Towards Eternity
ব্লগে ফিরে যান

"বন্ধুর ছুরিকাঘাতে মৃত্যুর মুখ থেকে ইসলামের পথে | আঁখি আয়মানের গল্প"

প্রকাশের তারিখ

YouTube-এ দেখুন

আমি কাজ থেকে ফিরে এসে এক বন্ধুকে দেখলাম। কিন্তু কয়েক মিনিট পর, আমি যখন চলে যাচ্ছিলাম, সে আমার পিঠে ছুরি মারে। আর ছুরিটা আমার পেট দিয়ে বের হয়ে আসে। আমি ঘুরে দাঁড়িয়ে তার সঙ্গে লড়ার চেষ্টা করলাম, কিন্তু আমি দুর্বল হয়ে পড়েছিলাম, কারণ আমার প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। যখন আমাকে হাসপাতালে নেয়া হোল, তিনি বললেন, “আমরা আপনার জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করছি। অথচ আপনি ফিরছেন না। আমরা ডিফিব্রিলেটর ব্যবহার করছি। ক্লিয়ার—আপনি ফিরছেন না।” তখন ডাক্তার সময়ের দিকে তাকালেন, আর বললেন, “মৃত্যুর সময় এসে গেছে।” ওয়াল্লাহি, তিনি আমার মাথার ওপর চাদর টেনে দিলেন। ঘর থেকে বের হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে, মেশিন আবার চালু হলো। বিপ, বিপ, বিপ। আমি কারাগারে ছিলাম। মনে আছে, আমার মা কারাগারে আমাকে দেখতে এসেছিলেন। আমি মাকে বলেছিলাম, “আপনি আমাকে আর কখনো দেখতে আসবেন না।” “কী বলছিস, আয়মান?

আমি তোর মা। আমার ভিজিট বাতিল করবি না!” মনে আছে, সেদিন আমার বোনের ফোন পেয়েছিলাম। আর আমার বোন বলছিল, “আয়মান, মা ভালো নেই!” আমার ভাইয়ের কাছ থেকেও ফোন আসছিল। “আয়মান, আমি এটা একবারই বলব, শুধু একবার...” কয়েক সেকেন্ড পর, আমি... কীভাবে... আমি নিজেকে সামলাতে পারছিলাম না! আসসালামু আলাইকুম, আখি আয়মান। Towards Eternity-তে আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনাকে আমাদের সঙ্গে পেয়ে আমরা খুব আনন্দিত। আমি শুরু করতে চাই: আখি আয়মান কে, অনুগ্রহ করে আপনার জীবন সম্পর্কে সংক্ষেপে বলবেন?

আমি ইরাক থেকে এসেছি, ৯/১১-এর কারণে কঠিন জীবন কাটিয়েছি। এরপর অপরাধজগতে জড়িয়ে পড়ি, কারাগারে যাই, বের হই, ছুরিকাঘাতের শিকার হই, তবুও আমার জন্য আশা ছিল। তারপর আমি নিজের পথ বদলাই, আর আল্লাহর দিকে ফিরে আসি। আর এখন আমি শুধু তরুণদের আরও ভালো কিছু করতে অনুপ্রাণিত করতে চাই। আমি আমার বাবা-মায়ের কাছে খুবি ভালো ছিলাম। আমি সবসময় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তাম, এটা কোনো সমস্যা ছিল না। আমি বাবা-মায়ের প্রতি সম্মানশীল ছিলাম। আমার বাবা-মা আমাকে ভালোবাসতেন, এখনও ভালোবাসেন—আশা করি। কিন্তু রাস্তার বিষয়গুলো নিজেকেই সামলাতে হতো। আর এটা ছিল লন্ডনের রাস্তা। ইংরেজি বলতে না পারার কারণে আমাকে বুলিং করা হতো, ৯/১১-এর কারণে আক্রমণ করা হতো। আর এই প্রক্রিয়ায়, আমার মনে হয় ১৪-১৫ বছর বয়সে, ঝামেলা শুরু হয়। আর গুরুতর ঝামেলা। এগুলো ছোটখাটো অপরাধ ছিল না। সবসময়ই ছিল সহিংসতা। আর সময়ের সাথে সাথে, আমরা নানা পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়ি, আপনি তো জানেনই ১১ সেপ্টেম্বর কী হয়েছিল। তাই আমি আর আমার ভাইয়েরা, আমরা কখনো গ্যাংয়ে ছিলাম না। আমরা এমন মানুষ ছিলাম না, যারা বাইরে গিয়ে খ্যাতি পেতে চাইত, অথবা নিজেদের নাম কামাতে চাইতাম। আমি এমন এক এলাকা থেকে এসেছি, যেখানে প্রতিটি এলাকা, প্রতিটি ব্লক, প্রতিটি হাউজিং এস্টেটে নাম বলার মতো কোনো না কোনো গ্যাং সদস্য ছিল, আর আমরা ছিলাম মাঝখানে। যাদের সঙ্গে আমাদের কোনো সমস্যা ছিল না, তারাই এসে আমাদের আক্রমণ করত। নিরন্তর যুদ্ধ, একের পর এক লড়াই। প্রতিদিনই ছিল একেকটা যুদ্ধ। কখনো বুঝতে পারতাম না শত্রু কোথা থেকে আসবে। তাই আমরা নিজেদের রক্ষা করতাম। এই প্রক্রিয়ায়, আমরা পুলিশের ঝামেলায় পড়তাম, কারাগারে যেতাম, আর সেখান থেকে শিক্ষা নিতাম। আপনি কি আমাদের সেই মুহূর্তে নিয়ে যেতে পারেন, যখন আপনি বলেছিলেন, “একটু থামি, আমি কী করছি?” যেদিন আপনার জীবন বদলাতে শুরু করে?

