Towards Eternity
ব্লগে ফিরে যান

শত্রু থেকে মুমিন - ইসলাম গ্রহণের ১০টি ঘটনা যা সবাইকে অবাক করেছে।

প্রকাশের তারিখ

YouTube-এ দেখুন

ইসলাম, এমন আক্রমণাত্মক এবং বিপজ্জনক ধর্ম...

এটা কিছুতেই সত্য হতে পারেনা। প্লিজ গড, প্লিজ। অন্য যে কোন কিছু শুধু ইসলাম ছাড়া হ্যাঁ, আমি নাস্তিক ছিলাম। ধর্ম আমার কাছে অবান্তর মনে হতো। ধর্ম হলো মানুষের স্বাধীনতাটাকে নিয়ন্ত্রণের একটা উপায়। তো যখন আপনি ধর্মের বন্ধন থেকে বেরিয়ে আসেন, তখন আপনি ঈশ্বরের হাত থেকেও কিন্তু মুক্তি পেয়ে যান। বিশ্বাস করতাম, স্রষ্টার কোনো ধর্ম থাকলে তার প্রমাণও থাকবে। আমাদের কাছে স্পষ্ট, বাস্তব ও দৃশ্যমান প্রমাণ থাকবে। এবং তিন বছরের সময়কালে আমি এই কাজটিই করেছিলাম। এই বোমাটা। আমার শহরে একটা ইসলামিক সেন্টার ছিল। রমাদানের কোন এক শুক্রবারের বিকেল। ওরা সবাই ওখানে ছিল। এবং আমি বোমাটিকে মাঝরাতে সেখানে রাখতেই যাচ্ছিলাম। এর আগের রাতে, সেসময় এটি সহজ ছিল, কারণ একই শত্রু, সবাই মুসলিমদের ঘৃণা করে। যে লোকগুলোকে দেখে আমি ইসলাম সম্পর্কে ধারণা লাভ করেছিলাম, সেগুলো ছিল খারাপ উদাহরণ। এটা আসলে ইসলাম নয়। এটা অনেকটা ইসলামের মত। তাই আমি শুধু পড়তেই থাকলাম। আমার খারাপ অনুভূতিগুলো ক্রমেই হ্রাস পেতে থাকল। এগুলো একদম চলে গেল। ইসলাম সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলাম খুব সহজেই, কিন্তু দ্বিধায় ছিলাম একমাত্র ইসলামের খারাপ ভাবমূর্তির কারণে। তাই আমি কুরআন বারবার বারবার পড়তে থাকলাম, তৃতীয় দিনে, আমি কুরআনে গভীরভাবে মনোনিবেশ করলাম। আমি ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়ার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে হলাম। এরপর যা ঘটল, আমার সেলমেট বলল, “তুমি নাশতার পর থেকেই এই বইটাই পড়ছো। তুমি কি খাবার খাবে না?" "ওহ, আমি সত্যিই এই বইটিতে ডুবে গেছি!" কেন?

কেন? ইসলাম গ্রহণের আগে আপনার জীবন কেমন ছিল? আপনি কী বিশ্বাস করতেন?

আমি অনেক খ্রিস্টীয় শিক্ষা নিয়ে বড় হয়েছি, যেমনটা অধিকাংশ আমেরিকান শিশু হয়। আমি সেগুলো সম্পর্কে জানতাম, কিন্তু সত্যি বলতে কি জানেন, আমি নিজের সম্পর্কে এই জাতীয়তাবাদী মতাদর্শ অর্জন করছিলাম। এতে ধর্মের কোন ভূমিকা ছিল না। এটাকে খুবই কাল্পনিক কাহিনী বলে মনে হত। খুব বেশি হোকাস, ফোকাসের মত, কিন্তু আমি আমার দেশের উপর বিশ্বাস রাখতাম। বুঝলেন, আমি লোকজনকে বলতাম, আমার কাছে যেহেতু ভালো উদাহরণ ছিল না, পতাকাটাই ছিল আমার ক্রস। এর চেয়ে ভালোভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। আমি একজন সাউদার্ন ব্যাপ্টিস্ট খ্রিস্টান ছিলাম। আমি ‘বাইবেল বেল্ট’ নামে একটা জায়গায় বড় হয়েছি। যেখানে ম্যাকডোনাল্ডসের চেয়ে গির্জার সংখ্যা বেশি। আমি বাইবেল নিয়ে পড়াশোনা করেছি। আমি একজন ইয়ুথ মিনিস্টার ছিলাম, একজন মিশনারিও ছিলাম। আমি গুয়াতেমালায় একটি মিশনে অংশগ্রহণ করেছি। খ্রিস্টধর্ম ত্যাগ করার সময়, আমি সাউদার্ন ব্যাপ্টিস্ট গির্জায় একজন ইয়ুথ মিনিস্টার ছিলাম। হ্যাঁ, আমি নাস্তিক ছিলাম। ধর্ম আমার কাছে অবান্তর মনে হতো। আমার মনে হতো এটা মানুষকে সুখী না হতে দেওয়ার একটা পন্থা, আর, ইচ্ছেমতো চলতে না দেওয়ার একটা ফন্দি। ধর্ম হলো মানুষের স্বাধীনতাটাকে নিয়ন্ত্রণের একটা উপায়। তো যখন আপনি ধর্মের বন্ধন থেকে বেরিয়ে আসেন, তখন আপনি ঈশ্বরের হাত থেকেও কিন্তু মুক্তি পেয়ে যান। আমার ইসলামের যাত্রা শুরু হলো কলেজে আমার সিনিয়র বছরে, যখন আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম আমি একজন ব্যাপটিস্ট প্রচারক হবো । আমি কলেজ ছেড়ে সেমিনারিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেইনি, কিন্তু আমি চেয়েছিলাম ডিগ্রি শেষ করে তারপর সেমিনারিতে যেতে। তো, আমার শেষ করার জন্য এক বছর ছিল। এবং আমার উৎসাহের কারণে, আমার সব বন্ধুদের টেনে নিয়ে যেতে লাগলাম, সহকর্মীদের, যাদেরই সাথে পাই, ধর্মীয় আলোচনায় নিয়ে যেতাম। যেন আমি চিন্তা করতে পারি, কিভাবে আমি মানুষকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে পারি। তাই না?

পুরো মিশনটা ছিলো তাদের খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত করা। আমি সর্বদা ঈশ্বরে বিশ্বাস করতাম, প্রথম দিন থেকেই। আমি জীবনে কখনো মনে করিনি, "ঈশ্বর যদি না থাকেন তবে?" আমি কখনো এই সংশয়ে পড়িনি। আমি বাইবেল পড়ছিলাম, জ্যাকব সম্পর্কে একটি নির্দিষ্ট শ্লোক পড়লাম, যেখানে য্যাকব বলেন...

