Towards Eternity
ব্লগে ফিরে যান

আমরা ১০ জন এশিয়ান কনভার্টকে জিজ্ঞেস করেছি! - কেন আপনারা ইসলাম বেছে নিলেন?

প্রকাশের তারিখ

YouTube-এ দেখুন

আমি যেন শূন্যতা আর অন্ধকারে হারিয়ে গিয়েছিলাম। আমি শুধু খ্যাতি আর টাকার পেছনে ছুটছিলাম, আর ম্যাজিকের ক্ষেত্রেও একই ছিল। তো আমি সবসময় অনুভব করতাম, আমি কে? এলিজা কে? এখন আমি আর জানি না। স্কুল আমাকে সকল প্রকারের গণিত-বিজ্ঞান শিখিয়েছে, কিন্তু ওরা আমাকে এটা শেখায়নি আমি কোথা থেকে এসেছি মানে আমি কে আমার গন্তব্য কোথায়? আর মৃত্যুর পর, আমি কোথায় যাব? সৃষ্টিকর্তার কাছে বলতে লাগলাম, "আমি এখন জানি না কে সত্যিকারের ঈশ্বর। আমি তোমাকে খুঁজছি। তাই পথ দেখাও প্রভু।" আমি বৌদ্ধ হিসেবে ধর্মচর্চা চালিয়ে গেলাম, কিন্তু হৃদয়ের গভীরে প্রশ্ন ছিল। তাই আমি আমার এক মুসলমান বন্ধুকে জিজ্ঞেস করলাম। "কোথায় স্রষ্টা?

আমি তো দেখছিনা।" সে বলল না, স্রষ্টা আছেন, কিন্তু তুমি তাকে দেখতে পারবে না। তারপর হঠাৎ আমার মনে কোরআন পড়ার প্রবল আগ্রহ জেগে উঠল। এটা এতো স্পষ্ট একটা বিষয়, যা উপেক্ষা করা যায় না। ইসলাম যে কোন সমস্যার সমাধান দিতে পারে। কিন্তু এখন আমি স্বাধীন। ইসলাম হচ্ছে স্বাধীনতা, মনের স্বাধীনতা, বাক স্বাধীনতা কাকে কি দেখাব, আমি কি পরবো। মাশাআল্লাহ। আমি একজন বৌদ্ধ হিসেবে বড় হয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য), আমি ২২ বছর বয়সে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করি। আর মুসলিম হওয়ার আগে আমি একজন নাস্তিক ছিলাম। আমার কোন ধর্ম ছিলনা। একদমই না। একজন সাধারণ জাপানির মতোই আমি বৌদ্ধধর্ম শিন্তো ধর্ম কোন কিছুই বিশ্বাস করতাম না। আমার জন্ম আর বেড়ে ওঠা কোরিয়ায়, দক্ষিণ কোরিয়ায়। আমি মনে করি আমি কোনো স্পেশাল মানুষ না কারণ আমি শুধু…

আমি অতি সাধারণভাবে কোরিয়ায় বাস করি। এবং আমি পড়াশোনা করেছি মিউজিক নিয়ে, ইউনিভার্সিটিতে আর কয়েক বছর আগে আমি ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়েছি এবং আমার এই জার্নি এখনও অব্যাহত আছে বলে মনে করি। আমার বাবা প্রেসবিটারিয়ান চার্চের একজন যাজক। আমার চাচাও ধর্মযাজক ছিলেন, আমার দাদাও ধর্মযাজক ছিলেন। আর তারা থাইল্যান্ডে ধর্মীয় দিক থেকে বেশ উচ্চপদস্থ ছিলেন। আমার বাবা ছিলেন খুবই কট্টর নাস্তিক দার্শনিক বছরের পর বছর ধরে তিনি আমাকে শিখিয়েছেন কীভাবে স্রষ্টায় বিশ্বাসীদের সাথে তর্ক করতে হয়। কিভাবে তাদের তাদের কথার জবাব দেয়া যায়, কিভাবে তাদের বিশ্বাসকে খাটো করে দেখাব, কিভাবে সেইসব খ্রিস্টানদের মোকাবিলা করব যারা আমাকে যিশুর বাণী শোনাতে চাইত। বুঝলেন!

তাই খুব ছোট বয়স থেকেই, ধরুন ১০ বছর বা এর আশেপাশে, আমার মনে হত, স্রস্টায় বিশ্বাস করা ভালো কিছু না। আমার স্রস্টায় বিশ্বাস করা উচিত না। ১১ বছর বয়সে আমি প্রথম আমার বিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন তুলি। কিন্তু তার আগেও, আমি আসলে একজন জেদি মানুষ ছিলাম আর অনেক প্রশ্ন করতাম। তো যেটা হয়েছিল, আমার দাদা মারা গিয়েছিলেন। আর আমাদের পরিবার, ঐতিহ্যবাহী চাইনিজ পরিবার, তাই দাদা মারা যাওয়ার পর, ধর্মীয় আচার পালন হয়। সেই আচারটিতে একজন পুরোহিতকে ডাকা হয় মন্ত্র পাঠ ও নির্দিষ্ট আচার পালন করতে। কিন্তু এইসব কোন্‌ ভাষায় আমি তা বুঝতে পারছিলামনা। তাই আমি আমার চাচা-ফুফুদেরকে প্রশ্ন করলাম। "উনারা এসব কেন করছেন?” তো তারা বললেন, "এসব করার কারণ হচ্ছে মূলত তোমার দাদা যেন স্বর্গে যেতে পারেন।" আমি বললাম, "ভালো কথা।" কিন্তু একইসঙ্গে, আমরা আরেকটা রীতি অনুসরণ করি যেখানে একটা প্রার্থনার কাগজ ভাঁজ করে দেয়া হতো, পাশাপাশি আরো দেয়া হতো, মৃতের সাথে নরকের ব্যাঙ্ক নোট। উদাহরণস্বরূপ, আমি যদি তুর্কিতে যেতে চাই, অথবা যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চাই, তাহলে আমাকে মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত বদলে ইউএস ডলারে রূপান্তর করতে হবে। এখন আপনার কাছে নরকে ব্যবহারের জন্য নরকের ব্যাঙ্ক নোট আছে। তাই দেখে আমি কৌতূহলী হয়ে গেলাম। বললাম, "এই আচার তো তার স্বর্গে যাওয়ার জন্য পালন করা হচ্ছে। আর স্বর্গে তো সব কিছুই ফ্রি। তাহলে এই নরকের ব্যাঙ্ক নোট কার জন্য?" তো তারা বলল, "আসলে এই ব্যাঙ্ক নোটগুলো তোমার দাদার জন্য। যদি কোন কারণে তিনি স্বর্গে যেতে না পারেন, নরকে এই নোট ব্যবহার করবেন।" এমন উত্তর আমাকে আরও বেশি বিভ্রান্ত করে দিল। তারা বিভ্রান্ত না হতে পারে; আমি বিভ্রান্ত। আমি বিভ্রান্ত কারণ একজন চাইনিজ হিসাবে, আমাদেরকে কিছু নির্দিষ্ট দর্শন আর বিশ্বাস নিয়ে বড় করা হয়েছে, "আপনাকে এই দুনিয়ায় একজন ভালো মানুষ হতে হবে যেন আপনি বেহেশতে গিয়ে আনন্দ করতে পারেন। কিন্তু আপনি যদি এখানে একজন খারাপ মানুষ হন, আপনি দোজখে যাবেন আর আপনাকে শাস্তি দেওয়া হবে।" তাই বেহেশতে গেলে পুরস্কার আর দোজখে গেলে শাস্তি বিষয়টা আমার মাথায় গেঁথে গিয়েছিল। কিন্তু এদের কথাবার্তা শুনে মনে হচ্ছে, জাহান্নামেও আপনি টাকা খরচ করে আনন্দ করতে পারবেন। তাহলে এই দুনিয়ায় ভাল কাজ করে আর খারাপ কাজ থেকে বিরত থেকে কোন লাভ আছে কি?