মনে আছে, আমি প্রায় দুই বছর, দুই বছরের বেশি সময় কারাগারে ছিলাম, সেই সময়ের কথা। মনে আছে, আমার মা আমাকে দেখতে কারাগারে এসেছিলেন। কারাগারে যাওয়ার প্রায় এক বছর পরের ঘটনা। তখনও মাকে দেখিনি। শুধু ফোনে কথা বলতাম। তারপর মা কারাগারে এলেন, আর মনে আছে, তাঁকে হিজাব পরা অবস্থায় দেখেছিলাম, আবায়া পরা—ফরহেজগার এক নারী, আল্লাহকে ভয় করেন এমন একজন নারী। মনে আছে, তাঁকে এমনভাবে দেখলাম, আর তাঁকে তল্লাশি করা হচ্ছিল, মূলত তাঁকে সার্চ করা হচ্ছিল। তারা তাঁকে তল্লাশি করছিল। সেই মুহূর্তে আমি যখন মাকে দেখলাম, আর তিনি যখন আমাকে দেখতে এলেন, আমি তাঁকে জড়িয়ে ধরতে পারিনি, চুমু দিতে পারিনি, কারণ মাঝখানে কাচের জানালা ছিল। এমনকি আমি আমার মায়ের ঘ্রাণও নিতে পারিনি। আর মনে আছে, আমি মাকে কাঁদতে দেখেছিলাম। ওটাই ছিল...

ওটাই ছিল বদলের মুহূর্ত, আমার জন্য মোড় ঘোরানোর সময়, যখন আমি নিজেকে বলেছিলাম, “আমি যখন কারাগার থেকে বের হব, বাবা-মাকে গর্বিত করব। আমি চাকরি করব। আমি ভালো ছেলে হব। আমি বাবা-মাকে গর্বিত করব। আমি চাকরি করব, কাজ করব, তাদের টাকা দেব, আর ইসলামি পড়াশোনাকে গুরুত্বের সঙ্গে নেব।” আমি মাকে বললাম, “আপনি আর কখনো আমাকে দেখতে আসবেন না। আমি পারব না। আপনাকে এভাবে আমাকে দেখতে আসতে দেখতে পারব না।” আর মনে আছে, আমি তাঁর মুখটা দেখছিলাম, মা আমাকে বলছিলেন, “তুই কী... কী বলছিস, আয়মান?

আমি তোর মা। আমার ভিজিট বাতিল করিস না। আমি আসব, আমি আসব।” আমি বললাম, “না, মা।” তিনি যখনই করতেন, আমি বাতিল করে দিতাম। বাতিল করতাম। তারপর তিনি চলে যাওয়ার পর, আমি আমার সেলে, আমার রুমে ফিরে গেলাম, আর আল্লাহর কাছে কাঁদতে শুরু করলাম। “আমি দুঃখিত, ইয়া রব। আমি দুঃখিত। বাবা-মাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য দুঃখিত। আপনার অবাধ্য হওয়ার জন্য দুঃখিত। বিষয়গুলো নিজের হাতে তুলে নেওয়ার জন্য দুঃখিত। প্রতিশোধ চাইবার জন্য দুঃখিত। নিজের খেয়ালখুশির পেছনে চলার জন্য দুঃখিত।” আপনি তো একজন ছেলে, আমি আমার মাকে মিস করতাম। তাঁর আলিঙ্গন, তাঁর রান্না, তাঁর চুমু—সব মিস করতাম... কীভাবে বলব? তিনি আমার রুমের পাশ দিয়ে হাঁটতেন আর আমাকে বলতেন, “আয়মান, শুভরাত্রি।” বুঝতে পারছেন?

আমি তখন সেলে ছিলাম। আমি আবার অজু করলাম, দুই রাকাত নামাজ পড়লাম, আর বললাম, “তাওবা ইয়া রব, আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাই, আমি দুঃখিত। যাদের আমি কষ্ট দিয়েছি, তাদের জন্য দুঃখিত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, নিজের বাবা-মাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য দুঃখিত। কারণ তারা কারাগারে এসে আমাকে দেখার যোগ্য নন। তারা একজন ভালো ছেলেকে বড় করেছেন, আর আমি ভালো ছেলে। কিন্তু আমি শুধু ‘না’ বলতে জানতাম না।” কখনো কখনো আল্লাহর সঙ্গে কথা বলতে আপনাকে কিছু বলতেই হয় না। আল্লাহর কাছে যে নীরব দোয়া করেন, সেটাই সবচেয়ে জোরালো হয়ে ওঠে। আর সেই মুহূর্তে আমার অবস্থা ছিল এমনই, সেই নীরব দোয়া, যা শুধু আপনার আর আল্লাহর মধ্যে থাকে, সেটাই সবচেয়ে উচ্চস্বরে পৌঁছে যায়। কারণ আপনাকে কিছু বলতে হয় না। আল্লাহ জানেন আপনার হৃদয়ে কী আছে। যেদিন অবশেষে আমি পরিবারের সঙ্গে মিলিত হলাম, মনে আছে, আমার বড় ভাই আমাকে নিতে এসেছিলেন। বড় ভাই আমাকে নিতে আসার সময়, আমার মা জানতেন না, বাবা-মা কেউ জানতেন না। আমি কারাগার থেকে বের হয়ে সরাসরি প্রোবেশনে গেলাম, শুধু সাইন করতে। তারপর প্রোবেশন থেকে সরাসরি বাড়ি গেলাম। তারা জুমার নামাজ থেকে ফিরলেন। সেদিন জুমার নামাজ ছিল, তারা মাত্র নামাজ শেষ করেছিলেন। তারপর তারা বাড়ি ফিরলে, আমি বললাম, “সারপ্রাইজ!” তারপর মা-বাবা কাঁদতে শুরু করলেন, আমরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরলাম, মা খাবার বানালেন, আহ, ব্যাপারটা একেবারে অসাধারণ ছিল। আর মনে আছে, আমি বামিয়া আর দোলমা খাচ্ছিলাম। আহ, সেটা ছিল সেরা। তাহলে যেদিন আপনি আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন, সেদিনের কথা বলবেন?

