ সত্যটি দেখাবেন। তিনি নিজে থেকে কিছুই বলবেন না, যা কিছু তিনি ওহি হিসেবে পাবেন, তিনি তাই বলবেন। এখানে পুরুষ সর্বনামটি ব্যবহার, পবিত্র আত্মার জন্য করা হয়নি, পুরুষ সর্বনামটি ব্যবহার করা হয়েছে, এবং যীশু বলছেন যে, তিনি সম্পূর্ণ সত্য নিয়ে আসবেন। তিনি দীনকে পরিপূর্ণ করবেন। পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন। তাই মুসলিমরা বলেন যে পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা আল্লাহ মুহাম্মদ (সাঃ) এর মাধ্যমে দান করেছেন। সংক্ষেপে এগুলো কিছু ভবিষ্যদ্বাণী। আপনি যখন খ্রিস্টানদের এই উদাহরণগুলি দেন তখন তারা কী বলে?
তারা কী বলে বা তারা কেমন প্রতিক্রিয়া দেখায়?
আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রাসুলুল্লাহ। কিন্তু তাদের মধ্যে কেউ কেউ, আপত্তি করে। তারা বলে, আপনি যে ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর কথা বলছেন, বিশেষ করে নিউ টেস্টামেন্টে, এগুলো পবিত্র আত্মার সাথে সম্পর্কিত। এগুলোর সাথে, আপনার নবী মুহাম্মদ (সাঃ), এর কোন সম্পর্ক নেই। তাদেরকে আমরা যা বলি তা হচ্ছে। দেখুন যীশু, বলছেন যে তাঁকে সেই সত্তার আগমনের জন্য যেতে হবে। কিন্তু আমরা বলি পবিত্র আত্মা যীশুর সময়ে ইতিমধ্যেই ছিলেন। তাহলে এটা অর্থহীন। যীশু বলছেন যে সেই সত্তার আগমনের জন্য আমাকে যেতে হবে। কিন্তু যদি সেই সত্তা পবিত্র আত্মা হয়, তবে তিনি ইতিমধ্যেই সেখানে আছেন। এটা পবিত্র আত্মা হতে পারে না। খ্রিস্টানদের বোঝানর দ্বিতীয় উপায় হল যীশু বলছেন যে এই সত্তা আপনাকে সম্পূর্ণ সত্য জানাবে, একটি পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা। পবিত্র আত্মা তা করেননি। তৃতীয়ত, আমরা বলতে পারি যে পুরুষ সর্বনামটি 'সে' এই পদগুলিতে ৭ বার ব্যবহৃত হয়েছে। যে তিনি আসবেন, তিনি আমাকে মহিমান্বিত করবেন, তিনি আপনাকে পরিপূর্ণ সত্য দেখাবেন, তাই না?
পবিত্র আত্মা হলেন একটি সত্তা। তিনি পুরুষ নন, নারীও নন। আরও একটা কথা আমরা বলতে পারি তা হলো, এই অনুচ্ছেদে যীশু বলছেন তিনি নিজ থেকে কিছু বলবেননা, তিনি ওহি প্রাপ্ত হয়ে যা পাবেন তাই বলবেন। খ্রিস্টানদের মতে, পবিত্র আত্মা হলেন ঈশ্বর। ঈশ্বর অন্য কেউ বলে দেবার জন্য অপেক্ষা করবেন না, তাই না? কি বলতে হবে, কি বলা যাবেনা। তাই তাঁকে পবিত্র আত্মার চেয়ে ভিন্ন একজন ব্যক্তি হতে হবে। আমরা বলি যে একমাত্র ব্যক্তি যিনি বর্ণনার সাথে মিলে যান তিনি হলেন মুহাম্মদ (সাঃ) ইসলাম সম্পর্কে খ্রিস্টানদের সবচেয়ে বেশি কৌতূহলের বিষয় হলো এই ধর্মে যীশুর মর্যাদা। কারণ তাদের অনেকেই শুনে অবাক হয়েছেন যে মুসলিমরাও যীশুকে বিশ্বাস করে। আপনার কি এই সম্পর্কে কোন স্মৃতি আছে? আপনি কি ইসলামে যীশু এবং খ্রিস্টধর্মে যীশুর তুলনা করতে পারবেন?
ঠিক আছে, আলহামদুলিল্লাহ (সকল প্রসংসা আল্লাহর)। তো, একবার শিকাগো হাইওয়েতে আমাদের একটি বিলবোর্ড ছিল আর বিলবোর্ডে লেখা ছিল, কুরআনে যীশুকে খুঁজে বের করুন এবং বাইবেলে মুহাম্মদ (সাঃ)-কে খুঁজে বের করুন। মানুষ সত্যিই কৌতূহলী হয়েছিল, আপনি কুরআনে যীশুকে কীভাবে খুঁজে পাবেন এবং বাইবেলে মুহাম্মদ (সাঃ) কোথায়? অনেক মানুষ প্রশ্ন করার জন্য ফোন করেছিল, অনেক মানুষ বিতর্ক করার জন্য, কিন্তু অনেক মানুষ কোরআনের একটি অনুলিপির জন্য ফোন করেছিল। যদি কেউ আমাকে প্রশ্ন করে, ইসলামে যীশু কে? আমার কাছে তাদের জন্য একটি সহজ এক শব্দের উত্তর আছে। আমি সেই এক শব্দের উত্তর বলছি, ঠিক আছে। এটা হচ্ছে যীশু (জেসাস)। J. E. S. U. S.
এবং যীশু শব্দের প্রতিটি অক্ষর এখন আমাদের জন্য একটি করে বিষয়বস্তু খ্রিস্টানদের জানানোর জন্য, যে ইসলামে যীশু আসলে কে। তাহলে "J" অক্ষর দিয়ে বোঝায় যীশু শুধুমাত্র একজন বার্তাবাহক ছিলেন। এখন বোঝা সহজ। তাহলে "J" অক্ষর দিয়ে বোঝায় তিনি কেবল একজন বার্তাবাহক বা রাসুল ছিলেন। যেমনটা পবিত্র কুরআনের ৫ম সূরার ৭৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, যে যীশু শুধুমাত্র একজন রাসুল ছিলেন। তাঁর আগে অনেক রাসুল গত হয়েছেন। তাহলে, পবিত্র কুরআন অনুসারে, যীশু নবুওয়াতের ধারায় আসা একজন রাসুল ছিলেন। যে সকল রাসূলকে এসেছিল তারা সবাই এক আল্লাহর ইবাদতের জন্য মানুষকে আহ্বান করেছিলেন। সুতরাং যীশু ছিলেন একজন রাসূল। E অক্ষর দিয়ে বোঝায় তিনি সৃস্টিকর্তার দ্বারা অলৌকিক কাজ করার জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। মৃত মানুষকে জীবিত করা, আবার, অন্ধকে দৃষ্টিশক্তি প্রদান করা, অসুস্থ ও কুষ্ঠরোগীদের সুস্থ করা। তো তিনি অলৌকিক কাজ করেছিলেন, সৃষ্টিকর্তার দ্বারা তাঁকে অলৌকিক কাজ করার ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। আর এটা কোথায় বলা হয়েছে?
৩ নম্বর সূরার (পবিত্র কোরআনের অধ্যায়), ৪৯ নম্বর আয়াতে কিন্তু আমরা খ্রিস্টান বন্ধুদের সাথে যে আশ্চর্যজনক জিনিসটি বলতে চাই তা হলো যীশু (আঃ), তাঁর দ্বারা সম্পাদিত প্রতিটি অলৌকিক ঘটনা, তিনি সৃষ্টিকর্তার দ্বারা ক্ষমতাপ্রাপ্ত ছিলেন। এর অর্থ হলো, শক্তি আসছিল স্রষ্টার কাছ থেকে, নিজের কাছ থেকে নয়। তাহলে এটাই হল E, J আর E। S অক্ষর দ্বারা যীশুর একমাত্র লক্ষ্যকে বোঝায় মানবজাতিকে আমন্ত্রণ জানানো এক সৃষ্টিকর্তার ইবাদতের জন্য। তাই কুরআনের ৩য় সুরার ৫১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, "ইন্নাল্লহা রব্বি ওয়ারাব্বুকুম ফাআবুদুহু হাযা সিরতুম মুস্তাকিম" এখানে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে যীশুর উদ্ধৃতি দিচ্ছেন এবং যীশু বলছেন যে নিশ্চয় আল্লাহ আমার রব ও তোমাদের রব। অতএব তোমরা তাঁর ইবাদাত কর এবং এটি সরল পথ S অক্ষর দ্বারা যীশুর একমাত্র লক্ষ্যকে বোঝায়। তাহলে J E S এর পরে আসলো U.
বেশ মজার, তাই না? তা আপনার কি মনে হয়, U কি অর্থ? U অক্ষর দিয়ে আল্লাহর দ্বারা উন্নীত করা হয়েছে বোঝায়। হত্যা করা হয়নি, ক্রুশবিদ্ধও করা হয়নি, আল্লাহ তাকে উন্নীত করেছেন, ক্রুশবিদ্ধ না হয়েই তাকে উপরে উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঠিক আছে? তাহলে হলো J E S U. এবং সর্বশেষে S অক্ষর দিয়ে দ্বিতীয় আগমন বোঝানো হয়েছে। খ্রিস্টানরা অবাক হবে, সত্যিই? আপনারা কি দ্বিতীয় আগমনে বিশ্বাস করেন?
আর আমি ইসলামকে এইভাবে ব্যাখ্যা করি, মনে রাখা সহজ, সবকিছু ধারাবাহিকভাবে চলে আসে, যা দ্বিতীয় আগমনের সাথে শেষ হয়। আর ইসলামে এটাই যীশুর পরিচয়। তাহলে তাকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়নি, তাকে হত্যা করা হয়নি। তাঁকে আকাশে তুলে নেওয়া হয়েছিল। হ্যাঁ, কুরআনের ৪ নম্বর সূরা, সূরা আন-নিসা'র অনুযায়ী, ১৫৭ নং আয়াত অনুযায়ী আল্লাহ তায়ালা বলছেন, যার অনুবাদটি এরকম, তারা গর্ব করে যে, আমরা আল্লাহর রাসূল মারইয়াম পুত্র ঈসা মাসীহকে হত্যা করেছি অথচ তারা তাকে হত্যা করেনি এবং তাকে শূলেও চড়ায়নি। বরং তাদেরকে ধাঁধায় ফেলা হয়েছিল। এবং তারপর আল্লাহ তায়ালা বলেন যে যীশুকে তিনি উপরে উঠিয়ে নিয়েছেন। তাকে ক্রুশেও দেওয়া হয়নি, তিনি নিহতও হয়নি। তাহলে এটিই একটি পার্থক্য, কিন্তু আল্লাহ যীশু সম্পর্কে এটাই বলেছেন। তাহলে কেন তাকে হত্যা করা হলো না বরং আকাশে উঠিয়ে নেওয়া হলো?
এটা কি সেই কারণে যে তিনি আবার আসবেন? আচ্ছা, ইসলামী বিশ্বাস হলো যীশুর দ্বিতীয় আগমন হবে। তো তাকে হত্যাও করা হয়নি, তাকে ক্রুশবিদ্ধও করা হয়নি কারণ খ্রিস্টীয় ধর্মতত্ত্ব অনুসারে, ক্রুশবিদ্ধ হয়ে যীশুর মৃত্যু খ্রিস্টানদের জন্য মুক্তির একটি উপায়। আর যেহেতু আমরা বিশ্বাস করি না যে একজন ব্যক্তি, তার মৃত্যু বা তার জীবিত থাকা মুক্তির একটি উপায় হতে পারে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা (মহান) বলছেন, আচ্ছা, তুমি কি জানো? যীশুর মৃত্যু হয় নি। যদিও তর্কের খাতিরে ধরা হয় যে তিনি মারা গিয়েছেন, সেটা আসলে মুক্তির পথ নয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ যীশুকে নিজের কাছে তুলে নিলেন। তাঁকে আবার অবতরণ করানো হবে দ্বিতীয় আগমনে তিনি অবতরণ করলে, ধারাবাহিকভাবে ঘটনা ধটতে থাকবে। এ ব্যাপারেই প্রশ্ন যে, তিনি যখন আসবেন তখন কী হবে?