আমি প্রথম যে শ্লোক পড়লাম, সেখানে লিখা আছে, "কেউ ঈশ্বরকে দেখার পর আর জীবিত থাকতে পারবে না।" আমি ভাবলাম, কিন্তু মানুষ তো যিশুকে ঈশ্বর বলে, আর তারা সবাই যিশুকে দেখেছে। এবং কেউই যিশুকে দেখে মারা যায়নি। শ্লোকটি ছিল, "কেউ ঈশ্বরকে দেখার পর আর জীবিত থাকতে পারেনা।" আমি পরের পৃষ্ঠায় গেলাম আর আরেকটি শ্লোক পড়লাম, সেটা জ্যাকবের আরেক গল্প। যেখানে জ্যাকব ঈশ্বরকে দেখলেনই না এমনকি ঈশ্বরের সঙ্গে কুস্তি করলেন। তিনি ঈশ্বরের সঙ্গে একটা কুস্তি খেললেন, ঈশ্বরের উরু ধরে ফেললেন আর ঈশ্বরকে বললেন "আমি আপনাকে যেতে দেব না যতক্ষণ না আমাকে আশীর্বাদ করেন।" একটু থামুন। আপনি তো বললেন, যদি কেউ ঈশ্বরকে দেখে, তাহলে কোনো মানুষ আর বেঁচে থাকতে পারবে না। তাহলে, জ্যাকব কীভাবে বেঁচে রইলেন?

এবং ঈশ্বরের কেন এমন আকৃতি রয়েছে যে তাঁকে ধরে রাখা যায়? আর ঈশ্বর, যিনি কিনা সর্বশক্তিমান তিনি জ্যাকবের থেকে মুক্ত হতে পারলেন না? এই কাহিনি চলতে থাকল। আমি কী করলাম? ১৪ বছর বয়সী আমি, হাত তুললাম। পাদ্রী এসে বললেন, কীভাবে সাহায্য করতে পারি?" আমি তাকে দেখালাম দুটি শ্লোক, আর তার প্রতিক্রিয়া ছিলো "হুম, আমি তো জানতামই না যে এটা বাইবেলে আছে।" আমি বললাম, আমি একটূ... মানে? কিন্তু আপনি তো বাইবেলের শিক্ষক। আপনি দায়িত্বে রয়েছেন আমাদের বাইবেল শেখানোর। আর একজন ১৪ বছর বয়সী ছেলে হয়ে আমি জিজ্ঞেস করলাম, "আমি কীভাবে এটি মেনে নেব? "আমি কিভাবে এটা মানতে পারি?

আমি নিজেকে অন্য ধর্মগুলো সম্পর্কে জানার দিকে ধাবিত করলাম। আমি ইহুদিবাদ পড়েছি। আমি হিন্দুধর্ম সম্পর্কে পড়লাম, মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য। আমি একটি বই পড়লাম, আর মনে হলো, এটা না। এটা একদমই আমার জন্য না। বিশ্বাস করতাম, স্রষ্টার কোনো ধর্ম থাকলে তার প্রমাণও থাকবে। আমাদের কাছে স্পষ্ট, বাস্তব ও দৃশ্যমান প্রমাণ থাকবে। তাই আমি অন্য ধর্মের বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছিলাম, ইহুদী, হিন্দু, বৌদ্ধ, তাওবাদের মতো সব ধর্ম। সব ধর্মই মনে হচ্ছিলো যেন, বিরোধপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করছিল। আমার নিজের শহরে একটা ইসলামিক সেন্টার ছিল। কিন্তু ঐ লোকগুলো সম্পর্কে আমি কিছুই জানতাম না। আমি তাদের দেখেছি। সুতরাং আমি আগে জায়গাটি দেখব, অবশ্যই একবার না,বরং একাধিক বার। এখানে বোমা পুতে রাখলে, তারা কি খুঁজে পাবে?

পিছনের দিকে, আমি একটি সুন্দর জায়গা খুঁজে পেলাম সেসময় এটি সহজ ছিল, কারণ সে সময় একটাই শত্রু, সবাই মুসলিমদের ঘৃণা করে। এবং তিন বছরের সময়কালে আমি এই কাজটিই করেছিলাম। আমি তৈরি করেছিলাম এই বোমাটা। আমি সময় নিলাম। আমি বড় একটি ঘটনা ঘটাতে যাচ্ছিলাম। অনেকেই হয়তো মনে করবে যে, এটি যেকোনভাবেই উন্মাদনা বলে গণ্য হবে, কারণ, এটার শাস্তি থেকে রক্ষা পাওয়া অসম্ভব। আমি জানতাম যে, আমি ছাড় পাব না। আমি জানতাম যে, আমি ধরা পড়ব। আরও জানতাম যে, আমার বিচার হবে কারণ তারা আমাকে শাস্তি দেবে। আমার কোন অস্বস্তি ছিল না কারণ আমি আমার অসম্মানজনক বিদায় চাইনি, বরং আমি বিশ্বাস করতাম যে, এই মানুষগুলিই আমাকে বীর মনে করবে কারণ, আমি ঠিক কাজ করছিলাম। এবং আমার মেয়ে আমাকে মুসলিম শিশুদের সম্পর্কে জানিয়েছিল, যাদের সাথে সে স্কুলে পড়ত এবং বড় হয়েছিল। তাই আমি ভাবলাম যে, আমি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছি, কারণ তাকে রক্ষা করতে পারিনি। স্কুলের এসব মুসলিম থেকে আমি তাকে রক্ষা করতে পারিনি। এটাই ছিল মূল ঘটনা। আমি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছিলাম। এবং আমার সাত বছর বয়সী কণ্যা আমার দিকে এমনভাবে তাকিয়েছিল, যেন আমি উন্মাদ হয়ে গেছি। তার চোঁখের চাহনী এমন ছিল যে, এমনকি সে এমন আচরণও করছিল যে, সে হয়তো আমাকে আর ভালোবাসে না, কারণ আমি একদম বর্ণবাদী হয়ে গিয়েছিলাম। আসলে, এসবের বিপরীতে কেবল একজন মানুষ, একমাত্র কারণ হলো তাদের নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি অথবা তারা নির্দিষ্ট কিছু কাজ করে বলে, ব্যস। এরপর বিভিন্ন চিন্তা-ভাবনার পরে, আমার মুখে কিছু কথা আসল এবং আমি তাদেরকে সকল ধরণের অশালীন শব্দে গালি দিলাম, এর চেয়ে বেশি বলতে পারব না। আমি উপরে আমার বেডরুমে গেলাম, আমি বিছানায় বসে পড়লাম এবং কাঁদতে শুরু করলাম। নিজেকে বললাম, তোমাকে প্রমাণ খুঁজতে হবে। তুমি জান যে তুমি ঠিক, নিজের উপর আমার বিশ্বাস ছিল। আমি ঠিক ছিলাম, কারণ তারা খারাপ। তারা আমাদের মেরে ফেলতে চায়, ঠিক তো?