আমার মনে হয় ছুরিকাঘাত হয়েছিল। হ্যাঁ, আমাকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল দুইবার, দুই আলাদা ঘটনায়। প্রথম ঘটনা ছিল ২০১৪ সালের মে মাসের দিকে। আমি তখন সদ্য কারাগার থেকে বের হয়েছি, ডেন্টিস্টের অ্যাপয়েন্টমেন্টে যাচ্ছিলাম, একজনের সঙ্গে দেখা হলো, যার সঙ্গে আমার সমস্যা ছিল। সে গ্যাংয়ে ছিল। কিন্তু ট্রেন আসার পর, সে যখন ট্রেন স্টেশন ছেড়ে যাচ্ছিল, কারণ সে ট্রেন থেকে নেমে যাচ্ছিল, সে আসা আরেকজনকে একটি ছুরি দিল, আর সে আমার পায়ে ছুরি মারে। এটাই ছিল আমার প্রথম ছুরিকাঘাত। দ্বিতীয় ছুরিকাঘাত, কয়েক মাস পর আগস্টে, করেছিল এক বন্ধু। তখন কাজ থেকে ফিরছিলাম আমি, এক বন্ধুকে দেখলাম। আমি সরাসরি তার দিকে এগিয়ে গেলাম। তাকে দেখার পর, আমরা কথাবার্তা বলতে লাগলাম। কয়েক মিনিট পর, আমি যখন ফিরে যাচ্ছিলাম, সে আমার পিঠে ছুরি মারে। আর ছুরিটা আমার পেট দিয়ে বের হয়ে আসে। এটা ছিল বড় ছুরি। সে আমাকে ছুরি মারে, তৎক্ষণাৎ আমি ঘুরে দাঁড়িয়ে তার সঙ্গে লড়ার চেষ্টা করি, কিন্তু আমি দুর্বল হয়ে পড়েছিলাম, কারণ আমার প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। আর ছুরিটা, মানে, বড় ব্লেড ছিল, কিন্তু ছুরিতে ছোট ছোট কাঁটা ছিল। তাই ঢোকার সময় মসৃণভাবে ঢুকে যায়, কিন্তু বের হওয়ার সময়, ওই কাঁটার কারণে, শরীরের অংশ, ভেতরের অংশগুলোও সঙ্গে টেনে বের করে আনে। তারপর সে পালিয়ে যায়, আমি কোনমতে একটা দোকানের সামনে গিয়ে বললাম, “দয়া করে অ্যাম্বুলেন্স ডাকুন, আমাকে ছুরি মারা হয়েছে,” তারপর আমি সেখানে মেঝেতে পড়ে যাই। যখন আমি হাসপাতালে গেলাম, ডাক্তার অপারেশনের আগে বললেন, “আমরা যখন ভাবছিলাম আপনি ঠিক আছেন,” তিনি বললেন, “আপনার হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যায়। তাই আমরা আপনাকে সার্জারি রুমে নিয়ে যাই। আমরা আপনার জীবন ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। আপনি ফিরছেন না। আমরা ডিফিব্রিলেটর ব্যবহার করছি। ক্লিয়ার—আপনি ফিরছেন না।” তখন ডাক্তার সময়ের দিকে তাকালেন, আর বললেন, “মৃত্যুর সময় এসে গেছে।” ওয়াল্লাহি, তিনি আমার মাথার ওপর চাদর টেনে দিলেন। আর তিনি ঘর থেকে বের হতে যাচ্ছিলেন, আমার মা, বাবা, ভাই, বন্ধুদের জানাতে যে আয়মান মারা গেছে, সে ইন্তেকাল করেছে। ঘর থেকে বের হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে, মেশিন আবার চালু হলো। বিপ, বিপ, বিপ। -সুবহানাল্লাহ। এটা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার এক রহমত। এটা দেখিয়ে দেয় যে এই দুনিয়ার মেশিনগুলো, এই পৃথিবীর যন্ত্রগুলো, আপনার জীবন ফিরিয়ে দিতে পারে না। আল্লাহই আপনাকে জীবনে ফিরিয়ে আনেন। আর ওই ডাক্তার মুসলিম ছিলেন না, খ্রিস্টানও না, তিনি আল্লাহতে বিশ্বাসও করতেন না। কিন্তু এটা তাঁর চোখ খুলে দিয়েছিল। হ্যাঁ!

তিনি বলেছিলেন, “ডাক্তার হিসেবে ৪০ বছরে আমি এমন ঘটনা কখনো দেখিনি।” তারা আমার মা, আমার ছোট বোনকে নিয়ে হাসপাতালে এলেন। আর ১৮ ঘণ্টার সার্জারির পর, আমি নয় দিন লাইফ সাপোর্ট মেশিনে ছিলাম। যখন জেগে উঠলাম, মনে আছে আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। মনে আছে, যখন ঘুম ভেঙে জেগে উঠি, ডাক্তারকে, ডাকতে বলছিলাম, আমি নার্সকে বললাম, “ডাক্তারকে ডাকুন,” তিনি আমার পেটে কিছু রেখে গেছেন!

