Towards Eternity
ব্লগে ফিরে যান

"আমি ভাবতাম কেবল দুর্বল মানুষরাই সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করে" - কানাডিয়ান নাস্তিক-এর ইসলাম গ্রহণ

প্রকাশের তারিখ

YouTube-এ দেখুন

আমি পশ্চিম কানাডায় বড় হয়েছি পাহাড়ের মধ্যে। আমাদের বাসায় কোনো ধর্ম ছিল না। আল্লাহ ছিল দুর্বল মানুষের জন্য— যারা জীবনে টিকে থাকতে একটা ভরসা চায়। আপনি জানেন, আমার দুলাভাই আত্মহত্যা করেছিলেন। আমি আমার বোনকে ফেন্টানিল ওভারডোজে হারিয়েছি। এক রাতে বিশেষ করে, আমার এক বন্ধু আসে—সে পুরো রক্তে ভেজা ছিল। ওকে চারদিকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল। তখনই আমি ভাবতে শুরু করি, শেষপর্যন্ত আমি কোথায় গিয়ে দাঁড়াব?

তারপর আযান দেওয়া হলো, আমি মজা করছি না, একদম অঝোরে চোখে পানি এসে গেল। আমি বুঝিনি অবশ্য এর অর্থ কী, কিন্তু এটা সরাসরি হৃদয়ে লেগেছিল। এটা ছিল এমন কিছু ভাইদের একটি দল, যারা পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে এসেছিল। তারা সবাই একসাথে নামাজ পড়তে জড়ো হচ্ছিল। আর যখন আমি এই ঐক্য দেখলাম— রঙের ভিত্তিতে নয়—আমি সত্যিই অভিভূত হয়ে গিয়েছিলাম। তাই প্রথমবার আমি যখন ওই ভবনে ঢুকলাম, আমি তাকে দেখলাম, আর সে ছিল আমার জীবনে দেখা প্রথম মুসলিম। তার সঙ্গে দেখা হওয়াটা আমার পুরো বোঝাপড়াকে উল্টে দিয়েছিল। আমরা বলি, আপনি জানেন, আল্লাহ রহস্যময়ভাবে কাজ করেন; এটাও ঠিক তেমনই একটি ঘটনা। একদিন সে আমাকে একটি চিঠি লিখল, আর বলল—আমি সম্মানিত হব যদি আপনি আমার মেয়েকে বিয়ে করেন। আসসালামু আলাইকুম ভাই উইল সালেহ, আমাদের আমন্ত্রণ গ্রহণ করার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। টোয়ার্ডস ইটার্নিটিতে আপনাকে পেয়ে খুব আনন্দিত। আমি প্রথমেই জানতে চাই, উইল সালেহ কে?

আপনি কি সংক্ষেপে আপনার জীবন সম্পর্কে বলবেন?