তবে, আমার কাছে দৃশ্যমান কোন প্রমাণ ছিল না, আমাকে আমার মেয়েকে প্রমাণ দেখাতে হবে, তাই,আমাকে ওগুলো সংগ্রহ করতে হবে। কিন্তু আমি এগুলো পাব কোথায়? মসজিদে ছাড়া আর কোথায়... সেখানে যেতে চাই না এবং আমি ভিতরে গেলাম, আমি তাদের সাথে দেখা করলাম এবং নিজের পরিচয় দিলাম যে, আমি ইসলাম সম্পর্কে আরও কিছু তথ্য জানতে চাই, পুরাটাই মিথ্যা না, কিন্তু আমি তাদের নিজ উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানাই নি, এজন্যই আমি অনেকের সাথে কথা বললাম, অনেকের সাথে পরিচিত হলাম, অনেকের সাথে কথা বললাম। শুক্রবারের কথা। আবারও শুক্রবার আমি সেখানে গেলাম, রবিবারতো তারা থাকে না আমি মনযোগ দিয়ে খুতবা শুনলাম এবং আমার মনে হল, “আরে!

এটাতো ভালোই। আমি এসেছি বলেই ওরা এসব বলছে। আমি সেটা জানি তারা হয়তো মিথ্যা প্রোপাগান্ডার জন্য ভিডিও বানাতে নিচ তলায় কিছু লোক ধরে এনেছে। আমি সেটা জানি। এর মানে হল, এই কথাগুলোই আমার মনের মধ্যে খেলে যাচ্ছিল, বুঝলেন? তারপর তারা আমার হাতে একটি কুরআন ধরিয়ে দেয় এবং বাসায় নিয়ে যেয়ে পড়তে বলে। প্রশ্ন থাকলে আবার যেতে বলে। আমি খুবই খুশি ছিলাম, কারণ আমার মনে হচ্ছিল, আমাকে যেন মহামূল্যবান কোন উপহার দেওয়া হয়েছে। ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য আমি কাউকে পেতে যাচ্ছি সম্ভবত, বাহ!

এটাতো লটারি পাওয়ার চেয়েও দারুণ। জ্ঞানী ব্যক্তির সংস্পর্শে আসতে পারে নি। তারপর একটি মৃদু আলো আসলো। অবশ্যই যে লোকগুলোকে দেখে আমি ইসলাম সম্পর্কে ধারণা লাভ করেছিলাম, সেগুলো ছিল খারাপ উদাহরণ। এটা আসলে ইসলাম নয়। এটা অনেকটা ইসলামের মত। তাই আমি শুধু পড়তেই থাকলাম। আমার খারাপ অনুভূতিগুলো ক্রমেই হ্রাস পেতে থাকল। এগুলো একদম চলে গেল। এবং তারপর আরও নির্দিষ্ট কিছু আয়াত জেনেছি। আপনি জানেন কি, “আল্লাহ আমাদের বিভিন্ন জাতি এবং গোত্রে বিভক্ত করেছেন। তাই আমরা একে অন্যের কাছ থেকে শিখতে পারি, একে অন্যকে অবজ্ঞা করে নয়।” আচ্ছা, ঠিক আছে। আমি এখানে এটি দেখতে পাচ্ছি, কারণ এখানে স্থানীয় সরকার এবং রোটারি ক্লাব এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত লোকজনকে দেখতে পাচ্ছি। আচ্ছা, বুঝতে পেরেছি। সবকিছু এভাবে চলতে শুরু করল। আমি এটা পড়লাম আর আমি শুধু...

কুরআনের ভাষা আর প্রকাশভঙ্গি আমার কাছে একেবারেই অনন্য মনে হলো। আর আমি ভাবলাম, এই বইটির ভাষাশৈলী অসাধারণ! তাই আমি কুরআন বারবার বারবার পড়তে থাকলাম, তৃতীয় দিনে, আমি কুরআনে গভীরভাবে মনোনিবেশ করলাম। আমি ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়ার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলাম। এরপর যা ঘটল, আমার সেলমেট বলল, "এই, তুমি কি রাতের খাবারে যাবে না?" আমি বললাম, "রাতের খাবার?" কুরআন থেকে চোখ তুলে বললাম। "রাতের খাবার?" সে বলল, "হ্যাঁ, তুমি নাশতার পর থেকেই এই বইটাই পড়ছো। তুমি কি খাবার খাবে না?" আমি বললাম, "হ্যাঁ, খাওয়া তো উচিত।" আমি কুরআন বন্ধ করলাম আর খেতে গেলাম আর ভাবলাম, "ওহ, আমি সত্যিই এই বইটিতে ডুবে গেছি!" কেন? কেন?

কোরআনের মুজেজা অসংখ্য অগণিত। কোন নির্দিষ্ট একটি বড় মুজেজা নেই। লোকে ভাবে, যেহেতু আমি কুরআনের ভাষা নিয়ে কথা বলি, আমার কাছে কুরআনের ভাষা কুরআনের মুজেজা, না। ভাষা অনেক গুলোর মধ্যে একটা। এবং একজন মনস্তত্ত্ববিদ হয়তোবা কোন আয়াতে নাফস নিয়ে কিছু দেখতে পাবেন, সেটা তাদের মজেযা। একজন ভূগোলবিদ, অন্য কিছু দেখবে। একজন ঐতিহাসিক, অন্য কিছু দেখবে। একজন সমাজবিদ, অন্য কিছু দেখবে। একজন দার্শনিক, অন্য কিছু দেখবে। সেটা তাদের কাছে মু্জেজা। একজন ভাষাবিদ, অন্য কিছু দেখবে। একজন ধর্ম বিশেষজ্ঞ, অন্য কিছু দেখবে। প্রকৃতপক্ষে কুরআনের মু্জেজা নির্ভর করে কে তাকে পড়ছে তার ওপর। এটা কুরআনের মুজেজাগুলো নিয়ে চমৎকার ব্যাপারগুলোর একটি, এটা কেবল একটি লাঠির সাপ হয়ে যাওয়ার ব্যাপার না, বুঝলেন?

প্রত্যেকটি মানুষের ক্ষমতা রয়েছে কুরআন থেকে তাদের মু্জেজা খুঁজে বের করার। এটা সত্য হতে পারেনা। এরপরও, যেন আমি নিজেকেই বলছিলাম, "প্লিজ গড প্লিজ। এটি যেন সত্য না হয়। ইসলাম ছাড়া অন্য যে কোন কিছু। প্লিজ আমার জন্য অন্য কিছু নির্বাচন করুন, কিন্তু ইসলাম না। কেন এটাই সত্য হতে হল?