আপনারা কী করছেন?” তখন তারা আমাকে বলল, “আয়মান, আপাতত আপনাকে এটা নিয়েই থাকতে হবে, কিছু সময়ের জন্য, তারপর আমরা দেখব, এটা ফিরিয়ে স্বাভাবিক করা যায় কি না।” তাই বর্তমানে আমার পেটে একটি ব্যাগ নিয়ে বােচে আছি। এই জায়গায় আমার একটি ব্যাগ আছে, যার অর্থ, আমি স্বাভাবিকভাবে টয়লেটে গিয়ে পায়খানা করি না। আর আমার ব্যথা আছে। আমি সবসময় ব্যথা পাই। ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে ৭ দিন। এখনও ব্যথা হচ্ছে। কিন্তু আমার শরীর এতে এত অভ্যস্ত হয়ে গেছে, আমি জানি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, মানুষকে না দেখিয়ে যে আমি কী অনুভব করছি। তাই আমি অনেক মজা করি, অনেক হাসি, অনেক ঠাট্টা করি, যাকে তারা ব্যান্টার বলে। এগুলো আমাকে ব্যথা ভুলিয়ে রাখে। এই ছুরিকাঘাতের কিছু সময় পর, আমাকে অপহরণ করা হয়। কিছু শত্রু আমাকে তুলে নিয়ে যায়। আর তারা যে নির্যাতন, যে যন্ত্রণা আমাকে দিয়েছিল, তার ফলেই আমার পেটের অনেক অংশ অপসারণ করতে হয়েছে, আমার অন্ত্রের অংশও অপসারণ করতে হয়। তারপর ডাক্তার বললেন, “এখন এটা আপনার সারাজীবনের জন্য।” এই প্রক্রিয়ায় ডাক্তার আরও বললেন, আমি কখনো সন্তান নিতে পারব না, কারণ তারা আমার যে কি পরিমান ক্ষতি করেছে। তাই আল্লাহ আমাকে পরীক্ষা করেন। কিন্তু আমি তাকে ছেড়ে দিয়েছি। ওয়াল্লাহি, ছেড়ে দিয়েছি। ওয়াল্লাহি, আমি জানতাম, আমি তাদের চিনতাম। আমি জানতাম কীভাবে তাদের কাছে পৌঁছাতে হয়। আমি জানতাম তারা কোথায় থাকে। আমি জানতাম তারা কোথায় ঘোরে, কোথায়...

সুবহানাল্লাহ, তাদের মায়ের গাড়ি কী—তাও জানতাম! কিন্তু আমি বিষয়টা আল্লাহর হাতে ছেড়ে দিয়েছি। আমি তার বন্ধু ছিলাম। আমরা একই স্কুলে পড়েছি। সত্যি বলতে, তাকে যতই ঘৃণা করি, যতই তাকে আঘাত করতে চাই, প্রতিশোধ নিতে চাই— আর প্রতিশোধ ইসলাম থেকে নয়... কিন্তু ধরুন, যদি আল্লাহ তাকে ইসলামে নিয়ে আসেন, আমি তাকে জড়িয়ে ধরব, চুমু দেব। আমি তাকে নিজের ভাইয়ের মতো ভালোবাসব, কারণ ইসলাম আপনাকে শেখায় মতভেদ পাশে সরিয়ে রাখতে। আমার কিছু শত্রু ছিল, কিন্তু এখন সেই শত্রুরাই আমার বন্ধু। তারা আমার ভাই। কেন? কারণটা হচ্ছে, আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ!

দ্বীন আপনাকে আগে রাখে। আপনার রক্ত কী, আপনার গায়ের রং কী—তা আমাদের দেখার বিষয় নয়। আপনি কালো, সাদা, নীল, সবুজ—যাই হোন। আমরা মুসলিম, আর ইসলাম আমাদের একত্র করে। আমি এমন একজনকে চিনতাম, দেখা হলেই আমরা একে অপরকে মারার চেষ্টা করতাম। সে মুসলিম হওয়ার মুহূর্তেই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে। ওয়াল্লাহিল আযিম, সে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে, “ইয়া আয়মান, আসসালামু আলাইকুম আয়মান, তোমাকে শুধু জানাতে চাই, আমি মুসলিম হয়েছি। তোমার সঙ্গে দেখা হলে ভালো লাগবে।” আমি মনে মনে ভাবছিলাম, “এই লোক মিথ্যাবাদী। যে প্রথমে আমাকে ছুরি মেরেছিল, সেও বলেছিল সে মুসলিম। এই লোক কী বলছে?” কিন্তু এখন আমি তার খুব ভালো বন্ধু। আপনি কি আপনার মায়ের শেষ দিনগুলো কীভাবে কাটল এবং তিনি কীভাবে মারা গেলেন, যদি ব্যক্তিগত না হয়, বলতে পারেন?