আমি সেই মুহূর্ত পর্যন্ত প্রশ্ন করতেই থাকলাম, যতক্ষণনা তারা গলা চড়িয়ে বললেন "যথেষ্ট! থামো! কোন প্রশ্ন নয়!" ঠিক আছে। আমি থামলাম। এজন্যে না যে আমি তাদের উত্তরে সন্তুষ্ট, বরং আমি এই কফিনে এতো জলদি যেতে চাইনা তাই। কারণ তারা যখন উচু স্বরে বললেন, আমি বুঝলাম, তারা উত্তর দিতে প্রস্তুত নন। ঠিক আছে। আমি বৌদ্ধ হিসেবে ধর্মচর্চা চালিয়ে গেলাম, কিন্তু হৃদয়ের গভীরে প্রশ্ন ছিল। কিন্তু যতই জিজ্ঞাস করি, বেশীরভাগ প্রশ্নের কোন উত্তর পেতাম না। আমি বলতাম, “কেন?” কারণ, আপনি জানেন আমরা চাইনিজরা চীনা দেবতাদের পূজা করি যারা দেখতে একদম আমাদের মতো। মানে ধরুন দাড়ির রং, চোখ, চোখের আকার, সবকিছুই আমাদের মতো। আর মুসলমান হওয়ার আগে আমার এক বন্ধুকে কথার মাঝে জিজ্ঞেস করেছিলাম তার পূজা মূর্তি দেখিয়ে যে, “এটা কে? উনি কি একজন দেবতা?

উনি কবে দেবতা হলেন? আর আমি অসম্মান না করে, ভদ্রভাবে প্রশ্ন করেছিলাম। আর সে বলল, “জীবিত অবস্থায় দেবতা ছিলেন না। তিনি মৃত্যুর পর দেবতা হয়েছেন।” আমি বললাম, ওহ্‌ তাই। তাহলে জীবিত অবস্থায় তিনি নিজেই জানতেন না যে তিনি দেবতা। তাই মারা যাওয়ার পর তিনি দেবতা হয়েছেন। তাহলে কে তাকে দেবতা বানালো?” তখন আমি আমার বন্ধুকে আরেকটি প্রশ্ন করলাম, “তাহলে সেই ক্ষেত্রে, তোমরা কেন তাদের পূজা করো না যারা তাকে দেবতা বানিয়েছে? কারণ আমার মনে হয় কাউকে দেবতা বানানোর ক্ষমতা তাদেরই আছে। বললাম যেমন ধর আমি যদি তোমাকে আমার কোম্পানির সিইও হিসেবে নিয়োগ ও বরখাস্ত করতে পারি, তাহলে কার ক্ষমতা বেশি? অবশ্যই আমার। তাহলে কেন তোমরা তাদের উপাসনা করো না? তারা বলল…

এভাবেতো ভেবে দেখিনি। তাতে কিছু যায় আসে না। আমার স্কুলের সময়টা ভীষণ বাজে কেটেছিল। আমাকে বুলিং করা হতো, আমার বন্ধু ছিল খুবই কম, প্রায় ছিল না বললেই চলে। আমি খুব লাজুক ছিলাম এবং আমার আত্মবিশ্বাস খুবই দুর্বল ছিল। এরপর আমি খেলাধুলা ও সংগীতের দিকে ঝুঁকলাম, যা আমাকে আরও সম্মান পেতে এবং মানুষ যেন আমাকে কিছুটা গুরুত্ব দেয়, এতে কাজও হয়েছিলো বেশ। এরপর আমি ম্যাজিকের দিকে ঝুঁকলাম। আমি ম্যাজিক ট্রিক দেখাতাম, হ্যাঁ, আমি একজন পেশাদার ম্যাজিশিয়ান বা পারফর্মার হওয়ার চেষ্টা করছিলাম। আমি হোটেলে, রেস্টুরেন্টে, বারে, ক্লাবে পারফর্ম করতাম, কিন্তু যে বিষয়টি আমার মন বদলে দেয়, তা আবারও ছিল র‍্যাপ করার সময়ের মতো, ফুটবল খেলার সময়ের মতো— আমি শুধু ছুটছিলাম মানুষের স্বীকৃতি ও অনুমোদনের পেছনে। আমি বুঝতে পারলাম, জীবনে এসব বাহ্যিক বিষয়ের চেয়েও বড় কিছু থাকা উচিত, আর তখন আমি ধর্ম নিয়ে গভীরে খোঁজ শুরু করলাম। কারণ আমাকে শেখানো হয়েছিল যে, কোথা থেকে আমি এসেছি?

মানে মানে স্কুল আমাকে সকল প্রকারের গণিত-বিজ্ঞান শিখিয়েছে, কিন্তু ওরা আমাকে এটা শেখায়নি আমি কোথা থেকে এসেছি মানে আমি কে আমার গন্তব্য কোথায়? আর মৃত্যুর পর, আমি কোথায় যাব? তারা আমাদের সেই পথটা কখনো দেখিয়ে দেয় না। আমি যেন শূন্যতা আর অন্ধকারে হারিয়ে গিয়েছিলাম। তো আমি সবসময় অনুভব করতাম, আমি কে?

একজন খুব আত্মবিশ্বাসী আমেরিকান মেয়ে থেকে, আমি বুঝতে পারছিলাম আমার ডিপ্রেশন বেড়ে যাচ্ছিলো। আমি অনুভব করছিলাম, আমার ভিতরে এই অন্ধকারটা বাড়ছিলো, আর আমি ভাবছিলাম, এখন আমার আধ্যাত্মিকতার প্রয়োজন। সৃষ্টিকর্তার কাছে বলতে লাগলাম, "আমি এখন জানি না কে সত্যিকারের ঈশ্বর। আমি তোমাকে খুঁজছি। তাই পথ দেখাও প্রভু।" আমি শুধু বলি আমি সেই ঈশ্বরের প্রার্থনা করব যিনি জানেন যে আমি তাকে খুঁজছি। আমি আর কোন নাম ব্যবহার করতাম না। বলতাম, "হে ঈশ্বর, তুমি জানো আমি তোমাকে খুঁজছি।" তারপর হঠাৎ আমার মনে কোরআন পড়ার প্রবল আগ্রহ জেগে উঠল। তো আমি পবিত্র কুরআনের একটা জাপানি ভাষার অনুবাদ খুঁজে পেলাম। এটা ছিলো আমার ইসলাম সম্পর্কে জানার সর্বপ্রধান উৎস। আমি কুরআনের জাপানি ভাষার অনুবাদ পড়া শুরু করলাম। তারপর আমি মতো কিছু অন্যান্য বিশ্বাস যেমন আখিরাত, মৃত্যুর পরের জীবন, আর তাওহীদ - আল্লাহর অথবা স্রষ্টার একত্ববাদ সম্পর্কে জানতে পারলাম। এসব ধারনা আমার জন্য খুবই নতুন। জীবন সম্পর্কে আমি কখনো এভাবে ভাবিনি। কারণ জাপানের মানুষ এতো ব্যাস্ত। তাদের মৃত্যুর পরের জীবন নিয়ে ভাববার সময় কোথায়?