তিনি কি একজন রসূল হবেন?
যীশু কখন ফিরে আসবেন, সত্যি বলতে কেউ জানে না যে ঠিক কখন, কোন দিন, বা কোন বছর তিনি আসবেন। কিন্তু ইমাম বুখারী, ইমাম মুসলিমের সংগ্রহে অনেক নির্ভরযোগ্য বর্ণনা রয়েছে। আসলে এগুলো হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস, বাণী, যেগুলো অতীতে মুসলমানেরা সংগ্রহ করেছিলেন। তো নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর প্রায় ১৪টি নির্ভরযোগ্য বর্ণনা রয়েছে যা যীশুর দ্বিতীয় আগমন সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি দামেস্ক শহরে অবতরণ করবেন। তখন ফজরের নামাজের সময় হবে। মুসলমানেরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, তাই এটি দিনের প্রথম নামাজ। তিনি আকাশ থেকে অবতরণ করবেন। তিনি দামেস্কের পূর্ব দিকে অবস্থিত সাদা মসজিদের মিনারের উপর অবতরণ করবেন। তিনি নেমে আসবেন এবং তখনই হবে মুসলিমদের নামাজের সময়। আর মুসলমানরা, তারা অবাক হবে, তারা বিস্মিত হবে এবং তারা বলবে, যীশুকে স্বাগতম, আমরাতো আপনার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। আর তারা তাকে বলবে, যীশু, আপনি নামাজের ইমামতি করেন না কেন?
আর যীশু কি বলবেন জানেন, তিনি বলবেন যে, আপনাদের যিনি ইমাম আছেন তিনি নামাজ পরিচালনা করবেন। তাহলে মূল কথা হল যীশু নবী হিসেবে বা নতুন কোন নবী হিসেবে আসবেন না। বরং তিনি নবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর শরীয়াহ (ইসলামী আইন)-এর একজন অনুসারী হিসেবে আসবেন। এবং তারপর কী হবে তারও বর্ণনা রয়েছে তার পুরো সেনাবাহিনী থাকবে যারা ভুয়া মাসিহের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। এবং সৃষ্টিকর্তার শক্তিতে, ভুয়া মাসিহ পরাজিত হবে। তারপর যীশু কয়েক বছরের জন্য সমগ্র পৃথিবীতে রাজত্ব করবেন। সেই সময় সবাই মুসলিম হবে। মুসলিম বলতে বোঝায় যে কেউ স্রষ্টার কাছে আত্মসমর্পণ করে। এরপর যীশু বিয়ে করবেন। তিনি মক্কায় তীর্থযাত্রা মানে পবিত্র হজ্জ পালন করবেন। তারপর তিনি স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করবেন। মৃত্যুর পরবর্তী জীবন সম্পর্কে ইসলামের বিশ্বাস খ্রিস্টধর্ম থেকে কীভাবে আলাদা?
জান্নাত, জাহান্নাম, বিচারের দিন ইত্যাদি?
বেশ, ঠিক আছে। মুক্তির সম্পর্কে ধারণা, পরকাল সম্পর্কে ধারণা, অনেক বিষয়ে মিল আছে, আবার অনেকগুলোতে পার্থক্য আছে। আর একটা মিল হলো খ্রিস্টানদের মতে, একদিন সবার পুনরুত্থান হবে এবং একদিন সবার বিচার হবে। কিন্তু এই শেষ বিচারের দিনে, এমনটা হবে না যে সৃষ্টীকর্তা মানুষের বিচার করবেন, বরং যীশু সেদিন মানুষের বিচার করবেন। কিন্তু ইসলাম অনুসারে, আল্লাহ সবকিছু জানেন, তিনি সবকিছু দেখেন, তিনি সর্বজ্ঞানী, তিনি সবকিছু জানেন যীশু নন বরং আল্লাহই একমাত্র সত্তা যিনি মনুষ্যজাতির বিচার করার উপযুক্ত, যেহেতু যীশুর জ্ঞানের অভাব রয়েছে, তিনি একজন নবী ছিলেন, তিনি একজন মানুষ ছিলেন। তিনি সবকিছু জানেন না। আর এটাই প্রধান পার্থক্যগুলির মধ্যে একটি। দ্বিতীয় প্রধান পার্থক্য হলো বাইবেলের তুলনায় কুরআনে স্বর্গ বা জান্নাতের বর্ণনা। বাইবেল পড়লে দেখবেন, জান্নাত সম্পর্কে সেখানে বিস্তারিত বর্ণনা করে না। যেখানে কুরআন বিস্তারিত বর্ণনা করে। কুরআন বলে, প্রাসাদ, গাছপালা এবং পোশাক এবং মানুষের খাবার, মানুষের মিথস্ক্রিয়ার কথা, তাই না?
এটি সমস্ত বিস্ময়কর পুরষ্কারের বর্ণনা দেয় এবং বর্ণনা করে জানাতে আমাদের স্বামী/স্ত্রী এবং পরিবারের ব্যাপারে। বাইবেল কেবল এটাই বলে যে জান্নাতে তাদের সরাসরি যোগাযোগ থাকবে সৃষ্টিকর্তার সাথে। কিন্তু আমি বলতে চাইছি যে, এটা আমাদের মনে অনেক প্রশ্ন রেখে যায়। তার মানে কি অনন্তকাল ধরে আমরা শুধু সেখানে বসে থাকবে আর সৃষ্টিকর্তাও ওখানে থাকবেন, আমরা সেখানে করবো কী?
সকল পুরস্কারের বিস্তারিত বর্ণনার দ্বারা, কোরআন কি ঘটবে এই প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর প্রদান করে। তাহলে এটা একটা পার্থক্য। দ্বিতীয় পার্থক্য হবে নরক বা জাহান্নামের ধারণা। কিছু কিছু খ্রিস্টান আক্ষরিক অর্থে জাহান্নামে বিশ্বাস করে, যেখানে থাকবে শাস্তি এবং যন্ত্রণা। কিন্তু বেশিরভাগ খ্রিস্টানরা বলে জাহান্নাম হলো এমন একটি স্থান যেখানে স্রষ্টা এবং সৃষ্টির মধ্যে বিচ্ছেদ রয়েছে। আর এই বিচ্ছেদের কারণে মানুষের মধ্যে ব্যর্থতা, হতাশা এবং দুঃখ তৈরি হয়। কিন্তু ইসলামের ধারণা অনুযায়ী জাহান্নাম হলো যারা সৃষ্টিকর্তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে তাদের জন্য শাস্তির স্থান। তাদের কাছে অনেক নিদর্শন আসার পর, মানে তাদের কাছে সতর্কবাণী আসার পরেও, তারা তবুও সৃষ্টিকর্তাকে প্রত্যাখ্যান করেছিল, তারা পাপ কাজে লিপ্ত ছিলো, তারা শিরক করেছিল অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তার সাথে অংশীদারিত্ব স্থাপন করেছিল তাই না?
তারা স্রষ্টা ছাড়াও অন্য কারো অথবা স্রষ্টার পাশাপাশি অন্য কারো ইবাদত করেছিল। তাহলে কোরানের বর্ণনা অনুযায়ী জাহান্নাম হলো একটি জায়গা। আল্লাহ আমাদের সকলকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করুন এবং আমাদেরকে চিরকালের জন্য জান্নাতে প্রবেশ করতে সাহায্য করুন তাহলে কি খ্রিস্টানরা বিশ্বাস করে যে মুসলিমরা জাহান্নামে যাবে?
আচ্ছা, খ্রিস্টানদের মতে, আপনি জানেন, ঠিক যেমন মুসলমানদের ছয়টি মৌলিক বিশ্বাস এবং পাঁচটি স্তম্ভ এবং অন্যান্য বাধ্যবাধকতা রয়েছে, আর যদি কোন ব্যক্তি ইসলামের বিশ্বাসের সাথে একমত না হন এবং তা পালন না করেন, তাহলে সেই ব্যক্তির শাস্তি হতে পারে। অথবা মানবজাতির মধ্যে এমন একজন ব্যক্তি যিনি সতর্কতা সত্ত্বেও, জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও ইসলামে বিশ্বাস করেন না, আমরা তাদের ক্ষেত্রে বলি, এটাই হলো একজন ব্যক্তির জাহান্নামে যাওয়ার কারণ। খ্রিস্টানদের মতে, যদি কোন ব্যক্তি যীশুকে স্রস্টা বলে না মানে, স্রস্টার পুত্র অথবা ট্রিনিটির অংশ বলে না মানে, অথবা তিনি মানবজাতির জন্য, অর্থাৎ মুক্তির জন্য মৃত্যুবরণ করেছেন সেটা না মানে, যদি কোন ব্যক্তি যীশু সম্পর্কে এই ধারণাগুলোতে বিশ্বাস না করে, তবে সেই ব্যক্তি জাহান্নামে যাবে। তাই তারা বলে যে, মুসলমান তোমরা যদি যীশুতে অর্থাৎ যীশু যে কাজে এসেছিলো তাতে বিশ্বাস না করো, তবে তোমরা জাহান্নামে যাবে। তাই তারা, তারা বলে যে, মুসলমানরা জাহান্নামে যাবে যদি তারা যীশুকে স্রস্টা এবং ত্রাণকর্তা হিসেবে না গ্রহণ করে । কিন্তু বাইবেল থেকেই, আমরা তাদের বলে দিতে পারি তারা যা বলছে সেটা যীশু মুক্তির বিষয়ে যা বলেছেন তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আমি মনে করি এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির মধ্যে একটি। যীশুর মতে, মুক্তির পথ হলো একজন ব্যক্তির সঠিক বিশ্বাস থাকতে হবে এবং তাকে সৎকর্ম করতে হবে। ইসলামও তাই বলে। পবিত্র কুরআনের ২য় সূরার, ২৫ নম্বর আয়াতে, আল্লাহ বলছেন এবং যার অনুবাদ হচ্ছে যদি কোন ব্যক্তির সঠিক বিশ্বাস থাকে এবং সে সৎকর্ম করে, আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে চিরস্থায়ী জান্নাতের নিশ্চয়তা দেন। বাইবেল অনুসারে একজন ব্যক্তি একবার যীশুর কাছে এলেন, এবং তিনি যীশুকে কিছু মৌলিক প্রশ্ন করলেন। এটা নিউ টেস্টামেন্টের ১ম গস্পেলে যাকে ম্যাথিউসের গস্পেলে বলা হয় তার ১৯ অধ্যায়ের ১৬ নম্বর শ্লোকে বলা হয়েছে। একজন ব্যক্তি যীশুর কাছে এসে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন হে সদাপ্রভু, আমাকে কী করতে হবে যাতে আমি জান্নাতে যেতে পারি?
দেখুন, সরাসরি উত্তর, তাই না? আর যীশু বলে উঠলেন তুমি আমাকে ভালো কেন বলছো?