মনে আছে, সেটা ছিল ২০২২ সাল। আমার মা আর আমার দুই ভাই, তারা মদিনায় সময় কাটালেন, তারপর মক্কায় গেলেন। মনে আছে, সেদিন আমার বোনের ফোন পেয়েছিলাম। আর আমার বোন বলছিল, “আয়মান, মা ভালো নেই। দোয়া করো।” আমি বললাম, “দেখো, আমি এখন লেকচারে ঢুকতে যাচ্ছি, খুতবা দিতে যাচ্ছি, পরে তোমার সঙ্গে যোগাযোগ করব। তবে আমি দোয়া করব।”তো খুতবার সময়, লেকচার দিতে দিতে, আমার ভাইয়ের ফোন আসছিল। তারপর আমার স্ত্রী ফোন করছে। তারপর আমার বোন ফোন করছে। তারপর বড় বোন ফোন করছে। সবাই আমাকে ফোন করছে। আমার মন যেন জানত, কিন্তু হৃদয় তা মানতে চাইছিল না। তারা আমাকে জানানোর জন্য ফোন করছিল। আমার মা মক্কায় গিয়েছিলেন, তিনি উমরাহ করছিলেন, আর উমরাহ অবস্থাতেই তিনি ইন্তেকাল করেন। তারপর মনে আছে, আমি আমার সেই ভাইয়ের ফোন ধরলাম, যে তাঁর সঙ্গে ছিল। ফোন ধরার সময় আমি ভেবেছিলাম এটা ভালো খবর। তাই, আলহামদুলিল্লাহ। আমার ভাই আমাকে ফোন করছে। সে ভিডিও কলে কেন ফোন করছে?

হয়তো আমাকে মাকে দেখাবে, তাই না? মনে আছে, আমি ভাইকে দেখলাম। ভাই বলল, “আয়মান, আমি এটা একবারই বলব, শুধু একবার... আমাদের মা... আল্লাহর কাছে ফিরে গেছেন।” তারপর সে ফোন কেটে দিল। এটা ছিল একটি বক্তৃতার সময়, আর সেটি রেকর্ড হচ্ছিল, আর মনে আছে, আমার মনে হয়, আমি খুশি যে পুরো ভিডিওটি প্রকাশ হয়নি, কারণ কয়েক সেকেন্ড পর আমি... কীভাবে... আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। আলহামদুলিল্লাহ, কিন্তু... তিনি ছিলেন অসাধারণ একজন নারী। প্রথমবার মক্কায় গিয়েছিলেন। প্রথমবার উমরাহ করছিলেন। প্রথমবার। তিনি মক্কা ও মদিনায় থাকার পুরো সময়, আমি তাঁর সঙ্গে কথা বলিনি। কিন্তু যেদিন, ফেরার আগের দিন...

ফেরার আগের দিন, তিনি আমাকে একটি ভয়েস নোট পাঠান। “আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু, আয়মান...” তিনি বললেন, “আয়মান, আমি শিগগিরই ফিরে আসছি, এটার মাপটা আমাকে দাও, যেন আমি এটা সঙ্গে করে নিয়ে আসতে পারি।” এটাই ছিল আমার সঙ্গে তাঁর শেষ কথা। আহ, ইয়া রব। আলহামদুলিল্লাহ। তাঁর মৃত্যুর আট-নয় মাস পর, মনে আছে, তিনি আমার স্বপ্নে এলেন, আর বললেন, “তুমি কি আমাকে ভুলে গেছ, আয়মান?” আমি কাছে যাচ্ছিলাম, কিন্তু যতই কাছে যাচ্ছিলাম, তিনি তত দূরে, আরও দূরে সরে যাচ্ছিলেন, আর আমি তাঁর মুখ দেখতে পারছিলাম না। তাঁর মুখ জুড়ে শুধু আলো। আমি তাঁর মুখ দেখতে পারছিলাম না। কিন্তু আমি তাঁর দিকে দৌড়াতে চাইছিলাম, তিনি শুধু পিছিয়ে যাচ্ছিলেন, যেন চলে যাচ্ছেন। জানেন, এটা আমাকে কী মনে করিয়ে দিয়েছিল?

আমি কখনো কখনো তাঁর জন্য দোয়া করতে ভুলে যাই। তাই তিনি আমার স্বপ্নে এসে বললেন, “আয়মান, তুমি কি আমাকে ভুলে গেছ?” -সুবহানাল্লাহ। ওয়াল্লাহি, এমন এক সময় আসবে, যখন আপনি কামনা করবেন, আপনার বাবার একটি ফোন আসুক, আপনার মায়ের একটি ফোন আসুক, শুধু ধরবেন আর বলবেন, “জি মা। জি বাবা, কী লাগবে বনুন? আপনার জন্য কোথায় যাব? আপনার জন্য কী আনব? মা, কোন দোকানে যেতে হবে? বলুন, আপনার কী লাগবে? আমি গিয়ে করে আসব।” দেখুন, আমি আর সেই ফোন পাই না। আমার মা চলে গেছেন। আপনার বাবা-মাকে সম্মান করুন, সম্মান করুন। কুরআনে বলা হয়েছে, আপনি বাবা-মাকে “উফ” শব্দটিও বলতে পারবেন না। শুনেছি আপনি বেশ অল্প বয়সে বিয়ে করেছেন। আপনি আপনার জীবনসঙ্গীর সঙ্গে কীভাবে দেখা করলেন, আর সেই যাত্রাটা আপনার জন্য কেমন ছিল?