ওয়া আলাইকুমুস সালাম (আপনার ওপরও শান্তি), আলহামদুলিল্লাহ (সব প্রশংসা আল্লাহর), আমাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আমি সত্যিই অনেক দিন ধরে এটার অপেক্ষায় ছিলাম। সংক্ষেপে বললে, আমি বড় হয়েছি পশ্চিম কানাডার পাহাড়ি অঞ্চলে, আর আমাদের বড় হওয়ার সময় বাসায় কোনো ধর্ম ছিল না। আসলে আমাদের পরিবারটা ছিল “নাস্তিক” ধরনের— যেখানে আমরা আল্লাহতে বিশ্বাস করতাম না; আমাদের কাছে আল্লাহ ছিল দুর্বল মানুষের জন্য— যারা জীবনে টিকে থাকতে একটা ভরসা চায়। ধর্ম নিয়ে আমার বেড়ে ওঠা এইভাবেই ছিল। আমি যখন একদম ছোট ছিলাম, কিছু সময়ে করার মতো একটাই জিনিস থাকত— আমাদের কমিউনিটিতে ছিল যিহোভার সাক্ষীদের (Jehovah’s Witness) একটি কেন্দ্র, যা খ্রিস্টধর্মের একটি শাখা— কিংডম হল। সবাই মোটামুটি সেখানে যেত। আমার বাবা ছিলেন, আপনি জানেন, আগের দিনের একজন বাইকার, বড় দাড়ি, শরীরে ট্যাটু। তাই, আপনি যখন মানুষকে চেনেন, মানুষ আপনাকে চেনে, সো মাঝে মাঝে আমরা সেখানে চলে যেতাম। আর আমার জন্য, এটা ছিল সাজগোজ করার একটা সুযোগ— শিশু হিসেবে স্যুট পরে, ছোট টাই বেঁধে। কিন্তু এটুকুই ছিল সব। এটাই ছিল একমাত্র সময় যখন আমরা কখনো চার্চে গিয়েছিলাম, আর সেটা পরিবার হিসেবে আল্লাহ খুঁজতে নয়; বরং কারণ ছিল— করার মতো আর কিছু ছিল না। আমি কখনো ইসলামের কথা শুনিনি। হাই স্কুলে ওঠার আগ পর্যন্ত আমি মুসলমানদের কথাও শুনিনি। ৯/১১-ই ছিল প্রথমবার, যখন আমি মুসলমানদের কথা শুনি। আর আমার পুরো হাই স্কুল সময়জুড়ে, মধ্যপ্রাচ্যে চলছিল “সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ”, আর সেটাই ছিল মূল প্রোপাগান্ডা, ইসলাম সম্পর্কে আমার বোঝাপড়ার ক্ষেত্রে, আমি বলবো। আপনি যখন এমন পরিবেশে বড় হন, তখন অনেক বিদ্বেষের মুখোমুখি হতে হয়, বর্ণবাদ, আর এ ধরনের আরও অনেক কিছু। তারপর সেখান থেকে, আপনি জানেন, এটা ছিল খোঁজার এক দীর্ঘ যাত্রা— পৃথিবী ঘোরা, আর বিশ্বাসকে বোঝার চেষ্টা। এবং পরে, আমার বিশের শুরুর দিকে, আমি সত্যিই ইসলাম আবিষ্কার করি। হাই স্কুলের শুরুর বছরগুলোতে, সম্ভবত ২০০৩ সালের দিকে, কঠিন মাদক আমাদের শহরে আঘাত হানে, এবং শহরটা ধ্বংস হয়ে যায়। আমার জীবনে অসংখ্য ঘটনা আছে— যেখানে মানুষ মাদকের কারণে মারা গেছে, ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছে, কারাগারে গেছে— এবং এ রকম অসংখ্য ঘটনা, যা ছিল ভয়াবহভাবে ধ্বংসাত্মক। আপনি জানেন, আমি যখন ১৭, আমি ভ্যাঙ্কুভারে কাজ করতে যাই, শুক্রবার রাতে আমি শহরের ইস্ট সাইডে যাই— ভ্যাঙ্কুভারের ইস্ট এন্ডে, আর আমি অবাক হয়ে যাই, কারণ এটা— আমার মনে হয়—বিশ্বের হেরোইন রাজধানী, হেস্টিংস ও মেইনের একটা ছোট্ট এলাকায়। আপনি জানেন, আমার অনেক বন্ধু মাদকাসক্তি ওভারডোজে মারা গেছে, তাদের জীবন ধ্বংস হয়ে গেছে। আমার ছোটবেলার এক বন্ধুর কথা— আমি আসলে এটা শুনেছিলাম আমি শহর ছেড়ে যাওয়ার পর, কয়েক বছর আগে, সে গোসল করছিল, কিন্তু সে ছিল নেশাগ্রস্ত, আর বাথটাবে ডুবে মারা যায়। নবজাতক সন্তান ছিল, বয়স কম— আমার থেকে দুই বছরের মতো বড় ছিল, যেমন আগে আপনার সাথে আলোচনা করছিলাম, আমার খুব কাছের এক বন্ধু, বারবার জেলখানায় যেত, এবং শেষ পর্যন্ত কাউকে হত্যা করে ফেলে। দুঃখজনকভাবে, এসব ঘটনা বিরল নয়। আমার দুলাভাই আত্মহত্যা করেছিলেন। আমি কয়েক বছর আগে আমার বোনকে ফেন্টানিল ওভারডোজে হারিয়েছি। -আপনার বোন?

-হ্যাঁ, আমার বোন। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো— আপনি হয়তো আল্লাহর অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন না, কিন্তু আশেপাশে তাকালে আপনি নিশ্চয়ই প্রশ্ন করবেন। একটা ঘটনা আমার মনে আছে, তাদের বছরে একবার বেসবল টুর্নামেন্ট হয়, আর ক্যাম্পগ্রাউন্ডে হয় একটা রেভ পার্টি, সবাই পার্টি করছে, সবাই অ্যালকোহল পান করছে। আর বিশেষ এক রাতে, আমি একটা গ্রুপ থেকে বের হয়ে আরেকটা গ্রুপে যাচ্ছিলাম, এমন সময় আমার বন্ধু আসে— সে পুরো রক্তে ভেজা ছিল। ওকে চারদিকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল। একেবারে রক্তে ভিজে গিয়েছিল। আর আমি বলছিলাম, “এখানে কী হচ্ছে?” আমি আরেক বন্ধুর কাছে গেলাম— তার অবস্থাও একই, তাকে কেটে ফেলা হয়েছে। এসব দেখে না ভেবে থাকা খুব কঠিন ছিল যে, “এটা ভালোভাবে শেষ হবে না।” তখনই আমি বুঝতে শুরু করি— আমার জীবন শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?

আমার গল্পটা শেষে কেমন হবে? তাই আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, আপনি জানেন কী? ঠিক আছে, আমি বিয়ে করতে চাই। আমি জানি না কীভাবে, আমি জানি না কে, আমি জানি না কোথায়, কিন্তু আমাকে নিজেকে বদলাতে হবে। যখন আমি এই সিদ্ধান্ত নিলাম, আমি ছেড়ে দিলাম যেসব খারাপ কাজ করছিলাম তার সবকিছু একদম হঠাৎ করেই, আমি পুরো জীবনটা থেকে সরে এলাম। আপনার ইসলামের পথে যাত্রা কীভাবে শুরু হলো?