স্রস্টা ছাড়া আর কেউ ভালো নেই। তাই এই অনুচ্ছেদ অনুসারে যীশু স্রস্টা হতে পারেন না কারণ স্রস্টা হলেন-- যীশু বলছেন যে অন্য কোনও সত্তা আছে, তিনি হলেন সকল মঙ্গল, আমি সকল মঙ্গল নই। আর তারপর তিনি উত্তরে দিলেন। যীশু বলেছিলেন, যদি তুমি অনন্ত জীবন পেতে চাও, যদি তুমি স্বর্গে যেতে চাও, আদেশগুলো মেনে চলো। যীশুও একথা বলতে পারতেন যে, আর কিছু দিন, কিছু মাস বা বছর শেষে, আমি মরতে যাচ্ছি, আর ওরা আমাকে শুলে চড়াবে। বিষ্বস করবে যে আমি মারা গিয়েছি এবং আমাকে পুনরায় জীবিত করা হবে এবং এটাই জান্নাতের পথ। তিনি এগুলো কখনও বলেননি এই ধর্মতত্বগুলো তারা তৈরী করেছে। কিন্তু যীশু বলেছেন যে যদি তুমি জান্নাতে যেতে চাও আদেশের অনুসরণ করো লোকটি জিজ্ঞেস করলো, কি ধরণের আদেশ?
যীশু তখন বললেন পুরাতন আদেশ যাকে ওল্ড টেস্টামেন্ট বলে। আসলে তিনি দশটি আদেশের প্রতি ইঙ্গিত করছিলেন। ওল্ড টেস্টামেন্টের, বুক অফ এক্সোডাসের, দশটি আদেশে বলা হয়েছে, অধ্যায় ২০, পদ নম্বর ৩, একমাত্র ঈশ্বরের উপাসনা এবং বিশ্বাস করো। এবং বাকি নয়টি আদেশ সৎকর্মের কথা বলে। ঈশ্বরের নামের অবমাননা করো না, তোমার পিতামাতাকে সম্মান করো, তোমার প্রতিবেশীদের সাথে ভালো ব্যবহার করো, মিথ্যা বলো না, প্রতারণা করো না, হত্যা করো না, সৎকর্ম কর। দশটি আদেশের মধ্যে, প্রথম আদেশ হল এক ঈশ্বরে বিশ্বাস করো। বাকি আদেশগুলো, সৎকর্মের কথা বলে। তাই যীশুর (আঃ) মতে, এমনকি বাইবেলও, বেহেস্ত নসিব হওয়ার জন্য, সৎকর্মের সাথে সঠিক বিশ্বাস প্রয়োজন। খ্রিস্টধর্ম অনুযায়ী, যিশু মানবজাতির ক্ষমার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। কেন এই বিশ্বাস ভুল?
কেন যীশুকে আপনার ত্রাণকর্তা হিসেবে গ্রহণ করা একজনের পরিত্রাণের জন্য যথেষ্ট হবে না? এটি বিভিন্ন স্তরে ভুল, যাইহোক। যৌক্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি ভুল যে যীশুর মৃত্যু মানবজাতিকে মুক্তি দেবে। আমি আমার বাসা থেকে এখানে গাড়ি চালিয়ে এসেছি। ধরুন যদি আমি গতিসীমার ওপরে গাড়ি চালাই, তাহলে পুলিশের, আমাকেই ধরা উচিত, এবং আমাকেই এর পরিণাম ভোগ করতে হবে, শাস্তির টিকিটও আমারই প্রাপ্য। আমার স্ত্রীকে নয়, আমার প্রতিবেশীকে নয়, আমার বাবা-মাকে নয়। তাহলে যুক্তিসঙ্গতভাবে, যদি একজন মানুষ মারা যায়, সেই মানুষের মৃত্যুতে, অন্য কারো মুক্তি লাভ কীভাবে সম্ভব?
ইসলামী মতেবাদে, যুক্তি অনুযায়ী, তা হল তুমি যা করো তারই ফলাফল বহন করো। এর অর্থ হলো, যদি তুমি ভালো কাজ করো, তোমার জন্য পুরষ্কার। যদি তুমি খারাপ কাজ করো, অনুতপ্ত হলে ক্ষমা আছে, নয়তো পরিণতি ভোগ করতে হবে। ইসলামে পরিত্রাণ যুক্তিসঙ্গত ও বিবেচক। পৃথিবীর প্রতিটি আদালত ব্যবস্থা, ইসলামের স্ব-দায়বদ্ধতার ধারণা প্রয়োগ করে। আপনি যাদি কিছু করেন, যদি কোন অপরাধী কিছু করে, তার শাস্তি সেই পাবে, অন্য কেউ নয়। তাই যুক্তিভিত্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে, খ্রিস্টানদের পরিত্রাণের ধারণা অর্থবহ নয়। ধর্মগ্রন্থের দৃষ্টিকোণ থেকে, যেমন আমি আগে উল্লেখ করেছি, যীশু মুক্তির পথ দেখিয়েছিলেন, জান্নাতে যাওয়ার পথ হচ্ছে, সঠিক বিশ্বাস রাখা এবং সৎকর্ম করা। যা ম্যাথিউ, ১৯ অধ্যায়ে ১৬ নম্বর পদ এবং তার পরেও আছে। তাহলে আমরা যেভাবেই দেখি না কেন, এমনকি ওল্ড টেস্টামেন্টেও, ওল্ড টেস্টামেন্টের ইজিকিয়েল গ্রন্থেও বলা আছে তুমি যা করবে তার ফলাফলও তুমিই ভোগ করবে। ওল্ড টেস্টামেন্ট বলছে, যীশু বলেছেন, কুরআন বলে, যুক্তি বলে, প্রত্তেক আদালত ব্যবস্থা বলে যে যে ব্যক্তি অন্যায় করেছে তাকেই শাস্তি দেওয়া উচিত, যে ব্যক্তি ভালো কাজ করেছে, তাকে পুরস্কৃত করা উচিত। তাহলে আদি পাপের ধারণাটি অর্থহীন, আপনার কি মনে হয়?
আদি পাপ অনুসারে, আদম ও হাওয়া, পাপ করেছিল এবং তারা সৃষ্টিকর্তার অবাধ্য হয়েছিল এবং তারা আপেল খেয়েছিল অথবা তারা গাছের কাছে গিয়েছিল, এবং এর শাস্তি হল প্রতিটি বংশধর, আদম ও হাওয়ার প্রতিটি সন্তান, তারা সেই আদি পাপের উত্তরাধিকারী হবে। কিন্তু যুক্তিভিত্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে, আমার বাবা-মায়ের পাপের শাস্তি আমকে কেন দেওয়া হবে? কোনও আদালত ব্যবস্থা এই ধারণার সাথে একমত নয় যে বাবার অপরাধের জন্য সন্তানকে শাস্তি দেওয়া হবে। ইসলাম আদি পাপের কথা বলে না, ইসলাম মানুষের অন্তর্নিহিত নৈতিকতার কথা বলে। প্রতিটি শিশু, প্রত্যেক ব্যক্তি একটি শুদ্ধ হৃদয় নিয়ে জন্মগ্রহণ করে, নিস্পাপ অবস্থায়, ঠিক না?
নিষ্পাপ, পবিত্র, কলঙ্কহীন। যতক্ষণ না আপনি বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছান, এবং যদি আপনি ভালো কাজ করেন, আপনাকে পুরস্কৃত করা হবে, আপনি যদি খারাপ কাজ করেন, তার পরিণামও ভোগ করতে হবে। তাই ইসলামী দৃষ্টিকোণ অনুসারে, যখন আদম ও হাওয়া পাপ করেছিলেন, যখন তারা ভুল করেছিলেন, তারা উভয়েই আল্লাহর কাছে তওবা করেছিলেন। আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করে দিন। এবং আল্লাহ তাদের ক্ষমা করে দিলেন। গল্প শেষ। এবং প্রতিটি শিশুই জন্মগ্রহণ করে আদি শুদ্ধতা নিয়ে। আমি এই উত্তরটি অনেকবার দিয়েছি, প্রত্তেকবার মসজিদের খোলা ঘরে যখন খ্রিস্টানরা এই প্রশ্নটি করে, প্রতিবার তারা বলে, আপনি জানেন সাবিল, আপনি ইসলামে মুক্তির ধারণা সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন, তা যুক্তিসঙ্গত, এটা অর্থবহ। খ্রিস্টানরা প্রশ্ন করে, তাহলে ঈশ্বর কেন বাইবেলকে রক্ষা করেননি?
তাহলে কেন আল্লাহ ঈসার ওপর নাজিল হওয়া ইনজিলকে (গস্পেল) রক্ষা করেননি? দাউদকে প্রদত্ত যাবুর, মূসাকে প্রদান করা তাওরাত, এবং ইব্রাহিমকে প্রদত্ত সহিফাসমূহ। আল্লাহ যদি চাইতেন, তিনি সেগুলো সংরক্ষণ করতে পারতেন তাহলে আজ আমাদের হাতে মূল গ্রন্থগুলো থাকত, ঠিক না?
আল্লাহ এটা করতে পারতেন, তিনি সর্বশক্তিমান। তাঁর সেই ক্ষমতা আছে। আল্লাহ তা করার ইচ্ছা করেননি কারন সেসব ওহি শুধু মাত্র সে সময়ের সেসব মানুষেরই জন্য। সেখানে সীমিত নির্দেশনা ছিল। সিমিত শারি'য়াহ বুঝলেন। সেই শারি'য়াহ সকল মানুষের জন্য এবং সর্বকালের জন্য প্রযোজ্য ছিল না। শারি'য়াহ অর্থ পথ নির্দেশনা। উদাহরণস্বরূপ, আমি আপনাকে এই সহজ উপমাটি দেই। আপনার কাছে নরওয়ের সংবিধান আছে। নরওয়ের সংবিধান শুধুমাত্র, নরওয়েজিয়ান সেই ৫০ লক্ষ মানুষের জন্য লেখা হয়েছিল, ভৌগোলিকভাবে, তাদের সংস্কৃতির উপর ভিত্তি করে, তাদের পটভূমির প্রেক্ষাপটে। নরওয়ের সংবিধান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের জন্য অথবা ভারতের জনগণের জন্য, আফ্রিকার জনগণের জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রযোজ্য হবে না। মার্কিন সংবিধান অন্যান্য দেশের জন্য প্রযোজ্য হবে না কারণ এটি একটি নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে লেখা। কিন্তু কল্পনা করুন যদি এমন একটি সংবিধান থাকে যা সমগ্র বিশ্বের জন্য প্রযোজ্য, সর্বকালের জন্য সকল সংস্কৃতি, সকল জাতির জন্য। এটা কোরআনের সাথে নরওয়ে ও যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের তুলনার মতো, একইভাবে বাইবেলের ওল্ড এবং নিউ টেস্টামেন্টের সাথে তুলনীয়। যদিও বা আল্লাহ যীশুর ওপর নাজিল হওয়া ইঞ্জিল (গস্পেল) সংরক্ষন করতেন এটা এখনকার দিনের সকল প্রকার সমস্যা সমাধানের জন্য যথেষ্ট হতো না। তাই এর পরিধি সীমিত ছিল, এটি শুধুমাত্র সেসব মানুষের জন্য এবং শুধুমাত্র সেই সময়ের জন্য ছিল। এই কারণেই, আল্লাহ তাঁর অসীম প্রজ্ঞায় এটি সংরক্ষণের অঙ্গীকার গ্রহণ করেননি। কিন্তু কুরআন সমগ্র মানবজাতির জন্য, সর্বকালের জন্য, সকল সমাধানের জন্য, যেকোনো সমস্যার জন্য, যেকোনো সংস্কৃতির জন্য, মানবতার জন্য যেকোনো জাতির জন্য, এবং এটি সর্বশেষ ওহী, তাই আল্লাহ এটিকে সংরক্ষণের অঙ্গীকার করেছেন। মুসলিমরা বিশ্বাস করে যে কুরআন সংরক্ষিত, কিন্তু বাইবেলের পরিবর্তন করা হয়েছে। তাহলে এর কারণ কী?
আপনি কি এটা প্রমাণ করতে পারবেন? এটা একটা অনেক বড় দাবি। এটা একটা বিরাট দাবি এবং এই বিরাট দাবির তো বিরাট প্রমাণ থাকা উচিত, তাই না?