হ্যা। কারণ আমি বলেছিলাম, "না, কিভাবে এই ধর্ম অনুসরণ করবো?" আমি পশ্চিমে ইসলামের ভাবমূর্তি সম্পর্কে জানতাম। আমি নিজের মনেই বললাম, "যদি আমি আমার বাবা মা, বন্ধু বান্ধবকে, বলি যে, আমি মুসলিম হয়েছি তাহলে কি হবে, অসম্ভব।" আমি সহজেই ইসলামের প্রতি নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলাম, কিন্তু ইসলামের ভাবমূর্তির কারণে আমি দ্বিধা করছিলাম। আমি এক শুক্রবার মসজিদে আবার গেলাম এবং আমি দুই ব্যক্তির দেখা পেলাম সেই লোকগুলো, যাদের সাথে আমার পরিচয় হয়েছিল। কিন্তু তাদের সাথে আমার একটা সম্পর্ক তৈরি হয়। এবং আমি তাদের কাছে গেলাম। আমি বললাম, শোন, আমি শাহাদা নিতে চাই। সত্যি কাহিনী। তারা পাশাপাশি দাড়িয়ে ছিল, একে অন্যের দিকে তাকাচ্ছিল। তারা বার বার আমার দিকে তাকাচ্ছিল। তার চলে গেল ‘’না’’ সত্যি গল্প। হায় আল্লাহ!

আমি অভিভূত হয়ে গেলাম। আমি বললাম, “না” মানে কি? সে বলল, “ভাই, তোমাকে আরও জানতে হবে।” তাই তারা একে অন্যের দিকে তাকাল এবং আমার দিকেও। ঠিক আছে, চলুন। সত্যি ঘটনা। এটা এমন একটা অভিজ্ঞতা ছিল, যেমনটা আমরা এর ভিতর দিয়ে যাচ্ছিলাম, আমি ইংরেজিতে বললাম। তারপর আমরা শুরু করলাম এবং আরবিতে বললাম। আর সেই দিনে জুমায়, ১৯৯১ সালের, আমি বললাম, আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা শারীকালাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু। আর আমি একজন মুসলিম হলাম। আমি তখন নাপিতের কাছে যাচ্ছিলাম। আমার মনে আছে আমি আমার নাপিতের কাছে ছিলাম। তাকে বলছিলাম, "এটা নামাজের সময় না?

এখন তো মনে হয় যোহরের (দুপুরের নামাজ) সময়, তাইনা?" সে বলল, "হ্যাঁ, কিন্তু..." "আপনি কি মুসলিম নাকি?" আমি বললাম, "না, কিন্তু আমি পাঁচ ওয়াক্ত প্রার্থনা করার চেষ্টা করি কারণ এতে আমার মনে প্রশান্তি অনুভব হয়, এবং আমি মুসলিম হবার খুবই কাছে।" "মোটামুটি খুব কাছে।" তারপর সে আমাকে একটা কথা বলল যেটা সেই সময় সম্ভবত আমার খুবই প্রয়োজন ছিল। সে বলল, "যদি আপনি কাল পর্যন্ত বেঁচে না থাকেন?" অথবা যদি আজকেই মারা যান? মুসলিম হিসেবে মৃত্যুলাভ করবেন তো? নাকি একজন অমুসলিম হিসেবেই মারা যাবেন?" আর সুবহানআল্লাহ বিষয়টা আমাকে সত্যিই ভাবালো। আর আমার কাছে সে সময় এর কোন উত্তর ছিলনা, নাপিতের কাছে থেকে আসার পর, বাড়ী ফেরার সময়, আমি নিজেকে প্রশ্ন করলাম, "সত্যিই, যদি আমি মারা যাই? আমি কিভাবে মারা যাবো?

এবং আমি কোথায় যাবো?" মানে, কখনো কখনো মৃত্যুই সর্বশ্রেষ্ঠ রিমাইন্ডার। আমার মনে আছে আমি তখনই বাড়ি যাওয়ার পথে আমার বন্ধুদের কল করে বললাম "কালকেই আমি শাহাদা পড়তে চাই। আমি নিশ্চিত এবং আমি প্রস্তুত।। দশ মাস ধরে মনের সাথে যুদ্ধের পর, আমি শাহাদা পড়েছিলাম। আমার অন্তরের ভেতর একটা টানাপোড়েন, একপ্রকার সংগ্রাম চলছিল, আমি জানতাম এটাই সত্য, কিন্তু তারপরও আমি ইসলাম গ্রহণ না করার অজুহাত খুঁজে বেড়াতাম। দশ মাস ধরে, যেন অন্তরের ভিতর নিজের সাথে নিজের একটা দশ মাস ব্যাপী যুদ্ধ লেগে ছিল। এবং হঠাৎ করেই যেন সেই যুদ্ধ থেমে গেল। অন্য সব যুদ্ধের মতোই, এটির সমাপ্তি আপনাকে তৃপ্ত করবে। কিন্তু এই যুদ্ধে, আমি যেন হেরে গিয়েও বিজয়ের স্বাদ আস্বাদন করছেন। এবং আমার অন্তরে আমি এমনটাই অনুভব করেছিলাম। কারণ এটিই সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। আমি শুধু নিজেকে প্রশ্ন করলাম "কেন আমার এটা বুঝতে এতো দেরি হল?

কেন?" আমি সেই দোকানে কাজ করতাম এবং সালাতের সময় হতো। আমি দৌড়ে শ্যু এরিয়াতে যেতাম, জুতোর গুদামে, এবং দ্রুত গিয়ে সালাত আদায় করে নিতাম। আসরের সময় হতো, আবার যেতাম, আসছি যাচ্ছি, আসছি যাচ্ছি, আমি নিয়মিত সালাত আদায় করতে শুরু করলাম। আমার সহকর্মীরা, তারা প্রায় সবাই ছিল হিচ্প্যানিক। তারা আমাকে নোমান ডাকত না। তারা আমাকে আলী ডাকতো। যেমন, "ইয়ো, আলী, কি করছো, ভাই?" "এমন অদ্ভুত কান্ড কেন করছো?" "আরে, তুমি আমার দিকে তাকাচ্ছ না কেন?" আমি ইবাদত করছি, ব্যাখ্যা দিতে হতো। “ওহ, ভাই। তুমি কি বলছো? মানে ঈশ্বরের সাথে কথা বল?” "আচ্ছা, তুমি কি তাকে আমার প্রমোশনের কথা বলতে পারো?" "বেতন বাড়াতেই হবে।" তো, এমনটা ছিল …

তারা এই ব্যাপারে নানা প্রশ্ন করতে শুরু করল। আমি ইসলাম সম্মন্ধে কিছু জানতাম না। কিন্তু আমার বন্ধুরা, ডমিনিকান, পুয়ের্তো রিকান, কিউবান প্রতিবেশী বন্ধুরা, সহকর্মীরা, তারা বলতো, "তাহলে কি আমি জাহান্নামে যাবো?" আমি বলতাম, আমি জানিনা। "তুমি শুকরের মাংস খেতে পারবে না, তাই না? তো আমি এখনই সেটাই খাচ্ছি। কেমন লাগছে তোমার এটা দেখে?" তারা এসমস্ত কাণ্ডকারখানা করত। এটার আসলে একটা মজার গল্প আছে, কারণ শাহাদা পাঠ করার পরও তখনও আমি আমার স্ত্রীকে কিছু বলিনি, বুঝলেন? সে জানত আমি মসজিদে যাচ্ছি, কিন্তু সে কিছুই ভেবে পেল না। তাই, আমি সেখানে গেলাম এবং শাহাদা নিলাম, আমি বাসায় আসলাম এবং কুশনের উপর বসে পড়লাম, অবস্থাটা এমন যে, আমি যেন অফিস থেকে ফিরলাম, তেমনই কিছু, বুঝলেন? তারপর সে বলল, তুমি ঠিক আছো?