এটা শুরু হয় যখন আমি সিদ্ধান্ত নিই আমি বিয়ে করতে চাই এবং আমাকে আমার পথ বদলাতে হবে, আর আমি নতুন এক শহরে চলে যাই। আমি শুধু চাকরির জন্য আবেদন করছিলাম, আর আমি হাঁটতে হাঁটতে "ফিউচার শপ" নামে একটি দোকানের পাশ দিয়ে যাই, যেটা ছিল একটি ইলেকট্রনিক্স দোকান। আর আমি ভাবলাম, “আহ, যাই হোক, চেষ্টা করে দেখি।” এবং শেষ পর্যন্ত, তিন মাস পর, আমাকে পার্ট টাইম কর্মী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, আর সেখানে আমি আমার হবু স্ত্রীকে দেখি, যিনি পরে আমার স্ত্রী হন। আর তিনিই ছিলেন আমার জীবনে দেখা প্রথম মুসলিম। তার সঙ্গে দেখা হওয়াটা, এরপরই আমার পুরো বোঝাপড়াকে উল্টে দিয়েছিল। কারণ কথোপকথনটা শুরু হয়েছিল, সে বলেছিল, “আমি মুসলিম।” আর আমি বললাম, “আচ্ছা, সেটা কী?” তারপর সে আমাকে এ-বি-সি ব্যাখ্যা করল। আর আমি বললাম, “কিন্তু আমি তো এদের সম্পর্কে অন্য কিছু বিশ্বাস করি।” আর সে বলল, “না, না, আপনি পুরোপুরি ভুল।” এখান থেকেই আমার প্রথম ‘কনফ্রন্টেশন’ শুরু হলো ইসলাম সম্পর্কে আমার ধারণার সাথে একজন প্রকৃত মুসলিমের কথার। আপনি জানেন, তার বাবা ছিলেন সেখানে মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি যে শহরে আমি গিয়ে উঠেছিলাম। আর সত্যি বলতে এটাই আমাকে ধাক্কা দিয়েছিল কারণ আমি নিজেকে অজ্ঞ মানুষ ভাবতে চাই না, আর যখন আপনি আমাকে এমন তথ্য দেন যেগুলো নিয়ে আমাকে তর্ক করতে হয় সত্যি হওয়া সত্ত্বেও তথ্যগুলোকে অস্বীকার করার চেষ্টা করতে— সেখান থেকেই আসলে শুরু হয় আমার একদম প্রাথমিক যাত্রা— এই পশ্চিমা মিডিয়ার প্রোপাগান্ডা মেশিনটাকে বুঝতে চেষ্টা করা, যেটা ২০০১ সাল থেকেই আমাকে মগজধোলাই করছিল। তাই এটা ছিল বহু বছর ধরে একটানা ‘বোম্বার্ডমেন্ট’, আপনি জানেন, এবং তখন ফিলিস্তিনে যা ঘটছিল, ইরাকে, আফগানিস্তানে—সবকিছুই, এবং আসলে স্বাভাবিক ভাবেও তাই বিষয়টা এমন ছিল—আমি এটা বিশ্বাস করতাম, বা অন্তত আমাকে এটা বলা হয়েছিল, শেখানো হয়েছিল, এই ধারণা মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল, আর এই মানুষটা, যার নিজস্ব অভিজ্ঞতা আছে, সে আমাকে বলছে আমি পুরোপুরি ভুল। সেখান থেকেই এই যাত্রাটা সত্যি বলতে শুরু হয়। ওই প্রথম কথোপকথনে, আমরা প্রায় তিন ঘণ্টা কথা বলেছিলাম। আমি অবাক হয়েছিলাম, বুঝলেন, সে কখনো পার্টিতে যায়নি, সে কখনো সিগারেট খায়নি, সে কখনো অ্যালকোহল পান করেনি, তার কখনো কোনো প্রেমিকও ছিল না। এই সব বিষয়, এই ধারণাগুলো আমার কাছে ছিল একদম অচেনা। আমি বললাম, “এটা কীভাবে সম্ভব?” আর সে বলল, “এটাই আমার ঈমান।” “এইভাবেই আমি বড় হয়েছি— সংস্কৃতি আর বিশ্বাস,” আপনি জানেন, মুসলিম সংস্কৃতি এবং মুসলিম বিশ্বাস। আর আমি সত্যিই মুগ্ধ হয়েছিলাম। যেমন, আমি এটা নিজের চোখে দেখছি, আর আমার কাছে মনে হলো, “এটাই। এটাই সেই মেয়ে। এটাই সেই একজন।” ঠিক সেই রাতেই। আমরা সেই কথোপকথন করলাম, এবং তারপর যখন আমি এটা নিয়ে খোঁজ করতে শুরু করলাম, সবকিছুই একটু ঘোলাটে হয়ে গেল সবকিছু বুঝতে চেষ্টা করতে গিয়ে; এটা ছিল খুবই কঠিন। আর আমি একটা ডিভিডি পেলাম, আপনি হয়তো জানেন কি না, আমেরিকার শাইখ খালিদ ইয়াসিনের, “The Purpose of Life.” ওই লেকচার আমার জীবন বদলে দিয়েছিল। আমি বারবার শুনতাম, আর আমি অবাক হতাম— কারণ তিনি সত্যিই, যেমন আমি সংক্ষেপে বলেছি, প্রশ্নগুলোর উত্তর দিচ্ছিলেন এবং একটি নকশা দিচ্ছিলেন পশ্চিমে আমরা যে সব সমস্যার কথা বলি— তার সমাধানের জন্য, যার কোনো সমাধান এখানে নেই বলে মনে হয়। তিনি সত্যিই আপনাকে সেই নীলনকশাটাই দিচ্ছিলেন। কিন্তু শুরুতেই তিনি এমন একটা কথা বলেছিলেন, যা আমার মনে গেঁথে গিয়েছিল, আর তা হলো— এটা যেন এক গ্লাস পানির মতো। আপনার হৃদয় একটা পাত্র, এক গ্লাস পানির মতো। আপনি যদি সেই গ্লাস উল্টে রাখেন, আপনি যত পানি ঢালুন না কেন; আপনি কখনোই সেটা পূরণ করতে পারবেন না। কিন্তু আপনি যখন নিজের মনের দুয়ার খুলে দেন, তখন সেটা পূর্ণ হতে পারে। কোন বিষয়টা আপনাকে বলিয়েছিল, “ঠিক আছে, আমি মুসলিম হব—এটাই হবে, আমি এখনই এই পদক্ষেপ নিচ্ছি”?