এখন কুরআনের দিকে আসি। দেখুন, আল্লাহ কুরানের ১৫ নম্বর অধ্যায়ের ৯নং আয়াতে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, আল্লাহ এই যিকির, এই বার্তা, পাঠিয়েছেন তিনিই এটি সংরক্ষণ করবেন। তিনি দুটি ভিন্ন উপায়ে এটি সংরক্ষণ করছেন। এক মানুষের অন্তরে, স্মৃতিতে। মুহাম্মদ (সাঃ) যখন তাঁর কাছে ওহী এসেছিল, তিনি পুরো কুরআনের প্রথম মুখস্থকারী হয়ে গিয়েছিলেন। তার অনুসারীরা কুরআন মুখস্থ করেছিল এবং তারা পরবর্তী প্রজন্মকে কুরআন শিক্ষা দিয়েছিল এভাবে আমাদের প্রজন্ম পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে এ প্রথা চলে আসছে। স্মৃতির ধারায় বা হিফয করার মাধ্যমে ১৪০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে একাধিক শৃঙ্খল অবিরতভাবে চলে এসেছে কোনো ব্যবধান ছাড়াই। প্রতি প্রজন্মে হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ মানুষ এটি মুখস্থ করেছে। আমাদের প্রজন্মে, ২০২১ সালে, মানুষ জেনে অবাক হবে যে সারা বিশ্বে প্রায় ১ কোটি ৫০ লক্ষ কুরআন হিফযকারি বা মুখস্থকারী আছেন। বাইবেলের কতজন?
মূল ভাষায়? শূন্য। আমি মূল ভাষার কথা বলছি, তাই না? আরামাইক ভাষার কথা বলছি ওল্ড টেস্টামেন্টের, প্রাচীন ধ্রুপদী হিব্রু ভাষা। বাইবেলের কোন মুখস্থকারী নেই, কিন্তু কোরআনের ১ কোটি ৫০ লক্ষ মুখস্থকারী আছে। তাহলে এই উপায়ে আমরা বলতে পারি যে কুরআন অন্তঃস্থ করা হয়, তাই না?
এবং আমরা একটি পরীক্ষা করতে পারি। একজন খ্রিস্টান আসবেন যিনি কুরআন পড়তে জানেন, তিনি কুরআন খুলবেন এবং আমার ছেলে যে কিনা কুরআন মুখস্থ করেছে মাশাআল্লাহ সে হিফয করার খুব কাছেই। তাই সে অন্য দিকে তাকিয়ে কোনরকম ফোন, গাজেট ছাড়াই, স্মৃতিশক্তি থেকেই সে কুরআন তেলাওয়াত করতে পারে। আর যে খ্রিস্টান আরবি পড়তে জানেন, তিনি কুরআন পড়বেন, এটা একদম তাই হবে যা আমার ছেলে, ইউসুফ তেলাওয়াত করবে। সহজ পরীক্ষা। দ্বিতীয় যে উপায়ে কুরআন সংরক্ষিত হয়েছে, শুরু থেকেই, মুহাম্মদ (সা:), তিনি পড়তে এবং লিখতে জানতেন না। যখনই তাঁর কাছে কোন ওহী আসত, তখনই তাঁর কাছে ৫৫ থেকে ৭৭ জন লেখক আসতেন। তারা আসতেন, তিনি তাঁদের, আয়াতটি লিখার অনুরোধ করতেন, কুরআনের এই সূরা। তাঁরা লিখে রাখতেন এবং তারপর তিনি তাঁদের অনুরোধ করতেন, তেলাওয়াত করে শোনানোর জন্য যা তাঁরা লিখেছেন। নিশ্চিত করার জন্য যে তাঁরা ঠিকঠাক লিখেছিলেন কিনা। তো এভাবে, পুরো কুরআন লেখা হয়েছিল এবং পুরো কুরআন মুখস্থ করা হয়েছিল। যদি লেখকরা কোন ভুল করেন, যেহেতু ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা হবার আগে, মানুষ কেবল তাদের হাতে অনুলিপিগুলো, লিখত, এবং মানুষ ভুল করে। যদি কুরআনের লিখিত পাণ্ডুলিপিতে কোন ভুল থাকে, যারা কুরআনের হাফিয, যদি তাঁরা পাণ্ডুলিপিতে কোন রকম ভুল লক্ষ করে, তাঁরা তা ধরবে এবং সংশোধন করবে, এটি মূল সংস্করনের মতোই হবে। তাহলে কুরআনের দ্বৈত নিয়ন্ত্রণ এবং ভারসাম্য ব্যবস্থা রয়েছে যা অন্য কোনও গ্রন্থে নেই। এটাই প্রমাণ কোরআন সংরক্ষিত রয়েছে। এবং আমাদের কাছে কুরআনের পাণ্ডুলিপি রয়েছে নবী (সাঃ)-এর সময়কাল থেকে শুরু করে। এরমধ্যে একটি হল বার্মিংহাম কুরআন, যা তারা বার্মিংহাম লাইব্রেরিতে আবিষ্কার করেছিল। তাই আমরা বলতে পারি যে কুরআন সংরক্ষিত রয়েছে। এটি কেবল একটি অন্ধ বিশ্বাস নয়, এর পিছনে প্রমাণ রয়েছে। বাইবেল সম্পর্কে কী বলা যায়?
মানুষ হয়তো ভাবছে। তোমরা মুসলিমরা বাইবেল পরিবর্তন করা হয়েছে বলে অভিযোগ কর। ঠিক আছে, প্রমাণ কী? কে পরিবর্তন করেছে? কখন পরিবর্তন করা হয়েছে? পরিবর্তনগুলো কোথায়?
ঈসা (আঃ) যখন তিনি হেদায়েতের কথা বলেছিলেন, এক সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে, পরিত্রাণ সম্পর্কে, তখন কেউ এটি লিখে রাখেনি। বাইবেলের কোনও ঐতিহাসিক বলেননি যে, যীশুর বাণী যীশুর সময়েই লেখা হয়েছিল। যীশু চলে যাওয়ার পর, তার বহু দশক পরে, মানুষ মনে করতে শুরু করে এবং তারা লিখতে শুরু করে। যীশুর পৃথিবী ছেড়ে যাওয়ার সময় থেকে প্রায় ৩০ থেকে ৬০ বছরের ব্যবধান ছিল। এবং খ্রিস্টানদের মতে, যারা এটি লিখেছে, চারজন গস্পেল, তারা প্রকৃত প্রত্যক্ষদর্শী নন। তারা অজানা লেখক। এবং যখন তারা এটি লিখেছিলেন, তখনও তারা সেটি যীশুর ভাষায় লিখেননি। বিশ্বকোষ ব্রিটানিকা অনুসারে যীশু, আরামাইক ভাষায় কথা বলতেন। কিন্তু নিউ টেস্টামেন্টের মূল লেখাগুলি গ্রীক ভাষায়। দেখুন, মুসলিমদের কুরআন আরবিতে লেখা, আরবি ভাষায় অন্তঃস্থ করা, আরবিতে অবতীর্ণ, যখন আমরা নামাজে তেলাওয়াত করি, তখনও আমরা আরবিতেই করি। তাদের তা নেই। তাহলে বাইবেল, নিউ টেস্টামেন্ট, গ্রীক ভাষায় লেখা হয়েছিল, কিন্তু যীশুর ভাষা আরামাইক ছিল, তাই না?
সুতরাং তাদের সমস্ত ফাঁকফোকরগুলো লক্ষ্য করুন। যীশুর সময়ে লেখা হয়নি, অন্য ভাষায় লেখা, যারা লিখেছেন তারা শিষ্য বা প্রত্যক্ষদর্শী নন, এবং অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। আর এত এত পরিবর্তন এর কারণ হলো এইগুলোই। ঠিক আছে, কল্পনা করুন। আপনার কাছে বাইবেলের একটি পাণ্ডুলিপি আছে, আর তারপর একজন ব্যক্তিকে তার অনুলিপি লিখতে হবে। কারণ বাইবেলের মুখস্থকারী কেউ নেই, এই ব্যক্তি অনুলিপি লেখার সময়ে একটু ভুল করতেই পারে। তার কারণ স্মৃতিশক্তি, একজন মানুষ ক্লান্ত থাকতে পারে, তাই না?
যথেষ্ট আলকপাত নেই। তারা একটি অনুলিপি তৈরি করতে পারে এবং এই অনুলিপিটি এটির মতো হবে না কারণ এখন এতে একটি ভুল আছে। যদি কেউ এই অনুলিপি থেকে আরও একটি অনুলিপি তৈরি করে, তারা এই ভুলটি অন্তর্ভুক্ত করতে পারে এবং তারা আরও ভুল যোগ করতে পারে। তাই তাদের যত বেশি অনুলিপি থাকবে, ভুল ততই বাড়তে থাকবে। এখন, আমরা তাদের বোঝানর জন্য আরও একটি উপায় বলতে পারি যে বাইবেল পরিবর্তন করা হয়েছে কারণ আমি বাইবেলের একজন সংগ্রাহক। আমার সংগ্রহে ৩০০টি বাইবেল আছে। একবার আমার লাইব্রেরিতে আসুন। ইতিহাসের বিভিন্ন সময় থেকে, বিভিন্ন ভাষা এবং বিভিন্ন সংস্করণ আমার কাছে আছে। প্রত্যেকেই একটি থেকে অপরটি ভিন্ন। উদাহরণ, বাইবেলের কিং জেমস সংস্করণটি ১৬১১ সালে প্রকাশিত হয়েছিল ইংল্যান্ডের রাজা জেমসের তত্ত্বাবধানে রচিত। বাইবেলটি ১৮৮১ থেকে ১৮৮৫ সালে সংশোধিত হয়েছিল কারণ এতে ত্রুটি ছিল এবং এটি কোন প্রাচীন পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি করা হয়নি। তাই তারা ১৮৮১ সালে ইংল্যান্ডে এটি সংশোধন করেছিল। এতেও কিছু ত্রুটি ছিল, তাই তারা ১৯০১ সালে আবার সংশোধন করা শুরু করে, যাকে আমেরিকান স্ট্যান্ডার্ড ভার্সন বলা হয়। এতেও ভুল ছিল কারণ, মানুষ নতুন পাণ্ডুলিপি আবিষ্কার করতে শুরু করেছিল। এবং নতুন পাণ্ডুলিপিগুলো আবার, এই বাইবেলের থেকে আলাদা, তাই তাদের বাইবেল আপডেট করতে থাকতে হবে। এবং আমি কিছু উদাহরণ দেব, ঠিক আছে?
তাহলে বাইবেলের ১৯০১ সালের সংস্করণ, আমেরিকান স্ট্যান্ডার্ড সংস্করণ, এতে ভুল আছে বলে, তারা ১৯৫২ সালে এটি সংশোধন করেছিল। এতেও ভুল আছে, তাই তারা ১৯৭১ সালে এটি পুনরায় সংশোধন করেছিল, NASB। এতেও ভুল আছে, তাই তারা ১৯৮৯ সালে এবং ২০২০ সালে এটি আবারো সংশোধন করেছে, এবং তারপর ২০২১ সালে। তাহলে আপনি হয়তো ভাবছেন, ভাই সাবিল, এখানে হচ্ছেটা কি? ঠিক আছে, আপনার কাছে একটি বাইবেল আছে, কিন্তু যদি তারা নতুন পাণ্ডুলিপি আবিষ্কার করে, তাদের এই বাইবেলটি আপডেট করতে হবে, এর অনুবাদ নয় কিন্তু, এর বিষয়বস্তু। তাহলে আসলটি কী হতে পারে অর্থাৎ যেসব পদ মানুষ বাইবেলে পরিবর্তন করেছে?