কারণ সে চিন্তিত যে, আমি হয়তো কিছু একটা করতে যাচ্ছি? তার কোন ধারণাই ছিল না। আমি বললাম,‘’না, সব ঠিক আছে।’’ সে বলল,‘’আচ্ছা, আচ্ছা।’’ তার দিকে তাকিয়ে আমি বললাম, ‘’আমি একজন মুসলিম’’ এটি আরেকটি সত্যি ঘটনা। মজার কিন্তু এটাই সত্যি। স্বভাবতই সে বলল, “কি?” আমি বললাম, “হ্যাঁ, আমি শাহাদা নিয়েছি” সে বলল, “শা... কি? এবং আমার ইসলাম সম্পর্কিত সামান্য জ্ঞান ছিল, তাই না?

আমি তাকে যতটা সম্ভব ভালোভাবে বোঝানোর চেষ্টা করলাম। ঠিক আছে। আমি ব্যাপ্টিজমের উদাহরণ দিচ্ছিলাম, এবং সে হতবিহ্বল হয়ে গেল। ওখানে দাড়িয়ে সে বলে উঠল, আচ্ছা, আমি এখন তোমাকে কিছু বলতে চাচ্ছি। আমার মাথায় কিছুই আসছে না। ঠিক আছে, তুমি একজন মুসলিম নও, তাই তো। আমি ওটাকে কোন কথোপকথন মনে করলাম না। ঠিক আছে। এর কিছুক্ষণ পর সে ফিরে এসে বলল, অন্য বিষয়টি হলো, তোমার যদি একাধিক স্ত্রীর প্রয়োজন হয়, তাহলে আমি তোমার সাথে নেই। আমার অবস্থা এমন যে, আমি নিজে নিজে ভাবছিলাম, আরে, আমার সম্ভবত সেটার দরকার নেই। তাই সেও শাহাদা নিল, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করলাম। আমি যেন হতবাক হয়ে গেলাম কিন্তু মজা করতে ভালো লাগে। মজা করতে ভালোবাসি। তাই, তার দিকে তাকিয়ে বললাম, আমি ড্রাইভ করছিলাম এবং তার দিকে তাকিয়ে বললাম, তুমিও তাহলে মুসলিম একাধিক স্ত্রীর বিষয়টির নিয়ে কি করা যায়। সে এটা নিয়ে আমার দিকে বেশ রুক্ষ চাহনিতে তাকাল আর বলল, আমিতো গাড়িটা থামাতে বাধ্য করনা আমি বললাম, তুমি কি করে গাড়িটা থামাবে, আমি ড্রাইভ করছি তো, সে বলল, আমি এটা থামিয়ে ফেলব। আমি বললাম, আরে, থামো। আমার কলেজ থেকে ছিল, এখন ৩৪ বছর ধরে আমার স্ত্রী, আমরা তখনও বিয়ে করিনি। আমরা বিয়ে করার জন্য গ্র্যাজুয়েট পর্যন্ত অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু আমরা তিন বছর ধরে ডেটিং করছিলাম। আমরা এনগেজড ছিলাম। আমাদের বিয়ের পরিকল্পনা ছিল। আমি এই সমস্ত মানসিক গবেষণা করছিলাম। সে ভাবছিলো আমি ব্যাপটিস্ট প্রচারক হচ্ছি। আমি সিদ্ধান্ত নিলাম আমি মুসলিম হবো, ঠিক আছে?

কিন্তু আমি কারো সাথে কথা বলিনি। পুরো সময়টা নিজের ভেতরে এটা রেখেছি। তাই যখন আমি মসজিদে যেয়ে শাহাদা নিয়ে বাসায় আসি, আমি বললাম, “আমি তোমাকে কিছু বলতে চাই।” সে বললো, “কি?” “আমি মুসলিম হতে যাচ্ছি।” “আমি শাহাদা নিয়ে মুসলিম হয়েছি।” আর তার মুখ, আমার দিকে তাকিয়ে...

“হাই!” থেকে “কী?!” “তুমি কি করেছো?” বললাম, “আমি মুসলিম হয়েছি।” বললো, “কেন এমন করলে...” আর সে চিৎকার করা শুরু করলো, আর বিরক্ত হওয়া শুরু করলো। সে বলল, “আমি জানি না এটা কোথা থেকে এসেছে?” আর সে তালিকা করা শুরু করলো সেইসব জিনিসের, যা সে কখনোই করবে না। বললাম, শান্ত হও। আমার জন্য খুশি হও। তুমি কি করবে তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আমার জন্য। তো, সে শান্ত হলো। আমার কাছে হালাল আর হারামের সেই বইটি ছিল তো আমি বইটা পড়ছিলাম আর আমি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই জেনেছি মুসলিমরা সুদের ব্যবসা করে না। আমি ফিনান্সে ডিগ্রি নিয়ে স্নাতক হয়েছি। আমি সুদের হারে বিশেষজ্ঞ, কিভাবে টাকা দিয়ে টাকা ইনকাম করা যায়। আর আমি ব্যাপটিস্ট যাজক হতে যাচ্ছি না। তো আমি ভাবলাম, তাহলে আমি কী করবো?

আমি খুঁজতে শুরু করলাম আমি কোন কাজ করতে পারি। তো আমি একটা চাকরি পাই ট্রাকিং বিক্রয় প্রতিনিধির। ব্যবসায়ীদের ফোন দিয়ে বলতাম, “আপনার পণ্য পাঠানোর জন্য আমাদের ট্রাক ব্যবহার করুন।” ঠিক আছে!