অর্থাৎ আপনার সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটা কেন হলো?

"এই কিতাব অপরিবর্তিত" আমি মনে করি, এই উপলব্ধিটি আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। আর এর মধ্যেই সব উত্তর আছে। আপনার মনে আছে, আমি বলেছিলাম— আমি বিশ্বাস করি, যদি আল্লাহ সত্যিই থাকেন, তাহলে তিনি আমাদের সঠিক দিকনির্দেশনা না দিয়ে ছেড়ে দেবেন না। আর যখন আমি বুঝলাম কুরআন একটি অপরিবর্তিত কিতাব, তখন আমার মনে হলো যেন, বুঝলেন, অন্য ধর্মগ্রন্থগুলো— আমি বিভিন্ন ধর্ম নিয়ে কিছুটা পড়াশোনা করেছি— কিন্তু কুরআনের ক্ষেত্রে, আপনি বইটা নিয়ে পুড়িয়ে ফেলুন। এতে কিছুই আসে যায় না। আপনি কুরআনকে একদিনের মধ্যে আবার রেপ্লিকেট করে ফেলতে পারবেন, হুবহু প্রতিটি শব্দ। প্রতিটি অক্ষর, যেমনটা ঠিক ১৪০০ বছর আগে ছিল - কুরআনের হাফেজদের সাহায্যে। তখনই এটা আমার কাছে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। আর আমি ভাবলাম, ঠিক আছে, এরপর তো কোনোভাবেই আমি, বুঝলেন...

আপনার শাহাদাহ গ্রহণের মুহূর্তটা কেমন ছিল? কেমন ছিল আপনার অনুভূতি?

এটা ছিল ভয় লাগার মতো। ভাইয়েরা সালাত (নামাজ) শেষ করার পর বললেন, আসলে আমরা ভেতরে গেলাম, আর সেখানে প্রায় ৩০ জন মানুষ ছিল। আমি একপাশে বসে আছি, আমি তখন ২২-২৩ বছরের এক তরুণ। আর ৩০ জন মানুষ বসে আছে শুধু আমার দিকেই তাকিয়ে। মনে মনে ভাবছি, “বিষয়টা খুবি অদ্ভুত।” ইমাম (নেতা) আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, “আপনার কোনো প্রশ্ন আছে যেটাতে আমরা সাহায্য করতে পারি?” এতকিছু দেখার পর, বুঝলেন, আমি বললাম, “আমার অনেক প্রশ্ন আছে।” “কিন্তু আমি জানি, এটাই আমার আসল গন্তব্য, আমার কাজই হওয়ার কথা এটা।” আর আমি সেখানেই শাহাদাহ পাঠ করলাম আমার ভবিষ্যৎ শ্বশুরের সামনে, আমার ভবিষ্যৎ শ্যালকদের সামনে, আর এক ভবিষ্যৎ কমিউনিটির সামনে যাদের সামনে একদিন আমি দাঁড়িয়ে নামাজের ইমামতি করব। ভীষণ আবেগঘন মুহুর্ত ছিল। আমার মাথায় শত চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছিল, যেমন আমার পরিবার, তারা কী ভাববে?