আপনি যদি বাইবেলের নিউ টেস্টামেন্টের কিং জেমস সংস্করণ দেখেন, দ্বিতীয় বইয়ে, মার্কের গস্পেল, ১৬ নম্বর অধ্যায়ে, আমি এত কিছু বলছি, আশা করি আপনি বুঝতে পারছেন। নিউ টেস্টামেন্ট, দ্বিতীয় গস্পেল, অধ্যায় নম্বর ১৬, কিং জেমস সংস্করণে এর ২০টি পদ রয়েছে। তাহলে এটা একটা বাইবেল। আমার কাছে আছে, বাইবেলের ১৯৫২ সালের সংস্করণ, মার্কের গস্পেলের ১৬ অধ্যায়ে, এটিতে ২০টি পদ রয়েছে, এইটিতে মাত্র ৮টি পদ আছে। তারা হয়তো ভাবছে। মুসলিমরা, হয়তো অনুবাদকে সংস্করণের সাথে বিভ্রান্ত করছে। না, অনুবাদ আমরা বুঝি। উদাহরণস্বরূপ, অনুবাদ অর্থ ইংরেজি থেকে তুর্কি ভাষায় রুপান্তর, তাই না?
এটা অনুবাদ। সংস্করণের অর্থ আপনি আসল শব্দে পরিবর্তন করেছেন, আপনি আসল অনুচ্ছেদে পরিবর্তন করেছেন। এই সংস্করণে বেশি অনুচ্ছেদ রয়েছে, এই সংস্করণে কম অনুচ্ছেদ রয়েছে। তাহলে এটা একটা উদাহরণ, সহজ উদাহরণ। আরও একটি উদাহরণ জনের গস্পেল, চতুর্থ গস্পেল, সপ্তম অধ্যায়, পদ সংখ্যা ৫৩, এটি একটি পতিতা সম্পর্কে কথা বলে এবং কীভাবে মানুষ তাকে পাথর ছুঁড়ে মারার জন্য তার তার পাশে জড়ো হয়েছিল। আর যীশু ঘটনাস্থলে এসে বললেন, ঠিক আছে, যারা পাপমুক্ত তারাই প্রথম পাথর ছুঁড়ে মারবে। আপনি হয়তো গল্পটি শুনেছেন। প্রাচীন পাণ্ডুলিপিতে সেই গল্পটি নেই। কিন্তু কিং জেমস সংস্করণে এটি আছে। বাইবেলের আএসভি সংস্করণে বলা হয়েছে, এই গল্পটি যোগ করা হয়েছে, এই গল্প প্রাচীন পাণ্ডুলিপিতে নেই। তাহলে কেউ এতে সেই গল্পটি যোগ করেছে। আরও একটি সংক্ষিপ্ত উদাহরণ দেই। জনের প্রথম পত্রে, অধ্যায় ৫, পদ নম্বর ৭, কিং জেমস সংস্করণ বলে যে স্বর্গে তিনজন আছেন যারা সাক্ষ্য দেন, পিতা, পুত্র এবং পবিত্র আত্মা। এটা কিং জেমস সংস্করণ বলে। বাইবেলের নতুন সংস্করণগুলি, তারা এটি বের করে দিয়েছে কারণ তারা বুঝতে পেরেছিল যে কেউ এটি যোগ করেছে। তাই আমি যা বলছি তা হল শতাব্দী ধরে গ্রীক পাণ্ডুলিপিতে, মানুষ কিছু সংযোজন করেছে, কিছু বিয়োগ করেছে। এই কারণে, আমরা বলি যে বাইবেল পরিবর্তন করা হয়েছে। তাহলে খ্রিস্টানদের দ্বন্দ্ব এখানেই। তাদের কাছে মূল বাইবেল নেই, তাদের কাছে বাইবেলের কোন হাফেয নেই, মুখস্থকারী নেই, তাদের কাছে কেবল এই পাণ্ডুলিপিগুলি আছে এবং প্রতিটি পাণ্ডুলিপি আলাদা। তাই তারা নিজেদের চিন্তা-ভাবনা অনুযায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা করে, যেমন সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট গ্রহণ করে, এখানে কোন অংশটি লেখা উচিত, ওখানে কোন অংশটি লেখা উচিত এভাবে। তারা এভাবেই বাইবেল তৈরি করে। তাহলে মুসলিমরা যখন আমরা এই বিবৃতি দেই, যে বাইবেল পরিবর্তন করা হয়েছে, কোরআন সংরক্ষিত, আমরা যা বলি তার জন্য আমাদের কাছে যথেষ্ট, বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ রয়েছে। তাহলে কি এই ৪টি বাইবেলই লেখা হয়েছিল নাকি যীশুর সময়ে কি অন্যান্য বাইবেলও উপস্থিত ছিল?
তো যা ঘটেছিল তা হল যীশুকে ৩৩ সালের দিকে, আসমানে তুলে নেবার পর কেউ তাঁর শিক্ষা সম্পর্কে কোনও বিবৃতি লেখেনি। এর বহু দশক পরে, মানুষ অনেক গস্পেলে লিখতে শুরু করে। গস্পেলে সংজ্ঞা হল এটি হযরত নবী ঈসা (আঃ) এর জীবনী। অনেকেই নবী যীশুর জীবনী লিখেছেন । যাদের মধ্যে রয়েছে ম্যাথিউ, মার্ক, লুক এবং যোহান। কিন্তু অনেকগুলো গস্পেল লিখা হয়েছে। কেউ বলে ৭৭ কেউ বলে ১০০ এবং কেউ বলে ২০০টা আসলে যা ঘটেছিল তা হল যখন যীশুর প্রকৃত অনুসারীরা এবং তাদের বংশধররা, তারা পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে গিয়ে যীশুর প্রচারিত একেশ্বরবাদে বিশ্বাসের শিক্ষা দিয়েছিলেন। আর এই খ্রিস্টানরা অথবা এই আদি শিষ্যরা, যখন তারা রোমান সাম্রাজ্যে গিয়েছিল, যখন তারা পারস্যে গিয়েছিল, যখন তারা মিশরে গিয়েছিল, অথবা যখন ভারত উপমহাদেশ বা চীনে গিয়েছিলো, সেই জায়গাগুলিতে, সেই সংস্কৃতিতে, ট্রিনিটি বা বিভিন্ন আকার ও রূপে ট্রিনিটির আসলেই প্রচলন ছিলো দুর্ভাগ্যবশত, যীশুর একেশ্বরবাদী অনুসারীরা, একেশ্বরবাদকে ভুলে যায় এবং তারা ট্রিনিটিকে এতে অন্তর্ভুক্ত করেছে। তাহলে রোমান সাম্রাজ্যে আগে যা হত তা হলো খ্রিস্টানদের দুটি দল তৈরি হলো, ট্রিনিটিতে বিশ্বাসী খ্রিস্টান, এবং একেশ্বরবাদী খ্রিস্টান। অথবা আপনি যাকে বলতে পারেন তা হল ইউনিটেরিয়ান খ্রিস্টান, তাই না?
তো ট্রিনিটিতে বিশ্বাসী খ্রিস্টান এবং ইউনিটারিয়ান তাদের মধ্যে আগে লড়াই হতো এবং সংঘর্ষ লেগে থাকতো।. তাহলে রোমের সম্রাট কনস্টানটাইন যিনি একজন পৌত্তলিক সম্রাট ছিলেন তিনি বললেন যে শান্তি থাকা উচিত, সম্প্রীতি থাকা উচিত, আসুন এই দল দুটিকে একত্রিত করি।.
তাই তিনি সকল খ্রিস্টান বিশপদের একত্রিত করেন। তিনি একটি সম্পূর্ণ কাউন্সিল করলেন, যাকে বলা হয় নাসিয়া কাউন্সিল। এখানে তারা সিদ্ধান্ত নিল যীশু তার পিতার সমান। তার আগে কিন্তু বিষয়টি এমন ছিলো না। কিন্তু এখন বিষয়টি একটি প্রচলিত বিষয় হয়ে উঠেছে। যখন এটি প্রচারিত হচ্ছে, অনেকগুলো গস্পেল ও রয়েছে, আর খ্রিস্টানরা নির্ধারণ করতেই সক্ষম হয়নি যে কোনটি সঠিক, আর কোনটি ভুল। কিন্তু ততদিনে ট্রিনিটির এই প্রচলন গোঁড়ামিতে পরিণত হয়েছে। ৩৬৭ সালে যখন তাদের চূড়ান্তভাবে বাইবেল নির্ধারণ করলো, সেটা যীশুর মৃত্যুর অনেক পরে। ৩৬৭ সালে তারা ট্রিনিটিয়ান বিশ্বাসকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল এবং তারা কেবল সেই গস্পেলগুলোকেই নির্বাচন করেছিল যা খ্রিস্টানদের ট্রিনিটিয়ান বিশ্বাসের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। সেটা ৩৬৭ সালে, যীশুর ৩০০ বছরেরও বেশি সময় পরে। তাই ট্রিনিটির সাথে একমত এমন গস্পেলগুলোকেই তারা বাইবেলে স্থান দিয়েছে। যারা এর সাথে দ্বিমত পোষণ করেছিল, তারা সেগুলো ফেলে দিয়েছে। তাই আরও অনেক গস্পেল ছিল, যেমন থমাসের গস্পেল, অথবা মানুষ বলে বার্নাবাসের গস্পেল অথবা অন্যান্য গসপ্যাল, যেখানে বলা হয় যে যীশু কেবলমাত্র একজন নবী ছিলেন, শুধুমাত্র একজন স্রস্টা আছেন, যীশু মারা যাননি, ইত্যাদি। ইসলাম মুক্তি সম্পর্কে যে ধারণা দেয়, সেই সকল গস্পেল ফেলে দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল, নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, এবং শুধুমাত্র সেইসব গস্পেল যা ট্রিনিটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, সেগুলিকেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তাহলে তারা কীভাবে এই ট্রিনিটির বিষয়টি নিয়ে আসলো?
এটি কি অন্য কোন ধর্মের ছিল, যার সদস্য তারা খ্রিস্টধর্ম অনুসরণের আগে ছিল? ট্রিনিটি বা ট্রিনিটির ধারণাটি বিভিন্ন সংস্কৃতিতে সত্যিই প্রচলিত ছিল। ব্যাপারটা শুধু ট্রিনিটি নয়। যেমন কিছু কিছু সংস্কৃতিতে তারা স্রস্টার ধারণাকে এতটাই দুর্বল করে দিয়েছিল যে, তারা মূর্তি, মানুষ, প্রাণী, ট্রিনিটির ধারণার পূজা শুরু করেছিল। যেমন হিন্দুদের ক্ষেত্রে,, ট্রিনিটি এখনো তাদের ধর্মে রয়েছে। তাদের স্রষ্টা ব্রহ্মা, আর রয়েছে বিষ্ণু, এবং তারপর রয়েছে শিব, রক্ষক এবং ধ্বংসকারী।. এছাড়া মিশরীয় সংস্কৃতিতে, তাদের একই রকম ট্রিনিটি ছিল, রোমান সাম্রাজ্য, পারস্যে। আসলে একেশ্বরবাদকে কলুষিত করা হয়েছিল।. আইনি জানেন যে, আমি ভারত থেকে এসেছি, তাই না?