আমার স্ত্রীকে পাওয়া, আর আমরা যে সংস্কৃতিতে থাকি, সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারা— আমরা কুর্দি-ইরাকি পটভূমি থেকে এসেছি। তারা চায় আপনি নিজেদের জাতির কাউকে বিয়ে করুন। তাই আমি এমন একজনকে বিয়ে করেছি, যিনি আমার সম্পূর্ণ বিপরীত। আমি আমার বাবা-মাকে খুশি করতে পারিনি, একজনকে পেরেছিলাম, হ্যাঁ, কারণ তারা শুধু চাইতেন আমি সুখী হই। অন্যজন তা মেনে নেননি, কিন্তু এটা তাদের জন্য নয়। আমি সবকিছু ইসলামি নিয়মে সঠিকভাবে করছি। আপনি আমাকে “না” বলতে পারেন না। আপনাকে ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে বলতে হবে, কেন আমি এই মানুষটিকে বিয়ে করতে পারব না। তাই আলহামদুলিল্লাহ, আমি বিয়ে করেছি। আমি এটাকে এমন কিছু হিসেবে নিয়েছি, যা ইনশাআল্লাহ, আমার জন্য সাদাকার একটি রূপ হবে, এমন এক শিশুর দেখাশোনা করা, যে আমার নিজের সন্তান নয়। যে সন্তান আমাকে বলা হয়েছিল আমি কখনো পেতে পারব না, আর আল্লাহ আমার জন্য এমন এক নারীর মাধ্যমে একটি দরজা খুলে দিলেন, যার একটি সন্তান আছে...

মনে হলো, ওহ আল্লাহ, আপনিই এটা আমার জন্য বেছে নিয়েছেন। আপনি এটা আমার জন্যই বেছে নিয়েছেন। আমি এটাকেই গ্রহণ করব। ব্যস। আমার এটা দরকার। আমার একটি পরিবার দরকার। আর আল্লাহ আমাকে তা দিয়েছেন। শুরুর সময়টা খুব কঠিন ছিল, মিথ্যা বলব না, সৎ বাবা হওয়া। আর আমি “সৎ বাবা” শব্দটা পছন্দ করি না। আমি বলতে পছন্দ করি, “আমি এমন একজন বাবা, যে এগিয়ে এসেছে।” এটা “সৎ বাবা” নয়, বুঝলেন? আমি এমন কাজ করেছি, যা আরেকজন পুরুষ করতে পারেনি, আর এজন্য আমি কৃতজ্ঞ। আর আমি এতেই খুশি। আখি আয়মানের জীবনের সবচেয়ে খারাপ সিদ্ধান্ত কী ছিল? কারাগারে যাওয়া। এটাই, এটাই এমন কিছু যার জন্য আমি অনুতপ্ত। আর সেরা সিদ্ধান্ত? সেরা হলো বিয়ে করা। বিয়ে করা। আলহামদুলিল্লাহ। আখি আয়মানের পাওয়া সেরা ও সবচেয়ে খারাপ মন্তব্য কী?

মনে আছে, এক ব্যক্তি ছিল, সে একটি ক্যাফেতে আমাকে দেখেছিল। সে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরল, আর বলল, “ভাই, শুধু জানাতে চাই, আমার ১২ বছরের মেয়ে আপনার কারণে হিজাব পরেছে।” আর এটা আমাকে খুব খুশি করেছিল। সে বলল, “কিন্তু এজন্যই আমি আপনাকে বলছি না।” মানে, “এটা আসল কথা নয়, এটা তো সামান্য।” সে বলল, “আমার মেয়ের কারণে আমার স্ত্রীও হিজাব পরা শুরু করেছে।” সুবহানাল্লাহ। আমি কাউকে হিদায়াত দিতে আসিনি, হিদায়াত আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে। আমি শুধু আপনাকে বলতে এসেছি, “ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো পালন করুন, আর বাকিটা আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিন।” আখি আয়মান সবচেয়ে বেশি কোন জিনিসটা উপভোগ করেন? ফুটবল খেলতে। মানে, ফুটবল, ফুটবল। আমেরিকান ফুটবল নয়, বরং...

না, না, ফুটবল, তারা যাকে সকার বলে, আমরা বলি ফুটবল। ফুটবল, ব্যস। আপনি Google-এ শেষ কী সার্চ করেছেন? -হ্যাঁ, অবশ্যই। -দয়া করে দেখুন। এটা আপনার ভালো লাগবে। কী, ট্রাবজোন? তুরস্ক। শেষ যেটা দেখেছি, এটাই। আমি শুধু ভাবছিলাম, “চমৎকার জায়গা।” হ্যাঁ। তাহলে আপনি সেখানে যাবেন, ইনশাআল্লাহ। আমি প্রকৃতি ভালোবাসি। সবুজ ভালোবাসি। তাই যখন জায়গাটা দেখছিলাম, তুরস্ক, মনে হলো, “ওহ, কী সুন্দর জায়গা। আমাকে সেখানে যেতে হবে, হ্যাঁ।” এমন কোনো মজার মুহূর্ত, যেখানে আপনি ভীষণ লজ্জা পেয়েছিলেন, যা কখনো ভুলতে পারবেন না?

ইতিবাচক অর্থে। একবার, আমার মনে হয়, আমি টিভিতে ছিলাম, BBC-তে, বহু বছর আগে। হাসপাতালে একটি ডকুমেন্টারির কাজ করছিলাম। আমি সবার সামনে এভাবে দাঁড়িয়ে ছিলাম, আর কেউ আমার সঙ্গে হাত মেলাচ্ছিল না। এটা আমার জন্য খুব, খুব লজ্জাজনক মুহূর্ত ছিল, এতটাই যে ক্যামেরাম্যান ক্যামেরা সরিয়ে নিল, যেন আমাকে একটু... কিন্তু সে আমাকে দেখাতে চায়নি। দুনিয়াকে দেখাতে চায়নি। তাই আমি এভাবে দাঁড়িয়ে ছিলাম, ক্যামেরাম্যান আমাকে দেখছিল, আর আমার জন্য সেটাই ছিল সবচেয়ে লজ্জাজনক মুহূর্ত। আপনার মাধ্যমে অনেক মানুষের জীবন পুরোপুরি বদলে গেছে। যাদের কথা আপনার মনে আছে, তাদের মধ্যে কার ঘটনা আপনাকে সবচেয়ে বেশি আবেগপ্রবণ করেছে?