তারা হয়তোবা জীবনে এক মুহূর্তের জন্যও এ বিষয়ে কখনো ভাবেনি। তারা স্রষ্টার ধারনা নিয়েও ভাবেনা। জাপানে বহু-ঈশ্বরবাদ অনেক বিখ্যাত। এবং স্রষ্টার নির্দিষ্ট কোন সংজ্ঞাও নেই। কেউ আপনাকে শেখাবেনা স্রষ্টা কে। স্রষ্টার পরিচয় কি। কিন্তু কুরআনে, আমি স্রষ্টার সংজ্ঞা খুঁজে পেলাম। একদম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা। উদাহরণসরূপ, সুরা ইখলাসের কথা বলা যায়, আউজু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম (আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই), কুল হুয়াল্লাহু আহাদ - বলুন, তিনিই আল্লাহ, এক-অদ্বিতীয়। খুবই সহজ। কিন্তু আমার জন্য এটা অবাক করার মতো ছিল। ওহ, স্রষ্টার একটা সংজ্ঞা আছে। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম সে স্রষ্টাকে কিভাবে বোঝে। মানে স্রষ্টা কে? স্রষ্টা কি মহাবিশ্ব? স্রষ্টা কি মেঘের মধ্যে দাড়িওয়ালা কোন ব্যাক্তি?

তোমার কাছে স্রষ্টা কি? আর তার উত্তরটা ছিল এরকম— আসলে, সে শুধু বলল যে, "তোমাকে একটা জিনিস দেখাই।" আর সে আমাকে সুরা ইখলাস দেখিয়ে দিল। সে বলল, আমরা এটাই বিশ্বাস করি। তিনি কি মহাবিশ্ব?

না, তিনি তোমার আমার কল্পনারও বাইরের। তাঁর সমকক্ষ কিছুই নেই। খ্রিস্টীয় বিশ্বাসের সাথে এর ধারনাটা একেবারেই মেলেনা। না, তাঁকে কেউ সৃষ্টি করেনি, তিনিও কাউকে জন্ম দেননি। তিনি কারো থেকে জন্মগ্রহণ করেননি। আবারো, খুবই স্পষ্ট। আমি বললাম, বুঝতে পারছি। যখন আমি আমার জীবন নিয়ে নতুন করে ভাবছিলাম।। এবং আমি অনুধাবন করলাম, আমি আসলে স্রস্টায় বিশ্বাস করি। পেছনে তাকিয়ে দেখলে, বুঝতে পারি আমার সারাটা জীবনেই আমি স্রস্টায় বিশ্বাস করে এসেছি। কিন্তু কোনো এক কারণে আমি সেই চিন্তাটাকে সবসময় দূরে সরিয়ে রেখেছিলাম। তাই আমি আমার এক মুসলমান বন্ধুকে জিজ্ঞেস করলাম। বললাম, "ভাই, তুমি তো জানো, চাইনিজ হিসেবে আমরা মূর্তিপূজা করি, এবং সেই মূর্তি আমাদের চোখের সামনে থাকে। তো মুসলিম হিসেবে তোমরা আসলে কিসের পূজা কর?" আর সে উত্তর দিল, "আমারা স্রষ্টার ইবাদত করি" আমি ডানে বামে তাকালাম। "কোথায় স্রষ্টা?

আমি তো দেখছিনা।" সে বলল না, স্রষ্টা আছেন, কিন্তু তুমি তাকে দেখতে পারবে না। আমি বললাম, “কী বোঝাতে চাও? মানুষ দেখেই কোন কিছু বিশ্বাস করে। আমি যদি কোনো কিছু দেখতে না পারি, তাহলে কেন সেটা বিশ্বাস করব?” তখন আমার বন্ধু আমাকে একটি উপমা দিল। সে বলল, “বিষয়টা এভাবে ভাবো।” “তুমি কি বাতাস অনুভব কর?” আমি বললাম, “হ্যাঁ, সেটাতো করি।” “কিন্তু বাতাস কি দেখতে পারো?” আমি বললাম, “আরে ভাই, এই ডালটা দেখো, ওই ডালটা দেখো, গাছগুলো দেখো, পাতাগুলো দেখো নড়ছে। এটাই তো বাতাস!

এর চেয়ে বড় আর কী প্রমাণ দরকার?” তখন সে বলল, “না। তুমি যেগুলো নড়তে দেখছো সেগুলো বাতাস নয়। ওগুলো হচ্ছে বাতাসের প্রভাব। নিজে বাতাস নয়।” তখন আমি গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে শুরু করলাম। আচ্ছা আচ্ছা। ঠিক আছে। শুনে তো যুক্তিসংগতই লাগছে, কিন্তু তখনও আমার “স্রষ্টা কে?” প্রশ্নের উত্তর দেয়নি, তারপর আমার বন্ধু বলতে থাকল। “এখন কল্পনা করো।” এই বাতাস আসলে স্রষ্টা সৃষ্টি করেছেন। তুমি বাতাস দেখতে না পারলেও, বাতাসের প্রভাব দেখতে পাও, এবং বাতাসের প্রবাহ অনুভব করতে পারো। তাহলে কীভাবে একথা ভাবো যে তুমি বাতাস সৃষ্টিকারী আল্লাহকে দেখতে পারবে?

তুমি তাঁর অস্তিত্ব অনুভব করো। এই পৃথিবীর সকল সৃষ্টির মাধ্যমে তুমি স্রষ্টার অস্তিত্ব অনুভব করতে পারো এবং তুমি তাঁর প্রভাব দেখতে পাও। তখন মনে মনে ভাবছিলাম, “হুম।” স্রষ্টার এই সংজ্ঞাটি বেশ যুক্তিসংগত। আমি মনে করি, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সবকিছু সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি সবকিছু জানেন। বিষয়টা অনেকটা ধাঁধার মতো। আমি এটাকে দেখি শূন্য থেকে শুরু করে দুনিয়ার এই সব কিছু। আমি জানিনা, কিন্তু স্রস্টা সবকিছু জানেন। আর এটা একটা অমোঘ সত্য। তাই আমি ঠিক করলাম, আমি মুসলিম হবো। কারণ আমি আল্লাহকে দেখতে না পেলেও, তাঁর সৃষ্টি, যেমন আমাদের শরীরের গঠন, জমিন ও আকাশ, বৃষ্টি এবং জাপানের চারটি ঋতু, এসব থেকে তাঁর অস্তিত্ব অনুভব করছিলাম। কারণ অনেক কোরিয়ান মনে করে যে ইসলাম…