আমি ভারতে জন্মগ্রহণ করেছি এবং বেড়ে উঠেছি। আমি আসলে কিছু মুসলিমকে মৃত মানুষের কবরের চারপাশে ঘুরতে দেখতাম। এদের পরিচয় মুসলিম। এবং তারা সিজদা করত মৃত ব্যক্তিকে আর দাবী করতো যে তারা মুসলিম। আসলে তাদের জ্ঞান ছিলো না, তারা নতুন কিছু করতো। ঠিক একইভাবে, যখন যীশুর সেই প্রাথমিক অনুসারীরা, যখন তারা এই অন্যান্য সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হয়, তারা কোন না কোনভাবে ঐ সংস্কৃতির প্রতি, তাদের জীবনযাত্রার প্রতি আকৃষ্ট হয়, তাদের ধর্ম বিশ্বাসের প্রতিও, এবং তারা একেশ্বরবাদকে কলুষিত করে আর ট্রিনিটির মতবাদগুলোকে তারা তাদের অন্তর্ভুক্ত করে ফেলে। তাই প্রাথমিকভাবে অতীতের কিছু সংস্কৃতিতে, যেমন ইহুদীদের সংস্কৃতিতে, তারা ধার্মিক ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিদেরকে স্রস্টার পুত্র বলে ডাকে। আক্ষরিক অর্থে নয়, কিন্তু রূপক অর্থে। কিন্তু তারপর খ্রীষ্টের অনুসারীরা এসে বললেন, অন্যান্য সংস্কৃতিতে, স্রস্টার পুত্র আছে। হয়তো যীশুও স্রস্টার পুত্র। তাই তারা একটি আক্ষরিক অর্থ দিয়েছিলেন যেখানে এটিকে রূপক অর্থে বলার কথা ছিলো । এরপর যখন তারা আক্ষরিক অর্থে বললো স্রস্টার একটি পুত্র আছে, তাহলে পুত্রকেও স্রস্টার একই গুণাবলী ধারণ করতে হবে। এর অর্থ হলো পুত্রকেও স্রস্টা হতে হবে। তারপর তারা আরও একটি সত্তা তৈরী করলো যার নাম দিলো পবিত্র আত্মা। অর্থাৎ স্রস্টার আত্মা একটি রূপক অর্থে, স্রস্টার আত্মা হলেন স্বয়ং স্রস্টা।.
কিন্তু তারা স্রস্টার আত্মাকে একটি পৃথক ব্যক্তি হিসেবে তৈরি করেছে এবং তাকে ঐশ্বরিক গুণাবলী দিয়েছে। তাহলে এখন তারা বলে, যদি পিতা স্রস্টা হন, তাহলে পুত্রেরও স্রস্টার গুণাবলী আছে, এবং পবিত্র আত্মারও ঐশ্বরিক গুণাবলী রয়েছে। হয়তো ঠিক ঐ সংস্কৃতিগুলোর মতোই, স্রস্টা তিন ব্যক্তির মধ্যে আছেন। এভাবেই ট্রিনিটির ধারণাটি যীশুর মৃত্যুর বহু শতাব্দী পরেও, খ্রিস্টীয় ধর্মমতে অর্থোডক্স বা প্রচলিত বিশ্বাসের অংশে পরিণত হয়েছিল। আপনার ব্যাখ্যা সত্যিই যৌক্তিক, কিন্তু অনেক খ্রিস্টান বলে যে আমি খ্রিস্টধর্মে আধ্যাত্মিকতা খুঁজে পেয়েছি এবং আমি স্রস্টার সাথে সংযোগ অনুভব করি। তাহলে আমাকে কেন আমার বিশ্বাস কেন পরিবর্তন করতে হবে?
আমি বলব তিনটি কারনে একজন ব্যক্তিকে খ্রিস্টধর্ম থেকে ইসলামে ধর্ম পরিবর্তন করতে হবে তিনটি সহজ কারণ, দ্রুত বলছি। প্রথমত, কেবলমাত্র একজন ব্যক্তি কোন বিশ্বাসের ব্যপারে আধ্যাত্মিক সম্পর্ক বা ভালো অনুভব করেন, এ বিষয়টা সেই বিশ্বাসের সত্যতার মানদণ্ড নয়। একজন হিন্দু যখন একটি মন্দিরে যায়, তখন তিনি একই কথা বলতে পারেন, আমি বোধ করি, যে তিনি আধ্যাত্মিক সম্পর্ক অনুভব করছেন এবং তার মনে হচ্ছে এটাই সঠিক বিশ্বাস। আমরা যা অনুভব করি, তা সবসময় বাস্তব সত্য নয়। একজন বৌদ্ধ একই কথা বলতে পারেন, একজন ইহুদিও একই কথা বলতে পারেন, তাই না? মুসলিমরাও একই কথা বলে। আমরা কিছু বলি বলেই সেটা সঠিক হয়ে যায় না। অনুভূতি, তাই না? আমাদের সকলেরই অনুভূতি আছে। তাই একে বলা হয় একটি বিষয়গত যুক্তি। বিষয়গত, ঠিক না?
আমরা অনুভূতিকে প্রাধান্য দিয়ে চলতে পারি না, আমাদের বাস্তবতাকে প্রাধান্য দিতে হবে। এখন চলুন বাস্তবতার কথায় আসি, দুটি বিষয় বলবো। প্রথমত, আমাদের জন্য সঠিক বিশ্বাসের একটি শর্ত হলো সেই বিশ্বাসে সৃষ্টিকর্তার সঠিক ধারণা থাকা। যদি সৃষ্টিকর্তার ধারণা সঠিক হয়, তাহলে সবকিছু ঠিকভাবে চলবে। আর যদি ধারণাটা ভুল হয়, তাহলে অন্য কিছুই গুরুত্বপূর্ণ নয়। ইসলাম সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে যে ধারণা দেয়, তা হলো একত্ববাদ, শুধুমাত্র একজন সৃষ্টিকর্তা, যার অসাধারণ গুণাবলি, কোনো অংশীদার নেই, ট্রিনিটি নেই, সম্পূর্ণ একত্ববাদ। প্রত্যেক নবী, রাসূল এই ধারণার প্রচার করেছেন, এমনকি বাইবেলেও এই ধারণা পাওয়া যায়।.
আমি আমার খ্রিস্টান এবং ইহুদি বন্ধুদের বলি, আদম (আঃ) কে দেখুন, ওল্ড টেস্টামেন্ট অনুযায়ী তিনি একত্ববাদী ছিলেন, তিনি ট্রিনিটারিয়ান ছিলেন না। মূসা (আঃ) ও ট্রিনিটারিয়ান ছিলেন না, তিনি একত্ববাদ প্রচার করেছেন, এবং অন্যান্য নবীরাও, এমনকি যীশুও একত্ববাদ প্রচার করেছেন। যীশু ট্রিনিটারিয়ান ছিলেন না। এজন্য বলবো এটি দ্বিতীয় কারণ যে খ্রিস্টানদের ইসলামকে বিবেচনায় নেওয়া উচিত, কারণ যীশু ও সকল নবী যা প্রচার করেছেন ইসলাম তা পুনরায় জীবন্ত করেছে। আর তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো— আমি যদি একজন ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থান থেকে চিন্তা করি, আমার সামনে যদি ইসলাম, খ্রিস্টধর্ম, ইহুদিধর্ম, হিন্দুধর্ম থাকে, তাহলে আমি যদি একটি ধর্ম বেছে নিতে চাই, তখন একটি মানদণ্ড হবে এইটা। মানবজাতি আজ নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জাতিগত বৈষম্য, পারিবারিক কাঠামোর ভাঙন, নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, হত্যা, আত্মহত্যা, জুয়া—এই সমস্যাগুলো চলছেই, যার তালিকা অনেক দীর্ঘ তাহলে সমাধান কী?
তাই সঠিক বিশ্বাসের একটি মানদণ্ড হলো, যদি তা স্রস্টার পক্ষ থেকে আসে, তাহলে সেখানে প্রতিটি সমস্যার জন্য ব্যবহারযোগ্য, বাস্তবসম্মত সমাধান থাকবে। আপনি যদি নিউ টেস্টামেন্ট দেখেন, এখানে বলা হয়নি একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, রাজনৈতিক ব্যবস্থা, বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, পারিবারিক ব্যবস্থা, বৈবাহিক ব্যবস্থা এইসব সম্পর্কেও নয়। নিউ টেস্টামেন্ট আমাদের দরকার, কিন্তু তাতে এসব বিষয় নেই। ওল্ড টেস্টামেন্টে কিছু পরিমাণে আছে, কিন্তু তা কেবল ইহুদি জাতির জন্যই প্রযোজ্য। এগুলো সীমিত, নির্দিষ্ট সময় ও নির্দিষ্ট জাতির জন্যই ছিল। আমরা এটা দরকার, কিন্তু ওটার মধ্যে ওই বিষয়গুলো নেই। হিন্দু বেদগুলোতেও পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থার বিষয়গুলো নেই। বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থেও নেই, ঠিক তো?
মানবজাতিতে রয়েছে ৮ বিলিয়ন মানুষ আমাদের প্রয়োজন সমাধান, প্রয়োজন দিকনির্দেশনা। শুধু মানবিক যুক্তি দিয়ে বললেও তাদের কাছে এই সমাধানগুলো নেই। বাস্তবসম্মত সমাধান নেই, বুঝলেন? শুধু এইভাবে নয়—“তোমার প্রতিবেশীকে ভালোবাসো”— ভালো, কিন্তু ভালোবাসা মানে কী?
এসবের বিশদভাবে ব্যাখ্যা থাকতে হবে। ইসলামে সেই সমাধান আছে। কুরআনে আছে, যা মানবজাতির জন্য আল্লাহর বাণী, এবং আছে সুন্নাহ পালনের মধ্যে, যা নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবনের উদাহরণ। মানবজাতির দরকার এসব সমাধান, ওদের নেই কিন্তু ইসলাম এসব প্রদান করে। তাই এই তিনটি কারণে, যুক্তিভিত্তিক, বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি থেকে—ইসলামই সঠিক বিশ্বাস। তাহলে আপনি বলছেন আগের নবীগণ, আপনি বলছেন, ওল্ড টেস্টামেন্ট অনুযায়ী নবীরা এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস এবং একত্ববাদ শেখাতেন। আপনি বললেন যীশু ও একই কথা বলেছেন। তাহলে খ্রিস্টানদের মতে, ওই নবীদের কী হবে? কারণ তারা তো যীশুকে বিশ্বাস করতেন না কারণ যিশু তো তাঁদের পরে এসেছেন। তাহলে সেই নবীদের পরিণতি কী? যারা যীশুর আগেই এসেছিলেন। তাঁদের মুক্তির উপায় কী?
তাঁদের মুক্তির উপায় ছিল একই সঠিক বিশ্বাস রাখা, ভালো কাজ করা। যদি তাদের ভুল হতো, তাহলে স্রস্টার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন। এটা যুক্তিসঙ্গত, কারণ মূসার (আঃ) সময়কার মানুষরা, যাঁরা তাঁর সাথী ছিলেন, তাঁদের আমরা বলি মুসলিম। তাঁরা স্রস্টার কাছে আত্মসমর্পণ করতেন। আরবি ভাষায় তাঁদের আমরা বলি মুসলিম। যে কেউ মূসাকে নবী হিসেবে মানতেন, এবং আল্লাহপ্রদত্ত তাওরাত অনুসরণ করতেন, সাধ্যমতো পালন করতেন, এবং ক্ষমার জন্য আল্লাহর কাছে চাইতেন, আমরা বলি, আল্লাহর রহমতে তিনি জান্নাতে যাবেন। মূসা, ইব্রাহিম, সোলায়মান, দাউদ, ইসমাঈল, ইসহাক (আঃ) সবার সময়েই তাই। এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যীশু বা ঈসা (আঃ) সময়ও, যে কেউ তাকে নবী হিসেবে মানতেন, এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করতেন, আত্মসমর্পণ করতেন, এবং ঈসার (আঃ) প্রতি অবতীর্ণ ইনজিল (গস্পেল) মেনে চলতেন, তাঁদের আমরা বলি মুসলিম, খ্রিস্টের অনুসারী, তাঁদের মুক্তির পথ হচ্ছে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস, ঈসাকে নবী হিসেবে মানা, এবং তাওরাত অথবা ইনজিল (গস্পেল) অনুসরণ করা। বাইবেলে একটি চমৎকার বাণী রয়েছে আমি কেন বলছি এটা চমৎকার?