আমার মনে হয়, কয়েক বছর আগে আমি মক্কায় ছিলাম। আর মনে আছে, আমি হয়তো ৩০-৪০ জনের একটি দলের সঙ্গে ছিলাম। আর মনে আছে, আমি যখন হোটেল থেকে বের হয়ে কাবার দিকে যাচ্ছিলাম, এক ভাই বললেন, “আয়মান, আয়মান, তিনি আপনাকে ডাকছেন।” এক ভাই এলেন, “আসসালামু আলাইকুম।” “ওয়া আলাইকুমুস সালাম।” তারপর সবার সামনে তিনি বললেন, “আয়মান, আপনার কারণে আমি মাদক ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছি।” সেই মুহূর্তে আমার হৃদয় চোখের পানি আটকে রাখতে পারেনি, আর আমি কাঁদতে শুরু করলাম। মানে, আমি এটা বলতে চাই না। হিদায়াত আমার কাছ থেকে আসে না। কিন্তু কেউ যদি আমাকে বলে, “আমি আপনার গল্প দেখেছি, আপনার জীবন এবং আপনার তাওবার কথা আপনি কীভাবে বলেছেন, তা দেখেছি, এটাই আমাকে ছাড়তে বাধ্য করেছে, আর এজন্যই আমি আজ এখানে।” সে বলল, “আমি হালাল টাকা উপার্জনের জন্য চাকরি নিয়েছি, যেন এই সফরের খরচ দিতে পারি।” এগুলো বানিয়ে বলা যায় না। আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ আমাদের ইখলাসে রাখুন। আল্লাহুম্মা আমিন। আমি চাই আপনি আমার সঙ্গে সৎ ও খোলামেলা হন। যদি আপনি এখনই মারা যান, নিজেকে জাহান্নামের কাছাকাছি মনে করেন, নাকি জান্নাতের?

জাহান্নাম। ওয়াল্লাহি। কারণ আমি জানি না, আমি যা করছি তার ন্যূন্নতম কিছু কবুল হচ্ছে কি না। আর আমি এটা নিয়ে ভাবি। আমার নিয়ত কী? আমার নিয়ত কি ঠিক? আমি কি এটা মানুষের জন্য করছি, নাকি আল্লাহর জন্য করছি? আমি ভয় পাই। আমাদের নিজেদের ভেতরেই যুদ্ধ আছে। আর আমি জানি না আমি কোথায় যাচ্ছি। তবে অন্তত আমি যেন এমন কিছু রেখে যেতে পারি, যা দিয়ে মানুষ আমাকে ভালোভাবে মনে করবে আর আমার জন্য দোয়া করবে। আর বাকিটা আমি আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিই, কারণ শুধু আল্লাহর রহমত, আল্লাহর দয়ার মাধ্যমেই আমি জান্নাতে প্রবেশ করব। কিন্তু আমি ভয় পাই, আমি জানি না। জানি, একটি বেছে নেওয়া প্রায় অসম্ভব, তবুও কোন আয়াতটি আপনাকে সবচেয়ে বেশি স্পর্শ করে?

“কালা ইন্নামা আশকু বাথ্থি ওয়া হুযনি ইলাল্লাহ।” আমার প্রিয় আয়াত। “আমি আমার দুঃখ ও উদ্বেগের অভিযোগ শুধু আল্লাহর কাছেই করি।” আমার স্ত্রীকে না, মাকে না, বাবাকে না, সন্তানদের না, কাউকেই না—শুধু আল্লাহকে। আর এটি সূরা ইউসুফ থেকে। এটা ছিল ইয়াকুব আলাইহিস সালামের কথা, ইউসুফ আলাইহিস সালামকে হারানোর পর, যখন তাঁর ভাইয়েরা তাঁকে হত্যা করতে চেয়েছিল আর বলেছিল তিনি মারা গেছেন। তিনি কী বলেছিলেন?

“ইন্নামা আশকু বাথ্থি ওয়া হুযনি ইলাল্লাহ।” আর যদি আমরা সবাই এই আয়াতটিকে জীবনে ধারণ করি, সবকিছু বদলে যাবে। মানুষকে আপনার সমস্যা বলবেন না। তারা পরোয়া করে না। আপনি সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন— এতে তারা খুশি হয়, কিন্তু আপনাকে বলবে না। শুধু আন্তরিক মানুষ ছাড়া, যে সত্যিই আল্লাহতে বিশ্বাস করে, আর আপনার জন্য ভালো চায়, সে আপনাকে উপদেশ দেবে। বাকিরা পরোয়া করে না। আপনি দুর্দশায় আছেন, এটা তারা পছন্দ করে। আপনি কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, এটা তারা পছন্দ করে। আখি আয়মান জান্নাতে পৌঁছালে প্রথম কী করবেন? যদিও কয়েক বছর আগে আমি মাকে হারিয়েছি, তিনি মক্কায় ইন্তেকাল করেছেন, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন। আর যদিও আমি তাঁকে খুব মিস করি, তাঁকে দেখতে চাই, চাই...