ইসলাম একটু বিপজ্জনক। কিন্তু আমি ইসলামের ব্যাপারে অনেক ভালো জিনিস লক্ষ্য করেছি। তাই এই বিষয়ে আমি কথা বলি। ইউটিউবে আমার উপলব্ধি শেয়ার করা শুরু করি আর হঠাৎই অনেক মানুষ এ ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠলো। মানে অনেক মানুষ তো, তারা আমাকে ইসলাম সম্পর্কে পরামর্শ দেয়। যেমন, ও, তুমি যদি ইসলাম সম্পর্কে জানতে চাও, তাহলে কথা বলতে পারেন - এর সাথে। অথবা জিজ্ঞেস কর একজন ইমামকে মানে তুমি যদি কোরিয়াতে মসজিদ খুঁজে পাও। আর চাইলে হয়তো নামাজ পড়াও শিখতে পারো তুমি, অথবা রমজানে কীভাবে রোজা রাখা হয় সেটা জানতে পারো তুমি। তো আমি ধীরে ধীরে প্র্যাকটিস করলাম। কেন জানিনা, ব্যাপারটা যেন আমার ক্ষেত্রে খুবি স্বাভাবিক ভাবে এসেছিল। আমি…আমি, শুধু আমি মসজিদে গেলাম, মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়লাম এবং রমজান মাসে রোজা রাখি। এবং এই প্রক্রিয়ায় আমার বিশ্বাসটা একটু...একটু একটু ডেভেলাপ করেছে, মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে, আমার মনে হলো দুনিয়াটা যেন কতো ক্ষুদ্র। কারণ বিভিন্ন দেশের মানুষরা একই জায়গায় একত্রিত হয়েছে, আর তাদের সবারই ধর্ম একটাই, বিষয়টা আমার কাছে সত্যিই অসাধারণ লেগেছে। কোন মন্দিরেই আজ পর্যন্ত আমি এমন কিছু দেখিনি। এমনকি জাপানের কোন চার্চেও না। মসজিদে বিভিন্ন দেশের মানুষ, ধরুন ২০ টারও বেশি হবে, একই কাতারে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে যায়। বিষয়টা আমার অসাধারণ লেগেছে। আর ইসলাম খুবই শান্তিপূর্ণ একটা ধর্ম। বুঝলাম ইসলাম একটা খুবই বাস্তবধর্মী, ভারসাম্যপূর্ণ ধর্ম। অবশ্যই ধর্মে কিছু করণীয় আছে, বারণও আছে। কিন্তু বারণগুলো খুবই সীমিত। নামাজ পড়তে হবে, একই সাথে পরিশ্রমও করতে হবে। পরিবার গড়া জায়েজ। ব্যবসা-বাণিজ্য করা যাবে, বিবাহ করাও যাবে। সবকিছুই ভারসাম্যপূর্ণভাবে সাজানো। আর সবচেয়ে সুন্দর বিষয়টা বুঝলাম যখন ইসলাম সম্পর্কে জানলাম যে ইসলাম খুবই পরিপূর্ণ। একদম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবকিছুর জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম দেওয়া আছে। ধর্মে নিজের মতো করে পথ তৈরি করতে হয় না। শুধু অনুসরণ করলেই হয়। কিভাবে খেতে হবে, পান করতে হবে, কিভাবে কথা বলতে হবে, কাজ করতে হবে সবকিছুই বিস্তারিতভাবে বলা আছে। আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ। এমন কিছু আমি অন্য ধর্মে কখনো দেখিনি। কুরআনে অনেক বৈজ্ঞানিক মুজিজার কথা উল্লেখ আছে, যেগুলো সত্যিই আমাকে মুগ্ধ করেছিল, কারণ সেই সময়ে, ধরুন ১৪০০ বছর আগে, মরুভূমির একজন নিরক্ষর মানুষ, তিনি কীভাবে এসব বৈজ্ঞানিক সত্য জানতে পারলেন, যেগুলো মানুষ মাত্র সাম্প্রতিক সময়ে, গত ১০০ বা ১৫০ বছরে আবিষ্কার করেছে?

তাই এটাও এমন একটি বিষয়, যা আমাকে সত্যিই মুগ্ধ করেছিল। এটা এতো স্পষ্ট একটা বিষয়, যা উপেক্ষা করা যায় না। ইসলাম যে কোন সমস্যার সমাধান দিতে পারে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, "তাহলে, তোমাকে কিসে আটকাচ্ছে?" তাই আমি তাকে বললাম, আমার মনে হয় আমার আরবি শিখতে হবে, কুরআন পড়া শিখতে হবে, নামাজ পড়া শিখতে হবে। অন্তত কিছু হাদিস, নবীর বাণী আমার জানা উচিত। তিনি আমার দিকে তাকালেন, আমার মনে আছে, আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, অথবা আমার মনে হয় তিনি আমার ভেতরের পারফেকশনিসম তখনই বুঝে গিয়েছিলেন, সেটা বুঝতে পেরেই, তিনি বললেন, "তোমার কি মনে হয় এই কাজগুলো করতে তোমার কতদিন লাগতে পারে? ২০ বছর? ৩০ বছর? ৫০ বছর?

আর তারপর- আমি জানিনা দর্শকদের কাছে এটা হাস্যকর লাগবে কিনা- কিন্তু আমি আমার কান্না আটকে রাখতে পারিনি, এখানে আপনার মনে রাখতে হবে আমি এই বিষয়ে প্রায় তিন মাস ধরে পড়াশোনা, অনুসন্ধান করে যাচ্ছি, দ্বীনি জ্ঞান আমি প্রচণ্ড ভাবে অর্জন করতে চেয়েছি। আমি সবকিছু বুঝতে চেয়েছি যাতে আমি একজন ভালো মুসলিম হতে পারি। তো তিনি বললেন, "এলিজা, তুমি কি জাননা আল্লাহ প্রশংসিত এবং মহিমান্বিত দীনি ইল্ম শুধুমাত্র মুসলিমদের জন্যই সংরক্ষিত রেখেছেন?