একজন মানুষ মুসলমান হতে চাইলে, ধরুন কেউ মসজিদে এসে বলল, আমি কুরআন পড়েছি, আমি মুসলমান হতে চাই। তাকে শাহাদাহ পাঠ করতে হবে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই, এবং মুহাম্মাদ (সাঃ) আল্লাহর রাসূল। ঈসার সময়েও কি এটা একই বক্তব্য ছিল না? যে ঈসা (আঃ) হলেন আল্লাহর একজন রাসূল, ঠিক? আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই, এবং ঈসা (আঃ) হলেন তাঁর প্রেরিত একজন রাসূল। আপনি বাইবেলেই এই বার্তাটি পাবেন। যীশু বলছেন—যদি তুমি চিরন্তন জীবন পেতে চাও, যদি তুমি জান্নাতে যেতে চাও, তাহলে জেনে রাখো, আল্লাহই একমাত্র সত্য ইলাহ, এবং তিনি যীশুকে রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছেন। বাহ!
বাইবেলে শাহাদাহ রয়েছে। এবং যিশু বলছেন, এটাই জান্নাতে যাওয়ার পথ। এটা জানা এবং সেই শাহাদাহ পাঠ করার মাধ্যমেই। নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি ওল্ড ও নিউ টেস্টামেন্ট কপি করে কুরআন রচনা করেছেন?
প্রশ্নটা হলো—আপনিও জানেন যে, অনেকেই এই অভিযোগ করে থাকেন, যে কুরআন বাইবেল থেকে কপি করে তৈরি করা হয়েছে। আমরা অনেকভাবে এই অভিযোগ খণ্ডন করতে পারি, অথবা আপনি বলতে পারেন, মিথ্যা প্রমাণ করতে পারি। আমরা একটি প্রধান বিষয় বলতে পারি কুরআন বাইবেল থেকে কপি করা হয়নি, কারণ নবী মুহাম্মদ (সাঃ) তিনি পড়তে ও লিখতে জানতেন না। তাই, যদি তিনি লিখতে চাইতেনও, তবে তিনি বাইবেল পড়ে তা কপি করতে পারতেন না। এটাই প্রথম পয়েন্ট। সুতরাং কুরআনে ৭ নম্বর সূরার ১৫৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে— তিনি ছিলেন একজন উম্মী নবী—যিনি পড়া-লেখা জানতেন না। দ্বিতীয় যে পয়েন্টটা বলা যায় তা হলো—তাঁর সময় আরবিতে কোনো সম্পূর্ণ বাইবেল ছিল না যেটা তিনি পড়ে কপি করতে পারতেন। ওল্ড টেস্টামেন্টের প্রথম অনুবাদ সমাপ্ত হয়েছিল আনুমানিক ৯০০ খ্রিস্টাব্দে, সেটা করেন একজন ইহুদি পণ্ডিত, যার নাম ছিল সাদিয়্যাহ গাওন। অতএব, নবী মুহাম্মদ (সা.) এর সময়, অর্থাৎ ৭ম শতাব্দীতে, ইহুদি বাইবেল আরবিতে অনূদিতই হয়নি। আর নিউ টেস্টামেন্ট সম্পূর্ণভাবে অনুবাদই হয়নি, ১৬শ শতাব্দীর আগে পর্যন্ত। সুতরাং সম্পূর্ণ বাইবেল আরবিতে ছিল না। যাতে নবী মুহাম্মদ (সাঃ) তা কপি করতে পারতেন, তাই তো?
এটা আরবিতে অনূদিতই ছিল না। তৃতীয় যে বিষয়টি আমরা বলতে পারি তা হলো, বাইবেলে কিছু অংশ আছে যা কুরআনে নেই, আবার কুরআনের কিছু অংশ বাইবেলেও নেই। আমি এর মানে কী বলছি?
কুরআনে ফেরাউনের কাহিনী উল্লেখ আছে। বাইবেলেও ফেরাউনের গল্প বলা হয়েছে, কিন্তু কুরআন সেই কাহিনীকে সম্পূর্ণ করেছে। উদাহরণস্বরূপ, বাইবেলের 'এক্সোডাস' অধ্যায় ৩-এ আছে, ফেরাউন ও তার বাহিনী মুসা (আঃ)-কে ধাওয়া করে এবং তারা ডুবে যায়। কুরআনেও একই কাহিনী আছে, কিন্তু কুরআনে আরও বলা হয়েছে, ফেরাউন ডুবে যাওয়ার পর, তার দেহকে সংরক্ষণ করা হবে পরবর্তী মানুষের জন্য নিদর্শন হিসেবে। এখন আমরা সেই ফেরাউনের দেহ আবিষ্কার করেছি, আর অটপসির মাধ্যমে জানা গেছে, এই ফেরাউনই মুসার সময়কার ফেরাউন। তাহলে দেখা যাচ্ছে, কুরআনে আরো তথ্য রয়েছে। তাহলে যদি নবী (সাঃ) কপি করে থাকেন, এই অতিরিক্ত সঠিক তথ্যটা তাকে কে দিয়েছে? যেটা আজকের যুগের গবেষকেরা এখন আবিষ্কার করেছেন। দ্বিতীয়ত, কুরআন আর কী নিয়ে কথা বলে?
নূহ (আঃ) ও প্লাবনের কথা। বাইবেলেও প্লাবনের কথা আছে, কুরআনেও আছে। কিন্তু বাইবেলের মতে, এটা ছিল একটি বৈশ্বিক প্লাবন। 'জেনেসিস' এর অধ্যায় ৭, শ্লোক ২১-এ বলা হয়েছে, পৃথিবীর সব কিছু পানিতে নিমজ্জিত হয়েছিল। সবাই ধ্বংস হয়েছিল, শুধু নৌকায় থাকা লোকজন ছাড়া। 'জেনেসিস' এর অধ্যায় ৭, শ্লোক ২১ এটাই বলে, যা ওল্ড টেস্টামেন্টের অংশ। কিন্তু কুরআন প্লাবনের কথা বলেছে, তবে কুরআন বলেছে সেটা ছিল একটি স্থানীয় প্লাবন। শুধু সেই মানুষরাই, যারা নূহ (আঃ)-এর বিরোধিতা করেছিল, তাঁর শিক্ষাকে উপহাস করেছিল এবং আল্লাহর পথ থেকে সরে গিয়েছিল, তারাই ছিল আল্লাহর শাস্তিপ্রাপ্ত। এটা ছিল একটি স্থানীয় বন্যা। এখন আপনার কাছে আছে কুরআনের গল্প, বাইবেলের গল্প দুটোই আছে। আধুনিক প্রত্নতত্ত্ববিদরা এখন কুরআনের কাহিনীকেই সমর্থন করছে। বিজ্ঞানও কুরআনের গল্পকে সমর্থন করে, ঠিক না?
তৃতীয় বিষয় হলো, সেই অতিরিক্ত তথ্য কে দিয়েছিল নবী মুহাম্মদ (সাঃ)-কে? তৃতীয়ত, আমরা বলতে পারি, কুরআনে বৈজ্ঞানিক তথ্য রয়েছে। ৫০০-রও বেশি বৈজ্ঞানিক তথ্য, কোনো ভুল নেই। বাইবেলে এই তথ্যগুলো নেই, কিন্তু কুরআনে আছে। তাহলে যদি কুরআন বাইবেল থেকে অনুলিপি করে থাকত, তবে এই অতিরিক্ত বৈজ্ঞানিক তথ্য কে দিল কুরআনকে? তাই এটাও একটা বড় প্রমাণ, তাই না? আমি একটা সহজ উদহারণ দিতে পারি—ধরুন, দুজন শিক্ষার্থী আছে। ধরা যাক, ডেভিড পেয়েছে D গ্রেড, আর বিল পেয়েছে B গ্রেড। সহজ উদাহরণ, তাই না? এখন ধরুন, চূড়ান্ত পরীক্ষায় ডেভিড বসে আছে বিলের পাশে, এবং বিলের সব উত্তর সে অনুলিপি করছে। এবং বিল পেল B গ্রেড, ধরুন ৮০%। তাহলে ডেভিড কত পাবে বলে মনে করেন? সে যদি হুবহু সব উত্তর কপি করে? সে-ও B গ্রেড পাবে, তাই না?
কারণ ডেভিড শুধু সঠিক উত্তর নয়, ভুল উত্তরেরও অনুলিপি করেছে। তাই যদি কুরআন বাইবেল থেকে অনুলিপি করে থাকত, তবে বাইবেলের ভুলগুলোকেও কুরআনে থাকা উচিত ছিল, বিভ্রান্তিকর কথাগুলোও থাকত, কিন্তু কুরআনে তা নেই। কুরআনে কোনো ভুল নেই, অথচ বাইবেলে অনেক ভুল রয়েছে। তাহলে কে শুধুমাত্র সঠিক জিনিসগুলো গ্রহণ করেছে, এবং কে সঠিকভাবে সংযোজন করেছে?
এখন বিজ্ঞানও তা প্রমাণ করে। এই কারণেই আমরা বলি, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে, পুরাতত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে, ধর্মগ্রন্থভিত্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে, এবং ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকেও, কুরআন এসেছে স্বতন্ত্রভাবে এবং বাইবেল থেকে কপি করা হয়নি। কিন্তু তারপরেও কেউ কেউ বলতেই পারে, কুরআন ও বাইবেলের মধ্যে কিছু মিল আছে। এই কারণেই অনেকে বলে, এটি কপি করা হয়েছে। আমি তাদের এই কথাটি বলি বাইবেলও এসেছে কুরআনের মতো একই উৎস থেকে, অর্থাৎ আল্লাহর কাছ থেকে কিন্তু বাইবেলে পরিবর্তন আনা হয়েছে, যদিও আগের কিছু অংশ রয়ে গেছে। তারপর আল্লাহ প্রেরণ করেছেন চূড়ান্ত বার্তা আর কুরআনেও বাইবেলের সঙ্গে কিছু মিল রয়েছে। তাই এক গ্রন্থ অন্য গ্রন্থ থেকে কপি করেছে ব্যাপারটা এমনটা নয়, তাদের উৎস একই, আল্লাহ। চলুন আমরা বিষয়টা যুক্তির সমাপ্তিতে নিয়ে যাই, ঠিক আছে?
যদি কেউ বলে কুরআন বাইবেল থেকে কপি করা হয়েছে, তাহলে আমরাও বলতে পারি—ঠিক আছে, নিউ টেস্টামেন্টের সাথে ওল্ড টেস্টামেন্টের মিল আছে, তবে কি আমরা বলবো, খ্রিস্টানরা কি এটাতে একমত যে খ্রিস্টান লেখকরা ইহুদি লেখকদের থেকে কপি করেছেন? তারা কি ইহুদি লেখকদের লেখা চুরি করেছেন? আমরা কি এখানেই থেমে যাব? ওল্ড টেস্টামেন্টের হিন্দু বেদের সঙ্গে মিল আছে। তাহলে কি আমরা বলব, জানো কী? ওল্ড টেস্টামেন্টের লেখকরা হিন্দুদের থেকে কপি বা চুরি করেছেন? সেখানেওবা কেন থামবো? হিন্দু বেদের সাথে ব্যাবেলীয় ধর্মগ্রন্থের সঙ্গে মিল রয়েছে। তাহলে বলুন, কোথায় গিয়ে আমরা থামবো?