আর এভাবেই আমার আয়ের শুরু হলো। আর হালাল-হারামও একটু একটু করে পড়ছি, এটা বলে যে, মুসলমানরা শুকর খায় না। তো আমি স্ত্রীর কাছে গিয়ে বললাম, “আমি কিছু শিখেছি।” সে বললো, “কি?” বললাম, “মুসলিমরা শুকর খায় না। তো, যখন তুমি খাবার তৈরি করবে বা যাই করো না কেন, এটা আমাকে দিয়ো না,” সে বললো, “কি পেয়েছো তুমি...” মানে, সে আমাকে তার দু:খিত চেহারা দেখালো, আর তারপর ভাবলো, আমি একটা কাল্টে সত্যিই যোগ দিয়েছি। আর সে বললো, “আমি এটা করতে যাচ্ছি না।” সে বলা শুরু করলো সে কি করবে না। আমি বললাম, “এটা নিয়ে চিন্তা করো না, যা খুশি করো। আমাকে শান্তিতে থাকতে দাও।” আমি কয়েক পৃষ্ঠা পড়লাম আর এটা বলে মুসলিম পুরুষরা স্বর্ণ পরিধান করে না। আমার ইতিমধ্যে বিয়ের জন্য একটি স্বর্ণের ব্যান্ড বাছাই করেছিলাম। আমি তার কাছে গিয়ে বললাম, “আমরা কি পরিবর্তন করতে পারি এই ব্যান্ডটাকে রূপার সাথে?” সে বাগদানের আংটি ছুড়ে ফেলে রুমের অন্যপ্রান্ত থেকে বললো, “আমি কখনই।” আর তার মন খারাপ হলো এরপর শান্ত হলো। আর তারপর, এবং এভাবে আমি ভাবছি, ঠিক আছে, কিন্তু সে...

এক কথায় বলতে গেলে আমরা শেষ পর্যন্ত...

আমি তাকে মসজিদে যেতে রাজি করেছিলাম আমরা ইসলামিকভাবে বিয়ে করি। এবং আমি গির্জায় যাই, আর পুরো বিবাহ আগের পরিকল্পনা মত শেষ করলাম। তো, দুটো বিয়ে। সে শুধু আমাকে সহ্য করছিল। সে আমাকে খুব পছন্দ করতো, কিন্তু সে ভেবেছিল আমি যা করছি তা অদ্ভুত। আরো কিছু হালাকা হলো। একদিন আমি বাড়িতে আসি, সে বললো, “আমার মনে হয় আমি প্রস্তুত।” “কিসের জন্য প্রস্তুত?” “মুসলিম হতে। কিন্তু আমি...” সে আমাকে একটা বড় লিস্ট দেয় যেগুলো সে করতে চায় না। আমি ভাবলাম, “সে তো আমার পথে আসছে। ঠিক আছে। ভালো, তুমি হতে চাও...” এক কথায়, সে মুসলিম হয়ে গেলো। সে যা বলেছিলো যে কখনোই এসব করবে না, এখন সে এসব করে। আমি আমার বাবাকে ফোন করলাম, যেমনটি আমি কারাগারে সবসময় করতাম। এবং আমি তাকে বললাম যে আমি মুসলিম হয়েছি। আর একটা কথা, আমার বাবা, তিনি খুবই গোড়া খ্রিস্টান আর অত্যন্ত কঠোর। তিনি বললেন, "তুমি কী করেছ?" আর আমি বললাম, "আমি মুসলিম হয়েছি।" "তুমি কি চাঁদের দেবতার উপাসনা করছ?" "না, আমি কোনো চাঁদের দেবতা বা চাঁদের উপাসনা করি না, আমি এক আল্লাহর উপাসনা করি, যিনি ঈসার আল্লাহ, মুসা ও ইবরাহিমের আল্লাহ।" আর তিনি বললেন, "না, তুমি এটা করো না।" "শোনো, তুমি এই ইসলাম..." আর তিনি একটা অশোভন শব্দ বললেন। আর তিনি আমাকে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানালেন। তিনি বললেন, "দেখো, তোমার ছয় অঙ্কের আয়, তোমার ছয় অঙ্কের উত্তরাধিকার, সব চলে যাবে। যা কিছু তুমি আমার পর পেতে যাচ্ছো, সব চলে যাবে।" আমার পরিবার পেট্রোলিয়াম শিল্পে রয়েছে, তাই অনেক স্বচ্ছল। আমি বললাম, "আপনি আমাকে ত্যাগ করবেন?" তিনি বললেন, "আজকের পর, যদি তুমি এই ইসলাম ধর্মে অবিচল থাকো, তবে তুমি আমার কাছে মৃত। তোমার সব উত্তরাধিকার শেষ।" তিনি বললেন, "বেটা, আমাকে পরীক্ষা করো না। আমি কাল আমার আইনজীবীর কাছে যাবো আর তাকে উইল পরিবর্তন করতে বলব আর তুমি পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে যাবে। তোমার কোনো ইনকাম থাকবে না। আমার কাছ থেকে কিছুই পাবে না। তুমি আমার কাছে মৃত। তোমার ভাই-বোনদের কাছেও মৃত। সব শেষ। তাই তুমি যা বলবে, তা খুব সাবধানে বলো। এখন, তুমি কি ইসলাম ছাড়বে, নাকি এই ভুয়া ধর্মে থেকে যাবে?" আর আমি বললাম, "এর উত্তর দেওয়ার আগে, আমাকে কিছু বলতে দিন। আমি আপনার সব বিষয়ে মেনে চলব, শুধু এই একটা বিষয় ছাড়া।" তিনি বললেন, "কেন?

আমার কাছে মৃত হওয়ার আগে, আমাকে ব্যাখ্যা করো, কেন?" আমি বললাম, "বাবা, আমাকে আমার নিজের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ছয় অঙ্কের উত্তরাধিকারের চেয়েও আরও বেশি কিছু আছে। সম্পত্তির চেয়েও বেশি কিছু আছে। এই জীবনের পরও আরও কিছু আছে। আর আমি এই জীবন নিয়ে মোটেও চিন্তিত নই। তাই যখন মুক্তির প্রশ্ন আসে, আপনি আপনার টাকা রাখতে পারেন। আমার ভাই-বোনদের দিয়ে দিন। দান করে দিন, আমি পরোয়া করি না। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমাকে অবশ্যই মুসলিম হতে হবে এবং মুসলিমই থাকতে হবে।" আর আজ আমি এখানে, ৩২ বছর পরও, একজন মুসলিম। আলহামদুলিল্লাহ। তো তারপর, আমি মুসলিম হওয়ার এবং মুসলিম থাকার সিদ্ধান্তে অটল ছিলাম, এবং প্রায় দুই সপ্তাহ পর ডাকযোগে আমি একটি চিঠি পেলাম। তিনি ঠিক সেটাই করেছিলেন। তিনি তার আইনজীবীর কাছে গিয়েছিলেন। যে পরিমাণ টাকা আমি উত্তরাধিকার হিসেবে পাওয়ার কথা ছিল, তা ছিল ৬ লক্ষ ডলার। এবং সেটি ছিল নব্বইয়ের দশকের শুরুর সময়। তাই এটি ছিল বিশাল অঙ্কের টাকা। তো আমি কেন এর ওপর মূল্য নির্ধারণ করব...