একটা নাস্তিক পরিবেশ, যা ধর্মকে ঘৃণা করত এবং মগজধোলাই করত, বুঝলেন, আমার চেয়েও বেশি খারাপ। কিন্তু তাতে কিছু যায় আসেনি। সত্যি বলতে, আপনি যখন দেখতে শুরু করেন, যখন শিখতে শুরু করেন, নবী (সাঃ) (তার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) তার সংগ্রাম, তার জীবন—আর সবকিছু যার মধ্য দিয়ে তাকে যেতে হয়েছে। আমাদের সবারই সংগ্রাম করতে হয়। সবারই কঠিন সময়, কষ্ট, আর পরীক্ষা পার করতে হয়। তারপর কয়েক বছর কেটে গেল যখন আমি সত্যিই অনেকটা সংগ্রাম করছিলাম একজন নওমুসলিম হিসেবে, নতুন পরিবেশে খাপ খাওয়াতে পারছিলামনা। যতক্ষণ না এক ভাই, আসলে যে ভাই আযান দিয়েছিল (নামাজের ডাক) আর আমাকে কাঁদিয়ে দিয়েছিল, সে আমাকে তাদের সাথে যেতে আমন্ত্রণ জানাল তিন দিনের জন্য—এখানে সেখানে। আর আমি সত্যিই শুরু করলাম আমার চারপাশে মুসলিমদের নিয়ে আমল করতে এবং প্রশ্ন করতে পারতাম, আর ঠিকভাবে নামাজ পড়া শিখতে পারতাম এবং আরও অনেক কিছু শিখতে পারতাম। সেখান থেকেই সেই যাত্রা শুরু হয়। তারপর, নিজেকে গড়ে তুলতে পারা, ধর্মকে জানতে পারা। ওখান থেকে চার মাস পরে আমি বাড়ি ফিরে এলাম, এরপর আমি মসজিদে ইমাম (নেতা) নির্বাচিত হলাম প্রায় ৩-৪ বছর আগে, বক্তৃতা দিতাম, বুঝলেন, চার্চের লোকেরাও আসত, স্কুল বোর্ডের সদস্যরাও আসত, জুম'আর (শুক্রবারের নামাজ) খুতবা ইত্যাদি ইত্যাদি। তারপর ধীরে ধীরে এই নতুন পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে পেরেছি। অবশেষে আলহামদুলিল্লাহ। এখন আবার ফিরি এই গল্পে— আপনার তৎকালীন ভবিষ্যৎ-স্ত্রীর সাথে, শেষ পর্যন্ত কী ঘটলো?

কীভাবে আপনাদের বিয়ে হলো? সে ব্যাপারে যদি বলতেন... হ্যাঁ, হ্যাঁ। তো সুবহানাল্লাহ (আল্লাহ মহান)। আপনি কি কিছু খেয়াল করেছেন? এই ভিডিওটি দেখার সময় আপনি কোনো বিজ্ঞাপন দেখেননি। কারণ টোওয়ার্ডস ইটার্নিটি একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, আমরা আপনাদের সহযোগিতার মাধ্যমেই এসব ভিডিও তৈরি করতে পারি। যদি আপনিও এই সওয়াবের কাজে অংশীদ্বার হতে চান, তাহলে টোওয়ার্ডস ইটার্নিটি তে দান করুন, এই সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করবেন না। এখন আবার ফিরি এই গল্পে— আপনার তৎকালীন ভবিষ্যৎ-স্ত্রীর সাথে, শেষ পর্যন্ত কী ঘটলো? কীভাবে আপনাদের বিয়ে হলো? সে ব্যাপারে যদি বলতেন...

হ্যাঁ, হ্যাঁ। তো সুবহানাল্লাহ (আল্লাহ মহান)। আরও পিছনে গেলে। প্রথমবার যখন আমি ওই ভবনে ঢুকলাম, যেটা ছিল ট্রেনিংয়ের জন্য, তার সাথে সাক্ষাতের তিন মাস আগেই আমি তাকে দেখেছিলাম। আর আমার প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল, “ওয়াও, সে খুব সুন্দর।” কিন্তু তারপরও আমি তিন মাস তার সাথে কোনো কথা বলিনি। আর এরপর যখন আমরা কথা বললাম, তখন স্পষ্টভাবেই একটা কানেকশান অনুভব করছিলাম তো পরে সিদ্ধান্ত হলো— মানে পরবর্তীতে, বিষয়টি নিয়ে আগানো যাক। যেদিন সন্ধ্যায় আমরা দেখা করেছিলাম, সেদিনই আমি তাকে বলেছি, আমি জানি না, আমি এটা তাকেও শেয়ার করেছি তাই সমস্যা হবেনা, সে বলেছিল, একজন মুসলিম হিসেবে, আমরা বিশ্বাস করি সবকিছুই কোনো কারণেই ঘটে। এটা আল্লাহর পরিকল্পনা। সে বলল, “আমি ভাবছিলাম এই যে, আমাদের দেখা হওয়া,” আর আমি বললাম, “আসলে এটার মূল কারণ হচ্ছে আমরা বিয়ে করার কথা এবং অনেক সন্তান নেওয়ার কথা।” আমি একটু সাহসী ছিলাম। আমি একটু খোলামেলা ছিলাম। -প্রথম দেখাতেই?