আমরা যা বলতে পারি তা হলো, কুরআন এসেছে স্বতন্ত্রভাবে একই উৎস আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর বাইবেলেও কিছু অবশিষ্ট অংশ রয়েছে, যেগুলোও এসেছে আল্লাহর কাছ থেকেই। যেহেতু উৎস একই, তাই কিছু মিল দেখা যায়। না যে একজন অন্যজনকে কপি করেছে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ইহুদিরা মসীহ বা খ্রিস্টের জন্য অপেক্ষা করেছে। কিন্তু যীশু যখন এলেন, তারা তাঁকে অস্বীকার করল। এবং ধর্মগ্রন্থগুলোতেও নবী মুহাম্মদের (সাঃ) আগমনের কথা বলা হয়েছে। তাদের নিজস্ব ধর্মগ্রন্থেই। কিন্তু যখন খ্রিস্টানরাও নবী মুহাম্মদকে অস্বীকার করে, তবে কি তারা সেই ইহুদিদের মতো আচরণ করছে না? হ্যাঁ, কিছু মিল তো থাকবেই। খ্রিস্টানরা কেন নবী মুহাম্মদ (সাঃ)-কে অস্বীকার করছে? আর কেন ইহুদিরা শুধু যীশুই নয়, নবী মুহাম্মদকেও অস্বীকার করল?
আপনি জানেন, ইহুদি পণ্ডিতরা তারা মসীহ সম্পর্কে নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্য খুঁজত। মসীহ হবেন দাউদের মতো একজন রাজা। মসীহ হবেন একজন সামরিক নেতা। মসীহ সামরিক ক্ষমতার মাধ্যমে শাসন করবেন, তাই না?
একটি বিশাল সাম্রাজ্যের শাসক হবেন। তাই যখন তারা যীশুকে এমন একজন হিসেবে দেখল, যেন তিনি“দুর্বল” তাঁকে মানুষ উপহাস করত, প্রত্যাখ্যান করত, তাঁর কোনো সেনাবাহিনী ছিল না, শক্তিও ছিল না। তাদের মনে তারা ভাবছিল এটা মসীহ হতে পারে না, কারণ তাদের বাইবেল অনুযায়ী, তারা ভেবেছিলো, মসীহের এসব বৈশিষ্ট্য থাকা বাধ্যতামূলক। এই কারণেই মূলত তারা যীশু বা ঈসা (আঃ)-কে প্রত্যাখ্যান করে। এরপর ইহুদি জনগণ নবী মুহাম্মদ (সাঃ)-কেও প্রত্যাখ্যান করে কারণ অনেক সময় তাদের মধ্যে অহংকার কাজ করে। তারা হয়ত ভেবেছে সব নবী এসেছেন ইসহাক (আঃ)-এর বংশধারা থেকে, এবং তারা ভাবত, তারাই আল্লাহর মনোনীত জাতি। ধর্মগ্রন্থ তাদের দেওয়া হয়েছে, নবীগণ তাদের মধ্যেই এসেছেন। তারা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জাতি। কিন্তু যখন তারা মুহাম্মদ (সাঃ) কে দেখল, তিনি আসছেন এমন এক বংশধারা থেকে যা ইসমাঈল (আঃ)-এর বংশধারা এবং আরবদের মধ্য থেকে। তাদের অহংকারের কারণে, দুঃখজনকভাবে, তারা অস্বীকার করল। যদিও তারা নিজেদের ধর্মগ্রন্থেই সেই নিদর্শন দেখতে পেয়েছিল। তবে কিছু ইহুদি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, কিন্তু মোটের ওপর তারা অস্বীকার করেছে এবং প্রত্যাখ্যান করেছে, যেমনভাবে তারা ঈসা (আঃ)-কে প্রত্যাখ্যান করেছিল। এখন খ্রিস্টানরাও মুহাম্মদ (সাঃ)-কে অস্বীকার করে, কারণ তাদের মতে, বাইবেল সম্পূর্ণ—এটি একটি পূর্ণাঙ্গ কাহিনী, তাদের মতে মুক্তি বা পরিত্রাণ তো বাইবেলেই পুরোপুরি বলা হয়ে গেছে, যীশু এলেন, তিনি মৃত্যুবরণ করলেন—এটাই গল্পের শেষ। নতুন কেউ আসবে না, বাইবেলের দিকনির্দেশনায় আর কিছু যোগ করার প্রয়োজন নেই। এই কারণেই তারা বলে বাইবেলই যথেষ্ট, যীশুই যথেষ্ট, দিকনির্দেশনা পূর্ণ, তাই নতুন কোনো রাসূলের প্রয়োজন নেই, নতুন কোনো নবীরও দরকার নেই। এই কারণেই তারা নবী মুহাম্মদ (সাঃ) কে অস্বীকার করে। কিন্তু আগেই যেমন বলা হয়েছে, অসংখ্য নিদর্শন রয়েছে, ওল্ড এবং নিউ টেস্টামেন্ট দুইটিতেই যথেষ্ট নিদর্শন রয়েছে নবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আগমনের ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে। তাই যদি কোনো আন্তরিক ইহুদী বা খ্রিস্টান সেসব ভবিষ্যদ্বাণীর দিকে ভালোভাবে নজর দেয়, তারা দেখতে পাবে বিস্ময়কর কিছু নিদর্শন যা নবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর মধ্যেই ছিলো, এবং তাঁর মাধ্যমে আল্লাহ যে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, যে একত্ববাদ আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে প্রেরণ করেছেন, ইনশাআল্লাহ, যদি তারা সত্যনিষ্ঠ ও আন্তরিক হয়, তবে তারাও তাঁকে নবী হিসেবে মেনে নেবে এবং ইসলাম ধর্ম অনুসরণ করবে, যা আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত। হয়তো কোনো খ্রিস্টান আপনাকে দেখছে এবং বলছে, ঠিক আছে, ইসলাম আমার কাছে যুক্তিসঙ্গত মনে হচ্ছে, কিন্তু আমি যিশুকে ছাড়তে চাই না। আমি যীশুকে অনেক ভালোবাসি, আমি তাঁকে ত্যাগ করতে চাই না। যদি আমি মুসলিম হই, তাহলে যীশুর সঙ্গে আমার সম্পর্কটা কী হবে?
আমি যদি মুসলমান হয়ে যাই? যদি কোনো খ্রিস্টান বলেন, ইসলাম ভালো লাগছে, আকর্ষণীয় মনে হচ্ছে, কিন্তু আমাকে কি যীশুকে হারাতে হবে? আমি যীশুকে ভালোবাসি। আমি বলব আপনি যিশুকে যেভাবে ভালোবাসেন, সেটার সাথে আরও কিছু যোগ করুন। তাই আপনার যীশুকে ত্যাগ করতে হবে না। আপনি বরং এখন যীশু যেমন ছিলেন তাঁকে তেমনই রাখছেন। তিনি একজন পরাক্রমশালী নবী ছিলেন। বাইবেল অনেকবার বলে যে তিনি একজন পরাক্রমশালী নবী ছিলেন, তাই না? ম্যাথিউ ১৩:৫৭, জন ৪:৪৪, মার্ক ৬:৪, লিউক ১৩:৩৩। তাই যদি আপনি যীশুকে ভালোবাসেন, তাহলে তিনি যা বলেন তা অনুসরণ করুন। তিনি একজন একেশ্বরবাদী মানুষ ছিলেন, আপনিও তাই করবেন, তাই না?
এবং এই সত্য মানবেন যে যীশু একজন নবী, কুরআনও একই কথা বলে, এবং আপনি যিশু যেভাবে পোশাক পরতেন সেভাবে পরবেন। তিনি দাড়ি রাখতেন, শালীন পোশাক পরতেন। আপনিও যেভাবে যীশু তাঁর শিষ্যদের বলতেন তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক সেভাবে বলবেন। মুসলিমরাও একই ভাবে বলে আপনিও তা আপনার মধ্যে ধারন করবেন। যীশু প্রায় ৪০ দিন, ৪০ রাত ধরে সিয়াম পালন করতেন তাও করবেন, মুসলিমরা যেভাবে সিয়াম পালন করে সেভাবে করবেন। এবং আপনি আরও যা গ্রহন করতে পারেন তার মধ্যে সবচেয়ে ভালো জিনিস হচ্ছে যীশু যেভাবে ইবাদত করতেন। তিনি সিজদা দিয়ে সৃষ্টিকর্তার ইবাদত করতেন। তিনি সৃষ্টিকর্তার উপর ভরসা করতেন। আপনি তাও গ্রহন করবেন কারন মুসলিমরাও তাই করে। তাহলে আপনি যীশুকে হারাচ্ছেন না, আপনি যীশুকে গ্রহন করছেন, বরং আরও কিছু যোগ করছেন, আরও ভালো কিছু, সৃষ্টিকর্তার প্রদান করা কিছু। যিশু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, কখনো মদ পান করেননি, কখনও শুকরের মাংস খাননি, কখনো রক্ত পান করেননি, কারণ তিনি ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ, আমি কি বলব, একজন মুসলিম, একজন নবী, তিনি আদেশ পালন করতেন যা অহির মাধ্যমে তাঁকে দেওয়া হতো, সৃষ্টিকর্তার নবী মূসাকে প্রদত্ত নির্দেশনার মত। তাই ওল্ড টেস্টামেন্টে বলা হয়েছে, শুকরের মাংস খাবে না ওল্ড টেস্টামেন্টের, লেভিটিকাসের বইয়ে আছে, রক্ত খাবেন না, এবং সেখানে অনেক আদেশ রয়েছে। এবং আল্লাহর নবী হিসেবে, যিশু বলেন, নিউ টেস্টামেন্টের, প্রথম গস্পেলেই, ম্যাথিউ এর গস্পেল, অধ্যায় ৫, পদ নম্বর ১৭ এবং তার পরে, আমি আইন-কানুন অথবা নবীদের ধ্বংস করতে আসিনি, আমি পরিপূর্ণ করতে এসেছি। যে কেউ ওল্ড টেস্টামেন্টের আইনের যেকোনো অংশ বাতিল মনে করে, সেই ব্যক্তি রাজ্যের সবচেয়ে নীচ হবে। কিন্তু যে কেউ আইন মেনে চলবে, সে রাজ্যের সর্বোচ্চ স্থান পাবে। আর সেই আইনগুলির মধ্যে একটি হল, শুকরের মাংস খেও না, রক্ত পান কর না, তাই না?
এবং যেসব শরী'য়াহ (ইসলামী আইন) আইন আমরা অনুসরণ করি, হালাল হারাম আইন। তো আপনি যদি যীশুকে ভালোবাসেন, আপনি সেগুলো পরিত্যাগ করবেন কারণ মুসলিমরাও এগুলো পরিত্যাগ করেছে। তাই যদি আপনি যীশুকে ভালোবাসেন, যীশুর বিশ্বাস অনুসরণ করুন। যিশুর বিশ্বাস ছিল ইসলাম এবং আমরা আপনাদের এবং সমগ্র মানবজাতিকে ইসলামের বিশ্বাসে স্বাগত জানাই। এতেই মুক্তি রয়েছে এবং এতেই আপনার জন্য কল্যাণ রয়েছে। জাযাকাল্লাহু খায়রান আপনাকে আপনার উত্তরের জন্য ধন্যবাদ, ভাই সাবিল আহমেদ। তাহলে ইসলামে নারী, শরী'য়াহ (ইসলামী আইন), জিহাদ ইত্যাদি। আমাদের আরও অনেক প্রশ্ন আছে যা খ্রিস্টানরা ইসলাম সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসা করে এবং এটি দ্বিতীয় ভিডিওতে থাকবে, ইনশাআল্লাহ। দেখা যাক ডঃ সাবিল আহমেদ আবার এত সহজে উত্তর দিতে পারবেন কিনা। তাহলে ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের সাথেই থাকুন এবং সাবস্ক্রাইব করতে ভুলবেন না। আস-সালামু আলাইকুম (আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক)।