আমি পরোয়া করতাম না যদি এটা ৬০০ মিলিয়নও হতো। দেখুন, আপনি আর আমি, আমরা কবরে শায়িত হবো, এবং আমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার সামনে থাকবো। যিনি এক, যিনি অনিবার্য। এবং আমাদেরকে, জীবনে আমরা যা করেছি তার ব্যাপারে প্রশ্ন করা হবে। তো আমার দাদা সেদিন হার্ট অ্যাটাক করেছিলেন। তিনি হাসপাতালে ছিলেন, আমি ফ্লোরিডার পেন্সাকলা যেখানে আমি থাকি, সেখান থেকে ড্রাইভ করে তাকে দেখতে গেলাম। হাসপাতালে, একটা ওয়েটিং রুম ছিল আর সেখানে টেলিফোনও ছিল, ফোনের পাশে সবসময় কেউ না কেউ বসে থাকত, সার্জারির রুগীর পরিবার পরিজনদের সাথে কথা বলার জন্য। তো, আমি সেখানে বসে ছিলাম, আর আমার দ্বীনী ভাইয়েরা জানতো আমার দাদা অসুস্থ। মুহাম্মাদ আল-ওতাইবি নামের এক সৌদি ভাই, কল দিয়েছিল, আর আমার ফুফু, যিনি আমাদের পরিবারের মধ্যে সবচেয়ে উচ্চস্বরে কথা বলা মানুষ, কয়েক মাইল দূর থেকেও তার কণ্ঠ শোনা যায়। ফোন বাজল, তিনি ফোন ধরলেন। কী কথা হল আমি জানিনাI আমি অনুমান করলাম, সে হয়তো বলেছে "হারুন কি আছে?" আর আমার ফুফু "হারুন!

হারুন! এখানে কি কোন হারুন আছে ? হারুন পরিবার?" আর আমি আমার চেয়ারে আরও কুঁচকে বসলাম। তারপর মুহাম্মাদ তাকে বলল, "ওহ দাঁড়ান। কারলি? ওখানে কি কারলি আছে?" এখন আমার ফুফুও কৌতূহলী। তিনি ভাবছিলেন । তখন আমি শুনলাম, "হ্যাঁ? কারলি? ইসলাম?'" "তাহলে ইসলাম?" "হুহ" শব্দ করে তিনি ফোনটা আমাকে দিলেন, আমি বললাম "হ্যাঁ, হ্যালো। ওয়ালাইকুম সালাম (আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক)। হ্যাঁ, ঠিক আছে। আমাকে যেতে হবে। বায়।" সেই পর্যায়ে, আমার পুরো পরিবার একসাথে জেনে যায়। তারা সবাই জেনে গেছে। আর সবার প্রতিক্রিয়া ছিল, "হুহ।" খুবই সহজ ছিল বিষয়টি আমার জন্যে। এমন কোনো অসাধারণ অভিজ্ঞতা হয়েছে যেখানে আপনি আল্লাহর সাথে একটি বিশেষ সম্পর্ক অনুভব করেছেন?

আমি যখন জেল থেকে বাইরে আসি, একটা চাকরির খুব জরুরি দরকার ছিল। আমি যদি আমার কোনো কাজের জন্য বাদ পড়ি, সেটি আমার পরীক্ষামূলক সময়ের লঙ্ঘন বলে গণ্য হবে। তাহলে আমাকে আবারও দুই বছরের জন্য জেলে যেতে হবে। তাই জেল থেকে বেরিয়ে আসার পর, আমি কন্সট্রাকশনের একটি চাকরি পাই। প্রথম শুক্রবারে আমি আমার বসকে বললাম, সবাই যখন দুপুরের খাবার খায়... কারণ এক ঘণ্টা দুপুরের খাবারের বিরতি ছিল। বললাম, আমি দুপুরের খাবারের পরিবর্তে... জায়গাটি তিন মাইল দূরে ছিল, আমি বললাম, আমি জুমার নামাজ পড়তে যাব। তারা জানত আমি মুসলিম এবং আমি কর্মস্থলেই নামাজ পড়তাম। বললাম, আমি জুমার নামাজ পড়তে যাব। বললেন, তোমার কর্মস্থল ত্যাগ করার অনুমতি নাই আমি বললাম, এটাতো...

আমি আসলে অনুমতি চাচ্ছি না। আমি শুধু আপনাকে জানাচ্ছি। এরপর বললেন, তুমি যদি কর্মস্থল ত্যাগ করো, তোমাকে চাকরিচ্যুত করা হবে। তাই চাকরি করতে হলে আল্লাহর অবাধ্য হতে হবে। অথবা জুমার নামাজ পড়লে আমি আমার চাকরি হারাব। আমি বললাম, আপনি জানেন কি? আমি চার বছর জেলে থেকে দ্বীন জেনে সঠিক কাজ করতে শিখেছি। আমি সঠিক কাজটিই করলাম। তো ছেড়ে দিলাম। আপনার চাকরি থাক, আমি গেলাম। আমি জুমার নামাজে গেলাম। এবং আমি সেই জুমায় অনেক দোয়া করলাম, হে আল্লাহ, আমি তোমার জন্যই এখানে এসেছি। তাই, আমাকে সাহায্য করো। জুমার পর এক তরুণ আমার কাছে এলো। বলল, “ভাই, আপনার কি চাকরি আছে?” আমি বললাম, “একটু আগেও ছিল। আমি কর্মস্থল ত্যাগ করেছি এবং চাকরি ছেড়ে এখানে এসেছি।” তিনি বললেন, তার বাবা ইমাম ছিলেন...

তিনি এসে বললেন, “আমার বাবা বলেছেন আপনি কি তার পিজ্জার দোকানে কাজ করতে চান?” বললাম, “অবশ্যই, আমার চাকরি দরকার।” তো সেদিন থেকেই আমার চাকরি শুরু হলো। যার বেতন ছিল দ্বিগুণ, যেটা আমি কন্সট্রাকশন কম্পানিতে পেতাম। আগের চাকরি ছেড়ে নতুন চাকরি পেতে আমার সময় লেগেছে দুই ঘণ্টা। আল্লাহর জন্য বিনীতভাবে কিছু করলে, তিনি আপনার জন্য পথ খুলে দেবেন। তো সঠিক কাজ করাটা অনেক সময় ভয়ংকর হতে পারে, সেটি ছিল অন্যতম সুন্দর একটি রাত, সেটা আমার সারাজীবন মনে থাকবে। নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সুন্দর সব গুণাবলির মধ্যে, কোনটা আপনার সবচেয়ে প্রিয়?

তাঁর করুণা, বিশেষ করে তায়েফ থেকে ফিরে আসার সময়, সেখানে ইসলামের দাওয়াত দিতে গিয়ে উল্টো তাঁকে আঘাত করা পাথরের আঘাতে রক্তাক্ত হয়ে ফিরে আসা, তারপর যখন পাহাড়ের ফেরেশতারা নবীজীর কাছে এসে তাদেরকে ধ্বংস করে দেওয়ার প্রস্তাব দিলেন, তিনি কী বলেছিলেন, সুবহান আল্লাহ , "অনুগ্রহ করে এমন করবে না। হয়তো তাদের পরবর্তী প্রজন্মগুলো থেকে কেউ, এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করা শুরু করবে।" আমাকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করে নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) এর দয়া। যখন আমি তার জীবনী পড়ি, তার প্রতি তাদের আচরণ কেমন ছিলো, তারপর তারা তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল, কয়েকটি যুদ্ধ। এরপর তিনি মক্কায় ফিরে আসেন, এবং তিনি মক্কার বিজয়ীর বেশে প্রবেশ করেন। এবং আমি এটি তুলনা করেছি ইতিহাসের অন্যান্য উদাহরণগুলির সাথে। যখন কারো প্রতি এরূপ জঘন্য আচরণ করা হয়, এবং সে পরে বিজয়ীর বেশে ফিরে আসেন, সেই ব্যক্তি এসব মানুষদের সাথে কেমন আচরণ করেন?