তো তখন বিষয়টা বুঝতে পেরে আমার বুকে আঘাত লাগলো। আমি কাঁদতে শুরু করেছিলাম এই ভেবে যে, আমি একজন পরিপূর্ণ মুসলিম হতে পারবনা। কিন্তু সে মুহূর্তে আমি বুঝতে পেরেছিলাম। আল্লাহ আমার মনে এই ভাবনা স্থাপন করে দিয়েছিলেন, যে আল্লাহ এই যাত্রায় আমাকে দেখিয়েছেন আসলে আমার পুরো জীবনে আমি ভেতর থেকে একজন মুসলিম ছিলাম, তিনি কি আমার বাবার ব্যাপারেও আমাকে সাহায্য করবেন না? তিনি নিশ্চয়ই আমার পরিবারের ব্যাপারেও সাহায্য করবেন। এই ব্যাপারে আমি নিশ্চিত হলাম। রমজানের পর মজবুত হয়েছে। আমার বিশ্বাস ছিল। আমি আল্লাহ্‌কে বিশ্বাস করতাম। কিন্তু আমি…

আমি শাহাদা পাঠ করার কথা ভাবিনি, কারণ আমি ভেবেছিলাম বিশ্বাস থাকলেও আমি মুসলিম হতে পারবো না, কারণ আমি কোরিয়ায় থাকি, আমি একজন কোরিয়ান। এদেশে জীবনযাত্রার ধরণ আলাদা। আমার মনে হয় এটা সহজ না। কিন্তু আপনি মুসলিম না হলেও এই ইসলামী জীবন বিধান থেকে আপনি উপকৃত হতে পারেন। কিন্তু যদি আপনি শাহাদা পাঠ করেন আর মুসলিম হন তাহলে তারপরে নিজেকে ধীরে ধীরে, ধাপে ধাপে বদলান, তাহলে আল্লাহ্‌ আপনাকে বদলাতে সাহায্য করবেন, কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতালা, আমাদের প্রভু পরম করুণাময় ও ক্ষমাশীল, তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ। অতএব তিনিই আপনাকে সাহায্য করবেন। তো আপনার আগে মুসলিম হয়ে যাওয়া উচিৎ, কারণ আপনি জানেন না...মানে কখন কী ঘটবে কেউই জানে না, আমি মরে যেতে পারি। আমার হার্ট অ্যাটাক হতে পারে, সড়ক দুর্ঘটনা হতে পারে, আমি জানি না, আমি মারা যেতে পারি মানে...হয় আজকে, কেউই ভবিষ্যৎ জানিনা। হ্যাঁ, তো আমি তেমনটাই ফিল করি। তো আমি ভাবলাম যে আমার মুসলিম হয়ে যাওয়া উচিত। মানে যখন আমি মসজিদটাতে গেলাম, দেখলাম ওখানে একজন ইমাম আছেন, তো যখন আমি শাহাদা পাঠ করলাম, ওই জায়গার সকল মানুষ আমাকে এসে অভিনন্দন জানালো, ইসলামের পথে স্বাগত জানালো.

আর আমার মনে হলো, জানেনই তো, যখন শাহাদা পাঠ করা হয়, আগের সমস্ত পাপ মুছে যায় আর আপনি একটা নতুন জীবন লাভ করেন, ঠিক এক নবজাতকের মতো। তো আমার তখন মনে হয়েছিল যে, বাহ, এটা বেশ চমৎকার ব্যাপার। খুব সুখকর লাগছিল, ওই সময়ের এখন অনুভূতিটা আমি বলে বুঝাতে পারবো না । খুব চমৎকার ছিল ওটা। তখন ছিল জোহরের নামাজের সময়। তাই শহাদা নেওয়ার পর আমি ওযু করে, জোহরের নামাজ আদায় করলাম। জীবনে প্রথমবারের মতো যখন আমি সিজদাহ্‌ দিলাম, এটা একটা অসাধারণ অনুভূতি ছিল। ইসলাম গ্রহণের পর পরিবারের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?

আপনার পরিবারের, মায়ের, বাবার। আমি বললাম, “মা, আমি কুয়ালালামপুরে ফিরে মুসলিম হতে চাই।” তিনি তখন বেশ কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। দীর্ঘ নীরবতার পর, তিনি আমাকে বললেন, “তোমার ইচ্ছা।” কিন্তু মনে রেখো, ধর্ম নিয়ে হেলাফেলা করো না। গুরুত্বের সাথে নিও। “ঠিক আছে?” আমি বললাম, “মা, আমি সিরিয়াস।” তিনি বললেন, “ঠিক আছে, তাহলে তুমি আর আমার ছেলেই নও।” তাই এটা ছিল খুবই ধাক্কা খাওয়ার মতো কথা। আপনার পরে তাঁদের কেউ কি ইসলাম গ্রহণ করেছেন? এখন পর্যন্ত?

দুঃখজনকভাবে না। আমার বাবা, যিনি মারা গেছেন, যদিও মৃত্যুর আগে তাঁর শেষ সময়ে, তিনি আমাকে এমনও বলেছিলেন যে, যদি আমি তোমার সঙ্গে থাকতে শুরু করি, তাহলে আমি ইসলাম গ্রহণ করতে প্রস্তুত হব, এরকম কিছু, কিন্তু আমার পারিবারিক পরিস্থিতি সেটা হতে দেয়নি। এবার আমার বাবা আমাকে একটা প্রশ্ন করলেন। বললেন, তোমার মুখে দাড়ি কেন? দাড়ি, বুঝলেন? এটা খুবই ভালো একটা প্রশ্ন। ইসলামের সাথে পুরপুরি সম্পর্কিত। আমি এমন একটা সুযোগের অপেক্ষাতেই ছিলাম, অর্থাৎ আমি সরাসরি কখনোই এই প্রশ্নের উত্তর দেবনা, বরং আমি তাঁকে বলবো, এই প্রশ্নের উত্তর যদি আপনি ভালভাবে বুঝতে চান, আপনাকে ইসলামের ভিত্তি সম্পর্কে বিস্তারিত বুঝিয়ে বলতে হবে। আপনার কাছে ১০ মিনিট সময় হবে?

তখন আমার বাবা বললেন, ঠিক আছে। মানে এখনি সময় ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার, ১০ মিনিট, আলহামদুলিল্লাহ আগে তো কয়েক মিনিটও তাঁর সাথে এ ব্যাপারে কথা বলা যেতনা। কিন্তু এখন আমার হাতে ১০ মিনিট সময় আছে আলহামদুলিল্লাহ। আমার যা বলার তা বলতে হবে। তো আমি গোরাপ মেথডে কথা বলবো আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলাম আল্লাহর অস্তিত্ব, আল্লাহর একত্ববাদ, কুরআন এবং নবুয়্যত । এসব অপরিহার্য বিষয়গুলো সম্পর্কে আমাকে কথা বলতে হবে। যেহেতু আমি আগে থেকেই প্র্যাকটিস করে রেখেছিলাম, জাপানি ভাষায় সহজ ভাবে আমি তাঁদেরকে সব ব্যাখ্যা করলাম। তাঁরা আমার কথা শুনলেন, বাবার সাথে আমার মা ও শুনছিলেন। সব শেষে, আমার বাবা আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তো এখন তুমি কি চাও? যখনি আমার বাবা বললেন, তুমি কি চাও?

আমার স্ত্রী আমার পাশে বসে বসে এতক্ষণ সব শুনছিল। তখন কি যে মনে হয়েছিলো, এই সুযোগে সে বলল, আমরা আপনাদেরকে আমাদের সাথে জান্নাতে নিয়ে যেতে চাই। আমার স্ত্রী এভাবেই বলেছিল। আর বাবা জিজ্ঞেস করলেন কিভাবে?