কিন্তু প্রথম যে কাজটি করতে চাই, তা হলো নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখা। অবশ্যই আল্লাহর পর। আমি নবীজিকে দেখতে চাই, তাঁকে ধন্যবাদ দিতে চাই, তাঁকে জড়িয়ে ধরতে চাই, চুমু দিতে চাই, আর আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই, কারণ তাঁর কারণেই আজ আমি মুসলিম। কারণ তিনি যদি হাল ছেড়ে দিতেন, আজ সবাই কোথায় থাকত?

কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি। “আপনি হাল ছাড়েননি। আপনার কারণে আমি মুসলিম। আপনার কারণে আমি কুরআন সম্পর্কে জেনেছি, কুরআন আপনার ওপর নাজিল হয়েছে। আমি সুন্নাহ জেনেছি— কীভাবে স্ত্রীর সাথে আচরণ করতে হয়, কীভাবে বাবা-মায়ের সঙ্গে আচরণ করতে হয়, কীভাবে অমুসলিম প্রতিবেশীর সঙ্গে আচরণ করতে হয়, আপনার কারণেই। মানুষের প্রতি হৃদয়ে কীভাবে দয়া রাখতে হয়, তা আমি জেনেছি আপনার কারণে, ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।” আর আমি বলব, “আপনার হক আদায় করতে না পারার জন্য দুঃখিত। উম্মাহর জন্য আরও বেশি করতে না পারার জন্য আমি দুঃখিত।” একজন মানুষ আপনাকে লিফটে দেখল। সে আপনাকে চিনে বলল, “আমার জীবনে যা দরকার সব আছে, তাহলে ধর্মীয় মানুষ হয়ে নিজেকে সীমাবদ্ধ করব কেন?” আপনি এক মিনিটে তাকে কীভাবে উত্তর দেবেন?

আপনার জীবনে কিছুই নেই, যদি আপনার কাছে আল্লাহ না থাকেন। আল্লাহ আপনাকে দুনিয়া নিয়ে ব্যস্ত রাখেন। আপনি মনে করেন, আপনার কাছে সবকিছু আছে। কিন্তু আল্লাহ না থাকলে “সবকিছু” বলতে কী বোঝায়? আল্লাহ আপনাকে উপভোগ করতে দেবেন। কিন্তু ভাই, আপনার হৃদয়ে ঈমান না থাকলে, আল্লাহ আপনাকে নিজেকেই ভুলিয়ে দেবেন। আয়াতে যেমন বলা হয়েছে: “ওয়া লা তাকুনু কাল্লাযীনা নাসুল্লাহা ফা-আনসাহুম আনফুসাহুম।” “আর তাদের মতো হয়ো না যারা আল্লাহকে ভুলে গেছে, ফলে আল্লাহ তাদের নিজেদেরকেই ভুলিয়ে দিয়েছেন।” আর তিনি কীভাবে আপনাকে নিজেকে ভুলিয়ে দেন?

দুনিয়ার বিষয়গুলোতে আপনাকে ব্যস্ত করে দিয়ে। “আমি এই মিলিয়ন পাউন্ড বানিয়েছি, আমি এই গাড়ি পেয়েছি, এই বাড়ি পেয়েছি, এই পরিবার পেয়েছি।” এটা আল্লাহ দেননি, আমি করেছি। না, না, না, না, আল্লাহই আপনাকে এমন বলতে দেন। কারণ আপনি তাঁকে ভুলে গেছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনাকে নিজেকেই ভুলিয়ে দেন। অনেক তরুণ বলে, “আমি পাপে ডুবে আছি, এ থেকে কীভাবে বের হব?” তাদের আপনি কী বলতে চান?

আপনি আল্লাহ থেকে যত দূরেই পা বাড়িয়ে থাকুন না কেন, ফিরতে মাত্র এক পা লাগে, বলতে লাগে, “ইয়া রব, আমাকে ক্ষমা করুন। ইয়া রব, আমাকে ক্ষমা করুন।” হৃদয় থেকে আন্তরিকভাবে বললে, আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করবেন। আল্লাহ সঙ্গে সঙ্গেই আপনাকে ক্ষমা করবেন। যদি আপনি আন্তরিক হন। আর তিনি সবকিছু ক্ষমা করবেন। দেখুন, শয়তান আপনাকে বলেছে, আপনি এত পাপ করেছেন, আল্লাহ কখনো আপনাকে ক্ষমা করবেন না। কিন্তু আল্লাহ আপনাকে বলেছেন, “তোমার পাপ আকাশ পর্যন্ত পৌঁছালেও, তুমি যদি তাওবা করো, আমি তোমাকে ক্ষমা করব। যতক্ষণ তোমার আত্মা তোমার শরীরে আছে।” কিন্তু কোনো পাপকে কখনো “চলার পথে” বলে বৈধতা দেবেন না। কারণ আমি মদ পান করে এটাকে “চলার পথে” বলতে পারি না। তবে আমি আমার ফিতনার কথায় থাকি। দেখুন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা নারীদের সম্মানিত করেছেন এবং মর্যাদা দিয়েছেন। আর যদি আপনি একটি সমাজ ধ্বংস করতে চান, তাহলে নারীদের অনাবৃত হতে দেবেন। আর আজ সেটাই ঘটছে। শালীনতা একটি সমাজকে পুনর্গঠন করে। আর আল্লাহভীরু পুরুষরা নিজেদের দৃষ্টি সংযত করবে এবং আল্লাহকে স্মরণ করবে। আর যাই হোক, আমি সবসময় এটা বলেছি: নারীরা না থাকলে, আজ আমাদের উম্মাহর আল্লাহভীরু নারীরা না থাকলে, উম্মাহ বহু আগেই ধ্বংস হয়ে যেত। মায়েদের দোয়াই আমাদের শক্তিশালী করে রেখেছে।