-হ্যাঁ, হ্যাঁ। আমি প্রথমবার যখন তার সাথে কথা বলেছিলাম সেদিনই। আর সে একটু হেসে বলেছিল, “ওয়াও, এটা তো অদ্ভুত।” আর হ্যাঁ, যে ভাই আযান দিয়েছিল (নামাজের ডাক) আর আমাকে কাঁদিয়ে দিয়েছিল, সে আসলে তার পরিবারের বন্ধু ছিল, তার মা-বাবার, আর সে আমারও একজন মেন্টরের মতো হয়ে যায়। তাই সে ভাই আমার পক্ষ থেকে প্রস্তাব দিল, আর উত্তর ছিল একদমই “না”। এটা আর কখনো বলবে না। না। -সোজা না?

-সোজা না। একদমই না। তাই আমাদের দেখা হওয়ার সময় থেকে আমি পাকিস্তান থেকে ফিরে আসা পর্যন্ত পাঁচ বছর পার হয়ে যায়। এরপর আমরা আবার গেলাম, আর আবারও একই ঘটনা, বুঝলেন, সে আমার পক্ষ থেকে আবার পরিবারের কাছে প্রস্তাব নিয়ে গেল, আর এবার যেন আরও কঠিন “না” ছিল। এমন যেন বলল, “না। আমার সামনে এটা আর কখনো তুলবেনই না। একদমই না।” -কে রিজেক্ট করেছিল? -শাশুড়ি। শ্বশুর আমাকে ভালোবাসতেন কারণ তিনি মসজিদে আমার পিছনে নামাজ পড়তেন। বুঝলেন, তিনি আমার খুতবা (বক্তৃতা) ও ভাষণ শুনতেন এবং তিনি উপস্থিত থাকতেন। তাই তিনি আমাকে বেশ ভালোভাবে চিনতেন এবং তিনি আমার প্রতি সন্তুষ্টও ছিলেন। মা যখন “না” বললেন, মা যখন... কী ঘটেছিল যে আপনার শাশুড়ির মত বদলে গেল?

এটাই আল্লাহর কুদরতের সৌন্দর্য, বুঝলেন, ইংরেজিতে আমরা বলি আল্লাহ রহস্যময়ভাবে কাজ করেন। এটাও ঠিক তেমনই একটি ঘটনা। এটা ছিল রমজানের শেষ দশ দিন। আমি মসজিদে ইতেকাফ করছিলাম (একান্ত সাধনা)। আর তারা পরিবারসহ আসত তারাবিহ (রাতের নামাজ) পড়তে। আর আমি আযান দিতাম (নামাজের ডাক) কারণ আমাদের একজন ইমাম (নেতা) আসতেন, তারাবিহ পড়ানোর জন্য একজন হাফেজ (কুরআন মুখস্থকারী) ইমামতি করতেন। তাই আমি আযান দিতাম, আর তিনি এটা খুব পছন্দ করেছিলেন। তিনি জানতেন না কে এই আযান দিচ্ছে, কিন্তু পরে জানলেন সেটা আমি ছিলাম। কিন্তু তারা বাড়ি গিয়ে আমার শাশুড়ি আমার শ্বশুরকে জিজ্ঞেস করলেন, তিনি বললেন, “এই মানুষটা কে, যে বক্তৃতা দিচ্ছে আর আযান এত সুন্দর?” আর তিনি বললেন, “সেই লোকটাই, যাকে তুমি ‘না’ করে দিয়েছিলে।” আর তিনি বললেন, “কি?

সত্যি?” আর তিনি তখন কুরআনের একটি আয়াত (আয়াত) পড়ছিলেন, যদি আমার স্মৃতি ঠিক থাকে, তবে সেটা ছিল, আমি সঠিক আয়াতটা মনে করতে পারছি না, কিন্তু সেখানে ছিল এমন কিছু, বুঝলেন, মানুষকে বিচার না করা নিয়ে। বরং তাদের সুযোগ দেওয়া নিজেকে প্রমাণ করার জন্য এটা নিয়ে। আর তিনি বলেছিলেন, যখন তিনি এটা পড়লেন, তাঁর মন বদলে গেল। আল্লাহ তার হৃদয়টাই বদলে দিলেন। আর সত্যি বলতে, আল্লাহই হলেন সেই সত্তা, যিনি আমাদের হৃদয় নিয়ন্ত্রণ করেন। আর একদিন, হঠাৎ করেই, যেমনটা কেউই আশা করেনি, তিনি আমাকে একটা চিঠি লিখলেন। আর তিনি বললেন, “আমি সম্মানিত হব যদি আপনি আমার মেয়েকে বিয়ে করেন।” আর আমি বললাম, “কি?” ঈদুল আযহা (কোরবানির ঈদ)-তে আমাদের বিয়ে হয়েছিল। আপনার ইসলাম গ্রহণে আপনার পরিবার এবং আপনার আশেপাশের মানুষদের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?

তো, যখন আমি মুসলিম হলাম, আমার একজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ভাই আছে এবং তারপর আমার দুইজন বড় বোন আছে, যেমন আমি বলেছি, তাদের একজন মারা গেছেন। কিন্তু আমি মুসলিম হওয়ার পর সম্পর্কটা নষ্ট হয়ে যায়, যেন আমার বোনদের কাছে, “আপনি কী? আপনি আমাদের লোক নন।” বুঝলেন? আর সেটাই সত্যিই...