তখন আমি বললাম, আপনাদের শাহাদা নিতে হবে। কারণ আমি সেই গোরাপ মেথড তাঁদেরকে শাহাদা নেওয়ানর লক্ষেই প্রয়োগ করেছি। ব্যাখ্যা করলাম, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, এবং মুহাম্মাদ (সাঃ) আল্লাহর রাসুল। এটা একটা বার্তা। আমি ইতিমধ্যেই এটা ব্যাখ্যা করেছি, এবং কেনজানি তাঁরাও বুঝতে পারলেন। এখন শুধু স্বীকার করা বা সাক্ষ্য দেওয়াই বাকি আছে। আমি চাই এইমাত্র আমি যা ব্যাখ্যা করলাম, আপনি তার সাক্ষ্য দেন। আমার বাবা মা একে অপরের মুখের দিকে তাকালেন। তারপর বললেন, ঠিক আছে। হা হা হা তাই, টিকে থাকার কৌশল হিসেবে বলতে পারেন, আমি যতটা সম্ভব ব্যাপারটা লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করছিলাম। মানুষের সামনে নামাজ পড়তাম না। রোজা রাখলে কাউকে বলতাম না আমি রোজা রেখেছি। বিভিন্ন ছুতোয় আমি খাওয়া থেকে বিরত থাকতাম, যেমন আমার ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট আছে, অথবা আমার পেট খালি রাখতে হবে, আমি কিছু পান করতে দিলে পান করার ভান করতাম কিন্তু আসলে পান করতাম না। অনেকদিন ধরেই ব্যাপারটা আমি লুকিয়ে রেখেছিলাম। আমি ভেবেছিলাম যদি ছোট ছোট পরিবর্তন থেকে, ধীরে ধীরে আমি যদি একজন আরও ভালো মানুষে পরিণত হই, মানে আমার স্ত্রী যদি আমাদের পারিবারিক জীবন আরও ভালো হয়ে যেতে দেখে, তাহলে হয়তো একদিন জিজ্ঞেস করবে, "বাহ, তুমি দিন দিন এতো চমৎকার একজন স্বামী হয়ে যাচ্ছ কি করে?" তোমার হয়েছেটা কি?

যদিও এমনটা হয়নি। তাই প্রত্যেক ছোট খাটো পরিবর্তনও আমাকে খুবই সাবধানে করতে হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ফজরের নামাজের জন্য ভোরে ওঠা। কিন্তু কতটা নিঃশব্দে নামাজ পড়া সম্ভব? এখনো মানুষ শুনলে হাসে, বিষয়টা কিছুটা হাস্যকরই বটে, আমি এমনভাবে নিজেকে প্রস্তত করেছিলাম, যেন অ্যালার্মের প্রথম বীপটা শেষ হওয়ার আগেই, আমি দ্রুত উঠে সেটা বন্ধ করে ফেলতে পারি। এমনভাবে অ্যালার্মটা রাখতাম যাতে...

টিক চট করে যেন হাতে পাই। কিন্তু আমার স্ত্রী যখন ধরতে শুরু করল যে আমি মুসলিম হয়ে গেছি আর আমি রোজা রাখছি ইসলামের কারণে আমি আমি পান করছিনা ইসলামের কারণে বাসায় শুকরের মাংস রান্না করতে নিষেধ করছিলাম ইসলামের কারণে, তখন সে খুবই ইসলাম বিরোধী হয়ে গেল। সে ইসলাম নিয়ে পড়াশোনা করা শুরু করেছিল যাতে আমাকে ইসলাম থেকে ফেরাতে পারে। তো আবারও সবকিছু খারাপের দিকে যাচ্ছিল। অবস্থা এমন হয়ে গিয়েছিল যে, আমরা সত্যিই আলাদা হয়ে যাওয়ার কথা ভাবছিলাম। অবশ্যই, আমি চাচ্ছিলাম না। সে বলল, "ঠিক আছে আমাদের আলাদা হতে হবেনা, কিন্তু তুমি অন্য কোথাও গিয়ে থাকো।" তুমি আলাদা একটা রুমে কিংবা, আলাদা একটা এপার্টমেন্টে থাকো তুমি সেখানে তোমার মতো মুসলিম হতে পারো। আমার কিছু যায় আসেনা। কাগজে কলমে আমরা বিবাহিতই থাকবো। তুমি প্রতি সপ্তাহে বাচ্চাদের সাথে দেখা করতে পারবে, শুধু তুমি অন্য কোথাও গিয়ে তোমার ইসলাম পালন কর। আমাদেরকে এসব থেকে দূরে থাকতে দাও। তুমি আমাদের জীবন কঠিন করে তুলেছ। অবস্থা খুবই খারাপ হচ্ছিলো। আর আমাদের মধ্যে সারাক্ষণ ঝগড়া ঝামেলা চলছিল। আমার মনে আছে, এক রাতে আমি বাসায় ফিরছিলাম, আমরা দ্বিতীয় তলায় থাকতাম। আর আমি যখন আমার এপার্টমেন্টের সিঁড়ির কাছে এসে দাঁড়ালাম, আমার মনে হয় প্রথম ধাপটা বেয়ে ওঠার মতো শক্তিও আমার ছিলনা। আর সিঁড়ির কাছে দাড়িয়ে আমার প্রচণ্ড ক্লান্তি বোধ হচ্ছিলো। প্রতিদিনের ঝগড়া ঝামেলায় আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। নিজের বিশ্বাসকে বারবার প্রমাণ করতে করতে আমি একেবারে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। মানুষজনের মুখে বারবার দাড়ি কামাও শুনতে শুনতেও আমি বিরক্ত আর ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম। অনেক কিছুর উপরেই তখন আমি বিরক্ত হয়ে গিয়েছিলাম। আর আমি সেখানে দাড়িয়েই, প্রথমবারের মতো আল্লহর কাছে সাহায্য চাইলাম। আমি আল্লাহকে বললাম, হে আল্লাহ আমি আর পারছিনা। তাই, দয়া করে আমার জন্য যা উত্তম আপনি তাই আমাকে দিন। আমি কিছুই জানিনা, কিন্তু আপনি তো সবই জানেন, যদি আমার স্ত্রীর সাথে থাকা আমার জন্য কল্যাণকর হয়, তাহলে তার সাথে সবকিছু ঠিক করে দিন। আর যদি তা না হয়, তাহলে দয়া করে আমাকে এর থেকে উত্তম কিছু দান করুন। কিন্তু এভাবে আমি আর পারছিনা। আমি সত্যিই ক্লান্ত বিধ্বস্ত। তখন করোনা মহামারির একদম শুরু। এবং শুরুতেই আমি করোনা আক্রান্ত হলাম। তাই আমি যতদিন অসুস্থ ছিলাম নিজেকে একটা একটা ঘরে আবদ্ধ করে রাখতে হয়েছিল। আর আমরা জানতে পারতাম না বাইরে কি হচ্ছে। কিন্তু আমি ভালো হয়ে যাচ্ছিলাম। আমি সুস্থ হচ্ছিলাম, কিন্তু আমার স্ত্রী এবার আক্রান্ত হল। আমার জ্বরটা নামছিল না, আমি বারবার কাশি দিচ্ছিলাম, কোন কিছুরই স্বাদ বা গন্ধ পাচ্ছিলাম না। আমার চারপাশের লোকজন বেশ ভয় পাচ্ছিল, তাই আমাকে আইসোলেশনে থাকতে হয়েছিলো । মনে হচ্ছিল, যেন আমি কোনো অদ্ভুত এক রোগে আক্রান্ত হয়েছি যা আমাদের বোঝার ক্ষমতার বাইরে। তখন মনে হলো, “যদি এভাবেই চলতে থাকে, হয়তো আমি সত্যিই মারা যাব, আর কখনো শিগে-সান বা আমার সন্তানদের দেখতে পারব না।" আর তার অবস্থা কোনোভাবেই ভালো হচ্ছিল না। দুই সপ্তাহ হয়েছে তার আক্রান্ত হওয়ার, কিন্তু তার অবস্থা আরও খারাপের দিকে যাচ্ছিল, তার কাশি কমার কোন লক্ষণই নেই, বরং আরও বেড়েছে আর এদিকে তিন সপ্তাহ পার হয়ে গিয়েছিল। তখন মনে হয়েছিল, ব্যাপারটা তো ভালো মনে হচ্ছেনা। আমি বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলাম। তার অক্সিজেনের মাত্রা তখনও মোটামুটি স্বাভাবিক ছিল, তাই অনেক বেশি চিন্তিত ছিলাম না, তবে কিছুটা উদ্বেগ ছিল। যদি আমি সত্যিই মারা যাই, তাহলে তো আমি বলেই আসছিলাম, আমি মুসলিম হতে চাই না, আমি শাহাদাহ নিতে চাই না। কিন্তু তখন আর হেলাফেলা করার সময় ছিল না। তাই আমি শাহাদাহ নিতে চাচ্ছিলাম। সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, "হ্যাঁ, আমি যদি মরে যাই, তাহলে তোমার এবং বাচ্চাদের থেকে আলাদা কোন জায়গায় যেতে চাইনা। আমি মারা গেলে, তোমরা যেখানে যাবে আমিও সেখানেই যেতে চাই।" কারণ আমাদের এই সম্পর্কটা যে পরিমাণ জটিল হয়ে গিয়েছিল আর আট বছর ধরে আমি কিছুই করতে পারিনি। কে জানতো আমার শুধু হাল ছেড়ে দিয়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হতো, হে আল্লাহ, দয়া করে আমার কাঁধ থেকে এই বোঝা উঠিয়ে নাও। আমি আর পারছিনা। আর দুই সপ্তাহের মধ্যে সব কিছু ঠিক। আমার দৃষ্টিকোণ থেকে এটা এতো আকস্মিক ছিল যে, আমার বিশ্বাস করতে অনেক দিন সময় লেগেছিল যে আমার স্ত্রী একজন মুসলিম হয়েছে। আর জানেন, এরপর থেকে আমি ফজরে উঠলে বুঝতে পারতাম না আমি কি ওকে জাগাব কি না। আমি কি ওকে ডাক দেব?