তো তিনি মাত্র মক্কায় প্রবেশ করেছেন এবং মানুষ তার চারপাশে জড়ো হতে শুরু করে। তিনি তাদের জিজ্ঞেস করলেন, "আমি এখন তোমাদের সাথে কী করবো বলে মনে করো?" তারা তাকে বলল, "দেখুন, আমরা আপনাকে চিনি এবং আমরা আপনার থেকে কেবল সর্বোত্তম সিদ্ধান্তই প্রত্যাশা করি।" এবং তারপর তিনি বললেন, ঠিক আছে। তোমরা আজ থেকে মুক্ত। কোন সমস্যা নেই।" ঠিক এইভাবে। এটা একজন মানুষের জন্য সহজ নয়। কতবার আমরা বাস্তব জীবনে, যখন আমরা রাস্তায় আক্রমণের শিকার হই, মানসিকভাবে বা এমনকি শারীরিকভাবে আমরা নিজেদের রক্ষা করতে চাই, এটাই স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। কিন্তু প্রতিটি নির্যাতন চুপচাপ সহ্য করে যাওয়া শুধুমাত্র আল্লাহর বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য, কারণ তিনি মাবনজাতির আদর্শ, তিনি নিজের অহমিকা প্রদর্শন করে বেড়াতে পারেন না। আমরা হয়তো সেটা করতে পারি। আমি তাঁর মতো কোন আদর্শ ব্যাক্তিত্ব নই। আমি একজন সাধারণ মুসলিমমাত্র। ভিন্ন ভিন্ন সব ব্যক্তিত্বের মানুষকে অনুপ্রাণিত করার তার যে ক্ষমতা। যেমন সাহাবারা, আমরা তাদের একটি দল হিসেবে ভাবি, সেটা কিন্তু সত্যি নয়। তারা ভীষণ মেজাজি মানুষ ছিলেন। তারা সহজাত নেতা ছিলেন। সেখানে এমন মানুষ ছিলেন, জানেন তো, দ্বিধাগ্রস্ত, চুপচাপ এবং ইন্ট্রোভার্ট আর এক্সট্রোভার্ট। আবার যারা বুদ্ধিজীবী টাইপ বা আবেগী টাইপ, সমস্ত ধরনের ব্যক্তিত্ব। এবং, তিনি শুধু তাদের সবাইকে অনুপ্রাণিত করতেই সক্ষম নন, তিনি তাদের সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করাতে ও একে অপরকে ভালোবাসাতেও সক্ষম। এটা রাসূল (সঃ) এর সবচেয়ে অসাধারণ দিক যে তিনি মানুষের মধ্যে এমন বন্ধন সৃষ্টি করেছিলেন যেটা কিনা পুরো পৃথিবীকে বদলে দিয়েছিল। তার জীবন নিয়ে পড়তে গিয়ে, আমি এটা পরিষ্কার বুঝেছিলাম তিনি এমন এক মানুষ ছিলেন যার কোন গুনাহ ছিল না, তিনি সম্পূর্ণভাবে জীবনে সঠিক কাজটাই করতেন। আমার মনে হয় এটা মূল একটা বিষয়। আমি সবসময় একজন পারফেকশনিস্ট ছিলাম, সবসময় ঠিক কাজটাই করতে চাইতাম, প্রতিবার যখনই মনে হতো আমি ভুল কিছু করেছি তখন ভীষণ মন খারাপ হত। অনুপ্রেরণার উৎস এই মানুষটির জীবনের একান্ত, প্রতি মুহূর্তের বর্ণনা যখন জানতে পেরেছি, এই অনুভূতি টাই আমাকে অনেকখানি সারিয়ে তুলেছে। আমার সামর্থ্যের ভেতরে সেরা মানুষটি হবার মানেটা কি সেটা বুঝতে পারা। এবং তাকে এই সমস্ত পরিস্থিতিতে দেখতে পাওয়া, আমি এই বর্ণনাগুলো পড়ি এবং তার সম্পর্কে গল্পগুলো শুনি, এবং তাকে জানতে চেষ্টা করি, তার পুরো জীবনটাই আমার জন্য সঞ্জীবনী। আপনি কি স্বপ্নে নবী (সাঃ) কে দেখেছেন?

দুইবার। সত্যি? আলহামদুলিল্লাহ। এবং আমি মরুভূমিতে ছিলাম, আর দূরের দিকে দেখলাম। তিনি আমার হাত ধরে বললেন, "আমি চাই তুমি মানুষের সাথে দেখা করো।" তিনি বসে পড়লেন, আর আমি ঠিক তার পাশেই বসলাম। তারপর তিনি বললেন, "এখন দেখো। এখানে আছেন আবু বকর সিদ্দিক।" তিনি বললেন, "আর এখানে আছেন উমর ইবনে আল-খাত্তাব, এবং এটা উসমান বিন আফফান, আর এটা আলী বিন আবি তালিব। তারা সবাই তোমাকে ভালোবাসে।" স্বপ্নের মধ্যে ভাবছিলাম, কেন তারা আমাকে ভালোবাসে? আমি তো কেউ নই। কেন ভালোবাসে? কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, এটি ছিল আমার জীবনের অন্যতম সেরা স্বপ্ন। আমি আপনাকে ভালোবাসি, হে রাসূলুল্লাহ। সব শেষে যদি আপনি সকল অমুসলিমদেরকে কিছু বলার সুযোগ পেতেন, তাহলে কি বলতে চাইতেন কিছু মিনিটের মধ্যে?

পৃথিবীর সকল অমুসলিমদেরকে আমি একটি কথা বলতে চাই, কুরআন থেকে একটা আয়াত উদ্ধৃত করতে চাইঃ "তোমরা কি মনে করেছিলে যে, আমি তোমাদেরকে কেবল অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমার দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে না’?" আমার মনে হয় আপনি যদি নিজের দিকে ভালো করে লক্ষ্য করেন, আপনি সেই এক স্রষ্টার অস্তিত্ব টের পাবেন, এবং তিনি এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড এমনি এমনি সৃষ্টি করবেননা। এর পেছন অবশ্যই কোন উদ্দেশ্য রয়েছে। এই মহাবিশ্ব এবং আমাদের সৃষ্টির পিছনের সেই রহস্য অনুসন্ধানে বের হোন।