আর আমরা কেউই একেবারে কাছাকাছি থাকতাম না, তাই আমরা অনেকটাই দূরে দূরে হয়ে গিয়েছিলাম। তাই আমি কয়েক বছর ধরে, ওরা যখন দেখতে আসত তখন বাড়িতে নামাজের জায়নামাজ রেখে দিতাম অথবা এখানে একটা কুরআন রাখতাম। তারপর কিছু সময় পর একদিন, আমি বললাম, আমি ফোনে ছিলাম— ঠিক কী প্রেক্ষাপট ছিল আমি মনে করতে পারছি না, আমরা সত্যি বলতে কোনো একটা বিষয়ে তর্ক করছিলাম। হয়তো এটা ছিল, ভুল উদ্ধৃতি দেবেন না কিন্তু হয়তোবা আমার মা জানতেন, ক্রিসমাসে না যাওয়া নিয়ে। আমার মনে হয় সেটাই ছিল, আর তখন আমি বললাম, “আমি মুসলিম। এটা আমার জন্য নয়।” আর তার জবাবটা ছিল একদম ‘ক্লাসিক’। আর সে বলল, “আপনি কী ভাবছেন, আমরা বোকা নাকি?” এই কথাটাই আমার জন্য যথেষ্ট ছিল। মায়ের সঙ্গে আমার আলোচনাতো হয়েছিলই, এখন আপনার পালা। আর আমাদের কয়েকবার তর্কও হয়েছিল, আমি আর আমার বাবা। কিছুই খুব একটা গুরুতর ছিল না। কিন্তু সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো যখন আমি আমার নাম পরিবর্তন করলাম। তখনই যেন এটা হলো, “কি করে করলেন এটা?” কারণ আমি ছোট ছেলে ছিলাম, মানে আমাদের বংশের শেষ পুরুষ আমি। আমার সাথে আমাদের নাম শেষ হয়ে যায়। যদি আমার ছেলে না হয়, তাহলে এখানেই শেষ, নাম আর এগোবে না। তাই আমার নাম হয়ে গেল মুহাম্মদ উইলিয়াম সালেহ। ইসলাম সম্পর্কে কোন বিষয়টা আপনাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে?

ইসলাম সম্পর্কে আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছিল প্রথমদিকে, আমি বলব, মুসলিমদের ঐক্য। আমি যখন শাহাদাহ (ঈমানের সাক্ষ্য) পাঠ করি, আপনি জানেন, তখন বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা ভাইয়েরা উপস্থিত ছিলেন। আর তারা আমাদের শহরে এসেছিল, চমৎকার পরিবেশে। আর আমার কিছু প্রশ্ন ছিল, এবং তখন ছিলেন আমার স্ত্রীর বাবা, মসজিদ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। তিনি তার সাথে যোগাযোগ করেছিলেন, এবং তারপর আমাকে আসতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তাই আমি গেলাম, আর ভাইয়েরা বললেন, “ঠিক আছে, আমরা শুধু নামাজ পড়ব।” আর আযান দেওয়া হলো (নামাজের ডাক), আমি মজা করছি না, একদম চোখে পানি এসে গেল। আমি বুঝিনি অবশ্য এর অর্থ কী, কিন্তু এটা সরাসরি হৃদয়ে লেগেছিল। আর তারপর আমি দেখলাম তারা সবাই একসাথে নামাজ পড়ছে। আপনার আছে পাকিস্তানিরা, আফ্রিকানরা আর বুঝলেন আমি এখানে বসে আছি একজন শ্বেতাঙ্গ হিসেবে, আর কত রঙের কত মানুষ, রঙের এক বিশাল পরিসর, ভিন্ন ভাষা, ভিন্ন সবকিছু। আর তারা সবাই একসাথে নামাজে দাঁড়িয়ে গেছে। আর এটাই ছিল একদম প্রথম কারণ। আর যখন আমি এই ঐক্য দেখলাম, রঙের ওপর ভিত্তি করে নয়, মানে সত্যিই কারও মনেই ছিল না এটা— আপনার রঙ কী বা আপনি কোথা থেকে এসেছেন। এটা ছিল শুধু ঐক্য— আপনি কোথা থেকে এসেছেন সেটা কোনো ব্যাপারই না। আপনি যদি মুসলিম না হতেন, এখন আপনি কী করতেন?

আপনি এখন পর্যন্ত কোন ধরনের পরিস্থিতির মধ্যে থাকতেন? ওহ। মৃত, অথবা জেলে? -হ্যাঁ? -হ্যাঁ। এটা দুঃখজনক, কিন্তু যখন আমি আমার অবস্থানটা দেখি, আমি আশেপাশে তাকাই, আমি আমার বন্ধুদের দেখি, আমি আমার সংস্কৃতি দেখি। আমি যে পরিবেশে বড় হয়েছি এবং সেখানকার মানুষের যে অবস্থা ছিল, আমি মনে করি না এটা আমার জন্য ভালো হতো। নবী (সাঃ) সম্পর্কে কোন বিষয়টা আপনাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে?