ডাকলে আমার উপর রাগ করবে নাকি? ও কি আসলেই মুসলিম হয়েছে? হয়েছে কি? আমি এসব ভাবতাম, আর তারপর দেখতাম সে চোখ খুলেছে, আমাকে বলতো, "ফজর?" আমি বলতাম "হ্যাঁ।" আর আমরা নামাজ পড়তাম। ইসলাম গ্রহণের আগে এবং পরে নিজের মধ্যে কি কি পার্থক্য দেখতে পাচ্ছেন?

হ্যাঁ, পার্থক্যটা এক কথায় বললে, হৃদয় বা মনের স্থিরতা । আল্লাহ তায়ালার পরিকল্পনা, সবসময় কল্যাণকর হয়। কিন্তু আমরা তো শেষ পরিণামটা জানি না। কারণ তিনি তো সম্পূর্ণ চিত্রটাই দেখছেন, আর আমরা মানুষ হিসেবে ছোট্ট একটা অংশই দেখতে পাই। তাই আমাদের দৃষ্টিকোন থেকে, সেই ছোট্ট অংশটা দেখে, মনে হতে পারে যেন কিছু খারাপ ঘটেছে। কিন্তু ১০ বছর, ১৫ বছর পরে যখন আমরা, অতীতের দিকে তাকাই, আমরা বুঝতে পারি যা হয়েছে কেন হয়েছে। এর ফলে ধীরে ধীরে আমাদের হৃদয়ে স্থিতিশীলতা আসে। আমি এখন কোবে মুসলিম মসজিদের ইমাম, যেখানে দশ বছর আগে ২০১৪ সালে, আমি শাহাদাহ (ঈমানের সাক্ষ্য) নিয়েছিলাম। তখন ছিল সেপ্টেম্বর মাস। আর ঠিক ২০২৪ সালের, সেই সেপ্টেম্বর মাস থেকে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'লার হুকুমে আমি একজন ইমাম হিসেবে কাজ করা শুরু করি। যখন আমার জীবনে ইসলাম এলো, অবশ্যই, প্রথমে আমি নিজের নীতিবোধের সাথে এর সাদৃশ্য পেয়েছিলাম। এরপর আমি বাহ্যিক ভাবেও সাদৃশ্য পেতে শুরু করলাম। এবং আমি বুঝতে পারলাম, হিজাব পরার পরে আমি কি বলতে চাইছি মানুষ তা শুনছে। এখন আমার কণ্ঠ মানুষের কাছে পৌঁছায়.

মানুষ এখন আমার বুদ্ধিবৃত্তি দেখে, যা আমি সবসময় চাইতাম। আমার মতামত শেয়ার করতে পারতাম না। কিছুই শেয়ার করতে পারতাম না। কিন্তু এখন আমি স্বাধীন। সেই দাসত্ব থেকে আমি মুক্তি পেয়েছি। ইসলাম হচ্ছে স্বাধীনতা, মনের স্বাধীনতা, বাক স্বাধীনতা কাকে কি দেখাব, আমি কি পরবো। মাশাআল্লাহ। কারণ যখন আপনি ওই মেকআপ, ওই চুলের সাজ, সেসব পোশাক আর যা সবকিছু করছেন, একটু গভীরভাবে ভেবেচিন্তে দেখুন আপনি নিজের সুখটা অন্য মানুষের ওপর ছেড়ে দিচ্ছেন। তাদের স্বীকৃতি আর গ্রহণযোগ্যতার ওপরই নির্ভর করছেন যাতে আপনি খুশি হতে পারেন। সুখটা তাদের হাতে। আপনার মূল্য তাদের কাছে বাঁধা। আর খ্যাতির কথা? খ্যাতি কি সত্যিই আপনাকে তৃপ্ত করবে?

খ্যাতিও বাহ্যিক বিষয়। খ্যাতি আসে অন্য মানুষের কাছ থেকেই। আপনি বিখ্যাত হতে পারবেন না যদি না অন্যরা বলে যে আপনি অসাধারণ। তাহলে এটা কি সত্যিই আপনি নিজের জন্য চান?