সুবহানাল্লাহ (সাঃ) (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)। এটাতো অনেক বড় প্রশ্ন। আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে— যখন আমি তাকে উদাহরণ হিসেবে দেখি আমার জীবনের কঠিন সময়গুলো ও দুঃখ-কষ্টগুলো সামলানোর ক্ষেত্রে। কয়েক বছর আগে আমাদের গর্ভধারণ নষ্ট হয়েছিল। আর আমি বলব, একজন বাবা হিসেবে আমার জন্য সম্ভবত সবচেয়ে কঠিন বিষয় ছিল, বাসায় ফিরে আপনার সন্তানদের বলা যে তাদের ভাই বা বোন—মারা গেছে। আর আজও, এটা আমার চোখে পানি এনে দেয়, এটা আমার হৃদয় ভেঙে দেয়। আমার জন্য এতটা নয়, যতটা তাদের প্রতিক্রিয়ার কারণে, ঠিক আছে?

আর তখন আমি এমন একজন মানুষের দিকে তাকাই যিনি তার জীবদ্দশায় তার সব সন্তান হারিয়েছেন কেবল একজন ছাড়া। আর আমি এমন একজন মানুষের দিকে তাকাই, যার নিজের পরিবারই তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল, তাকে হত্যা করতে চেয়েছিল, তারা তাকে বয়কট করেছিল, তাকে অনাহারে রেখেছিল। তার জীবনে এসব কষ্টকর দিকের অসংখ্য ঘটনা ঘটেছিল। তবুও তিনি অবিচল ছিলেন। তবুও তিনি সালাত (নামাজ) আদায় করতেন। তিনি রমজান মাসে রোজা রাখতেন। এমন কিছু ছিল না যা তার পক্ষে সহ্য করা খুব কঠিন ছিল। তাই আমরা বাবা-মা হিসেবে, আমরা মুসলিম হিসেবে, আমরা মানুষ হিসেবে, যখন আমরা তার অসাধারণ ধৈর্য আর দৃঢ়তার উদাহরণ দেখি, ইসলামের বার্তার প্রতি তাঁর যে বিশ্বাস ছিল। এসবের পরও, মক্কার বিজয়, বাড়ি ফিরে এসে বলা, “আপনি জানেন, আজ রহমতের দিন। আমরা এখানে যুদ্ধ করতে, হত্যা করতে আসিনি। আমরা এখানে এসবের জন্য আসিনি।” তাই যখন আমি তাঁর দিকে তাকাই, আমি এমন এক উদাহরণ দেখি, যেটা আমরা অনুসরণ করতে পারি এবং শান্তি খুঁজে পেতে পারি। বুঝলেন, যখন আমরা তার ওই কষ্টগুলো দেখি। যদি আপনার সুযোগ থাকত অমুসলিমদের সাথে কথা বলার তবে, আপনি তাদের উদ্দেশ্যে কী বলতেন, যদি কয়েক মুহূর্ত সময় পেতেন?

আমি বলতাম—আপনারা যে সমস্যাগুলো মোকাবিলা করেন, যেগুলো আমাদের সবারই আছে, আপনারা যে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যান, তার অবশ্যই সমাধান আছে। আর দুঃখজনকভাবে, সেই সমাধানটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে আপনার কাছ থেকে লুকিয়ে রাখা হচ্ছে সেসব মানুষের দ্বারা যারা চায় না আপনি সত্য আবিষ্কার করুন। আর তারা চায় না আপনি সত্য আবিষ্কার করুন, কারণ আপনি যদি করেন, তাহলে আপনি আর নির্ভরশীল থাকবেন না তাদের তৈরি করা সেই সিস্টেমের ওপর। আপনি মুক্ত হয়ে যাবেন সেইসব “ম্যাট্রিক্স” থেকে যেমনটা তারা বলে। তাই আপনি সেখান থেকে মুক্ত হবেন আপনার বোঝাপড়ায় এবং আপনার জীবনের উদ্দেশ্যে। কারণ আমাদের একটা উদ্দেশ্য আছে। আর আমাদের উদ্দেশ্য, এই সব ফাঁদে পড়া নয়, বুঝলেন, এই মসৃণভাবে চলা যন্ত্রের অংশ হয়ে যাওয়া, যা তার পথে যা কিছু পড়ে সব ধ্বংস করে দেয়। আপনার উদ্দেশ্য তার থেকেও অনেক বড়। আর আপনি যখন সত্যিকার অর্থে এটা মেনে নেবেন যে আমাকে বিনয়ী হতে হবে, আমি অহংকারী হতে পারি না, তখন আপনি ইসলামের দিকে তাকাতে শুরু করবেন। তখন আপনি বুঝতে শুরু করবেন—একটু ভাবুন, এটাই তো আমার সব সমস্যার সমাধান। শুধু আমার সমস্যাই নয়, বরং অর্থনৈতিক সমাধান হিসেবেও, রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমাধান হিসেবেও। এই সব সমস্যার উত্তর একটাই, আপনি সময় নিয়ে ভাবুন বুঝুন, তারপর সিদ্ধান্ত নিন।