হতে পারে আপনি চান, কিন্তু খ্যাতি পাওয়ার অন্য পথও আছে। আপনি ফেরেশতাদের কাছে বিখ্যাত হতে পারেন । হ্যাঁ, কিন্তু সেটা চোখে দেখা যায় না। আপনি আপনার ভালো কাজের কারণেও খ্যাতি পেতে পারেন। আপনি কতটা সৎ ও ধার্মিক, তার কারণেও পরিচিত হতে পারেন। যদি আপনি দাবি করেন, আপনার নিজের আত্মবিশ্বাস রয়েছে, আপনার বাহ্যিক যেমনি হোক না কেন, আপনি নিজের কথা তুলে ধরতে সক্ষম তাহলে মানুষ নিশ্চয়ই আপনার কথা শুনবে, আপনি নিজের জন্য গর্ববোধ করতে পারবেন, হ্যাঁ, তাহলে হয়তো বিশ্বাস করব। নিজের মর্যাদা খুঁজে নিন নিজের ভেতরেই, আর ইসলামকে শিখুন, কারণ ইসলামই আপনার সম্মান আপনাকে ফিরিয়ে দেবে। ইসসলামই আপনার কণ্ঠকে ফিরিয়ে দেবে, আপনাকে মর্যাদা ফিরিয়ে দেবে আপনাকে বোঝাবে যে পোশাক বা ম্যাকআপের চেয়ে আপনার নিজের মূল্য বেশি নিজের ভেতরে এগুলো খুঁজুন, আর সেই সব উত্তরের খোজ না পাওয়া পর্যন্ত সন্ধান করে যান। আমার স্ত্রী মুসলিম হওয়ার পর, তার প্রথম রমজান আমার সাথে পালন করেছে। আমার রমজান তো খুবই একাকী, দুঃখী ভাবে কাটাতে হতো...

এটা ছিল আমার জন্য দুঃখে ভরা, একাকী একটা সময়। যখন আপনি সম্পূর্ণ একা রমজান পালন করবেন, তখন এটা আপনার জন্য খুব কঠিন হবে। আপনি ইফতার করবেন একা একা, আর আপনার একদমই, একদমই ভালো লাগবেনা। কিন্তু এবার আমার স্ত্রী, ইন্সটাগ্রামে বিভিন্ন রকম পোস্টে দেখছে মানুষ সবাই একসাথে কত আনন্দে ইফতার পার্টি করছে। রমজানকে সবাই মিলে একটা উৎসবের মতো উপভোগ করছে। তাই আমার স্ত্রী আমার উপর খুবই রেগে আছে। ইন্সটাগ্রামে দেখা রমজানের মতো রমজান পালন করতে চাইছে, "না, আমি এমন রমজান চাই।" তো তারপর থেকে, সে জেডিসির সাথে কাজ করছে। আমরা বর্তমানে, জাপান মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন, জে.এম.এ এর সাথে আছি। আমারা টোকিওতে জেডিসির বিভিন্ন ইভেন্টে সাহায্য করি, আর ইয়োকোহামায় আমাদের স্থানীয় মসজিদের সাথেও আমরা যুক্ত আছি। আর আমি কোরিয়ানদের জন্য কিছু করতে চাই…

হ্যাঁ, কোরিয়ানদের জন্য। কোরিয়ার সংস্কৃতিতে রয়েছে প্রচুর রাগ-বিদ্বেষ আর ডিপ্রেশান। এবং আমি মনে করি, এর সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি হচ্ছে, তাদের বিশ্বাসের অভাব। তাদের কোনো বিশ্বাস নেই, কারণ যখন তারা, যখন তারা ডিপ্রেশানে ভোগে, কেউ সাহায্য করার নেই। কেউ নেই কেউ নেই, যার উপর তুমি নির্ভর করতে পারো। আত্মহত্যার হার সেখানে তুঙ্গে। আত্মহত্যার হার সবচেয়ে বেশি কোরিয়ায়। For Example, আমি মুসলিম। যদি ভালো কিছু ঘটে, আমি স্বীকার করি, “এটা হয়েছে আল্লাহ্‌র কারণে" তাই আমি কৃতজ্ঞ হই, আর যদি খারাপ কিছু ঘটে, তাহলেও আমি বলতে পারি, “এটা আল্লাহ্‌র পরিকল্পনা, এটা একটা পরীক্ষা।" এটা উতরে যাব আমি।” কেউ যদি আল্লাহ্‌তে বিশ্বাস না করে, কেউ যদি নাস্তিক হয়, তো ভালো কিছু ঘটলে সে ভাববে, “ও, আমি সফল হয়েছি আমার নিজ যোগ্যতায়।” তো ওই মানুষটা অহংকারী হয়ে উঠতে পারে। আর যদি খারাপ সময় আসে, তাহলে সে ভাবে, আহ, কেন আমার সাথে এমনটা হয়?” এভাবে তারা নিজেকে দোষ দেয়। এভাবে তারা বিষন্ন হয়ে পড়ে আর বিষন্নতা বেড়ে গেলে তারা এই আত্মহত্যা করে ফেলে। আমি সত্যি সত্যি মনে করি যে কোরিয়ান সমাজে বিশ্বাসের বড্ড প্রয়োজন। আমার মতো অনেক রিভার্ট বা কনভার্টের বাবা-মা এখনও মুসলিম নন, তাই দয়া করে আমাদের জন্য দোয়া করবেন। আর তাই আমি আপনাকে কুরআন পড়ার পরামর্শ দেব, আর আপনি যদি অন্য কোনো ধর্মের অনুসারী হন, আপনি যদি খ্রিস্টান, হিন্দু বা ইহুদি হন, তাহলে আপনার নিজ ধর্মগ্রন্থ পড়ুন এবং ইসলামের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে অধ্যয়ন করুন। বাইবেল, ভগবদ্ গীতা, বেদ ও পুরাণে একজন আরবীয় নবীর দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে, শেষ ও চূড়ান্ত রাসূলের দিকে, যিনি সব মানুষের জন্যেই আসবেন, সমগ্র মানবতার জন্য, এবং তিনি তাওহীদের সত্য বার্তা নিয়ে আসবেন। ইনশাআল্লাহ, এই ভিডিওটি আপনাকে সত্য খুঁজে পেতে সাহায্য করবে, আর আমি আপনার জন্যে সর্বোত্তম কামনা করি। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনিও কি ইসলাম গ্রহণ করেছেন, কিন্তু কোথা থেকে শুরু করবেন বুঝতে পারছেন না?

কিংবা, হয়তো আপনি সারাজীবন মুসলিমই ছিলেন, কিন্তু নতুনভাবে শুরু করে একদম শুরু থেকে ইসলামকে জানতে আগ্রহী? ঠিক এই কারণেই আমরা Step Islam অ্যাপটি তৈরি করেছি। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি এবং বিজ্ঞাপনমুক্ত একটি অ্যাপ, যা আপনাকে ইসলাম শেখায় পরিষ্কার ও সাজানোভাবে। আপনি সহজেই ঈমানের মূল ভিত্তি, কুরআনের গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা শিখতে পারবেন, আর নিজের গতিতে এমন বাস্তবসম্মতভাবে কাজগুলো সম্পন্ন করবেন, যেন আজীবনের অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়। শয়তানকে সুযোগ দেবেন না, যেন সে আপনাকে এটি পিছিয়ে দিতে পারে। নিচের লিংকে ক্লিক করুন, Step Islam ডাউনলোড করুন, আর আজই চিরস্থায়ী সুখের পথে আপনার প্রথম পদক্ষেপ নিন।